📘 খৃষ্টধর্ম, সংক্ষিপ্ত পরিচিতি 📄 পূর্ববর্তী ইহুদীদের ইতিহাস

📄 পূর্ববর্তী ইহুদীদের ইতিহাস


মূসা আ.'র অনুসারী সম্প্রদায়কে ইহুদী বলা হয়। তাদের ধর্মকে ইহুদী ধর্ম বলে। ঈসা আ. ' র আগমনের পূর্বে ইহুদীরা হযরত মূসা আ. 'র ধর্মে নিজেদের পক্ষ থেকে অনেক পরিবর্তন- পরিবর্ধন ও বিকৃতি সাধন করে। তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে অধিকাংশ মানুষ পরকালের প্রতিদান ও শাস্তির বিশ্বাস রাখত না। কেউ কেউ তো সন্ন্যাসী জীবনে বিশ্বাস করত। কেউ বা আবার বনী ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখাকেই নাজাতের উসিলা মনে করত। তাদের যে সব পণ্ডিতরা হায়কাল বা ইবাদতখানায় ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করত, তারা ধর্মকে এক প্রকার ব্যবসা বানিয়ে ফেলেছিল। তাদের অবস্থা এমন ছিল, নিজেদের সিদ্ধান্তকে আসমানী কিতাব তাওরাতের উপরও প্রাধান্য দিত। তাওরাতের হুকুমকে বিকৃত করে জনসাধারণের কাছে পেশ করত।

সুদ, লোভ, হিংসার মত বাজে অভ্যাস তাদের মাঝে ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল। তারা মনে করত, ধর্ম একটি বাহ্যিক এবাদত মাত্র, মানুষের সমাজ- জীবনের সাথে ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই। তারা আল্লাহর বিধি নিষেধকে রহিত করতে সর্বপ্রকার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখত। সমাজের এমন কঠিন এক সময়ে ইহুদীরা একজন মাসীহার আগমনের অপেক্ষা করছিল। যাঁর ব্যাপারে তাদের পবিত্র কিতাবসমূহে ভবিষ্যৎবাণীও বিদ্যমান ছিল। কিন্তু তারা এই বিষয়টি ভালোভাবে জানত না, সে মাসীহার জন্ম কখন হবে । সে মাসীহার অপেক্ষায় আজও ইয়াহুদীরা অপেক্ষয়মান।

📘 খৃষ্টধর্ম, সংক্ষিপ্ত পরিচিতি 📄 হযরত ঈসা আ. এর জন্ম

📄 হযরত ঈসা আ. এর জন্ম


ইতিহাসবিদদের ভাষ্য মতে হযরত ঈসা আ. ফিলিস্তিনের উত্তরে অবস্থিত গ্যালিলি হ্রদের পাশে " তানাছুর " নামক এলাকায় বসবাস করতেন । তবে তাঁর জন্ম হয়েছিল ফিলিস্তিনের মধ্যবর্তী " বাইতে লাহম " শহরে।

হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম'র জন্মের ব্যাপারে ইতিহাসবিদদের মতানৈক্য রয়েছে। তবে এতটুকু জানা যায়, হযরত ঈসা আ. ' র জন্ম হয়েছে খৃস্টপূর্ব ৪র্থ থেকে ৭ম বছরের কোনো এক সময়ে। কুমারী হযরত মারয়াম এর গর্ভে জন্ম হওয়ার কারণেই তিনি খৃস্টানদের কাছে আল্লাহর ছেলে বলে প্রসিদ্ধ ছিলেন। অনেক খৃস্টান তো স্বয়ং তাঁকেই খোদা মনে করে। মানুষের রূপ ধারণ করে তিনি দুনিয়াতে আগমন করেছেন। বাইবেলের ইঞ্জীল অংশে হযরত ঈসা আ. 'র জন্মের ব্যাপারে কিছুটা এমন বর্ণনা পাওয়া যায়, তাঁর মা মারয়াম আলাইহাস সাল্লামের বিবাহ ইউসুফ নামে প্রসিদ্ধ একজন ব্যক্তির সাথে হয়েছিল। তবে, তাদের বিবাহ ও মিলন হওয়ার পূর্বেই হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর কুদরতে মারয়াম আ.' র গর্ভে আসেন।

📘 খৃষ্টধর্ম, সংক্ষিপ্ত পরিচিতি 📄 শৈশব ও যৌবন কাল

📄 শৈশব ও যৌবন কাল


হযরত ঈসা আ.'র শৈশব ও যৌবন কাল সম্পর্কে ইঞ্জীলে উল্লেখযোগ্য কিছুই বর্ণিত হয়নি। তবে এতটুকু বলা যায় , হযরত ঈসা আ. তাঁর ধর্মীয় দীক্ষা পরিবার থেকেই অর্জন করেন। এছাড়া তিনি তাঁর পারিবারিক বুযুর্গ ব্যক্তিদের সাথে প্রতি শনিবারে (তথা পবিত্র দিন) ধর্মীয় মজলিসসমূহে নিয়মতান্ত্রিকভাবে উপস্থিত থাকতেন । এ ছিল তার শৈশব কালের কিঞ্চিৎ বর্ণনা।

যৌবনকাল
ঈসা আ.'র যৌবনকাল কীভাবে অতিবাহিত হয়েছে, এ ব্যাপারেও ইতিহাস থেকে কোন বিস্তর ও সঠিক কিছু জানা যায় না। ইতিহাস এ সম্পর্কে অনেকটাই নিশ্চুপ। হযরত ঈসা আ. এর যুগকে lost year's of Jesus বলা হয়ে থাকে। তৎকালীন খৃস্টান ইতিহাসবিদ ও বিশ্লেষকগণ এসব বিষয়ে শুধু নিজেদের কল্পনাপ্রসূত কিছু গবেষণা পেশ করেছেন। তবে , তারা বর্তমান খৃস্টান পণ্ডিতদের বিপরীত ধর্মীয় শিক্ষা- দীক্ষা ও আকীদা- বিশ্বাসকে খুবই সাধারণভঙ্গিতে বর্ণনা করতেন।

ঈসা আ. ইহুদী জাতি কর্তৃক বাইতুল মুকাদ্দাসে সংঘটিত বিভিন্ন অপকর্মের কারণে অনেক চিন্তিত ও বিচলিত ছিলেন। তারা সর্বদা ঈসা আ.'র বিরুদ্ধে কুৎসা রটাত। ঈসা আ. পাদ্রিদের উপদেশ দিয়ে বলতেন, তোমরা আল্লাহ তায়ালার বিধান ছেড়ে মানুষের মতাদর্শ প্রতিষ্ঠিত করছ। আল্লাহ তাআলার হুকুম অমান্য করে নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করছ।

📘 খৃষ্টধর্ম, সংক্ষিপ্ত পরিচিতি 📄 ওহীর অবতরণ

📄 ওহীর অবতরণ


৩০ বছর বয়সে হযরত ঈসা আ.'র উপর ওহী অবতরণ শুরু হয়। তখন থেকেই তাঁর নবুওয়াতের যুগ আরম্ভ হয়। আল্লাহ তাআলা তাঁকে কিছু মুজেযা দিয়েছিলেন। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হলো, মুমূর্ষ ব্যক্তিকে সুস্থ করার ক্ষমতা। আর এ জন্যই তাকে মাসীহ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px