📄 হযরত ঈসা আ. এর জন্ম
ইতিহাসবিদদের ভাষ্য মতে হযরত ঈসা আ. ফিলিস্তিনের উত্তরে অবস্থিত গ্যালিলি হ্রদের পাশে " তানাছুর " নামক এলাকায় বসবাস করতেন । তবে তাঁর জন্ম হয়েছিল ফিলিস্তিনের মধ্যবর্তী " বাইতে লাহম " শহরে।
হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম'র জন্মের ব্যাপারে ইতিহাসবিদদের মতানৈক্য রয়েছে। তবে এতটুকু জানা যায়, হযরত ঈসা আ. ' র জন্ম হয়েছে খৃস্টপূর্ব ৪র্থ থেকে ৭ম বছরের কোনো এক সময়ে। কুমারী হযরত মারয়াম এর গর্ভে জন্ম হওয়ার কারণেই তিনি খৃস্টানদের কাছে আল্লাহর ছেলে বলে প্রসিদ্ধ ছিলেন। অনেক খৃস্টান তো স্বয়ং তাঁকেই খোদা মনে করে। মানুষের রূপ ধারণ করে তিনি দুনিয়াতে আগমন করেছেন। বাইবেলের ইঞ্জীল অংশে হযরত ঈসা আ. 'র জন্মের ব্যাপারে কিছুটা এমন বর্ণনা পাওয়া যায়, তাঁর মা মারয়াম আলাইহাস সাল্লামের বিবাহ ইউসুফ নামে প্রসিদ্ধ একজন ব্যক্তির সাথে হয়েছিল। তবে, তাদের বিবাহ ও মিলন হওয়ার পূর্বেই হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর কুদরতে মারয়াম আ.' র গর্ভে আসেন।
📄 শৈশব ও যৌবন কাল
হযরত ঈসা আ.'র শৈশব ও যৌবন কাল সম্পর্কে ইঞ্জীলে উল্লেখযোগ্য কিছুই বর্ণিত হয়নি। তবে এতটুকু বলা যায় , হযরত ঈসা আ. তাঁর ধর্মীয় দীক্ষা পরিবার থেকেই অর্জন করেন। এছাড়া তিনি তাঁর পারিবারিক বুযুর্গ ব্যক্তিদের সাথে প্রতি শনিবারে (তথা পবিত্র দিন) ধর্মীয় মজলিসসমূহে নিয়মতান্ত্রিকভাবে উপস্থিত থাকতেন । এ ছিল তার শৈশব কালের কিঞ্চিৎ বর্ণনা।
যৌবনকাল
ঈসা আ.'র যৌবনকাল কীভাবে অতিবাহিত হয়েছে, এ ব্যাপারেও ইতিহাস থেকে কোন বিস্তর ও সঠিক কিছু জানা যায় না। ইতিহাস এ সম্পর্কে অনেকটাই নিশ্চুপ। হযরত ঈসা আ. এর যুগকে lost year's of Jesus বলা হয়ে থাকে। তৎকালীন খৃস্টান ইতিহাসবিদ ও বিশ্লেষকগণ এসব বিষয়ে শুধু নিজেদের কল্পনাপ্রসূত কিছু গবেষণা পেশ করেছেন। তবে , তারা বর্তমান খৃস্টান পণ্ডিতদের বিপরীত ধর্মীয় শিক্ষা- দীক্ষা ও আকীদা- বিশ্বাসকে খুবই সাধারণভঙ্গিতে বর্ণনা করতেন।
ঈসা আ. ইহুদী জাতি কর্তৃক বাইতুল মুকাদ্দাসে সংঘটিত বিভিন্ন অপকর্মের কারণে অনেক চিন্তিত ও বিচলিত ছিলেন। তারা সর্বদা ঈসা আ.'র বিরুদ্ধে কুৎসা রটাত। ঈসা আ. পাদ্রিদের উপদেশ দিয়ে বলতেন, তোমরা আল্লাহ তায়ালার বিধান ছেড়ে মানুষের মতাদর্শ প্রতিষ্ঠিত করছ। আল্লাহ তাআলার হুকুম অমান্য করে নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করছ।
📄 ওহীর অবতরণ
৩০ বছর বয়সে হযরত ঈসা আ.'র উপর ওহী অবতরণ শুরু হয়। তখন থেকেই তাঁর নবুওয়াতের যুগ আরম্ভ হয়। আল্লাহ তাআলা তাঁকে কিছু মুজেযা দিয়েছিলেন। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হলো, মুমূর্ষ ব্যক্তিকে সুস্থ করার ক্ষমতা। আর এ জন্যই তাকে মাসীহ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
📄 ধর্মপ্রচার
আল্লাহ তাআলার হুকুম আসার পরেই হযরত ঈসা আ. তাঁর ধর্মের প্রচার শুরু করেন। ঈসা আ.'র ধর্ম প্রকৃতপক্ষে কোন নতুন ধর্ম ছিল না; বরং যেনো হযরত মূসা আ.'র ধর্মের একটি সহজ রূপ ছিল। যা ইহুদী পণ্ডিতরা বিকৃত ও পরিবর্তন করে ফেলেছিল। হযরত ঈসা আ. তাদের এসব অন্যায় কাজে বাধা দেন। ফলে তাঁকে ইহুদী পণ্ডিতদের বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হয়। বাধ্য হয়ে তিনি " গ্যালিলি " ঝিলের পাশে অবস্থিত " ক্যাপারনাউম " এলাকায় হিজরত করেন। এলাকার অধিকাংশ মানুষ তাঁকে " প্রতিশ্রুত মাসীহা " মেনে নিয়ে তাঁর উপর ঈমান আনে। সেখানে তিনি একটি বড় সমাবেশে ভাষণ রাখেন এবং মানুষের সামনে তাঁর শিক্ষা- দীক্ষা উপস্থাপন করেন। পরবর্তীতে এ ভাষণ " পাহাড়ি ভাষণ " নামে প্রসিদ্ধ হয়ে যায়। তাদের কাছে এ ভাষণটি অনেক মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। যেমন মুসলিম উম্মাহর কাছে বিদায় হজ্বে নবীজির ভাষণ অত্যন্ত মূল্যবান।