📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আবু বকর সিদ্দিক রা. জান্নাতে

📄 আবু বকর সিদ্দিক রা. জান্নাতে


সূর্য ডুবে যাওয়ার পর রাত অন্ধকার নিয়ে আগমন করল। ধীরে ধীরে অন্ধকার বাড়তে লাগল। সাহাবারায়ে কেরাম রাসূল ﷺ-এর চারপাশে বসেছিলেন, দৃশ্যটি দেখে মনে হচ্ছিল পূর্ণিমার চাঁদের চারপাশে তারকারা বসে আছে। রাসূল ﷺ তাঁদেরকে তাঁর মিষ্টি ভাষায় হাদীস শুনিয়ে তাঁদের হৃদয় সিক্ত করছিলেন।
রাসূল ﷺ বললেন, এক লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন জান্নাত যত ঘর ও কক্ষ আছে, প্রত্যেক ঘর ও কক্ষের অধিবাসীরা বলতে থাকবে, স্বাগতম.......আমাদের দিকে আসুন.......আমাদের দিকে আসুন।
এ কথা শুনে আবূ বকর  খুব আগ্রহের সাথে বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! ওই দিন সে লোকটির সওয়াবের পরিমাণ কি হবে?
হযরত আবূ বকর -এর দিকে তাকিয়ে হাসোজ্জ্বল চেহারায় তাঁকে মুসকরাদ দিয়ে বললেন, আবূ বকর! সে লোকটি তুমি।
রাসূল ﷺ-কে মি’রাজের রজনীতে আসমানে উঠিয়ে নিলেন, তিনি জান্নাতে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি জান্নাতের স্তর দেখতে পেলেন। ছয়টি যেন পূর্ণিমার চাঁদের মতো, যা তিনি আগে কখনো দেখেননি। তাঁর চোখের পাতার পশমগুলো দেখে মনে হচ্ছিল তা যেন ঈগল পাখির ডানার অগ্রফালক।
রাসূল ﷺ বললেন, তুমি কার জন্যে?
সে বলল, আমি আপনার পরবর্তী খলিফার জন্যে।

টিকাঃ
১ মাকতুবাত জাওয়াহের, ৮১ খণ্ড, ৪৩ পৃঃ।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 জান্নাতের সব দরজা

📄 জান্নাতের সব দরজা


নবী করীম ﷺ সাহাবারায়ে কেরামের মাঝে বসে আছেন। তাঁর মুখ থেকে মণিমুক্তার মতো বাণী বের হচ্ছিল। সাহাবারায়ে কেরামদের শ্রবণশক্তি তাঁর মূল্যবান কথাগুলো শুনে ধন্য হচ্ছিল।
রাসূল ﷺ বলেছিলেন, যে ব্যক্তি সম্পদ থেকে দুটি জিনিসও দান করে থাকে তাকে জান্নাতের দিকে ডেকে বলা হবে, হে আল্লাহ্র বান্দা! এটা উত্তম। যে ব্যক্তি নামায আদায়কারী তাকে নামাযের দরজা দিয়ে ডাকা হবে, যে ব্যক্তি জিহাদকারী তাকে জিহাদের দরজা দিয়ে ডাকা হবে, যে ব্যক্তি রোমাদার তাকে রাইয়ান নামক দরজা দিয়ে ডাকা হবে, যে ব্যক্তি সদকা দানকারী তাকে সদকার দরজা দিয়ে ডাকা হবে।
তখন আবূ বকর  বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমার পিতামাতা আপনার জন্য কোরবান হোক, কোনো ব্যক্তিকে সবগুলো দরজা আহ্বান করার কোনো প্রয়োজন নেই, তবু কি এমন কোনো ব্যক্তি থাকবে যে সবচৌলো দরজা দিয়ে ডাকেবে।
রাসূল ﷺ বললেন, হ্যাঁ, আমি আশা করি তুমি তাদের একজন।

টিকাঃ
২১ বুখারী শরীফ, ১৮৯৭ নং হাদিস।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আমাকে দোয়া শিখিয়ে দিন

📄 আমাকে দোয়া শিখিয়ে দিন


আবু বকর رضي الله عنه একদিন নবী কারীম ﷺ-কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে দোয়া শিখিয়ে দিন, যার দ্বারা নামাযে দোয়া করতে পারি। তখন নবী কারীম ﷺ বলেছেন,
اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا وَلَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
অর্থ, হে আল্লাহ! আমি আমার ওপর অনেক জুলুম করেছি। তুমি ছাড়া আমার পাপ ক্ষমাকারী আর কেউ নেই। তাই তোমার পক্ষ থেকে আমাকে ক্ষমা কর ও দয়া কর। নিশ্চয়ই তুমি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

টিকাঃ
২২ বুখারী, মুসলিম।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ক্ষুধা-ই আমাদেরকে বের করেছে

📄 ক্ষুধা-ই আমাদেরকে বের করেছে


আকাশের উপরিভাগে সূর্য। উত্তপ্ত মরুভূমিতে বাতুলগুলো যেন আগুনের কয়লা থেকে বসে পড়া অগ্নিকণা। এ কঠিন গরমে হযরত আবু বকর رضي الله عنه ঘর থেকে বের হয়ে মসজিদের দিকে এসে দেখলেন হযরত ওমর رضي الله عنه ও সেখনে......। হযরত ওমর رضي الله عنه বললেন, হে আবু বকর! এ সময়ে আপনি কেন বের হলেন? হযরত আবু বকর رضي الله عنه বললেন, আমি প্রচন্ড ক্ষুধার জ্বালায় বের হয়েছি। হযরত ওমর رضي الله عنه বললেন, আল্লাহ্র শপথ! আমিও একই কারণে বের হয়েছি। তাঁদের কথোপকথনের মাঝে রাসূল ﷺ-ও সেখানে এসে উপস্থিত হলেন। রাসূল ﷺ তাঁদেরকে জিজ্ঞেস করলেন- এ অসময়ে তোমরা কেন বের হয়েছ? তাঁরা বললেন, আল্লাহ্র শপথ! আমরা পেটে প্রচন্ড ক্ষুধার জ্বালা অনুভব করার কারণে বের হয়েছি। রাসূল ﷺ বললেন, যার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ! আমিও এ একই কারণে বের হয়েছি......। সুতরাং তোমরা আমার সাথে চল। তাঁরা চলতে চলতে হযরত আবু আইয়ুব আল আনসারী রضي الله عنه-এর বাড়িতে আসলেন। তিনি প্রতিদিন রাসূল ﷺ-এর জন্যে খাবার তৈরি করতেন। খাবারের নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পরেও যদি রাসূল ﷺ না আসতেন, তখন তিনি খাবারগুলো তাঁর পরিবারের সদস্যদেরকে খেতে দিতেন।
রাসূল ﷺ ও তাঁর দুই সাহাবী আবু বকর ও ওমর رضي الله عنه আবু আইয়ুব আল আনসারীর বাড়িতে গিয়ে পৌঁছলে তাঁর স্ত্রী তাদেরকে দেখে ঘর থেকে বের হয়ে এলেন। তিনি বললেন, আল্লাহ্র নবীকে স্বাগতম আর যাঁরা তাঁর সাথে আগমন করেছেন তাঁদেরকেও স্বাগতম। রাসূল ﷺ তাঁর স্ত্রীকে বললেন, আবু আইয়ুব কোথায়? হযরত আবু আইয়ুব আল আনসারী পাশে একটি খেজুর গাছে কাজ করতো ছিলেন। তিনি রাসূল ﷺ-এর কথা শুনতে পেয়ে তাড়াতাড়ি ছুটে এসে বললেন, আল্লাহ্র রাসূলকে স্বাগতম, আর যাঁরা তাঁর সাথে আগমন করেছেন তাঁদেরকেও স্বাগতম। তারপর তিনি বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনারা স্বাভাবিকভাবে এ সময়ে আসেন না। রাসূল ﷺ বললেন, ঠিক বলেছ। তারপর তিনি খেজুর গাছের দিকে ছুটে গিয়ে একটি খেজুরের কাঁদি কেটে নিয়ে আসলেন। তাতে পাকা, কাঁচা ও শুকনো তিন প্রকারের খেজুরই ছিল। রাসূল ﷺ বললেন, তুমি খেজুরের পুরো কাঁদিটি কেটে আনবে তা আমার ইচ্ছে ছিল না। সেখান থেকে কয়েকটি খেজুর নিয়ে আসলে কি হতো না? তিনি বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি পছন্দ করি, আপনি কাঁচা, পাকা ও শুকনো সব রকমের খেজুর খাবেন। আর অবশ্যই আমি আপনার জন্যে পশু জবাই করব। হযরত আবু আইয়ুব আল আনসারী একটি বকরি ধরে জবাই করে দিলেন। তিনি তাঁর স্ত্রীকে বললেন, তুমি ময়দা ভিজাও এবং আমাদের জন্যে রুটি বানাও। কেননা তুমি রুটি ভালো বানাতে পার। তিনি বকরীর অর্ধেক নিয়ে রান্না করেন আর অর্ধেককে কাবাব করেন। যখন রান্না প্রস্তুত হলো তিনি তা রাসূল ﷺ- এর সামনে পেশ করলেন। রাসূল ﷺ বকরীর একটি অংশ নিয়ে রুটিকে রেখে বললেন, হে আবু আইয়ুব আল আনসারী! তুমি এটি ফাতেমাকে দিয়ে আস কেননা সে অনেক দিন যাবত এর মতো খাবার খেতে পায়নি। যখন রাসূল ﷺ খানা খেয়ে পরিতৃপ্ত হয়ে বললেন, রুটি, গোশত, শুকনো, পাকা ও কাঁচা খেজুর একথা বলার পর তাঁর দু চোখ দিয়ে পানি ঝরতে থাকে। এরপর তিনি বললেন, আমার প্রাণ যার হাতে তার শপথ! এ সেই নেয়ামত যার সম্পর্কে কিয়ামতের দিন জিজ্ঞেস করা হবে। যখন তোমরা তা খেতে হাত বাড়াবে তখন তোমরা বিসমিল্লাহ বলে খাওয়া শুরু কর। আর যখন খেয়ে পরিতৃপ্ত হবে তখন আল্লাহ্র শুকরিয়া আদায় করে বল......
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هُوَ أَطْعَمَنَا وَأَسْقَانَا وَفَضَّلَنَا অর্থ- সকল প্রশংসা সেই আল্লাহ্র জন্য যিনি আমাদেরকে পরিতৃপ্ত করেছেন এবং উৎকৃষ্ট ও উত্তম নেয়ামত দান করেছেন।

টিকাঃ
২৩ আল ইহসান ফি তাফসিরে সহীহ ইবনি হিব্বান, ৫২৩৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00