📘 খ্রিস্টান ধর্ম খন্ডন রদ্দে ক্রিশ্চিয়ানিটি 📄 বাইবেলের ঈশ্বর ক্লান্ত হয়ে যেদিন বিশ্রাম নিয়েছিলেন! সেই দিনে কোন কর্ম করলেই মৃত্যুদণ্ড।

📄 বাইবেলের ঈশ্বর ক্লান্ত হয়ে যেদিন বিশ্রাম নিয়েছিলেন! সেই দিনে কোন কর্ম করলেই মৃত্যুদণ্ড।


দেখেন বাইবেলের ইশ্বরের নাকি আবার বিশ্রামের প্রয়োজন হয়! আর সে যদি বিশ্রাম নেয়! তাহলে তখন এই পৃথিবী কে পরিচালনা করেছে? সে বিশ্রাম নিলে তো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা।

বাইবেল অনুযায়ী ইশ্বরের বিশ্রামেরও প্রয়োজন হয়! এই সব অদ্ভুদ কথাও নাকি বিশ্বাস করতে হবে মানুষদের। আসেন বাইবেলের বক্তব্য দেখি :-
কিন্তু সপ্তমদিনটি হবে অবসরের। প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের দিন। সুতরাং সেই দিনে কেউ কাজ করবে না-তুমি নয়, অথবা তোমার ছেলেরা এবং মেয়েরা, অথবা তোমার স্ত্রী, অথবা তোমার ক্রীতদাস-দাসীরা কেউ নয়। এমনকি তোমাদের গৃহপালিত পশু এবং তোমাদের শহরে বাস করা বিদেশীরাও বিশ্রামের দিনে কোন কাজ করবে না। (যাত্রাপুস্তক ২০/১০)

কারণ প্রভু সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করে এই আকাশ, পৃথিবী, সমুদ্র এবং এর মধ্যস্থিত সব কিছু বানিয়েছেন এবং সপ্তমদিনে তিনি বিশ্রাম নিয়েছেন। এইভাবে বিশ্রামের দিনটি প্রভুর আশীর্বাদ ধন্য - ছুটির দিন। প্রভু এই দিনটিকে বিশেষ দিন হিসাবে সৃষ্টি করেছেন। (যাত্রাপুস্তক ২০/১১)

এই বিশ্রামের দিনকে একটি বিশেষ দিনের মর্যাদা দেবে। যদি কেউ এই বিশেষ বিশ্রামের দিনকে অন্য একটি সাধারণ দিনের মতো পালন করে তাহলে তাকে অবশ্যই হত্যা করতে হবে। যদি কেউ এই বিশ্রামের দিনেও কাজ করে, তাহলে তাকে তার লোকদের থেকে বিতাড়িত করতে হবে। (যাত্রাপুস্তক ৩১/১৪)

কাজ করার জন্য সপ্তাহের বাকি ছয় দিন নির্দিষ্ট থাকবে কিন্তু সপ্তম দিনটি হবে বিশেষ বিশ্রামের দিন। এই দিনটি তোলা থাকবে প্রভুর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের দিন হিসেবে। এই বিশেষ বিশ্রামের দিনে কেউ কাজ করলে তার মৃত্যু অনিবার্য। (যাত্রাপুস্তক ৩১/১৫)

তোমরা ছয়দিন ধরে কাজ করবে কিন্তু সপ্তম দিনটি হবে বিশেষভাবে বিশ্রামের জন্য থাকবে। তোমরা ঐদিন বিশ্রাম নেবে এবং এইভাবে প্রভুকে সম্মান জানাবে। যে ব্যক্তি সপ্তম দিন কাজ করবে তাকে হত্যা করা হবে। (যাত্রাপুস্তক ৩৫/০২)

ঐ বিশ্রামের দিন তোমাদের বাড়ীর কোথাও তোমরা আগুন পর্যন্ত জ্বালাবে না। (যাত্রাপুস্তক ৩৫/০৩)

যদি এই বিশ্রামের দিনে কেউ সামান্যতম কোন কাজ করে তাহলে তাকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হবে, এমন অমানবিক নিষ্ঠুর কথা কি কোন ইশ্বরের পক্ষে মানায়? এমনকি এই বিশ্রামের দিনে কোন রান্নাবান্না ও করা যাবে না।

কিন্তু দেখেন পৃথিবীর সকল খ্রীষ্টানই এই বিশ্রামের দিনে বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকেন। তারা কেউ তাদের ইশ্বরের এতবড় একটা আদেশ অমান্য করে থাকেন। বাইবেলের ইশ্বর এই সামান্য বিষয়টা জানে না যে বিশ্রামের দিন যদি চুলায় আগুন না জালায় তাহলে সকলের না খেয়ে থাকতে হবে।

এ বিষয় মহান আল্লাহ বলেন :-
আল্লাহ, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বদা রক্ষণাবেক্ষণকারী। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। আকাশমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, তাঁরই। কে সেই ব্যক্তি যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর নিকট সুপারিশ করে? তিনি লোকদের সমুদয় প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অবস্থা জানেন। পক্ষান্তরে মানুষ তাঁর জ্ঞানের কোনকিছুই আয়ত্ত করতে সক্ষম নয়, তিনি যে পরিমাণ ইচ্ছে করেন সেটুকু ছাড়া। তাঁর কুরসী আকাশ ও পৃথিবী পরিবেষ্টন করে আছে এবং এ দু'য়ের রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না, তিনি উচ্চ মর্যাদাশীল, মহান। (সূরা বাকারা আয়াত : ২৫৫)

আলহামদুলিল্লাহ কোরআন অনুযায়ী আল্লাহর কোন নিদ্রার ও বিশ্রামের প্রয়োজন হয় না।

বাইবেল অনুযায়ী তাদের ইশ্বর বিশ্রাম নেন এমন অযৌক্তিক কথায় বিশ্বাস করা কতটা যৌক্তিক আপনারাই বিবেচনা করেন। এমন বিকৃত বইকে বিশ্বাস না করাই ভালো।

📘 খ্রিস্টান ধর্ম খন্ডন রদ্দে ক্রিশ্চিয়ানিটি 📄 খ্রিষ্টানরা মূলত কার অনুসারী যিশুর না সেন্ট পৌলের?

📄 খ্রিষ্টানরা মূলত কার অনুসারী যিশুর না সেন্ট পৌলের?


আসলে খ্রীষ্টানরা মূলত যীশু খ্রীষ্টের অনুসারী নয় তারা সেন্ট পলের অনুসারী। তারা পলকে এতটায় মানেন যে, যীশুকেও এতটা মানেন না। এমনকি যীশুর কথার চেয়ে পলের কথাই খ্রীষ্টানরা বেশি মানে।

এবার আসেন দেখি বাইবেলে পল কিভাবে যীশুর বিরুদ্ধিতা করতেন!
ভেবো না যে আমি মোশির বিধি-ব্যবস্থা ও ভাববাদীদের শিক্ষা ধ্বংস করতে এসেছি৷ আমি তা ধ্বংস করতে আসিনি বরং তা পূর্ণ করতেই এসেছি। (মথি ০৫/১৭)

এখানে যীশু স্পষ্ট করে বলেছে, পুরাতন বিধান মানতে হবে এবং তিনি পুরাতন বিধান পূরন করতে এসেছেন। এবার পলের বক্তব্য দেখেন।

শোন! আমি পৌল বলছি। যদি তোমরা সুন্নতের মাধ্যমে আবার বিধি-ব্যবস্থায় ফিরে যাও, তবে তোমরা খ্রীষ্টেতে লাভবান হবে না। (গালিতিয় ০৫/০২)

আবার আমি প্রত্যেক মানুষকে সতর্ক করে দিচ্ছি। তোমরা যদি সুন্নত করাতে চাও, তবে বিধি-ব্যবস্থার সবটাই তোমাদের পালন করতে হবে। (গালিতিয় ০৫/০৩)

তোমরা যাঁরা বিধি-ব্যবস্থার দ্বারা ঈশ্বরের সাক্ষাতে নির্দোষ গণিত হতে চেষ্টা করছ, তারা খ্রীষ্টের কাছ থেকে নিজেদের আলাদা করেছ এবং ঈশ্বরের অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত হয়েছ। (গালিতীয় ০৫/০৪)

পুরানো বিধান বাতিল করা হল, কারণ তা দুর্বল ও অকেজো হয়ে পড়েছিল৷ (হিব্রুদের কাছে পত্র ০৭/১৮)

কারণ মোশির বিধি-ব্যবস্থা কিছুই সিদ্ধ করতে পারে নি। এখন আমাদের কাছে মহত্তর আশা রয়েছে, যার মাধ্যমে আমরা ঈশ্বরের কাছে উপস্থিত হতে পারি। (হিব্রুদের কাছে পত্র ০৭/১৯)

এখানে পল বলছে যে, পুরাতন বিধান মানলে খ্রীষ্টতে লাভবান হবেন না। মানে পুরাতন বিধান মানা যাবে না। আবার বলছে পুরাতন বিধান বাতিল করা হল। পল কে যে সে পুরাতন বিধান বাতিল করবে? যেখানে যীশু বলেছে, তার বিধানে কোন কিছু বাদ দেওয়া ও সংযোজন করা যাবে না!

আমরা স্পষ্ট দেখতে পারলাম খ্রীষ্টানরা মূলত যীশুর অনুসারী না, তারা মূলত পলের অনুসারী। তার জন্যই তারা যীশুর কথায় গুরুত্ব না দিয়ে, পলের কথায় এত গুরুত্ব দেয় এবং তাকেই মেনে চলে।

📘 খ্রিস্টান ধর্ম খন্ডন রদ্দে ক্রিশ্চিয়ানিটি 📄 বন্য প্রাণী (Snake - সাপকে) নিয়ে বাইবেলের ঈশ্বরের অজ্ঞাতা, মিথ্যাচার ও অবৈজ্ঞানিক ভুল তথ্য।

📄 বন্য প্রাণী (Snake - সাপকে) নিয়ে বাইবেলের ঈশ্বরের অজ্ঞাতা, মিথ্যাচার ও অবৈজ্ঞানিক ভুল তথ্য।


আসুন বাইবেলের ইশ্বরের (সাপকে) নিয়ে মিথ্যাচার দেখি। সাপ নাকি বন্যপ্রাণীর মধ্যে সবচেয়ে সবচেয়ে চালাক প্রানী ও সাপ নাকি ধুলা খায়? যা অবৈজ্ঞানিক ও ভুল তথ্য।

এবার আসেন বাইবেল থেকে বিস্তারিত দেখি সাপকে নিয়ে বাইবেলের ইশ্বরের অজ্ঞাতা ও মিথ্যাচার।
প্রভু ঈশ্বর যত রকম বন্য প্রাণী সৃষ্টি করেছিলেন সে সবগুলোর মধ্যে সাপ সবচেয়ে চালাক ছিল। সাপ সেই নারীর সঙ্গে একটা চালাকি করতে চাইল। একদিন সাপটা সেই নারীকে জিজ্ঞেস করল, নারী, ঈশ্বর কি বাগানের কোনও গাছের ফল না খেতে সত্যিই আদেশ দিয়েছেন? (আদিপুস্তক ০১/০১)

দেখেন বাইবেলের ইশ্বর এতটাই নির্বোধ ও অজ্ঞ যে তিনি তার সৃষ্টি সম্পর্কেই কিছু জানে না। তিনি বলেন সাপ নাকি বন্য প্রাণীর মধ্যে সবচেয়ে চালাক প্রানী অথচ আজ বিজ্ঞান বলে সাপের থেকেও অসখ্যা চালাক প্রানী আছে।

সুতরাং প্রভু ঈশ্বর সাপটাকে বললেন, তুমি ভীষণ খারাপ কাজ করেছ; তার ফলে তোমার খারাপ হবে। অন্যান্য পশুর চেয়ে তোমার পক্ষে বেশী খারাপ হবে। সমস্ত জীবন তুমি বুকে হেঁটে চলবে আর মাটির ধুলো খাবে। (জেনেসিস ০৩/১৪)

দেখেন বাইবেলের ইশ্বর বলছে, সাপ নাকি ধুলা খায়! এটা হাস্যকর কথা ছাড়া আর কিছুই না। সাপ কি খায় তা বলার ও ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নাই কারন তা সকল মানুষই জানে। তবে সাপ যে ধুলা খায় না এটাও সবাই জানে! বাইবেলের ইশ্বর মিথ্যা কথা বলেছে এটা বুঝতে হয়তো আর কারো বাকি নাই।

এমন অবৈজ্ঞানিক মিথ্যাবাদি ইশ্বরকে বিশ্বাস করা কতটা যৌক্তিক আপনারাই বিবেচনা করেন। যে কিনা তার সৃষ্টি সম্পর্কেই জানে না।

📘 খ্রিস্টান ধর্ম খন্ডন রদ্দে ক্রিশ্চিয়ানিটি 📄 বাইবেলের (ঈশ্বর) যাকোবের সাথে কুস্তিউদ্ধে পরাজিত হয়ে ভয়ে পালিয়ে গেলেন।

📄 বাইবেলের (ঈশ্বর) যাকোবের সাথে কুস্তিউদ্ধে পরাজিত হয়ে ভয়ে পালিয়ে গেলেন।


দেখেন বাইবেলের ইশ্বর যাকোবের সাথে কুস্তিযুদ্ধে পরাজিত হয়ে ভয়তে সূর্য উঠার আগেই পালিয়ে গেলেন।

আসুন এবার বাইবেল থেকে বিস্তারিত দেখি ইশ্বর কিভাবে তার সৃষ্টির কাছে কুস্তিযুদ্ধে পরাজিত হয়ে ভয়ে পালিয়ে যায়।
অবশেষে যাকোব নদী পার হবার জন্য রইল। কিন্তু সে একা পার হবার আগে একজন পুরুষ এসে তার সঙ্গে মল্লযুদ্ধ করল। সূর্য ওঠার আগে পর্যন্ত সেই পুরুষটি তার সঙ্গে যুদ্ধ করলেন। (আদিপুস্তক ৩২/২৪)

পুরুষটি যখন দেখলেন তিনি যাকোবকে পরাজিত করতে পারছেন না তখন যাকোবের পায়ে আঘাত করলেন, তাতে যাকোরে পায়ের হাড় সরে গেল। (আদিপুস্তক ৩২/২৫)

তারপর সেই পুরুষটি যাকোবকে বললেন, আমায় যেতে দাও, সূর্য উঠছে। কিন্তু যাকোব বলল, আপনি আমাকে আশীর্বাদ না করলে আমি আপনাকে যেতে দেব না। (আদিপুস্তক ৩২/২৬)

সেই পুরুষটি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার নাম কি? যাকোব উত্তর দিল, আমার নাম যাকোব। (আদিপুস্তক ৩২/২৭)

তখন সেই পুরুষটি বললেন, তোমার নাম যাকোবের পরিবর্তে ইস্রায়েল হবে। আমি তোমার এই নাম রাখলাম কারণ তুমি ঈশ্বরের সঙ্গে ও মানুষের সঙ্গে যুদ্ধ করেছ কিন্তু পরাজিত হও নি। (আদিপুস্তক ৩২/২৮)

তখন যাকোব তাকে জিজ্ঞেস করল, দয়া করে বলুন আপনার নাম কি? কিন্তু সেই পুরুষটি বললেন, কি জন্য আমার নাম জিজ্ঞেস করছ? সেই সময়ই পুরুষটি যাকোবকে আশীর্বাদ করলেন। (আদিপুস্তক ৩২/২৯)

তাই যাকোব সেই জায়গার নাম পনূয়েল রাখল। যাকোব বলল, এই স্থানেই আমি ঈশ্বরকে মুখোমুখি দেখলাম কিন্তু তাও প্রাণে বাঁচলাম। (আদিপুস্তক ৩২/৩০)

এবার আপনারাই বলেন যে, ইশ্বর সাধারন মানুষের সাথে যুদ্ধ করে হেরে ভয়তে পালিয়ে যায় এমন ইশ্বরকে বিশ্বাস করা কতটা যৌক্তিক? আবার ইশ্বরকে নাকি যাকোব আটকে রাখতে চায়! এমন শক্তিহীন ইশ্বরকে বিশ্বাস করা কতটা যৌক্তিক?

আপনারা নিজেই দেখতে পেলেন বাইবেলের ইশ্বরের অবস্থা! তিনি তার সৃষ্টির কাছে কুস্তিযুদ্ধে পরাজিত হয়ে ভয়ে পালিয়ে যায়। এমন শক্তিহীন ইশ্বরকে বিশ্বাস করা কতটা যৌক্তিক?

ফন্ট সাইজ
15px
17px