📄 রাজা জেহোইয়াচিনকে নিয়ে বাইবেলের (ঈশ্বরের) গাণিতিক অজ্ঞতা ও বৈপরীত্য।
বাইবেলের ইশ্বর তার স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা খুব প্রক্ষর কারন তিনি কখন কি বলেন তা নিজেই জানেন না।
বাইবেলের ইশ্বরের গাণিতিক অজ্ঞাতা ও বৈপরীত্য দেখেন :-
Jehoiachin was (eighteen) years old when he began to reign, and he reigned in Jerusalem three months. And his mother's name was Nehushta, the daughter of Elnathan of Jerusalem.
জেহোইয়াচিন ছিলেন (১৮) বছর বয়স্ক, যখন তিনি জেরুজালেম শাসন করতে শুরু করেছিলেন। তখন তিনি (০৩) মাস শাসন করেছিলেন। (০২ রাজাবলি ২৪/০৮)
এখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে জেহোইয়াচিন (১৮) বছর বয়সে (০৩) মাস জেরুজালেম শাসন করেছিলেন।
আবার দেখেন বাইবেলের ইশ্বর আরেক জায়গায় কি বলছে :-
Jehoiachin was (eight) years old when he began to reign, and he reigned three months and ten days in Jerusalem: and he did that which was evil in the sight of the LORD.
জেহোইয়াচিন ছিলেন (০৮) বছর বয়স্ক, যখন তিনি জেরুজালেম শাসন করতে শুরু করেছিলেন এবং তিনি (০৩ মাস ১০ দিন) শাসন করেছিলেন। (০২ বংশাবলি ৩৬/০৯)
এখানে বাইবেলের ইশ্বর বলছে, জেহোইয়াচিন (০৮) বছর বয়সে জেরুজালেম (০৩) মাস (১০) দিন শাসন করে।
এখানে আপনারা স্পষ্ট বৈপরীত্য ও বাইবেলের ইশ্বরের অজ্ঞতা দেখতে পাচ্ছেন!
এখন আমার প্রশ্ন :- জোহােইয়াচিন জেরুজালেম শাসন শুরু করেছিলেন (১৮) বছর বয়সে, নাকি (০৮) বছর বয়সে? এবং তিনি (০৩) মাস জেরুজালেম শাসন করেছিলেন? নাকি (০৩) মাস (১০) দিন?
এখানে স্পষ্ট বাইবেলের ইশ্বরের অজ্ঞতা ও বৈপরীত্যের প্রমান পাওয়া যাচ্ছে। আপনারাই বিবেচনা করেন ইশ্বর কি কখনো ভুল করতে পারেন?
📄 বাইবেল অনুযায়ী যীশু পৃথিবীতে শান্তি নয় বরং অশান্তি বাধাতে এসেছে।
বাইবেল অনুযায়ী ইশ্বর যীশুকে প্রেরন করেছে পৃথিবীতে অশান্তি, আগুন ও খারাপ কাজ করতে।
দেখেন যীশু নিজের মুখে সে কি বলছে! সে নাকি পৃথিবীতে শান্তি স্থাপন নয় বরং অশান্তি বাধাতে এসেছে।
একথা ভেবো না যে, আমি পৃথিবীতে শান্তি দিতে এসেছি। আমি শান্তি দিতে আসি নি কিন্তু খড়গ দিতে এসেছি। (মথি ১০/৩৪)
আমি এই ঘটনা ঘটাতে এসেছি, আমি ছেলেকে বাবার বিরুদ্ধে, মেয়েকে মায়ের বিরুদ্ধে, বৌমাকে শাশুড়ীর বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে এসেছি। নিজের আত্মীয়েরাই হবে একজন ব্যক্তির সবচেয়ে বড় শত্রু। (মথি ১০/৩৫)
এখন সমস্ত মিদিয়নীয় ছেলেদের হত্যা করো। সমস্ত মিদিয়নীয় স্ত্রীলোকদের হত্যা করো যাদের কোনো না কোনো পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক ছিল। (গণনাপুস্তক : ৩১/১৭)
তুমি সমস্ত যুবতী মেয়েদের বাঁচতে দিতে পারো। কিন্তু কেবল তখনই যদি তাদের সঙ্গে কোনো পুরুষের যৌন সম্পর্ক না থেকে থাকে। (গণনাপুস্তক : ৩১/১৮)
আমি পৃথিবীতে আগুন নিক্ষেপ করতে এসেছি, 'আহা, যদি তা আগেই জ্বলে উঠত৷ (লুক ১২/৪৯)
তোমরা কি মনে কর এই পৃথিবীতে আমি শান্তি স্থাপন করতে এসেছি? না, আমি তোমাদের বলছি, বরং বিভেদ ঘটাতে এসেছি। (লুক ১২/৫২)
এমন জঘন্যতম কথা কি করে বলতে পারে বাইবেলের ইশ্বর আপনারাই বিবেচনা করেন। এমন ইশ্বরের বিশ্বাস করা কতটা যৌক্তিক? যে কিনা নিজেই মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করবে।
বাইবেল থেকেই প্রমানিত যে তাদের ইশ্বর নিজেই মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করবে এবং তিনি পৃথিবীতে শান্তির বদলে অশান্তি সৃষ্টি করবে।
📄 বাইবেলের ঈশ্বর ক্লান্ত হয়ে যেদিন বিশ্রাম নিয়েছিলেন! সেই দিনে কোন কর্ম করলেই মৃত্যুদণ্ড।
দেখেন বাইবেলের ইশ্বরের নাকি আবার বিশ্রামের প্রয়োজন হয়! আর সে যদি বিশ্রাম নেয়! তাহলে তখন এই পৃথিবী কে পরিচালনা করেছে? সে বিশ্রাম নিলে তো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা।
বাইবেল অনুযায়ী ইশ্বরের বিশ্রামেরও প্রয়োজন হয়! এই সব অদ্ভুদ কথাও নাকি বিশ্বাস করতে হবে মানুষদের। আসেন বাইবেলের বক্তব্য দেখি :-
কিন্তু সপ্তমদিনটি হবে অবসরের। প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের দিন। সুতরাং সেই দিনে কেউ কাজ করবে না-তুমি নয়, অথবা তোমার ছেলেরা এবং মেয়েরা, অথবা তোমার স্ত্রী, অথবা তোমার ক্রীতদাস-দাসীরা কেউ নয়। এমনকি তোমাদের গৃহপালিত পশু এবং তোমাদের শহরে বাস করা বিদেশীরাও বিশ্রামের দিনে কোন কাজ করবে না। (যাত্রাপুস্তক ২০/১০)
কারণ প্রভু সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করে এই আকাশ, পৃথিবী, সমুদ্র এবং এর মধ্যস্থিত সব কিছু বানিয়েছেন এবং সপ্তমদিনে তিনি বিশ্রাম নিয়েছেন। এইভাবে বিশ্রামের দিনটি প্রভুর আশীর্বাদ ধন্য - ছুটির দিন। প্রভু এই দিনটিকে বিশেষ দিন হিসাবে সৃষ্টি করেছেন। (যাত্রাপুস্তক ২০/১১)
এই বিশ্রামের দিনকে একটি বিশেষ দিনের মর্যাদা দেবে। যদি কেউ এই বিশেষ বিশ্রামের দিনকে অন্য একটি সাধারণ দিনের মতো পালন করে তাহলে তাকে অবশ্যই হত্যা করতে হবে। যদি কেউ এই বিশ্রামের দিনেও কাজ করে, তাহলে তাকে তার লোকদের থেকে বিতাড়িত করতে হবে। (যাত্রাপুস্তক ৩১/১৪)
কাজ করার জন্য সপ্তাহের বাকি ছয় দিন নির্দিষ্ট থাকবে কিন্তু সপ্তম দিনটি হবে বিশেষ বিশ্রামের দিন। এই দিনটি তোলা থাকবে প্রভুর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের দিন হিসেবে। এই বিশেষ বিশ্রামের দিনে কেউ কাজ করলে তার মৃত্যু অনিবার্য। (যাত্রাপুস্তক ৩১/১৫)
তোমরা ছয়দিন ধরে কাজ করবে কিন্তু সপ্তম দিনটি হবে বিশেষভাবে বিশ্রামের জন্য থাকবে। তোমরা ঐদিন বিশ্রাম নেবে এবং এইভাবে প্রভুকে সম্মান জানাবে। যে ব্যক্তি সপ্তম দিন কাজ করবে তাকে হত্যা করা হবে। (যাত্রাপুস্তক ৩৫/০২)
ঐ বিশ্রামের দিন তোমাদের বাড়ীর কোথাও তোমরা আগুন পর্যন্ত জ্বালাবে না। (যাত্রাপুস্তক ৩৫/০৩)
যদি এই বিশ্রামের দিনে কেউ সামান্যতম কোন কাজ করে তাহলে তাকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হবে, এমন অমানবিক নিষ্ঠুর কথা কি কোন ইশ্বরের পক্ষে মানায়? এমনকি এই বিশ্রামের দিনে কোন রান্নাবান্না ও করা যাবে না।
কিন্তু দেখেন পৃথিবীর সকল খ্রীষ্টানই এই বিশ্রামের দিনে বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকেন। তারা কেউ তাদের ইশ্বরের এতবড় একটা আদেশ অমান্য করে থাকেন। বাইবেলের ইশ্বর এই সামান্য বিষয়টা জানে না যে বিশ্রামের দিন যদি চুলায় আগুন না জালায় তাহলে সকলের না খেয়ে থাকতে হবে।
এ বিষয় মহান আল্লাহ বলেন :-
আল্লাহ, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বদা রক্ষণাবেক্ষণকারী। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। আকাশমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, তাঁরই। কে সেই ব্যক্তি যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর নিকট সুপারিশ করে? তিনি লোকদের সমুদয় প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অবস্থা জানেন। পক্ষান্তরে মানুষ তাঁর জ্ঞানের কোনকিছুই আয়ত্ত করতে সক্ষম নয়, তিনি যে পরিমাণ ইচ্ছে করেন সেটুকু ছাড়া। তাঁর কুরসী আকাশ ও পৃথিবী পরিবেষ্টন করে আছে এবং এ দু'য়ের রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না, তিনি উচ্চ মর্যাদাশীল, মহান। (সূরা বাকারা আয়াত : ২৫৫)
আলহামদুলিল্লাহ কোরআন অনুযায়ী আল্লাহর কোন নিদ্রার ও বিশ্রামের প্রয়োজন হয় না।
বাইবেল অনুযায়ী তাদের ইশ্বর বিশ্রাম নেন এমন অযৌক্তিক কথায় বিশ্বাস করা কতটা যৌক্তিক আপনারাই বিবেচনা করেন। এমন বিকৃত বইকে বিশ্বাস না করাই ভালো।
📄 খ্রিষ্টানরা মূলত কার অনুসারী যিশুর না সেন্ট পৌলের?
আসলে খ্রীষ্টানরা মূলত যীশু খ্রীষ্টের অনুসারী নয় তারা সেন্ট পলের অনুসারী। তারা পলকে এতটায় মানেন যে, যীশুকেও এতটা মানেন না। এমনকি যীশুর কথার চেয়ে পলের কথাই খ্রীষ্টানরা বেশি মানে।
এবার আসেন দেখি বাইবেলে পল কিভাবে যীশুর বিরুদ্ধিতা করতেন!
ভেবো না যে আমি মোশির বিধি-ব্যবস্থা ও ভাববাদীদের শিক্ষা ধ্বংস করতে এসেছি৷ আমি তা ধ্বংস করতে আসিনি বরং তা পূর্ণ করতেই এসেছি। (মথি ০৫/১৭)
এখানে যীশু স্পষ্ট করে বলেছে, পুরাতন বিধান মানতে হবে এবং তিনি পুরাতন বিধান পূরন করতে এসেছেন। এবার পলের বক্তব্য দেখেন।
শোন! আমি পৌল বলছি। যদি তোমরা সুন্নতের মাধ্যমে আবার বিধি-ব্যবস্থায় ফিরে যাও, তবে তোমরা খ্রীষ্টেতে লাভবান হবে না। (গালিতিয় ০৫/০২)
আবার আমি প্রত্যেক মানুষকে সতর্ক করে দিচ্ছি। তোমরা যদি সুন্নত করাতে চাও, তবে বিধি-ব্যবস্থার সবটাই তোমাদের পালন করতে হবে। (গালিতিয় ০৫/০৩)
তোমরা যাঁরা বিধি-ব্যবস্থার দ্বারা ঈশ্বরের সাক্ষাতে নির্দোষ গণিত হতে চেষ্টা করছ, তারা খ্রীষ্টের কাছ থেকে নিজেদের আলাদা করেছ এবং ঈশ্বরের অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত হয়েছ। (গালিতীয় ০৫/০৪)
পুরানো বিধান বাতিল করা হল, কারণ তা দুর্বল ও অকেজো হয়ে পড়েছিল৷ (হিব্রুদের কাছে পত্র ০৭/১৮)
কারণ মোশির বিধি-ব্যবস্থা কিছুই সিদ্ধ করতে পারে নি। এখন আমাদের কাছে মহত্তর আশা রয়েছে, যার মাধ্যমে আমরা ঈশ্বরের কাছে উপস্থিত হতে পারি। (হিব্রুদের কাছে পত্র ০৭/১৯)
এখানে পল বলছে যে, পুরাতন বিধান মানলে খ্রীষ্টতে লাভবান হবেন না। মানে পুরাতন বিধান মানা যাবে না। আবার বলছে পুরাতন বিধান বাতিল করা হল। পল কে যে সে পুরাতন বিধান বাতিল করবে? যেখানে যীশু বলেছে, তার বিধানে কোন কিছু বাদ দেওয়া ও সংযোজন করা যাবে না!
আমরা স্পষ্ট দেখতে পারলাম খ্রীষ্টানরা মূলত যীশুর অনুসারী না, তারা মূলত পলের অনুসারী। তার জন্যই তারা যীশুর কথায় গুরুত্ব না দিয়ে, পলের কথায় এত গুরুত্ব দেয় এবং তাকেই মেনে চলে।