📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 প্রথম ভাষণ

📄 প্রথম ভাষণ


অনেক লজ্জা ও ভয়ে হযরত আবু বকর রা রাসূল সা-এর মিম্বরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি পা সামনে দিছেন আবার এক পা পিছনে দিচ্ছেন। মিম্বরের প্রথম সিঁড়িতে পা রেখে দ্বিতীয় সিঁড়ির দিকে পা বাড়ালেন, কিন্তু দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা রাখার পর আর তৃতীয় সিঁড়ির দিকে পা বাড়ালেন না। কেননা সেই সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে রাসূল সা খুত্বা দিতেন। আর তাই তিনি নিজেকে রাসূল সা-এর স্থানে দাঁড়ান না। এরপর ভাষ্য খিলাফতের দায়িত্ব মাথায় নিয়ে মানুষের উদ্দেশ্যে প্রথম ভাষণ দিতে গিয়ে বললেন, হে লোক সকল!.......আমি তোমাদের আমির নিযুক্ত হয়েছি, তবে আমি তোমাদের থেকে সেরা নই। যদি আমি ভালো কাজ করি তবে তোমরা আমাকে সাহায্য করবে....... আর যদি আমি খারাপ করি তাহলে আমাকে সঠিক পথে নিয়ে আসবে। জেনে রাখ! নিজের অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে তোমাদের দুর্বল লোক আমার কাছে অনেক শক্তিশালী। আর অন্যের অধিকার আদায় করে দেওয়ার ক্ষেত্রে অধিকার বণ্টনকারী শক্তিশালী ব্যক্তি আমার নিকট অনেক দুর্বল। আমি যে কাজ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল সা-এর আনুগত্য করব সে কাজে তোমরা আমার আনুগত্য করবে। আর যদি আমি তাঁদের অবাধ্য হই তাহলে আমার আনুগত্য করা তোমাদের জন্য আবশ্যক নয়।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আবু বকর রা. যেভাবে বিচার করতেন

📄 আবু বকর রা. যেভাবে বিচার করতেন


আবু বকর রা-এর কাছে যখন কোনো বিচার আসত, তিনি প্রথমে আল্লাহ্র কিতাবে সে সম্পর্কে দেখতেন। যদি তাতে পাওয়া যেত তাহলে সে অনুযায়ী ফায়সালা দিতেন। কোরআনে না পাওয়া গেলে তিনি রাসূল সা-এর হাদীসের দিকে দিতেন। যদি হাদীস পাওয়া যেত তবে অনুরূপ বিচার করতেন। আর যদি না পাওয়া যেত, তখন তিনি মানুষের কাছে বলতেন, আমার কাছে এই এই বিচার এসেছে, এ সম্পর্কে কি তোমাদের কারো রাসূল সা-এর হাদীস জানা আছে। তখন যদি কোনো লোক এসে তাঁর কাছে ওই বিচার সম্পর্কে রাসূল সা-এর কোনো হাদীস শুনাত, তিনি তা গ্রহণ করতেন, সকল প্রশংসা ও এই সত্তার যিনি আমাদের মধ্যে এমন লোক রেখেছেন, যারা নবীর কথা স্মরণ রেখেছে। যদি একক্ষেত্রে তিনি ব্যর্থ হতেন, তখন গণ্যমান্য লোকদেক নিয়ে ফায়সালা করতেন。

টিকাঃ
৯৭ সীরাহ্ ওয়া মানাকিবে আবু বকর, ১ন পৃ:।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আমি আরোহণ করব না আর তুমিও নামবে না

📄 আমি আরোহণ করব না আর তুমিও নামবে না


যখন উসামা রা-এর নেতৃত্বে মুসলিম সেনাবাহিনী যুদ্ধ রওয়ানা দিল তখন আবু বকর রা উসামার পাশে হেঁটে আসতে লাগলেন। উসামা আরোহী অবস্থায় থাকার কারণে তিনি বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূলের খলিফা! আল্লাহ্র দোহাই দিয়ে বলছি, হয় আপনি আরোহণ করুন, না হয় আমি বাহন থেকে নেমে যাই।
হযরত আবু বকর ﷺ বললেন, আল্লাহ! তুমি বাহন থেকে নেমে না। আমি আবিদ বাহনে আরোহণ করব না। আমি তো মাত্র আল্লাহর রাস্তায় কিছুক্ষণ সময় নিজের পায়ে ধুলোবালি লাগাছি। তারপর তিনি উসামা (রাঃ) কে বললেন, আমি তোমাকে, তোমার দ্বীনদারীতা ও তোমার শেষ আমলকে আল্লাহর আমানতে রাখলাম। আর তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি, তুমি রাসূল ﷺ -এর নির্দেশ পুরো করবে。

টিকাঃ
৪৩ আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৩৯০-৩৯১ পৃ:।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 যদি তারা একটি রশিও দিতে অস্বীকার করে

📄 যদি তারা একটি রশিও দিতে অস্বীকার করে


বাতাসের গতির মতো রাসূল ﷺ -এর ইন্তেকালের সংবাদ চতুর্দিকে ছড়াতে লাগল। যে সংবাদ ছড়াতে ছড়াতে আরবের কানে কানে গিয়ে থামল। এতে অনেক আরববাসী মুনাফিকীর পথ বেছে নিল। তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ -এর হুকুমকে অস্বীকার করতে শুরু করল এবং মিথ্যাবাদী ভণ্ড নবীদের সাথে এক হয়ে ইসলামী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করল।
সারা আরবে ধর্মত্যাগীগণের বিদ্রোহ প্রচণ্ড আকার ধারণ করে। এতে হযরত আবু বকর (রাঃ) মুহাজির ও আনসার সাহাবীগণকে একত্রিত করে বললেন, আরবরা তাদের পশুর যাকাত দিতে অস্বীকার করছে। তারা মনে করে যে কোটির দ্বারা তোমরা সাহায্য পেয়েছ তিনি মারা গেছেন এবং তারা আমাকে তোমাদের মতো একজন মনে করে।
তখন হযরত ওমর (রাঃ) বললেন, আমার মতে, আপনি তাদেরকে নামায আদায় করতে বলুন আর তাদের থেকে যাকাত নেওয়া থেকে বিরত থাকুন। কেননা তারা ইসলামে এখনও নতুন। হযরত আবু বকর (রাঃ) এ কথা শুনে মজলিসের অন্যান্যদের দিকে তাকালেন এতেও তারা মনে করল, তিনি হযরত ওমর (রাঃ)-এর কথায় সন্তুষ্ট হয়েছেন। আর তখন হযরত আবু বকর (রাঃ) মিস্ত্রির উঠে বলিষ্ঠ কণ্ঠে ঘোষণা করলেন, আল্লাহর চুক্তি ও ওয়াদা বজায় রাখায় ও পর্যাপ্ত আল্লাহর হুকুমে আমি যুদ্ধ করে যাব। আমাদের মধ্যে যে নিহত হবে সে শহীদ হয়ে জান্নাতের অধিবাসী হবে। আর যে বেঁচে থাকবে সে দুনিয়াতে আল্লাহর প্রতিনিধি ও ওয়ারিশ হয়ে বেঁচে থাকবে।
আল্লাহর শপথ! যদি তারা যাকাতের একটি রশি দিও অস্বীকার করে মা তারা রাসূল ﷺ -এর সময় দিত তবে অবশ্যই আমি তাদের সাথে যুদ্ধ করব। যদিও বুযুর্গ, নসর, মানুষ, জ্বীন সবাই তাদের সাথে মিলিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আসে। তখন হযরত ওমর (রাঃ) চিৎকার দিয়ে বললেন, আল্লাহু আকবার ......... আল্লাহু আকবার। তারপর বললেন, আল্লাহর শপথ! আমার জানামতে তিনি সত্য。

টিকাঃ
৪৪ আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৩১১ পৃ:।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00