📄 বাইবেলে নিজের সন্তানদের সিদ্ধ করে (রান্না-বান্না) করে খাওয়ার বর্ণনা।
বাইবেল অনুযায়ী (পিতা-মাতার) তার নিজের সন্তানদের সিদ্ধ করে খাওয়ার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এমন অযৌক্তিক কথা আর কি হতে পারে আপনারাই বিবেচনা করেন?
পৃথিবীর এমন কোন পাগল (পিতা-মাতা) নাই যে তাদের নিজের সন্তানদের সিদ্ধ করে (রান্না-বান্না) করে খাবে। বাইবেলের এমন সব উদ্ভট বক্তব্য কোন বুদ্ধিমান মানুষ বিশ্বাস করবে না। দেখেন বাইবেলে সন্তান খাওয়ার বর্ণনা।
এমনকি, সমস্ত সুন্দরী মায়েরা তাদের সন্তানদেরই খাদ্যের মতো রান্না করেছে। ওই শিশুগুলি তাদের মায়েদের খাদ্য হয়ে উঠেছিল। আমার লোকদের ধ্বংসের সময় এটা ঘটেছিল। (বিলাপ গাথা ০৪/১০)
তোমার সমস্যাটা কি বলো? মহিলা উত্তর দিলেন, দেখুন ঐ মহিলাটি আমায় বলেছিল, 'আজকে তোমার ছেলেটাকে দাও, মেরে খাওয়া যাক| কাল আমারটাকে খাওয়া যাবে। (০২ রাজাবলি ০৬/২৮)
তখন আমরা আমার ছেলেটাকে সেদ্ধ করে খেলাম। আর পরের দিন আমি খাবার জন্য ওর ছেলেটাকে আনতে গিয়ে দেখি, ও ওর ছেলেটাকে লুকিয়ে ফেলেছে! (০২ রাজাবলি ০৬/২৯)
চিন্তা করেন পিতামাতা তার নিজ সন্তানকে সিদ্ধ করে খেয়েছে এসব উদ্ভট কথা লিখে রেখেছে বাইবেলের ইশ্বর। কোন জ্ঞানসম্পন্ন মানুষ এসব উদ্ভট বক্তব্য থেকে কি শিক্ষা নিবে আপনারাই চিন্তা করেন।
এখন আপনারাই বিবেচনা করেন এসব হাস্যকর রূপকথার উদ্ভট গল্প থেকে মানুষ কি শিক্ষা নিবে?
📄 বাইবেলে নোবেলজয়ী হাস্যকর কুষ্ঠ রোগের চিকিৎসা।
আসুন দেখি বাইবেলে নোবেলজয়ী হাস্যকর কুষ্ঠ রোগের চিকিৎসা। যে চিকিৎসা বাইবেলের ইশ্বর তার অনুসারীদের শিখিয়েছে।
বাইবেলের ইশ্বর আমাদের কুষ্ঠ রোগের চিকিৎসা শিখিয়েছে! আসুন দেখি কতজন এই চিকিৎসা দিয়ে নোবেল পেয়েছে?
বাড়িতে নতুন পাথর এবং প্রলেপ লাগানোর পর যাজক অবশ্যই বাড়িটিকে পরীক্ষা করবে। যদি ছত্রাক বাড়িটায় ছড়িয়ে না পড়ে, তাহলে যাজক ঘোষণা করবে যে বাড়ীটি শুচি। কারণ ছত্রাক মরে গেছে। (লেবীয় পুস্তক ১৪/৪৮)
তখন বাড়ীটিকে শুচি করার জন্য যাজক অবশ্যই দুটি পাখি, এক খণ্ড এরস কাঠ, এক টুকরো লাল কাপড় এবং একটি এসোব গাছ নেবে। (লেবীয় পুস্তক ১৪/৪৯)
মাটির বড় পাত্রে জলের স্রোতের মধ্যে যাজক একটি পাখীকে হত্যা করবে। (লেবীয় পুস্তক ১৪/৫০)
তারপর যাজক এরস কাঠ, এসোব গাছ, লাল কাপড়ের খণ্ড ও জীবন্ত পাখীটিকে নেবে এবং জলের স্রোতে হত্যা করা পাখীর রক্তে যাজক ঐসব জিনিস ডোবাবে। এরপর যাজক সাতবার সেই রক্ত বাড়িটির ওপর ছিটিয়ে দেবে। (লেবীয় পুস্তক ১৪/৫১)
যাজক ঐ সব জিনিস ব্যবহার করে বাড়িটিকে এইভাবে শুচি করবে। (লেবীয় পুস্তক ১৪/৫২)
যাজক শহরের বাইরে একটি ফাঁকা জায়গায় ইস্রায়েলে এবং জীবন্ত পাখীটিকে ছেড়ে দেবে। এইভাবে যাজক বাড়িটির জন্য প্রায়শ্চিত্ত করবে এবং বাড়িটি শুচি হবে। (লেবীয় পুস্তক ১৪/৫৩)
এ সমস্তই হল যে কোন সংক্রামক কুষ্ঠ রোগের। (লেবীয় পুস্তক ১৪/৫৪)
আজ বিজ্ঞান বলে রক্তের কারনে বিভিন্ন প্রকারের রোগ ছড়ায়। আর বাইবেলের ইশ্বর বলছে রক্ত দিয়ে কুষ্ঠ রোগের চিকিৎসা করতে হাস্যকর ব্যাপার। এমন চিকিৎসা করে কতজন নোবেল পেয়েছে তা আমরা দেখতে চাই।
আর সবচেয়ে বড় কথা হল পাখির রক্ত বাড়ির পাশে ছিটালেই যে কুষ্ঠ রোগের সংক্রমন হবে না এমন কোন নিশ্চয়তা নাই। বরং এসব উদ্ভট চিকিৎসা করলে আরো রোগ সংক্রমন হওয়ার সম্ভবনা বেশি।
এমন অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসার কথা কি করে বলতে পারে বাইবেলের ইশ্বর? তিনি নিজেই জানে না রক্তের কারনে বিভিন্ন ধরনের (রোগ-বালাই) ছড়ায়।
📄 বাইবেলে নারীর অধিকার।
বাইবেলে নারীদের সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষ হিসাবে তুলে ধরেছে। এমনকি তারা কোন ব্যাপারে কোন মত দিতে পারবে না। তারা তাদের (গীর্জাতে - চার্চে) কোন প্রকার কথা বলতে পারবে না। সব সময় তারা নিরবে থাকবে। কোন প্রকার ইচ্ছা স্বাধীনতা নাই তাদের।
এমনকি নারীদের গর্ভধারনকেও একটি অভিশাপ বলা হয়েছে, তাহলে চিন্তা করেন এমন ইশ্বরকে মেনে চলা কি আদৌ সম্ভব? যে কিনা নারীদের গর্ভধারনকেই একটা অভিশাপ হিসাবে তুলে ধরেছে। নারীদের এতটাই নিকৃষ্ট হিসাবে তুলে ধরেছে বাইবেলের ইশ্বর। প্রমান দেখেন:- প্রথম অধ্যায়ের ১৯ নং পরিচ্ছেদে।
আসেন দেখি বাইবেলে নারীদের কতটা সম্মান দিয়েছে?
(মণ্ডলীতে - গীর্জতে - চার্চে) স্ত্রীলোকেরা নীরব থাকুক। ঈশ্বরের লোকদের সমস্ত মণ্ডলীতে এই রীতি প্রচলিত আছে৷ স্ত্রীলোকদের কথা বলার অনুমোদন নেই। মোশির বিধি-ব্যবস্থা যেমন বলে সেইমত তারা বাধ্য হয়ে থাকুক। (০১ করন্থীয় ১৪/৩৪)
স্ত্রীলোকেরা যদি কিছু শিখতে চায় তবে তারা ঘরে নিজেদের স্বামীদের কাছে তা জিজ্ঞেস করুক, কারণ সমাবেশে কথা বলা স্ত্রীলোকের পক্ষে লজ্জার বিষয়। (০১ করন্থীয় ১৪/৩৫)
নারীরা সম্পূর্ণ বশ্যতাপূর্বক নীরবে নতনম্র হয়ে শিক্ষা গ্রহণ করুক। (০১ তিমথি ০২/১১)
আমি কোন নারীকে শিক্ষা দিতে অথবা কোন পুরুষের ওপরে কর্তৃত্ব করতে দিই না। বরং নারী নীরব থাকুক। (০১ তিমথি ০২/১২)
আমি আরো দেখেছিলাম যে নারী হল ভয়ঙ্কর এক ফাঁদের মতো, তাদের হৃদয় জালের মতো ও বাহু শিকলের মতো। এই রকম নারীর ফাঁদে পড়ার চেয়ে মৃত্যুও শ্রেয়। যে ঈশ্বরকে অনুসরণ করে সে এদের থেকে দূরে থাকবে। কিন্তু এক জন পাপী এদের হাতে ধরা পড়বে। (উপদেশক ০৭/২৬)
আপনারাই এবার বলেন এমন অমানবিক নিষ্ঠুর ইশ্বরকে বিশ্বাস করে জীবন পরিচালনা করা কতটা যৌক্তিক? কিন্তু ইসলাম নারীদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছে, প্রমান দেখেন :- প্রথম অধ্যায়ের ১৯ নং পরিচ্ছেদে।
বাইবেল অনুযায়ী নারীদের কোন সম্মান নাই। তাদের কোন প্রকার ইচ্ছা প্রকাশের স্বাধীনতা নাই। এমন অমানবিক নিষ্ঠুর ইশ্বরে বিশ্বাস না করাই ভালো সবার জন্য।
📄 বাইবেলে (জিহাদ - যুদ্ধে) নারি ধর্ষন করার বিধান।
বাইবেল অনুযায়ী (জিহাদ - যুদ্ধ) গেলে নারীদের ধর্ষন করা বৈধ। এবং যুদ্ধে মানুষদের উপর অমানবিক নিষ্ঠুর নির্যাতন করাও বৈধ।
আসুন এবার বিস্তারিত দেখি বাইবেলের ইশ্বর কিভাবে (জিহাদ - যুদ্ধ) করতে বলেছে!
যীশু তাঁদের বললেন, 'কিন্তু এখন বলছি, যার টাকার থলি বা ঝুলি আছে সে তা নিয়ে যাক, আর যার কাছে তলোয়ার নেই সে তার পোশাক বিক্রি করে একটা তলোয়ার কিনুক। (লুক ২২/৩৬)
তারা বললেন, প্রভু দেখুন দুটি তলোয়ার আছে! তিনি তাঁদের বললেন, থাক এই যথেষ্ট। (লুক ২২/৩৮)
যীশু এখানে (জিহাদ - যুদ্ধ) করার জন্য মানুষদের উৎসাহিত করেছে।
তাদের বাড়িগুলি লুণ্ঠিত হবে। তাদের স্ত্রীরা ধর্ষিত হবে। আর তাদের চোখের সামনেই তাদের ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হবে। (ইসাইয়া ১৩/১৬)
ঈশ্বর বললেন, দেখ আমি মাদীয়দের সেনা দ্বারা বাবিলকে আক্রমণ করাব। রূপো ও সোনা দেওয়া হলেও মাদীয়র সেনারা লড়াই থামাবে না। (ইসাইয়া ১৩/১৭)
তীরন্দাজরা যুবকদের হত্যা করবে। শিশুদের তারা ক্ষমা করবে না। তারা ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের প্রতিও করুণা করবে না। (ইসাইয়া ১৩/১৮)
এখন সমস্ত মিদিয়নীয় ছেলেদের হত্যা করো। সমস্ত মিদিয়নীয় স্ত্রীলোকদের হত্যা করো যাদের কোনো না কোনো পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক ছিল। (গণনা পুস্তক : ৩১/১৭)
তুমি সমস্ত যুবতী মেয়েদের বাঁচতে দিতে পারো। কিন্তু কেবল তখনই যদি তাদের সঙ্গে কোনো পুরুষের যৌন সম্পর্ক না থেকে থাকে। (গণনা পুস্তক : ৩১/১৮)
এ কেমন যুদ্ধ? যে যুদ্ধে কুমারি নারীদের ধর্ষন করার জন্য ইশ্বর আদেশ দেন? আবার যারা কোন পুরুষের সাথে যৌন সম্পর্ক করেছে তাদের হত্যা করার আদেশ দেন, আবার ধর্ষিতা নারীদের সন্তানদের তাদের সামনেই হত্যা করতে হুকুম দেন। এমন অমানবিক বিধান আর কি হতে পারে?
আবার যুদ্ধ বন্দীনি নারীদের সোজা বাসায় নিয়ে আসতে হুকুম দেয়! তারা নারীদের বাসায় নিয়ে গেলে কি করতে পারে সেটার বিষয়ে আর কিছুই বললাম না। আপনারাই বুঝে নেন। আর এমনিতেই বাইবেল অনুযায়ী নারীদের ধর্ষন করা বৈধ প্রমান দেখেন :- প্রথম অধ্যায়ের ৪৭ নং পরিচ্ছেদে।
এবং যখন শহরটিকে অধিগ্রহণ করতে প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের সাহায্য করবেন, তখন তোমরা অবশ্যই সেখানকার সমস্ত পুরুষদের হত্যা করবে। (দ্বিতীয় বিবরন ২০/১৩)
যখন কোন শহরকে তোমরা দখল করতে চাইবে তখন প্রভু তোমাদের সাহায্য করবেন.. কিন্তু তোমরা সেখানে কোন পুরুষকে জীবিত রাখবে না। (দ্বিতীয় বিবরন ২০/১৪)
কিন্তু প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের যে দেশ দিচ্ছেন তোমরা যখন সেই দেশের শহরগুলো অধিগ্রহণ করবে, তখন সেখানে শ্বাস নেয় এমন কাউকে জীবিত রাখবে না। (দ্বিতীয় বিবরন ২০/১৬)
তোমরা অবশ্যই প্রভুর আদেশ অনুসারে হিত্তীয়, ইমোরীয়, কনানীয় পরিষীয়, হিব্বীয় এবং য়িবুষীযদের পুরোপুরি ধ্বংস করবে। (দ্বিতীয় বিবরন ২০/১৭)
তোমরা তোমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গেলে প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তাদের পরাজিত করতে তোমাদের সাহায্য করতে পারেন এবং তোমরা তোমাদের শত্রুদের বন্দী করে আনতে পারো। (দ্বিতীয় বিবরণ ২১/১০)
বন্দীদের মধ্যে কোনো সুন্দরী স্ত্রীলোককে দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলে, তোমাদের স্ত্রী হিসেবে তোমরা তাদের চাইতে পারো। (দ্বিতীয় বিবরণ ২১/১১)
তখন তাকে তোমার বাড়ীতে নিয়ে আসবে। সে অবশ্যই তার মাথা কামাবে এবং নখ কাটবে। (দ্বিতীয় বিবরণ ২১/১২)
সে যে জামাকাপড়গুলি পরে আছে যার থেকে বোঝা যায় যে সে যুদ্ধে বন্দীনী ছিল, সেগুলি সে অবশ্যই খুলে ফেলবে। সে অবশ্যই পুরো এক মাস তোমার বাড়ীতে থাকবে এবং বাবা মাকে হারানোর জন্য বিলাপ করবে। এরপর তুমি তার কাছে যেতে পার এবং তার স্বামী হতে পার। সে তোমার স্ত্রী হবে। (দ্বিতীয় বিবরণ ২১/১৩)
যদি তুমি তার সঙ্গে সুখী না হও, তাহলে তুমি তাকে ত্যাগ করবে এবং তাকে স্বাধীনভাবে চলে যেতে দেবে। তুমি তাকে বিক্রি করতে পারবে না। তুমি কখনই তার সঙ্গে ক্রীতদাসের মতো আচরণ করবে না কারণ তার সঙ্গে তোমার যৌন সম্পর্ক ছিল। (দ্বিতীয় বিবরণ ২১/১৪)
এ বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেন!
মুশরিকদের কেউ যদি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে তবে তাকে আশ্রয় দাও যাতে সে আল্লাহর বাণী শোনার সুযোগ পায়। তারপর তাকে তার নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দাও। এটা এজন্য করতে হবে যে, এরা এমন এক সম্প্রদায় যারা (ভাল-মন্দ, সত্য-মিথ্যা সম্পর্কে) অজ্ঞ। (সূরা তওবা আয়াত : ০৬)
এখানে কোরআন বলছে মুশরিকরা যদি আশ্রয় প্রার্থনা করে তাহলে তাদের শুধুমাত্র ছেড়ে দেওয়া যাবে না বরং তাদের নিরাপদ স্থান পর্যন্ত পৌছে দিতে হবে। এমন আরো অসংখ্য বক্তব্য আছে কোরআন ও সহিহ হাদিসে।
এখন আপনারাই বিবেচনা করেন! যে ইশ্বর (জিহাদ - যুদ্ধে) নারীদের ধর্ষন করার আদেশ দেন সেই ইশ্বরকে বিশ্বাস করে জীবন পরিচালনা করা কতটা যৌক্তিক?