📄 চিন্তা করো না আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন
মক্কার কাছে মূরিকাররা রাসূল ﷺ ও তাঁর হিজরতের সাথীকে খুঁজে বের করতে পাগলা কুকুরের মতো ছুটতে লাগল। এমন কোনো পাহাড় নেই যেখানে তারা ওঠেনি, এমন কোনো গুহা নেই যেখানে তারা ঢুকেনি। শেষ পর্যন্ত তারা ছাওর পর্বতে এসে পৌঁছল। তারা সে গুহার মুখে চলে এসেছে যে গুহায় রাসূল ﷺ ও তাঁর হিজরতের সাথী লুকিয়ে ছিলেন।
হযরত আবূ বকর তাঁদের দেখে কেঁপে উঠলেন এবং খুবই চিন্তিত হলেন যে, না জানি রাসূল ﷺ আক্রান্ত হয়ে যান। তখন রাসূল ﷺ তাঁর চিন্তা কমাতে তাঁর কানে কানে বললেন, চিন্তা করো না আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।
হযরত আবূ বকর ভীত স্বরে বললেন, যদি তারা তাদের পায়ের নিচের দিকে তাকায় তাহলে আমাদের দু'জনকে দেখতে পাবে।
রাসূল এর জবাবে বললেন, তোমার ধারণা আমরা দু'জন, আল্লাহ এ দু'জনের তৃতীয়জন।
এরপর রাসূল ﷺ নামায পড়তে শুরু করলেন এবং দোয়া করতে লাগলেন।
﴿إِلَّا تَنْصُرُوهُ فَقَدْ نَصَرَهُ اللَّهُ إِذْ أَخْرَجَهُ الَّذِينَ كَفَرُوا ثَانِيَ اثْنَيْنِ إِذْ هُمَا فِي الْغَارِ إِذْ يَقُولُ لِصَاحِبِهِ لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا ۖ فَأَنْزَلَ اللَّهُ سَكِينَتَهُ عَلَيْهِ وَأَيَّدَهُ بِجُنُودٍ لَمْ تَرَوْهَا وَجَعَلَ كَلِمَةَ الَّذِينَ كَفَرُوا السُّفْلَىٰ وَكَلِمَةُ اللَّهِ هِيَ الْعُلْيَا ۗ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ﴾
যদি তোমরা তাকে (রাসূলকে) সাহায্য না কর, তবে মনে রেখো, আল্লাহ্ তাঁর সাহায্য করেছিলেন, যখন কাফেররা তাকে বের করে দিয়েছিল, তিনি তখনো অবধ্যনকারী দু'জনের একজন ছিলেন। তিনি তাঁর সাথীকে বলেছিলেন চিন্তিত হয়ো না, আল্লাহ্ আমাদের সাথে আছেন। অতঃপর আল্লাহ্ তাঁর প্রতি স্বীয় সান্ত্বনা নাযিল করেন এবং তাঁর সাহায্যে এমন বাহিনী পাঠান, যা তোমরা দেখনি। বস্তুত আল্লাহ্ কাফেরদের মাথা নিচু করে দিলেন আর আল্লাহ্র কথাই সদা সমুন্নত এবং আল্লাহ্ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (সূরা তাওবা : ৪০)
টিকাঃ
১ মাকতুবাত মাসাফিহ, ৩য় খণ্ড।
২ আলসসিয়াছান বুবুয়ায়, ২য় খণ্ড, ১০৮পৃঃ।
📄 মদিনার পথে
হযরত আবূ বকর -এর ভাড়াভুক্ত পথপ্রদর্শক আব্দুল্লাহ বিন উরাইত মদিনা যাওয়ার জন্য এমন একটি পথ ধরলেন যে পথে স্বাভাবিকভাবে মানুষ চলাচল করে না। পথটি সাগরের কাছাকছি ছিল সফরকারীরাও এ পথে ততটা আসা যাওয়া করত না।
হযরত আবূ বকর একজন পরিচিত ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর চলে ওমরাহ প্রকাশ পেয়েছে, কিন্তু আল্লাহ্ তাআ'লা তখনো তাঁর রাসূলের চলে ওমরাহ প্রকাশ করেননি। হযরত আবূ বকর ব্যবসায়ী হিসেবে অনেক চিন্তনে। তাই পথে পরিচিত মানুষেরা তাঁকে জিজ্ঞেস করত- আবূ বকর! তোমার সাথে এ ব্যক্তি কে? তখন তিনি বলতেন, আমার পথ প্রদর্শক।
তাঁর মনে করত মরু পথের প্রদর্শক, কিন্তু হযরত আবূ বকর এর উদ্দেশ্য ছিল- জান্নাতের পথ প্রদর্শক, হেদায়েতের প্রদর্শক।
টিকাঃ
১ আল বুলদুল আরবীয়ান লীল আলছান, ৩৫পৃঃ।
📄 নবী সা. আবু বকর রা.-কে দুধ দিলেন
আল্লাহর রাসূল ﷺ ও আবূ বকর -এর ব্যাপারে একটি স্বপ্ন দেখলেন। স্বপ্নটি হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একদিন রাসূল ﷺ বললেন, আমি দেখেছি দুধ ভর্তি একটি পাত্র আমাকে দেওয়া হলো। আমি তা থেকে তৃপ্তিসহ পান করেছি। আমার কাছে মনে হলো, দুধ আমার রগ ও রক্ত-মাংসে পৌঁছে গেছে। তারপরেও কিছু দুধ বাকি রয়ে গেল। আমি তা আবূ বকরকে পান করতে দিলাম। তারা (সাহাবারা কেরام) বললেন, এটা হলো জ্ঞান, যা আল্লাহ তাআ'লা আপনাকে দান করেছেন। আপনি পরিপূণতা লাভ করার পর বাকি অংশ আবূ বকরকে দিয়েছেন।
তখন নবী করীম ﷺ বললেন, আল্লাহ তাআ'লা আবূ বকরকে সালাম জানিয়েছেন আর বলেছেন হ্যাঁ।
টিকাঃ
২ আল ইসহান ফী তাহকীক ইবনে হিশান, ১৫/২৬১।
📄 দুই বন্ধুর পথ চলা
সেখানে নিজের কাপড় বিছিয়ে দিলেন যাতে করে রাসূল ﷺ ঘুমাতে পারেন। এমন সময় এক রাখাল ওই পাথরের কাছে বিশ্রাম নিতে এগিয়ে আসছিল। হযরত আবূ বকর দ্রুত তার দিকে এগিয়ে গিয়ে তাকে ওদিকে আসা থেকে বারণ রাখেন এবং তার থেকে সামান্য পরিমাণ দুধও সংগ্রহ করেন। এরপর তিনি রাসূল ﷺ-এর ঘুম ভাঙ্গার অপেক্ষা করতে লাগলেন। রাসূল ﷺ-এর ঘুম ভাঙ্গার পর তিনি তা রাসূল ﷺ-কে পান করে দিলেন, কিন্তু তিনি নিজে তা থেকে পান করেননি।
হযরত আবূ বকর বলেন, রাসূল ﷺ তা পান করলেন আর আমি পরিতৃপ্ত হলাম।
দুধ পান করেছেন রাসূল ﷺ; কিন্তু হযরত আবূ বকর দুধ পান না করেও পরিতৃপ্ত। কারণ রাসূল ﷺ-এর প্রতি তাঁর মহব্বত এত বেশি ছিল যে, রাসূল ﷺ দুধ পান করেছেন মনে হয় যেন তিনি নিজেই পান করেছেন। এ কারণে তিনি দুধ পান না করেও পরিতৃপ্ত।
টিকাঃ
৩ আল বুলদুল আরবীয়ান লীল আলছান, ৩৫পৃঃ।