📄 Lord's Supper ( বা রবের রাতে খানার আয়োজন ) ' র ব্যাখ্যা
খৃস্টান ধর্ম গ্রহণ করার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল যা হযরত ঈসা আ. এর কুরবানীর স্মরণে করা হয় তা হলো, এ রাতে খানার আয়োজন করা। খৃস্টানদের ভাষ্য মতে এর ইতিহাস হলো, হযরত ঈসা আ. গ্রেফতার হওয়ার এক দিন পূর্বে হাওয়ারীদের সাথে রাতের খানা খেয়েছেন । সে স্মৃতি ধরে রাখতেই এ রাতে খানার আয়োজন করা হয়। এই বৈঠক সম্পর্কে বর্তমান " ইঞ্জীলে মাত্তা "'র মধ্যে বিস্তারিত বিবরণ বিদ্যমান রয়েছে। বর্ণনা করা হয়, হযরত ঈসা আ. খানা খাওয়ার এক পর্যায়ে একটি রুটি ছিঁড়ে তাতে বরকত দেন। এবং তা সাথীদের দিয়ে বলেন, তোমরা খাও; এটি আমার শরীরের অংশ। অতঃপর একটি পাত্র নিয়ে শুকরিয়া আদায় করে সাথীদের দেন এবং বলেন, তোমরা এটা পান কর এটা আমার রক্ত, এটা শুধু উত্তম লোকদের গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়ার জন্যেই প্রবাহিত করা হয়।
লুকা এ ঘটনার বর্ণনায় আরেকটু বাড়িয়েছেন , তা হলো, " এসব করার পর হযরত ঈসা আ. হাওয়ারীদের বললেন, তোমরা আমার স্মরণে এ কাজগুলো করবে "।
মাওলানা তাকি উসমানী দা. বা. প্রসিদ্ধ পাদ্রি জাস্টিন মারটেনের বর্ণনা অনুযায়ী লেখেন, তারা এ রীতিটি বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে একটি সিস্টেম গ্রহণ করে। তা হলো, প্রত্যেক রবিবার গির্জায় একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং শুরুতে কিছু দোয়া পড়া হবে, গজল গাওয়া হবে।
এরপর উপস্থিত একজন অপরজনকে চুমু খেয়ে মোবারক বাদ দিবে। এরপর রুটি ও মদ আনা হবে এবং অনুষ্ঠানের সভাপতি এগুলো সামনে রেখে পিতা, পুত্র ও রুহুল কুদস এর বরকতের জন্য দুআ করবে আর উপস্থিত সকলেই তখন আমীন বলবে।
দুআ শেষ হলে গির্জার সেবকরা সেই রুটি ও মদ বণ্টন করে দিবে। তখন এ রুটি হযরত ঈসা আ. এর শরীরের অংশ বিশেষ হয়ে আর মদ তাঁর রক্তে পরিণত হয়ে ভক্ষকদের শরীরে প্রবেশ করবে । এভাবে খানার আয়োজন করে খৃস্টানরা প্রতিবার তাদের গোনাহের কাফফারা আদায় করার আকীদাকে মজবুত করে চলবে।
এ কথা জানা থাকা দরকার, সময়ের সাথে সাথে এই আয়োজনের সিস্টেমে অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এবং এর শব্দের মাঝেও অনেক পরিবর্তন এসেছে, কিন্তু মৌলিক বিষয়গুলোতে কোন রকমের পরিবর্তন আনা হয়নি। এ রাতের রুটি ও মদ হযরত ঈসা আ. এর গোশত ও রক্তে পরিণত হওয়ার বিশ্বাস এখনো বাকি আছে। তারা মনে করে, যদিও বাহ্যিক দৃষ্টিতে এটা অনুভব করা যায় না, কিন্তু বাস্তবেই এ রুটি ও মদ খেলে হযরত ঈসা আ.'র একটি অংশই যেনো তাদের মাঝে ঢুকে যায়। এ খানার ফলে ভক্ষণকারীর মাঝে অতিশীঘ্রই হযরত ঈসা আ. এর শিক্ষা সহজেই এসে যায়।
এছাড়া আরো অনেক উৎসব তাদের ধর্মে প্রচলিত রয়েছে। যেমন, ঈদুল ফিসহ, শুকরানা, পবিত্র খাবার ও পবিত্র একাত্মতা, ইত্যাদি।
টিকাঃ
* (ইঞ্জীলে মাত্তা, ২৬)
৪ (লুকা, ২২: ১৯)
" (সূত্র: বাইবেল সে কুরআন তক, ভূমিকা, ১/৮৬)
📄 রোযা
তাদের মতে সকাল থেকে সূর্য্য পশ্চিম দিকে ঢলে যাওয়া পর্যন্ত না খেয়ে থাকাকে রোযা বলা হয়। এ সময়ের পর চর্বি ছাড়া খাবার খাওয়া যাবে। তবে, এটা নফল রোযা, আবশ্যক রোজা নয়। রাখা না রাখা দু' টোরই অধিকার রয়েছে।
খ্রীস্টানরা বুধবার রোজা রাখে, তাদের বিশ্বাস, এই দিনেই হযরত ঈসা আ. কে গ্রেফতার করা হয়েছিল। শুক্রবারও তাদের রোজার দিন; তাদের ধারণা অনুযায়ী, ঈসা আ. কে এ দিন শূলিতে চড়ানো হয়েছিল।
এমনিভাবে তারা হযরত ঈসা আ. এর জন্মের দিনকে সামনে রেখেও রোজা রাখে। তাদের ধর্ম মতে, জন্মদিনের পূর্বের ধারাবাহিক ৪২ দিন রোজা রাখার হুকুম রয়েছে, যে ধারাবাহিকতা হযরত ঈসা আ. এর জন্মের তারিখে এসে শেষ হয়। এছাড়া "পবিত্র রোজা" বলে ৫৫ দিনের রোজাও তাদের ধর্মে পালন হয়ে থাকে। জন্মকেন্দ্রিক রোজাগুলো "চল্লিশা" বা চল্লিশ দিনের রোজা হিসেবে প্রসিদ্ধ। তাদের ধারণা, হযরত ঈসা আ. নাকি এই চল্লিশ দিন রোজা রাখতেন। এই দিনগুলোতে প্রাণী ও তা থেকে সৃষ্ট কিংবা তৈরিকৃত জিনিসপত্র থেকে বিরত থাকতে হয়।
"সওমে রুসুল " (বা দূতগণের রোজা) বলেও তাদের ধর্মে এক প্রকার রোজার কথা পাওয়া যায়। এ রোজা ১৫ থেকে ৪৯ টি হয়ে থাকে। এ সংখ্যার মাঝে কম বেশিরও অনুমতি রয়েছে।
খৃস্টান ধর্মে আরেক প্রকার রোজা রয়েছে যা " আযরা " নামে প্রসিদ্ধ। এ রোজা ১৫ দিনের হয়ে থাকে। এমনিভাবে " আহলে নিনাওয়া " নামেও এক প্রকার রোযা রয়েছে, এর সূচনা সোমবার থেকে শুরু হয়ে বুধবার শেষ হয়।
📄 উপাসনার বিভিন্ন রীতি
খৃস্টানদের উপাসনার বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। যেমন :
সাত নামাজ বা ইশ্বরের উপাসনা : তারা রাত দিন সাতবার নামাজ পড়ে,
১. সকালের নামাজ ২. তিনটার নামাজ ৩. ছয়টার নামাজ ৪. নয়টার নামাজ ৫. এগারোটার নামাজ ৬. বারোটার নামাজ ৭. অর্ধেক রাতের নামাজ
তবে, তাদের নামাজ বলতে, দোয়াকেই বুঝায়। শুধু দোয়াই হচ্ছে তাদের নামাজ। তাদের মধ্যে কেউ এভাবে দোয়া করে : হে আমাদের পিতা! - যিনি আকাশে রয়েছেন তাঁর নাম পবিত্র হোক - আপনার ফেরেশতা অবতীর্ণ হোক, আমার ইচ্ছা তেমনি হোক যেমন আকাশে আপনার ইচ্ছা, পৃথিবীতে আপনি আমাদের রুটি- রোজগারের জন্য যথেষ্ট, আপনি প্রতিদিন আমাদের রুজির ব্যবস্থা করে দিন, আমাদের গোনাহসমূহ মাফ করে দিন, কেননা যারা আমাদের সাথে অন্যায় আচরণ করে তাদেরকে আমরাও মাফ করে দেই, আমাদেরকে পরীক্ষায় ফেলবেন না, আমাদেরকে সব রকমের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন!
📄 হামদখানী বা প্রশংসাপাঠ
এটা হলো খৃস্টানদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাসনা পদ্ধতি। এর জন্য তারা প্রতিদিন সকাল- বিকেল গির্জায় সমবেত হয়। এর নিয়ম হলো, একজন তাওরাত তেলাওয়াত করে, বাকি সবাই দাঁড়িয়ে তা শ্রবণ করে এবং দোয়া করে। তাদের ধর্মে কেঁদে কেঁদে দোয়া করাকেও পছন্দনীয় আমলসমূহের মধ্যে গণ্য করা হয়।
খৃস্টানদের বিভিন্ন গ্রুপ বিভিন্নভাবে উপাসনা করে। তবে, রবিবারে গির্জায় সমবেত হওয়া, বাইবেল তেলাওয়াত করা, মেহমানদারি করা, খুৎবা প্রদান করা, তাছাড়া বর্তমানে বিভিন্ন গির্জায় সঙ্গীতেরও ব্যবস্থা করা হয়, যা বিভিন্ন গীত ও ঈসা আ. এর প্রশংসা সংবলিত থাকে, এগুলো প্রায় সব খৃস্টানরাই পালন করে।