📄 বাইবেল অনুযায়ী বিবাহ না করা (উত্তম ও ভাল) কাজ।
প্রথমেই বলে রাখি গোটা বাইবেলে যীশু কোথাও বিবাহের নিয়ম কানুন বলে যায় নাই। বরং বিয়ে না করাকেই (উত্তম ও ভাল) কাজ বলেছে।
এবার আসেন দেখি বাইবেলে কি বলা হয়েছে:
* তোমরা যে সব বিষয়ে লিখেছ সে সম্বন্ধে এখন আলোচনা করব। একজন পুরুষের বিয়ে না করাই ভাল। (০১ করিন্থীয় ০৭/০১)
* অবিবাহিত আর বিধবাদের সম্পর্কে আমার বক্তব্য, 'তারা যদি আমার মতো অবিবাহিত থাকতে পারে তবে তাদের পক্ষে তা মঙ্গল। (০১ করিন্থীয় ০৭/০৮)
* তাই তার বাগদত্তা বন্ধুকে বিয়ে করে সে ঠিক কাজই করে; আর যে তাকে বিয়ে না করে সে আরো ভালো করে। (০১ করিন্থীয় ০৭/৩৮)
* তবে আমার মতে সে যদি আর বিয়ে না করে তবে আরো সুখী হবে। (০১ করিন্থীয় ০৭/৪০)
বাইবেলের ঈশ্বরের এ কেমন বিচার যে নারী পুরুষ সৃষ্টি করেছে আবার তাদের বিধান দিয়ে দিছে তারা যেন বিয়ে না করে তাহলে নারী পুরুষ সৃষ্টি করার কি দরকার ছিল বাইবেলের ঈশ্বরের? আর তারা যদি বিয়েই না করে তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আসবে কি করে?
আবার দেখেন বাইবেলের ঈশ্বর পরে কি বলছে :-
* স্ত্রীলোক থেকে পুরুষের সৃষ্টি হয় নি; কিন্তু পুরুষ থেকেই স্ত্রীলোক এসেছে৷ (০১ করিন্থীয় ১১/০৮)
* স্ত্রীলোকের জন্য পুরুষের সৃষ্টি হয় নি, কিন্তু পুরুষের জন্য স্ত্রীলোকের সৃষ্টি হয়েছিল৷ (০১ করিন্থীয় ১১/০৯)
এদিকে আবার বলছে পুরুষের জন্য নারীর সৃষ্টি হয়েছে। যদি পুরুষের জন্য নারীর সৃষ্টি হয়ে থাকে তাহলে কেন পুরুষকে বিয়ে না করার জন্য বলেছে? বাইবেলের ঈশ্বরের কেন এই দুমুখো নীতি?
আর খ্রীষ্টানরা বাইবেলের কোন (নিয়ম কানুন) অনুযায়ী বিয়ে করে? গোটা বাইবেলে কোথায় যীশু বিয়ের নিয়ম কানুন বলে যায় নাই। একজন নারী পুরুষ একসাথে থাকলেই তাদের বিয়ে হয়ে যায় না। যেহেতু যীশু বাইবেলে কোথাও বিবাহের নিয়ম কানুন বলে যায় নাই সেহেতু সকল খ্রীষ্টানের বিয়ে বাতিল। তারা বিয়ের নামে অশ্লীলতা ছাড়া আর কিছুই করছে না।
📄 বাইবেল অনুযায়ী নারীরা পর্দা না করলে চুল কেটে দিতে হবে।
নারীরা যদি পর্দা না করে তাহলে বাইবেল অনুযায়ী তাদের চুল কেটে দিতে হবে। পর্দা না করলে চুল কেটে দিতে বলেছেন বাইবেলের ঈশ্বর। কত কঠিনভাবে বিধানটি দিয়েছেন।
এবার আসেন দেখি বাইবেল কি বলে:
* স্ত্রীলোক যদি তার মাথা না ঢাকে তবে তার চুল কেটে ফেলাই উচিত। কিন্তু চুল কেটে ফেলা বা মাথা নেড়া করা যদি স্ত্রীলোকের পক্ষে লজ্জার বিষয় হয়, তবে সে তার মাথা ঢেকে রাখুক। (১ করন্থীয় ১১/০৬)
* কিন্তু স্ত্রীলোকের লম্বা চুল তার গৌরবের বিষয় কারণ সেই লম্বা চুল তার মাথা ঢেকে রাখার জন্য তাকে দেওয়া হয়েছে। (১ করন্থীয় ১১/১৫)
খ্রীষ্টানদের দাবি হল ১৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাদেরকে চুল দ্বারা মাথা ঢাকতে বলছে কোন পর্দা করতে বলা হয়নি। দেখেন ০৬ নং ভার্স স্পষ্ট বলে দিয়েছে, কোনো স্ত্রী লোক যদি তার মাথা না ঢাকে তাহলে তার চুল কেটে দিতে হবে। ০৬ নং অনুচ্ছেদ বলছে চুল থাকার পরও যদি সে তার মাথা না ঢাকে তাহলে চুল কেটে দিতে হবে। এখানে ১৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার মাথা চুল দিয়ে ঢাকা আছে, তাহলে ০৬ নং অনুচ্ছেদ তারপরও কেন চুল কেটে দিতে বলবে? ১৫ নং অনুচ্ছেদ ০৬ নং অনুচ্ছেদের বিরুদ্ধে বলছে, আবার ০৬ নং অনুচ্ছেদ ১৫ নং অনুচ্ছেদের বিরুদ্ধে বলছে।
বাইবেল অনুযায়ী নারীদের পর্দা করা বাধ্যতামূলক কিন্তু বর্তমান খ্রীষ্টানরা বাইবেলের বিধান অমান্য করে জীবন পরিচালনা করছেন। তাহলে বুঝতেই পারছেন তারা কতটা বাইবেলের বিধান মানে।
📄 খ্রীষ্টান ধর্মে (স্বর্গীয় স্ত্রী - হুরের) বর্ণনা এবং বাইবেল নিজেই বলছে তাদের স্বর্গেঈ (পতিতালয়)।
আসুন বাইবেল থেকেই প্রমান করবো খ্রীষ্টানরাও তাদের স্বর্গে হুর পাবে এমনকি তারা হুরদের সাথে সহবাস করে বাচ্চাও জন্ম দিবে। যেমনভাবে খ্রীষ্টানরা মুসলিমদের জান্নাতকে বলে পতিতালয় কোন রকম প্রমান ছাড়াই। কিন্তু আমরা বাইবেল থেকেই প্রমান সহকারে দেখাবো বাইবেল নিজেই বলছে তাদের স্বর্গই পতিতালয়।
আসুন এবার বাইবেল থেকে দেখি:
* যীশু বলেন “জেনে রাখো, পুনরুত্থানের পর লোকেরা বিয়ে করে না, বা তাদের বিয়েও দেওয়া হয় না, তারা বরং স্বর্গদূতদের মতো থাকে। (মথি ২২/৩০)
বাইবেলের এই অনুচ্ছেদটাই হল খ্রীষ্টানদের একমাত্র দলিল যে তারা তাদের স্বর্গে কোন হুর পাবে না। কিন্তু তাদের বাইবেলেই হুরের কথা আছে। তাও আবার ১, ২, ৩ টা হুর না, হাজার হাজার হুর তারা পাবে।
* আর যারা আমার জন্য বাড়ি ঘর, ভাই বোন, বাবা-মা, (স্ত্রী), ছেলেমেয়ে অথবা জায়গা জমি ছেড়েছে, তারা তার শতগুণ বেশী পাবে এবং অনন্ত জীবনেরও অধিকারী হবে। (মথি ১৯/২৯)
* যীশু তখন তাদের বললেন... যারা ঈশ্বরের রাজ্যের জন্য ঘর-বাড়ি, (স্ত্রী), ভাই-বোন... ত্যাগ করেছে তারা প্রত্যেকে এ জীবনেই সেই সব বহুগুণে ফিরে পাবে। (লুক ১৮/২৯-৩০)
বলা হচ্ছে যারা যীশুর জন্য বাড়িঘর ছাড়বে তারা স্বর্গে তার (শতগুণ-বহুগুন-অগণিত) বেশি পাবে। খ্রীষ্টানরা বর্তমান বাইবেলের অনুবাদে (স্ত্রী) শব্দটা জালিয়াতি করে মুছে দিয়েছে তবে হিব্রু (אשתו), গ্রীক (γυναῖκα) ও ইংরেজিতে (wife) শব্দটা এখনো আছে।
স্বর্গে বিবাহের প্রমাণ:
* স্বর্গে লোকেরা চিল্লাচিল্লি করছিল “হাল্লিলুইয়া” বলে আর সেখানে মেষপালকদের বিবাহ দিচ্ছে স্বর্গে। (রিভেলেশন ১৯/০১-৭)
* বাইবেল বলছে "স্বর্গে এক স্ত্রীলোককে দেখা গেল... স্ত্রীলোকটি গর্ভবতী, প্রসব বেদনায় সে চিতকার করছিল৷ ” (রিভেলেশন ১২/০১-১৭)
এখন প্রশ্ন হলো যদি স্বর্গে বিয়ে না হয় তাহলে এই নারীটি কিভাবে গর্ভবতী হয়েছিল স্বর্গে?
আলহামদুলিল্লাহ বাইবেল থেকেই প্রমান করেছি তাদের স্বর্গই হল পতিতালয় কারন (মথি ২২/৩০) বলছে তাদের বিয়ে হবে না অথচ হুর পাবে। বিয়ে ছাড়া তারা স্বর্গের হুরদের সাথে অশ্লীলতা করবে। কোরআন ও হাদিস অনুযায়ী মুসলিমরা জান্নাতে বৈধভাবে বিয়ে করে হুর পাবে, কিন্তু খ্রীষ্টানরা তাদের স্বর্গেও পতিতালয়ের মত কাজ করবে কোনো বিয়ে ছাড়াই।
📄 বাইবেল অনুযায়ী অন্য ধর্ম প্রচার করলেই তাদেরকে হত্যা করতে হবে। এবং জোরপূর্বক খ্রীষ্টান ধর্ম গ্রহন করানোর বিধান।
বাইবেল অনুযায়ী খ্রীষ্টান ধর্মের সুমাচার বাদে কেউ যদি অন্য কোন ধর্মের সুমাচার প্রচার করে তাদেরকে হত্যা করতে বলা হয়েছে।
আসুন দেখি বাইবেল কি বলে:
* এছাড়াও একজন ভাববাদী আসতে পারে যে অন্যান্য দেবতার হয়ে কথা বলে। সেই ভাববাদীকেও অবশ্যই হত্যা করা উচিত। (দ্বিতীয় বিবরন ১৮/২০)
* কিন্তু যাঁরা আমার শত্রু, যাঁরা চায় নি যে আমি তাদের ওপর রাজত্ব করি, তাদের এখানে নিয়ে এসে আমার সামনেই মেরে ফেল। (লুক ১৯/২৭)
* এই রকম নম্র মানুষদের মধ্যে যাঁরা আমাকে বিশ্বাস করে, তাদের কারও বিশ্বাসে যদি কেউ বিঘ্ন ঘটায়, তবে তার গলায় ভারী একটা যাতা বেঁধে সমুদ্রের অতল জলে তাকে ডুবিয়ে দেওয়াই তার পক্ষে ভাল হবে৷ (মথি ১৮/০৬)
ভাববাদি এলীয়র কাহিনী দেখেন, যিনি অন্য ধর্মের (৪৫০) জন নবিকে হত্যা করেছিলেন:
* এলিয় তখন বললেন, “বাল মূর্ত্তির সমস্ত ভাববাদীদের ধরে নিয়ে এসো... এলিয় তাদের কীশোনের খাঁড়িতে নিয়ে গিয়ে হত্যা করলেন। (০১ রাজাবলি ১৮/৪০)
এই (৪৫০) জন বিধর্মী নবীর কী দোষ ছিলো যে ভাববাদী এলিয় তাদের হত্যা করলেন? এখান থেকেই প্রমান হয় যে বাইবেল অনুযায়ী খ্রীষ্টান ধর্মে জোরপূর্বক খ্রীষ্টান ধর্ম গ্রহন করানো বাধ্যতামূলক।
এ বিষয়ে মহান আল্লাহ যা বলেছেন পবিত্র কোরআনে:
"দীনের মধ্যে জবরদস্তির অবকাশ নেই, নিশ্চয় হিদায়াত গোমরাহী হতে সুস্পষ্ট হয়ে গেছে।" (সূরা বাকারা আয়াত : ২৫৬)
কোরআন স্পষ্ট করে বলেছে জোর জুলুম করে ইসলামের মধ্যে দিক্ষিপ্ত করা নিষেধ। অপরদিকে বাইবেল বলছে অন্য ধর্মাবলম্বীদের মেরে ফেলতে হবে। এবার আপনারাই বিবেচনা করেন কোন ধর্মটা শান্তির কথা বলে?