📄 এ তিনটি মর্যাদা কার?
সাকিফায়ে বনী সায়েদায় যখন মানুষের মধ্যে খলিফা নির্বাচন নিয়ে তর্কবিতর্ক চলছিল। তাদের প্রত্যেক নিজেদের নেতাদের প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করতে লাগলেন। আনসারগণ বললেন, তোমাদের থেকে একজন আমির হবেন আর আমাদের থেকে একজন হবেন। তখন হযরত ওমর রা বললেন, এক খাপে দুই তরবারি থাকতে পারে না। তারপর তিনি হযরত আবু বকর রা-এর কাছে এসে তাঁর হাত ধরে চিৎকার করে বললেন, এ তিনটি মর্যাদা কার? وَنَأْلَفَ لِمَنْ يُفَوِّضُ لِمَجِدٍ "যখন তিনি তাঁর সাহাবীকে বললেন" আল্লাহ্র বাণীতে এ সাহাবী কে? তাঁরা বললেন, আবু বকর। ওমর রা বললেন, إِنَّمَا فِي الْمَارِ যখন তারা তথা.......। এখানে তাঁরা কে? তাঁরা বললেন, নবী সা ও আবু বকর। ওমর রা বললেন, إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا "আল্লাহ্ আমাদের সাথে আছেন.........? কার সাথে আছেন? তাঁরা বললেন, নবী সা ও আবু বকর সাথে। তারপর তিনি বললেন, তাহলে তোমাদের কে আছ যে নিজেকে আবু বকরের থেকে পবিত্র মনে করে তাঁর সম্মুখে যাবে। তাঁরা বললেন, আবু বকরের সম্মুখে এগিয়ে যাওয়া থেকে আমরা আল্লাহ্র নিকট আশ্রয় চাই। এরপর হযরত ওমর রা এগিয়ে হযরত আবু বকর রা-এর হাত ধরে বললেন, আপনার হাত প্রসারিত করুন, আমি আপনার হাতে বাইয়াতও হব। এ কথা বলে হযরত ওমর রা তাঁর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করলেন এবং অন্য মানুষও তাঁর সাথে বাইয়াত গ্রহণ করলেন。
টিকাঃ
৯৬ ফাতহুলুস সাহাবা,
📄 প্রথম ভাষণ
অনেক লজ্জা ও ভয়ে হযরত আবু বকর রা রাসূল সা-এর মিম্বরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি পা সামনে দিছেন আবার এক পা পিছনে দিচ্ছেন। মিম্বরের প্রথম সিঁড়িতে পা রেখে দ্বিতীয় সিঁড়ির দিকে পা বাড়ালেন, কিন্তু দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা রাখার পর আর তৃতীয় সিঁড়ির দিকে পা বাড়ালেন না। কেননা সেই সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে রাসূল সা খুত্বা দিতেন। আর তাই তিনি নিজেকে রাসূল সা-এর স্থানে দাঁড়ান না। এরপর ভাষ্য খিলাফতের দায়িত্ব মাথায় নিয়ে মানুষের উদ্দেশ্যে প্রথম ভাষণ দিতে গিয়ে বললেন, হে লোক সকল!.......আমি তোমাদের আমির নিযুক্ত হয়েছি, তবে আমি তোমাদের থেকে সেরা নই। যদি আমি ভালো কাজ করি তবে তোমরা আমাকে সাহায্য করবে....... আর যদি আমি খারাপ করি তাহলে আমাকে সঠিক পথে নিয়ে আসবে। জেনে রাখ! নিজের অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে তোমাদের দুর্বল লোক আমার কাছে অনেক শক্তিশালী। আর অন্যের অধিকার আদায় করে দেওয়ার ক্ষেত্রে অধিকার বণ্টনকারী শক্তিশালী ব্যক্তি আমার নিকট অনেক দুর্বল। আমি যে কাজ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল সা-এর আনুগত্য করব সে কাজে তোমরা আমার আনুগত্য করবে। আর যদি আমি তাঁদের অবাধ্য হই তাহলে আমার আনুগত্য করা তোমাদের জন্য আবশ্যক নয়।
📄 আবু বকর রা. যেভাবে বিচার করতেন
আবু বকর রা-এর কাছে যখন কোনো বিচার আসত, তিনি প্রথমে আল্লাহ্র কিতাবে সে সম্পর্কে দেখতেন। যদি তাতে পাওয়া যেত তাহলে সে অনুযায়ী ফায়সালা দিতেন। কোরআনে না পাওয়া গেলে তিনি রাসূল সা-এর হাদীসের দিকে দিতেন। যদি হাদীস পাওয়া যেত তবে অনুরূপ বিচার করতেন। আর যদি না পাওয়া যেত, তখন তিনি মানুষের কাছে বলতেন, আমার কাছে এই এই বিচার এসেছে, এ সম্পর্কে কি তোমাদের কারো রাসূল সা-এর হাদীস জানা আছে। তখন যদি কোনো লোক এসে তাঁর কাছে ওই বিচার সম্পর্কে রাসূল সা-এর কোনো হাদীস শুনাত, তিনি তা গ্রহণ করতেন, সকল প্রশংসা ও এই সত্তার যিনি আমাদের মধ্যে এমন লোক রেখেছেন, যারা নবীর কথা স্মরণ রেখেছে। যদি একক্ষেত্রে তিনি ব্যর্থ হতেন, তখন গণ্যমান্য লোকদেক নিয়ে ফায়সালা করতেন。
টিকাঃ
৯৭ সীরাহ্ ওয়া মানাকিবে আবু বকর, ১ন পৃ:।
📄 আমি আরোহণ করব না আর তুমিও নামবে না
যখন উসামা রা-এর নেতৃত্বে মুসলিম সেনাবাহিনী যুদ্ধ রওয়ানা দিল তখন আবু বকর রা উসামার পাশে হেঁটে আসতে লাগলেন। উসামা আরোহী অবস্থায় থাকার কারণে তিনি বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূলের খলিফা! আল্লাহ্র দোহাই দিয়ে বলছি, হয় আপনি আরোহণ করুন, না হয় আমি বাহন থেকে নেমে যাই।
হযরত আবু বকর ﷺ বললেন, আল্লাহ! তুমি বাহন থেকে নেমে না। আমি আবিদ বাহনে আরোহণ করব না। আমি তো মাত্র আল্লাহর রাস্তায় কিছুক্ষণ সময় নিজের পায়ে ধুলোবালি লাগাছি। তারপর তিনি উসামা (রাঃ) কে বললেন, আমি তোমাকে, তোমার দ্বীনদারীতা ও তোমার শেষ আমলকে আল্লাহর আমানতে রাখলাম। আর তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি, তুমি রাসূল ﷺ -এর নির্দেশ পুরো করবে。
টিকাঃ
৪৩ আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৩৯০-৩৯১ পৃ:।