📄 ত্বালহার ইসলাম গ্রহণ ও হযরত আবু বকর
হযরত আবূ বকর ﷺ তাঁর ইসলাম গ্রহণের কথা ঘোষণা করার পর দারুন লজ্জায় কোরাইশের নেতারা একত্রিত হয়। তখন তারা বিষাক্ত বিচ্ছুর ন্যায় রাগে ফুঁসছিল। তারা হযরত আবূ বকর সিদ্দিকদের ব্যাপারে পরামর্শ করতে লাগল।
তারা বলল, তোমরা একজন লোক নির্ধারণ কর, যে তাকে আমাদের কাছে নিয়ে এসে আমাদের প্রভুদের দিকে আহ্বান করবে। সবার পরামর্শে তারা হযরত ত্বালহা বিন উবাইদুল্লাহকে তাঁর কাছে পাঠাল।
তিনি হযরত আবূ বকরের সভায় নিয়ে আসলেন।
হযরত ত্বালহা তাঁকে বললেন, আবূ বকর! আমাদের দলে আস। তিনি বললেন, তুমি আমাকে কোন দিকে আহ্বান করছ? হযরত ত্বালহা বললেন, আমি তোমাকে লাত ও উজ্জার ইবাদতের দিকে আহ্বান করছি। তিনি বললেন, লাত কে? হযরত ত্বালহা বললেন, আল্লাহর মেয়ে। তিনি বললেন, তাহলে তার মা কে?
এ প্রশ্নে হযরত ত্বালহা চুপ হয়ে গেলেন। তাঁর মুখ থেকে কোনো উত্তর আসল না।
হযরত ত্বালহার সাথে থাকা লোকদেরকে তিনি বললেন, তোমরা তোমাদের সাথীকে উত্তর দাও।
তারাও কোনো উত্তর খুঁজে না পেয়ে চুপ হয়ে গেল।
হযরত ত্বালহা তাদের দিকে তাকিয়ে অনেকক্ষণ দীর্ঘ সময় করতে লাগলেন, কিন্তু তাদের থেকে কোনো উত্তর এলো না।
তখন তিনি আবার হযরত আবূ বকরকে ডেকে বললেন, আবূ বকর! দাঁড়াও, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ব্যতীত কোনো প্রভু নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল।
এরপর হযরত আবূ বকর হযরত ত্বালহার হাত ধরে রাসূল ﷺ-এর কাছে নিয়ে গেলেন।
টিকাঃ
¹ উয়ুনুল আখবার, ২য় খণ্ড, ১১৪৮।
📄 হযরত আবু বকর অন্যের আশ্রয় ফিরিয়ে দিলেন
রাত কেটে সকাল হলো। ধীরে ধীরে চারিদিকে অন্ধকার কেটে আলোকিত হতে লাগল। অন্যাদিকে হযরত আবূ বকর ﷺ তাঁর আসবাবপত্র সব গুছিয়ে নিলেন। তারপর তা কাঁধে ফেলে রওনা দিলেন।
তিনি তাঁর ঈমান বাঁচানোর জন্য মক্কা ছেড়ে হাবশার উদ্দেশে রওনা দিলেন। এ দূরের পথে তাঁর সাথী ছিল পূর্ণ ঈমানে ভরপুর অন্তর। চলতে চলতে তিনি বারকুল গামাদ নামক স্থানে গিয়ে পৌঁছলেন। যেটি ইয়ামানের একটি অঞ্চল। সেখানে ইবনে দুগনাহর সাথে তাঁর দেখা হয়। ইবনে দুগনাহ সে সময়ের বিশিষ্ট নেতাদের একজন।
সে তাঁকে বলল, আবূ বকর! তুমি কোথায় যাচ্ছ? আবূ বকর ﷺ খুব নরম স্বরে বললেন, আমার গোত্রের লোকেরা আমাকে বের করে দিয়েছে। আর তাই আমি জমিনে মুসাফিরা করব আর আমার প্রতিপালকের ইবাদত করব।
তখন ইবনে দুগনাহ হতাশায় সাথে সাথে বলল, আবূ বকর! তোমার মতো লোক চলে যাওয়াও মেনেও নেওয়াও দেওয়ায়র মতো নয়! নিশ্চয়ই তুমি পরিবারদেরকে খাদ্য দাও, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা কর, অন্যের বোঝা বহন কর, দুর্বলদের সহযোগিতা কর এবং সত্যের পথে সহযোগিতা কর। আমি তোমাকে আশ্রয় দিলাম, যাও তোমার নিজের ভূমিতে গিয়ে তোমার প্রতিপালকের ইবাদত কর।
তার কথামতো হযরত আবূ বকর ﷺ আবার মক্কায় ফিরে আসেন।
আবূ দুগনাহ মক্কার বিশিষ্ট নেতাদের গিয়ে বলল, আবূ বকরের মতো লোক চলে যেতে পারে না, আর সে তাঁদের দেওয়ায়র মতো নয়। সে পরিবারদেরকে খাদ্য খেতে দেয়, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে, অন্যের বোঝা বহন করে, দুর্বলদের সহযোগিতা করে এবং সত্যের পথ সহযোগিতা করে।
তখন কোরাইশরা আবূ দুগনাহ কথা মেনে নিলেন।
তারা তাঁকে বলল, আবূ বকরকে বল, সে যেন তার ঘরে ইবাদত করে, সে সেখানে নামায আদায় করবে আর যত ইচ্ছে কোরআন পাঠ করবে। তবে এ ব্যাপারে আমাদেরকে কষ্ট দেবে না এবং এ কাজগুলো প্রকাশ করবে না। কেননা আমরা আমাদের নারী ও সন্তানদের ব্যাপারে তার ফেতনার আশঙ্কা করছি।
হযরত আবূ বকর ﷺ তাদের কথামতো নিজের ঘরে মহান প্রভুর ইবাদত করতে লাগলেন এবং ঘরের ভেতরে চুপিসারে নামায পড়তেন আর ঘরের বাইরে কোথাও কোরআন তেলাওয়াত করতেন না; কিন্তু তিনি গোপনে ইবাদত করে পারতেন না; বরং ইবাদতের আবেগ তাকে চালিত আলোকিত করতে চাইলন। তিনি তাঁর ঘরের আঙিনায় একটি নামাযের জায়গা তৈরি করলেন। সেখানে তিনি নামায আদায় করতেন ও কোরআন তেলাওয়াত করতেন। তাঁর ইবাদতের দৃশ্য দেখার জন্য মুশরিকদের মহিলা ও শিশুরা ভিড় করত। হযরত আবূ বকর ﷺ অধিক ক্রন্দনশীল ছিলেন। কোরআন তেলাওয়াতের সময় তিনি কান্না ধরে রাখতে পারতেন না। এ ব্যাপারটা কোরাইশদেরকে পুনরায় উদ্বিগ্ন করতে লাগল। তখন তারা এ সমাধানের জন্য ইবনে দুগনাহর কাছে লোক পাঠায়।
তারা বলল, আবূ বকরকে শুধু ঘরের ভেতরে ইবাদত করার শর্তে তোমার আশ্রয় সোপর্দ করেছিলাম, কিন্তু সে শর্ত ভঙ্গ করে নিজের আঙিনায় একটি নামাযের জায়গা বানিয়ে প্রকাশ্যে নামায ও কোরআন তেলাওয়াত করছে। আমরা আমাদের নারী ও সন্তানদের ব্যাপারে তার ফিতনার ভয় করছি। যদি তুমি পার তাকে নিয়ন্ত্রণ কর আর না হয় তার থেকে তোমার আশ্রয় ফিরিয়ে নাও।
ইবনে দুগনাহ হযরত আবূ বকর ﷺ-এর কাছে শান্তভাবে বলল। সে তাঁকে বলল, তুমি এ ব্যাপারে ভালোভাবে জান। যদি তুমি চাও শর্তের তে শর্তের অবস্থান কর আর না হয় আমার আশ্রয় ফিরিয়ে দাও। কেননা আমি শুনতে চাই না আরবরা যাকে যে, আমি এক লোককে আশ্রয় দিয়ে শর্ত ভঙ্গ করেছি।
তখন হযরত আবূ বকর ﷺ দৃঢ় মনোবল নিয়ে বললেন, আমি তোমাকে তোমার আশ্রয় ফিরিয়ে দিলাম এবং আল্লাহর আশ্রয় থাকার ওপর সন্তুষ্ট হলাম।
টিকাঃ
¹ আস সীরাতুন নববিয়্যাহ, ৩য় খণ্ড, ৮১।
📄 হযরত আবু বকরের মায়ের ইসলাম গ্রহণ
রাসূল ﷺ-এর সাথীদের জন্য ঘরে থাকা মুশকিল হয়ে গেল। দুনিয়া তাদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে গেল। তারা মাত্র তিরাশি জন লোক ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন হযরত আবূ বকর ﷺ। যিনি সর্বদা সত্য বাণী প্রচারের চিন্তায় মগ্ন থাকতেন। তিনি রাসূল ﷺ-এর নিকটবর্তী হয়ে প্রকাশ্যে দাওয়াত দেওয়ার জন্য বায়তুল্লাহর চতুর্দিকে বার বার অনুরোধ করতে লাগলেন।
রাসূল ﷺ বললেন, আবূ বকর! তোরা তোরা তোরা খুববই কম।
কিন্তু হযরত আবূ বকর রাদিআল্লাহু আনহু এর বার বার অনুরোধ করার কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাওয়াত দেওয়ার জন্য বের হলেন। মুসলমানগণ প্রকাশ্যে কা'বা শরীফের পাশে ঘুরেফেরা করতে লাগলেন। প্রত্যেক তা'যীর আত্মীয়-স্বজনদের নিকট গেল। হযরত আবূ বকর রাদিআল্লাহু আনহু মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দেওয়া শুরু করলেন। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পাশেই বসা ছিলেন। হযরত আবূ বকরকে বক্তৃতা দিতে দেখে মুশরিকদের মাথায় আগুন ধরে গেল। তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও হযরত আবূ বকরসহ সকল মুসলমানের ওপর হামলা করে বসে। তারা মুসলমানেরাকে আঘাতে আঘাতে মারাত্মক জখম করে দিল এবং তাদের হাত, পা দিয়ে আঘাত করে রাসূলের পূর্ণ বহিস্থকরণ করল। এমনকি মুসলমানদের অনেকে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেল। এদের মধ্যে হযরত আবূ বকর রাদিআল্লাহু আনহু মারাত্মকভাবে আহত হন। বনু তাইম গোত্রের লোকেরা হযরত আবূ বকর রাদিআল্লাহু আনহু-কে একটি কাপড় জড়িয়ে বাড়িতে নিয়ে গেল। তাঁর মৃত্যুর ব্যাপারে তাদের কোনো সন্দেহ ছিল না। এতে বনু তাইমের লোকেরা ক্ষিপ্ত হয়ে কা'বার প্রাঙ্গণে ছুটে এসে বলল, যদি আবূ বকর মারা যায় আমরা অবশ্যই উববা বিন রবীআকে হত্যা করব। এরপর তারা হযরত আবূ বকর রাদিআল্লাহু আনহু-এর সাথে কথা বলতে চেষ্টা করল, কিন্তু হযরত আবূ বকরের জ্ঞান তখনো ফিরেনি। তাঁর থেকে তারা কোনো সাড়া পেল না। দিনের শেষে তাঁর মুখ খুলল। এ করুণ অবস্থায় তাঁর প্রথম কথা ছিল.....রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কি অবস্থা? তাঁর মুখে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা শুনে বনু তাইম গোত্রের লোকেরা খুবই রাগান্বিত হলো। তারা তাঁর মাকে এ বলে চলে যেতে লাগল........ দেখ তাকে কি কিছু খাওয়ায়ে না শুধু পান করাবে......। এরপর তারা আবূ বকর রাদিআল্লাহু আনহু-এর এ কাজে আশ্চর্য হয়ে কপালে হাত রেখে ফিরে যেতে লাগল। কিন্তু হযরত আবূ বকর রাদিআল্লাহু আনহু এ কথাই বার বার জিজ্ঞেস করতে লাগলেন। তখন তাঁর মা উম্মে জামিল বিনতে খাত্বাবকে কাছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্পর্কে জানতে চাইলেন। পরে উম্মে জামিল এসে তাঁকে বললেন, তিনি ভালোই আছেন। এ কথা শুনে হযরত আবূ বকর রাদিআল্লাহু আনহু-এর ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠল এবং তাঁর চেহারা আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠল। এরপর তিনি চিৎকার করে বললেন, কোথায় তিনি? তাঁর মা বললেন, তিনি দারে ইবনে আরুল আরকামে আছেন।
যোগাযোগে রাসূলের শিক্ষায় ঘটানাবলী এতে তাঁর চোখেমুখে খুশির ছাপ ফুটে উঠল। তিনি বলতে লাগলেন, আল্লাহর শপথ! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে না যাওয়া পর্যন্ত আমি কোনো প্রকার খাদ্য-পানীয় গ্রহণ করব না। হযরত আবূ বকর রাদিআল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যাওয়ার জন্য মাটিতে পা রাখলেন, কিন্তু প্রচণ্ড ব্যাথার কারণে হাঁটতে পারছিলেন না। তাই তিনি তাঁর মায়ের ও উম্মে জামিলের কাঁধে ভর দিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গেলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে দেখে অশেষো খুশি হয়ে চুমু খেলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে থাকা অন্যান্য মুসলমানগণও তেমনি করলেন। তিনি তাঁর প্রতি খুবই সহানুভূতি প্রকাশ করলেন। তখন হযরত আবূ বকর রাদিআল্লাহু আনহু বললেন, আমার পিতা মাতা আপনার জন্যে কোরবান হোক! আমার কোনো সমস্যা হয়নি; বরং ফাসেকরা আমাকে মেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে.......। এ হচ্ছেন সম্মাননিধি আমার মা আর আপনি হচ্ছেন বরকতময়। সুতরাং আপনি তাঁকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করুন এবং তাঁর জন্যে আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। হতে পারে আল্লাহ তা'আলা আপনার দ্বারা তাঁকে জাহান্নাম থেকে বাঁচিয়ে দিবেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর রাদিআল্লাহু আনহু-এর মায়ের জন্যে দোয়া করলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দোয়া আল্লাহ কবুল করেছেন এবং তাঁকে হেদায়েত দান করেছেন। তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন।
টিকাঃ
১. বুখারুস সাহাবা, ১ম খণ্ড, ২৮৩।
📄 সফর সঙ্গী, হে আল্লাহর রাসূল
এক তীব্র গরমের দিনে সূর্য তাঁর তীব্র তাপ দিয়ে মক্কা নগরীকে উত্তপ্ত করছিল। মানুষ তাপের তীব্রতা নিয়ে বলাবলি করছিল। এ তীব্র গরমের দিনে ঠিক দুপুরে যখন উত্তপ্ত বালির চরেরা ঝলসায়ে পড়ছিল তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব দ্রুততার সাথে হযরত আবূ বকর রাদিআল্লাহু আনহু-এর কাছে রওনা দিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বাভাবিকভাবে সকাল বা সন্ধ্যা ব্যতীত অন্য সময়ে আবূ বকর রাদিআল্লাহু আনহু-এর কাছে যেতেন না। আল্লাহ হিজরতের অনুমতি দেওয়া পর্যন্ত এমনি চলছিল। হযরত আবূ বকর রাদিআল্লাহু আনহু-এর দৃষ্টি যখন তাঁর প্রিয় বন্ধু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর গিয়ে পড়ল, তিনি বুঝতে পারলেন যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ তীব্র গরমের ভেতরে তাঁর কাছে এসেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করলে হযরত আবূ বকর রাদিআল্লাহু আনহু তাঁকে বসতে দিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তখন হযরত আয়েশা ও হযরত আসমা রাদিআল্লাহু আনহুমা ব্যতীত হযরত আবূ বকর রাদিআল্লাহু আনহু-এর কাছে কেউ ছিল না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, তোমার কাছে যারা আছে তাদেরকে আমার থেকে দূরে নিয়ে যাও।
তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এরা আমার কন্যা। আমার পিতা মাতা আপনার জন্যে উৎসর্গিত, কি হয়েছে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তা'আলা আমাকে মক্কা থেকে বের হওয়ার ও হিজরত করার অনুমতি দিয়েছেন। তিনি তখন অশ্রু ভরা চোখে বললেন, সফর সঙ্গী....... হে আল্লাহর রাসূল! হিজরতে আপনার সফর সঙ্গী হতে চাই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, সফর সঙ্গী, আবূ বকর! হযরত আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা বললেন, সেদিন আবূ বকর রাদিআল্লাহু আনহু-এর কান্না দেখব আশা জানতাম না যে, কেউ অধিক খুশিও কাঁদতে পারে। হযরত আবূ বকর রাদিআল্লাহু আনহু তাঁর পূর্ব সম্পদ পাঁচ হাজার দিরহাম নিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে হিজরতে রওনা দেন। তখন তাঁর বৃদ্ধ দুঃখিনী পিতা আবূ কুহাফা এসে উচ্চৈঃস্বরে বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি তাকে সব মাল নিয়ে যেতে দেখেছি। তাকে চুপ রাখতে আসমা রাদিআল্লাহু আনহা বললেন, না; বরং তিনি আমাদের জন্যে অনেক কল্যাণ রেখে গেছেন। হযরত আবূ বকর রাদিআল্লাহু আনহু যে অর্থ সম্পদ রাখতেন সে ঘরে তিনি একটি ব্যাগ কিছু পাথর রেখে কাপড় দিয়ে ঢেকে দিলেন। তারপর তাঁর দাদাকে নিয়ে গিয়ে বললেন, দাদা! এ সম্পদের ওপর হাত রেখে দেখুন। তখন তাঁর দাদা তাতে হাত রেখে খুশি হয়ে বললেন, কোনো সমস্যা নেই, সে তোমাদের জন্য ভালো রেখে ভালো করেছে। এতে তোমাদের চলবে। হযরত আসমা রাদিআল্লাহু আনহা বললেন, আল্লাহর শপথ! তিনি কিছুই রাখেননি, কিন্তু বৃদ্ধ লোকটিকে চুপ রাখতে আমি এ কাজ করেছি।
টিকাঃ
১. আস সিরাতুন নববী লি ইবনি হিশাম, ২য় খণ্ড, ১০৬-১০৯, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩য় খণ্ড, ১৭৯।