📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আবু বকর রা. ও রাফে বিন আমর আতাতী

📄 আবু বকর রা. ও রাফে বিন আমর আতাতী


নবম হিজরীতে রাসূল ﷺ হযরত আবূ আমির আ'স رضي الله عنه-কে গোয়েন্দা বাহিনী হিসেবে তাইফীতে প্রেরণ করেন। আরবের মধ্যে যে ব্যক্তি মুসলমান হবে তাকে সিরিয়ার দিকে রওনা করে রোমকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অংশগ্রহণ করার জন্যে আহ্বান করতে রাসূল ﷺ আদেশ দিলেন এবং যারা ইসলাম গ্রহণ করেনি তাদের সাথে বন্ধুদের মতো আচরণ করেছে যেন তারা শত্রুদের দলে যোগ না দেয়।
সেই দলের মধ্যে হযরত আবূ বকর সিদ্দীক, ওমর বিন খাত্তাবসহ আরও অনেক উল্লেখযোগ্য সাহাবাগণ ছিলেন।
তারা চলতে চলতে তাইফী পাহাড়ে পৌঁছলেন। সেখানে তাঁদের কাছে পথ অচেনা মনে হলো। তারা ভয় করতে লাগলেন রাস্তা না চেনার কারণে তারা ধ্বংস হয়ে যাবেন।
তখন হযরত ওমর বিন খাত্তাব رضي الله عنه বললেন, আমাদেরকে এমন একজন লোক এনে দাও যে আমাদের অচেনা পথের দিশারী হবে।
তখন তাঁদেরকে বলা হলো, তোমাদের জন্যে রাফি বিন উমায়া আল-আত্বায়ী-ই আছে। কেননা সেই এ পানবিহীন মরু পথ সবচেয়ে বেশি চেনে।
হযরত রাফি বিন আল-আত্বায়ীর নিজেদের পথের দিশারী হিসেবে বেছে নিলেন।
হযরত রাফি বিন উমাইর رضي الله عنه রাসূল ﷺ-এর মহান সাহাবীদেরকে পথ দেখিয়ে দিতে কিছু দিন তাঁদের সাথে কাটালেন। আর তাঁরাও তাঁদেরকে আদেশ করা কাজ শেষ করলেন।
হযরত রাফি রাসূল ﷺ-এর সাহাবীদের সাথে থাকার কারণে তাঁদের সুন্দর ব্যবহার, উত্তম আখলাক ও মহান চরিত্র দেখতে পান যা তাঁর অন্তরে তাঁদের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করে।
তিনি তাঁদেরকে দেখতেন তাঁরা রাতের বেলা ইবাদতে মশগুল থাকতেন আর দিনের বেলা ঘোড়ার পৃষ্ঠে থাকতেন।
তারা দুনিয়া বিরাগী ও আল্লাহর পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান পাওয়ার আশায় থাকত।
কিন্তু তাঁদের সাথে থাকার সময় হযরত রাফিয়ির অবস্থা ছিল অন্যরকম যা তিনি নিজেই বলেন......
আমি যখন তাঁদের থেকে আলাদা থাকতাম তখন তাঁদেরকে নিয়ে ভাবতাম। বিশেষ করে আবূ বকরের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। আমি তাঁকে সবার থেকে বেশি সম্মান করতাম, সবার থেকে বেশি প্রাধান্য দিতাম।
আমরা আমাদের পূর্বের স্থানে ফিরে আসার জন্যে রওনা করলাম, কিন্তু আমি তাঁদের থেকে আলাদা হয়ে নিজের পথের দিকে যখন পা বাড়াব তখন আমি অনুভব করলাম তাঁরা আমার হৃদয় নিয়ে চলে যাচ্ছেন।
আমার মনের এ অবস্থার কারণে আমি আবূ বকরের নিকটে এসে বলি-
হে কল্যাণের বন্ধু! আমি আপনাকে ভালোবেসে জানি এবং আপনার বন্ধুদের থেকে আপনাকেই পছন্দ করেছি। সুতরাং আপনি আমাকে এমন উপদেশ দিন যা পালন করলে আমি আপনাদের একজন হতে পারব এবং আপনাদের মতো হতে পারব।
তিনি বললেন, তুমি কি তোমার পাঁচটি সদগুণ সংরক্ষণ করতে পারবে?
আমি বললাম, হ্যাঁ।
হযরত আবূ বকর رضي الله عنه বললেন, তাহলে সেই আব্দুল্লাহ গণনা কর-
আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল তুমি এনামায় আদায় করবে।
নামায আদায় করবে।
যদি তোমার সম্পদ থাকে তাহলে যাকাতও দেবে।
রমজান মাসে রোযা রাখবে.........
এবং মক্কায় গমন করার সক্ষমতা থাকলে হজ্জ করবে।
এরপর বললেন, তুমি কি এতো গুলো সংরক্ষণ করেছ?
আমি বললাম, সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।
আর আমি কখনও নামায ছাড়ব না,
যদি আমার সম্পদ থাকে তাহলে যাকাত দেব,
রমজান মাসে আমি জীবিত থাকলে রোযা রাখব,
এবং যদি আল্লাহ্ চায় আর আমি সক্ষম হই তাহলে আমি হজ্জ আদায় করব。

টিকাঃ
৮ 'বুওয়াদুল রুফাফা, ৯৯২-৯৯৩ পৃ.।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 এ শায়েখ কেন কাঁদছে?

📄 এ শায়েখ কেন কাঁদছে?


নবী করীম ﷺ মিম্বরে বসে তাঁর সাহাবীদের উপদেশ দিচ্ছিলেন। মনে হচ্ছিল এটি তাঁর বিদায়ী উপদেশ।
একফাঁকায় চোখে তিনি বললেন, আল্লাহ তাআ'লা এক ব্যক্তিকে দুনিয়া অথবা আল্লাহ্র নিকটে যা আছে, দু’টির একটি বেছে নিতে বললেন। তখন লোকটি আল্লাহ্র নিকট যা আছে তা বেছে নিল।
হযরত আবূ বকর رضي الله عنه এ কথা শুণার সাথে সাথে অশ্রুভরা, কান্না স্বরে চিৎকার দিয়ে বললেন, আপনার জন্য কোরবান হোক.........আমাদের পিতামাতা আপনার জন্য কোরবান হোক।
এতে মানুষ খুবই আশ্চর্য হয়ে গেল। কেন এ শায়েখ কাঁদছে? কেনই বা তাঁর কন্ঠ থেকে এত করুণ চিৎকার বের হয়ে আসল!.......নবী করীম ﷺ এতো কোনো এক ব্যক্তির কথা বললেন, সে আল্লাহর নিকট যা আছে তা বেছে নিল.......এতো কান্নার কি আছে?
কিন্তু লোকেরা জানত যে, আবূ বকর رضي الله عنه তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী ও অভিজ্ঞ। আর রাসূল ﷺ যে ব্যক্তির কথা বলেছিলেন। সে ব্যক্তি স্বয়ং তিনি নিজেই। তিনি আল্লাহর প্রতিবেশী হওয়ারও বেছে নিয়েছেন এ কারণেই হযরত আবূ বকর رضي الله عنه চিৎকার দিয়ে কাঁদলেন। এরপর বেশিদিন যায়নি এরই মধ্যে একদিন রাসূল ﷺ এ দুনিয়া ছেড়ে তাঁর প্রভুর কাছে চলে গেলেন。

টিকাঃ
৯ সহীহ বুখারী, ৪৬৬ পৃ. আল মিশকাত, ৫৫২৭ পৃ.।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 নিশ্চয়ই তোমরা ইউসুফের সাথিদের ছোটরূপ

📄 নিশ্চয়ই তোমরা ইউসুফের সাথিদের ছোটরূপ


রাসূল ﷺ-এর অসুস্থতা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে এমনকি তিনি দাঁড়িয়ে নামায পড়তেও লাগলেন।
নামাযের সময় হলে হযরত বিলাল রা এস আযান দিলেন... রাসূল সা মাথা থেকে কাঁথা নামিয়ে জীর্ণকণ্ঠে বললেন, মানুষকে নিয়ে নামায আদায় করতে আবু বকরকে নির্দেশ দাও।
হযরত আয়েশা রা বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আবু বকর তো খুব কোমল হৃদয়ের মানুষ। তিনি নামাযে দাঁড়ালে কান্না শুরু করবেন। আর অধিক কান্নার কারণে তাঁর কেরাত মানুষ শুনতে পাবে না। যদি আপনি ওমরকে নির্দেশ দিতেন। রাসূল সা তাঁর কথায় অনড় থেকে আবার বললেন, মানুষকে নিয়ে নামায আদায় করতে আবু বকরকে নির্দেশ দাও। তখন হযরত আয়েশা রা হযরত হাফসা রা-কে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি রাসূলকে বল, আবু বকর কোমল হৃদয়ের মানুষ। তিনি নামাযের ইমামতি করলে অধিক কান্নার কারণে মানুষ তাঁর কেরাত শুনতে পাবে না। যদি আপনি ওমরকে নির্দেশ দিতেন। তখন রাসূল সা রাগান্বিত হয়ে বললেন, নিশ্চয়ই তোমরা ইউসুফের সখিদের ছোটরূপ, আবু বকরকে নির্দেশ দাও মানুষকে নিয়ে নামায আদায় করতে। হযরত আবু বকর নামাযে গেলে রাসূল সা নিজের শরীর হালকা অনুভব করতে লাগলেন। তাই তিনি দু'জন সাহাবীর ওপর ভর করে মসজিদে প্রবেশ করলেন। যখন আবু বকর রা রাসূল সা-এর আগমন টের পেলেন তিনি তাঁর স্থান থেকে পিছনে চলে আসতে লাগলেন। রাসূল সা তাঁকে তাঁর স্থানে থাকার নির্দেশ দিলেন, কিন্তু তিনি পিছনে এসে কাতারের সাথে শামিল হয়ে গেলেন। নামায শেষে রাসূল সা জিজ্ঞেস করলেন- আবু বকর! আমি নির্দেশ দেওয়ার পরেও কেন তুমি নিজ স্থানে স্থির থাকলে না। তখন আবু বকর রা খুব নম্রভাবে বললেন, রাসূল সা-এর সামনে দাঁড়িয়ে নামায পড়া আবু কুহাফার ছেলের শোভা পায় না। (আবু কুহাফা তিনি নিজেই)

টিকাঃ
৯২ সহীহ বুখারী (৬৭৮, ৬৯৪, ৭১৩)

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 তোমরা ভালো করেছ

📄 তোমরা ভালো করেছ


নামাযের সময় হয়েছে....... অনাদিকে রাসূল সা অসুস্থতার কারণে ঘরে শুয়ে আছেন। তখন বিলাল রা বললেন, নামাযের সময় হয়েছে, কিন্তু রাসূল সা তো নেই। আপনি কি চান যে, আমি আযান ও ইকামাত দিব আর আপনি মানুষকে নিয়ে নামায আদায় করবেন? হযরত আবু বকর রা বললেন, তোমার ইচ্ছে...।
নামাযের সময় হযরত বিলাল রা আযান ও ইকামত দিলেন এবং হযরত আবু বকর রা-কে নামাযের ইমামতি করার জন্যে এগিয়ে দিলেন। নামাযের শেষ মুহূর্তে রাসূল সা নিজের শরীর একটু হালকা অনুভব করলে মসজিদে এলেন। তিনি এসে দেখলেন নামায শেষ হয়ে গেছে। তিনি সাহাবায়ে কেরامদের জিজ্ঞেস করলেন- তোমরা কি নামায পড়েছ? তাঁরা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তোমাদের নামাযের ইমামতি কে করেছে? তাঁরা বললেন, আবু বকর। তিনি বললেন, তোমরা ভালো করেছ, যাদের মাঝে আবু বকর আছে, তাদের ইমামতি অন্য কেউ করা উচিত নয়。

টিকাঃ
৯৩ আল মুস্তাদরিফুল আলিয়া, লি ইবনি হাজার, ৪র্থ খণ্ড, লি ইবনি হিশাম, ৩৩৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00