📘 খ্রিস্টান ধর্ম খন্ডন রদ্দে ক্রিশ্চিয়ানিটি 📄 বাইবেল অনুযায়ী (পল - সৌল) একজন ভন্ড, প্রতারক, মানুষ হত্যাকারী ও মিথ্যাবাদি মানুষ ছিল।

📄 বাইবেল অনুযায়ী (পল - সৌল) একজন ভন্ড, প্রতারক, মানুষ হত্যাকারী ও মিথ্যাবাদি মানুষ ছিল।


বাইবেল থেকেই প্রমান করবো (পল - সৌল) একজন ভন্ড, প্রতারক, মানুষ হত্যাকারী ও মিথ্যাবাদি ছিল।

প্রথমেই সংক্ষেপে পলের পরিচয় দেই তারপর তার সকল ভন্ডামি তুলে ধরবো ইনশাআল্লাহ।
০১/নিউ টেস্টামেন্টের ২৭টা পুস্তকের মধ্যে ১৪টা পুস্তক সাধু পৌলের এর রচিত পুস্তক বলে প্রসিদ্ধ।
০২/ পৌল তিনি ছিলেন যীশু খ্রিষ্টের সমসাময়িক একজন ইহুদি। তবে তিনি যীশু খ্রিষ্টের শিষ্য ছিলেন না, নাসরত, গালিলি বা ফিলিস্তিনের অধিবাসী ছিলেন না এবং কখনো তিনি যীশুকে দেখেননি প্রমান দেখেন :- (০১ করিন্থীয় ০৯/০১, ১৫/০৮)
০৩/ পৌল বা পলের মূল নাম সৌল (Saul)। তিনি বর্তমান তুরস্কের তারসূস (Tarsus) বা সাইলেশিয়ায় (Cilicia) জন্মগ্রহণ করেন প্রমান দেখেন :- (শিষ্যচরিত ২১/৩৯, ২২/০৩)।
০৪/ পৌল জাতিতে রোমান ছিলেন প্রমান দেখেন :- (শিষ্যচরিত ২২/২৮-২৯, ১৬/৩৭-৩৮, ২৩/২৭)।
০৫/ মাতৃভাষায় ছিলেন গ্রিক প্রমান দেখেন :- (শিষ্যচরিত ০৯/২৯)
০৬/ পৌল ধর্মে ইহুদি ছিলেন প্রমান দেখেন :- (০১ করিন্থীয় ২২/০৩)।
০৭/ পৌল ০৩ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন এবং সম্ভবত ৬২ খ্রিষ্টাব্দে রোমে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত হন। অর্থাৎ যীশুর জন্মের প্রায় ০৬ বছর পরে তাঁর জন্ম এবং যীশুর তিরোধানের প্রায় ৩০ বছর পর তার মৃত্যু।

এবার আসুন পলের সকল প্রতারনা ও ভন্ডামি তুলে ধরি বাইবেল থেকে।

আমি স্বাধীন! আমি কারোর অধীনে নেই, তবু আমি সকলের দাস হলাম, যাতে অনেককে আমি খ্রীষ্টের জন্য লাভ করতে পারি। (০১ করন্থীয় ০৯/১৯)

ইহুদীদের জয় করার জন্য আমি ইহুদীদের কাছে ইহুদীদের মতো হলাম। যারা বিধি -ব্যবস্থার অধীনে জীবন কাটাচ্ছে, তাদের লাভ করার জন্য আমি নিজে বিধি-ব্যবস্থার অধীন না হলেও আমি তাদের মত হলাম। (০১ করন্থীয় ০৯/২০)

আবার যারা বিধি-ব্যবস্থার অধীনে নেই তাদেরকে জয় করার জন্য আমি তাদের মতো হলাম। অবশ্য এর মানে এই নয় যে আমি বিধি-ব্যবস্থা মানি না, আমি তো খ্রীষ্টের বিধি-ব্যবস্থার অধীনে জীবনযাপন করছি। (০১ করন্থীয় ০৯/২১)

যারা দুর্বল, তাদের কাছে আমি দুর্বল হলাম, যেন তাদেরকে জয় করতে পারি। আমি সকলের কাছে তাদের মনের মত হলাম, যাতে সম্ভাব্য সকল উপায়ে তাদের বাঁচাতে পারি। (০১ করন্থীয় ০৯/১৯-২২)

দেখেন পল নিজেই বলছে সে একজন ভন্ড প্রতারক ছিল। সে প্রতারনার ও মিথ্যাচারের মাধ্যমে সকলের মন জয় করতো। যে জাতি যেমন (পলও) ঠিক সেই জাতির মানুষের মত হয়ে তাদের প্রতারিত করে তাদের মন জয় করতো।

ঠিক একিভাবে যীশুর অনুসারীদের সাথে মিশে, সে তার অনুসারীদের প্রতারিত করে সে তাদের গুরু হয়। আর খ্রীষ্টানরাও অন্ধের মত (পলের) অনুসারী হয়ে গিয়েছে কোন রকম প্রমান ছাড়াই। অথচ যীশু বলেছে তাকে ছাড়া কেউ যেন অন্য কাউকে শিক্ষক হিসেবে গ্রহন না করে প্রমান দেখেন :-
আবার কেউ তোমাদের শিক্ষক বলে যেন না ডাকে, কারণ তোমাদের শিক্ষক একজনই তিনি খ্রীষ্ট। (মথি ২৩/১০)

পল সে ছিল একজন (খুনি - হত্যাকারী) সে যীশুর অনুসারীদের ধরে ধরে হত্যা করতো। খ্রীষ্টধর্মে (পলের) আবির্ভাব হটাৎ করেই হয়েছে। সে খ্রীষ্টানদের কাছে যেয়ে দাবি করে যীশু তাকে পাঠিয়েছে অথচ এর কোন প্রমান নাই গোটা বাইবেলে। খ্রীষ্টানরা (পলের) কথা দিয়েই (পলকে) দলিল দেয় অথচ (যীশু) কখনো তাকে দেখে নাই ও (পলও) যীশুকে কখনো দেখে নাই প্রমান দেখেন :- (০১ করন্থীয় ০৯/০১) (০১ করন্থীয় ১৫/০৮)। যীশু কখনোই বলে নাই (পলকে) আমি পাঠিয়েছি তোমরা তাকে মেনে চল। যার সাথে কখনো দেখাই হয় নাই তাকে যীশু কিভাবে পাঠাবে খ্রীষ্টানদের কাছে আপনারাই বিবেচনা করেন।

(পল) যে যীশুর শিক্ষা গ্রহনকারী মানুষদের হত্যা ও নির্যাতন করতো তার প্রমান দেখেন :-
পল বললো, খ্রীষ্টের পথে যাঁরা চলত তাদের আমি নির্যাতন করতাম, এমনকি কারো কারো মৃত্যু ঘটিয়েছিলাম৷ স্ত্রী, পুরুষ সকলকেই আমি গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখতাম। (শিষ্যচরিত্র ২২/০৪)

আরো প্রমান দেখেন এই সব জায়গায় :- (শিষ্যচরিত্র ০৮/০১) (শিষ্যচরিত্র ০৮/০২-০৩) (শিষ্যচরিত্র ০৯/০১) (শিষ্যচরিত্র ০৯/০২) (শিষ্যচরিত্র ২২/০৫) (শিষ্যচরিত্র ২৬/০৯) (শিষ্যচরিত্র ২৬/১০) (শিষ্যচরিত্র ২৬/১১) (শিষ্যচরিত্র ২৬/১২) (গালাতীয় ০১/১৩ (০১ করিন্থীয় ১৫/০৯) (ফিলিপ্পীয় ০৩/০৬)

এই সব জায়গায় পল নিজের মুখে নিজেই স্বীকারোক্তি দিলেন সে একজন (খুনি হত্যাকারি) ছিলেন।

পল খ্রীষ্টানদের কাছে যেয়ে দাবি করে যীশু তাকে শিষ্যত্ব প্রদান করেছে। যা সম্পূর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট কথা ছিল। কারন পল ছিল প্রতারক উপরের প্রমান করেছি। সে প্রতারনার মাধ্যমে মানুষের মন জয় করতো আর তাদের গুরু হত। খ্রীষ্টানদের গুরু হওয়ার জন্য পল এমন কথা বলেছিলেন খ্রীষ্টানদের কাছে যাতে সহজেই তাদের গুরু হতে পারে। আর যেহেতু সে প্রতারক ছিল তার জন্য সে সহজেই প্রতারনার মাধ্যমে খ্রীষ্টানদের গুরু হতে পেরেছিল।

এবার দেখেন পলের বক্তব্য অনুযায়ী যীশু যে পলকে শিষ্যত্ব প্রদান করেছে এই কথাটা যে মিথ্যা তার প্রমান দেখেন বাইবেল থেকেই।
পলের যীশুর-শিষ্য হওয়ার কাহিনীটা "শিষ্যচরিত্র" ০৯, ২২ ও ২৬ অধ্যায়ে তিন স্থানে তিনভাবে দেওয়া হয়েছে।

আসুন প্রথমে (শিষ্যচরিত্র ০৯/০৩-০৭) এর বক্তব্য দেখি :-
* তাই শৌল দম্মেশকে রওনা হয়ে গেলেন৷ যেতে যেতে তিনি যখন দম্মেশকের কাছাকাছি এলেন, সেই সময় হঠাৎ আকাশ থেকে এক উজ্জ্বল আলো তাঁর চারিদিকে চমকে উঠল। (শিষ্যচরিত্র ০৯/০৩)
* তিনি মাটিতে পড়ে গেলেন এবং এক বানি শুনতে পেলেন, সেই বানি তাঁকে বলছে; 'শৌল, শৌল! কেন তুমি আমাকে এত কষ্ট দিচ্ছ? (শিষ্যচরিত্র ০৯/০৪)
* শৌল বললেন, 'প্রভু আপনি কে?'তিনি বললেন, 'আমি যীশু; তুমি যার ক্ষতি করার চেষ্টা করছ। (শিষ্যচরিত্র ০৯/০৫)
* ওঠ, ঐ শহরে যাও আর তোমায় কি করতে হবে তা তোমায় বলা হবে। (শিষ্যচরিত্র ০৯/০৬)
* যে সব পুরুষ তাঁর সঙ্গে যাচ্ছিল তারা নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তারা সেই বানি শুনতে পেল, কিন্তু কাউকে দেখতে পেল না৷ (শিষ্যচরিত্র ০৯/০৭)

> নোেট করেন :- দেখেন এখানে বলা হচ্ছে :- তার সহপথিকেরা অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো, তারা ঐ বাণী শুনলো, কিন্তু কাউকেও দেখতে পেল না। (hearing a voice, but seeing no man)。

> এবার দেখেন (শিষ্যচরিত্র ২২/০৬-১০) এর বক্তব্য :-
* চলতে চলতে দম্মেশকের কাছাকাছি এলে, দুপুর বেলা হঠাৎ আকাশ থেকে তীব্র আলোর ছটা আমার চারদিকে ছেয়ে গেল। (শিষ্যচরিত্র ২২/০৬)
* আমি মাটিতে পড়ে গেলাম আর এক রব শুনলাম, পৌল, পৌল তুমি কেন আমায় নির্যাতন করছ? (শিষ্যচরিত্ৰ ২২/০৭)
* আমি বললাম, 'প্রভু, আপনি কে?' তিনি আমায় বললেন, 'যাকে তুমি নির্যাতন করছ, আমি সেই নাসরতীয় যীশু। (শিষ্যচরিত্ৰ ২২/০৮)
* যাঁরা আমার সঙ্গে ছিল তারা সেই আলো দেখতে পেয়েছিল, কিন্তু যিনি আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন, তাঁর রব তারা শুনতে পায় নি। (শিষ্যচরিত্ৰ ২২/০৯)
* আমি বললাম, 'প্রভু আমায় কি করতে হবে?' প্রভু আমায় বললেন, ওঠ, দম্মেশকে যাও। যে কাজের জন্য তোমাকে মনোনীত করা হয়েছে তা সেখানেই তোমাকে বলা হবে। (শিষ্যচরিত্ৰ ২২/১০)

> নোট করেন :- দেখেন এখানে বলা হচ্ছে:- যারা পলের সঙ্গে ছিল, তারা সেই আলো দেখতে পেল, কিন্তু যিনি আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন তাঁর বাণী শুনতে পেল না। (And they that were with me saw indeed the light, and were afraid; but they heard not the voice of him that spoke to me)。
(শিষ্যচরিত্ৰ ০৯/০৭) এই জায়গায় বলা হয়েছে পলের সাথে যারা ছিল তারা যীশুর কথা শুনতে পেয়েছিল কিন্তু (শিষ্যচরিত্ৰ ২২/০৯) এই জায়গায় বলা হচ্ছে যারা পলের সাথে ছিল তারা যীশুর কথা শুনতে পায় নাই। কি হাস্যকর তথ্য আপনারাই বিবেচনা করেন পল খ্রীষ্টানদের কাছে সত্য বলেছে নাকি মিথ্যা কথা বলে প্রতারনা করেছে।

জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বর্ণনায় এত বৈপরীত্য! সহ-পথিকরা কথা শুনল কিন্তু আলো দেখল না! তারা আলো দেখল কিন্তু কথা শুনল না!!!

এবার দেখেন (শিষ্যচরিত্র ২৬/১৩-১৮) এর বক্তব্য :-
* পথে একদিন দুপুরবেলায়, হে মহারাজ আমি দেখলাম সূর্যের চেয়েও এক উজ্জ্বল আলো আকাশ থেকে আমার ও আমার সহযাত্রীদের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল। (শিষ্যচরিত্র ২৬/১৩)
* আমরা মাটিতে পড়ে গেলাম, আর এক রব শুনতে পেলাম যা ইব্রীয় ভাষায় আমায় বলছে, 'শৌল, শৌল, আমায় নির্যাতন করছ কেন? আমার বিরুদ্ধে গিয়ে তুমি নিজেরই ক্ষতি করছ। (শিষ্যচরিত্র ২৬/১৪)
* তখন আমি বললাম, 'প্রভু, আপনি কে? প্রভু বললেন, 'আমি যীশু, যাকে তুমি নির্যাতন করছ। (শিষ্যচরিত্র ২৬/১৫)
* তুমি নিজের পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াও! আমার সেবক হবার জন্যই আমি তোমাকে মনোনীত করেছি। তুমি অন্যের কাছে আমার সাক্ষী হবে। তুমি যে যে বিষয় আজ দেখলে ও ভবিষ্যতে যা যা আমি তোমায় দেখাব, সে সব সকল লোকের কাছে সাক্ষী দাও। এইজন্যই তোমার কাছে আজ আমি নিজে দেখা দিয়েছি। (শিষ্যচরিত্র ২৬/১৬)
* তোমার আপন লোক ইহুদীদের হাত থেকে তোমায় আমি রক্ষা করব। আর আমি তোমাকে অইহুদীদের কাছে পাঠাচ্ছি। (শিষ্যচরিত্র ২৬/১৭)
* তুমি তাদের চোখ খুলে দেবে যেন তারা সত্য দেখে ও অন্ধকার থেকে আলোতে ফিরে আসে; আর শয়তানের কর্তৃত্ব থেকে মুক্ত হয়ে ঈশ্বরের প্রতি ফিরলে তাদের সব পাপ ক্ষমা হবে৷ আমার উপর বিশ্বাস করে যাঁরা পবিত্র হয়েছে, তারা তাদের সহভাগী হবে। (শিষ্যচরিত্র ২৬/১৮)

> নোট করেন :- দেখেন উপরের (শিষ্যচরিত্র ০৯/০৬) ও (শিষ্যচরিত্র ২২/১০) এই দু'স্থানে বলা হয়েছে যে, পলের কী করণীয় সে বিষয়ে যীশু তাকে তখন কোনো নির্দেশ দিলেন না; শুধু বললেন, দামেশকে যাও, সেখানেই সব বলা হবে। অথচ (শিষ্যচরিত্র ২৬/১৬-১৮) এই জায়গায় যীশু পলকে তার সব দায়িত্ব ও করণীয় কি তা বিস্তারিত বলে দিয়েছে দামেশকে যাওয়ার আগেই। যেহেতু যীশু পলকে বলেছে দামেশকে যাওয়ার পর তাকে কি করতে হবে সেটা বলা হবে। এখানেও বৈপরীত্য হয়ে গেছে।

মহান আল্লাহ বলেন :-
বল, 'সত্য এসে গেছে আর মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে, মিথ্যা তো বিলুপ্ত হওয়ারই। (সূরা বানী ইসরাইল আয়াত : ৮১)

আরো প্রমান দেখেন পল যে খ্রীষ্টানদের প্রতারিত করেছে। তাদেরকে মিথ্যা বলেছে, যে যীশু আমাকে শিষ্যত্ব প্রদান করেছে।
* সব কিছু করার অধিকার আমার আছে,' কিন্তু সব কিছু করা যে মঙ্গলকর তা নয়। হ্যাঁ, 'সব কিছু করার অধিকার আমার আছে,' কিন্তু আমি কোন কিছুর দাস হব না। (০১ করন্থীয় ০৬/১২)
* আমি স্বাধীন! আমি কারোর অধীনে নেই, তবু আমি সকলের দাস হলাম, যাতে অনেককে আমি খ্রীষ্টের জন্য লাভ করতে পারি। (০১ করন্থীয় ০৯/১৯)

এখানেও সাধু পল দাবি করছেন যে, তিনি কোনো শরীয়ত, আইন বা বিধানের কর্তৃত্বাধীন নন। তিনি সকল বিধিবিধানের ঊর্ধ্বে। পাপ, পূণ্য, সত্য, মিথ্যা, হালাল, হারাম কোনো কিছুই তার জন্য নিষিদ্ধ বা অবৈধ নয়, বরং সবই বৈধ।

পল এখানে নিজেই স্বীকার করেছে সে কোনো শরীয়ত, আইন বা বিধানের কর্তৃত্বাধীন নন। তার মানে দাড়াল সে যীশুর বিধানেরও আওতায় না। সে যীশুর শিষ্যও না। তিনি কোন বিধান মানেন না।

আরে প্রমান দেখেন পল নিজেই যীশুর বিরোধিতা করেছে তার শিষ্য দাবি করার পরও এবং যীশুকে ছাড়াই তিনি বাইবেলের ১৪ টা পুস্তক রচিত করেছে।

সাধু পল কখনোই যীশুর শিষ্যদের থেকে ইঞ্জিল শিক্ষা করেননি বরং তিনি যীশুর শিষ্যদের থেকে দূরে থাকতেন প্রমান দেখেন :- (গালাতীয় ১/১৬-১৭)। তিনি নিজেই ইঞ্জিলের রচয়িতা বলে প্রচার করতেন এবং বলতেন: 'my gospel': 'আমার ইঞ্জিল' প্রমান দেখেন :- (রোমীয় ০২/১৬, ১৬/২৫) (০২ তীমথিয় ০২/০৮)।

পল বলেন, তাঁর নিজের ইঞ্জিল ছাড়া অন্য কোনো ইঞ্জিল যদি কেউ প্রচার করে তবে সে অভিশপ্ত প্রমান দেখেন :- (গালাতীয় ০১/০৬-০৮-০৯) (০২-করিন্থীয় ১১/০৪)। পল যীশুর শিষ্য দাবি করার পরও সে বলছে যীশুর ও অন্য কারো বানি প্রচার করলে সে অভিশপ্ত। যীশুর শিষ্য দাবি করার পরও পল যীশুর বিরোধিতা করেই গেছে। এটা কখনো কোন শিষ্যর কথা হতে পারে?

অথচ যীশু তার জীবদ্দশায় ইঞ্জিল প্রচার করেছেন প্রমান দেখেন :- (মথি ০৪/২৩, ০৯/৩৫, ১১/১৫) (মার্ক ০১/১৪-১৫, ০৮/৩৫, ১০/২৯) (লুক ০৯/০৬...)

সাধু পল দাবি করেন যে, যীশু তাঁকে বলেছিলেন :-
তোমার নিজের লোকদের (ইহুদীদের) এবং অ-ইহুদিদের হাত থেকে আমি তোমাকে রক্ষা করব। (শিষ্যচরিত্র ২৬/১৭)

কিন্তু বাস্তবে এ ওয়াদা কার্যকর হয়নি। সাধু পলকে যীশু রক্ষা করেননি; বরং তিনি নিহত হয়েছেন। ৬২ খ্রিষ্টাব্দের দিকে রোমান সরকার তাকে বন্দি করে এবং মৃত্যুদন্ড প্রদান করে। (Microsoft & Encarta ® 2008: Paul)

যীশু এ ওয়াদা কার্যকর হয়নি কারন পল ছিলেন ভন্ড, প্রতারক, মানুষ হত্যাকারি ও মিথ্যাবাদি কারন বাইবেল বলছে :-
* ভন্ড নবীর পরিণতি নিহত হওয়া বা অপমৃত্যু। (দ্বিতীয় বিবরণ ১৮/১৮-২০) (যিহিক্কেল ১৪/০৯-১০)

পল ও অনন্য ভন্ড নবিদের বিষয়ে যীশু নিজেই বলেছেন :-
* ভন্ড ভাববাদীদের থেকে সাবধান। তারা তোমাদের কাছে নিরীহ মেষের ছদ্মবেশে আসে অথচ ভেতরে তারা হিংস্র নেকড়ে বাঘ। (মথি ০৭/১৫)
* আমি একথা বলছি, কারণ অনেক ভন্ড খ্রীষ্ট ও ভন্ড ভাববাদীর উদয় হবে। তারা মহা আশ্চর্য কাজ করবে ও চিহ্ন দেখাবে, যেন লোকদের ঠকাতে পারে। যদি সম্ভব হয় এমনকি ঈশ্বরের মনোনীত লোকদেরও ঠকাবে। (মথি ২৪/২৪)

যীশু আরো বলে যখন তিনি দ্বিতীয়বার পৃথিবীতে আসবেন তখন পলের মত এসব ভন্ড নবিদেরকে যা বলবেন :-
* সেই দিন অনেকে আমায় বলবে, 'প্রভু, প্রভু আমরা কি আপনার নামে ভাববাণী বলিনি? আপনার নামে আমরা কি ভূতদের তাড়াই নি? আপনার নামে আমরা কি অনেক অলৌকিক কাজ করিনি? (মথি ০৭/২২)
* তখন আমি তাদের স্পষ্ট বলব, 'আমি তোমাদের চিনিনা, দুষ্টের দল! আমার সামনে থেকে দূর হও। (মথি ০৭/২৩)

> (মথি ০৭/১৫, ০৭/২২-২৩, ও ২৪/২৪) এই অধ্যায়ের এসব অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ঊনবিংশ শতাব্দীর বৃটিশ দার্ষনিক জিরেমি বেনথাম (Jeremy Bentham) (১৭৪৮ -১৮৩২ খ্রি.) বলেন :-
> তার লেখা একটা প্রসিদ্ধ বই 'Not Paul But Jesus': 'পল নয়, বরং যীশু'। উইকিপিডিয়ায় এবং http://www.jesuswordsonly.com ওয়েবসাইটে পাঠক এ পুস্তক ও সাধু পল কর্তৃক যীশুর ধর্ম বিকৃতি বিষয়ক খ্রিষ্টান পণ্ডিতদের আরো অনেক পুস্তক সম্পর্কে জানতে পারবেন। জিরোমি বেনথাম, পল SPICY CER: "IF Christianity needed an Anti-Christ, they needed look no farther than Paul." খৃস্টধর্ম যদি একজন দাজ্জাল চায় তবে পল ছাড়া আর কাউকে দেখার তাদের প্রয়োজন নেই। ৬৬
> যীশুকে 'প্রভু প্রভু বলেছেন, তাঁর নামে অলৌকিক কাজ ও চিহ্ন-কাজ করেছেন এবং ইশ্বরের বাছাই করা বান্দাদের অর্থাৎ যীশুর সাহাবী-শিষ্যদেরকেও প্রতারনার মাধ্যমে ভুলাতে পেরেছেন এমন ব্যক্তি সাধু পল ছাড়া আর কাউকে দেখা যায় না।

ভন্ড পল যে খ্রীষ্টানদের সাথে প্রতারনার মাধ্যমে তাদের গুরু হয়েছে। এটা আর অস্বীকার করার জায়গা নাই।

📘 খ্রিস্টান ধর্ম খন্ডন রদ্দে ক্রিশ্চিয়ানিটি 📄 বাইবেলের ঈশ্বরের (অমানবিক নিষ্ঠুর) বিধান।

📄 বাইবেলের ঈশ্বরের (অমানবিক নিষ্ঠুর) বিধান।


বাইবেলের ইশ্বর এতটাই নিষ্ঠুর ও অমানবিক তার বিধান দেখলেই বুঝতে পারবেন।

> বাইবেলের ইশ্বরের অমানবিক হাস্যকর বিধান দেখেন :-
* তাই তোমার হাত কিংবা পা যদি তোমার প্রলোভনে পড়ার কারণ স্বরূপ হয়, তবে তা কেটে ফেল। (মথি ১৮/০৮)
* তোমার চোখ যদি তোমাকে প্রলোভনের পথে টেনে নিয়ে যায়, তবে তা উপড়ে ফেলে দিও। (মথি ১৮/০৯)

> এটা বাইবেলের ইশ্বরের কেমন বিধান? কোন সুস্থ জ্ঞানী মানুষ কখনো এসব আজব কথায় বিশ্বাস করবে না! কারন শয়তান সব সময়ই চায় যে মানুষ খারাপ কাজ করুক। শয়তান তো মানুষকে প্রলোভন দেখাবেই আর প্রলোভনে পড়ে মানুষ অনেক খারাপ কাজ করে থাকে তাই বলে কি হাত, পা, চোখ উপড়ে ফেলতে হবে? এমন অযৌক্তিক কথা কোন জ্ঞানসম্পন্ন মানুষ মেনে চালবে না।

> যদি বাইবেলের এই অযৌক্তিক বিধানটা কার্যকর করা হয় তাহলে পৃথিবীতে হয়তো কোন খ্রীষ্টানকে খুজে পাওয়া যাবে না।
* তাদের বাড়িগুলি লুণ্ঠিত হবে। তাদের স্ত্রীরা ধর্ষিত হবে। আর তাদের চোখের সামনেই তাদের ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হবে। (ইসাইয়া ১৩/১৬)
* তীরন্দাজরা যুবকদের হত্যা করবে। শিশুদের তারা ক্ষমা করবে না। তারা ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের প্রতিও করুণা করবে না। (ইসাইয়া ১৩/১৮)
* বাল্যকাল থেকে মানুষের স্বভাব মন্দ। (আদিপুস্তক ০৮/২১)
শমরিয়া অবশ্যই শাস্তি পাবে। কারণ সে তার ঈশ্বরের বিরুদ্ধে গেছে। ইস্রায়েল জাতি তরবারির সাহায্যেই নিহত হবে। তাদের সন্তানদের টুকরো টুকরো করে ছিন্ন করে দেওয়া হবে। তাদের গর্ভবতী মেয়েদের ছিঁড়ে ফেলা হবে। (হোসেয়া ১৩/১৬)
* তোমরা তাদের রক্তের ওপর দিয়ে হাঁটতে পারবে। তোমাদের কুকুর ওদের রক্ত চেটে খাবে। (সামসঙ্গীত ৬৮/২৩)

এমন অমানবিক নিষ্ঠুর কথা কি কোন ইশ্বরের পক্ষে মানায় আপনারাই বিবেচনা করেন?
বাল্যকাল থেকেই মানুষ কেন মন্দ স্বভাবের হবে? তারা তো আর কোন পাপ করে নাই।
ঈশ্বর মানুষকে বাল্যকাল থেকেই পাপি বানিয়ে দিছে তাহলে মানুষ পাপ কাজ করবে এটাই স্বাভাবিক, এটাই যদি হয়ে থাকে তাহলে মানুষ সৃষ্টি করার কি প্রযোজন ছিল বাইবেলের ইশ্বরের?

এ বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেন :-
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, প্রতিটি নবজাতক স্বভাবজাত ইসলাম নিয়ে জন্মলাভ করে। অতঃপর তার বাবা-মা তাকে ইয়াহূদী বানিয়ে দেয়, খ্রীষ্টান বানিয়ে দেয় এবং আগুনপূজারী বানিয়ে দেয়, যেমন চতুষ্পদ প্রাণী পূর্ণাঙ্গ চতুষ্পদ বাচ্চা জন্ম দেয় তোমরা কি তাতে কোন অঙ্গ কর্তিত বাচ্চা উপলব্ধি করছ? তারপর আবূ হুরায়রা (রাঃ) বললেন, ইচ্ছা করলে তোমরা এ আয়াতটি পাঠ করতে পারঃ “আল্লাহর ফিত্রাতে যার উপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই”- (সূরাহ রূম আয়াত : ৩০)
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ৬৬৪৮। হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।

এবার আপনারাই বিবেচনা করেন বাইবেলের ইশ্বরের এমন অমানবিক নিষ্ঠুর বিধান অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা আদো কি সম্ভব?

📘 খ্রিস্টান ধর্ম খন্ডন রদ্দে ক্রিশ্চিয়ানিটি 📄 বাইবেলের ঈশ্বর (রেগে) গেলে উদ্ভট হাস্যকর পাগলামিতে লিপ্ত হয়।

📄 বাইবেলের ঈশ্বর (রেগে) গেলে উদ্ভট হাস্যকর পাগলামিতে লিপ্ত হয়।


বাইবেলের ঈশ্বর (রেগে) গেলে তার নাক, মুখ, শরির থেকে আগুন ও ধোঁয়া বের হয়। এবং তিনি বিভিন্ন রকম পাগলামিতে লিপ্ত হয় সেসব দেখা যাক।

এবার আসেন বাইবেল থেকে বিস্তারিত দেখি বাইবেলের ঈশ্বর (রেগে) গেলে কি পাগলামিতে লিপ্ত হয়!
* সারা পৃথিবী কেঁপে উঠলো, পর্বত্তের ভিতগুলো পর্যন্ত নড়ে উঠেছিল। কেন? কারণ প্রভু ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন! (সামসংঙ্গীত ১৮/০৭)
* ঈশ্বরের নাক দিয়ে ধোঁয়া বেরিয়ে এলো। ঈশ্বরের মুখ থেকে বেরিয়ে এলো জ্বলন্ত অগ্নিশিখা। তাঁর দেহ থেকে জ্বলন্ত আগুন বিচ্ছুরিত হতে লাগলো। (সামসংঙ্গীত ১৮/০৮)
* আকাশমণ্ডল বিদীর্ণ করে প্রভু নীচে নেমে এলেন! একটি ঘন কালো মেঘের ওপর তিনি দাঁড়িয়েছিলেন। (সামসংঙ্গীত ১৮/০৯)
* বাতাসের পাখায় চড়ে তিনি আকাশের এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তে উড়ে বেড়াচ্ছিলেন। বাতাসের ওপর ভর করে, তিনি সুদূর শূন্যে ভেসে বেড়াচ্ছিলেন। (সামসংঙ্গীত ১৮/১০)
* প্রভু একটা ঘন কালো মেঘের মধ্যে লুকিয়েছিলেন, সেই মেঘ তাঁকে তাঁবুর মত ঘিরেছিল। তিনি ঘন বজ্রময় মেঘের মধ্যে লুকিয়েছিলেন (সামসংঙ্গীত ১৮/১১)
* তারপর মেঘ ভেদ করে ঈশ্বরের আলোকময় ঔজ্জ্বল্য বেরিয়ে এলো। সেখানে বজ্রসহ শিলাবৃষ্টি এবং বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা দিল। (সামসংঙ্গীত ১৮/১২)
* তোমার আদেশে, হে সদাপ্রভু, তোমার নাকের নিঃশ্বাসের বিস্ফোরণে, সাগরের তলদেশ উন্মুক্ত হল, আর পৃথিবীর ভিত্তিমূল অনাবৃত হল। (সামসংঙ্গীত ১৮/১৫)

দেখলেন তো বাইবেলের ঈশ্বরের পাগলামি! তিনি রেখে গেলে নাক থেকে ধোঁয়া বের হয়, মুখ থেকে আগুন বের হয়, তার শরীর থেকে আগুন বের হতে থাকে। তিনি রেগে গেলে আকাশ বিদীর্ণ করে মেঘের উপর এসে দাড়িয়ে থাকেন! বাতাসের পাখায় করে পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে উড়ে বেড়ান। তিনি বাতাসের উপর ভর করে শূন্যে ভেসে বেড়ায়। তিনি কালো মেঘের তাবুর মধ্যে লুকিয়ে থাকেন। তার নাকের নিশ্বাসে বিস্ফোরণ হয়ে সাগরের তলদেশ উন্মুক্ত হয়, পৃথিবীর ভিত্তিমূল অনাবৃত হয়। কতসব উদ্ভট হাস্যকর কাজকর্ম করতে থাকেন তিনি। এসব উদ্ভট কাজকর্ম করে কি লাভ? আর এসব কাজকর্ম কি কোন ঈশ্বরের পক্ষে মানায়?

এখন আপনারাই বলেন বাইবেলের ঈশ্বরের এসব উদ্ভট হাস্যকর কাজকর্ম কি কোন ঈশ্বরের পক্ষে মানায়? কি সব উদ্ভট বক্তব্য লিখে রেখেছেন তিনি! এতে কি তার সম্মান বাড়ে না কমে যায় তিনি কি বুঝতে পারেন না?

📘 খ্রিস্টান ধর্ম খন্ডন রদ্দে ক্রিশ্চিয়ানিটি 📄 বাইবেল অনুযায়ী পৃথিবী ধ্বংস হবে নাকি চিরকাল থাকবে?

📄 বাইবেল অনুযায়ী পৃথিবী ধ্বংস হবে নাকি চিরকাল থাকবে?


বাইবেল অনুযায়ী পৃথিবী চিরকাল থাকবে! আবার ধ্বংসও হবে বলা হয়েছে। এখন এই দুইটার মধ্যে আসল সত্য কোনটা বৈজ্ঞানিকভাবে জেনে নিব আমরা।

বাইবেল একবার বলছে পৃথিবী ধ্বংস হবে! আবার বলছে পৃথিবী কখনো ধ্বংস হবে না। আসুন বাইবেল থেকে বিস্তারিত দেখি।
* মহাবিশ্ব এবং পৃথিবী ধ্বংস হবে, কিন্তু তোমরা (মানুষ) চিরকাল থাকবে। (হিব্রুদের কাছে পত্র ০১/১১)
* এই বিশ্ব, এই আকাশ একদিন শেষ হয়ে যাবে। (সামসঙ্গীত ১০২/২৬)

আবার অপরদিকে বলছে:-
* যুগ যাবে যুগ আসবে, কিন্তু পৃথিবী চিরকাল থাকবে। (উপদেশক ০১/০৪)
* পৃথিবীর মত তিনি তাঁর মন্দির চিরকালের জন্য স্থাপন করলেন। (সামসঙ্গীত ৭৮/৬৯)

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, পৃথিবী কি চিরকাল থাকবে নাকি একদিন ধ্বংস হবে? বিজ্ঞান বলে পৃথিবী এক দিন ধ্বংস হবে। এমন অযৌক্তিক ঈশ্বরের বানিতে বিশ্বাস করা কতটা যৌক্তিক আপনারাই বিবেচনা করে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px