📘 খৃষ্টধর্ম, সংক্ষিপ্ত পরিচিতি 📄 ইউহান্নার চিঠিসমূহ ও তার বই মুকাশিফাত

📄 ইউহান্নার চিঠিসমূহ ও তার বই মুকাশিফাত


ইউহান্নার মুকাশিফাত (The Book of Revelation) হলো, নিউ টেস্টামেন্টের শেষ কিতাব। এর সাথে তার লিখিত তিনটি চিঠিও নিউ টেস্টামেন্টে শামিল করা হয়েছে। খৃস্টানদের বিশ্বাস, ইউহান্না খৃস্টধর্ম গ্রহণের কারণে তাকে ব্রিটেন ও তুরকিস্তানের মধ্যবর্তী অবস্থিত প্যাটমাস দ্বীপে দেশান্তর করা হয়। এরপর সেখানেই তিনি জীবন যাপন করতে থাকেন। এ দ্বীপে থাকাকালীন তিনি সত্য কিছু স্বপ্ন দেখেন এবং সেগুলো তার গ্রন্থে লিখে দেন। এটিই "মুকাশিফাত" নামে প্রসিদ্ধ। এটিও তার ইঞ্জীলের মত ৯৬- ৯০ খৃস্টপূর্বাব্দের কোন এক সময় গ্রীক ভাষায় লেখা হয়।

📘 খৃষ্টধর্ম, সংক্ষিপ্ত পরিচিতি 📄 ইঞ্জীলসমূহের সত্যতা ও সঠিকতা

📄 ইঞ্জীলসমূহের সত্যতা ও সঠিকতা


চার ইঞ্জীল সঠিক হওয়ার ব্যাপারে খৃস্টানদের বিশ্বাস রয়েছে। তারা এগুলোকে হযরত ঈসা আ. থেকে বর্ণিত বাণী মনে করে। তবে, এগুলো হযরত ঈসা আলাইহিস সাল্লাম এর বাণী হওয়ার ব্যাপারে গবেষকদের সন্দেহ রয়েছে। তাদের সন্দেহের পেছনে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হয়:

প্রথম কারণ : হযরত ঈসা আলাইহিস সাল্লাম যে তাওরাতের উপর ঈমান রাখতেন এ ইঞ্জীলসমূহ তা থেকে ভিন্ন, যে তাওরাতের পূর্ণতার জন্য আল্লাহ তাআলা হযরত ঈসা আ. কে রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছিলেন। তাওরাত মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করে। অথচ এই ইঞ্জিলসমূহ ত্রিত্ববাদ বা তিন খোদার আকীদায় বিশ্বাস করতে বলে। এভাবে এগুলো হযরত ঈসা আ., আহলে কিতাব এবং তাদের ইতিহাস ও বিভিন্ন কাহিনী বর্ণনায় কোরআনে কারীমের বিরোধিতা করে। অথচ আহলে কিতাবদের সকল বিষয়গুলো আল্লাহ তাআলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ওহী নাযিল করে জানিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা নবী কারীম সা.' র উপর কুরআনের ঐতিহাসিক আয়াত অবতীর্ণ করে সৃষ্টিকর্তা সংক্রান্ত খৃস্টানদের সকল ধারণাকে বাতিল বলেছেন, বর্ণিত হয়েছে,
لو كان فيهما آلهة إلا الله لفسদتا - سورة الأنبياء - ٢٢
অর্থাৎ, আসমান ও জমিনের দু' সৃষ্টিকর্তা হলে এবং দু' জন প্রতিপালক এগুলোর প্রতিপালন করলে নিশ্চিয় তা এতদিন ধ্বংস হয়ে যেত। কারণ, একই ক্ষমতায় দু' জন রাষ্ট্রপ্রধান হওয়া কখনোই সম্ভব নয়।
সুরা ইখলাস অবতীর্ণ করে আল্লাহ তাআলা নিজের গুণ নিজেই বর্ণনা করেছেন,
قل هو الله أحد ، الله الصمد ، لم يلد ولم يولد ، ولم يكن له كفوا أحدا
অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা এক ও একক। তাঁর কোন শরীক নেই। তিনি কারো থেকে জন্ম গ্রহণ করেননি। আবার কাউকে জন্ম দেননি। তাঁর সমতুল্য কেউ নেই। সুরা ইখলাস।
একথা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট, ওহী কখনো মিথ্যা হতে পারে না। মানুষের আকল, জ্ঞান, বুদ্ধি সব কিছুই ভুল হতে পারে। কিন্তু আল্লাহর ওহীকে কেউ ভুল বা মিথ্যা সাব্যস্ত করতে পারবে না। তাই কারো সঠিক জ্ঞান থাকলে নিশ্চয় বুঝতে পারবে, খৃস্টানদের ওসব দাবি নিছক মনগড়া কথা এবং ভুল ও গোমরাহী ছাড়া আর কিছুই নয়।

দ্বিতীয় কারণ : এসব ইঞ্জীলের পারস্পরিক ভিন্নতা। এক ইঞ্জীলের কথা অন্যটির সাথে মিলে না। অধিকাংশ তথ্যে একটি আরেকটি থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত মনে হয়। আর এই বৈপরিত্বের কারণেই খৃস্টান পাদ্রিরা এর কোন সঠিক ও সন্তোষজনক জবাব আজও দিতে পারেনি। এবং কখনো পারবেও না। এই বিষয়টি স্বয়ং তাদের নিজেদেরকেও সন্দেহের সাগরে ফেলে দিয়েছে।

তৃতীয় কারণ : এ সকল ইঞ্জীলগুলার মাঝে কিছু সঠিক তথ্যও রয়েছে। তবে অধিকাংশই অবিশ্বাসযোগ্য। কুরআনে কারীম হুযুর সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশায়ই সাহাবায়ে কেরাম তাঁর থেকে সরাসরি শুনে মুখস্ত করে নিয়েছেন। এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে থেকে কোরআনে কারীমের প্রতিটি অক্ষর, শব্দ, বাক্য ও সুরা সংরক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছেন। পক্ষান্তরে ইঞ্জীলের ক্ষেত্রে এমন কিছুই হয়নি। কারণ, ইঞ্জীল হযরত ঈসা আ. ' র মৃত্যুর বহু বছর পর লিপিবদ্ধ করা হয়েছে । তদুপরি এর শব্দ শব্দ লেখা হয়নি এবং হযরত ঈসা আ. ' র আদেশ, নিষেধকে সামনে রেখে লেখা হয়নি; বরং শুধু কিছু কিছু ভাব অর্থ তুলে ধরা হয়েছে, সে ব্যাখ্যা ও ভাব অর্থও আবার খৃস্টানদের নিজস্ব প্রণীত মনগড়া আকীদার সমর্থনেই লেখা হয়েছে!
অধিকাংশ ইঞ্জীল হযরত ঈসা আ. এর মৃত্যুর ১৪০ পর লেখা হয়েছে। এ ইঞ্জীলসমূহের সবচেয়ে মারাত্মক বিষয় হচ্ছে, এগুলোর অধিকাংশ সংকলন পলের ঐ সব আকীদা মোতাবেক করা হয়েছে, যেগুলো সে ৫৫ থেকে ৬৩ খৃ. মধ্যবর্তী সময়ে তার কিতাব " রাসায়েলে ইলাহিয়া " তে লিখেছিল। ঈসা আ. 'র মৃত্যুর পর এত দীর্ঘ সময় পার হওয়ার কারণে পল খৃস্টধর্মের আকীদাসমূহে পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের অনেক লম্বা টাইম পেয়েছেন। এবং সেটা তিনি ভালো করে কাজেও লাগিয়েছেন।

চতুর্থ কারণ : এ সকল ইঞ্জীলসমূহে বর্ণিত অধিকাংশ বর্ণনা ও ঘটনা বর্তমান যুগের আবিষ্কার ও উদ্ভাবন এবং সাইন্স , বিজ্ঞান, দর্শন ও বিবেকের সম্পূর্ণ বিরোধি ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px