📘 খৃষ্টধর্ম, সংক্ষিপ্ত পরিচিতি 📄 শৈশব ও যৌবন কাল

📄 শৈশব ও যৌবন কাল


হযরত ঈসা আ.'র শৈশব ও যৌবন কাল সম্পর্কে ইঞ্জীলে উল্লেখযোগ্য কিছুই বর্ণিত হয়নি। তবে এতটুকু বলা যায় , হযরত ঈসা আ. তাঁর ধর্মীয় দীক্ষা পরিবার থেকেই অর্জন করেন। এছাড়া তিনি তাঁর পারিবারিক বুযুর্গ ব্যক্তিদের সাথে প্রতি শনিবারে (তথা পবিত্র দিন) ধর্মীয় মজলিসসমূহে নিয়মতান্ত্রিকভাবে উপস্থিত থাকতেন । এ ছিল তার শৈশব কালের কিঞ্চিৎ বর্ণনা।

যৌবনকাল
ঈসা আ.'র যৌবনকাল কীভাবে অতিবাহিত হয়েছে, এ ব্যাপারেও ইতিহাস থেকে কোন বিস্তর ও সঠিক কিছু জানা যায় না। ইতিহাস এ সম্পর্কে অনেকটাই নিশ্চুপ। হযরত ঈসা আ. এর যুগকে lost year's of Jesus বলা হয়ে থাকে। তৎকালীন খৃস্টান ইতিহাসবিদ ও বিশ্লেষকগণ এসব বিষয়ে শুধু নিজেদের কল্পনাপ্রসূত কিছু গবেষণা পেশ করেছেন। তবে , তারা বর্তমান খৃস্টান পণ্ডিতদের বিপরীত ধর্মীয় শিক্ষা- দীক্ষা ও আকীদা- বিশ্বাসকে খুবই সাধারণভঙ্গিতে বর্ণনা করতেন।

ঈসা আ. ইহুদী জাতি কর্তৃক বাইতুল মুকাদ্দাসে সংঘটিত বিভিন্ন অপকর্মের কারণে অনেক চিন্তিত ও বিচলিত ছিলেন। তারা সর্বদা ঈসা আ.'র বিরুদ্ধে কুৎসা রটাত। ঈসা আ. পাদ্রিদের উপদেশ দিয়ে বলতেন, তোমরা আল্লাহ তায়ালার বিধান ছেড়ে মানুষের মতাদর্শ প্রতিষ্ঠিত করছ। আল্লাহ তাআলার হুকুম অমান্য করে নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করছ।

📘 খৃষ্টধর্ম, সংক্ষিপ্ত পরিচিতি 📄 ওহীর অবতরণ

📄 ওহীর অবতরণ


৩০ বছর বয়সে হযরত ঈসা আ.'র উপর ওহী অবতরণ শুরু হয়। তখন থেকেই তাঁর নবুওয়াতের যুগ আরম্ভ হয়। আল্লাহ তাআলা তাঁকে কিছু মুজেযা দিয়েছিলেন। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হলো, মুমূর্ষ ব্যক্তিকে সুস্থ করার ক্ষমতা। আর এ জন্যই তাকে মাসীহ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

📘 খৃষ্টধর্ম, সংক্ষিপ্ত পরিচিতি 📄 ধর্মপ্রচার

📄 ধর্মপ্রচার


আল্লাহ তাআলার হুকুম আসার পরেই হযরত ঈসা আ. তাঁর ধর্মের প্রচার শুরু করেন। ঈসা আ.'র ধর্ম প্রকৃতপক্ষে কোন নতুন ধর্ম ছিল না; বরং যেনো হযরত মূসা আ.'র ধর্মের একটি সহজ রূপ ছিল। যা ইহুদী পণ্ডিতরা বিকৃত ও পরিবর্তন করে ফেলেছিল। হযরত ঈসা আ. তাদের এসব অন্যায় কাজে বাধা দেন। ফলে তাঁকে ইহুদী পণ্ডিতদের বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হয়। বাধ্য হয়ে তিনি " গ্যালিলি " ঝিলের পাশে অবস্থিত " ক্যাপারনাউম " এলাকায় হিজরত করেন। এলাকার অধিকাংশ মানুষ তাঁকে " প্রতিশ্রুত মাসীহা " মেনে নিয়ে তাঁর উপর ঈমান আনে। সেখানে তিনি একটি বড় সমাবেশে ভাষণ রাখেন এবং মানুষের সামনে তাঁর শিক্ষা- দীক্ষা উপস্থাপন করেন। পরবর্তীতে এ ভাষণ " পাহাড়ি ভাষণ " নামে প্রসিদ্ধ হয়ে যায়। তাদের কাছে এ ভাষণটি অনেক মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। যেমন মুসলিম উম্মাহর কাছে বিদায় হজ্বে নবীজির ভাষণ অত্যন্ত মূল্যবান।

📘 খৃষ্টধর্ম, সংক্ষিপ্ত পরিচিতি 📄 হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম এর খুতবা

📄 হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম এর খুতবা


জনসমাবেশে ঈসা আ.'র ভাষণ ছিল এ রকম: "সুসংবাদ তাদের জন্য যারা বাহ্যত গরীব, কেননা আসমানের বাদশাহী তো তাদেরই জন্য।

সুসংবাদ তাদের জন্য যারা চিন্তাগ্রস্ত কেননা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাদের শান্তনা মিলবে।

সুসংবাদ তাদের জন্য যারা সভ্য, ভদ্র কেননা তাদের জন্যই পৃথিবীর রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে।

সুসংবাদ তাদের জন্য যারা দরিদ্র ও ক্ষুধার্ত, কেননা আল্লাহ তাআলা তাদেরকে স্বচ্ছলতা ও পরিতৃপ্তি দান করবেন।

সুসংবাদ তাদের জন্য যারা লোকদের মাঝে ঝগড়া- বিবাদ হলে সমাধান করে দেন, কেননা তাদেরকে তো আল্লাহ তাআলার কুদরতী ছেলে বলা হবে।

হে মুমিনগণ শোনো ! আমার অনুসরণ করার কারণে মানুষ তোমাদের উপর অত্যাচার, নির্যাতন করবে, তোমাদের উপর উপহাস ও ঠাট্টা- বিদ্রুপ করবে, এবং তোমাদের উপর বিভিন্ন মিথ্যা অপবাদ দিবে, এসব দেখে তোমরা নিজেদেরকে সুসংবাদের উপযুক্ত মনে করবে এবং খুশী ও আনন্দিত হবে। কেননা এসব সহ্য করার কারণে তোমাদেরকে জান্নাতে অনেক বড় পুরস্কারে পুরস্কৃত করা হবে। আর এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই, কারণ তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতের সাথেও - যারা নবিগণের অনুসরণ করেছেন - এরূপ আচরণ করা হয়েছে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px