📄 নবী করীম সা.-এর সবচেয়ে প্রিয় মানুষ
একলোক যুদ্ধ থেকে ফিরে এসেছে.......। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীর দিক থেকে তাঁর সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন হযরত আয়েশার ঘরে ছিলেন। লোকটি সে ঘরে প্রবেশ করে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসোজ্জ্বাল চেহারায় তাকে স্বাগত জানালেন এবং তাঁর প্রয়োজনীয় ইচ্ছা পূরণ করার কথা বললেন। লোকটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলল, আপনার নিকট সবচেয়ে প্রিয় মানুষ কে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার পেছনে যে আছে (অর্থাৎ আয়েশা রা.)। লোকটি মাথা নেড়ে বলল, আমি মহিলাদের কথা বলিনি। আমি পুরুষদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার বাবা (অর্থাৎ হযরত আবূ বকর)
টিকাঃ
৮১ আল মুস্তাদরিক আবী আরিফা, ৪র্থ খণ্ড, ৩৫ পৃ।
📄 কে প্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে
দিনের শেষে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে মি'রাজের ঘটনা বর্ণনা করছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, জিবরাঈল আমার হাত ধরে ওই দরজা দেখাল, যে দরজা দিয়ে আমার উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবে।
তখন হযরত আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহর সাথে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার সাথে থাকতে চাই যাতেকরে আমি আপনাকে দেখতে পাই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, জেনে রাখ! আমার উম্মতের মধ্যে তুমিই সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে。
টিকাঃ
৮২ আল হাকিম, ৩য় খণ্ড, ৭৩ পৃ।
📄 সুসংবাদ গ্রহণ কর.......সাহায্য আসছে
বদরের যুদ্ধ : সতেরোই রমজান শুক্রবার। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁবুতে প্রবেশ করলেন, সাথে হযরত আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-ও প্রবেশ করলেন.......। তাঁদের সাথে অন্যকেউ ছিল না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে আল্লাহ্র কাছে হাত তুলে আল্লাহ্র সাহায্যের আবেদন করতে শুরু করলেন। তিনি কান্নাস্বরে বলতে লাগলেন, হে আল্লাহ্! তুমি যদি এ দলকে শেষ করে দাও তাহলে তোমার ইবাদত করার-মতো আর কেউ থাকবে না। হযরত আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর পাশে থেকে তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বলতে লাগলেন, হে আল্লাহ্র নবী!.......আল্লাহ্ তায়ালা অবশ্যই আপনার সাথে কৃত ওয়াদা পূর্ণ করবেন। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার পর তিনি বসলেন। এতে তাঁর চোখে ঘুম নেমে আসে। কিছুক্ষণ পর তিনি ঘুম থেকে জেগে গেলেন। তখন তিনি বললেন, আবূ বকর! সুসংবাদ গ্রহণ কর, আল্লাহ্র সাহায্য তোমার নিকট আসছে...........। এ হচ্ছেন জিবরাঈল, যিনি ঘোড়ার লাগাম ধরে তাকে বালুময় পথে পরিচালিত করছেন。
টিকাঃ
৮৩ সীরাতু ইবনি হিশাম, ২য় খণ্ড, ২৯৬ পৃ।
📄 যার সাথে গোপনে কথা বলেছি তাঁকে শুনিয়েছি
এক রাতে.......মানুষের অবস্থা জানার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘর থেকে বের হয়ে ঘুরে ঘুরে দেখছিলেন। তখন তিনি আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে দেখলেন, তিনি নিম্ন আওয়াজে নামাযে কেরাত পড়ছেন.........। তারপর তিনি ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে দেখলেন, তিনি খুব উচ্চ আওয়াজে নামায পড়ছেন। তখন তাঁরা দু'জন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বসলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবূ বকর! আমি তোমার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলাম, তুমি খুব নিম্ন আওয়াজে নামায পড়ছ। তখন হযরত আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, যার সাথে গোপনে কথা বলেছি তাঁকে শুনিয়েছি। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে জিজ্ঞেস করলেন- আমি তোমার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলাম, তুমি উচ্চ আওয়াজে নামায পড়ছ।
তখন হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি ঘুমন্তদেরকে জাগাচ্ছিলাম এবং শয়তানকে তাড়াচ্ছিলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয়ের কথা শুনে তাঁদের ভালো নিয়তের কারণে খুশি হয়ে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, আবূ বকর! তুমি তোমার আওয়াজকে একটু উচ্চ করবে.........। আর ওমর! তুমি তোমার আওয়াজকে একটু নিম্ন করবে。
টিকাঃ
৮৪ নাসাঈ শরীফ, ১১০৩৫ হাদিস।