📄 নবী সা. আবু বকর রা.-কে দুধ দিলেন
আল্লাহর রাসূল ﷺ ও আবূ বকর -এর ব্যাপারে একটি স্বপ্ন দেখলেন। স্বপ্নটি হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একদিন রাসূল ﷺ বললেন, আমি দেখেছি দুধ ভর্তি একটি পাত্র আমাকে দেওয়া হলো। আমি তা থেকে তৃপ্তিসহ পান করেছি। আমার কাছে মনে হলো, দুধ আমার রগ ও রক্ত-মাংসে পৌঁছে গেছে। তারপরেও কিছু দুধ বাকি রয়ে গেল। আমি তা আবূ বকরকে পান করতে দিলাম। তারা (সাহাবারা কেরام) বললেন, এটা হলো জ্ঞান, যা আল্লাহ তাআ'লা আপনাকে দান করেছেন। আপনি পরিপূণতা লাভ করার পর বাকি অংশ আবূ বকরকে দিয়েছেন।
তখন নবী করীম ﷺ বললেন, আল্লাহ তাআ'লা আবূ বকরকে সালাম জানিয়েছেন আর বলেছেন হ্যাঁ।
টিকাঃ
২ আল ইসহান ফী তাহকীক ইবনে হিশান, ১৫/২৬১।
📄 দুই বন্ধুর পথ চলা
সেখানে নিজের কাপড় বিছিয়ে দিলেন যাতে করে রাসূল ﷺ ঘুমাতে পারেন। এমন সময় এক রাখাল ওই পাথরের কাছে বিশ্রাম নিতে এগিয়ে আসছিল। হযরত আবূ বকর দ্রুত তার দিকে এগিয়ে গিয়ে তাকে ওদিকে আসা থেকে বারণ রাখেন এবং তার থেকে সামান্য পরিমাণ দুধও সংগ্রহ করেন। এরপর তিনি রাসূল ﷺ-এর ঘুম ভাঙ্গার অপেক্ষা করতে লাগলেন। রাসূল ﷺ-এর ঘুম ভাঙ্গার পর তিনি তা রাসূল ﷺ-কে পান করে দিলেন, কিন্তু তিনি নিজে তা থেকে পান করেননি।
হযরত আবূ বকর বলেন, রাসূল ﷺ তা পান করলেন আর আমি পরিতৃপ্ত হলাম।
দুধ পান করেছেন রাসূল ﷺ; কিন্তু হযরত আবূ বকর দুধ পান না করেও পরিতৃপ্ত। কারণ রাসূল ﷺ-এর প্রতি তাঁর মহব্বত এত বেশি ছিল যে, রাসূল ﷺ দুধ পান করেছেন মনে হয় যেন তিনি নিজেই পান করেছেন। এ কারণে তিনি দুধ পান না করেও পরিতৃপ্ত।
টিকাঃ
৩ আল বুলদুল আরবীয়ান লীল আলছান, ৩৫পৃঃ।
📄 আমি আমার প্রতিপালকের ওপর সন্তুষ্ট
পুরাতন ছেঁড়া অলিযুক্ত জামা পরিধান করে হযরত আবূ বকর রাসূল ﷺ-এর কাছে বসেছিলেন। যে জামাটিতে খেজুরের কাঁটা ও কাঠের কাঠা বোতাম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।
ঠিক সে সময়ে হযরত জিবরাইল তাদের কাছে আসলেন।
তিনি বললেন, হে মুহাম্মাদ! আবূ বকরকে কেন শলা দিয়ে জোড়া লাগানো জামা পরা দেখছি।
রাসূল ﷺ বললেন, বিজয়ের পূর্বে সে আমার জন্য তাঁর সম্পদ ব্যয় করে দিয়েছে।
তখন হযরত জিবরাইল বললেন, আল্লাহ তাআ'লা আবূ বকরকে সালাম জানিয়েছেন আর বলেছেন সে এ দারিদ্র্য অবস্থায় আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট না রাগ।
রাসূল ﷺ হযরত আবূ বকর -কে বললেন, আবূ বকর! আল্লাহ তাআ'লা তোমাকে সালাম জানিয়েছেন এবং বলেছেন ভূমি এ দারিদ্র্য অবস্থায় আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট না রাগ?
এ কথা শুনে আবূ বকর খুব আবেগে আপ্লুত হয়ে বললেন, আমি কি আমার প্রভুর ওপর রাগ করতে পারি?
এরপর খুব আনন্দের সাথে বললেন, আমি আমার প্রভুর ওপর সন্তুষ্ট......... আমি আমার প্রভুর ওপর সন্তুষ্ট......... আমি আমার প্রভুর ওপর সন্তুষ্ট।
টিকাঃ
৪ হুলিয়াতুল আউলিয়ায়ে আবূ নুয়াইম বর্ণনা করেছেন।
📄 আবু বকর সিদ্দিক রা. জান্নাতে
সূর্য ডুবে যাওয়ার পর রাত অন্ধকার নিয়ে আগমন করল। ধীরে ধীরে অন্ধকার বাড়তে লাগল। সাহাবারায়ে কেরাম রাসূল ﷺ-এর চারপাশে বসেছিলেন, দৃশ্যটি দেখে মনে হচ্ছিল পূর্ণিমার চাঁদের চারপাশে তারকারা বসে আছে। রাসূল ﷺ তাঁদেরকে তাঁর মিষ্টি ভাষায় হাদীস শুনিয়ে তাঁদের হৃদয় সিক্ত করছিলেন।
রাসূল ﷺ বললেন, এক লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন জান্নাত যত ঘর ও কক্ষ আছে, প্রত্যেক ঘর ও কক্ষের অধিবাসীরা বলতে থাকবে, স্বাগতম.......আমাদের দিকে আসুন.......আমাদের দিকে আসুন।
এ কথা শুনে আবূ বকর খুব আগ্রহের সাথে বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! ওই দিন সে লোকটির সওয়াবের পরিমাণ কি হবে?
হযরত আবূ বকর -এর দিকে তাকিয়ে হাসোজ্জ্বল চেহারায় তাঁকে মুসকরাদ দিয়ে বললেন, আবূ বকর! সে লোকটি তুমি।
রাসূল ﷺ-কে মি’রাজের রজনীতে আসমানে উঠিয়ে নিলেন, তিনি জান্নাতে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি জান্নাতের স্তর দেখতে পেলেন। ছয়টি যেন পূর্ণিমার চাঁদের মতো, যা তিনি আগে কখনো দেখেননি। তাঁর চোখের পাতার পশমগুলো দেখে মনে হচ্ছিল তা যেন ঈগল পাখির ডানার অগ্রফালক।
রাসূল ﷺ বললেন, তুমি কার জন্যে?
সে বলল, আমি আপনার পরবর্তী খলিফার জন্যে।
টিকাঃ
১ মাকতুবাত জাওয়াহের, ৮১ খণ্ড, ৪৩ পৃঃ।