📘 খ্রিস্টান ধর্ম খন্ডন রদ্দে ক্রিশ্চিয়ানিটি 📄 বাইবেলের ঈশ্বর যখন তার সৃষ্টির হাতে মার খায় ও অপমান অপদস্ত হয়।

📄 বাইবেলের ঈশ্বর যখন তার সৃষ্টির হাতে মার খায় ও অপমান অপদস্ত হয়।


বাইবেলের (যীশু-ইশ্বরকে) তার সৃষ্টি করা মানুষরা কিভাবে অপমান অপদস্ত করে এবং চড়, ঘুশি, থুথু, লাঠি দিয়ে মার দেয় সেটা দেখবো।

ইশ্বর যখন তার সৃষ্টির হাতে জঘন্য ভাবে মার খায়! এবার আপনারাই বলেন ইশ্বরকে কে কি কখনো মারা যায়? হুম এমনটাই বলছে বাইবেল আসেন দেখি বাইবেল কি বলে?
তখন তারা যীশুর মুখে থুথু দিল ও তাঁকে ঘুসি মারল। (মথি ২৬/৬৭)

কেউ কেউ তাঁকে চড় মারল ও বলল, ওরে খ্রীষ্ট, আমাদের জন্য কিছু ভাববানী বল, কে তোকে মারল? (মথি ২৬/৬৮)

তারা তাঁর মুখে থুথু দিল ও তাঁর লাঠিটি নিয়ে তাঁর মাথায় মারতে লাগল৷ (মথি ২৭/৩০)

তারা তাঁর মাথায় একটা লাঠি দিয়ে বার বার মারতে লাগল ও তাঁর গায়ে থুথু ছিটিয়ে দিল৷ তাঁর সামনে হাঁটু গেড়ে তাঁকে প্রণাম করতে থাকল। (মার্ক ১৫/১৯)

কি আপনাদের হাসি পাচ্ছে? হুম এমন অযৌক্তিক কথা দিয়ে গোটা বাইবেলটাই ভয়পুর। ইশ্বরের সৃষ্টি করা মানুষরা ইশ্বরকে চড়, লাথি, ঘুশি, থুথু, লাঠি দিয়ে মারে আবার তাকে ক্রুশে দিয়ে মেরেও ফেলে।

এখন আপনারাই বিবেচনা করেন যীশু কি আসলেই ইশ্বর ছিল নাকি নবি হিসাবে সে একজন সাধারন মানুষ ছিলেন!

📘 খ্রিস্টান ধর্ম খন্ডন রদ্দে ক্রিশ্চিয়ানিটি 📄 বাইবেলের (ঈশ্বর) যখন শয়তান দ্বারা অপহরণের শিকার।

📄 বাইবেলের (ঈশ্বর) যখন শয়তান দ্বারা অপহরণের শিকার।


বাইবেলের ইশ্বরকে শয়তান অপহরণ করে পাহাড়ের চুড়ায় নিয়ে (৪০) দিন (৪০) রাত না খাওয়ায় রেখেছিল। এবার তাহলে বোঝেন বাইবেলের ইশ্বর কতটা শক্তিশালি? যে তার সৃষ্টিই তাকে অপহরন করে!

আসুন এবার বাইবেলের (ইশ্বর - যীশুর) অপহরণের কাহিনিটি বাইবেল থেকে দেখি!
এরপর দিয়াবল যেন যীশুকে পরীক্ষা করতে পারে তাই আত্মা যীশুকে প্রান্তরে নিয়ে গেলেন। (মথি ০৪/০১)

একটানা চল্লিশ দিন ও চল্লিশ রাত সেখানে উপোস করে কাটানোর পর যীশু ক্ষুধিত হলেন। (মথি ০৪/০২)

এরপরই আত্মা যীশুকে প্রান্তরে নিয়ে গেলেন। (মার্ক ০১/১২)

সেখানে তিনি চল্লিশ দিন ছিলেন, সেই সময় শয়তান তাঁকে প্রলুব্ধ করছিল। তিনি বন্য পশুদের সঙ্গে থাকতেন আর স্বর্গদূতরা এসে তাঁর সেবা করতেন। (মার্ক ০১/১৩)

মথির অনুচ্ছেদ গুলোতে মিথ্যা কথা বলা হয়েছে! কারন যীশু তার জীবন ধশায় কখনো (৪০) দিন (৪০) রাত উপোস করেন নাই এবং কাউকে তা করতেও বলে নাই।

এখানে শয়তান তাকে অপহরন করে নিয়ে গিয়েছিল তাই যীশু (৪০) দিন (৪০) রাত খাওয়ার জন্য কোন কিছু পায় নাই। আর তারা এখানে লিখছে তিনি নাকি উপোস ছিলেন! যীশুকে শয়তান অপহরণ করে নিয়ে গেছে আর তখন তিনি উপোস থাকলেন কি হাস্যকর তথ্য!

যদি বলেন যীশু সত্যিই উপোস ছিলেন তাহলে তার প্রত্যেকটা অনুসারীদেরও যীশুর মত (৪০) দিন (৪০) রাত উপোস থাকতে হবে! কারন যীশু বলেছেন তার শিষ্যরা তাকে অনুসরন করে (যোহন ১০/২৭)।

দিয়াবল তখন পবিত্র নগরী জেরুশালেমের মন্দিরের চূড়ায় যীশুকে নিয়ে গেল। (মথি ০৪/০৫)

আর যীশুকে বলল, তুমি যদি ঈশ্বরের পুত্র হও তবে লাফ দিয়ে নীচে পড়, কারণ শাস্ত্রে তো একথা লেখা আছে: 'তিনি তাঁর স্বর্গদূতদের তোমার উপর দৃষ্টি রাখতে আদেশ দেবেন আর তারা তোমাকে তুলে ধরবেন, যেন পাথরের উপর পড়ে তোমার পায়ে আঘাত না লাগে৷ (মথি ০৪/০৬)

যীশু তখন তাকে বললেন, শাস্ত্রে একথাও লেখা আছে, তোমার প্রভু ঈশ্বরকে তুমি পরীক্ষা করবে না। (মথি ০৪/০৭)

এখানে যীশু ভয়তে হয়তো লাফ দেয় নাই এখানে শয়তান ইশ্বরকে পরিক্ষা করতে চায় নাই পরিক্ষা করতে চেয়েছে যীশুকে! যদি যীশু সত্যিই ইশ্বরের পুত্র হত তিনি অবশ্যই লাফ দিতেন আর স্বর্গদূতরা তাকে রক্ষা করতেন। আর শয়তানও তাকে বিশ্বাস করতো যীশু সত্যিই ইশ্বরের পুত্র। এই সাধারন কাজটা করলেই শয়তান তাকে ইশ্বরের পুত্র হিসাবে মেনে নিত কিন্তু তিনি তা করলেন না।

আর বাইবেলের ইশ্বর স্পষ্টভাবে তার অনুসারীদের যেকোন পরিক্ষা দিতে বলেছে যাতে তারা বুঝতে পারে যে তারা বিশ্বাসী কিনা? আর এটাও বলেছে তারা পরিক্ষা দিলে তাদের সব রকম সাহায্য করবেন তিনি! এমনকি তাদের কোন প্রকারের কোন ক্ষতি তিনি হতে দিবেন না (সামসংঙ্গীত ৯১/১১-১৬)।

এরপর দিয়াবল আবার তাঁকে খুব উঁচু একটা পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে জগতের সমস্ত রাজ্য ও তার সম্পদ দেখাল। (মথি ০৪/০৮)

পরে দিয়াবল যীশুকে বলল, তুমি যদি আমার সামনে মাথা নত করে আমার উপাসনা কর, তবে এসবই আমি তোমায় দেব। (মথি ০৪/০৯)

তখন যীশু তাকে বললেন, দূর হও শয়তান! কারণ শাস্ত্রে লেখা আছে, তোমরা অবশ্যই প্রভু ঈশ্বরেরই উপাসনা করবে, একমাত্র তাঁরই সেবা করবে। (মথি ০৪/১০)

তখন দিয়াবল তাঁকে ছেড়ে চলে গেল আর স্বর্গদূতরা এসে যীশুকে রক্ষা করলেন। (মথি ০৪/১১)

এখান থেকে স্পষ্ট দেখতে পেলাম শয়তান (যীশু - ইশ্বরকে) অপহরণ করে পাহাড়ের চুড়ায় নিয়ে (৪০) দিন (৪০) রাত না খাওয়ায় রেখেছিল এবং যীশুকে শয়তান বলছে তার উপসনা করতে। চিন্তা করা যায় স্বয়ং ঈশ্বরকেই তার সৃষ্টি করা শয়তান অপহরণ করে আর বলে তার উপসনা করতে। শয়তান যীশুকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর স্বর্গদূতরা এসে যীশুকে রক্ষা করে।

এখানে আমার একটা প্রশ্ন আছে সেটা হল শেষ বিচারের দিন যখন ইশ্বর সবার বিচার করবেন তখন ইশ্বর যদি শয়তানকে বলে কেন তুমি আমাকে প্রলোভন দেখিয়ে অপহরন করে পাহাড়ের চুড়ায় নিয়ে (৪০) দিন (৪০) রাত না খাওয়ার রেখেছিলে? তখন শয়তান যদি বলে হে ইশ্বর আমি কিভাবে আপনার সৃষ্টি হয়ে আপনাকে প্রলোভন দেখাবো তখন ইশ্বর কিভাবে মুখ দেখাবে তার সামনে?

তখন বাইবেলের ইশ্বরের উচিত হবে লজ্জায় মরে যাওয়া! কারন যে ইশ্বর তার সৃষ্টির কাছে প্রতারিত ও অপহরণ হয় সে আবার কেমন ইশ্বর? আপনারা হয়তো বুঝতেই পারছেন এতক্ষনে।

খ্রীষ্টানরা ইসলাম ধর্মের একটি হাদিস নিয়ে বেশ আপত্তি ও ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে থাকে। যেই হাদিসটি নিয়ে আপত্তি ও অভিযোগ করে থাকে সেখানে বলা হয়েছে রাসূল সাঃ বলে আত্নহত্যা করতে চেয়েছিলেন। এবার আসেন খ্রীষ্টানদের এই হাদিসটির বিরুদ্ধে অভিযোগ খন্ডন করবো। প্রথমেই হাদিসটি দেখে নেই :-

আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত :-
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওয়াহীর শুরু হয় ঘুমের ঘোরে ভালো স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন তা ভোরের আলোর মত উদ্ভাসিত হতো। তিনি হেরা গুহায় গিয়ে সেখানে বেশ কয়েক রাত 'ইবাদাতে কাটিয়ে দিতেন এবং এজন্য খাদ্য দ্রব্যও সঙ্গে নিয়ে যেতেন। এরপর খাদীজাহ (রাঃ)-এর কাছে ফিরে আসতেন এবং তিনি তাকে এরূপ খাদ্য দ্রব্য তৈরি করে দিতেন। শেষে তাঁর কাছে সত্যের বাণী (ওয়াহী) আসল। আর এ সময় তিনি হেরা গুহায় ছিলেন।
সেখানে ফেরেশতা এসে তাঁকে বলল, আপনি পড়ুন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি বললামঃ আমি তো পাঠক নই। তখন তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে শক্ত করে চেপে ধরলেন। এমনকি এতে আমার খুব কষ্ট হল। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিলেন এবং বললেন, আপনি পড়ুন। আমি বললাম, আমি পাঠক নই। তিনি দ্বিতীয়বার আমাকে শক্ত করে চেপে ধরলেন। এবারেও এতে আমার খুব কষ্ট হল। অতঃপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, আপনি পড়ুন। আমি বললাম, আমি তো পাঠক নই। এরপর তিনি তৃতীয়বার আমাকে শক্ত করে এমন চেপে ধরলেন যে, এবারেও এতে আমার খুব কষ্ট হল। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, পাঠ করুন, আপনার প্রতিপালকের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন......যা সে জানত না (সূরাহ আল-ইনশিরাহ ৯৪/১-৫) এ আয়াত পর্যন্ত।

এরপর তিনি তা নিয়ে খাদীজাহ (রাঃ)-এর কাছে কম্পিত হৃদয়ে ফিরে এলেন। আর বললেন, আমাকে কম্বল দিয়ে ঢেকে দাও। আমাকে কম্বল দিয়ে ঢেকে দাও। ফলে তাঁরা তাঁকে কম্বল দিয়ে ঢেকে দিলেন। অবশেষে তাঁর থেকে ভীতি দূর হয়ে গেল। এরপর তিনি বললেন, হে খাদীজাহ! আমার কী হল? এবং তাকে সমস্ত ঘটনা জানালেন। আর বললেনঃ আমি আমার জীবন সম্পর্কে শঙ্কাবোধ করছি। খাদীজাহ (রাঃ) তাকে বললেন, কক্ষনো না। আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আল্লাহর কসম, আল্লাহ্ আপনাকে কখনই লাঞ্ছিত করবেন না। কেননা, আপনি তো আত্মীয়তার বন্ধন জুড়ে রাখেন, সত্যকথা বলেন, অনাথ অক্ষমদের বোঝা বহন করেন, মেহমানদের মেহমানদারী করেন এবং হকের পথে আগত যাবতীয় বিপদে সাহায্য করেন। অতপর খাদীজাহ (রাঃ) তাঁকে নিয়ে চললেন। অতঃপর তাঁকে নিয়ে ওরাকা ইবনু নাওফল ইবনু আসাদ ইবনু 'আবদুল উযযা ইবনু কুসাই-এর কাছে এলেন। আর তিনি, খাজীদাহ (রাঃ)-এর চাচার পুত্র (চাচাত ভাই) এবং তার পিতার পক্ষ থেকে চাচাও ছিলেন। তিনি জাহিলীয়াতের যুগে খৃষ্ট ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি আরবী কিতাব লিখতেন। তাই সে ইন্জীল আরবীতে অনুবাদ করতেন- যতখানি লেখা আল্লাহর মনযুর হত। তিনি ছিলেন অতি বৃদ্ধ, দৃষ্টিশক্তিহীন লোক। খাদীজাহ (রাঃ) তাকে বললেন, হে আমার চাচাতো ভাই! তোমার ভাতিজার কথা শুন। তখন ওরাকা বললেন, হে ভাতিজা! তুমি কী দেখেছ?
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু দেখেছিলেন তা তাকে জানালেন। তখন ওরাকা বললেন, এতো আল্লাহর সেই নামুস (দূত) যাঁকে মূসা (আঃ)-এর কাছে প্রেরণ করা হয়েছিল। হায় আফসোস! যদি সেদিন আমি জীবিত থাকতাম যেদিন তোমার কাওম তোমাকে বের করে দেবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন ঃ তারা কি আমাকে বের করে দেবে? ওরাকা বললেন, হ্যাঁ তুমি যা নিয়ে এসেছ, এমন বস্তু নিয়ে কোনদিনই কেউ আসেনি যার সঙ্গে শত্রুতা করা হয়নি। যদি তোমার জীবনকাল আমাকে পায়, তাহলে আমি সর্বতোভাবে তোমাকে সাহায্য করব। এরপর কিছু দিনের মধ্যেই ওরাকার মৃত্যু হয়। আর কিছু দিনের জন্য ওয়াহীও বন্ধ থাকে।

এমনকি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ অবস্থার কারণে অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে পড়লেন। এমনকি আমরা এ সম্পর্কে তার থেকে জানতে পেরেছি যে, তিনি পর্বতের চূড়া থেকে নিচে পড়ে যাবার জন্য একাধিকবার দ্রুত সেখানে চলে গেছেন। যখনই নিজেকে ফেলে দেয়ার জন্য পর্বতের চূড়ায় পৌঁছতেন, তখনই জিব্রীল (আঃ) তাঁর সামনে আত্মপ্রকাশ করে বলতেন, হে মুহাম্মাদ! নিঃসন্দেহে আপনি আল্লাহর রাসূল। এতে তাঁর অস্থিরতা দূর হত এবং নিজ মনে শান্তিবোধ করতেন। তাই সেখান থেকে ফিরে আসতেন। ওয়াহী বন্ধ অবস্থা যখন তাঁর উপর দীর্ঘ হত তখনই তিনি ঐরূপ উদ্দেশ্যে দ্রুত চলে যেতেন। যখনই তিনি পর্বতের চূড়ায় পৌঁছতেন, তখনই জিব্রীল (আঃ) তাঁর সামনে আত্মপ্রকাশ করে আগের মত বলতেন। [সহিহ বুখারী, হাদিস নং: ৬৯৮২ হাদিসের মান: সহিহ হাদিস]

এই হাদিসটি রাসূল (সাঃ) এর নবুয়তের প্রথম দিকে হাদিস যেখানে সর্বপ্রথম রাসূল সাঃ এর কাছে ওহি এসেছিল। রাসূল সাঃ এর কাছে ওহি আসার পর দীর্ঘদিন তার কাছে আর কোন ওহি আসে নাই। রাসূল (সাঃ) চিন্তায় পড়ে গিয়েছিল সে কি আসলেই আল্লাহর রাসূল?

পরে যখন বহুদিন কোন ওহি আসছিল না তখন তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন তখন তিনি বিষন্ন মন নিয়ে পাহাড়ের চুড়ায় গিয়েছিলেন যে তিনি পাহাড় থেকে নিজেকে নিচে ফেলে দিবেন।

যখনই তিনি পাহাড় থেকে নিজেকে ফেলতে যেতেন তখনই জিবরাইল আঃ এসে তাকে বাঁধা দিতেন আর তিন বলতেন হে, মুহাম্মদ নিঃসন্দেহে আপনি আল্লাহর রাসূল। এতে তাঁর অস্থিরতা দূর হত এবং নিজ মনে শান্তিবোধ করতেন। তাই সেখান থেকে ফিরে আসতেন। ওয়াহী বন্ধ অবস্থা যখন তাঁর উপর দীর্ঘ হত তখনই তিনি ঐরূপ উদ্দেশ্যে দ্রুত চলে যেতেন। যখনই তিনি পর্বতের চূড়ায় পৌঁতেন, তখনই জিব্রীল (আঃ) তাঁর সামনে আত্মপ্রকাশ করে আগের মত বলতেন।

এটি আত্মহত্যা নিষিদ্ধ হবার আগের আমল ছিল। তাই এটি কোন দোষণীয় আমল ছিল না। নিষিদ্ধ হবার পর রাসূল সাঃ এমন করেননি।

রাসূল সাঃ এর উপরোক্ত আমলটি ছিল মানুষ হিসেবে স্বাভাবিক আমল। রাসূল সাঃ এর উপর প্রথম অহী নাজিল হবার পদ্ধতিটি ছিল খুবই অস্বাভাবিক। একটি গহীন স্থানে হঠাৎ ভিন গ্রহের একজন এসে বারবার জোরে জড়িয়ে ধরা। তারপর কিছু পড়তে বলা খুবই অস্বাভাবিক একটি বিষয়। যার ফলে একজন মানুষ স্বন্ত্রস্ত হওয়া স্বাভাবিক। আর যেহেতু তিনি নবী কি না? তা পরিস্কার ভাষায় জানিয়ে কোন আয়াতও নাজিল হয়নি। তাই তিনি ছিলেন পেরেশান। সেই সাথে কাফেরদের ষড়যন্ত্র ও হত্যা চেষ্টার কারণে মানুষ হিসেবে ছিলেন তটস্ত। তাই এমন আচরণ কোন দোষণীয় থাকে না।

সম্পূর্ণ হাদিসটি দেখলে ও সবদিক যাচাই বাছাই করে দেখলে বুঝতে পারবেন আসলে বিষয়টি কি? কিন্তু খ্রীষ্টানরা কোন প্রকার পড়াশোনা যাচাই বাছাই না করেই ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে থাকে।

তারপরও যদি খ্রীষ্টানরা বলে যে না এখানে মোহাম্মদ (সাঃ) আত্মহত্যা করতে চেয়েছে তাহলে আমরা বলবো মোহাম্মদ (সাঃ) এর চাইতে বড় আত্নহত্যাকারী ছিল যীশু! কারন খ্রীষ্টানরা নিজেরাই দাবি করে থাকে যে, যীশু নিজের ইচ্ছায় পৃথিবীতে মারা যেয়ে পাপ ক্ষমা করতে এসেছে! তার মানে দাড়াল যীশু নিজেই আত্মহত্যা করে মারা গেছে তিনি আত্নহত্যাকারী ছিলেন। আর পৃথিবীর সকল ধর্ম অনুযায়ী আত্নহত্যা করা মহাপাপ। এখানে মোহাম্মদ (সাঃ) তো আর আত্নহত্যা করে নাই বরং যীশু নিজেই আত্নহত্যা করে মারা গেছে।

যেই যুক্তি দিয়ে খ্রীষ্টানরা ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে সেই যুক্তিতে তারাই আটকে গেছে।

মোহাম্মদ (সাঃ) কে তো জিবরাইল (আঃ) এসে বাঁধা দিয়েছিলেন আর তার মনের বিষন্নতাকে দূর করেছিলেন ফলে তিনি আত্মহত্যা করেন নাই। আর এদিকে যীশু তো ভয়তে পাহাড়ের চুড়ায় থেকে লাফই দিতে চায় নাই, যদি যীশু একবার লাফ দিয়ে দিতেন তাহলেই শয়তান তাকে ইশ্বরের পুত্র হিসাবে মেনে নিত! যদিও তাদের ইশ্বর তাকে বলেছে তাকে স্বর্গদূত দিয়ে ধরে ফেলবেন তার কোন ক্ষতি হতে দিবেন না প্রমান দেখেন :- (সামসংঙ্গীত ৯১/১১-১৬)। তাদের ইশ্বরের সকল প্রকার সম্মতি সাহায্য থাকার পরও তিনি লাফ দিতে ভয় পেয়েছেন।

আলহামদুলিল্লাহ ইসলামের বিরুদ্ধে খ্রীষ্টানদের খোঁড় অভিযোগ খন্ডন করেছি।

এখন আপনারাই বলেন বাইবেলের এমন একজন ইশ্বরকে বিশ্বাস করা কতটা যৌক্তিক? যে কিনা তার সৃষ্টির কাছে প্রতারিত হয় অপহরন হয় এমনকি শয়তান পর্যন্ত ইশ্বরকে বলে তার উপসনা করতে।

📘 খ্রিস্টান ধর্ম খন্ডন রদ্দে ক্রিশ্চিয়ানিটি 📄 বাইবেলে যীশুর অসামাজিক ,অমানবিক, নিকৃষ্ট কার্যকলাপ।

📄 বাইবেলে যীশুর অসামাজিক ,অমানবিক, নিকৃষ্ট কার্যকলাপ।


বাইবেলে যীশু প্রচুর পরিমানে অসামাজিক, অমানবিক বিধান দিয়েছেন এবং তিনি নিজেও প্রচুর পরিমানে অমানবিক, অসামাজিক কাজ করেছেন।

এবার আসুন বাইবেল থেকে দলিল সহকারে দেখে নেই যীশুর সেসব অসামাজিক, অমানবিক কার্যকলাপগুলো।

>>> যীশু মানুষদেরকে (ভন্ড, শয়তান) বলে গালিগালাজ করতেন :-
যীশু ফিরে পিতরকে বললেন, দূর হও শয়তান! তুমি আমার কাছে এক বাধাস্বরূপ। তোমার মনে ঈশ্বরের বিষয়গুলি নেই কেবল মানুষের বিষয়গুলিই আছে। (মথি ১৬/২৩) (মথি ২৩/১৩-৩৩)

>>> যীশু পূর্ববর্তী (নবী-রাসূলদেরকে) চোর-ডাকাত বলতেন :-
তখন যীশু আবার তাদের বললেন, 'আমি তোমাদের সত্যি বলছি, আমি মেষদের জন্য খোঁয়াড়ের দরজা স্বরূপ। (যোহন ১০/০৭)
যাঁরা আমার আগে এসেছে তারা সব চোর ডাকাত, কিন্তু মেষরা তাদের ডাক শোনে নি। (যোহন ১০/০৮)

>>> যীশু নিরাপরাধ মানুষদেরকে অভিশাপ দিতেন :-
এই ভাবে নির্দোষ হেবলের রক্তপাত থেকে শুরু করে বরখায়ার পুত্র সখরিয়, যাকে তোমরা মন্দিরের পবিত্র স্থান ও যজ্ঞবেদীর মাঝখানে হত্যা করেছিলেন, সেই দিন থেকে আজ পর্যন্ত যত নির্দোষ ব্যক্তির রক্ত মাটিতে ঝরে পড়েছে, সেই সমস্তের দায় তোমাদের ওপরে পড়বে। (মথি ২৩/৩৫)
আমি তোমাদের সত্যি বলছি, এই যুগের লোকদের ওপর ঐ সবের শাস্তি এসে পড়বে। (মথি ২৩/৩৬)

>>> যীশু অকারণে গাছ, পশুদের অভিসাপ দিয়ে হত্যা করতেন :-
পরদিন সকালে তিনি যখন জেরুশালেমে ফিরছিলেন, সেই সময় যীশুর খিদে পেল৷ (মথি ২১/১৮)
তিনি পথের ধারে একটি ডুমুর গাছ দেখতে পেয়ে সেই গাছটার কাছে গেলেন। কিন্তু পাতা ছাড়া তাতে কিছু দেখতে পেলেন না৷ তখন তিনি সেই গাছটিকে বললেন, তোমাতে আর কখনও ফল হবে না। আর সেই ডুমুর গাছটি শুকিয়ে গেল৷ (মথি ২১/১৯)
এই ঘটনা দেখে শিষ্যরা আশ্চার্য হয়ে বললেন, এই ডুমুর গাছটা এত তাড়াতাড়ি কেমন করে শুকিয়ে গেল? (মথি ২১/২০)

এটা যীশুর কেমন বিচার? একটা গাছে ফল না থাকায় তাকে অভিশাপ দিয়ে মেরে ফেললেন? আপনারাই বিবেচনা করেন এমন নিকৃষ্ট কাজ আর কি হতে পারে?

তখন সে যীশুর কাছে মিনতি করতে লাগল, যেন তিনি তাদের সেই অঞ্চল থেকে তাড়িয়ে না দেন। (মার্ক ০৫/১০)
সেখানে পর্বতের পাশে একদল শুয়োর চরছিল। (মার্ক ০৫/১১)
আর তারা (অশুচি আত্মারা) যীশুকে অনুনয় করে বলল, আমাদের এই শুয়োরের পালের মধ্যে ঢুকতে হুকুম দিন। (মার্ক ০৫/১২)
তিনি তাদের অনুমতি দিলে সেই অশুচি আত্মারা বের হয়ে শুয়োরদের মধ্যে ঢুকে পড়ল। তাতে সেই শুয়োরের পাল, কমবেশী দুহাজার শুয়োর দৌড়ে ঢালু পাড় দিয়ে হ্রদে গিয়ে পড়ল এবং ডুবে মরল। (মার্ক ০৫/১৩)

শয়তানরা যীশুর কাছে শুয়োরের মধ্যে ঢোকার অনুমতি চাইলো আর যীশু শয়তানদের অনুমতি দিয়ে দিল। যীশুর কেন এমন অবলা প্রানীদের মধ্যে শয়তানদের ঢোকার অনুমতি দিলেন? তার এসব অযৌক্তিক কথার কারনে নিরীহ প্রানীগুলো মারা গেল।

পরের দিন বৈথনিযা ছেড়ে আসার সময় তাঁর খিদে পেল। (মার্ক ১১/১২)

দূর থেকে তিনি একটি পাতায় ভরা ডুমুর গাছ দেখে তাতে কিছু ফল পাবেন ভেবে তার কাছে গেলেন, কিন্তু গাছটির কাছে গেলে পাতা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পেলেন না। কারণ তখন ডুমুর ফলের মরশুম নয়৷ (মার্ক ১১/১৩)

তখন তিনি গাছটিকে বললেন, এখন থেকে তোমার ফল আর কেউ কোন দিন খাবে না! এই কথা তাঁর শিষ্যেরা শুনতে পেলেন৷ (মার্ক ১১/১৪)

সেই দিন সন্ধ্যে হলেই যীশু ও তাঁর শিষ্যরা মহানগরীর বাইরে গেলেন। (মার্ক ১১/১৯)

পরের দিন সকালে যেতে যেতে তাঁরা দেখলেন, সেই ডুমুর গাছটি মূল থেকে শুকিয়ে গেছে। (মার্ক ১১/২০)

পিতর আগের দিনের কথা মনে করে তাঁকে বললেন, হে গুরু, দেখুন, আপনি যে ডুমুর গাছটিকে অভিশাপ দিয়েছিলেন সেটি শুকিয়ে গেছে৷ (মার্ক ১১/২১)

এটা যীশুর কেমন বিচার একটা ডুমুর গাছকে বিনা অপরাধে মেরে ফেললেন? যেহেতু তখন ডুমুর গাছে ফলের মৌসুম ছিল না!

>>> যীশুকে যারা বিশ্বাস করে নাই তাদের মেরে ফেলার আদেশ :-
যীশুকে বিশ্বাস না করলেই সেই সব অবিশ্বাসীদেরকে নির্বিচারে ধরে ধরে তাঁর সামনে এনে মেরে ফেলার নির্দেশ দিতেন। (লুক ১৯/২৭)

এই রকম নম্র মানুষদের মধ্যে যাঁরা আমাকে বিশ্বাস করে, তাদের কারও বিশ্বাসে যদি কেউ বিঘ্ন ঘটায়, তবে তার গলায় ভারী একটা যাতা বেঁধে সমুদ্রের অতল জলে তাকে ডুবিয়ে দেওয়াই তার পক্ষে ভাল হবে৷ (মথি ১৮/০৬)

এটা যীশুর কেমন বিচার যারা তাকে বিশ্বাস করবে না তাদের মেরে ফেলতে হবে? আবার কেউ অন্য ধর্ম প্রচার করলে তাদের পানিতে ডুবিয়ে মেরে ফেলতে হবে!

>>> যীশু মিথ্যা কথা ও মিথ্যা ভবিষ্যদ্বাণী করতেন।
আমি তোমাদের সত্যি বলছি, যারা এখানে দাঁড়িয়ে আছে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ, যতক্ষণ না মনুষ্যপুত্রকে তাঁর রাজ্যে আসতে দেখে সে-পর্যন্ত মৃত্যুর আস্বাদ পাবে না। (মথি ১৬/২৮)

যীশুর স্বর্গরাজ্যে আসার আগেই তার অসংখ্য অনুসারী মৃত্যুর স্বাদ পেয়ে মারা গেছে। এখানে যীশু মিথ্যা ভবিষ্যৎবানি মিথ্যা কথা বলেছে।

যীশু তাঁদের বললেন, আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, সব বিষয়ের নতুন সৃষ্টিতে যখন মনুষ্যপুত্র মহিমার সিংহাসনে বসবেন, তখন তোমরা, যারা আমার অনুগামী হয়েছ, তোমরাও দ্বাদশ সিংহাসনে বসে ইস্রায়েলের দ্বাদশ বংশের বিচার করবে। (মথি ১৯/২৮)

যাঁরা বিশ্বাস করবে এই চিহ্নগুলি তাদের অনুবর্তী হবে। আমার নামে তারা ভূত তাড়াবে! নতুন নতুন ভাষায় কথা বলবে। (মার্ক ১৬/১৭)

হাতে করে সাপ তুলবে এবং মারাত্মক কিছু খেলেও তাদের কোন ক্ষতি হবে না! আর তারা অসুস্থ লোকের ওপর হাত রাখলে তারা সুস্থ হবে। (মার্ক ১৬/১৮)

আপনারাই বলেন পৃথিবীতে কতজন খ্রীষ্টান আছে যারা নতুন নতুন ভাষায় কথা বলতে পারে? এবং কতজন খ্রীষ্টান আছে যারা ভূত তাড়িয়েছেন?

হাতে সাপ তুলে নিলে কিছুই হবে, মারাত্মক বিষ খেলেও তাদের কিছু হবে, কারো উপর হাত রাখলে সে সুস্থ হয়ে যাবে। এসব কাজ করতে এখন পর্যন্ত কোন খ্রীষ্টানকে দেখা যায় না।

যিনি স্বর্গ থেকে নেমে এসেছেন সেই মানবপুত্র ছাড়া কেউ কখনও স্বর্গে ওঠেনি। (যোহন ০৩/১৩)

এখানেও যীশু মিথ্যা কথা বলেছে কারন আমরা জানি যীশুর আগেও ভাববাদী এলীয় স্বর্গে গিয়েছিল।

যীশু বেশ্যা মেয়েদেরকে তাঁকে স্পর্শ করতে ও চুম্বন করতে দিতেন। (লুক ০৭/৩৪-৫০) (যোহন ১১/০১-০৫)

>>> যীশু নিজের মায়ের সাথে ভয়ঙ্কর বেয়াদবি করেছেন। নিজের মাকে হে নারী, হে নারী বলে অসৎ আচরন করতেন।
যখন সমস্ত দ্রাক্ষারস ফুরিয়ে গেল, তখন যীশুর মা তাঁর কাছে এসে বললেন, এদের আর দ্রাক্ষারস নেই। যীশু বললেন, হে নারী, তুমি আমায় কেন বলছ কি করা উচিত? আমার সময় এখনও আসেনি। (যোহন ০২/০৩-০৪)

এভাবে যীশু বারংবার তিনি তার মাকে “ওহে নারি” (Woman) বলে সম্বোধন করেছেন। এমনকি যীশু তার মাকে কখনো মা বলেই ডাকে নাই। (যোহন ১৯/২৬)

যীশুর মা যীশুর সাথে সাক্ষাৎ দানে যীশু তার মায়ের সাথে অসৎ আচরণ, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ও অপমান করেছেন। (মথি ১২/৪৬-৫০) (মার্ক ০৩/৩১-৩৫) (লুক ০৮/১৯-২১)

যীশু তার মায়ের সাথে কেমন ব্যবহার করতেন তা তো দেখলেনই। এটা কি কোন নবির পক্ষে করা মানায়?

>>> যীশু কুমারীদেরকে নিজেদের জন্য রেখে শিশু-সহ সবাইকে হত্যা করার নির্দেশ দিতেন।
এখন সমস্ত মিদিয়নীয় ছেলেদের হত্যা করো। সমস্ত মিদিয়নীয় স্ত্রীলোকদের হত্যা করো যাদের কোনো না কোনো পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক ছিল।

তুমি সমস্ত যুবতী মেয়েদের বাঁচতে দিতে পারো। কিন্তু কেবল তখনই যদি তাদের সঙ্গে কোনো পুরুষের যৌন সম্পর্ক না থেকে থাকে। (গণনা পুস্তক ৩১/১৭-১৮)

এটা কেমন বিধান যেখানে কুমারী নারীদের নিজেদের জন্য রেখে বাকি সবাইকে হত্যা করতে বলতেন?

>>> যীশু তালাকপ্রাপ্তা নারীকে বিয়ে করা ব্যাভিচারের শামিল বলেছেন।
কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, একমাত্র যৌনপাপের দোষ ছাড়া অন্য কোন কারণে কেউ যদি তার স্ত্রীকে ত্যাগ করে, তবে সে তাকে ব্যাভিচারিণী হবার পথে নামিয়ে দেয়। আর যে কেউ সেই পরিত্যক্তা স্ত্রীকে বিয়ে করে সেও যৌনপাপ করে৷ (মথি ০৫/৩২)

এটা যীশুর কেমন অযৌক্তিক বিধান? যেখানে যৌনপাপ ছাড়া কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে ছাড়তে পারবে না? এসব হাস্যকর বিধান ছাড়া আর কিছুই না।

>>> যীশু নিজ কন্যাকে দাসী বানিয়ে বিক্রি করার অনুমোদন দিয়েছেন।
কোন ব্যক্তি যদি তার কন্যাকে দাস হিসেবে বিক্রি করতে চায় তাহলে তার মুক্তি পাওয়ার নিয়ম পুরুষ দাসদের নিয়মের থেকে আলাদা হবে।

যদি সেই মহিলার মনিব তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয় তাহলে সে তার মহিলা দাসটিকে তার পিতার কাছে ফেরত পাঠাতে পারে। যদি মনিবটি তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়, তাহলে অন্য লোকের কাছে তাকে বিক্রি করতে পারবে না কারণ সেটা হবে অন্যায়। (যাত্রাপুস্তক ২১/০৭-০৮)

যীশু কিভাবে এই দাস বিক্রির অনুমোদন দিতে পারে আপনারাই বিবেচনা করেন।

>>> যীশু সৎ মাকে ধর্ষণের অনুমোদন দিয়েছে।
ইস্রায়েল এই স্থানে অল্পকাল রইলেন। এই স্থানেই রূবেণ তার পিতার দাসী বিল্ডার কাছে গেল এবং তার সাথে শয়ন করল। ইস্রায়েল এই খবর জানতে পেরে অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হলেন। যাকোবের ১২টি পুত্র ছিল। (আদিপুস্তক ৩৫/২২) (০২ স্যামুয়েল ১৬/২২)

>>> যীশু ভাবির সাথে দেবরের যৌন সম্পর্কের অনুমোদন দিয়েছে।
তখন যিহূদা এরের ভাই ওননকে বলল, যাও তোমার মৃত ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে শয়ন কর। তার স্বামী হও। নিজের ভাই এরের জন্য বংশ উৎপন্ন কর।
ওনন বুঝল মিলনের ফলে সন্তানসন্ততি হলে তা তার হবে না। ওনন তাই যৌন সঙ্গম করল। সে তার শরীরের অভয়ন্তরে বীর্য ত্যাগ করল না।
এই কাজে প্রভু ক্রুদ্ধ হলেন এবং ওননকেও মেরে ফেললেন। (আদিপুস্তক ৩৮/০৮-০৯-১০)

ভাবি তার দেবরের সাথে যৌন সম্পর্কে করে আর দেবর যৌনমিলন করে যখন তার ভাবির শরিরে বীর্য ত্যাগ না করে তখন বাইবেলের ইশ্বর রেগে দেবরকে মেরে ফেলে। চিন্তা করেন এই যৌনতায় বাইবেলের ইশ্বরের সম্মতি ছিল যার জন্যই দেবরকে মেরে ফেললো।

>>> যীশু অস্থায়ী/মুতা বিয়েকে অনুমোদন দিয়েছে।
বিয়ে করার পর যদি কোন পুরুষ তার স্ত্রীর মধ্যে এমন কিছু লজ্জাকর জিনিষ দেখে যার জন্য সে তার প্রতি সন্তুষ্ট না হয়, তবে সে ত্যাগ পত্র লিখে তাকে বাড়ী থেকে বিদায় করে দেবে।

সেই ঘর ত্যাগ করার পর সেই স্ত্রী গিয়ে অন্য কোন পুরুষের স্ত্রী হতে পারে। (দ্বিতীয় বিবরন ২৪/০১-০২)

এটা কেমন বিধান? স্ত্রীর কোন জিনিস খারাপ লাগলেই তাকে বিদায় করে দিবে?

>>> উলঙ্গ হয়ে চলাফেরা করা অনুমোদিত।
সেই সময় প্রভু আমোসের পুত্র যিশাইয়ের মাধ্যমে কথাবার্তা বলেছিলেন। প্রভু বলেন, যাও, তোমার কোমর থেকে দুঃখের কাপড় সরাও। পা থেকে জুতো খুলে ফেল। যিশাইয় প্রভুর আদেশ পালন করল। খালি পায়ে, খালি গায়ে যিশাইয় চারদিকে ঘুরে বেড়াল।

তারপর প্রভু বললেন, যিশাইয় তিন বছর ধরে খালি পায়ে খালি গায়ে ঘুরে বেড়িয়েছে। এটা মিশর এবং কৃশ দেশের কাছে একটা নিদর্শন। (ইসাইয়া ২০/০২-০৪)

বাইবেলের ইশ্বর লেংন্টা হয়ে ঘুরে বেড়ানোরও অনুমতি দিয়েছে! আবার এই লেংন্টা হয়ে ঘুরে বেড়ানোই নাকি নিদর্শন।

>>> যীশু বিদেশিদের এলাকায় গিয়ে তাদেরই মন্দির, মূর্তি, বেদী ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে আসা অনুমোদন দিয়েছে।
তাদের বেদী ধ্বংস কর। যে পাথরকে তারা পূজো করে তা ভেঙ্গে ফেলো। তাদের পবিত্র দণ্ডগুলি ধ্বংস করো। (যাত্রাপুস্তক ৩৪/১৩)

এটা কেমন বিধান? অন্য ধর্মের মানুষদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে তাদের বেদী, মূর্তি, ভেঙ্গে ফেলা।

>>> যীশু অহেতুক গাছপালা, অবুঝ পশুপাখিকে হত্যা করতেন।
পরদিন সকালে তিনি যখন জেরুশালেমে ফিরছিলেন, সেই সময় যীশুর খিদে পেল৷

তিনি পথের ধারে একটি ডুমুর গাছ দেখতে পেয়ে সেই গাছটার কাছে গেলেন৷ কিন্তু পাতা ছাড়া তাতে কিছু দেখতে পেলেন না৷ তখন তিনি সেই গাছটিকে বললেন, তোমাতে আর কখনও ফল হবে না। আর সেইডুমুর গাছটি শুকিয়ে গেল৷

এই ঘটনা দেখে শিষ্যরা আশ্চর্য হয়ে বললেন, এই ডুমুর গাছটা এত তাড়াতাড়ি কেমন করে শুকিয়ে গেল? (মথি ২১/১৮-২০) (মার্ক ১১/১২-২১)

যীশুর কি এমন অমানবিক কাজটা করা খুব দরকার ছিল? আর এটা কি কখনো কোন নবির পক্ষে মানায়?

তখন সে যীশুর কাছে মিনতি করতে লাগল, যেন তিনি তাদের সেই অঞ্চল থেকে তাড়িয়ে না দেন।
সেখানে পর্বতের পাশে একদল শুয়োের চরছিল।
আর তারা (অশুচি আত্মারা) যীশুকে অনুনয় করে বলল, 'আমাদের এই শুয়োরের পালের মধ্যে ঢুকতে হুকুম দিন৷
তিনি তাদের অনুমতি দিলে সেই অশুচি আত্মারা বের হয়ে শুয়োরদের মধ্যে ঢুকে পড়ল৷ তাতে সেই শুয়োরের পাল, কমবেশী দুহাজার শুয়োর দৌড়ে ঢালু পাড় দিয়ে হ্রদে গিয়ে পড়ল এবং ডুবে মরল। (মার্ক ০৫/১০-১৩)

এখানে যীশু শয়তানদেরকে কেন নিরীহ শুয়োরের মধ্যে ঢোকার অনুমতি দিলেন? যীশুর অনুমতির কারনেই আজ শুয়োরগুলো মারা গেল।

>>> যীশু মদ্যপান করতেন এবং নিজে তার অনুসারীদের মদ বানিয়ে খাওয়াতেন!
যখন সমস্ত দ্রাক্ষারস ফুরিয়ে গেল, তখন যীশুর মা তাঁর কাছে এসে বললেন, এদের আর দ্রাক্ষারস নেই।
যীশু বললেন, হে নারী, তুমি আমায় কেন বলছ কি করা উচিত? আমার সময় এখনও আসেনি।
তাঁর মা চাকরদের বললেন, ইনি তোমাদের যা কিছু করতে বলেন তোমরা তাই কর।
ইহুদী ধর্মের রীতি অনুসারে আনুষ্ঠানিকভাবে হাত পা ধোয়ার জন্য সেই জায়গায় পাথরের ছটা জলের জালা বসানো ছিল। এই জালাগুলির প্রতিটিতে আশি থেকে একশ লিটার জল ধরত।
যীশু সেই চাকরদের বললেন, এই জালাগুলিতে জল ভরে আন৷ তখন তারা জালাগুলি কানায় কানায় ভরে দিল।

তারপর যীশু তাদের বললেন, এর থেকে কিছুটা নিয়ে ভোজের কর্তার কাছে নিয়ে যাও। তখন তারা তাই করল।

জল যা দ্রাক্ষারসে পরিণত হয়েছিল, ভোজের কর্তা তা আস্বাদ করলেন। সেই দ্রাক্ষারস কোথা থেকে এল তা তিনি জানতেন না। কিন্তু যে চাকরেরা জল এনেছিল তারা তা জানত। তারপর তিনি বরকে ডাকলেন।

তিনি বললেন, সাধারণতঃ প্রথমে লোকে ভাল দ্রাক্ষারস পরিবেশন করে আর অতিথিরা যখন মাতাল হয়ে ওঠে তখন তাদের নিম্নমানের দ্রাক্ষারস পরিবেশন করা হয়, অথচ আমি দেখছি তোমরা ভাল দ্রাক্ষারস এখনও রেখে দিয়েছ। (যোহন ০২/০৩-১০)

আমি তোমাদের বলছি, এখন থেকে আমি এইদ্রাক্ষারস আর কখনও পান করব না, যে পর্যন্ত না আমার পিতার রাজ্যে তোমাদের সঙ্গে নতুন দ্রাক্ষারস পান করি। (মথি ২৬/২৯)

আপনারা দেখলেন যীশু কিভাবে পানিকে মদ বানিয়ে তার শিষ্যদের ও মেহমানদের খাওয়াতেন। এবং যীশু নিজেও মদ খেতেন (মথি ২৬/২৯) তার বক্তব্য দ্বারাই প্রমানিত।

>>> যীশুকে বিশ্বাস না করলেই হত্যা করার আদেশ দিতেন।
কিন্তু যাঁরা আমার শত্রু, যাঁরা চায় নি যে আমি তাদের ওপর রাজত্ব করি, তাদের এখানে নিয়ে এসে আমার সামনেই মেরে ফেল। (লুক ১৯/২৭)

এমন অমানবিক বিধান আর কি হতে পারে? যীশুকে বিশ্বাস না করলেই হত্যা করতে হবে।

এখন আপনারাই বিবেচনা করেন এমন অসামাজিক, অমানবিক আচরণ কার্যকলাপ কি কোন ইশ্বরের পক্ষে করা শোভা পায়?

📘 খ্রিস্টান ধর্ম খন্ডন রদ্দে ক্রিশ্চিয়ানিটি 📄 বাইবেল অনুযায়ী এক স্ত্রী থেকে অন্য স্ত্রীকে বেশি ভালোবাসা বৈধ।

📄 বাইবেল অনুযায়ী এক স্ত্রী থেকে অন্য স্ত্রীকে বেশি ভালোবাসা বৈধ।


বাইবেল অনুযায়ী কারো যদি দুইজন স্ত্রী থাকে তাহলে একজন স্ত্রীর থেকে আরেকজন স্ত্রীকে বেশি ভালোবাসা বৈধ। এবং দুই স্ত্রীই যদি সন্তান প্রসব করে তাহলে অবশ্যই যে স্ত্রীকে সে ভালোবাসে না তার হতে হবে।

আসুন এবার বাইবেল থেকে বিস্তারিত দেখি বাইবেল অমানবিক, অযৌক্তিক বিধানটা।

কোন ব্যক্তির দু'জন স্ত্রী থাকতে পারে এবং সে একজন স্ত্রীকে আরেকজনের থেকে বেশী ভালোবাসতে পারে। কিন্তু যদি দু'জন স্ত্রীই তার জন্য সন্তান প্রসব করে এবং প্রথম সন্তানটি সে যে স্ত্রীকে ভালোবাসে না তার হয়। (দ্বিতীয় বিবরন ২১/১৫)

এটা কেমন বিধান যেখানে ইশ্বর বলেন একজন স্ত্রীর থেকে আরেকজন স্ত্রীকে বেশি ভালোবাসা যাবে! এই কথার দ্বারা বোঝা যাচ্ছে তিনি সুবিচার করতে সক্ষম নন। এবং দুই স্ত্রীই যদি সন্তান প্রসব করে তাহলে প্রথম সন্তান যেন যে স্ত্রীকে ভালোবাসে না তার হয় এটা কেমন বিধান?

এ বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেন :-
যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, (নারী) ইয়াতীমদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে নারীদের মধ্য হতে নিজেদের পছন্দমত দুই-দুই, তিন-তিন ও চার-চার জনকে বিবাহ কর, কিন্তু যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, তোমরা সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে একজনকে কিংবা তোমাদের অধীনস্থ দাসীকে! এটাই হবে অবিচার না করার কাছাকাছি। (সূরা নিসা, আয়াত : ০৩)

আলহামদুলিল্লাহ কোরআন স্পষ্ট করে বলেছে যদি সুবিচার করতে না পার তাহলে একটিই বিবাহ করতে হবে। আর বাইবেল অনুযায়ী যতখুশি তত বিয়ে করা যাবে এবং কারো যদি অধিক স্ত্রী থাকে তাদের সাথে সুবিচার না করলেও কোন সমস্যা নাই।

এখন আপনারাই বিবেচনা করেন কোন ধর্মটা শান্তির কথা বলে! কোন ধর্মটা নারীদের সুবিচার দেয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px