📄 আবু বকর রা. ও তাঁর ছেলে
হযরত আবু বকর (রা.)-এর ছেলে আব্দুর রহমান বদরের যুদ্ধে মুশরিকদের পক্ষ হয়ে যুদ্ধ করেছিল। তিনি ইসলাম গ্রহণ করার পর তাঁর বাবার পাশে গিয়ে বসলেন। তিনি তাঁর বাবাকে বললেন, আমি বদরের যুদ্ধে আপনাকে দেখেছি আর তখন আপনাকে হত্যা করা আমার জন্য খুবই সহজ ছিল, কিন্তু আমি আপনাকে হত্যা না করে অন্যদিক ফিরে গিয়েছি। হযরত আবু বকর (রা.) বললেন, কিন্তু আমি তোমাকে হত্যা করার সুযোগ পেলে ফিরিয়ে যেতাম না, অবশ্যই হত্যা করতাম। অর্থাৎ ইসলামের জন্য তিনি নিজের ছেলেকে হত্যা করতে কোনো দ্বিধা করতেন না।
📄 রিদওয়ানে আকবার
আবুল কাসেম গোত্রের লোকেরা রাসূল (ﷺ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য মদিনা আগমন করেছিল। তারা রাসূল (ﷺ)-এর পাশে গিয়ে দ্বিতীয় হিজরীতে বসল। তাদের মুখে শ্বেত জানোয়ার বাঘীর ঝুল ধরাছিল। তাদের মধ্যে এক লোক কথায় অতিবাদিভঙ্গ করল। তখন রাসূল (ﷺ) হযরত আবু বকর (রা.)-এর দিকে আশ্চর্যভাবে তাকিয়ে বললেন, হে আবু বকর! সে কি বলেছে তুমি কি শুনেছ এবং বুঝেছ? আবু বকর (রা.) বললেন, হ্যাঁ। রাসূল (ﷺ) বললেন, তাহলে তুমি এর উত্তর দাও। হযরত আবু বকর (রা.) ওই কথার যথোপযুক্ত জবাব দিলেন.........যা প্রতিপক্ষ লোকটিকে ঘায়েল করে দিল। এতে রাসূল (ﷺ) খুব খুশি হলেন, যা তাঁর পবিত্র ঠোঁটের মৃদু হাসি দেখে বুঝা যাচ্ছিল। তিনি বললেন, আবু বকর! আল্লাহ তা’আলা তোমাকে রিদওয়ানে আকবর দান করেছেন। তখন এক লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! রিদওয়ানে আকবর কী? রাসূল (ﷺ) বললেন, আল্লাহ তা’আলা তাঁর সকল বান্দাকে সাধারণভাবে দান্তিময় সম্মান প্রদান করেন আর আবু বকরকে বিশেষভাবে প্রদান করবেন。
টিকাঃ
৭ মুসতাদরাক, ৪র্থ খণ্ড, ৭৮ পৃ।
📄 আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই তিনি সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত
হুদাইবিয়ার সন্ধির পর......... বায়তুল্লাহ জিয়ারাত না করে মদিনা ফিরে যাওয়া ছিল সাহাবীদের জন্য খুবই কষ্টের ব্যাপার যা তারা মেনে নিতে পারছিলেন না। হযরত ওমর (রা.) তন্দ্রাচ্ছন্ন, ব্যথিত মনে গিয়ে রাসূল (ﷺ)-এর সাথে কথা বললেন। এরপর তিনি আবু বকর (রা.)-এর কাছে গেলেন। তিনি বললেন: হে আবু বকর! তিনি কি আল্লাহর নবী নন? আবু বকর (রা.) বললেন, অবশ্যই। তিনি বললেন, আমরা কি সত্যপন্থী নই আর আমাদের শত্রুরা কি ভ্রান্ত নয়? আবু বকর (রা.) বললেন, অবশ্যই। তিনি বললেন, তাহলে কেন আমরা আমাদের ধর্মকে হীন করব? আবু বকর (রা.) তখন দৃঢ় ঈমান ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখে বললেন, ওমর! নিশ্চয়ই তিনি আল্লাহর রাসূল, তিনি তাঁর প্রভুর অবাধ্য হন না। আর তাঁর শপথ! নিশ্চয়ই তিনি সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তখন আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেন......... إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُّبِينًا অর্থ, নিশ্চয়ই আমি আপনাকে দান করেছি সুস্পষ্ট বিজয়। এ আয়াত শুনে হযরত ওমর (রা.) দ্রুত রাসূল (ﷺ)-এর কাছে জিজ্ঞাসা করলেন: এটি বিজয়? রাসূল (ﷺ) হাস্যোচ্ছল চেহারায় বললেন, হ্যাঁ। তখন হযরত ওমর (রা.)-এর অন্তর প্রশান্ত হয়েছে, এরপর তিনি ফিরে গেলেন。
টিকাঃ
৮ ইবনি হিশাম, ২য় খণ্ড, ৩০৮-৩২১।
📄 আবু বকর রা.-এর পরিবারের বরকত
হযরত আয়েশা (রা.) রাসূল (ﷺ)-এর সাথে কোনো এক সফরসঙ্গিনী হয়ে রওনা দিলেন। তারা বায়দা নামক স্থান অতিক্রম করার সময় হযরত আয়েশা (রা.)-এর হার হারিয়ে গেল। রাসূল (ﷺ) হারটি খোঁজার জন্য সেখানে অবস্থান নিলেন। সাহাবায়ে কেরামও রাসূল (ﷺ)-এর সাথে অবস্থান নিলেন, কিন্তু সেখানে অবস্থান করে থাকার মতো পানি তাঁদের কাছে ছিল না। তখন এক লোক আবু বকর (রা.)-কে বলল, তুমি কি দেখ না আয়েশা কি করেছে? সে রাসূল (ﷺ)-কে নিয়ে এখানে অবস্থান নিয়েছে, অথচ নিকটে কোথাও পানি নেই আবার লোকদের কাছেও নেই। হযরত আবু বকর (রা.) রাগান্বিত হয়ে হযরত আয়েশার নিকটে আসলেন। রাগের ভাব তাঁর চোখে মুখে দেখা যাচ্ছিল। তিনি এসে দেখলেন রাসূল (ﷺ) হযরত আয়েশা (রা.)-এর কোলে মাথা রেখে গভীর ঘুমে নিমগ্ন ছিলেন। তিনি হযরত আয়েশা (রা.)-এর কাছে গিয়ে তাঁর কোমরে প্রহার করতে লাগলেন আর তাঁকে তিরস্কার করে বলতে লাগলেন, তুমি রাসূল (ﷺ)-এর যাত্রা আটকে দিলে এখন মানুষ পানিবিহীন স্থানে আর তাদের কাছেও জমা করা পানি নেই। হযরত আবু বকর (রা.) তাঁকে এ বলে ধমকাতে লাগলেন। হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, রাসূল (ﷺ) আমার কোলে মাথা রেখে ঘুমানোর কারণে আমি আঘাতের পরেও নড়াচড়া করতে পারিনি। সকালে রাসূল (ﷺ) ঘুম থেকে উঠলেন, কিন্তু কাফেলায় কোনো পানি ছিল না। আর তখন আল্লাহ তা’আলা তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল করেন।
নাযিল হওয়ার পর হযরত উসাইদ বিন হুদাইর বললেন, আবু বকর! এটাই তোমার পরিবারের প্রথম বরকত হয়। অন্যদিকে হযরত আয়েশা (রা.)-এর বহনকারী উটটি দাঁড়ালে সেখানে হারটি পাওয়া যায়。
টিকাঃ
৯ আল বুখারী (৩৪৪)।