📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আমার সাথিকে ছেড়ে দিচ্ছ?

📄 আমার সাথিকে ছেড়ে দিচ্ছ?


তারি বর্শা এক হাতে নিয়ে.........
অন্য হাতে কাপড়ের কিনারা ধরে হযরত আবূ বকর রضي الله عنه আসছিলেন। এমনকি চলার গতিতে তাঁর ইটু মাঝে মাঝে প্রকাশিত হয়ে যাচ্ছিল। তাঁর চেহারায় দুশ্চিন্তার ভাব দেখা যাচ্ছিল।
তাঁকে দেখে রাসূল ﷺ বুঝতে পারলেন যে, তাঁর সাথে হযরত ওমর রضي الله عنه-এর কোনো কিছু হয়েছে।
হযরত আবূ বকর রضي الله عنه হযরত ওমর রضي الله عنه-এর দিকে এগিয়ে গেলেন এবং তাঁকে ক্ষমা করে দিতে বললেন, কিন্তু হযরত ওমর মুখ ফিরিয়ে নিলেন।
তখন রাসূল ﷺ বললেন, আবূ বকর! তোমাকে আল্লাহ তাআ'লা ক্ষমা করুন,......... (একথাটি তিনি তিন বার বলেছেন)। পরে হযরত ওমর রضي الله عنه তাঁর এ কাজে অনুতপ্ত হলেন। তিনি হযরত আবূ বকর রضي الله عنه এর কাছে আসলেন, কিন্তু তাঁকে পেলেন না। তাঁকে না পেয়ে তিনি নবী করীম ﷺ-এর কাছে গেলেন।
হযরত ওমর রضي الله عنه রাসূল ﷺ-এর নিকটবর্তী হলে রাগে রাসূল ﷺ-এর চেহারা পরিবর্তন হয়ে গেল, তাঁর চোখ লাল হয়ে গেল। হযরত ওমর رضي الله عنه-এর প্রতি রাসূল ﷺ-এর প্রচন্ড রাগ দেখে হযরত আবূ বকর رضي الله عنه তাঁর নিকটবর্তী হয়ে খুব নম্রভাবে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি জুলুম করেছি..........। আল্লাহর শপথ! আমি জুলুম করেছি (অর্থাৎ তিনি রাসূল ﷺ-এর কাছে হযরত ওমর رضي الله عنه-কে দোষমুক্ত প্রমাণ করার চেষ্টা করতে লাগলেন)।
রাসূল ﷺ বললেন, আল্লাহ তাআ'লা আমাকে তোমাদের নিকটে প্রেরণ করেছিলেন তখন তোমরা আমাকে মিথ্যাবাদী বলেছ, আর আবূ বকর আমাকে সত্যবাদী বলেছে.......এবং নিজের জান, মাল দিয়ে আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। আর এখন তোমরা আমার সে সঙ্গীকে ত্যাগ করছ?

টিকাঃ

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আবু বকর আমাকে কখনো কষ্ট দেয়নি

📄 আবু বকর আমাকে কখনো কষ্ট দেয়নি


রাসূল ﷺ বিদায় হজ্জ থেকে ফিরে আসার পর সাহাবীদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে মিম্বরে উঠলেন। প্রথমে তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করলেন।
তারপর বললেন, আবূ বকর আমাকে কখনো কষ্ট দেয়নি.......তোমরা তার ব্যাপারে এ কথাটি জেনে রাখ।
হে মানুষ সকল! আমি আবূ বকরের ওপর সন্তুষ্ট。

টিকাঃ

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 কল্যাণের সমষ্টি ও জান্নাতের সুসংবাদ

📄 কল্যাণের সমষ্টি ও জান্নাতের সুসংবাদ


একদল সাহাবীর মাঝে রাসূল ﷺ গিয়ে বসলেন। তিনি তাঁদেরকে জিজ্ঞেস করলেন- তোমাদের মধ্যে কে আজ রোজা রেখেছে?
হযরত আবূ বকর রضي الله عنه বললেন, আমি, হে আল্লাহুর রাসূল।
তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন- তোমাদের মধ্যে কে আজ জানাযায় অংশগ্রহণ করেছে?
হযরত আবূ বকর রضي الله عنه বললেন, আমি, হে আল্লাহুর রাসূল।
তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন- তোমাদের মধ্যে কে আজ মিসকীনকে খানা খাইয়েছে?
হযরত আবূ বকর রضي الله عنه বললেন, আমি, হে আল্লাহুর রাসূল।
তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন- তোমাদের মধ্যে আজ রোগী দেখতে গিয়েছিল?
হযরত আবূ বকর রضي الله عنه বললেন, আমি, হে আল্লাহুর রাসূল।
তারপর রাসূল ﷺ বললেন, জান্নাতে প্রবেশকারী ব্যতীত অনাকারো মাঝে এতো ভালো কাজ একত্রিত হয় না。

টিকাঃ

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আবু বকর রা. ও রাফে বিন আমর আতাতী

📄 আবু বকর রা. ও রাফে বিন আমর আতাতী


নবম হিজরীতে রাসূল ﷺ হযরত আবূ আমির আ'স رضي الله عنه-কে গোয়েন্দা বাহিনী হিসেবে তাইফীতে প্রেরণ করেন। আরবের মধ্যে যে ব্যক্তি মুসলমান হবে তাকে সিরিয়ার দিকে রওনা করে রোমকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অংশগ্রহণ করার জন্যে আহ্বান করতে রাসূল ﷺ আদেশ দিলেন এবং যারা ইসলাম গ্রহণ করেনি তাদের সাথে বন্ধুদের মতো আচরণ করেছে যেন তারা শত্রুদের দলে যোগ না দেয়।
সেই দলের মধ্যে হযরত আবূ বকর সিদ্দীক, ওমর বিন খাত্তাবসহ আরও অনেক উল্লেখযোগ্য সাহাবাগণ ছিলেন।
তারা চলতে চলতে তাইফী পাহাড়ে পৌঁছলেন। সেখানে তাঁদের কাছে পথ অচেনা মনে হলো। তারা ভয় করতে লাগলেন রাস্তা না চেনার কারণে তারা ধ্বংস হয়ে যাবেন।
তখন হযরত ওমর বিন খাত্তাব رضي الله عنه বললেন, আমাদেরকে এমন একজন লোক এনে দাও যে আমাদের অচেনা পথের দিশারী হবে।
তখন তাঁদেরকে বলা হলো, তোমাদের জন্যে রাফি বিন উমায়া আল-আত্বায়ী-ই আছে। কেননা সেই এ পানবিহীন মরু পথ সবচেয়ে বেশি চেনে।
হযরত রাফি বিন আল-আত্বায়ীর নিজেদের পথের দিশারী হিসেবে বেছে নিলেন।
হযরত রাফি বিন উমাইর رضي الله عنه রাসূল ﷺ-এর মহান সাহাবীদেরকে পথ দেখিয়ে দিতে কিছু দিন তাঁদের সাথে কাটালেন। আর তাঁরাও তাঁদেরকে আদেশ করা কাজ শেষ করলেন।
হযরত রাফি রাসূল ﷺ-এর সাহাবীদের সাথে থাকার কারণে তাঁদের সুন্দর ব্যবহার, উত্তম আখলাক ও মহান চরিত্র দেখতে পান যা তাঁর অন্তরে তাঁদের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করে।
তিনি তাঁদেরকে দেখতেন তাঁরা রাতের বেলা ইবাদতে মশগুল থাকতেন আর দিনের বেলা ঘোড়ার পৃষ্ঠে থাকতেন।
তারা দুনিয়া বিরাগী ও আল্লাহর পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান পাওয়ার আশায় থাকত।
কিন্তু তাঁদের সাথে থাকার সময় হযরত রাফিয়ির অবস্থা ছিল অন্যরকম যা তিনি নিজেই বলেন......
আমি যখন তাঁদের থেকে আলাদা থাকতাম তখন তাঁদেরকে নিয়ে ভাবতাম। বিশেষ করে আবূ বকরের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। আমি তাঁকে সবার থেকে বেশি সম্মান করতাম, সবার থেকে বেশি প্রাধান্য দিতাম।
আমরা আমাদের পূর্বের স্থানে ফিরে আসার জন্যে রওনা করলাম, কিন্তু আমি তাঁদের থেকে আলাদা হয়ে নিজের পথের দিকে যখন পা বাড়াব তখন আমি অনুভব করলাম তাঁরা আমার হৃদয় নিয়ে চলে যাচ্ছেন।
আমার মনের এ অবস্থার কারণে আমি আবূ বকরের নিকটে এসে বলি-
হে কল্যাণের বন্ধু! আমি আপনাকে ভালোবেসে জানি এবং আপনার বন্ধুদের থেকে আপনাকেই পছন্দ করেছি। সুতরাং আপনি আমাকে এমন উপদেশ দিন যা পালন করলে আমি আপনাদের একজন হতে পারব এবং আপনাদের মতো হতে পারব।
তিনি বললেন, তুমি কি তোমার পাঁচটি সদগুণ সংরক্ষণ করতে পারবে?
আমি বললাম, হ্যাঁ।
হযরত আবূ বকর رضي الله عنه বললেন, তাহলে সেই আব্দুল্লাহ গণনা কর-
আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল তুমি এনামায় আদায় করবে।
নামায আদায় করবে।
যদি তোমার সম্পদ থাকে তাহলে যাকাতও দেবে।
রমজান মাসে রোযা রাখবে.........
এবং মক্কায় গমন করার সক্ষমতা থাকলে হজ্জ করবে।
এরপর বললেন, তুমি কি এতো গুলো সংরক্ষণ করেছ?
আমি বললাম, সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।
আর আমি কখনও নামায ছাড়ব না,
যদি আমার সম্পদ থাকে তাহলে যাকাত দেব,
রমজান মাসে আমি জীবিত থাকলে রোযা রাখব,
এবং যদি আল্লাহ্ চায় আর আমি সক্ষম হই তাহলে আমি হজ্জ আদায় করব。

টিকাঃ
৮ 'বুওয়াদুল রুফাফা, ৯৯২-৯৯৩ পৃ.।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00