📄 পাপমোচন
পোপের কোনো গির্জা বানানো কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠান তৈরির প্রয়োজন হলে টাকা- পয়সার জন্যে তিনি ক্ষমার চেক লিখেন। এবং তার অনুসারীদেরকে এগুলো বিক্রি করে টাকা আনতে বলেন। তখন তারা এ চেকগুলোকে কম্পানির শেয়ার বিক্রির মত শেয়ার বাজারে বিক্রি করে। চেকের মাঝে নাম লেখার যায়গা খালি থাকে, যেখানে গুনাহ ক্ষমাপ্রার্থীর নাম লেখা হয়। এরচে' মজার বিষয় হলো, তাদের ধারণা, এই চেক কিনলে আগের এবং পরের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। যেনো চেকের বিনিময়ে বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এ যেনো তাদের জান্নাতের গ্যারান্টিময় টিকেট।
খৃস্টধর্মের পণ্ডিত ও প্রচারকগণ সব সময় গির্জায় থাকেন । এবং তাদের জীবন গির্জার জন্যই ওয়াকফ করে দেন। গির্জার দেখাশোনা ছাড়া তাদের অন্য কোন দায়িতই দেয়া হয় না। খৃস্টানদের পোপকে ধর্মগুরু বা যাজক বলা হয়। আর সবচে' বড় পোপকে বিশপ বা মেট্রোপলিটন, এবং আরবিতে আসকাফ বা মাতরান বলা হয়। এরপর সর্বোচ্চ পর্যায় হলো বেতরিকের। " বেতরিক " মূলত বিভিন্ন শহরের পোপদের হেড হয়ে থাকেন৷ এবং তাকে " কার্ডিনাল " ও বলা হয়। ১১ শতাব্দীর পূর্বে রোমের গির্জাসম্মূহের পোপদের " বাবা " উপাধি দেয়া হত । এখন তাদের ক্ষমতা আরো বেড়েছে। এখন পৃথিবীর সকল গির্জার প্রধান তারাই হয়ে থাকে। নিজেদেরকে তারা খৃস্টানদের প্রধান নেতা ও বাদশাহ বলে মনে করে । বরং তাদের মর্যাদা ও ক্ষমতা রাজা, বাদশাহদের চেয়েও বেশি। বাবাদের একক ক্ষমতা হয়ে থাকে। কারণ, তারাই নিয়ম- কানুন প্রণেতা। আবার তা বাস্তবায়ন করার ক্ষমতাও তাদের হাতেই। পবিত্র গ্রন্থ ইঞ্জীলের ব্যাখ্যা এরাই করে। খৃস্টানরা বাবাদেরকে রহমতের খাজানা ও আসমানের দরজাসম্মূহের মালিক মনে করে। বাবারা এক সময় গির্জায় টেক্স দেয়া আবশ্যক করে দেয়। এজন্য গির্জাগুলোতে কোন রকমের অভাব ছিল না। ধন, সম্পদে গির্জাগুলো ভরপূর ছিল। সম্পদের আধিক্যের ফলশ্রুতিতে বিশ্বব্যাপী গির্জাগুলোতে এক সময় চরম বিভেদ দেখা দেয়। যার ফলস্বরূপ গির্জাকে কেন্দ্র করে খৃস্টানরা দুইটি দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে :
১. প্রোটেস্টেন্ট ২. ক্যাথোলিক