📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 কারো কাছে কিছু চাইতেন না

📄 কারো কাছে কিছু চাইতেন না


আবূ মুলাইকা বলেন, আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু উটে থাকা অবস্থায় তাঁর হাত থেকে উট ইকানো বেত পড়ে গেল। তখন তিনি নিজেই উটের উপর থেকে নেমে তা উঠালেন। এটি দেখে লোকজন বলল, আপনি আমাদেরকে বললেই তো আমরা তা তুলে দিতাম। তখন তিনি বললেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমি যেন কারো কাছে কোনোকিছু প্রার্থনা না করি。

টিকাঃ
৮৫ ইমাম আহমদ।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 যদি খলিল গ্রহণ করতাম

📄 যদি খলিল গ্রহণ করতাম


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মৃত্যুর পূর্বে অসুস্থ অবস্থায় এক টুকরো কাপড় দিয়ে মাথা বেঁধে ঘর থেকে বের হলেন। এরপর তিনি মিম্বরে গিয়ে বসলেন এবং সাহাবীদের উদ্দেশ্যে কথা বলতে শুরু করলেন। আল্লাহ্র প্রশংসা ও গুণকীর্তন করার পর তিনি কষ্টে বললেন, আমাকে নিজের জান ও মাল দিয়ে আবূ বকরের চেয়ে বেশি অনুগ্রহকারী এমন কোনো মানুষ নেই। যদি আমি মানুষের মধ্যে কাউকে খালিল (সৌহার্দপূর্ণ বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করতাম তাহলে আবূ বকরকে গ্রহণ করতাম, কিন্তু ইসলামের সৌহার্দতা উত্তম।
তারপর তিনি আয়েশার ঘরে গেলেন। এ মসজিদে আমার কাছে আসবার সকল দরজা আবূ বকর ব্যতীত সবার জন্য বন্ধ করে দাও。

টিকাঃ
৮৬

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আবু বকর! আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন

📄 আবু বকর! আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন


হযরত রশীদা বিন কা'ব বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর পাশের একটি জমি দান করলেন, কিন্তু তখন থেকে আমার মাঝে দুনিয়াদারীর চাল আসে। এমনকি আমি একটি খেজুর গাছ নিয়ে আবূ বকরের সাথে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়লাম। আমি বললাম, এ গাছ আমার জমিনে। আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন; বরং এ গাছ আমার জমিনে। আমি তাঁর সাথে ঝগড়া করতে লাগলাম। এক পর্যায়ে তিনি আমাকে এমন কিছু কথা বলে ফেললেন যা আমার মনে খুব লেগে গেল, কিন্তু পরে তিনি এতে লজ্জিত হয়ে আমাকে বললেন, রশীদা! তুমি আমার আওয়াজকে একটু উচ্চ করতে তা আমার বলা কথার প্রতিশোধের জন্য। আমি বললাম, কখনো না আল্লাহ্র শপথ! আমি তা করব না। তিনি বললেন, তাহলে আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে তুমি আমার থেকে প্রতিশোধ না নেওয়ার অভিযোগ করব। এরপর তিনি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে রওয়ানা দিলেন। পরে আমিও তাঁর পিছু পিছু চলতে লাগলাম। আমার সাথে আমার গোত্র বনু আসলামের কিছু লোকও রওয়ানা হলো। তারা বলল, তিনি তোমাকে গালি দিলেন এখন আবার তিনিই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে তোমার নামে অভিযোগ করবেন! আমি তাদের দিকে তাকিয়ে বললাম, তোমাদের জন্য ধ্বংস! তোমরা জান তিনি কে? যিনি সিদ্দীক...........। যিনি মুসলমানদের সবচেয়ে অগ্রগামী ব্যক্তি...........। যিনি তোমাদেরকে দেখার আসলেই তোমরা ফিরে যাও। কেননা তিনি ধারণা করবেন তোমরা তাঁর বিরুদ্ধে আমাকে সহযোগিতা করতে এসেছ। এতে তিনি তোমাদের ওপর রাগান্বিত হবেন। আর তিনি রাগান্বিত হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও রাগান্বিত হবেন। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত হলে আল্লাহ্ তায়ালা রাগান্বিত হবেন। আমি এ কথা বলার পর তারা ফিরে গেল। তারপর আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে সে ঘটনা বর্ণনা করলেন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘটনা শুনে আমার দিকে মাথা তুলে তাকালেন। তিনি বললেন, রশীদা! আবূ বকরের কি হয়েছে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি চাচ্ছেন তিনি আমাকে যা বলেছেন আমিও যেন তাঁকে তা বলি, কিন্তু আমি বলিনি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইঁ্যা, সে তোমাকে যা বলেছে তা তুমি তাঁকে বলবে না। বরং তুমি বল, আল্লাহ্! আবূ বকরকে ক্ষমা করে দাও। তখন আমি তাঁকে বললাম, আবূ বকর! আল্লাহ্ আপনাকে ক্ষমা করুন।
এত তিনি ফিরে যেতে লাগলেন তখন তাঁর দুই চোখ থেকে পানি ঝরছিল এবং তিনি বলতে লাগলেন, রব্বিগ্না! আল্লাহ আমার পক্ষ থেকে তোমাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন.........
আল্লাহ আমার পক্ষ থেকে তোমাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন.........。

টিকাঃ
৪০ তারিখুল বুখারী, ৯৯২-৯৯৩ পৃ.।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 অনুগ্রহপ্রাপ্ত

📄 অনুগ্রহপ্রাপ্ত


হযরত মিসতাহ বিন উছাজ্বাহ সাথে হযরত আবূ বকর রضي الله عنه এর আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকার কারণে তিনি তাকে ধন-সম্পদ দান করতেন।
হযরত মিসতাহ ইবকের (হযরত আয়েশার বিরুদ্ধে অপবাদের) ঘটনায় মুনাফিক কুৎসা রটনাকারীদের সাথে মিলে হযরত আয়েশা রضي الله عنها এর বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন। পরে যখন হযরত আয়েশার পবিত্রতা বর্ণনা করে আয়াত নাযিল হলো তখন হযরত আবু বকর রضي الله عنه বললেন, আল্লাহুর শপথ! মিসতাহ আয়েশার বিরুদ্ধে এরূপ কথা বলার পর আমি আর তাকে কোনো প্রকার দান-সদকা করব না।
এতে আল্লাহ তাআ’লা কোরআনের আয়াত নাযিল করে বলেন...........
وَلَا يَأْتَلِ اُولُوا الْفَضْلِ مِنْكُمْ وَالسَّعَةِ أَن يُؤْتُوا اُولِي الْقُرْبَى وَالْمَسَاكِينَ وَالْمُهَاجِرِينَ فِي سَبِilِ اللهِ – وَلْيَعْفُوا وَلْيَصْفَحُوا أَلَا تُحِبُّونَ أَن يَغْفِرَ اللهُ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
অর্থ- তোমাদের মধ্যে যারা উচ্চ মর্যাদা ও আর্থিক প্রাচুর্যের অধিকারী তারা যেন কসম না করে যে, আত্মীয়-স্বজন, অভাবগ্রস্ত ও আল্লাহর পথে হিজরতকারীদের কিছুই দেবে না। তাদের উচিত ক্ষমা করে দেওয়া এবং দোষত্রুটি উপেক্ষা করা। তোমরা কি পছন্দ করো না যে, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করে দিন? আর আল্লাহ তো ক্ষমাশীল পরম করুণাময়।
তখন হযরত আবু বকর রضي الله عنه বললেন, অবশ্যই, আল্লাহর শপথ! আমি পছন্দ করি আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করবেন।
এরপর তিনি মিসতাহকে আগের মতো দান-সদকা করতে লাগলেন......আর বললেন, আমি কখনো তাকে দান-সদকা করা বন্ধ করব না。

টিকাঃ
৪১ সহীহ বুখারী, (২৫৯৯ ও ৬৬৭৯)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00