📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আবু বকরের পক্ষে আল্লাহর সাক্ষী

📄 আবু বকরের পক্ষে আল্লাহর সাক্ষী


শয়তানের চটক....... ইহুদি নামক হিংস্র জানোয়ারগুলো একত্রে বসে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা করছিল। তাঁরা আল্লাহ ও রাসূল (স)-এর বিরুদ্ধে এমন এমন কথা বলছিল যা যেকোনো মুসলমানের কানে গেলে তা অন্তরে গিয়ে আঘাত করবে। ইহাছ করে এ চক্রান্তকারীদের মাঝে হযরত আবু বকর رضي الله عنه উপস্থিত হলেন। তিনি গিয়ে দেখলেন তারা ফিনহাস নামক এক লোকের কাছে জড়ো হয়ে আছে। লোকটি ইহুদিদের বিশিষ্ট আলেম ছিল। তাঁকে লক্ষ্য করে আবু বকর رضي الله عنه বললেন, ফিনহাস তোমার জন্যে আফসোস! আল্লাহকে ভয় কর এবং ইসলাম গ্রহণ কর। আল্লাহ্র শপথ! মুহাম্মাদ যে আল্লাহ্র রাসূল তা তুমি ভালোবাসতেই জানো। তিনি আল্লাহ্র পক্ষ থেকে সত্য নিয়ে তোমাদের কাছে আগমন করেছেন। যা তোমরা তাওরাত ও ইঞ্জিল কিতাবে পেয়েছ। তখন ফিনহাস বলল, আবু বকর! আল্লাহ্র শপথ! আল্লাহ্র প্রতি আমাদের কোনো মুখাপেক্ষিতা নেই; বরং আল্লাহ্ই আমাদের মুখাপেক্ষী। তিনি যেভাবে অনুনয় বিনয় করে আমাদের কাছে চাচ্ছেন আমরা তেমন অনুনয় বিনয় করে তার কাছে চাই না। আমরা তাঁর মুখাপেক্ষী নই; বরং তিনি আমাদের মুখাপেক্ষী। যদি আমাদের মুখাপেক্ষী না হতেন তাহলে আমাদের নিকট তিনি চাইতেন না, যেমনভাবে তোমাদের রাসূল বলেছেন। তিনি আমাদেরকে সুদ খেতে নিষেধ করেছেন আবার নিজেই সুদ দিয়েছেন। যদি তিনি আমাদের থেকে মুখাপেক্ষীহীন হতেন তাহলে আমাদেরকে সুদ দিতেন না।
এ কথাগুলো শুনে হযরত আবু বকর রضي الله عنه প্রচণ্ড রাগান্বিত হয়ে তাকে ধরলেন এবং তার গালে কষে কয়েকটি চড় বসিয়ে দিলেন। তারপর তিনি সিংহের মতো হুংকার দিয়ে বললেন, হে আল্লাহ্র শপথ! যদি তোমাদের সাথে আমাদের চুক্তি না থাকত তাহলে আমি তোমার মাথায় আঘাত করতাম। ফিনহাস রাসূল ﷺ-এর কাছে গিয়ে অশ্রুঝরা চোখে, কান্না স্বরে বলল, হে মুহাম্মাদ! তোমার সাথী আমার কি করেছে দেখ? রাসূল ﷺ আবু বকর রضي الله عنه-কে বললেন, তুমি কেন এরূপ করেছ? হযরত আবু বকর বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আল্লাহ্র শত্রু জঘন্য কথা বলেছে......... সে বলে আল্লাহ্ই গরিব আর তারা ধনী। যখন সে এ কথা বলেছে তখন আমি আল্লাহ্র জন্যে তার ওপর রাগান্বিত হয়ে তার গালে আঘাত করি। তখন ফিনহাস চিৎকার দিয়ে বলল, মুহাম্মাদ! আবু বকর মিথ্যা বলছে, আমরা এরূপ বলিনি। তখন আল্লাহ্ তা'আলা ফিনহাসের মিথ্যা উন্মোচন ও আবু বকর رضي الله عنه-কে সত্যায়িত করে আয়াত নাযিল করেন। لَّقَدْ سَمِعَ اللَّهُ قَوْلَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ فَقِيرٌ وَنَحْنُ أَغْنِيَاءُ ۘ سَنَكْتُبُ مَا قَالُوا وَقَتْلَهُمُ الْأَنبِيَاءَ بِغَيْرِ حَقٍّ وَنَقُولُ ذُوقُوا عَذَابَ الْحَرِيقِ অর্থ: নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ তাদের কথা শুনেছেন, যারা বলেছে যে, আল্লাহ্ অভাবগ্রস্ত আর আমরা বিত্তবান! তারা যা বলেছে ও যেসব নবীকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে এখন তা আমি লিখে রাখব, অতঃপর বলব, জ্বলন্ত আগুনের শাস্তি আস্বাদন কর। (আলে ইমরান: ১৮১)

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আবু কুহাফার ইসলাম গ্রহণ

📄 আবু কুহাফার ইসলাম গ্রহণ


মক্কা বিজয়ের হেরেমে শরীফে রাসূল ﷺ-এর প্রবেশ ও মূর্তি ভাঙার পর বেশি সময় পার হয়নি। এরই মধ্যে হযরত আবু বকর তাঁর পিতা আবু কুহাফাকে রাসূল ﷺ-এর কাছে নিয়ে আসলেন। রাসূল ﷺ পিতাকে দেখে আফসোসের সাথে বলতে লাগলেন, তুমি কি তোমার বাবাকে ঘরে রেখে আসতে পারনি? আমি নিজেই তাঁর কাছে যেতাম। তখন আবু বকর رضي الله عنه বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি তাঁর কাছে যাওয়ার চেয়ে তিনি আপনার কাছে আসাই অধিক উপযুক্ত।
তারপর আবু কুহাফা রাসূল (ﷺ)-এর সামনে গিয়ে বসলেন। রাসূল (ﷺ) তাঁর বুকে নিজের পবিত্র হাত দ্বারা বুলিয়ে দিলেন যাতে তাঁর অন্তর থেকে কুফরী অন্ধকার দূর হয়ে যায়। তারপর তিনি বললেন, ইসলাম গ্রহণ করুন... রাসূল (ﷺ)-এর কথা মতো তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন।.........আল্লাহ রাসূলের হাতে তাঁকে হেদায়াত দান করলেন।

টিকাঃ
২ মুসনাদে ইমাম আহমদ, ১ম খণ্ড, ৪৬৬ পৃ।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আবু বকর রা.-এর সম্পদ

📄 আবু বকর রা.-এর সম্পদ


আবু বকর (রা.) যখন ইসলাম গ্রহণ করেন, তখন তিনি চল্লিশ হাজার দিরহামের মালিক ছিলেন, কিন্তু তিনি যখন মদিনায় হিজরত করতে রওনা হলেন তখন তাঁর সম্পদের পরিমাণ ছিল মাত্র পাঁচ হাজার দিরহাম। তাঁর সমুদয় সম্পদ তিনি দাস মুক্তি ও ইসলামের সাহায্যে ব্যয় করেন।

টিকাঃ
৩ আবু দাউদ, ৮ম খণ্ড, ৪৭৬ পৃ।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 তিন কথা, যার প্রত্যেকটিই সত্য

📄 তিন কথা, যার প্রত্যেকটিই সত্য


এক ব্যক্তি হযরত আবু বকর (রা.)-কে গালমন্দ করছিল এবং বিভিন্ন অপবাদ দিচ্ছিল। অন্যদিকে হযরত আবু বকর (রা.) তার কথার কোনো উত্তর না দিয়ে চুপ করে রইলেন। রাসূল (ﷺ) তাঁর সাথেই বসা ছিলেন। তিনি তাঁর চুপ থাকার দৃশ্য দেখে অবাক হয়ে মৃদু হাসছিলেন, কিন্তু যখন লোকটি মাত্রাতিরিক্ত বলতে শুরু করল তখন হযরত আবু বকর (রা.) মুখ খুললেন এবং তার প্রতিউত্তর দিতে শুরু করলেন। হযরত আবু বকর (রা.) উত্তর দেওয়া শুরু করায় রাসূল (ﷺ) রাগান্বিত হয়ে সেখান থেকে উঠে চলে যেতে লাগলেন। রাসূল (ﷺ)-এর রাগের বিষয়টি হযরত আবু বকর (রা.) বুঝতে পেরেছিলেন। আর তাই তিনি দ্রুত গিয়ে রাসূল (ﷺ)-কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে আমাকে গালি দিচ্ছিল তখন আপনি বসা ছিলেন। আর যখন আমি তার কথার উত্তর দিতে লাগলাম তখন আপনি উঠে চলে আসলেন! রাসূল (ﷺ) বললেন, তোমার সাথে একজন ফেরেশতা ছিল যে তোমার পক্ষ থেকে তার কথার উত্তর দিচ্ছিল, কিন্তু যখনই তুমি উত্তর দেওয়া শুরু করলে তখন ফেরেশতা চলে গেল, শয়তান এসে হাজির হলো। আর আমি তো এমন নই যে, শয়তানের সাথে বসে থাকব।
তারপর রাসূল (ﷺ) বললেন, আবু বকর! তিন (কথা), যার প্রত্যেকটিই সত্য। যদি কোনো বান্দা অত্যাচারিত হওয়ার পরে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রতিশোধ নেওয়া থেকে বিরত থাকে তবে আল্লাহ তা’আলা তাকে সম্মানিত করেন। যদি কোনো বান্দা আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করার জন্য দানের দরজা খুলে দেয় তবে আল্লাহ তা’আলা তার সম্পদ বৃদ্ধি করে দেন। যদি কোনো বান্দা সম্পদ বৃদ্ধি করার জন্য ভিক্ষা করে তবে আল্লাহ তা’আলা তার সম্পদ কমিয়ে দেন。

টিকাঃ
৪ তারিখে বুখারী, ১৫ পৃ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00