📄 ৩. নবুওয়াত ও রিসালাতের আকীদা
নুবওয়াত ও রিসালাতের উপর বিশ্বাস রাখা এটাও তাদের এক গুরুত্বপূর্ণ আকীদা। তারা বিশ্বাস করে, যার উপর আল্লাহ তাআলার অহী নাযিল হয়, এবং যাকে মানবজাতির হেদায়াতের জন্য পাঠানো হয়, তাকে নবী বলে।
নবুওয়াত সৃষ্টিকর্তা ও তাঁর বান্দাদের মাঝে সুপারিশের এমন নেযামকে বলে যা নবীগনের মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করেছে। যে নেযামের অধীনে মানবজাতির হেদায়াতের জন্য সৃষ্টিকর্তা সময়ে সময়ে নবী, রাসূল প্রেরণ করেছেন । যারা মানবীয় সকল গুণাবলীর দিক থেকে অন্যান্য মানব থেকে ভিন্ন। আকীদায়ে রিসালাতের অধীনে আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ আকীদা হলো, হযরত ঈসা আ. এর রাসূল বা দূতগণের উপর বিশ্বাস পোষণ করা। এখানে রাসূল মানে পারিভাষিক নবী, রাসূল অর্থে নয়; বরং হযরত ঈসা আ.'র সাথীবর্গ উদ্দেশ্য। যাদেরকে হযরত ঈসা আ. বিভিন্ন এলাকায় দাওয়াতের কাজে পাঠিয়েছিলেন। পরিভাষায় তাদেরকে "হাওয়ারী" বলা হয়।
📄 ৪. আখেরাত
মুসলিমদের ন্যায় খৃস্টানদেরও বিশ্বাস, মৃত্যুর পর জীবিত হয়ে আল্লাহ তাআলার দরবারে উপস্থিত হতে হবে। নিজের কৃতকর্মের হিসেব দিতে হবে। ফলশ্রুতিতে কেউ হবে জান্নাতী, কেউ হবে জাহান্নামী। এ জীবনকেই আখেরাতের জীবন বলা হয়। এবং এর উপর ঈমান আনাকেই "ঈমান বিল আখেরাত" বলে।
📄 ৫. পুনজীবন তথা মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হওয়ার আকীদা
এটাকে "আকীদায়ে মাসলূবিয়্যত " বা ঈসা আ. কে শূলিতে চড়ানোর আকীদারই একটি অংশ বললে ভুল হবে না। এর বিস্তারিত বিবরণ এ রকম, হযরত ঈসা আ. কে শূলিতে চড়িয়ে তাঁকে দাফন করা হয়। এর তিন দিন পর তিনি পুনরায় জীবিত হয়ে হাওয়ারীদেরকে কিছু বিষয়ে নসীহত করেন। এরপর আসমানে চলে যান। তবে তিনি পুনরায় একটি বিশেষ সময়ে দুনিয়াতে অবতরণ করবেন।
📄 ৬. পবিত্র শূলী
যেহেতু তাদের বিশ্বাস হলো হযরত ঈসা আ. কে শূলীতে চড়ানো হয়েছে, তাই এ শূলির নিদর্শন তাদের কাছে অনেক মূল্যবান সম্পদ বলে পরিগণিত। খৃস্টানদের কোনো সূত্রে এর বিস্তর কোনো নিদর্শন দ্বিতীয় শতাব্দী পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে, পূর্ববর্তী ইতিহাস ও গবেষণা অনুযায়ী ইন্ডিয়া, ব্রিটেন, মিসর, চায়না ও মধ্য আমেরিকা সহ কোনো কোনো জায়গায় হজরত মাসীহ আ. সংক্রান্ত খুবই সামান্য ও পরিবর্তিত কিছু নিদর্শন পাওয়া যায়।