📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 এ শায়েখ কেন কাঁদছে?

📄 এ শায়েখ কেন কাঁদছে?


নবী করীম ﷺ মিম্বরে বসে তাঁর সাহাবীদের উপদেশ দিচ্ছিলেন। মনে হচ্ছিল এটি তাঁর বিদায়ী উপদেশ।
একফাঁকায় চোখে তিনি বললেন, আল্লাহ তাআ'লা এক ব্যক্তিকে দুনিয়া অথবা আল্লাহ্র নিকটে যা আছে, দু’টির একটি বেছে নিতে বললেন। তখন লোকটি আল্লাহ্র নিকট যা আছে তা বেছে নিল।
হযরত আবূ বকর رضي الله عنه এ কথা শুণার সাথে সাথে অশ্রুভরা, কান্না স্বরে চিৎকার দিয়ে বললেন, আপনার জন্য কোরবান হোক.........আমাদের পিতামাতা আপনার জন্য কোরবান হোক।
এতে মানুষ খুবই আশ্চর্য হয়ে গেল। কেন এ শায়েখ কাঁদছে? কেনই বা তাঁর কন্ঠ থেকে এত করুণ চিৎকার বের হয়ে আসল!.......নবী করীম ﷺ এতো কোনো এক ব্যক্তির কথা বললেন, সে আল্লাহর নিকট যা আছে তা বেছে নিল.......এতো কান্নার কি আছে?
কিন্তু লোকেরা জানত যে, আবূ বকর رضي الله عنه তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী ও অভিজ্ঞ। আর রাসূল ﷺ যে ব্যক্তির কথা বলেছিলেন। সে ব্যক্তি স্বয়ং তিনি নিজেই। তিনি আল্লাহর প্রতিবেশী হওয়ারও বেছে নিয়েছেন এ কারণেই হযরত আবূ বকর رضي الله عنه চিৎকার দিয়ে কাঁদলেন। এরপর বেশিদিন যায়নি এরই মধ্যে একদিন রাসূল ﷺ এ দুনিয়া ছেড়ে তাঁর প্রভুর কাছে চলে গেলেন。

টিকাঃ
৯ সহীহ বুখারী, ৪৬৬ পৃ. আল মিশকাত, ৫৫২৭ পৃ.।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 নিশ্চয়ই তোমরা ইউসুফের সাথিদের ছোটরূপ

📄 নিশ্চয়ই তোমরা ইউসুফের সাথিদের ছোটরূপ


রাসূল ﷺ-এর অসুস্থতা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে এমনকি তিনি দাঁড়িয়ে নামায পড়তেও লাগলেন।
নামাযের সময় হলে হযরত বিলাল রা এস আযান দিলেন... রাসূল সা মাথা থেকে কাঁথা নামিয়ে জীর্ণকণ্ঠে বললেন, মানুষকে নিয়ে নামায আদায় করতে আবু বকরকে নির্দেশ দাও।
হযরত আয়েশা রা বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আবু বকর তো খুব কোমল হৃদয়ের মানুষ। তিনি নামাযে দাঁড়ালে কান্না শুরু করবেন। আর অধিক কান্নার কারণে তাঁর কেরাত মানুষ শুনতে পাবে না। যদি আপনি ওমরকে নির্দেশ দিতেন। রাসূল সা তাঁর কথায় অনড় থেকে আবার বললেন, মানুষকে নিয়ে নামায আদায় করতে আবু বকরকে নির্দেশ দাও। তখন হযরত আয়েশা রা হযরত হাফসা রা-কে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি রাসূলকে বল, আবু বকর কোমল হৃদয়ের মানুষ। তিনি নামাযের ইমামতি করলে অধিক কান্নার কারণে মানুষ তাঁর কেরাত শুনতে পাবে না। যদি আপনি ওমরকে নির্দেশ দিতেন। তখন রাসূল সা রাগান্বিত হয়ে বললেন, নিশ্চয়ই তোমরা ইউসুফের সখিদের ছোটরূপ, আবু বকরকে নির্দেশ দাও মানুষকে নিয়ে নামায আদায় করতে। হযরত আবু বকর নামাযে গেলে রাসূল সা নিজের শরীর হালকা অনুভব করতে লাগলেন। তাই তিনি দু'জন সাহাবীর ওপর ভর করে মসজিদে প্রবেশ করলেন। যখন আবু বকর রা রাসূল সা-এর আগমন টের পেলেন তিনি তাঁর স্থান থেকে পিছনে চলে আসতে লাগলেন। রাসূল সা তাঁকে তাঁর স্থানে থাকার নির্দেশ দিলেন, কিন্তু তিনি পিছনে এসে কাতারের সাথে শামিল হয়ে গেলেন। নামায শেষে রাসূল সা জিজ্ঞেস করলেন- আবু বকর! আমি নির্দেশ দেওয়ার পরেও কেন তুমি নিজ স্থানে স্থির থাকলে না। তখন আবু বকর রা খুব নম্রভাবে বললেন, রাসূল সা-এর সামনে দাঁড়িয়ে নামায পড়া আবু কুহাফার ছেলের শোভা পায় না। (আবু কুহাফা তিনি নিজেই)

টিকাঃ
৯২ সহীহ বুখারী (৬৭৮, ৬৯৪, ৭১৩)

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 তোমরা ভালো করেছ

📄 তোমরা ভালো করেছ


নামাযের সময় হয়েছে....... অনাদিকে রাসূল সা অসুস্থতার কারণে ঘরে শুয়ে আছেন। তখন বিলাল রা বললেন, নামাযের সময় হয়েছে, কিন্তু রাসূল সা তো নেই। আপনি কি চান যে, আমি আযান ও ইকামাত দিব আর আপনি মানুষকে নিয়ে নামায আদায় করবেন? হযরত আবু বকর রা বললেন, তোমার ইচ্ছে...।
নামাযের সময় হযরত বিলাল রা আযান ও ইকামত দিলেন এবং হযরত আবু বকর রা-কে নামাযের ইমামতি করার জন্যে এগিয়ে দিলেন। নামাযের শেষ মুহূর্তে রাসূল সা নিজের শরীর একটু হালকা অনুভব করলে মসজিদে এলেন। তিনি এসে দেখলেন নামায শেষ হয়ে গেছে। তিনি সাহাবায়ে কেরامদের জিজ্ঞেস করলেন- তোমরা কি নামায পড়েছ? তাঁরা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তোমাদের নামাযের ইমামতি কে করেছে? তাঁরা বললেন, আবু বকর। তিনি বললেন, তোমরা ভালো করেছ, যাদের মাঝে আবু বকর আছে, তাদের ইমামতি অন্য কেউ করা উচিত নয়。

টিকাঃ
৯৩ আল মুস্তাদরিফুল আলিয়া, লি ইবনি হাজার, ৪র্থ খণ্ড, লি ইবনি হিশাম, ৩৩৮।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থায় আপনি কতই না উত্তম

📄 জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থায় আপনি কতই না উত্তম


মদিনার প্রান্তসীমার উঁচু ভূমিতে হযরত আবু বকর রা নিজ বাড়িতে গেলেন। উদ্দেশ্য ক্লান্তি দূর করতে সামান্য সময় বিশ্রাম নিবেন। কিন্তু কিছুক্ষণ না যেতেই এক ঘোষকাকারী মৃত্যুর সংবাদ ঘোষণা করতে দ্রুত দৌড়ে এসেছিল। সে হযরত আবু বকর রা-এর বাড়ির সামনে এসে চিৎকার দিয়ে বলল, হে আবু বকর......... হে আবু কুহাফার ছেলে! হযরত আবু বকর রা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বের হয়ে এলেন। তিনি ওই লোকটির দিকে তাকালে লোকটি তাঁর দুঃখভরা মন নিয়ে দু'ঠোঁট নাড়িয়ে বলল, আল্লাহ্র রাসূল ইন্তিকাল করেছেন। এ কথা শুনে হযরত আবু বকর রা-এর অন্তর কেঁপে উঠল। তাঁর চোখ দিয়ে অশ্রু ঝর ঝর করে পড়তে লাগল। তিনি দ্রুত রাসূল সা-এর বাড়ির দিকে ছুটলেন। হযরত আবু বকর রাসূল সা-এর বাড়িতে এসে দেখতে পেলেন মানুষের বিষণ্ণ মনে কেউ বসে আছে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। তাদের চোখ দিয়ে অশ্রুর বন্যা বয়ে যাচ্ছিল। তখন সকলের হৃদয়ে কান্নার রুদ্ধ স্মরণ হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল দুঃখে মনের আকাশ ভেঙে যাবে। এমনকি হযরত ওমর রা তাঁর তরবারি উন্মুক্ত করে চিৎকার দিয়ে বলতে লাগলেন, যে বলবে মুহাম্মদ মারা গেছেন আমি তার ধড়ে এ তরবারি দিয়ে আঘাত করব। হযরত আবু বকর রা মানুষকে রেখে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করলেন। তিনি গিয়ে দেখলেন রাসূল সা-কে দেওয়ালের পাশে চাদর দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। হযরত আবু বকর রা তাঁর সাথে মুখে থেকে চাদর সরিয়ে তাঁর কপালে বিদায়ী চুমু দিলেন। আর তখন রাসূল সা-এর মোবারকময় সুগন্ধি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল। এতে হযরত আবু বকর রা বললেন, জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থায় আপনি কতই না উত্তম। তারপর হযরত আবু বকর রা উঠে আসতে লাগলেন যদিও দুঃখ-বেদনায় তাঁর ইষ্ট দাঁড়ানোর শক্তি পাচ্ছিল না। তিনি ঘরের বাইরে এসে মানুষদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, যে লোক সকল! যা ব্যক্তি মুহাম্মদের ইবাদাত করেছ, তবে মুহাম্মদ মারা গেছেন আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্র ইবাদাত করেছ, তবে আল্লাহ্ তা'আলা জীবিত, তিনি কখনো মারা যাবেন না। তারপর তিনি তেলাওয়াত করলেন............ وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ أَفَإِنْ مَاتَ أَوْ قُتِلَ انْقَلَبْتُمْ عَلَى أَعْقَابِكُمْ وَمَنْ يَنْقَلِبْ عَلَى عَقِبَيْهِ فَلَنْ يَضُرَّ اللَّهَ شَيْئًا وَسَيَجْزِي اللَّهُ الشَّاكِرِينَ অর্থ- আর মুহাম্মদ রাসূল ব্যতীত অন্য কিছু নন। তাঁর পূর্বে বহু রাসূল অতিবাহিত হয়ে গেছেন। যদি তিনি মারা যান অথবা নিহত হন তবে কি তোমরা পিছু হটে যাবে? বস্তুত যে পিছু হটবে, সে আল্লাহ্র সামান্য ক্ষতিও করতে পারবে না। আর যারা কৃতজ্ঞ, অচিরেই আল্লাহ্ তাদেরকে প্রতিদান দিবেন। (সূরা আলে ইমরান: ১৪৪)

টিকাঃ
৯৪ আল বিদায়া, ৫ ম খণ্ড, (২৮০-২৪৪)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00