📄 তিনি যদি তা বলে থাকেন তাহলে সত্যই বলেছেন
দুপুর বেলা, রাসূল ﷺ হারাম শরীফে বসেছিলেন। আসাবীহ ও যিকিরে তাঁর মুখ সুঘ্রাণ ছড়াছিল। এমন সময় আল্লাহ্র শত্রু আবূ জাহেল অহংকৃতক ধরে ধের হয়ে কা'বার পাশে ঘুরছিল। সে রাসূল ﷺ-এর কাছে গিয়ে অহংকার ও দম্ভের সাথে উঁচু আওয়াজে জিজ্ঞেস করল- মুহাম্মদ! নতুন খবর আছে? রাসূল ﷺ বললেন, আমাকে এ রাতে ভ্রমণ করানো হয়েছে। আবূ জাহেল হেসে উঠে বলল: কোথায়? রাসূল ﷺ বললেন, বায়তুল মুকাদ্দাস এ কথা শুনে আবূ জাহেল হাসি থামিয়ে রাসূল ﷺ-এর আরো কাছে গিয়ে ঠাট্টার সাথে বলল, তোমাকে এ রাতে বায়তুল মুকাদ্দাস ভ্রমণ করানো হয়েছে আর আমাদের মাঝে তুমি সকাল কাটাবো! (অর্থাৎ মক্কা থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস দূরত্ব, যা এক রাতে অতিক্রম করা সম্ভব নয়)।
তারপর আবু জাহেল মৃদু হেসে জিজ্ঞেস করল- মুহাম্মাদ! আমি যদি মানুষকে একত্রিত করি তাহলে কি তুমি আমার কাছে যা বলবে তা তাদের কাছে বলবে তো? তিনি বললেন, হ্যাঁ......আমি তাদেরকেও বলব।
আবু জাহেল মৃতের মুখে মানুষ জমা করতে লাগল আর রাসূল ﷺ যা বলেছেন তা শুনতে লাগল। এমন কথা শুনে মানুষ অবাক হয়ে একত্রিত হতে লাগল। তারা ধারণা করতে লাগল এটি তুচ্ছ, ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। এদের মধ্য থেকে একলোক গিয়ে আবূ বকর ﷺ-কে এ কথাটি জানাল। তার ইচ্ছা ছিল এ কথা শুনে হযরত আবূ বকর ﷺ রাসূল ﷺ-কে অস্বীকার করবেন এবং তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করবেন, কিন্তু হযরত আবূ বকর ﷺ তাঁর কথা শুনে বললেন, তিনি যদি তা বলে থাকেন তাহলে সত্য বলেছেন।
এরপর বললেন, তোমার জানো ধ্বংস! এর থেকে দূরবর্তী বিষয়ে আমি তাঁকে বিশ্বাস করি। সকাল সন্ধ্যা আসমান থেকে আগত ওহীর ব্যাপারে আমি তাঁকে বিশ্বাস করি............আর আমি কি বায়তুল মুকাদ্দাসে তাঁর ভ্রমণের ব্যাপারে বিশ্বাস করব না?
এরপর তিনি তাদেরেখে রেখে রাসূল ﷺ ও মানুষের অবস্থানের দিকে ছুটে গেলেন। রাসূল ﷺ কিছু বলার পর পরই হযরত আবূ বকর ﷺ বললেন, আপনি সত্য বলেছেন......আপনি সত্য বলেছেন। আর তাই সেদিন থেকে রাসূল ﷺ তাঁর নাম রেখেছেন ‘সিদ্দিক’ (সত্যয়নকারী/বিশ্বাসী)।
টিকাঃ
¹ আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩য় খণ্ড, ১১০।
📄 একটি আশ্চর্যজনক স্বপ্ন
একদিন হযরত আবূ বকর ﷺ একটি স্বপ্ন দেখলেন। তখন তিনি সিরিয়ায় ছিলেন। স্বপ্নের সমাধান জানতে তিনি এক পাত্রীর কাছে আসলেন।
পাত্রী তাঁকে বললেন, তুমি কোথা থেকে এসেছ? তিনি বললেন, মক্কা থেকে। পাত্রী আবার জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কোন গোত্রের? তিনি বললেন, কোরাইশ গোত্রের। পাত্রী আবার জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কী কর? তিনি বললেন, ব্যবসা।
এরপর পাত্রী বললেন, যদি আল্লাহ তোমার স্বপ্ন বাস্তবায়িত করেন। তাহলে তিনি তোমার সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে এমন একজন নবী পাঠাবেন যার জীবনদশায় তুমি তাঁর সাহায্যকারী হবে এবং তাঁর মরণের পর তুমি তাঁর খলিফা নির্বাচিত হবে।
পাত্রীর মুখ থেকে এমন কথা শুনে হযরত আবূ বকর ﷺ মনে মনে খুবই খুশি হলেন।
টিকাঃ
² আবুশ শারফাতিন রফিদীনি, পৃ. ৩৫।
📄 আল্লাহ তার চোখ অন্ধ করে দিয়েছেন
আবু বকর ﷺ রাসূল ﷺ-এর সাথে বসা ছিলেন। ঠিক সেই সময় আবূ লাহবের স্ত্রী উম্মে জামিল এক খণ্ড পাথর নিয়ে তাঁদের কাছে আসল। তার ইচ্ছা ছিল সে তা রাসূল ﷺ-কে মারবে। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা তার চোখ অন্ধ করে দিলেন। সে রাসূল ﷺ-কে দেখতে পায়নি।
সে আবূ বকর ﷺ-এর কাছে এসে বলল, তোমার ওই সাথি কোথায়? সে নাকি আমাদের নামে দুর্নাম করে। আল্লাহ কসম, যদি আমি তাকে পাই তবে তাকে এ পাথর দ্বারা আঘাত করব। রাসূল ﷺ-কে দেখতে না পেরে যখন মহিলাটি চলে যেতে লাগল তখন আবূ বকর ﷺ রাসূল ﷺ-কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল!
সে কি আপনাকে দেখতে পায়নি? রাসূল ﷺ বললেন, না, সে আমাকে দেখতে পায়নি।
টিকাঃ
³ সীরাতে ইবনে হিশাম, ১ম খণ্ড, ৩৬৫ পৃ.।
📄 তোমার বন্ধু আক্রান্ত হয়েছে
আবূ বকর! তোমার বন্ধু আক্রান্ত হয়েছে............।
এ কথা শুনার সাথে সাথে হযরত আবূ বকর ﷺ খালি মাথায় বায়তুল্লাহর দিকে ছুটে গেলেন। বাতাসে তাঁর চুলগুলো উড়ছিল। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পেলেন মুশরিকরা রাসূল ﷺ-কে মাটিতে ফেলে ঘুষি, লাথি মারছিল। তারা বলছিল, তুমি আমাদের বহু খোদাকে এক খোদার পরিণত করেছ।
এ অবস্থা দেখে হযরত আবূ বকর ﷺ রাসূল ﷺ-কে বাঁচাতে নিজেকে সঁপে দিলেন। তিনি তাদের আঘাতগুলো প্রতিহত করতে লাগলেন।
তিনি বললেন, তোমাদের জানো ধ্বংস! তোমরা কি এমন ব্যক্তিকে হত্যা করতে চাচ্ছ, যিনি বলছেন, তাঁর প্রভু আল্লাহ এবং তিনি তোমাদের জন্য এ ব্যাপারে প্রমাণও নিয়ে এসেছেন?
হযরত আলী এ ঘটনা বর্ণনা করার সময় তাঁর পাশে থাকা লোকদেরকে বললেন, তোমাদেরকে শপথ দিয়ে বলছি, ফেরাউনের পরিবারের কোনো ব্যক্তি উত্তম, না আবূ বকর উত্তম?
তাঁর প্রশ্নে সকলে চুপ করে রইল।
তিনি আবার বললেন, তোমরা উত্তর দিবে না? আল্লাহর শপথ! আবূ বকরের এক মুহূর্ত ফেরাউন পরিবারের কোনো মানুষের পূর্ণ পৃথিবীসুদ্ধ পুণ্যের থেকেও উত্তম। ওই লোক তো তাঁর ঈমানকে গোপনে রেখেছেন। আর এ লোক তো তাঁর ঈমানকে প্রকাশ করেছেন।
টিকাঃ
⁴ আল মাযমা, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ১৭৭ পৃ.।
⁷ আল মাযমা, ৯য় খণ্ড, ৭৭ পৃ.। ৬ কামী-৩