📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আবু বকর রা.-এর পরিবারের বরকত

📄 আবু বকর রা.-এর পরিবারের বরকত


হযরত আয়েশা (রা.) রাসূল (ﷺ)-এর সাথে কোনো এক সফরসঙ্গিনী হয়ে রওনা দিলেন। তারা বায়দা নামক স্থান অতিক্রম করার সময় হযরত আয়েশা (রা.)-এর হার হারিয়ে গেল। রাসূল (ﷺ) হারটি খোঁজার জন্য সেখানে অবস্থান নিলেন। সাহাবায়ে কেরামও রাসূল (ﷺ)-এর সাথে অবস্থান নিলেন, কিন্তু সেখানে অবস্থান করে থাকার মতো পানি তাঁদের কাছে ছিল না। তখন এক লোক আবু বকর (রা.)-কে বলল, তুমি কি দেখ না আয়েশা কি করেছে? সে রাসূল (ﷺ)-কে নিয়ে এখানে অবস্থান নিয়েছে, অথচ নিকটে কোথাও পানি নেই আবার লোকদের কাছেও নেই। হযরত আবু বকর (রা.) রাগান্বিত হয়ে হযরত আয়েশার নিকটে আসলেন। রাগের ভাব তাঁর চোখে মুখে দেখা যাচ্ছিল। তিনি এসে দেখলেন রাসূল (ﷺ) হযরত আয়েশা (রা.)-এর কোলে মাথা রেখে গভীর ঘুমে নিমগ্ন ছিলেন। তিনি হযরত আয়েশা (রা.)-এর কাছে গিয়ে তাঁর কোমরে প্রহার করতে লাগলেন আর তাঁকে তিরস্কার করে বলতে লাগলেন, তুমি রাসূল (ﷺ)-এর যাত্রা আটকে দিলে এখন মানুষ পানিবিহীন স্থানে আর তাদের কাছেও জমা করা পানি নেই। হযরত আবু বকর (রা.) তাঁকে এ বলে ধমকাতে লাগলেন। হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, রাসূল (ﷺ) আমার কোলে মাথা রেখে ঘুমানোর কারণে আমি আঘাতের পরেও নড়াচড়া করতে পারিনি। সকালে রাসূল (ﷺ) ঘুম থেকে উঠলেন, কিন্তু কাফেলায় কোনো পানি ছিল না। আর তখন আল্লাহ তা’আলা তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল করেন।
নাযিল হওয়ার পর হযরত উসাইদ বিন হুদাইর বললেন, আবু বকর! এটাই তোমার পরিবারের প্রথম বরকত হয়। অন্যদিকে হযরত আয়েশা (রা.)-এর বহনকারী উটটি দাঁড়ালে সেখানে হারটি পাওয়া যায়。

টিকাঃ
৯ আল বুখারী (৩৪৪)।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 সম্মানিত লোকই সম্মানিতকে চিনে

📄 সম্মানিত লোকই সম্মানিতকে চিনে


একদল সাহাবী মাঝে রাসূল (ﷺ) বসা ছিলেন। তারকা রাজি যেমন চাঁদের পাশে ঘিরে থাকে সাহাবায়ে কেরামও তেমন রাসূল (ﷺ)-কে ঘিরে বসলেন। ঠিক সে সময় হযরত আলী (রা.) এসে সালাম দিলেন তিনি মজলিসের দিকে তাকিয়ে বসার জন্য জায়গা খুঁজতে লাগলেন। তখন রাসূল (ﷺ) তাকিয়ে দেখলেন লজ্জিত হয়ে যে, তাঁর কোন সাহাবী হযরত আলী (রা.)-কে জায়গা করে দেয়। হযরত আবু বকর (রা.) রাসূল (ﷺ)-এর ডানে বসা ছিলেন। তিনি নড়ে বসে হযরত আলীকে জায়গা করে দিলেন, আবুল হাসান (হাসানের বাবা)! তুমি এখানে বস। হযরত আলী তখন রাসূল (ﷺ) ও আবু বকর (রা.)-এর মাঝে গিয়ে বসলেন। এতে রাসূল (ﷺ)-এর চেহারা খুশিতে হাস্যোচ্ছল হয়ে উঠল। তিনি আবু বকর (রা.)-এর দিকে ঝুঁকে কানে কানে বললেন, আবু বকর! সম্মানিত লোকই সম্মানিতকে টিকাবে。

টিকাঃ
১০ আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৭ম খণ্ড, ৩৬৯ পৃ।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 নবীর ভালোবাসায়

📄 নবীর ভালোবাসায়


রাসূল (ﷺ)-কে রোগে আক্রান্ত করে, এতে তিনি দুর্বল হয়ে বিছানায় পড়ে রইলেন। অসুস্থতার কথা শুনে হযরত আবু বকর (রা.) রাসূল (ﷺ)-কে দেখতে গেলেন। যখন তিনি রাসূল (ﷺ)-কে বিছানায় পড়ে থাকতে দেখলেন, তিনি খুবই চিন্তিত হলেন। হযরত আবু بকর (রা.) বাড়িতে আসার পর রাসূল (ﷺ)-কে নিয়ে চিন্তা করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়লেন। পরে রাসূল (ﷺ) সুস্থ হলে তাঁকে দেখতে আসলেন। রাসূল (ﷺ)-কে সুস্থ দেখে হযরত আবু বকর (রা.) বেশি খুশি হলেন যে, তাঁর অসুস্থতা দূর হয়ে গেল। আর তাই তিনি রাসূল (ﷺ)-এর ভালোবাসায় আবু বকর (রা.) করতে লাগলেন.........
مَرَضُ الْحَبِيبِ فِيهِ شَقَّ الْحَبِيبُ فُؤَادِي
فَفِيهِ مِن أَسفٍ عَلَيْهِ فَفِيهِ مِن نَظَرِي إِلَيْهِ
বন্ধু অসুস্থ হলে আমি গেলাম তাকে দেখতে। তার অসুস্থতা দেখে নিজেই অসুস্থ হয়ে গেলাম তার চিন্তাতে। বন্ধু সুস্থ হয়ে আসল আমাকে দেখতে আমি সুস্থ হয়ে গেলাম তার দিকে তাকাতে-ই。

টিকাঃ
৭৯ মিন ওয়াসায়াল রাসূল, ২য় খণ্ড, ৬৪৫ পৃ।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 তুমি দোহাই দিও না

📄 তুমি দোহাই দিও না


সকালে সূর্যের মিষ্টি রোদে অন্ধকার দূর হয়ে চারিদিক আলোকিত হয়ে গেল। একলোক নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি স্বপ্নে এক খণ্ড মেঘ দেখেছি। যে মেঘ থেকে মধু ও ঘি ঝরছিল। তখন দেখলাম মানুষেরা ধরা মধু ও ঘি তাদের হাত কোষে নিতে লাগল। তারা সবাই কম- বেশি যতটুকু পেয়েছে নিয়েছে। এরপর দেখলাম আসমান থেকে জমিন পর্যন্ত একটি রশি, আর আপনি তা ধরে উপরে ওঠে গেছেন। এরপর একলোক ধরল সেও উপরে ওঠে গেল। এরপর আরেকজন ধরল সেও উপরে ওঠে গেল। এরপর আরেকজন ধরল, কিন্তু রশি ছুটে গেল.......। পরে তা আবার জমিনে পাঠানো হয় এবং সে লোকটিও ওপরে ওঠে গেল।
তখন হযরত আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমার পিতামাতা আপনার জন্য কোরবান হোক, আপনি আমাকে এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করার সুযোগ দিন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ব্যাখ্যা কর।
হযরত আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, মেঘের খণ্ডটি হচ্ছে ইসলাম। মেঘ থেকে যে মধু ও ঘি পড়ছিল তা হচ্ছে কোরআনের স্বাদ ও মজা। মানুষ যা হাতে কোষায় করে নিয়েছিল অর্থাৎ কম-বেশ কোরআন থেকে উপকৃত হয়েছিল।
জমিন থেকে আসমান পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া রশিটি হচ্ছে তা সত্যপথ। যা আপনি ধরেছেন আর আল্লাহ তায়ালা আপনাকে সত্যপথের অনুসারী হিসাবে নিয়ে উপরে তুলে নিবেন। আপনার পর একলোক তা ধরবে তাকেও তেমনভাবে উপরে তুলে নিবেন। তারপর আরেকজন ধরবে তাকেও তেমনভাবে উপরে তুলে নিবেন। তারপর আরেকজন ধরবে তখন তা ছুটে যাবে, পরে আবার পাঠানো হলে তাকেও তেমনভাবে তুলে নেওয়া হবে।
তারপর হযরত আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমার পিতামাতা আপনার জন্য কোরবান হোক, এবার বলুন আমি কি সঠিক ব্যাখ্যা করেছি না ভুল করেছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কিছু সঠিক করেছ আর কিছু ভুল করেছ। হযরত আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আল্লাহ্র শপথ! আপনি বলে দিন আমি কি ভুল করেছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দোয়াই দিও না。

টিকাঃ
৮০ তিবমিযী, ৩৯৭৩ নং হাদিস।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00