📘 খ্রিস্টান ধর্ম খন্ডন রদ্দে ক্রিশ্চিয়ানিটি 📄 সমকামীতা নিয়ে বাইবেলের বিধান কি?

📄 সমকামীতা নিয়ে বাইবেলের বিধান কি?


বাইবেল অনুযায়ী সমকামীদের হত্যা করার বিধান দেওয়া হয়েছে!

আসুন দেখি বাইবেল কি বিধান দিয়েছে সমকামীদের জন্য। এবং ইউরোপ দেশগুলোতে কত (%) বিশ্বাসী খ্রীষ্টান আছে? এবং কত (%) মানুষ বাইবেল মেনে চলে?
একজন পুরুষের অন্য একজন পুরুষের সঙ্গে স্ত্রীলোকের ন্যায় যৌন সম্পর্ক অবশ্যই থাকবে না। তা হলো ভযঙ্কর পাপ। (লেবীয় পুস্তক ১৮/২২)

যদি কোন পুরুষের অন্য এক পুরুষের সঙ্গে একজন স্ত্রীলোকের মত যৌন সম্পর্ক থাকে তবে এই দুজন পুরুষ এক ভয়ঙ্কর পাপ কার্যে লিপ্ত। তাদের অবশ্যই যেন মেরে ফেলা হয়। তারা তাদের নিজেদের মৃত্যুর জন্য দায়ী। (লেবীয় পুস্তক ২০/১৩)

লোকেরা ঐসব মন্দ কাজে লিপ্ত ছিল বলে ঈশ্বর তাদের ছেড়ে দিলেন ও তাদের লজ্জাজনক অভিলাষের পথে চলতে দিলেন৷ নারীরা পুরুষের সঙ্গে স্বাভাবিক সংসর্গ ত্যাগ করে নিজেদের মধ্যে যৌন সংসর্গে লিপ্ত হয়েছে। (রোমীয় ০১/২৬)

ঠিক একইভাবে পুরুষরাও স্ত্রীদের সঙ্গে স্বাভাবিক সংসর্গ ছেড়ে দিয়ে অপর পুরুষের জন্য লালাযিত হয়ে লজ্জাকর কাজ করেছে! আর এই পাপ কাজের শাস্তি তারা তাদের শরীরেই পেয়েছে। (রোমীয় ০১/২৭)

আমরা বাইবেলে স্পষ্ট ভাবে দেখতে পেলাম সমকামীতা অবৈধ। সমকামিতার অনুমতি বাইবেলে নেই। উল্টো বাইবেলে সমকামীদের হত্যা করতে বলা হয়েছে।

কিন্তু বর্তমানে খ্রিস্টানরা নিজেরাই তাদের বাইবেল মেনে চলে না। ইউরোপ এর অনেক খ্রিস্টান দেশেই সমকামিতা বৈধতা দিয়েছে। এছাড়াও আমেরিকা তো আছেই সমকামীতার শীর্ষে। আমেরিকাতে ক্রমশ বেড়েই যাচ্ছে সমকামিতা। নারীরা নারীদের বিবাহ করছে। পুরুষরা পুরুষদের বিবাহ করছে।

এতেই প্রমানিত হয় ইউরোপ, আমেরিকা যেগুলো খ্রীষ্টান প্রধান দেশ, যাদেরকে খ্রীষ্টানরা তাদের আইডল মনে করে থাকে সেখানেই সবচেয়ে বেশি বাইবেল অমান্য করা হয়।

এছাড়াও সমকামীদের মধ্যে বেশীরভাগই খ্রিস্টান। খ্রিস্টানরাই নিজেদের বাইবেল মানে না। সমকামী নারী নারীদের, পুরুষ পুরুষদের খ্রিস্টান রীতিতে বিবাহ করছে। মানে খ্রিস্টান পৌপদের সাক্ষী রেখেই খ্রিস্টানরা যেভাবে বিবাহ করে সমকামিরাও একই পদ্ধতিতে বিবাহ করে। আমেরিকান খ্রিস্টান পৌপরাও তাদের বাধা দিচ্ছে না।

অর্থাৎ বর্তমান খ্রিস্টানরাই চাইছে সমকামিতা বৈধ করতে৷ তারা বাইবেলের বিধান লংঘন করছে বাইবেলের বিরুদ্ধে যাচ্ছে। খ্রিস্টানরা কতটা ধার্মিক এখান থেকেই বিবেচনা করুন আপনারা?

📘 খ্রিস্টান ধর্ম খন্ডন রদ্দে ক্রিশ্চিয়ানিটি 📄 পিঁপড়ার জীবকাল নিয়ে বাইবেলের অবৈজ্ঞানিক ও ভুল তথ্য।

📄 পিঁপড়ার জীবকাল নিয়ে বাইবেলের অবৈজ্ঞানিক ও ভুল তথ্য।


পিঁপড়ার জীবনকাল সম্পর্কে (বাইবেল ও কোরআন) কি বলে? এবং (বাইবেল ও কোরআনের) তথ্য অনুযায়ী কোনটা বৈজ্ঞানিক তথ্যের সাথে মিলে যায় সেটা দেখবো ইনশাআল্লাহ।

আসুন আমরা দেখি বাইবেল পিঁপড়ার জীবনকাল নিয়ে কি বলে :-
* পিঁপড়েদের কোনও মালিক নেই, শাসক নেই, নেতা নেই। (প্রবচন ০৬/০৭)

এখানে বলা হয়েছে পিঁপড়াদের কোন মালিক নেই, নেতা নেই, শাসক নেই যা সম্পূর্ণ ভুল ও অবৈজ্ঞানিক তথ্য।

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির প্রাণিবিজ্ঞানী অধ্যাপক এডওয়ার্ড ওসবোর্ন উইলসন সারা জীবন কাটিয়েছেন পিঁপড়ার চরিত্র অনুসন্ধান নিয়ে।

পিঁপড়াদের রয়েছে একজন রাণী। রাণী পিঁপড়া শাসন করে থাকে। একজন রাণী পিঁপড়া তাদের পুরো গোেত্র নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। তাদের রয়েছে নিজস্ব ভাষা ও যোগাযোগের মাধ্যম। তারাও কথা বলতে পারে। মানুষের মতোই তারা জীবন যাপন করে। অথচ বাইবেলে বলা হয়েছে পিঁপড়াদের কোন মালিক, নেতা বা শাসক নেই যা হাস্যকর ও অবৈজ্ঞানিক তথ্য। আপনারা আরো তথ্য দেখতে পারেন পিঁপড়া উইকিপিডিয়াতে।

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন :-
অবশেষে যখন তারা পিঁপড়ার উপত্যকায় পৌঁছল তখন এক পিঁপড়া বলল, ওহে পিঁপড়ার দল, তোমরা তোমাদের বাসস্থানে প্রবেশ করো। সুলাইমান ও তাঁর বাহিনী তোমাদের যেন অজ্ঞাতসারে পিষ্ট করে মারতে না পারে। তারপর সুলাইমান তার কথায় মুচকি হাসল...। (সূরা নামাল, আয়াত : ১৮-১৯)

এখানে পবিত্র কোরআন স্পষ্ট করে বলেছে পিঁপড়াদেরও শাসক, নেতা, মালিক আছে আলহামদুলিল্লাহ।

বাইবেল ও কোরআন অনুযায়ী বর্তমান বিজ্ঞানের সাথে কোরআনের দেওয়া তথ্য (১০০%) মিলে যায়! কিন্তু বাইবেল অবৈজ্ঞানিক প্রমানিত হয়।

📘 খ্রিস্টান ধর্ম খন্ডন রদ্দে ক্রিশ্চিয়ানিটি 📄 বাইবেলের ঈশ্বর যখন তার সৃষ্টির হাতে মার খায় ও অপমান অপদস্ত হয়।

📄 বাইবেলের ঈশ্বর যখন তার সৃষ্টির হাতে মার খায় ও অপমান অপদস্ত হয়।


বাইবেলের (যীশু-ইশ্বরকে) তার সৃষ্টি করা মানুষরা কিভাবে অপমান অপদস্ত করে এবং চড়, ঘুশি, থুথু, লাঠি দিয়ে মার দেয় সেটা দেখবো।

ইশ্বর যখন তার সৃষ্টির হাতে জঘন্য ভাবে মার খায়! এবার আপনারাই বলেন ইশ্বরকে কে কি কখনো মারা যায়? হুম এমনটাই বলছে বাইবেল আসেন দেখি বাইবেল কি বলে?
তখন তারা যীশুর মুখে থুথু দিল ও তাঁকে ঘুসি মারল। (মথি ২৬/৬৭)

কেউ কেউ তাঁকে চড় মারল ও বলল, ওরে খ্রীষ্ট, আমাদের জন্য কিছু ভাববানী বল, কে তোকে মারল? (মথি ২৬/৬৮)

তারা তাঁর মুখে থুথু দিল ও তাঁর লাঠিটি নিয়ে তাঁর মাথায় মারতে লাগল৷ (মথি ২৭/৩০)

তারা তাঁর মাথায় একটা লাঠি দিয়ে বার বার মারতে লাগল ও তাঁর গায়ে থুথু ছিটিয়ে দিল৷ তাঁর সামনে হাঁটু গেড়ে তাঁকে প্রণাম করতে থাকল। (মার্ক ১৫/১৯)

কি আপনাদের হাসি পাচ্ছে? হুম এমন অযৌক্তিক কথা দিয়ে গোটা বাইবেলটাই ভয়পুর। ইশ্বরের সৃষ্টি করা মানুষরা ইশ্বরকে চড়, লাথি, ঘুশি, থুথু, লাঠি দিয়ে মারে আবার তাকে ক্রুশে দিয়ে মেরেও ফেলে।

এখন আপনারাই বিবেচনা করেন যীশু কি আসলেই ইশ্বর ছিল নাকি নবি হিসাবে সে একজন সাধারন মানুষ ছিলেন!

📘 খ্রিস্টান ধর্ম খন্ডন রদ্দে ক্রিশ্চিয়ানিটি 📄 বাইবেলের (ঈশ্বর) যখন শয়তান দ্বারা অপহরণের শিকার।

📄 বাইবেলের (ঈশ্বর) যখন শয়তান দ্বারা অপহরণের শিকার।


বাইবেলের ইশ্বরকে শয়তান অপহরণ করে পাহাড়ের চুড়ায় নিয়ে (৪০) দিন (৪০) রাত না খাওয়ায় রেখেছিল। এবার তাহলে বোঝেন বাইবেলের ইশ্বর কতটা শক্তিশালি? যে তার সৃষ্টিই তাকে অপহরন করে!

আসুন এবার বাইবেলের (ইশ্বর - যীশুর) অপহরণের কাহিনিটি বাইবেল থেকে দেখি!
এরপর দিয়াবল যেন যীশুকে পরীক্ষা করতে পারে তাই আত্মা যীশুকে প্রান্তরে নিয়ে গেলেন। (মথি ০৪/০১)

একটানা চল্লিশ দিন ও চল্লিশ রাত সেখানে উপোস করে কাটানোর পর যীশু ক্ষুধিত হলেন। (মথি ০৪/০২)

এরপরই আত্মা যীশুকে প্রান্তরে নিয়ে গেলেন। (মার্ক ০১/১২)

সেখানে তিনি চল্লিশ দিন ছিলেন, সেই সময় শয়তান তাঁকে প্রলুব্ধ করছিল। তিনি বন্য পশুদের সঙ্গে থাকতেন আর স্বর্গদূতরা এসে তাঁর সেবা করতেন। (মার্ক ০১/১৩)

মথির অনুচ্ছেদ গুলোতে মিথ্যা কথা বলা হয়েছে! কারন যীশু তার জীবন ধশায় কখনো (৪০) দিন (৪০) রাত উপোস করেন নাই এবং কাউকে তা করতেও বলে নাই।

এখানে শয়তান তাকে অপহরন করে নিয়ে গিয়েছিল তাই যীশু (৪০) দিন (৪০) রাত খাওয়ার জন্য কোন কিছু পায় নাই। আর তারা এখানে লিখছে তিনি নাকি উপোস ছিলেন! যীশুকে শয়তান অপহরণ করে নিয়ে গেছে আর তখন তিনি উপোস থাকলেন কি হাস্যকর তথ্য!

যদি বলেন যীশু সত্যিই উপোস ছিলেন তাহলে তার প্রত্যেকটা অনুসারীদেরও যীশুর মত (৪০) দিন (৪০) রাত উপোস থাকতে হবে! কারন যীশু বলেছেন তার শিষ্যরা তাকে অনুসরন করে (যোহন ১০/২৭)।

দিয়াবল তখন পবিত্র নগরী জেরুশালেমের মন্দিরের চূড়ায় যীশুকে নিয়ে গেল। (মথি ০৪/০৫)

আর যীশুকে বলল, তুমি যদি ঈশ্বরের পুত্র হও তবে লাফ দিয়ে নীচে পড়, কারণ শাস্ত্রে তো একথা লেখা আছে: 'তিনি তাঁর স্বর্গদূতদের তোমার উপর দৃষ্টি রাখতে আদেশ দেবেন আর তারা তোমাকে তুলে ধরবেন, যেন পাথরের উপর পড়ে তোমার পায়ে আঘাত না লাগে৷ (মথি ০৪/০৬)

যীশু তখন তাকে বললেন, শাস্ত্রে একথাও লেখা আছে, তোমার প্রভু ঈশ্বরকে তুমি পরীক্ষা করবে না। (মথি ০৪/০৭)

এখানে যীশু ভয়তে হয়তো লাফ দেয় নাই এখানে শয়তান ইশ্বরকে পরিক্ষা করতে চায় নাই পরিক্ষা করতে চেয়েছে যীশুকে! যদি যীশু সত্যিই ইশ্বরের পুত্র হত তিনি অবশ্যই লাফ দিতেন আর স্বর্গদূতরা তাকে রক্ষা করতেন। আর শয়তানও তাকে বিশ্বাস করতো যীশু সত্যিই ইশ্বরের পুত্র। এই সাধারন কাজটা করলেই শয়তান তাকে ইশ্বরের পুত্র হিসাবে মেনে নিত কিন্তু তিনি তা করলেন না।

আর বাইবেলের ইশ্বর স্পষ্টভাবে তার অনুসারীদের যেকোন পরিক্ষা দিতে বলেছে যাতে তারা বুঝতে পারে যে তারা বিশ্বাসী কিনা? আর এটাও বলেছে তারা পরিক্ষা দিলে তাদের সব রকম সাহায্য করবেন তিনি! এমনকি তাদের কোন প্রকারের কোন ক্ষতি তিনি হতে দিবেন না (সামসংঙ্গীত ৯১/১১-১৬)।

এরপর দিয়াবল আবার তাঁকে খুব উঁচু একটা পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে জগতের সমস্ত রাজ্য ও তার সম্পদ দেখাল। (মথি ০৪/০৮)

পরে দিয়াবল যীশুকে বলল, তুমি যদি আমার সামনে মাথা নত করে আমার উপাসনা কর, তবে এসবই আমি তোমায় দেব। (মথি ০৪/০৯)

তখন যীশু তাকে বললেন, দূর হও শয়তান! কারণ শাস্ত্রে লেখা আছে, তোমরা অবশ্যই প্রভু ঈশ্বরেরই উপাসনা করবে, একমাত্র তাঁরই সেবা করবে। (মথি ০৪/১০)

তখন দিয়াবল তাঁকে ছেড়ে চলে গেল আর স্বর্গদূতরা এসে যীশুকে রক্ষা করলেন। (মথি ০৪/১১)

এখান থেকে স্পষ্ট দেখতে পেলাম শয়তান (যীশু - ইশ্বরকে) অপহরণ করে পাহাড়ের চুড়ায় নিয়ে (৪০) দিন (৪০) রাত না খাওয়ায় রেখেছিল এবং যীশুকে শয়তান বলছে তার উপসনা করতে। চিন্তা করা যায় স্বয়ং ঈশ্বরকেই তার সৃষ্টি করা শয়তান অপহরণ করে আর বলে তার উপসনা করতে। শয়তান যীশুকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর স্বর্গদূতরা এসে যীশুকে রক্ষা করে।

এখানে আমার একটা প্রশ্ন আছে সেটা হল শেষ বিচারের দিন যখন ইশ্বর সবার বিচার করবেন তখন ইশ্বর যদি শয়তানকে বলে কেন তুমি আমাকে প্রলোভন দেখিয়ে অপহরন করে পাহাড়ের চুড়ায় নিয়ে (৪০) দিন (৪০) রাত না খাওয়ার রেখেছিলে? তখন শয়তান যদি বলে হে ইশ্বর আমি কিভাবে আপনার সৃষ্টি হয়ে আপনাকে প্রলোভন দেখাবো তখন ইশ্বর কিভাবে মুখ দেখাবে তার সামনে?

তখন বাইবেলের ইশ্বরের উচিত হবে লজ্জায় মরে যাওয়া! কারন যে ইশ্বর তার সৃষ্টির কাছে প্রতারিত ও অপহরণ হয় সে আবার কেমন ইশ্বর? আপনারা হয়তো বুঝতেই পারছেন এতক্ষনে।

খ্রীষ্টানরা ইসলাম ধর্মের একটি হাদিস নিয়ে বেশ আপত্তি ও ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে থাকে। যেই হাদিসটি নিয়ে আপত্তি ও অভিযোগ করে থাকে সেখানে বলা হয়েছে রাসূল সাঃ বলে আত্নহত্যা করতে চেয়েছিলেন। এবার আসেন খ্রীষ্টানদের এই হাদিসটির বিরুদ্ধে অভিযোগ খন্ডন করবো। প্রথমেই হাদিসটি দেখে নেই :-

আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত :-
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওয়াহীর শুরু হয় ঘুমের ঘোরে ভালো স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন তা ভোরের আলোর মত উদ্ভাসিত হতো। তিনি হেরা গুহায় গিয়ে সেখানে বেশ কয়েক রাত 'ইবাদাতে কাটিয়ে দিতেন এবং এজন্য খাদ্য দ্রব্যও সঙ্গে নিয়ে যেতেন। এরপর খাদীজাহ (রাঃ)-এর কাছে ফিরে আসতেন এবং তিনি তাকে এরূপ খাদ্য দ্রব্য তৈরি করে দিতেন। শেষে তাঁর কাছে সত্যের বাণী (ওয়াহী) আসল। আর এ সময় তিনি হেরা গুহায় ছিলেন।
সেখানে ফেরেশতা এসে তাঁকে বলল, আপনি পড়ুন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি বললামঃ আমি তো পাঠক নই। তখন তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে শক্ত করে চেপে ধরলেন। এমনকি এতে আমার খুব কষ্ট হল। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিলেন এবং বললেন, আপনি পড়ুন। আমি বললাম, আমি পাঠক নই। তিনি দ্বিতীয়বার আমাকে শক্ত করে চেপে ধরলেন। এবারেও এতে আমার খুব কষ্ট হল। অতঃপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, আপনি পড়ুন। আমি বললাম, আমি তো পাঠক নই। এরপর তিনি তৃতীয়বার আমাকে শক্ত করে এমন চেপে ধরলেন যে, এবারেও এতে আমার খুব কষ্ট হল। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, পাঠ করুন, আপনার প্রতিপালকের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন......যা সে জানত না (সূরাহ আল-ইনশিরাহ ৯৪/১-৫) এ আয়াত পর্যন্ত।

এরপর তিনি তা নিয়ে খাদীজাহ (রাঃ)-এর কাছে কম্পিত হৃদয়ে ফিরে এলেন। আর বললেন, আমাকে কম্বল দিয়ে ঢেকে দাও। আমাকে কম্বল দিয়ে ঢেকে দাও। ফলে তাঁরা তাঁকে কম্বল দিয়ে ঢেকে দিলেন। অবশেষে তাঁর থেকে ভীতি দূর হয়ে গেল। এরপর তিনি বললেন, হে খাদীজাহ! আমার কী হল? এবং তাকে সমস্ত ঘটনা জানালেন। আর বললেনঃ আমি আমার জীবন সম্পর্কে শঙ্কাবোধ করছি। খাদীজাহ (রাঃ) তাকে বললেন, কক্ষনো না। আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আল্লাহর কসম, আল্লাহ্ আপনাকে কখনই লাঞ্ছিত করবেন না। কেননা, আপনি তো আত্মীয়তার বন্ধন জুড়ে রাখেন, সত্যকথা বলেন, অনাথ অক্ষমদের বোঝা বহন করেন, মেহমানদের মেহমানদারী করেন এবং হকের পথে আগত যাবতীয় বিপদে সাহায্য করেন। অতপর খাদীজাহ (রাঃ) তাঁকে নিয়ে চললেন। অতঃপর তাঁকে নিয়ে ওরাকা ইবনু নাওফল ইবনু আসাদ ইবনু 'আবদুল উযযা ইবনু কুসাই-এর কাছে এলেন। আর তিনি, খাজীদাহ (রাঃ)-এর চাচার পুত্র (চাচাত ভাই) এবং তার পিতার পক্ষ থেকে চাচাও ছিলেন। তিনি জাহিলীয়াতের যুগে খৃষ্ট ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি আরবী কিতাব লিখতেন। তাই সে ইন্জীল আরবীতে অনুবাদ করতেন- যতখানি লেখা আল্লাহর মনযুর হত। তিনি ছিলেন অতি বৃদ্ধ, দৃষ্টিশক্তিহীন লোক। খাদীজাহ (রাঃ) তাকে বললেন, হে আমার চাচাতো ভাই! তোমার ভাতিজার কথা শুন। তখন ওরাকা বললেন, হে ভাতিজা! তুমি কী দেখেছ?
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু দেখেছিলেন তা তাকে জানালেন। তখন ওরাকা বললেন, এতো আল্লাহর সেই নামুস (দূত) যাঁকে মূসা (আঃ)-এর কাছে প্রেরণ করা হয়েছিল। হায় আফসোস! যদি সেদিন আমি জীবিত থাকতাম যেদিন তোমার কাওম তোমাকে বের করে দেবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন ঃ তারা কি আমাকে বের করে দেবে? ওরাকা বললেন, হ্যাঁ তুমি যা নিয়ে এসেছ, এমন বস্তু নিয়ে কোনদিনই কেউ আসেনি যার সঙ্গে শত্রুতা করা হয়নি। যদি তোমার জীবনকাল আমাকে পায়, তাহলে আমি সর্বতোভাবে তোমাকে সাহায্য করব। এরপর কিছু দিনের মধ্যেই ওরাকার মৃত্যু হয়। আর কিছু দিনের জন্য ওয়াহীও বন্ধ থাকে।

এমনকি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ অবস্থার কারণে অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে পড়লেন। এমনকি আমরা এ সম্পর্কে তার থেকে জানতে পেরেছি যে, তিনি পর্বতের চূড়া থেকে নিচে পড়ে যাবার জন্য একাধিকবার দ্রুত সেখানে চলে গেছেন। যখনই নিজেকে ফেলে দেয়ার জন্য পর্বতের চূড়ায় পৌঁছতেন, তখনই জিব্রীল (আঃ) তাঁর সামনে আত্মপ্রকাশ করে বলতেন, হে মুহাম্মাদ! নিঃসন্দেহে আপনি আল্লাহর রাসূল। এতে তাঁর অস্থিরতা দূর হত এবং নিজ মনে শান্তিবোধ করতেন। তাই সেখান থেকে ফিরে আসতেন। ওয়াহী বন্ধ অবস্থা যখন তাঁর উপর দীর্ঘ হত তখনই তিনি ঐরূপ উদ্দেশ্যে দ্রুত চলে যেতেন। যখনই তিনি পর্বতের চূড়ায় পৌঁছতেন, তখনই জিব্রীল (আঃ) তাঁর সামনে আত্মপ্রকাশ করে আগের মত বলতেন। [সহিহ বুখারী, হাদিস নং: ৬৯৮২ হাদিসের মান: সহিহ হাদিস]

এই হাদিসটি রাসূল (সাঃ) এর নবুয়তের প্রথম দিকে হাদিস যেখানে সর্বপ্রথম রাসূল সাঃ এর কাছে ওহি এসেছিল। রাসূল সাঃ এর কাছে ওহি আসার পর দীর্ঘদিন তার কাছে আর কোন ওহি আসে নাই। রাসূল (সাঃ) চিন্তায় পড়ে গিয়েছিল সে কি আসলেই আল্লাহর রাসূল?

পরে যখন বহুদিন কোন ওহি আসছিল না তখন তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন তখন তিনি বিষন্ন মন নিয়ে পাহাড়ের চুড়ায় গিয়েছিলেন যে তিনি পাহাড় থেকে নিজেকে নিচে ফেলে দিবেন।

যখনই তিনি পাহাড় থেকে নিজেকে ফেলতে যেতেন তখনই জিবরাইল আঃ এসে তাকে বাঁধা দিতেন আর তিন বলতেন হে, মুহাম্মদ নিঃসন্দেহে আপনি আল্লাহর রাসূল। এতে তাঁর অস্থিরতা দূর হত এবং নিজ মনে শান্তিবোধ করতেন। তাই সেখান থেকে ফিরে আসতেন। ওয়াহী বন্ধ অবস্থা যখন তাঁর উপর দীর্ঘ হত তখনই তিনি ঐরূপ উদ্দেশ্যে দ্রুত চলে যেতেন। যখনই তিনি পর্বতের চূড়ায় পৌঁতেন, তখনই জিব্রীল (আঃ) তাঁর সামনে আত্মপ্রকাশ করে আগের মত বলতেন।

এটি আত্মহত্যা নিষিদ্ধ হবার আগের আমল ছিল। তাই এটি কোন দোষণীয় আমল ছিল না। নিষিদ্ধ হবার পর রাসূল সাঃ এমন করেননি।

রাসূল সাঃ এর উপরোক্ত আমলটি ছিল মানুষ হিসেবে স্বাভাবিক আমল। রাসূল সাঃ এর উপর প্রথম অহী নাজিল হবার পদ্ধতিটি ছিল খুবই অস্বাভাবিক। একটি গহীন স্থানে হঠাৎ ভিন গ্রহের একজন এসে বারবার জোরে জড়িয়ে ধরা। তারপর কিছু পড়তে বলা খুবই অস্বাভাবিক একটি বিষয়। যার ফলে একজন মানুষ স্বন্ত্রস্ত হওয়া স্বাভাবিক। আর যেহেতু তিনি নবী কি না? তা পরিস্কার ভাষায় জানিয়ে কোন আয়াতও নাজিল হয়নি। তাই তিনি ছিলেন পেরেশান। সেই সাথে কাফেরদের ষড়যন্ত্র ও হত্যা চেষ্টার কারণে মানুষ হিসেবে ছিলেন তটস্ত। তাই এমন আচরণ কোন দোষণীয় থাকে না।

সম্পূর্ণ হাদিসটি দেখলে ও সবদিক যাচাই বাছাই করে দেখলে বুঝতে পারবেন আসলে বিষয়টি কি? কিন্তু খ্রীষ্টানরা কোন প্রকার পড়াশোনা যাচাই বাছাই না করেই ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে থাকে।

তারপরও যদি খ্রীষ্টানরা বলে যে না এখানে মোহাম্মদ (সাঃ) আত্মহত্যা করতে চেয়েছে তাহলে আমরা বলবো মোহাম্মদ (সাঃ) এর চাইতে বড় আত্নহত্যাকারী ছিল যীশু! কারন খ্রীষ্টানরা নিজেরাই দাবি করে থাকে যে, যীশু নিজের ইচ্ছায় পৃথিবীতে মারা যেয়ে পাপ ক্ষমা করতে এসেছে! তার মানে দাড়াল যীশু নিজেই আত্মহত্যা করে মারা গেছে তিনি আত্নহত্যাকারী ছিলেন। আর পৃথিবীর সকল ধর্ম অনুযায়ী আত্নহত্যা করা মহাপাপ। এখানে মোহাম্মদ (সাঃ) তো আর আত্নহত্যা করে নাই বরং যীশু নিজেই আত্নহত্যা করে মারা গেছে।

যেই যুক্তি দিয়ে খ্রীষ্টানরা ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে সেই যুক্তিতে তারাই আটকে গেছে।

মোহাম্মদ (সাঃ) কে তো জিবরাইল (আঃ) এসে বাঁধা দিয়েছিলেন আর তার মনের বিষন্নতাকে দূর করেছিলেন ফলে তিনি আত্মহত্যা করেন নাই। আর এদিকে যীশু তো ভয়তে পাহাড়ের চুড়ায় থেকে লাফই দিতে চায় নাই, যদি যীশু একবার লাফ দিয়ে দিতেন তাহলেই শয়তান তাকে ইশ্বরের পুত্র হিসাবে মেনে নিত! যদিও তাদের ইশ্বর তাকে বলেছে তাকে স্বর্গদূত দিয়ে ধরে ফেলবেন তার কোন ক্ষতি হতে দিবেন না প্রমান দেখেন :- (সামসংঙ্গীত ৯১/১১-১৬)। তাদের ইশ্বরের সকল প্রকার সম্মতি সাহায্য থাকার পরও তিনি লাফ দিতে ভয় পেয়েছেন।

আলহামদুলিল্লাহ ইসলামের বিরুদ্ধে খ্রীষ্টানদের খোঁড় অভিযোগ খন্ডন করেছি।

এখন আপনারাই বলেন বাইবেলের এমন একজন ইশ্বরকে বিশ্বাস করা কতটা যৌক্তিক? যে কিনা তার সৃষ্টির কাছে প্রতারিত হয় অপহরন হয় এমনকি শয়তান পর্যন্ত ইশ্বরকে বলে তার উপসনা করতে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px