📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 একটি আশ্চর্যজনক স্বপ্ন

📄 একটি আশ্চর্যজনক স্বপ্ন


একদিন হযরত আবূ বকর ﷺ একটি স্বপ্ন দেখলেন। তখন তিনি সিরিয়ায় ছিলেন। স্বপ্নের সমাধান জানতে তিনি এক পাত্রীর কাছে আসলেন।
পাত্রী তাঁকে বললেন, তুমি কোথা থেকে এসেছ? তিনি বললেন, মক্কা থেকে। পাত্রী আবার জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কোন গোত্রের? তিনি বললেন, কোরাইশ গোত্রের। পাত্রী আবার জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কী কর? তিনি বললেন, ব্যবসা।
এরপর পাত্রী বললেন, যদি আল্লাহ তোমার স্বপ্ন বাস্তবায়িত করেন। তাহলে তিনি তোমার সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে এমন একজন নবী পাঠাবেন যার জীবনদশায় তুমি তাঁর সাহায্যকারী হবে এবং তাঁর মরণের পর তুমি তাঁর খলিফা নির্বাচিত হবে।
পাত্রীর মুখ থেকে এমন কথা শুনে হযরত আবূ বকর ﷺ মনে মনে খুবই খুশি হলেন।

টিকাঃ
² আবুশ শারফাতিন রফিদীনি, পৃ. ৩৫।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আল্লাহ তার চোখ অন্ধ করে দিয়েছেন

📄 আল্লাহ তার চোখ অন্ধ করে দিয়েছেন


আবু বকর ﷺ রাসূল ﷺ-এর সাথে বসা ছিলেন। ঠিক সেই সময় আবূ লাহবের স্ত্রী উম্মে জামিল এক খণ্ড পাথর নিয়ে তাঁদের কাছে আসল। তার ইচ্ছা ছিল সে তা রাসূল ﷺ-কে মারবে। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা তার চোখ অন্ধ করে দিলেন। সে রাসূল ﷺ-কে দেখতে পায়নি।
সে আবূ বকর ﷺ-এর কাছে এসে বলল, তোমার ওই সাথি কোথায়? সে নাকি আমাদের নামে দুর্নাম করে। আল্লাহ কসম, যদি আমি তাকে পাই তবে তাকে এ পাথর দ্বারা আঘাত করব। রাসূল ﷺ-কে দেখতে না পেরে যখন মহিলাটি চলে যেতে লাগল তখন আবূ বকর ﷺ রাসূল ﷺ-কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল!
সে কি আপনাকে দেখতে পায়নি? রাসূল ﷺ বললেন, না, সে আমাকে দেখতে পায়নি।

টিকাঃ
³ সীরাতে ইবনে হিশাম, ১ম খণ্ড, ৩৬৫ পৃ.।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 তোমার বন্ধু আক্রান্ত হয়েছে

📄 তোমার বন্ধু আক্রান্ত হয়েছে


আবূ বকর! তোমার বন্ধু আক্রান্ত হয়েছে............।
এ কথা শুনার সাথে সাথে হযরত আবূ বকর ﷺ খালি মাথায় বায়তুল্লাহর দিকে ছুটে গেলেন। বাতাসে তাঁর চুলগুলো উড়ছিল। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পেলেন মুশরিকরা রাসূল ﷺ-কে মাটিতে ফেলে ঘুষি, লাথি মারছিল। তারা বলছিল, তুমি আমাদের বহু খোদাকে এক খোদার পরিণত করেছ।
এ অবস্থা দেখে হযরত আবূ বকর ﷺ রাসূল ﷺ-কে বাঁচাতে নিজেকে সঁপে দিলেন। তিনি তাদের আঘাতগুলো প্রতিহত করতে লাগলেন।
তিনি বললেন, তোমাদের জানো ধ্বংস! তোমরা কি এমন ব্যক্তিকে হত্যা করতে চাচ্ছ, যিনি বলছেন, তাঁর প্রভু আল্লাহ এবং তিনি তোমাদের জন্য এ ব্যাপারে প্রমাণও নিয়ে এসেছেন?
হযরত আলী এ ঘটনা বর্ণনা করার সময় তাঁর পাশে থাকা লোকদেরকে বললেন, তোমাদেরকে শপথ দিয়ে বলছি, ফেরাউনের পরিবারের কোনো ব্যক্তি উত্তম, না আবূ বকর উত্তম?
তাঁর প্রশ্নে সকলে চুপ করে রইল।
তিনি আবার বললেন, তোমরা উত্তর দিবে না? আল্লাহর শপথ! আবূ বকরের এক মুহূর্ত ফেরাউন পরিবারের কোনো মানুষের পূর্ণ পৃথিবীসুদ্ধ পুণ্যের থেকেও উত্তম। ওই লোক তো তাঁর ঈমানকে গোপনে রেখেছেন। আর এ লোক তো তাঁর ঈমানকে প্রকাশ করেছেন।

টিকাঃ
⁴ আল মাযমা, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ১৭৭ পৃ.।
⁷ আল মাযমা, ৯য় খণ্ড, ৭৭ পৃ.। ৬ কামী-৩

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ত্বালহার ইসলাম গ্রহণ ও হযরত আবু বকর

📄 ত্বালহার ইসলাম গ্রহণ ও হযরত আবু বকর


হযরত আবূ বকর ﷺ তাঁর ইসলাম গ্রহণের কথা ঘোষণা করার পর দারুন লজ্জায় কোরাইশের নেতারা একত্রিত হয়। তখন তারা বিষাক্ত বিচ্ছুর ন্যায় রাগে ফুঁসছিল। তারা হযরত আবূ বকর সিদ্দিকদের ব্যাপারে পরামর্শ করতে লাগল।
তারা বলল, তোমরা একজন লোক নির্ধারণ কর, যে তাকে আমাদের কাছে নিয়ে এসে আমাদের প্রভুদের দিকে আহ্বান করবে। সবার পরামর্শে তারা হযরত ত্বালহা বিন উবাইদুল্লাহকে তাঁর কাছে পাঠাল।
তিনি হযরত আবূ বকরের সভায় নিয়ে আসলেন।
হযরত ত্বালহা তাঁকে বললেন, আবূ বকর! আমাদের দলে আস। তিনি বললেন, তুমি আমাকে কোন দিকে আহ্বান করছ? হযরত ত্বালহা বললেন, আমি তোমাকে লাত ও উজ্জার ইবাদতের দিকে আহ্বান করছি। তিনি বললেন, লাত কে? হযরত ত্বালহা বললেন, আল্লাহর মেয়ে। তিনি বললেন, তাহলে তার মা কে?
এ প্রশ্নে হযরত ত্বালহা চুপ হয়ে গেলেন। তাঁর মুখ থেকে কোনো উত্তর আসল না।
হযরত ত্বালহার সাথে থাকা লোকদেরকে তিনি বললেন, তোমরা তোমাদের সাথীকে উত্তর দাও।
তারাও কোনো উত্তর খুঁজে না পেয়ে চুপ হয়ে গেল।
হযরত ত্বালহা তাদের দিকে তাকিয়ে অনেকক্ষণ দীর্ঘ সময় করতে লাগলেন, কিন্তু তাদের থেকে কোনো উত্তর এলো না।
তখন তিনি আবার হযরত আবূ বকরকে ডেকে বললেন, আবূ বকর! দাঁড়াও, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ব্যতীত কোনো প্রভু নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল।
এরপর হযরত আবূ বকর হযরত ত্বালহার হাত ধরে রাসূল ﷺ-এর কাছে নিয়ে গেলেন।

টিকাঃ
¹ উয়ুনুল আখবার, ২য় খণ্ড, ১১৪৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00