📄 আবু কুহাফার ইসলাম গ্রহণ
মক্কা বিজয়ের হেরেমে শরীফে রাসূল ﷺ-এর প্রবেশ ও মূর্তি ভাঙার পর বেশি সময় পার হয়নি। এরই মধ্যে হযরত আবু বকর তাঁর পিতা আবু কুহাফাকে রাসূল ﷺ-এর কাছে নিয়ে আসলেন। রাসূল ﷺ পিতাকে দেখে আফসোসের সাথে বলতে লাগলেন, তুমি কি তোমার বাবাকে ঘরে রেখে আসতে পারনি? আমি নিজেই তাঁর কাছে যেতাম। তখন আবু বকর رضي الله عنه বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি তাঁর কাছে যাওয়ার চেয়ে তিনি আপনার কাছে আসাই অধিক উপযুক্ত।
তারপর আবু কুহাফা রাসূল (ﷺ)-এর সামনে গিয়ে বসলেন। রাসূল (ﷺ) তাঁর বুকে নিজের পবিত্র হাত দ্বারা বুলিয়ে দিলেন যাতে তাঁর অন্তর থেকে কুফরী অন্ধকার দূর হয়ে যায়। তারপর তিনি বললেন, ইসলাম গ্রহণ করুন... রাসূল (ﷺ)-এর কথা মতো তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন।.........আল্লাহ রাসূলের হাতে তাঁকে হেদায়াত দান করলেন।
টিকাঃ
২ মুসনাদে ইমাম আহমদ, ১ম খণ্ড, ৪৬৬ পৃ।
📄 আবু বকর রা.-এর সম্পদ
আবু বকর (রা.) যখন ইসলাম গ্রহণ করেন, তখন তিনি চল্লিশ হাজার দিরহামের মালিক ছিলেন, কিন্তু তিনি যখন মদিনায় হিজরত করতে রওনা হলেন তখন তাঁর সম্পদের পরিমাণ ছিল মাত্র পাঁচ হাজার দিরহাম। তাঁর সমুদয় সম্পদ তিনি দাস মুক্তি ও ইসলামের সাহায্যে ব্যয় করেন।
টিকাঃ
৩ আবু দাউদ, ৮ম খণ্ড, ৪৭৬ পৃ।
📄 তিন কথা, যার প্রত্যেকটিই সত্য
এক ব্যক্তি হযরত আবু বকর (রা.)-কে গালমন্দ করছিল এবং বিভিন্ন অপবাদ দিচ্ছিল। অন্যদিকে হযরত আবু বকর (রা.) তার কথার কোনো উত্তর না দিয়ে চুপ করে রইলেন। রাসূল (ﷺ) তাঁর সাথেই বসা ছিলেন। তিনি তাঁর চুপ থাকার দৃশ্য দেখে অবাক হয়ে মৃদু হাসছিলেন, কিন্তু যখন লোকটি মাত্রাতিরিক্ত বলতে শুরু করল তখন হযরত আবু বকর (রা.) মুখ খুললেন এবং তার প্রতিউত্তর দিতে শুরু করলেন। হযরত আবু বকর (রা.) উত্তর দেওয়া শুরু করায় রাসূল (ﷺ) রাগান্বিত হয়ে সেখান থেকে উঠে চলে যেতে লাগলেন। রাসূল (ﷺ)-এর রাগের বিষয়টি হযরত আবু বকর (রা.) বুঝতে পেরেছিলেন। আর তাই তিনি দ্রুত গিয়ে রাসূল (ﷺ)-কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে আমাকে গালি দিচ্ছিল তখন আপনি বসা ছিলেন। আর যখন আমি তার কথার উত্তর দিতে লাগলাম তখন আপনি উঠে চলে আসলেন! রাসূল (ﷺ) বললেন, তোমার সাথে একজন ফেরেশতা ছিল যে তোমার পক্ষ থেকে তার কথার উত্তর দিচ্ছিল, কিন্তু যখনই তুমি উত্তর দেওয়া শুরু করলে তখন ফেরেশতা চলে গেল, শয়তান এসে হাজির হলো। আর আমি তো এমন নই যে, শয়তানের সাথে বসে থাকব।
তারপর রাসূল (ﷺ) বললেন, আবু বকর! তিন (কথা), যার প্রত্যেকটিই সত্য। যদি কোনো বান্দা অত্যাচারিত হওয়ার পরে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রতিশোধ নেওয়া থেকে বিরত থাকে তবে আল্লাহ তা’আলা তাকে সম্মানিত করেন। যদি কোনো বান্দা আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করার জন্য দানের দরজা খুলে দেয় তবে আল্লাহ তা’আলা তার সম্পদ বৃদ্ধি করে দেন। যদি কোনো বান্দা সম্পদ বৃদ্ধি করার জন্য ভিক্ষা করে তবে আল্লাহ তা’আলা তার সম্পদ কমিয়ে দেন。
টিকাঃ
৪ তারিখে বুখারী, ১৫ পৃ।
📄 কোনো সম্মুখ যোদ্ধা আছ?
আবু বকর (রা.)-এর ছেলে মুহাবিকুদ কাতারের থেকে বের হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে আসে। তখন সে পূর্ণ যুবক ও শক্তিশালী বীর ছিল এবং কাফেরদের পক্ষ হয়ে যুদ্ধ করতে এসেছিল। সে মুসলমানদেরকে লক্ষ্য করে বলল, কোনো সম্মুখ যোদ্ধা আছ? হযরত আবু বকর (রা.) তখন রাসূল (ﷺ)-এর পাশেই ছিলেন। এ আওয়াজ শুনার সাথে সাথে তিনি নিজের ন্যায় আওয়াজদের দিকে ছুটে যেতে লাগলেন। কিন্তু রাসূল (ﷺ) তাকে আদিয়ে দিলেন এবং তাঁকে থামিয়ে রাখতে গিয়ে বললেন, আবু বকর! তুমি আমাদের উপকারে থাক।