📄 খৃস্টান ও অন্যান্য ধর্ম
জেরুজালেমের অধিকাংশ মানুষ ইহুদী ছিল। তারা পরবর্তীতে খৃস্টধর্মে দীক্ষিত হয়। আনতাকিয়াতে কিছু লোক মূর্তিপূজারি ছিল আর কিছু ছিল অগ্নিপূজারি। যারা মূর্তিপূজারি ছিল বাইবেলে তাদেরকে খৃস্টান ধর্মের লোক বলা হয়েছে৷ আর অগ্নিপূজারিদেরকে অন্যজাতি বলা হয়েছে । ইহুদী মাসীহীরা খৎনা করা এবং ইহুদী ধর্মের সমস্ত রীতিনীতি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরী মনে করত। এজন্য তাদেরকে 'মাখতুন' বলা হত। তবে, অগ্নিপূজারিরা খত্না করাকে আবশ্যক মনে করত না। তাই তাদেরকে " গাইরে মাখতুন " বলা হত।
বাইবেলের এসব বর্ণনা দ্বারা বুঝা যায়, তাদের মাঝে দৃষ্টিভঙ্গির বিরোধ ছিল। খৃস্টানদের বিবরণ অনুযায়ী বারনাবাস শৌলপল থেকে পৃথক হয়ে যাবার পর তাঁর এলাকা ক্যাপরাসে চলে যান এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু ও দাফনের কাজ সম্পাদন করা হয়।
৪৭৮ ঈসায়ীতে বারনাবাসের কবর থেকে তাঁর লিখিত ইঞ্জীলের খোঁজ পাওয়া যায়। এরপর ৪৯৬ ঈ. পর্যন্ত বিভিন্ন গির্জায় এ কিতাব পড়া হত । কিন্তু এরপর কিছু কিছু খৃস্টান পণ্ডিত বারনাবাসের ইঞ্জীল পড়তে নিষেধ করে। তখন সেটি পোপ স্যাকসটোসের (১৫৯০- ১৫২১) লাইব্রেরীতে রেখে দেওয়া হয়। এভাবে এক হাজার বছর তা লাইব্রেরীর শোভা হিসেবেই সাজিয়ে রাখা হয়। এরপর পাদ্রি ফ্রামারিনো ১৫৮৫- সনে এটি সংগ্রহ করেন। তখন থেকেই এটি ব্যাপকভাবে মানুষের হাতে হাতে চলে আসে৷
📄 খৃস্টধর্ম প্রচার
বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী, ইহুদীদেরকে সত্যের পথে আহ্বান করতে হযরত ঈসা আ. তাঁর হাওয়ারীদের বিভিন্ন পাহাড়ের চূড়ায় পাঠাতেন। অনেক ইতিহাসবিদগণ এটাও বলেছেন, তিনি ভারতের কাশ্মীর ও তিব্বত এলাকাতেও এসেছিলেন। কিন্তু এ ব্যাপারে পবিত্র গ্রন্থসমূহে কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না। হযরত ঈসা আ.'র পরে তাঁর সাথীগণ এ দাওয়াতের কাজ অব্যাহত রাখেন। এবং বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মানুষকে আল্লাহ তাআলার দ্বীনের পথে ডাকতে থাকেন।
📄 হযরত ঈসা আ. এর পরবর্তী সময়
হযরত ঈসা আ.' র পর তাঁর অনুসারীদের মাঝে বিভিন্ন বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গির মতবিরোধ তৈরি হয় । খৃস্টানধর্মালম্বীরা তা মানতে গিয়ে দু' ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে :
১- তাদের মধ্যে একদল বলতে থাকে, হযরত ঈসা আ.'র শিক্ষা- দীক্ষার মাঝে কোন রকমের পরিবর্তন আনা যাবে না। বরং সেগুলোকে আপন অবস্থায়ই রাখতে হবে। কোন প্রকার ব্যাখ্যা – বিকৃতি করা যাবে না ।
২- আরেক দল বলে, হযরত ঈসা আ.'র ধর্মের প্রচার- প্রসারের জন্য তাঁর শিক্ষা- দীক্ষার মাঝে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করা এবং তাতে কোন ব্যাখ্যা বৃদ্ধিও করা যাবে ।
প্রথম দলের মূল প্রবক্তা ছিলেন ইউসুফ বার্নাবাস। আর দ্বিতীয় গ্রুপের মূল ছিলেন সাউল পল। এ কারণেই মূলত তাদের মাঝে মতপার্থক্য তৈরি হয়। ইউসুফ বার্নাবাসের জীবনী থেকে বুঝা যায়, তিনি সাউল পল থেকে পৃথক হবার পরও একনিষ্ঠতার সহিত ঈসা আ.'র দ্বীন প্রচারের কাজ চালিয়ে গিয়েছেন। ইতিহাস ঘাটলে তাঁর অনেক অনুসারীও পাওয়া যাবে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, খৃস্টানদের প্রথম দিকের ইতিহাসে পল ও বার্নাবাস উভয়ের অনুসারীদের বর্ণনা পাওয়া যায়। কিন্তু যখন থেকে পলের অনুসারীদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর হয় তখন থেকে ইতিহাসের পাতায় বার্নাবাসের অনুসারীদের কথা খুঁজে পাওয়া যায় না। যেনো তাঁরা মৃত্যুর পর শত শত বছর ইতিহাসের পাতায় জেগে থেকেও হঠাৎ-ই উদাও হয়ে গিয়েছেন!
📄 খৃস্টানদের উপর জুলুম- নির্যাতন
চতুর্থ শতাব্দীর শুরু অবধি ঈসায়ী সম্প্রদায়কে বিভিন্ন কঠিন অবস্থার মোকাবেলা করতে হয়েছে। এর বড় কারণ হলো, তাদের উপর রোমদের কর্তৃত্ব ছিল। রোমানরা তাদের সম্পূর্ণ বিরোধিতা করত, যেমন ইহুদীরা তাদের বিরুদ্ধাচরণ করত। ওই সময় খৃস্টান ধর্ম নিয়মতান্ত্রিকভাবে গোছালো ছিল না। খৃস্টানদের সংখ্যাও খুব অল্পই ছিল। তা সত্ত্বেও অত্যন্ত কষ্ট-সাধনার মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকাতে তারা নিজেদের আস্তানা গড়ে তোলে। এভাবে সময়ের সাথে সাথে খৃধর্ম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। কখনো তাদের উপর রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জুলুম-নির্যাতন চালানো হত। ইসরাঈলী তথা ইহুদীরা তাদেরকে নির্যাতন করত। আবার কখনো তাদেরকে আপন গতিতে ছেড়ে দেয়া হত। নির্যাতনের কারণে দুর্বল ঈমানের লোকেরা খৃস্টান ধর্ম পরিত্যাগ করত। আবার যখন অবস্থা ভালো হত তখন আপন ধর্মে ফিরে আসত। তাদেরকে কবুল করা হবে কিনা, তাদের তাওবা গ্রহণীয় হবে কিনা? এটাই তখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় বিষয় হয়ে দাঁড়াত।