📘 খৃষ্টধর্ম, সংক্ষিপ্ত পরিচিতি 📄 হযরত ঈসা আ. এর উপর অপবাদ আরোপ

📄 হযরত ঈসা আ. এর উপর অপবাদ আরোপ


ইঞ্জীলের ভাষ্য অনুযায়ী হযরত ঈসা আ.'র উপর দুটি মারাত্মক অপবাদ আরোপ করা হয়েছে,
১. তিনি জেরুজালেম ধ্বংসের জন্য বদদুআ করেছেন।
২. তিনি হযরত দাউদ আ.' র সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রতিশ্রুত মাসীহ বলে নিজেকে দাবি করেছেন।
(স্পষ্টত, এগুলো অবাস্তব এবং ডাহা মিথ্যা অপবাদ। কারণ, আল্লাহর প্রেরিত সকল নবী, রাসূলগণই নিষ্পাপ ও ত্রুটিমুক্ত ; তারা কখনোই কোন অন্যায় কথাবার্তা বলতে পারেন না।)

📘 খৃষ্টধর্ম, সংক্ষিপ্ত পরিচিতি 📄 শূলীতে চড়ানোর বিশ্বাস

📄 শূলীতে চড়ানোর বিশ্বাস


একবার হযরত ঈসা আ. তাঁর সাথীদের সাথে জেরুজালেম আগমন করেন। তখন ওখানকার ইহুদীরা তাঁকে গ্রেফতার করে নেয়। তাঁকে গণকদের সরদারের সামনে মোনাযারার জন্য উপস্থিত করে। ওখানে অবস্থানরত ইহুদী পণ্ডিতরা তাঁর কথাগুলোকে কুফুর বলে সাব্যস্ত করে এবং তাঁকে ওয়াজিবুল কাতল অর্থাৎ তাঁর মৃত্যুদণ্ড অপরিহার্য বলে সাব্যস্ত করে। খৃস্টানদের ধারণা, ওই সময় ইহুদীদের নিয়ম অনুযায়ী ইহুদীরা তাঁকে ক্রুশের উপর ঝুলিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।

📘 খৃষ্টধর্ম, সংক্ষিপ্ত পরিচিতি 📄 দ্বিতীয়বার জন্ম লাভ করার আকীদা

📄 দ্বিতীয়বার জন্ম লাভ করার আকীদা


খৃস্টানদের বিশ্বাস, হযরত ঈসা আ. কে শূলিতে চড়ানোর তিন দিন পর তাঁকে আসমানে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। খৃস্টানরা মনে করে, হযরত ঈসা আ. এ ত্যাগ দিয়েছেন তাঁর উম্মত ও পূর্ববর্তী সকল মানুষকে তাদের সকল গোনাহ থেকে পবিত্র করানোর জন্যে। যে গোনাহসমূহের শুরুটা হযরত আদম ও তাঁর বিবি হাওয়া থেকে সংঘটিত হয়েছে। এবং প্রত্যেক মানুষ যে গোনাহের বোঝা নিয়ে জন্ম লাভ করে। আর এজন্যই হযরত ঈসা আ. কে মুক্তিদাতা বলেও সম্বোধন করা হয়।

📘 খৃষ্টধর্ম, সংক্ষিপ্ত পরিচিতি 📄 ইসলামী দৃষ্টিকোণ

📄 ইসলামী দৃষ্টিকোণ


উপরোল্লেখিত বিষয়ে মুসলমানদের বিশ্বাস হলো আল্লাহ তাআলা হযরত আদম আ.'র তাওবা কবুল করেছেন। ফলে হযরত আদম আ. সে অপরাধ থেকে চির মুক্তি লাভ করেছেন। হযরত ঈসা আ. ' র ব্যাপারে ইসলামের আকীদা হলো, শূলিতে চড়ানোর আগেই আল্লাহ তাআলা তাঁকে আসমানে উঠিয়ে নিয়েছিলেন। এবং ঈসা আ.' র পরিবর্তে যে ব্যক্তি তাঁর খোঁজ ইহুদীদের দিয়েছিল তাকে হত্যা করা হয় । ঘটনা হলো, ইহুদীরা হযরত ঈসাকে হত্যার পরিকল্পনা করলে আল্লাহ তাআলার কুদরতে এ লোকটাকে ইহুদীরা হযরত ঈসা মনে করে বসে। এবং তাকেই শূলিতে চড়িয়ে দেয়। কারণ, তার আকৃতি ছিল হযরত ঈসার মত দেখতে।

আর পূর্ববর্তীদের গোনাহের প্রায়শ্চিত্ত হওয়ার বিষয়ে এটা সুস্পষ্ট ও চিরসত্য যে, আল্লাহ তাআলা হযরত আদম আ. ও তাঁর বিবি হাওয়া আ. থেকে সংঘটিত অপরাধ ক্ষমা করে তাওবা কবুল করে নিয়েছেন। তো তাওবা কবুল হওয়ার পরও প্রত্যেক মানুষকে এ গোনাহের বোঝা নিয়ে জন্ম লাভের বিষয়টি খুবই মূর্খতাসূলভ কথা৷

ফন্ট সাইজ
15px
17px