📄 রোযা
তাদের মতে সকাল থেকে সূর্য্য পশ্চিম দিকে ঢলে যাওয়া পর্যন্ত না খেয়ে থাকাকে রোযা বলা হয়। এ সময়ের পর চর্বি ছাড়া খাবার খাওয়া যাবে। তবে, এটা নফল রোযা, আবশ্যক রোজা নয়। রাখা না রাখা দু' টোরই অধিকার রয়েছে।
খ্রীস্টানরা বুধবার রোজা রাখে, তাদের বিশ্বাস, এই দিনেই হযরত ঈসা আ. কে গ্রেফতার করা হয়েছিল। শুক্রবারও তাদের রোজার দিন; তাদের ধারণা অনুযায়ী, ঈসা আ. কে এ দিন শূলিতে চড়ানো হয়েছিল।
এমনিভাবে তারা হযরত ঈসা আ. এর জন্মের দিনকে সামনে রেখেও রোজা রাখে। তাদের ধর্ম মতে, জন্মদিনের পূর্বের ধারাবাহিক ৪২ দিন রোজা রাখার হুকুম রয়েছে, যে ধারাবাহিকতা হযরত ঈসা আ. এর জন্মের তারিখে এসে শেষ হয়। এছাড়া "পবিত্র রোজা" বলে ৫৫ দিনের রোজাও তাদের ধর্মে পালন হয়ে থাকে। জন্মকেন্দ্রিক রোজাগুলো "চল্লিশা" বা চল্লিশ দিনের রোজা হিসেবে প্রসিদ্ধ। তাদের ধারণা, হযরত ঈসা আ. নাকি এই চল্লিশ দিন রোজা রাখতেন। এই দিনগুলোতে প্রাণী ও তা থেকে সৃষ্ট কিংবা তৈরিকৃত জিনিসপত্র থেকে বিরত থাকতে হয়।
"সওমে রুসুল " (বা দূতগণের রোজা) বলেও তাদের ধর্মে এক প্রকার রোজার কথা পাওয়া যায়। এ রোজা ১৫ থেকে ৪৯ টি হয়ে থাকে। এ সংখ্যার মাঝে কম বেশিরও অনুমতি রয়েছে।
খৃস্টান ধর্মে আরেক প্রকার রোজা রয়েছে যা " আযরা " নামে প্রসিদ্ধ। এ রোজা ১৫ দিনের হয়ে থাকে। এমনিভাবে " আহলে নিনাওয়া " নামেও এক প্রকার রোযা রয়েছে, এর সূচনা সোমবার থেকে শুরু হয়ে বুধবার শেষ হয়।
📄 উপাসনার বিভিন্ন রীতি
খৃস্টানদের উপাসনার বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। যেমন :
সাত নামাজ বা ইশ্বরের উপাসনা : তারা রাত দিন সাতবার নামাজ পড়ে,
১. সকালের নামাজ ২. তিনটার নামাজ ৩. ছয়টার নামাজ ৪. নয়টার নামাজ ৫. এগারোটার নামাজ ৬. বারোটার নামাজ ৭. অর্ধেক রাতের নামাজ
তবে, তাদের নামাজ বলতে, দোয়াকেই বুঝায়। শুধু দোয়াই হচ্ছে তাদের নামাজ। তাদের মধ্যে কেউ এভাবে দোয়া করে : হে আমাদের পিতা! - যিনি আকাশে রয়েছেন তাঁর নাম পবিত্র হোক - আপনার ফেরেশতা অবতীর্ণ হোক, আমার ইচ্ছা তেমনি হোক যেমন আকাশে আপনার ইচ্ছা, পৃথিবীতে আপনি আমাদের রুটি- রোজগারের জন্য যথেষ্ট, আপনি প্রতিদিন আমাদের রুজির ব্যবস্থা করে দিন, আমাদের গোনাহসমূহ মাফ করে দিন, কেননা যারা আমাদের সাথে অন্যায় আচরণ করে তাদেরকে আমরাও মাফ করে দেই, আমাদেরকে পরীক্ষায় ফেলবেন না, আমাদেরকে সব রকমের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন!
📄 হামদখানী বা প্রশংসাপাঠ
এটা হলো খৃস্টানদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাসনা পদ্ধতি। এর জন্য তারা প্রতিদিন সকাল- বিকেল গির্জায় সমবেত হয়। এর নিয়ম হলো, একজন তাওরাত তেলাওয়াত করে, বাকি সবাই দাঁড়িয়ে তা শ্রবণ করে এবং দোয়া করে। তাদের ধর্মে কেঁদে কেঁদে দোয়া করাকেও পছন্দনীয় আমলসমূহের মধ্যে গণ্য করা হয়।
খৃস্টানদের বিভিন্ন গ্রুপ বিভিন্নভাবে উপাসনা করে। তবে, রবিবারে গির্জায় সমবেত হওয়া, বাইবেল তেলাওয়াত করা, মেহমানদারি করা, খুৎবা প্রদান করা, তাছাড়া বর্তমানে বিভিন্ন গির্জায় সঙ্গীতেরও ব্যবস্থা করা হয়, যা বিভিন্ন গীত ও ঈসা আ. এর প্রশংসা সংবলিত থাকে, এগুলো প্রায় সব খৃস্টানরাই পালন করে।
📄 খৃস্টানদের সামাজিক বিভিন্ন রসম- রেওয়াজ
তাদের মতে নারী- পুরুষ সবার জন্য সন্ন্যাসের জীবন যাপন করা জায়েয ও ভালো কাজ। তবে, সন্ন্যাসীর জীবন যাপন করা কারো জন্য কঠিন হয়ে পড়লে এবং যিনার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিলে, তখন বিয়ে করে নেয়া জায়েয আছে। খৃস্টান ধর্মের মৌলিক নীতিমালা অনুযায়ী ভিন্ন ধর্ম ও দলের কারো সাথে বিয়ে করা বৈধ আছে। তবে, ধর্ম ও দলের একতা হিসেবে একজন খৃস্টান শুধু নিজেদের লোকদের সাথেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে।
এ ব্যাপারে অর্থোডক্স খৃস্টানদের নীতিমালা অনেক কঠিন। তারা ভিন্ন ধর্মের কারো সাথে বিবাহকে বাতিল সাব্যস্ত করে। কিন্তু রোমীয় ক্যাথোলিক খৃস্টানরা এ ক্ষেত্রে অর্থোডক্সদের ভীষণ বিরোধিতা করে। তারা তাদের ধর্মের নীতিমালা অনুযায়ী এ ধরণের বিবাহকেও বৈধ বলে থাকে।
বিবাহের পর স্বামী বংশের মূল ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। বংশের খরচ সেই বহন করে। যা তার উপর ওয়াজিব ও আবশ্যক। তবে স্ত্রী বংশের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বামীর সহযোগী হয়ে থাকে।
ফ্রান্সের খৃস্টানরা তাদের নীতিমালা প্রণয়নে এবং বিবাহ আইন বাস্তবায়নে আবেদন জারি করে, নারীরা যেন তাদের সাধ্যের কাজগুলো স্বামীদের কাছে পেশ করে।
তাদের অর্থনৈতিক নীতিমালা অনুযায়ী, স্বামী স্ত্রীর সম্পদ থেকে চার ভাগের এক ভাগ নিয়ে নেয়। চাই সেটা দু'জনের শরীকানা সম্পত্তি হোক কিংবা শুধু স্ত্রীর মালিকানায় থাকুক। খৃস্টানদের নীতি হলো, স্ত্রী কোন জিনিসের একক মালিক হলে তখনো তার জন্য পারিবারিক খরচ উঠানোর ক্ষেত্রে কয়েকটি নীতিমালা প্রযোজ্য হবে :
১. সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বামীর পরিপূর্ণ অধিকার থাকবে, তার অনুমতি ছাড়া স্ত্রী বাচ্চা নিতে পারবে না। ২. স্ত্রী তার স্বামীর নাম নির্বাচন করতে পারবে। নতুন কোন নামও রাখতে পারবে। ৩. স্ত্রীর সম্পদে স্বামীর অধিকার থাকবে। তাই স্ত্রী স্বামীর অনুমতি ছাড়া অসিয়ত করতে পারবে না। ৪. বিবাহের পর স্ত্রী স্বামীর ন্যাশনালিটি গ্রহণ করবে।