📄 হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম এর খুতবা
জনসমাবেশে ঈসা আ.'র ভাষণ ছিল এ রকম: "সুসংবাদ তাদের জন্য যারা বাহ্যত গরীব, কেননা আসমানের বাদশাহী তো তাদেরই জন্য।
সুসংবাদ তাদের জন্য যারা চিন্তাগ্রস্ত কেননা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাদের শান্তনা মিলবে।
সুসংবাদ তাদের জন্য যারা সভ্য, ভদ্র কেননা তাদের জন্যই পৃথিবীর রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে।
সুসংবাদ তাদের জন্য যারা দরিদ্র ও ক্ষুধার্ত, কেননা আল্লাহ তাআলা তাদেরকে স্বচ্ছলতা ও পরিতৃপ্তি দান করবেন।
সুসংবাদ তাদের জন্য যারা লোকদের মাঝে ঝগড়া- বিবাদ হলে সমাধান করে দেন, কেননা তাদেরকে তো আল্লাহ তাআলার কুদরতী ছেলে বলা হবে।
হে মুমিনগণ শোনো ! আমার অনুসরণ করার কারণে মানুষ তোমাদের উপর অত্যাচার, নির্যাতন করবে, তোমাদের উপর উপহাস ও ঠাট্টা- বিদ্রুপ করবে, এবং তোমাদের উপর বিভিন্ন মিথ্যা অপবাদ দিবে, এসব দেখে তোমরা নিজেদেরকে সুসংবাদের উপযুক্ত মনে করবে এবং খুশী ও আনন্দিত হবে। কেননা এসব সহ্য করার কারণে তোমাদেরকে জান্নাতে অনেক বড় পুরস্কারে পুরস্কৃত করা হবে। আর এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই, কারণ তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতের সাথেও - যারা নবিগণের অনুসরণ করেছেন - এরূপ আচরণ করা হয়েছে।
📄 শিক্ষাদীক্ষা
ধারাবাহিক দাওয়াতের ফলে বারোজন লোক হযরত ঈসা আ.' র অনুসারী হন। তাঁদেরকে ইতিহাসের পাতায় " হাওয়ারী " বলা হয়। কুরআনে কারীমেও " হাওয়ারী " উল্লেখ হয়েছে। হযরত ঈসা আ. তাঁর শিক্ষায় এ বিষয়টির প্রতি অনেক গুরুত্ব দিয়েছেন, যেন ইহুদীরা তাদের বদঅভ্যাসগুলো ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় ফিরে আসে। তাঁর শিক্ষার মৌলিক বিষয় ছিল, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পরস্পর সম্পৃতি, ভালোবাসা। সূদ, ঘুষ, মদ, ব্যাভিচার, অন্যের উপর জুলুম ও অন্যান্য হারাম কাজসমূহ থেকে তিনি ইহুদীদের বারণ করতেন। তিনি আল্লাহর নিয়ম- কানুন প্রতিষ্ঠিত হবার ভবিষ্যৎবাণী করেন। এতে ইহুদী পণ্ডিতরা ভয় পেয়ে যায়। এবং তারা হযরত ঈসা আ.' র ধর্মের বিরোধিতা শুরু করে।
📄 হযরত ঈসা আ. এর উপর অপবাদ আরোপ
ইঞ্জীলের ভাষ্য অনুযায়ী হযরত ঈসা আ.'র উপর দুটি মারাত্মক অপবাদ আরোপ করা হয়েছে,
১. তিনি জেরুজালেম ধ্বংসের জন্য বদদুআ করেছেন।
২. তিনি হযরত দাউদ আ.' র সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রতিশ্রুত মাসীহ বলে নিজেকে দাবি করেছেন।
(স্পষ্টত, এগুলো অবাস্তব এবং ডাহা মিথ্যা অপবাদ। কারণ, আল্লাহর প্রেরিত সকল নবী, রাসূলগণই নিষ্পাপ ও ত্রুটিমুক্ত ; তারা কখনোই কোন অন্যায় কথাবার্তা বলতে পারেন না।)
📄 শূলীতে চড়ানোর বিশ্বাস
একবার হযরত ঈসা আ. তাঁর সাথীদের সাথে জেরুজালেম আগমন করেন। তখন ওখানকার ইহুদীরা তাঁকে গ্রেফতার করে নেয়। তাঁকে গণকদের সরদারের সামনে মোনাযারার জন্য উপস্থিত করে। ওখানে অবস্থানরত ইহুদী পণ্ডিতরা তাঁর কথাগুলোকে কুফুর বলে সাব্যস্ত করে এবং তাঁকে ওয়াজিবুল কাতল অর্থাৎ তাঁর মৃত্যুদণ্ড অপরিহার্য বলে সাব্যস্ত করে। খৃস্টানদের ধারণা, ওই সময় ইহুদীদের নিয়ম অনুযায়ী ইহুদীরা তাঁকে ক্রুশের উপর ঝুলিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।