📘 খৃষ্টধর্ম, সংক্ষিপ্ত পরিচিতি 📄 খৃস্টধর্ম প্রচার

📄 খৃস্টধর্ম প্রচার


বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী, ইহুদীদেরকে সত্যের পথে আহ্বান করতে হযরত ঈসা আ. তাঁর হাওয়ারীদের বিভিন্ন পাহাড়ের চূড়ায় পাঠাতেন। অনেক ইতিহাসবিদগণ এটাও বলেছেন, তিনি ভারতের কাশ্মীর ও তিব্বত এলাকাতেও এসেছিলেন। কিন্তু এ ব্যাপারে পবিত্র গ্রন্থসমূহে কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না। হযরত ঈসা আ.'র পরে তাঁর সাথীগণ এ দাওয়াতের কাজ অব্যাহত রাখেন। এবং বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মানুষকে আল্লাহ তাআলার দ্বীনের পথে ডাকতে থাকেন।

📘 খৃষ্টধর্ম, সংক্ষিপ্ত পরিচিতি 📄 হযরত ঈসা আ. এর পরবর্তী সময়

📄 হযরত ঈসা আ. এর পরবর্তী সময়


হযরত ঈসা আ.' র পর তাঁর অনুসারীদের মাঝে বিভিন্ন বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গির মতবিরোধ তৈরি হয় । খৃস্টানধর্মালম্বীরা তা মানতে গিয়ে দু' ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে :

১- তাদের মধ্যে একদল বলতে থাকে, হযরত ঈসা আ.'র শিক্ষা- দীক্ষার মাঝে কোন রকমের পরিবর্তন আনা যাবে না। বরং সেগুলোকে আপন অবস্থায়ই রাখতে হবে। কোন প্রকার ব্যাখ্যা – বিকৃতি করা যাবে না ।

২- আরেক দল বলে, হযরত ঈসা আ.'র ধর্মের প্রচার- প্রসারের জন্য তাঁর শিক্ষা- দীক্ষার মাঝে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করা এবং তাতে কোন ব্যাখ্যা বৃদ্ধিও করা যাবে ।

প্রথম দলের মূল প্রবক্তা ছিলেন ইউসুফ বার্নাবাস। আর দ্বিতীয় গ্রুপের মূল ছিলেন সাউল পল। এ কারণেই মূলত তাদের মাঝে মতপার্থক্য তৈরি হয়। ইউসুফ বার্নাবাসের জীবনী থেকে বুঝা যায়, তিনি সাউল পল থেকে পৃথক হবার পরও একনিষ্ঠতার সহিত ঈসা আ.'র দ্বীন প্রচারের কাজ চালিয়ে গিয়েছেন। ইতিহাস ঘাটলে তাঁর অনেক অনুসারীও পাওয়া যাবে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, খৃস্টানদের প্রথম দিকের ইতিহাসে পল ও বার্নাবাস উভয়ের অনুসারীদের বর্ণনা পাওয়া যায়। কিন্তু যখন থেকে পলের অনুসারীদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর হয় তখন থেকে ইতিহাসের পাতায় বার্নাবাসের অনুসারীদের কথা খুঁজে পাওয়া যায় না। যেনো তাঁরা মৃত্যুর পর শত শত বছর ইতিহাসের পাতায় জেগে থেকেও হঠাৎ-ই উদাও হয়ে গিয়েছেন!

📘 খৃষ্টধর্ম, সংক্ষিপ্ত পরিচিতি 📄 খৃস্টানদের উপর জুলুম- নির্যাতন

📄 খৃস্টানদের উপর জুলুম- নির্যাতন


চতুর্থ শতাব্দীর শুরু অবধি ঈসায়ী সম্প্রদায়কে বিভিন্ন কঠিন অবস্থার মোকাবেলা করতে হয়েছে। এর বড় কারণ হলো, তাদের উপর রোমদের কর্তৃত্ব ছিল। রোমানরা তাদের সম্পূর্ণ বিরোধিতা করত, যেমন ইহুদীরা তাদের বিরুদ্ধাচরণ করত। ওই সময় খৃস্টান ধর্ম নিয়মতান্ত্রিকভাবে গোছালো ছিল না। খৃস্টানদের সংখ্যাও খুব অল্পই ছিল। তা সত্ত্বেও অত্যন্ত কষ্ট-সাধনার মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকাতে তারা নিজেদের আস্তানা গড়ে তোলে। এভাবে সময়ের সাথে সাথে খৃধর্ম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। কখনো তাদের উপর রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জুলুম-নির্যাতন চালানো হত। ইসরাঈলী তথা ইহুদীরা তাদেরকে নির্যাতন করত। আবার কখনো তাদেরকে আপন গতিতে ছেড়ে দেয়া হত। নির্যাতনের কারণে দুর্বল ঈমানের লোকেরা খৃস্টান ধর্ম পরিত্যাগ করত। আবার যখন অবস্থা ভালো হত তখন আপন ধর্মে ফিরে আসত। তাদেরকে কবুল করা হবে কিনা, তাদের তাওবা গ্রহণীয় হবে কিনা? এটাই তখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় বিষয় হয়ে দাঁড়াত।

📘 খৃষ্টধর্ম, সংক্ষিপ্ত পরিচিতি 📄 নতুন যুগে খৃস্টান ধর্মের প্রচার- প্রসার

📄 নতুন যুগে খৃস্টান ধর্মের প্রচার- প্রসার


এ যুগে খৃস্টান ধর্মের ব্যাপক প্রচার- প্রসারের কারণ হলো "কলোনেলিজম " বা খৃস্টানদের উপনিবেশবাদের উত্থান। অর্থাৎ নতুন জীবন- ব্যবস্থা ও নিয়ম- নীতি। এর অর্থ হচ্ছে, কোন এলাকার লোকজন এক এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় গিয়ে বসবাস শুরু করা এবং সেখানে নিজেদের কব্জা প্রতিষ্ঠা করা। সাধারণত কোথাও নতুন আবাদি শুরু করা হলে সেখানকার লোকদেরকে নিজেদের কন্ট্রোলে এনে তাদের উপর শাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং নিজেদের হুকুম চাপিয়ে দেয়াকে বুঝায়। ইতিহাসে এর অনেক দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু প্ল্যান করে কোন এক জাতির উপর অন্য জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠা করার সূচনা করে চৌদ্দশত শতাব্দীতে রোমের বাদশাহরা। এ নীতি ফলো করেই ইউরোপে বসবাসরত খৃস্টানরা নিজেদের আবাদি বাড়িয়ে ধীরে ধীরে আফ্রিকা, আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বাসস্থান বানিয়ে নিয়েছে।

এই নিয়ম তাদের শুধু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উপকারই করেনি; বরং তাদের ধর্মের ব্যাপক প্রচার- প্রসারও করেছে। নতুন নতুন বস্তি গঠন করে গোত্রের পণ্ডিতরা দখলকৃত এলাকায় ব্যাপকভাবে নিজেদের ধর্মের প্রচার- প্রসার করে বেড়াত। ইন্ডিয়াতে ষোলশো শতাব্দী থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আগমনের মাধ্যমে খৃস্টধর্মের প্রচার- প্রসার শুরু হয়। এরপর উপমহাদেশের ক্ষমতা দখল করে তারা পাদ্রিদেরকে বিভিন্ন সরকারী পর্যায়ের প্রধান নিযুক্ত করত। এবং তাদের মাধ্যমে নিজেদের ধর্ম প্রচার করত।

ফন্ট সাইজ
15px
17px