📄 বাইবেলে খাৎনা করার বিধান! এবং যীশু নিজেই খাতনা করেছিলেন।
বাইবেল অনুযায়ী যীশু খাতনা করতে বলেছেন এমনকি যীশু নিজেও খাতনা করিয়েছিলেন।
আসেন দেখি বাইবেলের খাতনা করার বিধানগুলো। যেখানে যীশু নিজেই খাতনা করেছিলেন।
এটাই চুক্তি যা তুমি মেনে চলবে। তোমার ও আমার মধ্যে এটাই হল চুক্তি। তোমার উত্তরপুরুষগণের জন্যেও এটাই চুক্তি। যত পুত্র সন্তান হবে প্রত্যেককে সুন্নত করতে হবে। (আদিপুস্তক ১৭/১০)
তোমার আর আমার মধ্যে চুক্তি যে তুমি মেনে চলবে, এই সুন্নত হবে তার প্রমাণস্বরূপ। (আদিপুস্তক ১৭/১১)
শিশু পুত্রের বয়স আট দিন হলে এই সুন্নত সম্পন্ন করবে। তোমার পরিবারে যত ছেলের এবং তোমার দাসদের মধ্যে যত ছেলের জন্ম হবে, তোমার বংশধর নয় এমন বিদেশীদের কাছ থেকে তোমার অর্থ দিয়ে তুমি যে দাসদের কিনেছিলে তাদের য়ে ছেলেরা জন্মাবে, সকলের অবশ্যই সুন্নত করা হবে। (আদিপুস্তক ১৭/১২)
সুতরাং তোমার জাতির প্রত্যেক শিশু পুত্রকে সুন্নত করা হবে। তোমার পরিবারের অথবা ক্রীতদাসের সব পুত্রদের এভাবে সুন্নত করা হবে। (আদিপুস্তক ১৭/১৩)
আব্রাহাম, তোমার ও আমার মধ্যে এটাই চুক্তি, সুন্নত করা হয়নি এমন কোন পুরুষ থাকলে সে হবে তার নিজের লোকেদের স্বজাতির থেকে বিচ্ছিন্ন। কারণ সে ব্যক্তি আমার চুক্তি ভঙ্গকারী। (আদিপুস্তক ১৭/১৪)
সারা একটি পুত্রের জন্ম দিলেন এবং আব্রাহাম তার নাম রাখলেন ইসহাক।
ইসহাকের আট দিন বয়স হলে, যেমনটি ঈশ্বর বলেছিলেন ঠিক সেইভাবে আব্রাহাম তাঁকে সুন্নত করলেন। (আদিপুস্তক ২১/০৩-০৪)
এরপর আব্রাহামের সঙ্গে ঈশ্বর এক চুক্তি করলেন। এই চুক্তির চিহ্ন হল সুন্নত সংস্কার। এরপর আব্রাহামের একটি পুত্র সন্তান হল। আট দিনের দিন তিনি তার সুন্নত করালেন, সেই পুত্রের নাম ইসহাক৷ ইসহাকের পুত্র যাকোবেরও তারা সুন্নত করলেন। (শিষ্যচরিত্র ০৭/০৮)
এখানে আমরা স্পষ্টভাবে খাতনা করার বিধান বাইবেল থেকেই দেখতে পেলাম। এবার দেখেন যীশু নিজেই খাতনা করেছিলেন।
এর আট দিন পরে সুন্নত করার সময়ে শিশুটির নাম রাখা হল যীশু। তাঁর মাতৃগর্ভে আসার আগেই স্বর্গদূত এই নাম রেখেছিলেন। (লুক ০২/২১)
এখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে যীশু ৮ম দিনে খাতনা করেছিলেন। অথচ খ্রীষ্টানরা তাকেই মেনে চলে না।
আবার এদিকে পৈল খানা করাতে নিষেধ করেছে। শোন! আমি পৌল বলছি। যদি তোমরা সুন্নতের মাধ্যমে আবার বিধি-ব্যবস্থায় ফিরে যাও, তবে তোমরা খ্রীষ্টেতে লাভবান হবে না৷ (গালাতীয় ০৫/০২)
খ্রীষ্টানরা মূলত কার অনুসারী তা হয়তো এখন আর বুঝতে কারো বাকি নাই। যেখানে যীশু নিজেই খাতনা করেছিলেন, সেখানে পল যীশুর বিরুদ্ধে বলে যে খাতনা করা যাবে না।
বাইবেল খ্রীষ্টানদের স্পষ্টভাবে খাতনা করতে বলেছে, এমনকি যীশু নিজেও খাতনা করিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান খ্রীষ্টানরা খাতনা করেন না। কারন তারা মূলত পলের অনুসারী! কারন পল খাতনা করতে নিষেধ করেছে।
📄 বাইবেলে নিজের সন্তানদের সিদ্ধ করে (রান্না-বান্না) করে খাওয়ার বর্ণনা।
বাইবেল অনুযায়ী (পিতা-মাতার) তার নিজের সন্তানদের সিদ্ধ করে খাওয়ার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এমন অযৌক্তিক কথা আর কি হতে পারে আপনারাই বিবেচনা করেন?
পৃথিবীর এমন কোন পাগল (পিতা-মাতা) নাই যে তাদের নিজের সন্তানদের সিদ্ধ করে (রান্না-বান্না) করে খাবে। বাইবেলের এমন সব উদ্ভট বক্তব্য কোন বুদ্ধিমান মানুষ বিশ্বাস করবে না। দেখেন বাইবেলে সন্তান খাওয়ার বর্ণনা।
এমনকি, সমস্ত সুন্দরী মায়েরা তাদের সন্তানদেরই খাদ্যের মতো রান্না করেছে। ওই শিশুগুলি তাদের মায়েদের খাদ্য হয়ে উঠেছিল। আমার লোকদের ধ্বংসের সময় এটা ঘটেছিল। (বিলাপ গাথা ০৪/১০)
তোমার সমস্যাটা কি বলো? মহিলা উত্তর দিলেন, দেখুন ঐ মহিলাটি আমায় বলেছিল, 'আজকে তোমার ছেলেটাকে দাও, মেরে খাওয়া যাক| কাল আমারটাকে খাওয়া যাবে। (০২ রাজাবলি ০৬/২৮)
তখন আমরা আমার ছেলেটাকে সেদ্ধ করে খেলাম। আর পরের দিন আমি খাবার জন্য ওর ছেলেটাকে আনতে গিয়ে দেখি, ও ওর ছেলেটাকে লুকিয়ে ফেলেছে! (০২ রাজাবলি ০৬/২৯)
চিন্তা করেন পিতামাতা তার নিজ সন্তানকে সিদ্ধ করে খেয়েছে এসব উদ্ভট কথা লিখে রেখেছে বাইবেলের ইশ্বর। কোন জ্ঞানসম্পন্ন মানুষ এসব উদ্ভট বক্তব্য থেকে কি শিক্ষা নিবে আপনারাই চিন্তা করেন।
এখন আপনারাই বিবেচনা করেন এসব হাস্যকর রূপকথার উদ্ভট গল্প থেকে মানুষ কি শিক্ষা নিবে?
📄 বাইবেলে নোবেলজয়ী হাস্যকর কুষ্ঠ রোগের চিকিৎসা।
আসুন দেখি বাইবেলে নোবেলজয়ী হাস্যকর কুষ্ঠ রোগের চিকিৎসা। যে চিকিৎসা বাইবেলের ইশ্বর তার অনুসারীদের শিখিয়েছে।
বাইবেলের ইশ্বর আমাদের কুষ্ঠ রোগের চিকিৎসা শিখিয়েছে! আসুন দেখি কতজন এই চিকিৎসা দিয়ে নোবেল পেয়েছে?
বাড়িতে নতুন পাথর এবং প্রলেপ লাগানোর পর যাজক অবশ্যই বাড়িটিকে পরীক্ষা করবে। যদি ছত্রাক বাড়িটায় ছড়িয়ে না পড়ে, তাহলে যাজক ঘোষণা করবে যে বাড়ীটি শুচি। কারণ ছত্রাক মরে গেছে। (লেবীয় পুস্তক ১৪/৪৮)
তখন বাড়ীটিকে শুচি করার জন্য যাজক অবশ্যই দুটি পাখি, এক খণ্ড এরস কাঠ, এক টুকরো লাল কাপড় এবং একটি এসোব গাছ নেবে। (লেবীয় পুস্তক ১৪/৪৯)
মাটির বড় পাত্রে জলের স্রোতের মধ্যে যাজক একটি পাখীকে হত্যা করবে। (লেবীয় পুস্তক ১৪/৫০)
তারপর যাজক এরস কাঠ, এসোব গাছ, লাল কাপড়ের খণ্ড ও জীবন্ত পাখীটিকে নেবে এবং জলের স্রোতে হত্যা করা পাখীর রক্তে যাজক ঐসব জিনিস ডোবাবে। এরপর যাজক সাতবার সেই রক্ত বাড়িটির ওপর ছিটিয়ে দেবে। (লেবীয় পুস্তক ১৪/৫১)
যাজক ঐ সব জিনিস ব্যবহার করে বাড়িটিকে এইভাবে শুচি করবে। (লেবীয় পুস্তক ১৪/৫২)
যাজক শহরের বাইরে একটি ফাঁকা জায়গায় ইস্রায়েলে এবং জীবন্ত পাখীটিকে ছেড়ে দেবে। এইভাবে যাজক বাড়িটির জন্য প্রায়শ্চিত্ত করবে এবং বাড়িটি শুচি হবে। (লেবীয় পুস্তক ১৪/৫৩)
এ সমস্তই হল যে কোন সংক্রামক কুষ্ঠ রোগের। (লেবীয় পুস্তক ১৪/৫৪)
আজ বিজ্ঞান বলে রক্তের কারনে বিভিন্ন প্রকারের রোগ ছড়ায়। আর বাইবেলের ইশ্বর বলছে রক্ত দিয়ে কুষ্ঠ রোগের চিকিৎসা করতে হাস্যকর ব্যাপার। এমন চিকিৎসা করে কতজন নোবেল পেয়েছে তা আমরা দেখতে চাই।
আর সবচেয়ে বড় কথা হল পাখির রক্ত বাড়ির পাশে ছিটালেই যে কুষ্ঠ রোগের সংক্রমন হবে না এমন কোন নিশ্চয়তা নাই। বরং এসব উদ্ভট চিকিৎসা করলে আরো রোগ সংক্রমন হওয়ার সম্ভবনা বেশি।
এমন অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসার কথা কি করে বলতে পারে বাইবেলের ইশ্বর? তিনি নিজেই জানে না রক্তের কারনে বিভিন্ন ধরনের (রোগ-বালাই) ছড়ায়।
📄 বাইবেলে নারীর অধিকার।
বাইবেলে নারীদের সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষ হিসাবে তুলে ধরেছে। এমনকি তারা কোন ব্যাপারে কোন মত দিতে পারবে না। তারা তাদের (গীর্জাতে - চার্চে) কোন প্রকার কথা বলতে পারবে না। সব সময় তারা নিরবে থাকবে। কোন প্রকার ইচ্ছা স্বাধীনতা নাই তাদের।
এমনকি নারীদের গর্ভধারনকেও একটি অভিশাপ বলা হয়েছে, তাহলে চিন্তা করেন এমন ইশ্বরকে মেনে চলা কি আদৌ সম্ভব? যে কিনা নারীদের গর্ভধারনকেই একটা অভিশাপ হিসাবে তুলে ধরেছে। নারীদের এতটাই নিকৃষ্ট হিসাবে তুলে ধরেছে বাইবেলের ইশ্বর। প্রমান দেখেন:- প্রথম অধ্যায়ের ১৯ নং পরিচ্ছেদে।
আসেন দেখি বাইবেলে নারীদের কতটা সম্মান দিয়েছে?
(মণ্ডলীতে - গীর্জতে - চার্চে) স্ত্রীলোকেরা নীরব থাকুক। ঈশ্বরের লোকদের সমস্ত মণ্ডলীতে এই রীতি প্রচলিত আছে৷ স্ত্রীলোকদের কথা বলার অনুমোদন নেই। মোশির বিধি-ব্যবস্থা যেমন বলে সেইমত তারা বাধ্য হয়ে থাকুক। (০১ করন্থীয় ১৪/৩৪)
স্ত্রীলোকেরা যদি কিছু শিখতে চায় তবে তারা ঘরে নিজেদের স্বামীদের কাছে তা জিজ্ঞেস করুক, কারণ সমাবেশে কথা বলা স্ত্রীলোকের পক্ষে লজ্জার বিষয়। (০১ করন্থীয় ১৪/৩৫)
নারীরা সম্পূর্ণ বশ্যতাপূর্বক নীরবে নতনম্র হয়ে শিক্ষা গ্রহণ করুক। (০১ তিমথি ০২/১১)
আমি কোন নারীকে শিক্ষা দিতে অথবা কোন পুরুষের ওপরে কর্তৃত্ব করতে দিই না। বরং নারী নীরব থাকুক। (০১ তিমথি ০২/১২)
আমি আরো দেখেছিলাম যে নারী হল ভয়ঙ্কর এক ফাঁদের মতো, তাদের হৃদয় জালের মতো ও বাহু শিকলের মতো। এই রকম নারীর ফাঁদে পড়ার চেয়ে মৃত্যুও শ্রেয়। যে ঈশ্বরকে অনুসরণ করে সে এদের থেকে দূরে থাকবে। কিন্তু এক জন পাপী এদের হাতে ধরা পড়বে। (উপদেশক ০৭/২৬)
আপনারাই এবার বলেন এমন অমানবিক নিষ্ঠুর ইশ্বরকে বিশ্বাস করে জীবন পরিচালনা করা কতটা যৌক্তিক? কিন্তু ইসলাম নারীদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছে, প্রমান দেখেন :- প্রথম অধ্যায়ের ১৯ নং পরিচ্ছেদে।
বাইবেল অনুযায়ী নারীদের কোন সম্মান নাই। তাদের কোন প্রকার ইচ্ছা প্রকাশের স্বাধীনতা নাই। এমন অমানবিক নিষ্ঠুর ইশ্বরে বিশ্বাস না করাই ভালো সবার জন্য।