📄 বাইবেল থেকেই প্রমানিত, যীশু সমগ্র মানুষের জন্য নয়! যীশু শুধুমাত্র তার সম্প্রদায়ের ও গোত্রের জন্য এসেছিলেন?
বাইবেল থেকেই প্রমান করবো যীশু শুধুমাত্র তার গোত্র ও তার সম্প্রদায়ের জন্য এসেছিলেন। এমনকি বাইবেলে যীশু নিজের মুখেই বলেছে সে শুধুমাত্র তার সম্প্রদায়ের জন্য এসেছিলেন।
খ্রীষ্টানরা বাইবেলের একটি অনুচ্ছেদ দেখি বলে থাকে যে যীশু সমর্গ মানবজাতির জন্য এসেছিলেন। প্রথমে এই অনুচ্ছেদটা খণ্ডন করবো তারপর বাইবেল থেকেই প্রমান করবো যীশু ও তার (পিতা ঈশ্বরের) বক্তব্য থেকে যীশু শুধুমাত্র তার গোত্র ও (সম্প্রদায় ইসরায়েলের) জন্য এসেছিলেন ইনশাআল্লাহ।
* তিনি তাঁদের বললেন, তোমরা সমস্ত জগতে যাও ও সমস্ত সৃষ্টির কাছে সুসমাচার প্রচার করো। (মার্ক ১৬/১৫)
এটা হল খ্রীষ্টানদের সেই অনুচ্ছেদটা যেটা দেখিয়ে খ্রীষ্টানরা দাবি করে থাকে যীশু সমর্গ মানবজাতির জন্য এসেছিলেন। এবার এটা খন্ডন করবো। দেখেন এই অনুচ্ছেদে বাইবেলের ঈশ্বর সকল সৃষ্টির কাছে সুমাচার প্রচার করতে বলেছে। তাহলে গাছপালা, পশুপাখি, নদিনালা, পাহাড় পর্বত, চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র এসব সকল কিছুই ঈশ্বরের সৃষ্টি। এসব সৃষ্টির কাছে কোন খ্রীষ্টান কেন সুমাচার প্রচার করে নাই? এখান থেকেই বোঝা গেল যে তাদের ঈশ্বর মিথ্যা বলেছে! কারন সকল প্রানীর কাছে সকল সৃষ্টির কাছে সুমাচার প্রচার করা সম্ভব না। এখান থেকেই প্রমান হয় যে বাইবেল বিকৃত। কারন ঈশ্বর কখনো ভুল বা মিথ্যা কথা বলতে পারে না।
আর এই (মার্ক ১৬/১৫) অনুচ্ছেদটি প্রাচীন কোন বাইবেলে নাই। (প্রাচীন / পুরনো) বাইবেলে (মার্ক ১৬/০৮) অনুচ্ছেদ পর্যন্ত আছে। বাকি ১২ টা অনুচ্ছেদ খ্রীষ্টানদের নিজের বানানো, বাকি (মার্ক ১৬/৯-২০) অনুচ্ছেদগুলো জালিয়াতি করে বানানো হয়েছে।
এবার দেখেন যীশুকে নিয়ে বাইবেলের (ঈশ্বরের) বক্তব্য! যীশুকে যে শুধুমাত্র তার (সম্প্রদায় - ইস্রাইলের) জন্য পাঠানো হয়েছে:
"কারণ তুমি গর্ভবতী হবে এবং একটি পুত্রের জন্ম দেবে... সে-ই পলেষ্টীয়দের হাত থেকে ইস্রায়েলীয়দের রক্ষা করবে।"
এখানে (পিতা - ঈশ্বর) স্পষ্ট করে বলেছে যীশুকে পাঠানো হয়েছে, পলেষ্টীয়দের হাত থেকে শুধুমাত্র ইস্রায়েলীয়দের রক্ষা করার জন্য।
এবার বাইবেল থেকে প্রমান দেখেন যীশু নিজের মুখে বলেছে সে ইসরায়েল বাসির কাছে এসেছে এবং তার শিশ্যদেরকেও শুধুমাত্র ইসরায়েল বাসির কাছে সুমাচার প্রচার করতে বলেছে:
* এর উত্তরে যীশু বললেন, 'সকলের কাছে নয়, কেবল ইস্রায়েলের হারানো মেষদের কাছে আমাকে পাঠানো হয়েছে। (মথি ১৫/২৪)
* এই বারো জনকে যীশু এই নির্দেশ দিয়ে পাঠালেন, 'তোমরা অইহুদীদের অঞ্চলে বা শমরীয়দের কোন নগরে যেও না। বরং ইস্রায়েল জাতির হারানো মেষদের কাছে যেও। (মথি ১০/০৫-০৬)
আলহামদুলিল্লাহ বাইবেল থেকেই যীশুর বক্তব্য অনুযায়ী প্রমানিত যে, যীশু শুধুমাত্র তার সম্প্রদায়ের জন্য এসেছিলেন।
হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন :-
"হে নবী (সা.)! আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি।" (সুরা আল আম্বিয়া, আয়াত: ১০৭) (সুরা আস সাবা, আয়াত: ২৮)
আলহামদুলিল্লাহ বাইবেল থেকেই প্রমান করেছি, যীশু শুধুমাত্র তার গোত্র ও সম্প্রদায়ের জন্য এসেছিলেন। এবং হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) সমগ্র মানবজাতির জন্য এসেছিলেন।
📄 বাইবেল অনুযায়ী পৃথিবী (স্তম্ভ - পিলার) এর উপর দাঁড়িয়ে আছে! যা অবৈজ্ঞানিক ও ভুল তথ্য।
দেখেন বাইবেল বলছে পৃথিবী (পিলার - স্তম্ভ) এর উপর দাড়িয়ে আছে। অথচ বিজ্ঞান বলে পৃথিবী শূন্যে ভাসমান। পৃথিবীর কোন (পিলার বা স্তম্ভ) নাই।
আসুন এবার বাইবেল থেকে বিস্তারিত দেখি।
* The (pillars) of heaven tremble and are astonished at his reproof. (Job 26/11)
* ভূগর্ভস্থ (থামগুলি / পিলার / স্তম্ভ) যা আকাশকে ধারন করে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। (যোব ২৬/১১) (০১ সামুয়েল ০২/০৮)
বিজ্ঞান বলে, মহাকাশের কোন পিলার নেই মহাকাশ শূন্যে ভাসমান।
এই বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেন :-
"আল্লাহ, যিনি খুঁটি ছাড়া আসমানসমূহ উঁচু করেছেন যা তোমরা দেখছ।" (সূরা রাদ, ১৩:২)
"তিনি খুঁটি ব্যতীত আকাশমন্ডলী সৃষ্টি করেছেন; তোমরা তা দেখছ।" (সূরা লোকমান, ৩১: ১০)
কোরআন স্পষ্ট করে বলেছে কোন খুটি ব্যাতিত মহাকাশ সৃষ্টি করেছে, আর বর্তমান বিজ্ঞানও বলে কোন খুটি ব্যাতিত শূন্যের উপর মহাকাস ও পৃথিবী দাড়িয়ে আছে। বাইবেল অবৈজ্ঞানিক ও বিকৃত তা প্রমানিত আলহামদুলিল্লাহ।
📄 বাইবেল অনুযায়ী সূর্য (সমুদ্রের মাঝখান) থেকে (উঠে) আবার (সমুদ্রের মাঝখানে) (ডুবে) যায়।
দেখেন বাইবেল যে অবৈজ্ঞানিক ও বিকৃত তার প্রমান। বাইবেল অনুযায়ী সূর্য সমুদ্রের মাঝখানে থেকে (উঠে) আবার সমুদ্রের মাঝখানে (ডুবে) যায়। যা অবৈজ্ঞানিক ও ভুল তথ্য।
বাইবেল অনুযায়ী সূর্য সমুদ্রের মাঝখানে থেকে (উঠে) আবার সমুদ্রের মাঝখানে (ডুবে) যায় এ সম্পর্কে বিস্তারিত দলিল সহকারে দেখে নেই।
* ...as far as the (Mediterranean) Sea where the sun sets... (Joshua 01/04)
* হিত্তীয়দের সমস্ত জমি... এখানে থেকে পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর, (যেখানে সূর্য অস্তাচলে নামে) সমস্ত ভূখণ্ডই জেনো তোমার হবে। (যোশুয়া ০১/০৪)
দেখেন বাইবেল স্পষ্ট করে বলছে যে সূর্য ভূমধ্যসাগরের মাঝে ডোবে যা পুরোপুরি বিজ্ঞানের সাথে সাংঘর্ষিক। আজ বিজ্ঞান বলে সূর্য উঠেও না ডুবেও না। আপনারাই চিন্তা করেন সূর্য হল পৃথিবী থেকে কোটি কোটিগুন দূরে। তাহলে সূর্য কি করে পৃথিবীর ভূমধ্যসাগরে ডুবতে পারে? আর যদি সূর্য পৃথিবীর মধ্যেও থাকতো তাহলে সূর্য কখনোই ভূমধ্যসাগরে ডুবতে পারতো না, কারন সূর্য পৃথিবী থেকে অনেক বড়।
* The sun also ariseth, and the sun goeth (down) and hasteth to his place where he arose.... (Ecclesiastes 01/05)
* সূর্য উঠে আবার অস্ত যায়। তারপর দ্রুত ফিরে যায় সেই একই জায়গায় যেখান থেকে আবার সূর্য উঠে। (উপদেশক ০১/০৫)
স্পষ্ট করে বলা হয়েছে সূর্য (arose - উঠে) আবার (Down - ডুবে) যায়। বিজ্ঞান বলে সূর্য ওঠেও না, আবার ডুবেও যায় না।
খ্রীষ্টানরা ও নাস্তিকরা কোরআনের (সূরা কাহফ এর ৮৬ নং আয়াত) দেখিয়ে বলে যে এই আয়াতে নাকি বলা হয়েছে সূর্য উঠে ও ডুবে যায়। কিন্তু সেখানে আরবি শব্দ 'ওয়াজাদা' (وَجَدَ) ব্যবহার করা হয়েছে যার অর্থ 'মনে হয়েছিল'। অর্থাৎ যুলকারনাইনের কাছে মনে হয়েছিল যে সূর্য জলাশয়ে ডুবছে, যেমনটি আমরা নদি বা সমুদ্রের তীরে দাঁড়ালে মনে করি। কোরআনে কোথাও বলা হয়নি যে সূর্য উঠে আর ডুবে যায়। বাইবেল যে অবৈজ্ঞানিক ও বিকৃত তা প্রমানিত কারন ঈশ্বর কখনো ভুল করে না।
📄 বাইবেল অনুযায়ী বিবাহ না করা (উত্তম ও ভাল) কাজ।
প্রথমেই বলে রাখি গোটা বাইবেলে যীশু কোথাও বিবাহের নিয়ম কানুন বলে যায় নাই। বরং বিয়ে না করাকেই (উত্তম ও ভাল) কাজ বলেছে।
এবার আসেন দেখি বাইবেলে কি বলা হয়েছে:
* তোমরা যে সব বিষয়ে লিখেছ সে সম্বন্ধে এখন আলোচনা করব। একজন পুরুষের বিয়ে না করাই ভাল। (০১ করিন্থীয় ০৭/০১)
* অবিবাহিত আর বিধবাদের সম্পর্কে আমার বক্তব্য, 'তারা যদি আমার মতো অবিবাহিত থাকতে পারে তবে তাদের পক্ষে তা মঙ্গল। (০১ করিন্থীয় ০৭/০৮)
* তাই তার বাগদত্তা বন্ধুকে বিয়ে করে সে ঠিক কাজই করে; আর যে তাকে বিয়ে না করে সে আরো ভালো করে। (০১ করিন্থীয় ০৭/৩৮)
* তবে আমার মতে সে যদি আর বিয়ে না করে তবে আরো সুখী হবে। (০১ করিন্থীয় ০৭/৪০)
বাইবেলের ঈশ্বরের এ কেমন বিচার যে নারী পুরুষ সৃষ্টি করেছে আবার তাদের বিধান দিয়ে দিছে তারা যেন বিয়ে না করে তাহলে নারী পুরুষ সৃষ্টি করার কি দরকার ছিল বাইবেলের ঈশ্বরের? আর তারা যদি বিয়েই না করে তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আসবে কি করে?
আবার দেখেন বাইবেলের ঈশ্বর পরে কি বলছে :-
* স্ত্রীলোক থেকে পুরুষের সৃষ্টি হয় নি; কিন্তু পুরুষ থেকেই স্ত্রীলোক এসেছে৷ (০১ করিন্থীয় ১১/০৮)
* স্ত্রীলোকের জন্য পুরুষের সৃষ্টি হয় নি, কিন্তু পুরুষের জন্য স্ত্রীলোকের সৃষ্টি হয়েছিল৷ (০১ করিন্থীয় ১১/০৯)
এদিকে আবার বলছে পুরুষের জন্য নারীর সৃষ্টি হয়েছে। যদি পুরুষের জন্য নারীর সৃষ্টি হয়ে থাকে তাহলে কেন পুরুষকে বিয়ে না করার জন্য বলেছে? বাইবেলের ঈশ্বরের কেন এই দুমুখো নীতি?
আর খ্রীষ্টানরা বাইবেলের কোন (নিয়ম কানুন) অনুযায়ী বিয়ে করে? গোটা বাইবেলে কোথায় যীশু বিয়ের নিয়ম কানুন বলে যায় নাই। একজন নারী পুরুষ একসাথে থাকলেই তাদের বিয়ে হয়ে যায় না। যেহেতু যীশু বাইবেলে কোথাও বিবাহের নিয়ম কানুন বলে যায় নাই সেহেতু সকল খ্রীষ্টানের বিয়ে বাতিল। তারা বিয়ের নামে অশ্লীলতা ছাড়া আর কিছুই করছে না।