📄 যদি তারা একটি রশিও দিতে অস্বীকার করে
বাতাসের গতির মতো রাসূল ﷺ -এর ইন্তেকালের সংবাদ চতুর্দিকে ছড়াতে লাগল। যে সংবাদ ছড়াতে ছড়াতে আরবের কানে কানে গিয়ে থামল। এতে অনেক আরববাসী মুনাফিকীর পথ বেছে নিল। তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ -এর হুকুমকে অস্বীকার করতে শুরু করল এবং মিথ্যাবাদী ভণ্ড নবীদের সাথে এক হয়ে ইসলামী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করল।
সারা আরবে ধর্মত্যাগীগণের বিদ্রোহ প্রচণ্ড আকার ধারণ করে। এতে হযরত আবু বকর (রাঃ) মুহাজির ও আনসার সাহাবীগণকে একত্রিত করে বললেন, আরবরা তাদের পশুর যাকাত দিতে অস্বীকার করছে। তারা মনে করে যে কোটির দ্বারা তোমরা সাহায্য পেয়েছ তিনি মারা গেছেন এবং তারা আমাকে তোমাদের মতো একজন মনে করে।
তখন হযরত ওমর (রাঃ) বললেন, আমার মতে, আপনি তাদেরকে নামায আদায় করতে বলুন আর তাদের থেকে যাকাত নেওয়া থেকে বিরত থাকুন। কেননা তারা ইসলামে এখনও নতুন। হযরত আবু বকর (রাঃ) এ কথা শুনে মজলিসের অন্যান্যদের দিকে তাকালেন এতেও তারা মনে করল, তিনি হযরত ওমর (রাঃ)-এর কথায় সন্তুষ্ট হয়েছেন। আর তখন হযরত আবু বকর (রাঃ) মিস্ত্রির উঠে বলিষ্ঠ কণ্ঠে ঘোষণা করলেন, আল্লাহর চুক্তি ও ওয়াদা বজায় রাখায় ও পর্যাপ্ত আল্লাহর হুকুমে আমি যুদ্ধ করে যাব। আমাদের মধ্যে যে নিহত হবে সে শহীদ হয়ে জান্নাতের অধিবাসী হবে। আর যে বেঁচে থাকবে সে দুনিয়াতে আল্লাহর প্রতিনিধি ও ওয়ারিশ হয়ে বেঁচে থাকবে।
আল্লাহর শপথ! যদি তারা যাকাতের একটি রশি দিও অস্বীকার করে মা তারা রাসূল ﷺ -এর সময় দিত তবে অবশ্যই আমি তাদের সাথে যুদ্ধ করব। যদিও বুযুর্গ, নসর, মানুষ, জ্বীন সবাই তাদের সাথে মিলিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আসে। তখন হযরত ওমর (রাঃ) চিৎকার দিয়ে বললেন, আল্লাহু আকবার ......... আল্লাহু আকবার। তারপর বললেন, আল্লাহর শপথ! আমার জানামতে তিনি সত্য。
টিকাঃ
৪৪ আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৩১১ পৃ:।
📄 কাপড় বিক্রেতা
সূর্য ঘুম ভেঙে উঠার আগেই হযরত আবু বকর (রাঃ) কাপড়ের বোঝা মাথায় নিয়ে ব্যবসার উদ্দেশ্যে বাজারের দিকে রওনা দিলেন। যাওয়ার পথে তাঁকে হযরত ওমর ও আবু উবায়দা বিন আল জাররা (রাঃ) দেখতে পেলেন। তারা দু'জন খুব দ্রুত তাঁর দিকে এগিয়ে গেলেন। হযরত ওমর (রাঃ) উঁচু গলায় চিৎকার দিয়ে বললেন, আল্লাহর রাসূলের খলিফা! আপনি কোথায় যাচ্ছেন? হযরত আবু বকর (রাঃ) তাঁর মাথায় থাকা কাপড়ের বোঝার নিচ দিয়ে তাদের দিকে লক্ষ্য করে বললেন, বাজারে। হযরত ওমর (রাঃ) বললেন, আপনি বাজারে কি করবেন? তিনি আশ্চর্যে হয়ে বললেন, ওম্র! আমি কাপড় বিক্রয় করব। হযরত ওমর (রাঃ) বললেন, আপনার বাস্তবতা এসেছে। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন, তুমি কি খিলাফতের কথা বলছ? হযরত ওমর (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ। তিনি হাত নাড়িয়ে বললেন, তাহলে আমার পরিবারকে কে খাওয়াবে? হযরত ওমর (রাঃ) বললেন, আমরা বায়তুল মাল থেকে কিছু অর্থ নির্ধারণ করে দিব। মুসলিম জাতির অবস্থার কথা বর্ণনা করে হযরত আবু বকর (রাঃ) তা গ্রহণ করতে রাজি হলেন এবং বাজারে যাওয়া থেকে বিরত থাকলেন。
টিকাঃ
৪৫ আল মুলাফুযুর রাশিদীন, ৬৯পৃ:।
📄 উম্মে আয়মানের কান্না
চিৎকার রেখা ঊর্ধ্ব থেকে থেকে দর্গ টানছিল। রাসূল ﷺ -এর ইন্তেকালে সকলে শোকে বিহ্বল। হযরত আবু বকর (রাঃ) দুঃখ ও বিশাল মেঘের মনের আকাশ থেকে তাড়িয়ে হযরত ওমর (রাঃ)-কে গিয়ে বললেন, চল আমরা উম্মে আয়মানের কাছে যাই। রাসূল ﷺ তার সাথে দেখা করত আমরাও গিয়ে সেভাবে দেখা করি।
যখন তারা হযরত উম্মে আয়মানের কাছে গিয়ে পৌঁছলেন তিনি প্রচণ্ড কান্নাকাটি শুরু করলেন। তারা বললেন, আপনি কেন কাঁদছেন? আপনি কি জানেন না রাসূল ﷺ -এর জন্য আল্লাহর নিকটে যা আছে তা অনেক উত্তম? তিনি বললেন, আমি এ জন্য কাঁদছি না; বরং আমি কাঁদছি আসমান থেকে ওহী আর আসবে না............। এ কথা শুনে হযরত আবু বকর ও হযরত ওমর (রাঃ) উভয়ে তাঁর সাথে কান্না শুরু করলেন。
টিকাঃ
৪৬ মুসতাদরাকুল হাকিম, ৩য় খণ্ড, ৫৮৬৭ পৃ:।
📄 তুমি দৃঢ়তা অবলম্বন করেছ
মদিনা মুনাওয়ারায়............. হযরত আবু বকর (রাঃ) ও হযরত ওমর (রাঃ) রাসূল ﷺ -এর সামনে গিয়ে খুব ভদ্রতার সাথে বসলেন। উদ্দেশ্য রাসূল ﷺ -এর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেন। তখন রাসূল ﷺ হযরত আবু বকর (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন- তুমি কখন বিতর পড়? তিনি বললেন, রাতের প্রথম অংশে। তারপর রাসূল ﷺ হযরত ওমর (রাঃ)-এর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন- তুমি কখন বিতর পড়? তিনি বললেন, রাতের শেষ অংশে। তখন রাসূল ﷺ হযরত আবু বকর (রাঃ)-কে বললেন, তুমি দৃঢ়তা অবলম্বন করেছ আর ওমর সামর্থ্যতা অবলম্বন করেছে。
টিকাঃ
৪৭ সুনানে আবু দাউদ, ১২২২ পৃ:।