📘 খৃষ্টধর্ম, সংক্ষিপ্ত পরিচিতি 📄 ১. ক্যাথলিক

📄 ১. ক্যাথলিক


এর অর্থ হলো, দল বা জামাআত। এদেরকে পশ্চিমা বা ল্যাটিনি চার্চও বলা হয়। এভাবে তাদেরকে পাতরিয়া রাসূলীও বলে। পাতরাস রাসূলীকে এ দলের মূল ভিত গণ্য করা হয়। তিনি হযরত ঈসা আ.' র একজন হাওয়ারী ছিলেন। রোমের পাদ্রি ও বিশপরা তার উত্তরসূরি ছিল। এরা পোপকে মাসীহার জানেশীন মনে করে। এবং পোপকে আল্লাহ তাআলার রাসূল হিসেবেও মানে। এ কারণেই নাকি পোপের মতাদর্শে কোন রকমের সন্দেহের অবকাশ থাকে না। কারণ পোপ ও পাদ্রিরা নাকি সমস্ত গুনাহ থেকে পবিত্র হয়ে থাকে।

ক্যাথোলিকদের সবচেয়ে বড় গির্জাকে ক্যাথোলিক গির্জা বা উম্মুল কানাইছ (প্রধান গির্জা) বলা হয়। ইটালি, বেইজিং, ফ্রান্স, স্পেন ও পুরতুগালে বিশেষকরে এদেরকে সম্মানের দৃষ্টিতে দেখা হয়। এদের অনুসারী পুরা বিশ্বেই বিদ্যমান। তাদের বিশ্বাস হলো, হযরত ঈসা আ. এর মাঝে দুটি প্রকৃতি রয়েছে : ১. সৃষ্টিকর্তার গুণ, ২. মানবীয় গুণ, অর্থাৎ হযরত ঈসা আ. এর মাঝে খোদা ও বান্দা মিলিত হয়ে গেছে। আর তাদের মতে, রুহুল কুদছের অস্তিত্ব বাপ- ছেলে উভয়ের থেকেই এসেছে।

রোমের ভ্যাটিক্যান পোপের মূল শহর। এ শহরই পোপ ও তার অনুসারীদের মূল অফিস। পোপের হাতেই নাকি খৃস্টানদের ভাগ্য নির্ধারণ হয়। ভ্যাটিক্যান শহরের পোপের জন্য সকল প্রকার স্বাধীনতা রয়েছে। এ শহরের পোপ স্বনির্ভরশীল। তার প্রেরিত দূতগণ পুরা বিশ্বে তার প্রতিনিধিত্ব করে। এরা খৃস্টানদের কল্যাণের বিষয়টি সব সময় লক্ষ রাখে। ভ্যাটিক্যানই মূলত খৃস্টান ধর্মের মূল চালিকাশক্তি এবং পশ্চিমা বিশ্বের ক্ষমতার প্রকৃত মহর।

ক্যাথলিকদের মতে ভ্যাটিক্যান একটি মর্যাদাপূর্ণ স্থান। ১৬০০ শতাব্দী পর্যন্ত ক্যাথলিকরা ছিল খৃস্টানদের সর্ববৃহৎ গোষ্ঠী। তবে বর্তমানে ফ্রান্স, ইটালি, বিলজিয়াম, স্পেন, পুর্তুগাল, মধ্য ও উত্তর আমেরিকা এবং ফিলিপাইনে ক্যাথলিকদের প্রভাব বেশি দেখা যায়। তবে, এশিয়া ও আফ্রিকাতে এদের সংখ্যা নেই বললেই চলে। এদের মতে খৃস্টান ধর্মের আলেমদের জন্য শুকরের গোশত খাওয়া বৈধ।

📘 খৃষ্টধর্ম, সংক্ষিপ্ত পরিচিতি 📄 মেরোনিয়া

📄 মেরোনিয়া


এটি ইউহান্না মারোন এর দল বলে পরিচিত। ৬৬৭ খৃস্টাব্দে সর্বপ্রথম তিনি তার আকীদা প্রচার করেন। আর তা হলো, "হযরত ঈসা আ. এর প্রকৃতি যদিও দু'টা, কিন্তু এক খোদার মাঝে সে দু'টি মিশে যাওয়ার কারণে ইচ্ছা ও আকাঙ্খা একটিই রাখেন।"

এই বক্তব্যের কারণে তিনি লোকমুখে অনেক পরিচিতি লাভ করেন। অত:পর কিছু পাদ্রিও একমত পোষণ করে তার সহযোগিতা করে। তবে, কেউ কেউ বিরোধিতাও করে। কিন্তু খৃস্টান পণ্ডিতদের কারণে তার মতাদর্শ বেশি প্রচার হতে পারেনি। তখন অনেকে রোমের বাদশাহ ইউগানাকোসকে পরামর্শ দেয়, তিনি যেন একটি কন্সফারেন্স অনুষ্ঠিত করেন এবং সেখানে এ আকীদার বিষয়টি জনসম্মুখে ফায়সালা করে দেওয়া হয়, হযরত ঈসা আ. এর দুটি ফিত্রত রয়েছে এবং তার দুটি ইচ্ছা শক্তিও রয়েছে, মানবীয় ও ঈশ্বরীয়।

অত:পর তাদের পরামর্শ অনুযায়ী ৬৮০ ঈসায়ীতে কুসতুনতুনিয়া শহরে খৃস্টানদের বিশাল বড় কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এর একটা উদ্দেশ্য এটাও ছিল, "ইউহান্না রোমীকে ভ্রান্ত সাব্যস্ত করে তাকে লানত দেয়া হবে, যে ব্যক্তি তার বিশ্বাসে বিশ্বাসী হবে তাকে কাফের গণ্য করা হবে, এবং যে ইউহান্না রোমীর ধর্ম মানবে তাকেও কাফের বলা হবে।" এভাবে এ দলও নিজেদের প্রভাব হারায়।

এছাড়া এ কথাও স্পষ্ট, মারোনের অনুসারী অন্যদের চেয়ে সংখ্যায় দুর্বল ছিল। এবং তাদের এতটুকু মোকাবেলা করার সামর্থ্য ছিল না, অন্যদের জুলুম ও অত্যাচার থেকে নিজেদেরকে বাঁচাতে পারবে। তাই তাদের উপর অন্যান্য খৃস্টানরা আক্রমণ করলে তখন তাদের অধিকাংশই জুলুমের শিকার হয়। পালানোর পথ ছাড়া তাদের আর কোন উপায় বাকি থাকেনি। তখন তারা লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় এসে আশ্রয় নেয়। এবং একটি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সেখানেই শান্তিতে জীবন যযাপন করতে থাকে। অত:পর রাজনীতিতে কিছুটা পরিবর্তন সাধিত হলে রোমের গির্জাবাসীরা তাদেরকে কাছে টানে। তখন তারা ক্যাথোলিক ধর্ম গ্রহণ করে তাদের সাথে মিলে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। তবে নিজেদের কিছু সিদ্ধান্তে অটল থাকার শর্তে তারা ১১৮২ ঈসায়ীতে রোমের গির্জাবাসীদের সাথে একাত্মতার ঘোষণা করে। এদের অনেকে এখনো পর্যন্ত লেবানন পাহাড়ে বসবাস করছে। তাদের বিশেষ একজন পাদ্রি বা লিডার থাকে। যে তাদের সামাজিক পাদ্রি হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে রাজনৈতিক ক্ষমতা শুধু রোমীয় লিডারের হাতেই থাকে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px