📄 বাইবেলে যীশুর অসামাজিক ,অমানবিক, নিকৃষ্ট কার্যকলাপ।
বাইবেলে যীশু প্রচুর পরিমানে অসামাজিক, অমানবিক বিধান দিয়েছেন এবং তিনি নিজেও প্রচুর পরিমানে অমানবিক, অসামাজিক কাজ করেছেন।
এবার আসুন বাইবেল থেকে দলিল সহকারে দেখে নেই যীশুর সেসব অসামাজিক, অমানবিক কার্যকলাপগুলো।
>>> যীশু মানুষদেরকে (ভন্ড, শয়তান) বলে গালিগালাজ করতেন :-
যীশু ফিরে পিতরকে বললেন, দূর হও শয়তান! তুমি আমার কাছে এক বাধাস্বরূপ। তোমার মনে ঈশ্বরের বিষয়গুলি নেই কেবল মানুষের বিষয়গুলিই আছে। (মথি ১৬/২৩) (মথি ২৩/১৩-৩৩)
>>> যীশু পূর্ববর্তী (নবী-রাসূলদেরকে) চোর-ডাকাত বলতেন :-
তখন যীশু আবার তাদের বললেন, 'আমি তোমাদের সত্যি বলছি, আমি মেষদের জন্য খোঁয়াড়ের দরজা স্বরূপ। (যোহন ১০/০৭)
যাঁরা আমার আগে এসেছে তারা সব চোর ডাকাত, কিন্তু মেষরা তাদের ডাক শোনে নি। (যোহন ১০/০৮)
>>> যীশু নিরাপরাধ মানুষদেরকে অভিশাপ দিতেন :-
এই ভাবে নির্দোষ হেবলের রক্তপাত থেকে শুরু করে বরখায়ার পুত্র সখরিয়, যাকে তোমরা মন্দিরের পবিত্র স্থান ও যজ্ঞবেদীর মাঝখানে হত্যা করেছিলেন, সেই দিন থেকে আজ পর্যন্ত যত নির্দোষ ব্যক্তির রক্ত মাটিতে ঝরে পড়েছে, সেই সমস্তের দায় তোমাদের ওপরে পড়বে। (মথি ২৩/৩৫)
আমি তোমাদের সত্যি বলছি, এই যুগের লোকদের ওপর ঐ সবের শাস্তি এসে পড়বে। (মথি ২৩/৩৬)
>>> যীশু অকারণে গাছ, পশুদের অভিসাপ দিয়ে হত্যা করতেন :-
পরদিন সকালে তিনি যখন জেরুশালেমে ফিরছিলেন, সেই সময় যীশুর খিদে পেল৷ (মথি ২১/১৮)
তিনি পথের ধারে একটি ডুমুর গাছ দেখতে পেয়ে সেই গাছটার কাছে গেলেন। কিন্তু পাতা ছাড়া তাতে কিছু দেখতে পেলেন না৷ তখন তিনি সেই গাছটিকে বললেন, তোমাতে আর কখনও ফল হবে না। আর সেই ডুমুর গাছটি শুকিয়ে গেল৷ (মথি ২১/১৯)
এই ঘটনা দেখে শিষ্যরা আশ্চার্য হয়ে বললেন, এই ডুমুর গাছটা এত তাড়াতাড়ি কেমন করে শুকিয়ে গেল? (মথি ২১/২০)
এটা যীশুর কেমন বিচার? একটা গাছে ফল না থাকায় তাকে অভিশাপ দিয়ে মেরে ফেললেন? আপনারাই বিবেচনা করেন এমন নিকৃষ্ট কাজ আর কি হতে পারে?
তখন সে যীশুর কাছে মিনতি করতে লাগল, যেন তিনি তাদের সেই অঞ্চল থেকে তাড়িয়ে না দেন। (মার্ক ০৫/১০)
সেখানে পর্বতের পাশে একদল শুয়োর চরছিল। (মার্ক ০৫/১১)
আর তারা (অশুচি আত্মারা) যীশুকে অনুনয় করে বলল, আমাদের এই শুয়োরের পালের মধ্যে ঢুকতে হুকুম দিন। (মার্ক ০৫/১২)
তিনি তাদের অনুমতি দিলে সেই অশুচি আত্মারা বের হয়ে শুয়োরদের মধ্যে ঢুকে পড়ল। তাতে সেই শুয়োরের পাল, কমবেশী দুহাজার শুয়োর দৌড়ে ঢালু পাড় দিয়ে হ্রদে গিয়ে পড়ল এবং ডুবে মরল। (মার্ক ০৫/১৩)
শয়তানরা যীশুর কাছে শুয়োরের মধ্যে ঢোকার অনুমতি চাইলো আর যীশু শয়তানদের অনুমতি দিয়ে দিল। যীশুর কেন এমন অবলা প্রানীদের মধ্যে শয়তানদের ঢোকার অনুমতি দিলেন? তার এসব অযৌক্তিক কথার কারনে নিরীহ প্রানীগুলো মারা গেল।
পরের দিন বৈথনিযা ছেড়ে আসার সময় তাঁর খিদে পেল। (মার্ক ১১/১২)
দূর থেকে তিনি একটি পাতায় ভরা ডুমুর গাছ দেখে তাতে কিছু ফল পাবেন ভেবে তার কাছে গেলেন, কিন্তু গাছটির কাছে গেলে পাতা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পেলেন না। কারণ তখন ডুমুর ফলের মরশুম নয়৷ (মার্ক ১১/১৩)
তখন তিনি গাছটিকে বললেন, এখন থেকে তোমার ফল আর কেউ কোন দিন খাবে না! এই কথা তাঁর শিষ্যেরা শুনতে পেলেন৷ (মার্ক ১১/১৪)
সেই দিন সন্ধ্যে হলেই যীশু ও তাঁর শিষ্যরা মহানগরীর বাইরে গেলেন। (মার্ক ১১/১৯)
পরের দিন সকালে যেতে যেতে তাঁরা দেখলেন, সেই ডুমুর গাছটি মূল থেকে শুকিয়ে গেছে। (মার্ক ১১/২০)
পিতর আগের দিনের কথা মনে করে তাঁকে বললেন, হে গুরু, দেখুন, আপনি যে ডুমুর গাছটিকে অভিশাপ দিয়েছিলেন সেটি শুকিয়ে গেছে৷ (মার্ক ১১/২১)
এটা যীশুর কেমন বিচার একটা ডুমুর গাছকে বিনা অপরাধে মেরে ফেললেন? যেহেতু তখন ডুমুর গাছে ফলের মৌসুম ছিল না!
>>> যীশুকে যারা বিশ্বাস করে নাই তাদের মেরে ফেলার আদেশ :-
যীশুকে বিশ্বাস না করলেই সেই সব অবিশ্বাসীদেরকে নির্বিচারে ধরে ধরে তাঁর সামনে এনে মেরে ফেলার নির্দেশ দিতেন। (লুক ১৯/২৭)
এই রকম নম্র মানুষদের মধ্যে যাঁরা আমাকে বিশ্বাস করে, তাদের কারও বিশ্বাসে যদি কেউ বিঘ্ন ঘটায়, তবে তার গলায় ভারী একটা যাতা বেঁধে সমুদ্রের অতল জলে তাকে ডুবিয়ে দেওয়াই তার পক্ষে ভাল হবে৷ (মথি ১৮/০৬)
এটা যীশুর কেমন বিচার যারা তাকে বিশ্বাস করবে না তাদের মেরে ফেলতে হবে? আবার কেউ অন্য ধর্ম প্রচার করলে তাদের পানিতে ডুবিয়ে মেরে ফেলতে হবে!
>>> যীশু মিথ্যা কথা ও মিথ্যা ভবিষ্যদ্বাণী করতেন।
আমি তোমাদের সত্যি বলছি, যারা এখানে দাঁড়িয়ে আছে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ, যতক্ষণ না মনুষ্যপুত্রকে তাঁর রাজ্যে আসতে দেখে সে-পর্যন্ত মৃত্যুর আস্বাদ পাবে না। (মথি ১৬/২৮)
যীশুর স্বর্গরাজ্যে আসার আগেই তার অসংখ্য অনুসারী মৃত্যুর স্বাদ পেয়ে মারা গেছে। এখানে যীশু মিথ্যা ভবিষ্যৎবানি মিথ্যা কথা বলেছে।
যীশু তাঁদের বললেন, আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, সব বিষয়ের নতুন সৃষ্টিতে যখন মনুষ্যপুত্র মহিমার সিংহাসনে বসবেন, তখন তোমরা, যারা আমার অনুগামী হয়েছ, তোমরাও দ্বাদশ সিংহাসনে বসে ইস্রায়েলের দ্বাদশ বংশের বিচার করবে। (মথি ১৯/২৮)
যাঁরা বিশ্বাস করবে এই চিহ্নগুলি তাদের অনুবর্তী হবে। আমার নামে তারা ভূত তাড়াবে! নতুন নতুন ভাষায় কথা বলবে। (মার্ক ১৬/১৭)
হাতে করে সাপ তুলবে এবং মারাত্মক কিছু খেলেও তাদের কোন ক্ষতি হবে না! আর তারা অসুস্থ লোকের ওপর হাত রাখলে তারা সুস্থ হবে। (মার্ক ১৬/১৮)
আপনারাই বলেন পৃথিবীতে কতজন খ্রীষ্টান আছে যারা নতুন নতুন ভাষায় কথা বলতে পারে? এবং কতজন খ্রীষ্টান আছে যারা ভূত তাড়িয়েছেন?
হাতে সাপ তুলে নিলে কিছুই হবে, মারাত্মক বিষ খেলেও তাদের কিছু হবে, কারো উপর হাত রাখলে সে সুস্থ হয়ে যাবে। এসব কাজ করতে এখন পর্যন্ত কোন খ্রীষ্টানকে দেখা যায় না।
যিনি স্বর্গ থেকে নেমে এসেছেন সেই মানবপুত্র ছাড়া কেউ কখনও স্বর্গে ওঠেনি। (যোহন ০৩/১৩)
এখানেও যীশু মিথ্যা কথা বলেছে কারন আমরা জানি যীশুর আগেও ভাববাদী এলীয় স্বর্গে গিয়েছিল।
যীশু বেশ্যা মেয়েদেরকে তাঁকে স্পর্শ করতে ও চুম্বন করতে দিতেন। (লুক ০৭/৩৪-৫০) (যোহন ১১/০১-০৫)
>>> যীশু নিজের মায়ের সাথে ভয়ঙ্কর বেয়াদবি করেছেন। নিজের মাকে হে নারী, হে নারী বলে অসৎ আচরন করতেন।
যখন সমস্ত দ্রাক্ষারস ফুরিয়ে গেল, তখন যীশুর মা তাঁর কাছে এসে বললেন, এদের আর দ্রাক্ষারস নেই। যীশু বললেন, হে নারী, তুমি আমায় কেন বলছ কি করা উচিত? আমার সময় এখনও আসেনি। (যোহন ০২/০৩-০৪)
এভাবে যীশু বারংবার তিনি তার মাকে “ওহে নারি” (Woman) বলে সম্বোধন করেছেন। এমনকি যীশু তার মাকে কখনো মা বলেই ডাকে নাই। (যোহন ১৯/২৬)
যীশুর মা যীশুর সাথে সাক্ষাৎ দানে যীশু তার মায়ের সাথে অসৎ আচরণ, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ও অপমান করেছেন। (মথি ১২/৪৬-৫০) (মার্ক ০৩/৩১-৩৫) (লুক ০৮/১৯-২১)
যীশু তার মায়ের সাথে কেমন ব্যবহার করতেন তা তো দেখলেনই। এটা কি কোন নবির পক্ষে করা মানায়?
>>> যীশু কুমারীদেরকে নিজেদের জন্য রেখে শিশু-সহ সবাইকে হত্যা করার নির্দেশ দিতেন।
এখন সমস্ত মিদিয়নীয় ছেলেদের হত্যা করো। সমস্ত মিদিয়নীয় স্ত্রীলোকদের হত্যা করো যাদের কোনো না কোনো পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক ছিল।
তুমি সমস্ত যুবতী মেয়েদের বাঁচতে দিতে পারো। কিন্তু কেবল তখনই যদি তাদের সঙ্গে কোনো পুরুষের যৌন সম্পর্ক না থেকে থাকে। (গণনা পুস্তক ৩১/১৭-১৮)
এটা কেমন বিধান যেখানে কুমারী নারীদের নিজেদের জন্য রেখে বাকি সবাইকে হত্যা করতে বলতেন?
>>> যীশু তালাকপ্রাপ্তা নারীকে বিয়ে করা ব্যাভিচারের শামিল বলেছেন।
কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, একমাত্র যৌনপাপের দোষ ছাড়া অন্য কোন কারণে কেউ যদি তার স্ত্রীকে ত্যাগ করে, তবে সে তাকে ব্যাভিচারিণী হবার পথে নামিয়ে দেয়। আর যে কেউ সেই পরিত্যক্তা স্ত্রীকে বিয়ে করে সেও যৌনপাপ করে৷ (মথি ০৫/৩২)
এটা যীশুর কেমন অযৌক্তিক বিধান? যেখানে যৌনপাপ ছাড়া কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে ছাড়তে পারবে না? এসব হাস্যকর বিধান ছাড়া আর কিছুই না।
>>> যীশু নিজ কন্যাকে দাসী বানিয়ে বিক্রি করার অনুমোদন দিয়েছেন।
কোন ব্যক্তি যদি তার কন্যাকে দাস হিসেবে বিক্রি করতে চায় তাহলে তার মুক্তি পাওয়ার নিয়ম পুরুষ দাসদের নিয়মের থেকে আলাদা হবে।
যদি সেই মহিলার মনিব তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয় তাহলে সে তার মহিলা দাসটিকে তার পিতার কাছে ফেরত পাঠাতে পারে। যদি মনিবটি তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়, তাহলে অন্য লোকের কাছে তাকে বিক্রি করতে পারবে না কারণ সেটা হবে অন্যায়। (যাত্রাপুস্তক ২১/০৭-০৮)
যীশু কিভাবে এই দাস বিক্রির অনুমোদন দিতে পারে আপনারাই বিবেচনা করেন।
>>> যীশু সৎ মাকে ধর্ষণের অনুমোদন দিয়েছে।
ইস্রায়েল এই স্থানে অল্পকাল রইলেন। এই স্থানেই রূবেণ তার পিতার দাসী বিল্ডার কাছে গেল এবং তার সাথে শয়ন করল। ইস্রায়েল এই খবর জানতে পেরে অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হলেন। যাকোবের ১২টি পুত্র ছিল। (আদিপুস্তক ৩৫/২২) (০২ স্যামুয়েল ১৬/২২)
>>> যীশু ভাবির সাথে দেবরের যৌন সম্পর্কের অনুমোদন দিয়েছে।
তখন যিহূদা এরের ভাই ওননকে বলল, যাও তোমার মৃত ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে শয়ন কর। তার স্বামী হও। নিজের ভাই এরের জন্য বংশ উৎপন্ন কর।
ওনন বুঝল মিলনের ফলে সন্তানসন্ততি হলে তা তার হবে না। ওনন তাই যৌন সঙ্গম করল। সে তার শরীরের অভয়ন্তরে বীর্য ত্যাগ করল না।
এই কাজে প্রভু ক্রুদ্ধ হলেন এবং ওননকেও মেরে ফেললেন। (আদিপুস্তক ৩৮/০৮-০৯-১০)
ভাবি তার দেবরের সাথে যৌন সম্পর্কে করে আর দেবর যৌনমিলন করে যখন তার ভাবির শরিরে বীর্য ত্যাগ না করে তখন বাইবেলের ইশ্বর রেগে দেবরকে মেরে ফেলে। চিন্তা করেন এই যৌনতায় বাইবেলের ইশ্বরের সম্মতি ছিল যার জন্যই দেবরকে মেরে ফেললো।
>>> যীশু অস্থায়ী/মুতা বিয়েকে অনুমোদন দিয়েছে।
বিয়ে করার পর যদি কোন পুরুষ তার স্ত্রীর মধ্যে এমন কিছু লজ্জাকর জিনিষ দেখে যার জন্য সে তার প্রতি সন্তুষ্ট না হয়, তবে সে ত্যাগ পত্র লিখে তাকে বাড়ী থেকে বিদায় করে দেবে।
সেই ঘর ত্যাগ করার পর সেই স্ত্রী গিয়ে অন্য কোন পুরুষের স্ত্রী হতে পারে। (দ্বিতীয় বিবরন ২৪/০১-০২)
এটা কেমন বিধান? স্ত্রীর কোন জিনিস খারাপ লাগলেই তাকে বিদায় করে দিবে?
>>> উলঙ্গ হয়ে চলাফেরা করা অনুমোদিত।
সেই সময় প্রভু আমোসের পুত্র যিশাইয়ের মাধ্যমে কথাবার্তা বলেছিলেন। প্রভু বলেন, যাও, তোমার কোমর থেকে দুঃখের কাপড় সরাও। পা থেকে জুতো খুলে ফেল। যিশাইয় প্রভুর আদেশ পালন করল। খালি পায়ে, খালি গায়ে যিশাইয় চারদিকে ঘুরে বেড়াল।
তারপর প্রভু বললেন, যিশাইয় তিন বছর ধরে খালি পায়ে খালি গায়ে ঘুরে বেড়িয়েছে। এটা মিশর এবং কৃশ দেশের কাছে একটা নিদর্শন। (ইসাইয়া ২০/০২-০৪)
বাইবেলের ইশ্বর লেংন্টা হয়ে ঘুরে বেড়ানোরও অনুমতি দিয়েছে! আবার এই লেংন্টা হয়ে ঘুরে বেড়ানোই নাকি নিদর্শন।
>>> যীশু বিদেশিদের এলাকায় গিয়ে তাদেরই মন্দির, মূর্তি, বেদী ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে আসা অনুমোদন দিয়েছে।
তাদের বেদী ধ্বংস কর। যে পাথরকে তারা পূজো করে তা ভেঙ্গে ফেলো। তাদের পবিত্র দণ্ডগুলি ধ্বংস করো। (যাত্রাপুস্তক ৩৪/১৩)
এটা কেমন বিধান? অন্য ধর্মের মানুষদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে তাদের বেদী, মূর্তি, ভেঙ্গে ফেলা।
>>> যীশু অহেতুক গাছপালা, অবুঝ পশুপাখিকে হত্যা করতেন।
পরদিন সকালে তিনি যখন জেরুশালেমে ফিরছিলেন, সেই সময় যীশুর খিদে পেল৷
তিনি পথের ধারে একটি ডুমুর গাছ দেখতে পেয়ে সেই গাছটার কাছে গেলেন৷ কিন্তু পাতা ছাড়া তাতে কিছু দেখতে পেলেন না৷ তখন তিনি সেই গাছটিকে বললেন, তোমাতে আর কখনও ফল হবে না। আর সেইডুমুর গাছটি শুকিয়ে গেল৷
এই ঘটনা দেখে শিষ্যরা আশ্চর্য হয়ে বললেন, এই ডুমুর গাছটা এত তাড়াতাড়ি কেমন করে শুকিয়ে গেল? (মথি ২১/১৮-২০) (মার্ক ১১/১২-২১)
যীশুর কি এমন অমানবিক কাজটা করা খুব দরকার ছিল? আর এটা কি কখনো কোন নবির পক্ষে মানায়?
তখন সে যীশুর কাছে মিনতি করতে লাগল, যেন তিনি তাদের সেই অঞ্চল থেকে তাড়িয়ে না দেন।
সেখানে পর্বতের পাশে একদল শুয়োের চরছিল।
আর তারা (অশুচি আত্মারা) যীশুকে অনুনয় করে বলল, 'আমাদের এই শুয়োরের পালের মধ্যে ঢুকতে হুকুম দিন৷
তিনি তাদের অনুমতি দিলে সেই অশুচি আত্মারা বের হয়ে শুয়োরদের মধ্যে ঢুকে পড়ল৷ তাতে সেই শুয়োরের পাল, কমবেশী দুহাজার শুয়োর দৌড়ে ঢালু পাড় দিয়ে হ্রদে গিয়ে পড়ল এবং ডুবে মরল। (মার্ক ০৫/১০-১৩)
এখানে যীশু শয়তানদেরকে কেন নিরীহ শুয়োরের মধ্যে ঢোকার অনুমতি দিলেন? যীশুর অনুমতির কারনেই আজ শুয়োরগুলো মারা গেল।
>>> যীশু মদ্যপান করতেন এবং নিজে তার অনুসারীদের মদ বানিয়ে খাওয়াতেন!
যখন সমস্ত দ্রাক্ষারস ফুরিয়ে গেল, তখন যীশুর মা তাঁর কাছে এসে বললেন, এদের আর দ্রাক্ষারস নেই।
যীশু বললেন, হে নারী, তুমি আমায় কেন বলছ কি করা উচিত? আমার সময় এখনও আসেনি।
তাঁর মা চাকরদের বললেন, ইনি তোমাদের যা কিছু করতে বলেন তোমরা তাই কর।
ইহুদী ধর্মের রীতি অনুসারে আনুষ্ঠানিকভাবে হাত পা ধোয়ার জন্য সেই জায়গায় পাথরের ছটা জলের জালা বসানো ছিল। এই জালাগুলির প্রতিটিতে আশি থেকে একশ লিটার জল ধরত।
যীশু সেই চাকরদের বললেন, এই জালাগুলিতে জল ভরে আন৷ তখন তারা জালাগুলি কানায় কানায় ভরে দিল।
তারপর যীশু তাদের বললেন, এর থেকে কিছুটা নিয়ে ভোজের কর্তার কাছে নিয়ে যাও। তখন তারা তাই করল।
জল যা দ্রাক্ষারসে পরিণত হয়েছিল, ভোজের কর্তা তা আস্বাদ করলেন। সেই দ্রাক্ষারস কোথা থেকে এল তা তিনি জানতেন না। কিন্তু যে চাকরেরা জল এনেছিল তারা তা জানত। তারপর তিনি বরকে ডাকলেন।
তিনি বললেন, সাধারণতঃ প্রথমে লোকে ভাল দ্রাক্ষারস পরিবেশন করে আর অতিথিরা যখন মাতাল হয়ে ওঠে তখন তাদের নিম্নমানের দ্রাক্ষারস পরিবেশন করা হয়, অথচ আমি দেখছি তোমরা ভাল দ্রাক্ষারস এখনও রেখে দিয়েছ। (যোহন ০২/০৩-১০)
আমি তোমাদের বলছি, এখন থেকে আমি এইদ্রাক্ষারস আর কখনও পান করব না, যে পর্যন্ত না আমার পিতার রাজ্যে তোমাদের সঙ্গে নতুন দ্রাক্ষারস পান করি। (মথি ২৬/২৯)
আপনারা দেখলেন যীশু কিভাবে পানিকে মদ বানিয়ে তার শিষ্যদের ও মেহমানদের খাওয়াতেন। এবং যীশু নিজেও মদ খেতেন (মথি ২৬/২৯) তার বক্তব্য দ্বারাই প্রমানিত।
>>> যীশুকে বিশ্বাস না করলেই হত্যা করার আদেশ দিতেন।
কিন্তু যাঁরা আমার শত্রু, যাঁরা চায় নি যে আমি তাদের ওপর রাজত্ব করি, তাদের এখানে নিয়ে এসে আমার সামনেই মেরে ফেল। (লুক ১৯/২৭)
এমন অমানবিক বিধান আর কি হতে পারে? যীশুকে বিশ্বাস না করলেই হত্যা করতে হবে।
এখন আপনারাই বিবেচনা করেন এমন অসামাজিক, অমানবিক আচরণ কার্যকলাপ কি কোন ইশ্বরের পক্ষে করা শোভা পায়?
📄 বাইবেল অনুযায়ী এক স্ত্রী থেকে অন্য স্ত্রীকে বেশি ভালোবাসা বৈধ।
বাইবেল অনুযায়ী কারো যদি দুইজন স্ত্রী থাকে তাহলে একজন স্ত্রীর থেকে আরেকজন স্ত্রীকে বেশি ভালোবাসা বৈধ। এবং দুই স্ত্রীই যদি সন্তান প্রসব করে তাহলে অবশ্যই যে স্ত্রীকে সে ভালোবাসে না তার হতে হবে।
আসুন এবার বাইবেল থেকে বিস্তারিত দেখি বাইবেল অমানবিক, অযৌক্তিক বিধানটা।
কোন ব্যক্তির দু'জন স্ত্রী থাকতে পারে এবং সে একজন স্ত্রীকে আরেকজনের থেকে বেশী ভালোবাসতে পারে। কিন্তু যদি দু'জন স্ত্রীই তার জন্য সন্তান প্রসব করে এবং প্রথম সন্তানটি সে যে স্ত্রীকে ভালোবাসে না তার হয়। (দ্বিতীয় বিবরন ২১/১৫)
এটা কেমন বিধান যেখানে ইশ্বর বলেন একজন স্ত্রীর থেকে আরেকজন স্ত্রীকে বেশি ভালোবাসা যাবে! এই কথার দ্বারা বোঝা যাচ্ছে তিনি সুবিচার করতে সক্ষম নন। এবং দুই স্ত্রীই যদি সন্তান প্রসব করে তাহলে প্রথম সন্তান যেন যে স্ত্রীকে ভালোবাসে না তার হয় এটা কেমন বিধান?
এ বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেন :-
যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, (নারী) ইয়াতীমদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে নারীদের মধ্য হতে নিজেদের পছন্দমত দুই-দুই, তিন-তিন ও চার-চার জনকে বিবাহ কর, কিন্তু যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, তোমরা সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে একজনকে কিংবা তোমাদের অধীনস্থ দাসীকে! এটাই হবে অবিচার না করার কাছাকাছি। (সূরা নিসা, আয়াত : ০৩)
আলহামদুলিল্লাহ কোরআন স্পষ্ট করে বলেছে যদি সুবিচার করতে না পার তাহলে একটিই বিবাহ করতে হবে। আর বাইবেল অনুযায়ী যতখুশি তত বিয়ে করা যাবে এবং কারো যদি অধিক স্ত্রী থাকে তাদের সাথে সুবিচার না করলেও কোন সমস্যা নাই।
এখন আপনারাই বিবেচনা করেন কোন ধর্মটা শান্তির কথা বলে! কোন ধর্মটা নারীদের সুবিচার দেয়।
📄 বাইবেল অনুযায়ী স্ত্রীকে তালাক দিয়ে অন্য কোন নারীকে বিবাহ করা ব্যাভিচার।
বাইবেল অনুযায়ী নিজের স্ত্রীকে তালাক দিয়ে অন্য কাউকে বিবাহ করা ব্যাভিচার এবং স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিয়ে অন্য কাউকে বিবাহ করলে সেও ব্যাভিচার করে।
এবার আসেন দেখি বাইবেলের ইশ্বর হাস্যকর বিধানটি দেখে নেই দলিল সহকারে।
যীশু তাদের বললেন, কেউ যদি নিজের স্ত্রীকে ত্যাগ করে অন্য কাউকে বিয়ে করে তবে সে তার বিরুদ্ধে ব্যাভিচার করে। (মার্ক ১০/১১)
যদি সেই স্ত্রীলোকটি নিজের স্বামীকে ত্যাগ করে আর একজনকে বিয়ে করে সেও ব্যাভিচার করে। (মার্ক ১০/১২)
এটা কেমন অযৌক্তিক বিধান? তালাক দেওয়ার পরও অন্য কাউকে বিবাহ করলে সেটা ব্যাভিচার হয়? এসব হাস্যকর বিধান অসংখ্য খ্রীষ্টানরা বাতিল করে জীবন পরিচালনা করছেন।
আপনারাই বিবেচনা করেন এমন অযৌক্তিক বিধান মেনে চলা কি আদৌ সম্ভব?
📄 বাইবেল অনুযায়ী কোন অজ্ঞাত ব্যাক্তির লাশ পেলে তার বিধান কি?
কোন অজ্ঞাত মৃত মানুষের লাশ পাওয়া গেলে সেক্ষেত্রে বাইবেল একটি অযৌক্তিক বিধান দিয়েছেন। যেটা বর্তমান সময়ে কখনো পালন করা কখনোই সম্ভব হবে না।
যদি কোন অজ্ঞাত মৃত মানুষের লাশ পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে কি করতে হবে বাইবেল থেকে দলিল সহকারে দেখে নেই।
প্রভ তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের যে দেশ দিচ্ছেন, সেখানকার ক্ষেতে যদি তোমরা কোনো মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখ, কিন্তু কে হত্যা করেছে তা যদি জানা না যায়। (দ্বিতীয় বিবরন ২১/০১)
তখন তোমাদের দলনেতারা এবং বিচারকরা সেখানে যাবে এবং নিহত ব্যক্তির চারদিকের শহরগুলোর দূরত্ব পরিমাপ করবে। (দ্বিতীয় বিবরন ২১/০২)
যখন তোমরা জানতে পারবে কোন শহরটি নিহত ব্যক্তির সবথেকে কাছে, তখন সেই শহরের দলনেতারা তাদের পশুশালা থেকে এমন একটি গোবতস নিয়ে আসবে যাকে কখনই কোন কাজে ব্যবহার করা হয় নি এবং যে যোযালি বহন করে নি। (দ্বিতীয় বিবরন ২১/০৩)
সেই শহরের দলনেতারা তখন গোবতসটিকে এমন একটি উপত্যকায় নামিয়ে আনবে যেখানে সবসময় জলের স্রোত বয়। এটিকে অবশ্যই এমন একটি উপত্যকা হতে হবে যা কখনও চাষ করা হয়নি বা যেখানে কিছু রোপণ করা হয়নি। এরপর নেতারা সেই উপত্যকায় গোবতসটির ঘাড় ভাঙ্গবে। (দ্বিতীয় বিবরন ২১/০৪)
যাজকরা, লেবীর উত্তরপুরুষরা অবশ্যই সেখানে যাবে। (প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তাঁর সেবার জন্য এবং তাঁর নামে লোকদের আশীর্বাদ করার জন্য এই যাজকদের নির্বাচিত করেছেন। এবং সমস্ত বিবাদ ও আঘাতের বিচার তারাই করবেন)। (দ্বিতীয় বিবরন ২১/০৫)
নিহত ব্যক্তির সব থেকে কাছের শহরের সমস্ত নেতারা উপত্যকায় যে গোবতসের ঘাড় ভাঙ্গা হয়েছিল তার ওপরে অবশ্যই তাদের হাত ধোবে। (দ্বিতীয় বিবরন ২১/০৬)
এই নেতারা বলবে, আমরা এই ব্যক্তিকে হত্যা করিনি এবং আমরা এটি ঘটতেও দেখিনি। (দ্বিতীয় বিবরন ২১/০৭)
হে প্রভু, তুমি যে ইস্রায়েলকে রক্ষা করেছিলে তাদেরই শুদ্ধ করো। একজন নিরপরাধ লোককে হত্যা করার দোষ আমাদের ওপর চাপিও না। এই ভাবে একজন নিরপরাধ লোককে হত্যা করার জন্য ঐ সমস্ত লোকদের দোষ ক্ষমা করা হবে। (দ্বিতীয় বিবরন ২১/০৮)
এই ভাবে তোমরা প্রভুর চোখে যা যথার্থ তাই করবে এবং তোমাদের জাতি থেকে নিরপরাধের রক্তপাতের দোষ দূর করবে। (দ্বিতীয় বিবরন ২১/০৯)
যদি কোন অজ্ঞাত মৃত মানুষের লাশ পাওয়া সেক্ষেত্রে লাশটি যে শহরের কাছে পাওয়া যাবে সেই শহরের নেতারা গোবৎসের ঘাড় মটকাবে কেন? এসব কেমন অযৌক্তিক বিধান? বর্তমানে এসব উদ্ভট বিধান কি আদৌ সম্ভব?
এই বিধান কার্যকর করা হলে দেশে হত্যা প্রচুর পরিমাণে বেড়ে যাবে। আর হত্যাকারীও পার পেয়ে যাবে।
এখন আপনারাই বিবেচনা করেন এসব কি সব উদ্ভট বিধান দিয়েছেন রেখেছে বাইবেলের ইশ্বর। যা বর্তমান সময়ে আদৌ কার্যকর করা সম্ভব নয়!