📄 শূলীতে চড়ানোর বিশ্বাস
একবার হযরত ঈসা আ. তাঁর সাথীদের সাথে জেরুজালেম আগমন করেন। তখন ওখানকার ইহুদীরা তাঁকে গ্রেফতার করে নেয়। তাঁকে গণকদের সরদারের সামনে মোনাযারার জন্য উপস্থিত করে। ওখানে অবস্থানরত ইহুদী পণ্ডিতরা তাঁর কথাগুলোকে কুফুর বলে সাব্যস্ত করে এবং তাঁকে ওয়াজিবুল কাতল অর্থাৎ তাঁর মৃত্যুদণ্ড অপরিহার্য বলে সাব্যস্ত করে। খৃস্টানদের ধারণা, ওই সময় ইহুদীদের নিয়ম অনুযায়ী ইহুদীরা তাঁকে ক্রুশের উপর ঝুলিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।
📄 দ্বিতীয়বার জন্ম লাভ করার আকীদা
খৃস্টানদের বিশ্বাস, হযরত ঈসা আ. কে শূলিতে চড়ানোর তিন দিন পর তাঁকে আসমানে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। খৃস্টানরা মনে করে, হযরত ঈসা আ. এ ত্যাগ দিয়েছেন তাঁর উম্মত ও পূর্ববর্তী সকল মানুষকে তাদের সকল গোনাহ থেকে পবিত্র করানোর জন্যে। যে গোনাহসমূহের শুরুটা হযরত আদম ও তাঁর বিবি হাওয়া থেকে সংঘটিত হয়েছে। এবং প্রত্যেক মানুষ যে গোনাহের বোঝা নিয়ে জন্ম লাভ করে। আর এজন্যই হযরত ঈসা আ. কে মুক্তিদাতা বলেও সম্বোধন করা হয়।
📄 ইসলামী দৃষ্টিকোণ
উপরোল্লেখিত বিষয়ে মুসলমানদের বিশ্বাস হলো আল্লাহ তাআলা হযরত আদম আ.'র তাওবা কবুল করেছেন। ফলে হযরত আদম আ. সে অপরাধ থেকে চির মুক্তি লাভ করেছেন। হযরত ঈসা আ. ' র ব্যাপারে ইসলামের আকীদা হলো, শূলিতে চড়ানোর আগেই আল্লাহ তাআলা তাঁকে আসমানে উঠিয়ে নিয়েছিলেন। এবং ঈসা আ.' র পরিবর্তে যে ব্যক্তি তাঁর খোঁজ ইহুদীদের দিয়েছিল তাকে হত্যা করা হয় । ঘটনা হলো, ইহুদীরা হযরত ঈসাকে হত্যার পরিকল্পনা করলে আল্লাহ তাআলার কুদরতে এ লোকটাকে ইহুদীরা হযরত ঈসা মনে করে বসে। এবং তাকেই শূলিতে চড়িয়ে দেয়। কারণ, তার আকৃতি ছিল হযরত ঈসার মত দেখতে।
আর পূর্ববর্তীদের গোনাহের প্রায়শ্চিত্ত হওয়ার বিষয়ে এটা সুস্পষ্ট ও চিরসত্য যে, আল্লাহ তাআলা হযরত আদম আ. ও তাঁর বিবি হাওয়া আ. থেকে সংঘটিত অপরাধ ক্ষমা করে তাওবা কবুল করে নিয়েছেন। তো তাওবা কবুল হওয়ার পরও প্রত্যেক মানুষকে এ গোনাহের বোঝা নিয়ে জন্ম লাভের বিষয়টি খুবই মূর্খতাসূলভ কথা৷
📄 খৃস্টানদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ
ঈসায়ী ধর্মের প্রথম যুগে যে সমস্ত লোকদেরকে খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব মনে করা হত তারা হলেন,
১. পাতরাস: হযরত ঈসা আ.'র ছাত্রদের মধ্যে পাতরাস অন্যতম। তিনি ছিলেন একজন ফিলিস্তিনী ইহুদী। তাঁর আসল নাম ছিল শামউন। কিন্তু হযরত ঈসা আ. তাঁকে ভালোবেসে সীপাস বলে ডাকতেন। সীপাসের অর্থ অভিধানে পাওয়া যায়, মজবুত ও শক্ত পাথর । তাঁর সম্পর্কে খৃস্টানদের ধারণা, তিনি একজন অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ব্যক্তিত্ব ছিলেন । তাঁর কারণেই অনেক লোক খৃস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। খৃস্টানদের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ইঞ্জীল শরীফের একটি নোসখা যা " ইঞ্জীলে মারকাস " নামে পরিচিত, এর প্রণেতা মার্কাস তাঁরই শিষ্য ছিলেন। সে মূলত পাতরাস থেকেই ইঞ্জীলের বর্ণনা শুনে ঐতিহাসিক " ইঞ্জীলে মারকাস " রচনা করেছেন বলে ধারণা করা হয়।
২. শৌল পল। তিনি মূলত তারতুস এলাকার একজন ইহুদী ছিলেন। তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্মের পবিত্র গ্রন্থগুলো গভীরভাবে পড়েন। হযরত ঈসা আ. এর যুগে জীবিত ছিলেন। কিন্তু তাঁর সাথে সাক্ষাৎ লাভের সুযোগ হয়নি। শুরুতে তিনি হযরত ঈসা আ. এর বিরোধিতা করতেন এবং অনেক খৃস্টানদের তিনি হত্যাও করেছেন। পরবর্তিতে তিনি ঈসা আ.'র ধর্ম কবুল করে ঈসায়ী হয়ে যান। এবং খৃস্টান ধর্মের বড় দাঈ হয়ে যান। তিনি ঈসায়ী শিক্ষা- দীক্ষার মাধ্যমে পুরা ইউরোপকে আলোকিত করেছিলেন।
৩. ইউসুফ বারনাবাস। তিনি হযরত ঈসা আ.'র বিশেষ অনুসারীদের একজন। 'ইঞ্জীলে লুকা''র বর্ণনা অনুযায়ী তাঁর আসল নাম ছিল ইউসুফ। বরনাবাস তাঁর উপাধি। এ উপাধি তাঁকে হাওয়ারী সাথীরা দিয়েছিল তাঁর বুদ্ধিমত্তা ও একনিষ্ঠতার কারণে।¹
বারনাবাস 'র অর্থ, উপদেশের ছেলে। তিনি খৃস্টান ধর্ম গ্রহণ করলে হযরত ঈসা আ. তাঁর ব্যাপারে সবাইকে জানান। ইউসুফ শৌল পলের সাথে বিভিন্ন দ্বীনী সফরে বের হতেন। ইঞ্জীলের একটি নুসখা তাঁর দিকেও নিসবত করা হয়। যেটাকে " ইঞ্জীলে বারনাবাস " বলা হয়।
তবে বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী, ইউসুফ ও পলের মধ্যকার কিছু মতবিরোধ তৈরি হয়। ফলে ইউসুফ পৃথক হয়ে যান। এ মতপার্থক্য সম্পর্কে বাইবেলের বর্ণনা হলো, বারনাবাস ইউহান্নাকে সফরসঙ্গী বানাতে চাইলেন আর পল সীলাসকে। মতপার্থক্যের এ কাহিনীর বিস্তারিত বিবরণ বাইবেলের " কিতাবুল আমাল "'র ৫১ - ৫৩, ১৪ নং আয়াতে পাওয়া যায়।
টিকাঃ
১ (লুকা, আমাল, ৪: ৬৩: ৭৩)