📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 অনুগ্রহপ্রাপ্ত

📄 অনুগ্রহপ্রাপ্ত


হযরত মিসতাহ বিন উছাজ্বাহ সাথে হযরত আবূ বকর রضي الله عنه এর আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকার কারণে তিনি তাকে ধন-সম্পদ দান করতেন।
হযরত মিসতাহ ইবকের (হযরত আয়েশার বিরুদ্ধে অপবাদের) ঘটনায় মুনাফিক কুৎসা রটনাকারীদের সাথে মিলে হযরত আয়েশা রضي الله عنها এর বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন। পরে যখন হযরত আয়েশার পবিত্রতা বর্ণনা করে আয়াত নাযিল হলো তখন হযরত আবু বকর রضي الله عنه বললেন, আল্লাহুর শপথ! মিসতাহ আয়েশার বিরুদ্ধে এরূপ কথা বলার পর আমি আর তাকে কোনো প্রকার দান-সদকা করব না।
এতে আল্লাহ তাআ’লা কোরআনের আয়াত নাযিল করে বলেন...........
وَلَا يَأْتَلِ اُولُوا الْفَضْلِ مِنْكُمْ وَالسَّعَةِ أَن يُؤْتُوا اُولِي الْقُرْبَى وَالْمَسَاكِينَ وَالْمُهَاجِرِينَ فِي سَبِilِ اللهِ – وَلْيَعْفُوا وَلْيَصْفَحُوا أَلَا تُحِبُّونَ أَن يَغْفِرَ اللهُ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
অর্থ- তোমাদের মধ্যে যারা উচ্চ মর্যাদা ও আর্থিক প্রাচুর্যের অধিকারী তারা যেন কসম না করে যে, আত্মীয়-স্বজন, অভাবগ্রস্ত ও আল্লাহর পথে হিজরতকারীদের কিছুই দেবে না। তাদের উচিত ক্ষমা করে দেওয়া এবং দোষত্রুটি উপেক্ষা করা। তোমরা কি পছন্দ করো না যে, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করে দিন? আর আল্লাহ তো ক্ষমাশীল পরম করুণাময়।
তখন হযরত আবু বকর রضي الله عنه বললেন, অবশ্যই, আল্লাহর শপথ! আমি পছন্দ করি আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করবেন।
এরপর তিনি মিসতাহকে আগের মতো দান-সদকা করতে লাগলেন......আর বললেন, আমি কখনো তাকে দান-সদকা করা বন্ধ করব না。

টিকাঃ
৪১ সহীহ বুখারী, (২৫৯৯ ও ৬৬৭৯)

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আমার সাথিকে ছেড়ে দিচ্ছ?

📄 আমার সাথিকে ছেড়ে দিচ্ছ?


তারি বর্শা এক হাতে নিয়ে.........
অন্য হাতে কাপড়ের কিনারা ধরে হযরত আবূ বকর রضي الله عنه আসছিলেন। এমনকি চলার গতিতে তাঁর ইটু মাঝে মাঝে প্রকাশিত হয়ে যাচ্ছিল। তাঁর চেহারায় দুশ্চিন্তার ভাব দেখা যাচ্ছিল।
তাঁকে দেখে রাসূল ﷺ বুঝতে পারলেন যে, তাঁর সাথে হযরত ওমর রضي الله عنه-এর কোনো কিছু হয়েছে।
হযরত আবূ বকর রضي الله عنه হযরত ওমর রضي الله عنه-এর দিকে এগিয়ে গেলেন এবং তাঁকে ক্ষমা করে দিতে বললেন, কিন্তু হযরত ওমর মুখ ফিরিয়ে নিলেন।
তখন রাসূল ﷺ বললেন, আবূ বকর! তোমাকে আল্লাহ তাআ'লা ক্ষমা করুন,......... (একথাটি তিনি তিন বার বলেছেন)। পরে হযরত ওমর রضي الله عنه তাঁর এ কাজে অনুতপ্ত হলেন। তিনি হযরত আবূ বকর রضي الله عنه এর কাছে আসলেন, কিন্তু তাঁকে পেলেন না। তাঁকে না পেয়ে তিনি নবী করীম ﷺ-এর কাছে গেলেন।
হযরত ওমর রضي الله عنه রাসূল ﷺ-এর নিকটবর্তী হলে রাগে রাসূল ﷺ-এর চেহারা পরিবর্তন হয়ে গেল, তাঁর চোখ লাল হয়ে গেল। হযরত ওমর رضي الله عنه-এর প্রতি রাসূল ﷺ-এর প্রচন্ড রাগ দেখে হযরত আবূ বকর رضي الله عنه তাঁর নিকটবর্তী হয়ে খুব নম্রভাবে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি জুলুম করেছি..........। আল্লাহর শপথ! আমি জুলুম করেছি (অর্থাৎ তিনি রাসূল ﷺ-এর কাছে হযরত ওমর رضي الله عنه-কে দোষমুক্ত প্রমাণ করার চেষ্টা করতে লাগলেন)।
রাসূল ﷺ বললেন, আল্লাহ তাআ'লা আমাকে তোমাদের নিকটে প্রেরণ করেছিলেন তখন তোমরা আমাকে মিথ্যাবাদী বলেছ, আর আবূ বকর আমাকে সত্যবাদী বলেছে.......এবং নিজের জান, মাল দিয়ে আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। আর এখন তোমরা আমার সে সঙ্গীকে ত্যাগ করছ?

টিকাঃ

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আবু বকর আমাকে কখনো কষ্ট দেয়নি

📄 আবু বকর আমাকে কখনো কষ্ট দেয়নি


রাসূল ﷺ বিদায় হজ্জ থেকে ফিরে আসার পর সাহাবীদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে মিম্বরে উঠলেন। প্রথমে তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করলেন।
তারপর বললেন, আবূ বকর আমাকে কখনো কষ্ট দেয়নি.......তোমরা তার ব্যাপারে এ কথাটি জেনে রাখ।
হে মানুষ সকল! আমি আবূ বকরের ওপর সন্তুষ্ট。

টিকাঃ

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 কল্যাণের সমষ্টি ও জান্নাতের সুসংবাদ

📄 কল্যাণের সমষ্টি ও জান্নাতের সুসংবাদ


একদল সাহাবীর মাঝে রাসূল ﷺ গিয়ে বসলেন। তিনি তাঁদেরকে জিজ্ঞেস করলেন- তোমাদের মধ্যে কে আজ রোজা রেখেছে?
হযরত আবূ বকর রضي الله عنه বললেন, আমি, হে আল্লাহুর রাসূল।
তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন- তোমাদের মধ্যে কে আজ জানাযায় অংশগ্রহণ করেছে?
হযরত আবূ বকর রضي الله عنه বললেন, আমি, হে আল্লাহুর রাসূল।
তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন- তোমাদের মধ্যে কে আজ মিসকীনকে খানা খাইয়েছে?
হযরত আবূ বকর রضي الله عنه বললেন, আমি, হে আল্লাহুর রাসূল।
তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন- তোমাদের মধ্যে আজ রোগী দেখতে গিয়েছিল?
হযরত আবূ বকর রضي الله عنه বললেন, আমি, হে আল্লাহুর রাসূল।
তারপর রাসূল ﷺ বললেন, জান্নাতে প্রবেশকারী ব্যতীত অনাকারো মাঝে এতো ভালো কাজ একত্রিত হয় না。

টিকাঃ

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00