📘 খৃষ্টধর্ম, সংক্ষিপ্ত পরিচিতি 📄 লেখকের ভূমিকা

📄 লেখকের ভূমিকা


الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيد المرسلين

বর্তমান পৃথিবীতে খৃস্টান ধর্ম অনুসারীদের সংখ্যা হিসেবে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ধর্ম হিসেবে বিবেচিত। "Colonialism" (উপনিবেশবাদ) এর মূলনীতি কারণেই আজ এশিয়া, আফ্রিকা এবং আমেরিকায় খৃস্টান ধর্ম ব্যাপক প্রচার- প্রসার লাভ করেছে। "Colonialism " এর অর্থ হচ্ছে, এক এলাকার মানুষ অন্য এলাকায় গিয়ে নিজস্ব বসতি স্থাপন করা এবং সে এলাকা দখল করে নেয়া। সাধারণত যে এলাকায় নতুন বসতি স্থাপন করা হয় সেখানের লোকজনকে নিজেদের আওতায় এনে তাদের উপর নিজস্ব কালচার, সংস্কৃতি, স্বভাব- চরিত্র ও ক্ষমতা চাপিয়ে দেয়া হয়।

ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, এক সময় অন্য গোত্রের উপর চড়াও হয়ে তাদেরকে দাস বানানোর প্রথা চালু ছিল। বর্তমানে নিয়মতান্ত্রিকভাবে অন্য দল বা গোষ্ঠীর উপর চড়াও হওয়ার ধারাবাহিকতা রোমীয় বাদশাহদের মাধ্যমেই হয়েছে। কেননা এ যুগে সর্ব প্রথম ইউরোপীয় খৃস্টানরাই আফ্রিকা ও আমেরিকার উপর নিজেদের শাসন ব্যবস্থা চাপিয়ে দিয়েছিল। নতুন নতুন এলাকা দখল করার এ পদ্ধতি ইউরোপিয়ানদের শুধু অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উন্নতিই সাধন করেনি; বরং এ বিষয়টি তাদের ধর্মের প্রচারেও অনেক ভূমিকা পালন করেছে। এর মাধ্যমে তাদের ধর্মের প্রচার- প্রসারও বহুগুণে বেড়েছে। তাদের এ মিশনে অনেক মিশনারীও থাকত, যারা ক্ষমতার ইশারায় দখলকৃত এলাকায় খুব ব্যাপকভাবে তাদের ধর্মের প্রচার করে বেড়াত।

উপমহাদেশে খৃস্টান ধর্মের প্রচার ১৬০০ খৃস্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর আগমনের মাধ্যমে শুরু হয় । এরপর কালপরিক্রমায় তাদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর হলে তখন খৃস্টধর্ম আরো বিস্তৃতি লাভ করে।

১৮০০ শো শতাব্দীর শেষদিকে প্রোটেস্ট্যান্ট খৃস্টান বাহিনী দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাস শুরু করে। এবং সেখানে তাদের ধর্মের প্রচার শুরু করে। এশিয়া ও আফ্রিকায় ধর্মের প্রচার, প্রসারের লক্ষ্যে তারা যেন ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ে । সামাজসেবা, শিক্ষাসেবা, বয়ান - বক্তৃতা, তর্কবিতর্ক- মোনাযারা সহ সব রকমের চেষ্টা, প্রচেষ্টার মাধ্যমে ধর্মপ্রচার চালিয়ে যায়। এর ফলশ্রুতিতে বিশাল একটি দল তাদের খৃস্টধর্ম গ্রহণ করে নেয় ।

এ যুগে খৃস্টান ধর্ম সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিবেচনায় বর্তমান বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্ম । তাই মুসলিম দাঈগণের জন্য উচিত হলো এ ধর্মের পরিচিতি ও আকীদা সম্পর্কে জ্ঞান রাখা। এতে খৃস্টানদের মাঝে দাওয়াতের কাজ সহজ হবে ইনশা আল্লাহ। এ বিষয়টি মাথায় রেখেই বক্ষমান বইয়ে খৃস্টান ধর্মের পরিচিতি পেশ করা হয়েছে। এতে তাদের আকীদা- বিশ্বাস, উপাসনা পদ্ধতি, সামাজিক জীবন- যাপন ব্যবস্থা, রসম- রেওয়াজ, ধর্মীয় গ্রন্থসমূহ ও তাদের বিভিন্ন ফিরকার পরিচয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এগুলো জেনে ভিন্নধর্মীদের মাঝে দাওয়াতের পথকে সুগম দিন! গোটা মানবজাতিকে হেদায়েতের ছায়াতলে আশ্রয় দান করুন! আমীন!

মুফতী সারওয়ার ফারুকী নদভী
দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা, লাখনৌ, ইন্ডিয়া
২- ১- ২০১৯ ইং

ফন্ট সাইজ
15px
17px