📄 খাদ্য নিয়ে বাইবেলের ঈশ্বরের মিথ্যাচার ও বৈজ্ঞানিক অজ্ঞাতা।
বাইবেলের ইশ্বরের অজ্ঞাতা দেখেন তিনি তার সৃষ্টি সম্পর্কে তেমন কিছুই জানেন না! তার সৃষ্টি করা মানুষ যে পৃথিবীর সকল প্রকার উদ্ভিদ খেতে পারবে না সেটা তিনি জানেন না।
এবার আসেন বাইবেল থেকে বিস্তারিত দেখি :-
ঈশ্বর বললেন, আমি তোমাদের শস্যদায়ী সমস্ত গাছ ও সমস্ত ফলদায়ী গাছপালা দিচ্ছি। ঐসব গাছ বীজযুক্ত ফল উৎপাদন করে। এই সমস্ত শস্য ও ফল হবে তোমাদের খাদ্য। (আদিপুস্তক ০১/২৯)
অতীতে তোমাদের খাদ্য হিসেবে আমি শুধু সবুজ উদ্ভিদ তোমাদের দিয়েছিলাম। এখন থেকে সমস্ত জানোয়ারই তোমাদের খাদ্য হবে। পৃথিবীর সমস্ত কিছুই আমি তোমাদের দিচ্ছি। সব কিছুই তোমাদের। (আদিপুস্তক ০৯/০৩)
আমরা জানি পৃথিবীতে অসংখ্য উদ্ভিদ আছে যেগুলো খেলে মানুষ সাথে সাথে মারা যাবে। বাইবেলের ইশ্বর কিভাবে এমন অযৌক্তিক কথা বলতে পারেন যে সমস্ত উদ্ভিদই হবে তোমাদের খাদ্য? তিনি কি জানেন না সমস্ত উদ্ভিদ খেলে মানুষরা মারা যাবে?
বাইবেলের ইশ্বরের বৈজ্ঞানিক অজ্ঞাতা তো দেখতেই পেলেন। ইশ্বর কি কখনো এমন অযৌক্তিক কথা বলতে পারে? ইশ্বর কখনো এমন অযৌক্তিক কথা বলতে পারে না! বাইবেল যে বিকৃত তা হয়তো বুঝতে আর কারো বাকি নাই।
📄 বাইবেলের (ঈশ্বর) ক্লান্ত হয়ে বিশ্রাম নেওয়ার আগে (গাছপালা) সৃষ্টি করেছে নাকি বিশ্রাম নেওয়ার পর সৃষ্টি করেছে?
বাইবেলের ইশ্বর বলছে, তিনি বিশ্রাম নেওয়ার আগে (তৃতীয়) দিনে পৃথিবীতে গাছপালা, উদ্ভিদ সৃষ্টি করেছে, আবার পরে বলছে তিনি পৃথিবীর সকল কিছু সৃষ্টি করে বিশ্রাম নেওয়ার পর গাছপালা, উদ্ভিদ সৃষ্টি করেছে। যা তার কথার বৈপরীত্য ও ভুল।
এবার আসেন বাইবেল থেকে বিস্তারিত দেখি :-
তখন ঈশ্বর বললেন, পৃথিবীতে ঘাস হোক, শস্যদায়ী গাছ ও ফলের গাছপালা হোক। ফলের গাছগুলিতে ফল আর ফলের ভেতরে বীজ হোক। প্রত্যেক উদ্ভিদ আপন আপন জাতের বীজ সৃষ্টি করুক। এইসব গাছপালা পৃথিবীতে বেড়ে উঠুক। আর তাই-ই হল। (আদিপুস্তক ০১/১১)
পৃথিবীতে ঘাস আর শস্যদায়ী উদ্ভিদ উৎপন্ন হল। আবার ফলদাযী গাছপালাও হল, ফলের ভেতরে বীজ হল। প্রত্যেক উদ্ভিদ আপন আপন জাতের বীজ সৃষ্টি করল এবং ঈশ্বর দেখলেন ব্যবস্থাটা ভাল হয়েছে। (আদিপুস্তক ০১/১২)
এখানে আমরা দেখতে পেলাম (ইশ্বর) ক্লান্ত হয়ে বিশ্রাম নেওয়ার আগেই (তৃতীয় দিনে) সকল প্রকার উদ্ভিদ, গাছপালা সৃষ্টি করেছে।
এবার দেখেন বাইবেলের ইশ্বর বলছে তিনি পৃথিবীতে সকল প্রকার জিনিস সৃষ্টি করে বিশ্রাম নেওয়ার পর পৃথিবীতে উদ্ভিদ, গালপালা সৃষ্টি করেছে।
যে কাজ ঈশ্বর শুরু করেছিলেন তা শেষ করে সপ্তম দিনে তিনি বিশ্রাম নিলেন। (আদিপুস্তক ০২/০২)
সপ্তম দিনটিকে আশীর্বাদ করে ঈশ্বর সেটিকে পবিত্র দিনে পরিণত করলেন। দিনটিকে ঈশ্বর এক বিশেষ দিনে পরিণত করলেন কারণ ঐ দিনটিতে পৃথিবী সৃষ্টির সমস্ত কাজ থেকে তিনি বিশ্রাম নিলেন। (আদিপুস্তক ০২/০৩)
এই হল আকাশ ও পৃথিবীর ইতিহাস। ঈশ্বর যখন পৃথিবী ও আকাশ সৃষ্টি করেছিলেন, তখন যা কিছু ঘটেছিল এটা তারই গল্প। (আদিপুস্তক ০২/০৪)
পৃথিবীতে তখন কোন গাছপালা ছিল না। মাঠে তখন কিছুই জন্মাতো না। কারণ প্রভু তখনও পৃথিবীতে বৃষ্টি পাঠান নি এবং ক্ষেতে চাষবাস করার জন্য তখন কেউ ছিল না। (আদিপুস্তক ০২/০৫)
পৃথিবী থেকে জলউঠে চারপাশের জমিতে ছড়িয়ে পড়ল। (আদিপুস্তক ০২/০৬)
দেখেন বাইবেলের ইশ্বর এখানে বলছে তিনি পৃথিবীর সকল কাজ শেষ করে বিশ্রাম নেওয়ার পর তিনি পৃথিবীতে গাছপালা সৃষ্টি করেছে! কারন প্রথমে বৃষ্টির পানি পৃথিবীতে পড়ে নায় তাই গাছপালাও সৃষ্টি হয় নাই।
কিন্তু আমরা প্রথমেই দেখেছি তিনি (তৃতীয় দিনে) পৃথিবীতে সকল প্রকার উদ্ভিদ ও গাছপালা সৃষ্টি করেছে এবং তা নিজ নিজ ভাবে বংশবিস্তারও করেছে।
এখানেও তার কথার বৈপরীত্য ও ভুল তথ্য দেখা যাচ্ছে। একবার বলছে তিনি বিশ্রাম নেওয়ার আগে উদ্ভিদ ও গাছপালা সৃষ্টি করেছে (তৃতীয়) দিনে! আবার এদিকে পৃথিবীর সকল কাজ শেষ করে বিশ্রাম নেওয়ার পরে বলছে, পৃথিবীতে বৃষ্টির পানি পড়ে নাই বলে তখন কোন গাছপালা জন্ম নিতে পারে নাই। অথচ তিনি (তৃতীয়) দিনে পৃথিবীতে গাছপালা, উদ্ভিদ সৃষ্টি করেছিলেন।
হতে পারে বাইবেলের ইশ্বরের মনে নেই যে, তিনি (০৬) দিনে পৃথিবী সৃষ্টির সময় তিনি (তৃতীয়) দিনে গাছপালা ও উদ্ভিদ সৃষ্টি করেছিলেন।
এখন আপনারাই বিবেচনা করেন ইশ্বর কি কখনো এমন অযৌক্তিক কথা বলতে পারে? তিনি বিশ্রাম নেওয়ার আগে (তৃতীয়) দিনে পৃথিবীতে গাছপালা, উদ্ভিদ সৃষ্টি করেছে, আবার পরে বলছে তিনি পৃথিবীর সকল কিছু সৃষ্টি করে বিশ্রাম নেওয়ার পর গাছপালা, উদ্ভিদ সৃষ্টি করেছে।
📄 বাইবেল অনুযায়ী সূর্যের আলো পৃথিবীতে প্রবেশ করার আগেই সকল প্রকার উদ্ভিদ ও গাছপালা সৃষ্টি করা হয়েছে।
বাইবেলের ইশ্বর বলছে, তিনি পৃথিবীতে গাছপালা ও উদ্ভিদ সৃষ্টি করেছে কোন প্রকার সূর্যের আলো ছাড়াই যা অবৈজ্ঞানিক ও ভুল তথ্য।
এবার আসেন বাইবেল থেকে বিস্তারিত দেখি :-
তখন ঈশ্বর বললেন, পৃথিবীতে ঘাস হোক, শস্যদায়ী গাছ ও ফলের গাছপালা হোক। ফলের গাছগুলিতে ফল আর ফলের ভেতরে বীজ হোক। প্রত্যেক উদ্ভিদ আপন আপন জাতের বীজ সৃষ্টি করুক। এইসব গাছপালা পৃথিবীতে বেড়ে উঠুক। আর তাই-ই হল। (আদিপুস্তক ০১/১১)
পৃথিবীতে ঘাস আর শস্যদায়ী উদ্ভিদ উৎপন্ন হল। আবার ফলদায়ী গাছপালাও হল, ফলের ভেতরে বীজ হল। প্রত্যেক উদ্ভিদ আপন আপন জাতের বীজ সৃষ্টি করল এবং ঈশ্বর দেখলেন ব্যবস্থাটা ভাল হয়েছে। (আদিপুস্তক ০১/১২)
সন্ধ্যা হল এবং সকাল হল। এভাবে হল তৃতীয় দিন। (আদিপুস্তক ০১/১৩)
এখানে আমরা দেখতে পেলাম ইশ্বর ক্লান্ত হয়ে বিশ্রাম নেওয়ার আগেই (তৃতীয় দিনে) সকল প্রকার উদ্ভিদ, গাছপালা সৃষ্টি করেছে।
তারপর ঈশ্বর বললেন, আকাশে আলো ফুটুক। এই আলো দিন থেকে রাত্রিকে পৃথক করবে। এই আলোগুলি বিশেষ সভাশুরু করার বিশেষ বিশেষ সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হবে। আর দিন ও বছর বোঝাবার জন্য এই আলোগুলি ব্যবহৃত হবে। (আদিপুস্তক ০১/১৪)
পৃথিবীতে আলো দেওয়ার জন্য এই আলোগুলি আকাশে থাকবে। এবং তা-ই হল। (আদিপুস্তক ০১/১৫)
তখন ঈশ্বর দুটি মহাজ্যোতি বানালেন। ঈশ্বর বড়টি বানালেন দিনের বেলা রাজত্ব করার জন্য আর ছোটটি বানালেন রাত্রিবেলা রাজত্ব করার জন্য। ঈশ্বর তারকারাজিও সৃষ্টি করলেন। (আদিপুস্তক ০১/১৬)
পৃথিবীকে আলো দেওয়ার জন্য ঈশ্বর এই আলোগুলিকে আকাশে স্থাপন করলেন। (আদিপুস্তক ০১/১৭)
দিন ও রাত্রিকে কর্তৃত্ব দেবার জন্য ঈশ্বর এই আলোগুলিকে আকাশে সাজালেন। এই আলোগুলি আলো আর অন্ধকারকে পৃথক করে দিল এবং ঈশ্বর দেখলেন ব্যবস্থাটা ভাল হয়েছে। (আদিপুস্তক ০১/১৮)
সন্ধ্যা হল এবং সকাল হল। এভাবে (চতুর্থ) দিন হল। (আদিপুস্তক ০১/১৯)
এখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি (ঈশ্বর) চতুর্থ দিনে পৃথিবীকে আলো দেওয়ার জন্য সূর্য ও চাঁদকে আকাশে স্থাপন করেছে।
খ্রীষ্টানরা (আদিপুস্তক ০১/০২) এই অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা করেছে এভাবে, (ঈশ্বর) যখন (প্রথম) দিনেই আলো সৃষ্টি করেছে, তখন সেই আলো পৃথিবীর মধ্যে প্রবেশ করতে পারতো না! কারন পৃথিবী সৃষ্টিকালে সেখানে গ্যাসীয় পদার্থ ছিল! যার জন্য সূর্যের আলো পৃথিবীতে প্রবেশ করতে পারতো না। তার জন্য পরে (ঈশ্বর) চতুর্থ দিনে (আদিপুস্তক ০১/১৬-১৭) এই অনুচ্ছেদে পৃথিবীতে যাতে সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারে সেই ব্যবস্থা করেছে।
দেখেন পৃথিবীতে যদি সূর্যের আলো প্রবেশ করতে নাই পারে তাহলে প্রথম দিনে, (দিনরাত) হয় কি করে? আলো পৃথিবীর মধ্যে প্রবেশ করতে না পারলে পৃথিবীর অবস্থা একই রকম থাকবে, কারন আলোর জন্যই পৃথিবীতে দিনরাত সৃষ্টি হয়।
আবার দেখেন (আদিপুস্তক ০১/১১-১২) (তৃতীয় দিনে) গাছপালা সৃষ্টি হয়েছে, আর পৃথিবীতে সূর্যের আলো প্রবেশ করেছে (চতুর্থ) দিনে! সূর্যের আলো পৃথিবীতে প্রবেশ করার আগেই পৃথিবীতে গাছপালা জন্ম নিয়ে নিছে সাথে সাথে উদ্ভিদগুলো নিজে নিজে তার বংশবিস্তার করেছে। হাস্যকর তথ্য।
সূর্যের আলো ছাড়া গাছপালা বংশবিস্তার করতে পারে না এটা বাইবেলের (ইশ্বর) জানে না।
ইশ্বর কি কখনো এমন অযৌক্তিক ভুল কথা বলতে পারে? তিনি সাধারন বিজ্ঞানটাও জানেন না যে সূর্যের আলো ছাড়া গাছপালা বাচতে পারে না ও বংশবৃদ্ধিও করতে পারে না।
📄 দুই ব্যাক্তির মধ্যে সংঘাত হলে তাদের (স্ত্রীদের) জন্য করনীয় কি?
দুই ব্যাক্তির মধ্যে মারামারি হলে একজনের স্ত্রী এসে আরেক জনের যৌনাঙ্গ ধরা নিষেধ। চিন্তা করা যায় বাইবেলের ইশ্বর মারামারি নিয়ে কতটা ভাবেন?
এবার আসেন বাইবেল থেকে বিস্তারিত দেখি বাইবেলের ইশ্বরের যৌনাঙ্গ না ধরার বিধানটি।
দুই ব্যক্তির মধ্যে ঝগড়া হলে কোন এক ব্যক্তির স্ত্রী তাকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতে পারে, কিন্তু সে যেন কখনই অন্য ব্যক্তির যৌনাঙ্গ না ধরে। (দ্বিতীয় বিবরন ২৫/১১)
সেই কাজ করলে তার হাত কেটে ফেলবে, তার জন্য দুঃখ পেও না। (দ্বিতীয় বিবরন ২৫/১২)
আমার প্রশ্ন হল :- এতকাজ থাকতে ওই স্ত্রী অন্য পুরুষের যৌনাঙ্গ কেন ধরতে যাবে?
মোট কথা বাইবেল বলতে চাচ্ছে, সেই স্ত্রী অন্য ব্যাক্তির যৌনাঙ্গ ধরতে যাতে ভুলে না যায়। সেটা মনে করিয়ে দেয়ার জন্য এমন উদ্ভট কথা লিখছে। কথাটা ডাইরেক্ট বলছে না যে তুমি অন্য ব্যাক্তির যৌনাঙ্গ ধর। যারা বোঝার তারা হয়তো বুঝতে পারছেন।
এমন পরিস্থিতিতে অসংখ্য যৌক্তিক সমাধান ছিল বাইবেলের ইশ্বর সেসব লিখতে পারতেন যেমন ধরেন :-
>>> ০১ :- বাইবেলের ইশ্বর লিখতে পারতো তার স্ত্রী এসে মারামারি থামানোর চেষ্টা করতে পারতো।
>>> ০২ :- সেই স্ত্রীর স্বামীকে মারামারি থেকে ঘরে নিয়ে যেতে পারতো।
>>> ০৩ :- ওই স্ত্রী তার স্বামীকে বোঝাতে পারতো।
>>> ০৪ :- ওই স্ত্রী অন্য ব্যাক্তিকে মারামারি না করার জন্য আবেদন করতে পারতো।
>>> ০৫ :- ওই স্ত্রী দুইজনের মধ্যে একটা সমাধানের চেষ্টা করতে পারতো।
>>> ০৬ :- আরো অসংখ্য ভাবে সমাধান করা যেত।
এসব কিছুই না করে না বলে উল্টো বাইবেল বলছে সেই স্ত্রী যে, অন্য ব্যাক্তির যৌনাঙ্গ না ধরে এটা কোন কথা হল?
এমন হাস্যকর অশ্লীল কথা কি করে বলতে পারেন বাইবেলের ইশ্বর? অসংখ্য সমাধান আছে যেসব সমাধানের কথা না বলে তিনি যৌনাঙ্গ নিয়ে পড়ে আছে।