📄 বাইবেলে অনুযায়ী ধর্ষণ বৈধ ও ধর্ষণের শাস্তি ধর্ষকের সাথে ধর্ষিতার সারাজীবন থাকতে হবে।
আসুন দেখি বাইবেলের ইশ্বর ধর্ষন ও ধর্ষনের শাস্তির বিধান কি দিয়েছেন?
বাইবেলের আজব ও অযৌক্তিক ধর্ষনের শাস্তির বিধান দেওয়া হয়েছে! যেটা শুনে আপনিও বিচলিত হয়ে যাবেন। এবং ধর্ষনকে বৈধতা দিয়েছে এই বাইবেল। আসুন দেখি বাইবেল কি বলেঃ-
কোন লোক অপরের বাগদত্তা কোন কুমারীকে নগরের মধ্যে দেখতে পেয়ে তার সাথে যৌন সহবাসে লিপ্ত হতে পারে। (দ্বিতীয় বিবরন ২২/২৩)
এই রকম ঘটলে তুমি অবশ্যই তাদের দুজনকে নগরের দ্বারে সকলের সামনে নিয়ে এসে পাথর মেরে হত্যা করবে। লোকটিকে হত্যা করার কারণ সে অপরের স্ত্রীর সাথে যৌন পাপ করেছে! এবং মেয়েটিকে হত্যা করার কারণ সে নগরের মধ্যে থাকলেও সাহায্যের জন্য চিতকার করে নি। তোমরা অবশ্যই এই ভাবে লোকদের মধ্য হতে এই দুষ্টাচার দূর করবে। (দ্বিতীয় বিবরন ২২/২৪)
কিন্তু কোন লোক যদি বাগদত্তা স্ত্রীলোককে ক্ষেতের মধ্যে পেয়ে জোরপূর্বক তার সাথে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয় তবে কেবল লোকটিকেই মরতে হবে। (দ্বিতীয় বিবরন ২২/২৫)
তোমরা অবশ্যই সেই মেয়েটির প্রতি কিছু করবে না। সে মৃত্যুর যোগ্য এমন কোন অপরাধ করে নি। এই ঘটনা প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে উঠে তাকে হত্যা করার মতো। (দ্বিতীয় বিবরন ২২/২৬)
লোকটি ক্ষেতে সেই বাগদত্তা মেয়েটিকে দেখে তাকে আক্রমণ করল। হয়তো মেয়েটি সাহায্যের জন্যও চিতকার করেছিল কিন্তু সাহায্যের জন্য কেউ ছিল না। সুতরাং তাকে যেন শাস্তি দেওয়া না হয়। (দ্বিতীয় বিবরন ২২/২৭)
একটা মানুষ অন্য কারো স্ত্রীকে পেয়ে ধর্ষন করলে সেই মেয়েটা যদি সাহায্যের জন্য চিতকার না করে তাহলে ওই ধর্ষকের সাথে সেই ধর্ষিতা মেয়েটাকেও মেরে ফেলতে হবে এটা কেমন বিচার বাইবেলের ইশ্বরের?
একটা লোক জোরপূর্বক একটা মেয়েকে পেয়ে ধর্ষন করলো আর মেয়েটি চিতকার করেনি বলে তাকেও মেরে ফেলতে হবে কি হাস্যকর বিধান। এমন নিকৃষ্ট বিধান আর কি হতে পারে।
এবার দেখেন বাইবেলের ইশ্বর ধর্ষনের বৈধতা কিভাবে দিচ্ছে :-
* একজন লোক হয়তো বাগদত্তা নয় এমন কোন কুমারীকে পেয়ে তার সাথে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতে পারে। যদি অন্য লোেকরা তা ঘটতে দেখে। (দ্বিতীয় বিবরন ২২/২৮)
* তাহলে সে মেয়েটির পিতাকে (২০) আউন্স রূপো দেবে এবং সেই মেয়েটি লোকটির স্ত্রী হবে। যেহেতু সে যৌন পাপ করেছিল, তাই তার জীবনকালে সে তাকে ত্যাগ করতে পারবে না। (দ্বিতীয় বিবরন ২২/২৯)
কোন ধর্ষক একটা মেয়েকে পেয়ে ধর্ষন করলে ধর্ষকের শাস্তি হিসাবে সেই ধর্ষিতার পিতাকে (২০) আউন্স রূপো দিবে এতেই ধর্ষকের শাস্তি মাপ হয়ে যাবে। আবার সেই ধর্ষিতাকে সেই ধর্ষকের সাথেই সারাজীবন অতিবাহিত করা লাগবে। এটা কেমন বিধান আমার বুঝে আসে না!
তার মানে দাড়াল কোন পুরুষের কোন মেয়েকে ভালো লাগলে তাকে যখন তখন ধর্ষন করে সেই ধর্ষিতা মেয়ের বাবাকে (২০) আউন্স রূপো দিলেই সব ঠিক হয়ে যাবে! এবং সেই ধর্ষকের সাথেই সেই ধর্ষিতাকে সারাজীবন থাকতে হবে। কি আজব বিধান। এই বিধান যদি কার্যকর করা হয় আপনারাই বিবেচনা করেন তখন পৃথিবীর অবস্থা কি হবে?
আপনারা দেখলেন বাইবেল কিভাবে ধর্ষক তৈরি করে ও ধর্ষনের শাস্তি কি অযৌক্তিক হাস্যকর বিধান দিয়েছেন! এখন আপনারাই বিবেচনা করেন এমন একটা বিকৃত বইতে বিশ্বাস করা কতটা যৌক্তিক?
📄 সমকামীতা নিয়ে বাইবেলের বিধান কি?
বাইবেল অনুযায়ী সমকামীদের হত্যা করার বিধান দেওয়া হয়েছে!
আসুন দেখি বাইবেল কি বিধান দিয়েছে সমকামীদের জন্য। এবং ইউরোপ দেশগুলোতে কত (%) বিশ্বাসী খ্রীষ্টান আছে? এবং কত (%) মানুষ বাইবেল মেনে চলে?
একজন পুরুষের অন্য একজন পুরুষের সঙ্গে স্ত্রীলোকের ন্যায় যৌন সম্পর্ক অবশ্যই থাকবে না। তা হলো ভযঙ্কর পাপ। (লেবীয় পুস্তক ১৮/২২)
যদি কোন পুরুষের অন্য এক পুরুষের সঙ্গে একজন স্ত্রীলোকের মত যৌন সম্পর্ক থাকে তবে এই দুজন পুরুষ এক ভয়ঙ্কর পাপ কার্যে লিপ্ত। তাদের অবশ্যই যেন মেরে ফেলা হয়। তারা তাদের নিজেদের মৃত্যুর জন্য দায়ী। (লেবীয় পুস্তক ২০/১৩)
লোকেরা ঐসব মন্দ কাজে লিপ্ত ছিল বলে ঈশ্বর তাদের ছেড়ে দিলেন ও তাদের লজ্জাজনক অভিলাষের পথে চলতে দিলেন৷ নারীরা পুরুষের সঙ্গে স্বাভাবিক সংসর্গ ত্যাগ করে নিজেদের মধ্যে যৌন সংসর্গে লিপ্ত হয়েছে। (রোমীয় ০১/২৬)
ঠিক একইভাবে পুরুষরাও স্ত্রীদের সঙ্গে স্বাভাবিক সংসর্গ ছেড়ে দিয়ে অপর পুরুষের জন্য লালাযিত হয়ে লজ্জাকর কাজ করেছে! আর এই পাপ কাজের শাস্তি তারা তাদের শরীরেই পেয়েছে। (রোমীয় ০১/২৭)
আমরা বাইবেলে স্পষ্ট ভাবে দেখতে পেলাম সমকামীতা অবৈধ। সমকামিতার অনুমতি বাইবেলে নেই। উল্টো বাইবেলে সমকামীদের হত্যা করতে বলা হয়েছে।
কিন্তু বর্তমানে খ্রিস্টানরা নিজেরাই তাদের বাইবেল মেনে চলে না। ইউরোপ এর অনেক খ্রিস্টান দেশেই সমকামিতা বৈধতা দিয়েছে। এছাড়াও আমেরিকা তো আছেই সমকামীতার শীর্ষে। আমেরিকাতে ক্রমশ বেড়েই যাচ্ছে সমকামিতা। নারীরা নারীদের বিবাহ করছে। পুরুষরা পুরুষদের বিবাহ করছে।
এতেই প্রমানিত হয় ইউরোপ, আমেরিকা যেগুলো খ্রীষ্টান প্রধান দেশ, যাদেরকে খ্রীষ্টানরা তাদের আইডল মনে করে থাকে সেখানেই সবচেয়ে বেশি বাইবেল অমান্য করা হয়।
এছাড়াও সমকামীদের মধ্যে বেশীরভাগই খ্রিস্টান। খ্রিস্টানরাই নিজেদের বাইবেল মানে না। সমকামী নারী নারীদের, পুরুষ পুরুষদের খ্রিস্টান রীতিতে বিবাহ করছে। মানে খ্রিস্টান পৌপদের সাক্ষী রেখেই খ্রিস্টানরা যেভাবে বিবাহ করে সমকামিরাও একই পদ্ধতিতে বিবাহ করে। আমেরিকান খ্রিস্টান পৌপরাও তাদের বাধা দিচ্ছে না।
অর্থাৎ বর্তমান খ্রিস্টানরাই চাইছে সমকামিতা বৈধ করতে৷ তারা বাইবেলের বিধান লংঘন করছে বাইবেলের বিরুদ্ধে যাচ্ছে। খ্রিস্টানরা কতটা ধার্মিক এখান থেকেই বিবেচনা করুন আপনারা?
📄 পিঁপড়ার জীবকাল নিয়ে বাইবেলের অবৈজ্ঞানিক ও ভুল তথ্য।
পিঁপড়ার জীবনকাল সম্পর্কে (বাইবেল ও কোরআন) কি বলে? এবং (বাইবেল ও কোরআনের) তথ্য অনুযায়ী কোনটা বৈজ্ঞানিক তথ্যের সাথে মিলে যায় সেটা দেখবো ইনশাআল্লাহ।
আসুন আমরা দেখি বাইবেল পিঁপড়ার জীবনকাল নিয়ে কি বলে :-
* পিঁপড়েদের কোনও মালিক নেই, শাসক নেই, নেতা নেই। (প্রবচন ০৬/০৭)
এখানে বলা হয়েছে পিঁপড়াদের কোন মালিক নেই, নেতা নেই, শাসক নেই যা সম্পূর্ণ ভুল ও অবৈজ্ঞানিক তথ্য।
হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির প্রাণিবিজ্ঞানী অধ্যাপক এডওয়ার্ড ওসবোর্ন উইলসন সারা জীবন কাটিয়েছেন পিঁপড়ার চরিত্র অনুসন্ধান নিয়ে।
পিঁপড়াদের রয়েছে একজন রাণী। রাণী পিঁপড়া শাসন করে থাকে। একজন রাণী পিঁপড়া তাদের পুরো গোেত্র নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। তাদের রয়েছে নিজস্ব ভাষা ও যোগাযোগের মাধ্যম। তারাও কথা বলতে পারে। মানুষের মতোই তারা জীবন যাপন করে। অথচ বাইবেলে বলা হয়েছে পিঁপড়াদের কোন মালিক, নেতা বা শাসক নেই যা হাস্যকর ও অবৈজ্ঞানিক তথ্য। আপনারা আরো তথ্য দেখতে পারেন পিঁপড়া উইকিপিডিয়াতে।
মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন :-
অবশেষে যখন তারা পিঁপড়ার উপত্যকায় পৌঁছল তখন এক পিঁপড়া বলল, ওহে পিঁপড়ার দল, তোমরা তোমাদের বাসস্থানে প্রবেশ করো। সুলাইমান ও তাঁর বাহিনী তোমাদের যেন অজ্ঞাতসারে পিষ্ট করে মারতে না পারে। তারপর সুলাইমান তার কথায় মুচকি হাসল...। (সূরা নামাল, আয়াত : ১৮-১৯)
এখানে পবিত্র কোরআন স্পষ্ট করে বলেছে পিঁপড়াদেরও শাসক, নেতা, মালিক আছে আলহামদুলিল্লাহ।
বাইবেল ও কোরআন অনুযায়ী বর্তমান বিজ্ঞানের সাথে কোরআনের দেওয়া তথ্য (১০০%) মিলে যায়! কিন্তু বাইবেল অবৈজ্ঞানিক প্রমানিত হয়।
📄 বাইবেলের ঈশ্বর যখন তার সৃষ্টির হাতে মার খায় ও অপমান অপদস্ত হয়।
বাইবেলের (যীশু-ইশ্বরকে) তার সৃষ্টি করা মানুষরা কিভাবে অপমান অপদস্ত করে এবং চড়, ঘুশি, থুথু, লাঠি দিয়ে মার দেয় সেটা দেখবো।
ইশ্বর যখন তার সৃষ্টির হাতে জঘন্য ভাবে মার খায়! এবার আপনারাই বলেন ইশ্বরকে কে কি কখনো মারা যায়? হুম এমনটাই বলছে বাইবেল আসেন দেখি বাইবেল কি বলে?
তখন তারা যীশুর মুখে থুথু দিল ও তাঁকে ঘুসি মারল। (মথি ২৬/৬৭)
কেউ কেউ তাঁকে চড় মারল ও বলল, ওরে খ্রীষ্ট, আমাদের জন্য কিছু ভাববানী বল, কে তোকে মারল? (মথি ২৬/৬৮)
তারা তাঁর মুখে থুথু দিল ও তাঁর লাঠিটি নিয়ে তাঁর মাথায় মারতে লাগল৷ (মথি ২৭/৩০)
তারা তাঁর মাথায় একটা লাঠি দিয়ে বার বার মারতে লাগল ও তাঁর গায়ে থুথু ছিটিয়ে দিল৷ তাঁর সামনে হাঁটু গেড়ে তাঁকে প্রণাম করতে থাকল। (মার্ক ১৫/১৯)
কি আপনাদের হাসি পাচ্ছে? হুম এমন অযৌক্তিক কথা দিয়ে গোটা বাইবেলটাই ভয়পুর। ইশ্বরের সৃষ্টি করা মানুষরা ইশ্বরকে চড়, লাথি, ঘুশি, থুথু, লাঠি দিয়ে মারে আবার তাকে ক্রুশে দিয়ে মেরেও ফেলে।
এখন আপনারাই বিবেচনা করেন যীশু কি আসলেই ইশ্বর ছিল নাকি নবি হিসাবে সে একজন সাধারন মানুষ ছিলেন!