📄 শিক্ষাদীক্ষা
ধারাবাহিক দাওয়াতের ফলে বারোজন লোক হযরত ঈসা আ.' র অনুসারী হন। তাঁদেরকে ইতিহাসের পাতায় " হাওয়ারী " বলা হয়। কুরআনে কারীমেও " হাওয়ারী " উল্লেখ হয়েছে। হযরত ঈসা আ. তাঁর শিক্ষায় এ বিষয়টির প্রতি অনেক গুরুত্ব দিয়েছেন, যেন ইহুদীরা তাদের বদঅভ্যাসগুলো ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় ফিরে আসে। তাঁর শিক্ষার মৌলিক বিষয় ছিল, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পরস্পর সম্পৃতি, ভালোবাসা। সূদ, ঘুষ, মদ, ব্যাভিচার, অন্যের উপর জুলুম ও অন্যান্য হারাম কাজসমূহ থেকে তিনি ইহুদীদের বারণ করতেন। তিনি আল্লাহর নিয়ম- কানুন প্রতিষ্ঠিত হবার ভবিষ্যৎবাণী করেন। এতে ইহুদী পণ্ডিতরা ভয় পেয়ে যায়। এবং তারা হযরত ঈসা আ.' র ধর্মের বিরোধিতা শুরু করে।
📄 হযরত ঈসা আ. এর উপর অপবাদ আরোপ
ইঞ্জীলের ভাষ্য অনুযায়ী হযরত ঈসা আ.'র উপর দুটি মারাত্মক অপবাদ আরোপ করা হয়েছে,
১. তিনি জেরুজালেম ধ্বংসের জন্য বদদুআ করেছেন।
২. তিনি হযরত দাউদ আ.' র সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রতিশ্রুত মাসীহ বলে নিজেকে দাবি করেছেন।
(স্পষ্টত, এগুলো অবাস্তব এবং ডাহা মিথ্যা অপবাদ। কারণ, আল্লাহর প্রেরিত সকল নবী, রাসূলগণই নিষ্পাপ ও ত্রুটিমুক্ত ; তারা কখনোই কোন অন্যায় কথাবার্তা বলতে পারেন না।)
📄 শূলীতে চড়ানোর বিশ্বাস
একবার হযরত ঈসা আ. তাঁর সাথীদের সাথে জেরুজালেম আগমন করেন। তখন ওখানকার ইহুদীরা তাঁকে গ্রেফতার করে নেয়। তাঁকে গণকদের সরদারের সামনে মোনাযারার জন্য উপস্থিত করে। ওখানে অবস্থানরত ইহুদী পণ্ডিতরা তাঁর কথাগুলোকে কুফুর বলে সাব্যস্ত করে এবং তাঁকে ওয়াজিবুল কাতল অর্থাৎ তাঁর মৃত্যুদণ্ড অপরিহার্য বলে সাব্যস্ত করে। খৃস্টানদের ধারণা, ওই সময় ইহুদীদের নিয়ম অনুযায়ী ইহুদীরা তাঁকে ক্রুশের উপর ঝুলিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।
📄 দ্বিতীয়বার জন্ম লাভ করার আকীদা
খৃস্টানদের বিশ্বাস, হযরত ঈসা আ. কে শূলিতে চড়ানোর তিন দিন পর তাঁকে আসমানে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। খৃস্টানরা মনে করে, হযরত ঈসা আ. এ ত্যাগ দিয়েছেন তাঁর উম্মত ও পূর্ববর্তী সকল মানুষকে তাদের সকল গোনাহ থেকে পবিত্র করানোর জন্যে। যে গোনাহসমূহের শুরুটা হযরত আদম ও তাঁর বিবি হাওয়া থেকে সংঘটিত হয়েছে। এবং প্রত্যেক মানুষ যে গোনাহের বোঝা নিয়ে জন্ম লাভ করে। আর এজন্যই হযরত ঈসা আ. কে মুক্তিদাতা বলেও সম্বোধন করা হয়।