📘 খ্রিস্টান ধর্ম খন্ডন রদ্দে ক্রিশ্চিয়ানিটি 📄 বাইবেল থেকেই প্রমানিত (যীশু) সকল মানুষের পাপ নিয়ে ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মারা যান নাই।

📄 বাইবেল থেকেই প্রমানিত (যীশু) সকল মানুষের পাপ নিয়ে ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মারা যান নাই।


যীশু কি সত্যিই সকল মানুষের পাপ নিয়ে মারা যেয়ে (পুনরুত্থিত) হয়েছিলেন? বাইবেল থেকেই প্রমান করবো যীশু কারো পাপ নিয়ে মারা যায় নাই এবং সে (Resurrection - পুনরুত্থিতও) হন নাই। যে মারাই যায় নাই, সে কিভাবে (Resurrection - পুনরুত্থিত) হবে আপনারাই বিবেচনা করেন।

> ০১ নং দলিল :- (যীশু ও পলের) বক্তব্য অনুযায়ী (Resurrection - পুনরুত্থিত) শরির আত্মা হয়ে যায়। কিন্তু যীশু (Resurrection - পুনরুত্থিত) হওয়ার পরও (আত্মা) হন নাই, কারন একটাই যীশু মারাই যায় নাই।
> ০২ নং দলিল :- (যীশু ও যোনার) তিন দিনের অলৌকিক কাহিনি।
> ০৩ নং দলিল :- যীশু কি (Resurrection - পুনরুত্থিত) হয়েছিলেন নাকি (Risen - উত্থিত) হয়েছিলেন।
> ০৪ নং দলিল :- (আদম ও হাওয়ার) পাপ নিয়ে কি যীশু সত্যিই মারা যেয়ে পুনরুত্থিত হয়েছিলেন?

(০১) নং দলিলের জবাব :-
আসুন প্রথমে বাইবেলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ পড়ি যা (পৈল) নিজের মুখে বলেছে :
যিশু যদি নিজের ইচ্ছায় সকল মানুষের পাপ নিয়ে মরে যেতেন, তাহলে যীশুকে ক্রুশে দেওয়ার আগে তিনি কেন ইশ্বরের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলেন। আর তিনি যদি ইশ্বরই হতেন তাহলে কেন তিনি আরেক ইশ্বরের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলেন?
* এলি, এলি লামা শবক্তানী? যার অর্থ, 'ঈশ্বর আমার, ঈশ্বর আমার, তুমি কেন আমায় ত্যাগ করেছ? (মথি ২৭/৪৬) (মার্ক ১৫/৩৪)
এখান থেকেই প্রমান হয় যীশু ইশ্বর না এবং তিনি নিজের ইচ্ছায় মারা যায় নাই সকল মানুষের পাপের জন্য।
* আর খ্রীষ্ট যদি পুনরুত্থিত না হয়ে থাকেন তাহলে তো আমাদের সেই সুসমাচার ভিত্তিহীন, আর তোমাদের বিশ্বাসও ভিত্তিহীন। (০১ করিন্থীয় ১৫/১৪)
* আবার আমরা যে ঈশ্বরের বিষয়ে মিথ্যা সাক্ষী দিচ্ছি, সেই দোষে আমরা দোষী সাব্যস্ত হব, কারণ আমরা ঈশ্বরের বিষয়ে প্রচার করতে গিয়ে একথা বলেছি যে তিনি খ্রীষ্টকে মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত করেছেন৷ (০১ করিন্থীয় ১৫/১৫)
* মৃতদের পুনরুত্থান যদি না হয়, তবে খ্রীষ্টও মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত হন নি। (০১ করিন্থীয় ১৫/১৬)
* আর খ্রীষ্ট যদি পুনরুত্থিত না হয়ে থাকেন, তাহলে তোমাদের বিশ্বাসের কোন মূল্য নেই, তোমরা এখনও তোমাদের পাপের মধ্যেই আছ৷ (০১ করিন্থীয় ১৫/১৭)

এখানে স্পষ্ট যে আপনি যদি প্রমান করতে পারেন যে, যিশু মারা যায়নি সে (ক্রুশবিদ্ধ বা পূনরুত্থান) হয়নি তবে (বাইবেল + খ্রিস্টান ধর্ম) মিথ্যা। (Paul - পৈল) নিজ মুখে স্পষ্ট করে বলেছে, যদি খ্রীষ্ট পূনরুত্থিত না হয়ে থাকে তবে তাদের বিশ্বাস এর কোন মূল নেই। মানে খ্রীস্টান ধর্ম মিথ্যা হয়ে যাবে।
অর্থাৎ যিশু মারা যায়নি এটা প্রমান করতে পারলে (Bible) বাইবেলের (০৪) আনা মূল আর থাকবে না।

প্ৰথমে পবিত্র কোরআন কি বলে দেখে নেই।
আর তাদের একথা বলার কারণে যে, আমরা মরিয়ম পুত্র ঈসা মসীহকে হত্যা করেছি যিনি ছিলেন আল্লাহর রসূল। অথচ তারা না তাঁকে হত্যা করেছে, আর না শুলীতে চড়িয়েছে, বরং তারা এরূপ ধাঁধায় পতিত হয়েছিল। বস্তুতঃ তারা এ ব্যাপারে নানা রকম কথা বলে, তারা এক্ষেত্রে সন্দেহের মাঝে পড়ে আছে, শুধুমাত্র অনুমান করা ছাড়া তারা এ বিষয়ে কোন খবরই রাখে না। আর নিশ্চয়ই তাঁকে তারা হত্যা করেনি। (সূরা আন নিসা, আয়াতঃ ১৫৭)
(আলহামদুলিল্লাহ) কুরআন স্পষ্ট বলছে (ঈসা (আঃ) / যিশু) মারা যায়নি, তাকে হত্যা করা হয়নি। কুরআন থেকে প্রমানিত যিশু বা (ঈসা আঃ) এখনো জীবিত আছে।

এবার বাইবেল থেকে প্রমান করব যিশু বা (ঈসা আঃ) জীবিত তিনি মারা যায় নি।

> যিশু নিয়ে ভবিষ্যৎ বাণী যে তিনি মরবেন না! ভবিষ্যৎবাণী :-
* আমি মরবো না, আমি বেঁচে থাকবো এবং প্রভু কি করেছেন তা আমি বলবো। (সামসঙ্গীত ১১৮/১৭)
* প্রভু আমায় শান্তি দিয়েছেন, কিন্তু তিনি আমায় মরতে দেন নি। (সামসঙ্গীত ১১৮/১৮)
> এটা (ঈসা আঃ) বা যিশুকে নিয়ে তার জন্মের আগে করা ভবিষ্যৎবাণী, এখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, যে ঈসা (আঃ) বা যিশু মারা যাবে না।
> এখন যদি (ঈসা - যিশু) মারা গিয়ে থাকে, তো ভবিষ্যৎ বাণী মিথ্যা হয়ে যাবে। কিন্তু না যিশু মারা যায়নি, ঈশ্বর তাকে মরতে দেননি, দেখুন :-
* খ্রীষ্ট যখন এ জগতে ছিলেন তখন সাহায্যের জন্য তিনি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন। ঈশ্বরই তাঁকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে সমর্থ যীশু ঈশ্বরের নিকট প্রবল আর্তনাদ ও অশ্রুজলের সঙ্গে প্রার্থনা করেছিলেন। ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রতি তাঁর নম্রতা ও বাধ্যতার জন্য ঈশ্বর যীশুর প্রার্থনার উত্তর দিয়েছিলেন। (হিব্রুদের কাছে পত্র ০৫/০৭)
* পরে তিনি কিছু দূরে গিয়ে মাটিতে উপুড় হয়ে পড়ে প্রার্থনা করে বললেন, আমার পিতা, যদি সম্ভব হয় তবে এই কষ্টের পানপাত্র আমার কাছ থেকে দূরে যাক তবু আমার ইচ্ছামতো নয়, কিন্তু তোমারই ইচ্ছা পূর্ণ হোক৷ (মথি ২৬/৩৯)
> এখানে যিশু ঈশ্বরের কাছে মৃত্যু থেকে বাচঁতে দোয়া করেছিলেন। আর ভবিষ্যৎবাণী অনুযায়ী তার দোয়া কবুল হয়। ঈশ্বর যিশুকে মরতে দেননি। তাহলে পোলের কথা অনুযায়ী খ্রীষ্টান ধর্মের সকল বিশ্বাস ভিক্তিহীন খ্রীষ্টান ধর্মের চারআনা দামও নাই।

বাইবেল থেকেই প্রমাণিত যীশু মারা যান নাই।

(০২) নং দলিলের জবাব :-
(যীশু ও যোনার) অলৌকিক ঘটনার মাধ্যমে দেখি যীশু কি সত্যিই ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছিলেন নাকি? (যীশু ও যোনার) এই অলৌকিক ঘটনার মাধ্যমেই প্রমান করবো যীশু মারা যায় নাই।
এরপর কয়েকজন ফরীশী ও ব্যবস্থার শিক্ষক যীশুর কাছে এসে বললেন, হে গুরু, আমরা আপনার কাছ থেকে কোন চিহ্ন বা অলৌকিক কাজ দেখতে চাই৷ (মথি ১২/৩৮)
যীশু তাদের বললেন, এ যুগের দুষ্ট ও ব্যভিচারী পাপী লোকেরা চিহ্নের খোঁজ করে; কিন্তু ভাববাদী যোনার চিহ্ন ছাড়া আর কোন চিহ্নই তাদের দেখান হবে না। (মথি ১২/৩৯)
যোনা যেমন সেই বিরাট মাছের পেটে তিন দিন তিন রাত ছিলেন, তেমন মানবপুত্র তিন দিন তিন রাত পৃথিবীর অন্তঃস্থলে কাটাবেন৷ (মথি ১২/৪০)

আসুন দেখি যোনার কী হয়েছিলো :-
* যোনাকে লোকেরা জাহাজ থেকে ফেলে দিলে মাছ তাকে গিলে ফেলেছিলো। সে (০৩) দিন (০৩) রাত মাছের পেটে ছিলো। (যোনা ০১/১৫-১৭)
* মাছের পেটের মধ্যে থাকাকালীন যোনা প্রভু, তাঁর ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে বলেছিলেন। (যোনা ০২/০১)
* তখন প্রভু ওই মাছটির সঙ্গে কথা বললেন এবং মাছটি বমি করে যোনাকে জমির উপরে ফেলল। (যোনা ০২/১০)

যোনা যেহেতু মাছের পেট থেকে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছে তখন সে জীবিত ছিলো তা (প্রমানিত) কারণ মৃত মানুষ তো আর কথা বলতে পারে না প্রার্থনাও করতে পারে না। তারপর যোনার প্রার্থনা কবুল হয় ও তাকে মাছটি বমি করে সাগর পাড়ে ফেলে দেয় তখনও সে জীবিত। তাহলে যীশুরও জীবিত থাকতে হবে যদি যীশু মরে যায় তাহলে তার কথা ও তার ভবিষ্যৎবানি মিথ্যা হয়ে যাবে। যীশু মিথ্যুক প্রমানিত হবে।

এবার আসেন দেখি যীশু কি তিন দিন তিন রাত পৃথিবীর গর্ভে ছিলেন কিনা?
যীশুকে শুক্রবার সন্ধ্যার কিছু সময় আগে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়। যদিও এই ক্রুশবিদ্ধের সময়ে বাইবেলে বৈপরীত্য ও ভুল আছে! প্রমান দেখেন :- মথি, মার্ক ও লুকের বক্তব্য অনুযায়ী যীশু বেলা ১২ টার সময় ক্রুশের উপর ছিলেন। তবে এদিকে আবার যোহনের বক্তব্য অনুযায়ী যীশু বেলা ১২ টার সময় পিলাতের দরবারে ছিলেন। বিস্তারিত দেখেন :-
* সেই দিন দুপুর বারোটা থেকে বেলা তিনটে পর্যন্ত সমস্ত দেশ অন্ধকারে ঢেকে রইল। (মথি ২৭/৪৫)
* সকাল ন'টার সময়ে তারা তাঁকে (যীশুকে) ক্রুশে দিল৷ (মার্ক ১৫/২৫)
* পরে বেলা বারোটা থেকে তিনটে পর্যন্ত সমস্ত দেশ অন্ধকারে ছেয়ে গেল। (মার্ক ১৫/৩৩)
* তখন বেলা প্রায় বারোটা; আর সেই সময় থেকে তিনটা পর্যন্ত সমস্ত দেশ অন্ধকারে ছেয়ে গেল। (লুক ২৩/৪৪)

এই তিনটি অনুচ্ছেদ থেকে স্পষ্ট যে যীশু যখন ক্রুশে ছিলেন তখন বেলা ১২ টা বাজে আর তখন চারদিক অন্ধকারে ছেয়ে গেছে।
যোহনের বক্তব্য অনুযায়ী যীশু বেলা ১২ টার সময় পিলাতের দরবারে ছিলেন!
* সেই দিনটা ছিল নিস্তারপর্ব আযোজনের দিন। তখন প্রায় বেলা বারোটা, পীলাত ইহুদীদের বললেন, এই দেখ, তোমাদের রাজা। (যোহন ১৯/১৪)
এখন আপনারাই বিবেচনা করেন সঠিক সময় কোনটা ছিল? যীশুকে যদি সকাল ০৯ টার সময় ক্রুশে দেওয়া হয় তাহলে যীশু কি করে বেলা ১২ টার সময় পিলাতের দরবারে থাকতে পারে?

আবার দেখেন মথি, মার্ক ও লুক অনুযায়ী বেলা ১২ টার সময় চারদিক অন্ধকারে ছেয়ে গিয়েছিল! কিন্তু যোহনের বক্তব্য অনুযায়ী যীশু বেলা ১২ টার সময় পিলাতের দরবারে ছিলেন এবং তখন কোন অন্ধকার ছিল না।

এবার আসেন দেখি যীশু কি তিনদিন তিনরাত পৃথিবীর গর্ভে ছিলেন কিনা?
যীশুকে শুক্রবার সন্ধ্যার কিছু সময় আগে অর্থাৎ বিকালে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়।
তাহলে এখানে আমরা পেলাম শুক্রবার রাত, শনিবার (দিন-রাত)। তারমানে আমরা এখানে পেলাম ০২ রাত ০১ দিন। আরো বাকি থাকলো ০১ রাত ০২ দিন।

কিন্তু দেখেন রবিবার ভোরের মদলীনী মরিয়ম ও অন্য মরিয়ম কবরটা দেখতে এলেন। এসে দেখেন যীশু সেখানে নেই প্রমান দেখেন :-
* বিশ্রামবারেরশেষে সপ্তাহের প্রথম দিন, অর্থাৎ রবিবার খুব ভোরে মদলীনী মরিয়ম ও অন্য মরিয়ম কবরটা দেখতে এলেন। (মথি ২৮/০১)
* সেই স্বর্গদূত ঐ স্ত্রীলোকদের বললেন, 'তোমরা ভয় পেও না, আমি জানি তোমরা, যাকে ক্রুশে দিয়েছিলে তাঁকে খুঁজছ। (মথি ২৮/০৫)
* কিন্তু তিনি এখানে নেই। তিনি যেমন বলেছিলেন, তেমনি পুনরুত্থিত হয়েছেন। এস, যেখানে তাঁকে শুইয়ে রাখা হয়েছিল তা দেখ। (মথি ২৮/০৬)
* বিশ্রাম শেষ হলে মরিয়ম মদলীনী, যাকোবের মা মরিয়ম সুগন্ধি মশলা কিনলেন যেন গিয়ে যীশুর দেহে মাখাতে পারেন। (মার্ক ১৬/০১)
* সপ্তাহের প্রথম দিন ভোরে, ঠিক সূর্য ওঠার পরই তাঁরা সমাধিগুহার কাছে গেলেন। (মার্ক ১৬/০২)
* সপ্তাহের প্রথম দিন, সেই স্ত্রীলোকেরা খুব ভোরে ঐ সমাধিস্থলে এলেন। তাঁরা যে গন্ধদ্রব্য ও মশলা তৈরী করেছিলেন তা সঙ্গে আনলেন৷ (লুক ২৪/০১)

দেখেন এখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যীশু রবিবার ভোরেই উত্থিত হয়েছে। তিনি তিনদিন তিনরাত পূরন করেন নাই। সে ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন (শুক্রবার) রাত্রের কিছু সময় আগে। তাহলে আমরা পেলাম শুক্রবার রাত, শনিবার (দিন-রাত) ও রবিবার ভোর অর্থাৎ ভোরকে একদিন ধরেন।

তাহলে আমরা এখানে দেখতে পাচ্ছি যীশু পৃথিবীর গর্ভে দুইরাত দুইদিন (শুক্র- শনি) ছিলেন। তিনি তিনদিন তিনরাত ছিলেন না। কোনভাবেই বাইবেল থেকে কেউ প্রমান করতে পারবে না যীশু তিনদিন তিনরাত ধরে কবরে ছিলেন।
আপনি যদি শুক্রবারকে দিন ও রাত ধরেন তারপরও আপনি কখনোই তিনদিন তিনরাত বানাতে পারবেন না কারন যীশু রবিবার ভোরেই উত্থিত হয়েছে। রবিবারকে দিন ও রাত কোনভাবেই ধরতে পারবেন না।

বাইবেল থেকেই প্রমানিত যীশুর বলা ভবিষ্যৎবানী পূরন হয় নাই। এবং এটাও প্রমানিত যে, যীশু মিথ্যা কথা বলেছে। যদি বলেন যীশু মিথ্যা বলেন নাই তাহলে গোটা বাইবেল থেকে তিনদিন তিনরাত প্রমান করে দেখাতে হবে।

বাইবেল থেকেই প্রমান করলাম যীশু মারা যায় নি আলহামদুলিল্লাহ।

যিশু কে কোন শিষ্যই মরতে দেখেনি : যিশু কে যখন সৈন্যরা গ্রেফতার করল, তখন শিষ্যদের অবস্থা দেখুন।
* তখন তাঁর সব শিষ্যেরা তাঁকে ফেলে পালিয়ে গেলেন। (মার্ক ১৪/৫০)
* আর একজন যুবক উলঙ্গ শরীরে একটি চাদর জড়িয়ে তাঁকে অনুসরণ করল। তারা তাকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করল। (মার্ক ১৪/৫১)
* কিন্তু সে চাদরটি ফেলে উলঙ্গ অবস্থায় পালিয়ে গেল। (মার্ক ১৪/৫২)
যিশুর শিষ্য যারা তাকে ফেলে পালিয়ে গিয়েছিল, তাদের একজন তাকে ফেলে উলঙ্গ হয়ে পালিয়েছিল। এরাই নাকি বাইবেল লিপিবদ্ধ করেছে। আপনারাই চিন্তা করেন কীভাবে আপনি শিষ্যদের কথা বিশ্বাস করবেন, যারা যিশু কে রেখে পালিয়ে গিয়েছিল।

- এখন আমার প্রশ্ন বাইবেলে তো যিশুর মৃত্যুর কথা তার শিষ্যরা লিখেছে, তা কি মিথ্যা?
উত্তর : হ্যাঁ মিথ্যা লিখেছে যিশুর শিষ্যরা তখন পালিয়ে গিয়েছিল, তারা ইহুদি, রোমান সৈন্য তাদের মুখের কথা বাইবেলে লিপিবদ্ধ করে। তারা যিশুকে মরতে দেখেনি এটাই সত্য।

আজ পর্যন্ত কোন খ্রিস্টান যিশুর মৃত্যু হয়েছে তার, কোন বিশুদ্ধ প্রমান দেখাতে পারেনি। তারা প্রমান দেখেবে, ইহুদি দেখেছে, রোমান সৈন্য দেখেছে ইত্যাদি। কিন্তু তারা সত্য বলেছে না মিথ্যা বলেছে তা না যিশুর শিষ্য দেখেছে না বর্তমান খ্রিস্টানরা দেখেছে। তারা কেবল অন্ধদের মতো বিশ্বাস করে।

(০৩) নং দলিলের জবাব :-
যীশু কি (resurrection - পুনরুত্থিত - תחית) হয়েছে নাকি (Risen - উত্থিত - קם) হয়েছে?

প্রথমে বলি যীশুকে বাইবেলে কোথাও (resurrection - পুনরুত্থিত - תחית - হয়েছে এই কথা বলা হয়নি, বরং যীশু (Risen - উত্থিত - DP) হয়েছে এই কথা বলা হয়েছে।
আসুন এবার দেখি যীশু (resurrection - পুনরুত্থিত - תחית) হয়েছিল কিনা? * He is not here: for he is risen, as he said. Come, see the place where the Lord lay.
* কিন্তু তিনি এখানে নেই৷ তিনি যেমন বলেছিলেন, তেমনি পুনরুত্থিত হয়েছেন। এস, যেখানে তাঁকে শুইয়ে রাখা হয়েছিল তা দেখ। (মথি ২৮/০৬) (লুক ২৪/৪৬)

দেখেন এখানে (Risen - উত্থিত - קם) শব্দটা দ্বারা (উত্থিত) বোঝানো হয়েছে তারা অনুবাদে জালিয়াতি করে (পুনরুত্থিত) করে দিয়েছে। যত জায়গায় বাইবেল যীশুর (resurrection - পুনরুত্থিত - תחית) সম্পর্কে বলা হয়েছে সব জায়গায় অনুবাদে জালিয়াতি করা হয়েছে। এখানে (Risen - DP) শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে যার মানে হল (উত্থিত) হওয়া। যেমন আমরা ঘুমাই আবার (উত্থিত) হই। খ্রীষ্টানরা অনুবাদে জালিয়াতি করে (Risen - Dp) শব্দটার মানে (উত্থিত) না করে (পুনরুত্থিত) করে দিয়েছে। (পুনরুত্থিত) শব্দটা হল (Rresurrection - תחית) মানে মৃত মানুষ জীবিত হওয়া।

> (resurrection - পুনরুত্থান) শব্দের সঠিক অনুবাদ দেখেন (মথি ২২/৩০) এই অনুচ্ছেদে।
> এখানে স্পষ্ট করে বল হয়েছে (resurrection - תחית( মানে (পুনরুত্থান)।
> আরো প্রমান দেখুন এই সব (মথি ২৮/০৬-০৭) (মার্ক ১৬/১৪) (মার্ক ১৬/০৬) জায়গায় (Risen - op) শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে মানে যীশু (উত্থিত) হয়েছে। পুনরুত্থিত (Resurrection - תחית( হয়েছে এই কথা বলা হয়নি।
* জেনে রাখো, পুনরুত্থানের পর লোকেরা বিয়ে করে না, বা তাদের বিয়েও দেওয়া হয় না, তারা বরং স্বর্গদূতদের মতো থাকে। (মথি ২২/৩০) (লুক ২০/৩৫-৩৬)

> দেখেন এখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে (পুনরুত্থিত - resurrection - תחית( মানুষ (আত্মা) হয়ে যায় স্বর্গদূতদের মত। তাহলে যীশু যদি পুনরুত্থিত হয় তাহলে তাঁকেও আত্মা হয়ে যাওয়া লাগবে। কিন্তু তিনি আত্মা হন নি। প্রমান দেখেন।
* আমার হাত ও পা দেখ, আমাকে স্পর্শ করে দেখ, আত্মার এইরূপ হাড় মাংস থাকে না, কিন্তু তোমরা দেখতে পাচ্ছ আমার আছে৷
* এই কথা বলে তিনি তাঁদের হাত ও পা দেখালেন। (লুক ২৪/৩৯-৪০)

> এখানে যীশু স্পষ্ট করে দিয়েছে সে (resurrection - পুনরুত্থিত - תחית( হয় নাই যদি (resurrection - পুনরুত্থিত - תחית( হত তাহলে আত্মা হয়ে যেত আর আত্মার রক্ত মাংসের শরির থাকে না যেটা যীশুর ছিল। তারপরও যদি তর্কের খাতিরে মেনে নেই যে যীশু (পুনরুত্থিত) হয়েছে। তাহলে তার মা মরিয়ম যীশুর শরির মালিশের জন্য পরের দিন কেন তার সমাধিতে যাবে? (মার্ক ১৬/০১) (লুক ২৪/০১)

আত্মার শরিরে কি মালিশের প্রয়োজন হয়? অবশ্যই হয় না। যীশুকে ক্রুশ থেকে নামানোর পর মরিয়ম ও তার সঙ্গীরা যীশুকে গোসল করিয়েছিলেন তখন তার মা ও তার সঙ্গীরা যীশুর শরিরে জীবনের চিহ্ন দেখতে পেয়েছিলেন হয়তো। সেজন্য তার মা যীশুর শরির মালিশের জন্য সমাধিতে গিয়েছিলেন। কারন যীশু ক্রুশে থাকার জন্য তার শরির ক্ষত বিক্ষত হয়েছিল তার জন্য তার মা তার শরির মালিশের জন্য সমাধিতে গিয়েছিলো।

তারপর দেখেন যীশু যদি (পুনরুত্থিত) হত তাহলে আত্মা হয়ে যেত। আত্মা হওয়ার পরও তিনি কেন বাগানে মালির বেশে লুকিয়ে থাকবে? যীশু এজন্য মালির বেশে ছিল কারন যীশুকে ইহুদিরা তখন দেখতে পেলে আবার মেরে ফেলতো চাইতো। সেজন্য সে বাগানে মালির বেশে লুকিয়ে ছিল কারন তিনি (পুনরুত্থিত / মৃত থেকে জীবিত) হন নাই, যার ফলে তিনি মানুষ ছিলেন। আত্মার তো কোনো মানুষকে ভয় পাওয়ার কথা না। এখান থেকে প্রমান হয় যীশু তখন আত্মা হয়ে যায় নাই অর্থাৎ (পুনরুত্থিত) হয় নাই।

তারপর দেখেন যীশু যদি মরে যেত তাহলে সে আত্মা হয়ে যেত আর আত্মার কেন তার শরিরের কাপড় সরানোর প্রয়োজন হল? (এখানে যীশুর কাফনে কাপড়ের কথা বলা হয়েছ / মানে যে কাপড় দিয়ে ক্রুশবিদ্ধ করার পর সমাধিতে যীশুর দেহটাকে ঢেকে রাখা হয়েছিল)। কাপড় সরানোর প্রয়োজন তখনই হবে যখন সে রক্ত মাংসের মানুষ হবে। আরো অসংখ্য প্রমান আছে যে যীশু মারা যায় নাই ও পুনরুত্থিত হয় নাই।

তাহলে পলের বক্তব্য অনুযায়ী প্রমানিত খ্রীষ্টানরা এখনো পাপের মধ্যেই আছে এবং খ্রীষ্টান ধর্ম একটি মিথ্যা ধর্ম।

(০৪) নং দলিলের জবাব :-
আসুন বাইবেল থেকেই প্রমান করবো যীশু খ্রীষ্টানদের পাপ নিয়ে মারা যায় নাই। তারা এখনো পাপের মধ্যেই পড়ে আছে।

> প্রথমেই দেখা যাক:- বাইবেলের ইশ্বরের আদেশ অমান্য করার জন্য, ইশ্বর যে অভিশাপ দিয়ে (আদম ও ইভকে) পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।
* তারপর প্রভু ঈশ্বর নারীকে বললেন, "তুমি যখন গর্ভবতী হবে, আমি সেই দশাটাকে দুঃসহ করে তুলব, তুমি অসহ্য ব্যাথায় সন্তানের জন্ম দেবে। তুমি তোমার স্বামীকে আকুলভাবে কামনা করবে কিন্তু সে তোমার উপরে কর্তৃত্ব করবে। (আদিপুস্তক ০৩/১৬)
* তারপর প্রভু ঈশ্বর পুরুষকে বললেন, "আমি তোমায় ঐ গাছের ফল খেতে বারণ করেছিলাম। তবু তুমি নারীর কথা শুনে নিষিদ্ধ গাছের ফল খেয়েছ। তাই তোমার কারণে আমি এই ভূমিকে শাপ দেব। ভূমি তোমাদের যে খাদ্য দেবে তার জন্যে এখন থেকে সারাজীবন তোমায় অতি কঠিন পরিশ্রম করতে হবে। (আদিপুস্তক ০৩/১৭)

তাহলে এখান থেকে আমরা বুঝতে পারলাম যে (আদম ও ইভ) ইশ্বরের আদেশ অমান্য করার জন্য তাদের অভিশাপ দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। এই পাপের জন্য মানুষ জন্মগতভাবে পাপি হয় এটাই খ্রীষ্টান ও বাইবেলের ইশ্বরের কথা! প্রমান দেখেন :-
* বাল্যকাল থেকে মানুষের স্বভাব মন্দ। (আদিপুস্তক ০৮/২১)।

বাইবেলের ইশ্বর মানুষদেরকে এই পাপ থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য তার দৈহিক সম্পর্কের পুত্রকে উৎসর্গ করলেন যাতে পাপ থেকে সকল মানুষ মুক্তি পায়। ইশ্বরের পুত্র সকল মানুষের পাপ নিয়ে মারা গেছে ক্রুশে, এটা বিশ্বাস করলেই পাপ মুক্তি হয়ে যাবে। এটাই হল খ্রীষ্টানদের বস্তাপচা খোঁড়া যুক্তি।

এবার আসেন তাদেই এই বস্তাপচা খোঁড়া যুক্তি খন্ডন করি।

পৃথিবীতে যত খ্ৰীষ্টান আছে তারা সবাই বিশ্বাস করে যে (যীশু - ইশ্বর পুত্র) সকল মানুষের পাপ নিয়ে ক্রুশে মারা গেছে। যার ফলে সকল খ্রীষ্টানরা পাপ থেকে মুক্তি পেয়ে গেছে। তার মানে দাড়াল ইশ্বর যে অভিশাপ দিয়ে (আদম ও ইভকে) পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন সেই যন্ত্রণা তারা আর ভোগ করবে না, যেহেতু ইশ্বর তাদের পাপ মুক্তির জন্য তার পুত্রকে উৎসর্গ করেছেন।

নোট করেন আমার প্রশ্ন: যীশু ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে তাদের পাপের জন্য এটা বিশ্বাস করার পরেও কেন! প্রত্যেক নারী সন্তান প্রসব করতে গেলে এখনো এত বেদনা ভোগ করে? এই বেদনা যাতে নারী ভোগ না করে তার জন্যই তো যীশু ক্রুশে মারা গেল।

+ প্রত্যেক পুরুষের কেন এত কষ্ট পরিশ্রম ভোগ করা লাগে এখনো? এই কষ্ট যাতে ভোগ করতে না হয় তার জন্যই তো যীশু ক্রুশে মারা গেল।

> বাইবেলের ইশ্বরের আদেশ অমান্য করার জন্য যে পাপ করেছিল (আদম ও ইভ)। সেই পাপের শাস্তি হিসাবে এই দুটি (অভিশাপ - শাস্তি) দিয়েছিলেন তাদের ইশ্বর।
> যেহেতু তারা বিশ্বাস করেছে যীশু তাদের পাপ নিয়ে মারা গেছে। যে পাপের জন্য ইশ্বর (আদম ও ইভকে) পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিলেন! সেই পাপ ক্ষমা করার জন্য ইশ্বর তার পুত্রকে উৎসর্গ করলেন যাতে মানুষ নাজাত পায় ও ইশ্বরের দেওয়া শাস্তি ভোগ করা না লাগে মানুষের। ইশ্বরের পুত্রকে উৎসর্গ করার পরও কেন একি অভিশাপে মানুষ এখনো যন্ত্রণা পেয়ে যাচ্ছে? তার মানে দাড়াল যীশু কারো পাপ নিয়ে মারা যায় নাই। বরং সকল খ্রীষ্টানরা এখনো পাপের মধ্যেই আছে।

> বাইবেল অনুযায়ী কেউ কারো পাপের বোঝা বহন করবে না। তাহলে আদম ও হাওয়ার পাপের বোঝা কেন সকল মানুষ বহন করবে?
* কিন্তু তুমি বলছো, 'পিতার পাপের জন্য ঈশ্বর তার সন্তানকে শাস্তি দেন না! ঈশ্বরের উচিত পাপীদের শাস্তি দেওয়া। তখনই মন্দ লোক বুঝতে পারবে তার নিজের পাপের জন্যই তাকে শাস্তি দেওয়া হল! (যোব ২১/১৯)
* যে ব্যক্তি পাপ করে কেবল সেই মারা যাবে। পুত্রকে তার পিতার পাপের জন্য শাস্তি ভোগ করতে হবে না; আবার পিতাকেও তার পুত্রের পাপের শাস্তি ভোগ করতে হবে না। ভাল লোকের ধার্মিকতা তার নিজের হাতে; তেমনই মন্দ লোকের মন্দতাও কেবল তারই অধিকারগত। (এজেকিয়েল ১৮/২০)
* প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজের পাপের জন্যই মারা যাবে। (যেরেমীয়া ৩১/৩০)
* কেউ অপরের জীবন মুক্ত করতে পারে না। অথবা তাদের জন্য ঈশ্বরকে মুক্তিপণ দিতে পারে না। (সামসংঙ্গীত ৪৯/০৭)

দেখেন বাইবেল স্পষ্ট করে বলছে কেউ কারো পাপের বোঝা বহন করবে না। এমনকি এটাও বলছে কেউ অপরের জীবনের পাপ মুক্ত করতে পারে না। তাহলে যীশু কেন (আদম ও হাওয়ার) পাপ বহন করবে? এগুলো বাইবেলের ইশ্বরের অযৌক্তিক ও অমানবিক নিষ্ঠুর কথা তাছাড়া আর কিছুই না। পাপ করেছে একজন আর শাস্তি দিচ্ছে আরেকজনকে এটা কখনো ন্যায়বিচার না, এটা বাইবেলের ইশ্বরের শয়তানি ছাড়া আর কিছুই না।

এক জায়গায় বলছে একজন আরেকজনের পাপের বোঝা বহন করবে! আবার এক জায়গায় বলছে বহন করবে হাস্যকর কথা।

মূলত খ্রীষ্টানদের বিশ্বাসই ভক্তিহীন তারা এখনো পাপের মধ্যেই পড়ে আছে। যীশু মারাও যায় নাই তাদের পাপও মুক্তি হয় নাই। যদি পাপ মুক্তি হত তাহলে নারী পুরুষ বর্তমানে এত কষ্টগুলো ভোগ করতো না।

📘 খ্রিস্টান ধর্ম খন্ডন রদ্দে ক্রিশ্চিয়ানিটি 📄 বাইবেল অনুযায়ী (পল - সৌল) একজন ভন্ড, প্রতারক, মানুষ হত্যাকারী ও মিথ্যাবাদি মানুষ ছিল।

📄 বাইবেল অনুযায়ী (পল - সৌল) একজন ভন্ড, প্রতারক, মানুষ হত্যাকারী ও মিথ্যাবাদি মানুষ ছিল।


বাইবেল থেকেই প্রমান করবো (পল - সৌল) একজন ভন্ড, প্রতারক, মানুষ হত্যাকারী ও মিথ্যাবাদি ছিল।

প্রথমেই সংক্ষেপে পলের পরিচয় দেই তারপর তার সকল ভন্ডামি তুলে ধরবো ইনশাআল্লাহ।
০১/নিউ টেস্টামেন্টের ২৭টা পুস্তকের মধ্যে ১৪টা পুস্তক সাধু পৌলের এর রচিত পুস্তক বলে প্রসিদ্ধ।
০২/ পৌল তিনি ছিলেন যীশু খ্রিষ্টের সমসাময়িক একজন ইহুদি। তবে তিনি যীশু খ্রিষ্টের শিষ্য ছিলেন না, নাসরত, গালিলি বা ফিলিস্তিনের অধিবাসী ছিলেন না এবং কখনো তিনি যীশুকে দেখেননি প্রমান দেখেন :- (০১ করিন্থীয় ০৯/০১, ১৫/০৮)
০৩/ পৌল বা পলের মূল নাম সৌল (Saul)। তিনি বর্তমান তুরস্কের তারসূস (Tarsus) বা সাইলেশিয়ায় (Cilicia) জন্মগ্রহণ করেন প্রমান দেখেন :- (শিষ্যচরিত ২১/৩৯, ২২/০৩)।
০৪/ পৌল জাতিতে রোমান ছিলেন প্রমান দেখেন :- (শিষ্যচরিত ২২/২৮-২৯, ১৬/৩৭-৩৮, ২৩/২৭)।
০৫/ মাতৃভাষায় ছিলেন গ্রিক প্রমান দেখেন :- (শিষ্যচরিত ০৯/২৯)
০৬/ পৌল ধর্মে ইহুদি ছিলেন প্রমান দেখেন :- (০১ করিন্থীয় ২২/০৩)।
০৭/ পৌল ০৩ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন এবং সম্ভবত ৬২ খ্রিষ্টাব্দে রোমে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত হন। অর্থাৎ যীশুর জন্মের প্রায় ০৬ বছর পরে তাঁর জন্ম এবং যীশুর তিরোধানের প্রায় ৩০ বছর পর তার মৃত্যু।

এবার আসুন পলের সকল প্রতারনা ও ভন্ডামি তুলে ধরি বাইবেল থেকে।

আমি স্বাধীন! আমি কারোর অধীনে নেই, তবু আমি সকলের দাস হলাম, যাতে অনেককে আমি খ্রীষ্টের জন্য লাভ করতে পারি। (০১ করন্থীয় ০৯/১৯)

ইহুদীদের জয় করার জন্য আমি ইহুদীদের কাছে ইহুদীদের মতো হলাম। যারা বিধি -ব্যবস্থার অধীনে জীবন কাটাচ্ছে, তাদের লাভ করার জন্য আমি নিজে বিধি-ব্যবস্থার অধীন না হলেও আমি তাদের মত হলাম। (০১ করন্থীয় ০৯/২০)

আবার যারা বিধি-ব্যবস্থার অধীনে নেই তাদেরকে জয় করার জন্য আমি তাদের মতো হলাম। অবশ্য এর মানে এই নয় যে আমি বিধি-ব্যবস্থা মানি না, আমি তো খ্রীষ্টের বিধি-ব্যবস্থার অধীনে জীবনযাপন করছি। (০১ করন্থীয় ০৯/২১)

যারা দুর্বল, তাদের কাছে আমি দুর্বল হলাম, যেন তাদেরকে জয় করতে পারি। আমি সকলের কাছে তাদের মনের মত হলাম, যাতে সম্ভাব্য সকল উপায়ে তাদের বাঁচাতে পারি। (০১ করন্থীয় ০৯/১৯-২২)

দেখেন পল নিজেই বলছে সে একজন ভন্ড প্রতারক ছিল। সে প্রতারনার ও মিথ্যাচারের মাধ্যমে সকলের মন জয় করতো। যে জাতি যেমন (পলও) ঠিক সেই জাতির মানুষের মত হয়ে তাদের প্রতারিত করে তাদের মন জয় করতো।

ঠিক একিভাবে যীশুর অনুসারীদের সাথে মিশে, সে তার অনুসারীদের প্রতারিত করে সে তাদের গুরু হয়। আর খ্রীষ্টানরাও অন্ধের মত (পলের) অনুসারী হয়ে গিয়েছে কোন রকম প্রমান ছাড়াই। অথচ যীশু বলেছে তাকে ছাড়া কেউ যেন অন্য কাউকে শিক্ষক হিসেবে গ্রহন না করে প্রমান দেখেন :-
আবার কেউ তোমাদের শিক্ষক বলে যেন না ডাকে, কারণ তোমাদের শিক্ষক একজনই তিনি খ্রীষ্ট। (মথি ২৩/১০)

পল সে ছিল একজন (খুনি - হত্যাকারী) সে যীশুর অনুসারীদের ধরে ধরে হত্যা করতো। খ্রীষ্টধর্মে (পলের) আবির্ভাব হটাৎ করেই হয়েছে। সে খ্রীষ্টানদের কাছে যেয়ে দাবি করে যীশু তাকে পাঠিয়েছে অথচ এর কোন প্রমান নাই গোটা বাইবেলে। খ্রীষ্টানরা (পলের) কথা দিয়েই (পলকে) দলিল দেয় অথচ (যীশু) কখনো তাকে দেখে নাই ও (পলও) যীশুকে কখনো দেখে নাই প্রমান দেখেন :- (০১ করন্থীয় ০৯/০১) (০১ করন্থীয় ১৫/০৮)। যীশু কখনোই বলে নাই (পলকে) আমি পাঠিয়েছি তোমরা তাকে মেনে চল। যার সাথে কখনো দেখাই হয় নাই তাকে যীশু কিভাবে পাঠাবে খ্রীষ্টানদের কাছে আপনারাই বিবেচনা করেন।

(পল) যে যীশুর শিক্ষা গ্রহনকারী মানুষদের হত্যা ও নির্যাতন করতো তার প্রমান দেখেন :-
পল বললো, খ্রীষ্টের পথে যাঁরা চলত তাদের আমি নির্যাতন করতাম, এমনকি কারো কারো মৃত্যু ঘটিয়েছিলাম৷ স্ত্রী, পুরুষ সকলকেই আমি গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখতাম। (শিষ্যচরিত্র ২২/০৪)

আরো প্রমান দেখেন এই সব জায়গায় :- (শিষ্যচরিত্র ০৮/০১) (শিষ্যচরিত্র ০৮/০২-০৩) (শিষ্যচরিত্র ০৯/০১) (শিষ্যচরিত্র ০৯/০২) (শিষ্যচরিত্র ২২/০৫) (শিষ্যচরিত্র ২৬/০৯) (শিষ্যচরিত্র ২৬/১০) (শিষ্যচরিত্র ২৬/১১) (শিষ্যচরিত্র ২৬/১২) (গালাতীয় ০১/১৩ (০১ করিন্থীয় ১৫/০৯) (ফিলিপ্পীয় ০৩/০৬)

এই সব জায়গায় পল নিজের মুখে নিজেই স্বীকারোক্তি দিলেন সে একজন (খুনি হত্যাকারি) ছিলেন।

পল খ্রীষ্টানদের কাছে যেয়ে দাবি করে যীশু তাকে শিষ্যত্ব প্রদান করেছে। যা সম্পূর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট কথা ছিল। কারন পল ছিল প্রতারক উপরের প্রমান করেছি। সে প্রতারনার মাধ্যমে মানুষের মন জয় করতো আর তাদের গুরু হত। খ্রীষ্টানদের গুরু হওয়ার জন্য পল এমন কথা বলেছিলেন খ্রীষ্টানদের কাছে যাতে সহজেই তাদের গুরু হতে পারে। আর যেহেতু সে প্রতারক ছিল তার জন্য সে সহজেই প্রতারনার মাধ্যমে খ্রীষ্টানদের গুরু হতে পেরেছিল।

এবার দেখেন পলের বক্তব্য অনুযায়ী যীশু যে পলকে শিষ্যত্ব প্রদান করেছে এই কথাটা যে মিথ্যা তার প্রমান দেখেন বাইবেল থেকেই।
পলের যীশুর-শিষ্য হওয়ার কাহিনীটা "শিষ্যচরিত্র" ০৯, ২২ ও ২৬ অধ্যায়ে তিন স্থানে তিনভাবে দেওয়া হয়েছে।

আসুন প্রথমে (শিষ্যচরিত্র ০৯/০৩-০৭) এর বক্তব্য দেখি :-
* তাই শৌল দম্মেশকে রওনা হয়ে গেলেন৷ যেতে যেতে তিনি যখন দম্মেশকের কাছাকাছি এলেন, সেই সময় হঠাৎ আকাশ থেকে এক উজ্জ্বল আলো তাঁর চারিদিকে চমকে উঠল। (শিষ্যচরিত্র ০৯/০৩)
* তিনি মাটিতে পড়ে গেলেন এবং এক বানি শুনতে পেলেন, সেই বানি তাঁকে বলছে; 'শৌল, শৌল! কেন তুমি আমাকে এত কষ্ট দিচ্ছ? (শিষ্যচরিত্র ০৯/০৪)
* শৌল বললেন, 'প্রভু আপনি কে?'তিনি বললেন, 'আমি যীশু; তুমি যার ক্ষতি করার চেষ্টা করছ। (শিষ্যচরিত্র ০৯/০৫)
* ওঠ, ঐ শহরে যাও আর তোমায় কি করতে হবে তা তোমায় বলা হবে। (শিষ্যচরিত্র ০৯/০৬)
* যে সব পুরুষ তাঁর সঙ্গে যাচ্ছিল তারা নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তারা সেই বানি শুনতে পেল, কিন্তু কাউকে দেখতে পেল না৷ (শিষ্যচরিত্র ০৯/০৭)

> নোেট করেন :- দেখেন এখানে বলা হচ্ছে :- তার সহপথিকেরা অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো, তারা ঐ বাণী শুনলো, কিন্তু কাউকেও দেখতে পেল না। (hearing a voice, but seeing no man)。

> এবার দেখেন (শিষ্যচরিত্র ২২/০৬-১০) এর বক্তব্য :-
* চলতে চলতে দম্মেশকের কাছাকাছি এলে, দুপুর বেলা হঠাৎ আকাশ থেকে তীব্র আলোর ছটা আমার চারদিকে ছেয়ে গেল। (শিষ্যচরিত্র ২২/০৬)
* আমি মাটিতে পড়ে গেলাম আর এক রব শুনলাম, পৌল, পৌল তুমি কেন আমায় নির্যাতন করছ? (শিষ্যচরিত্ৰ ২২/০৭)
* আমি বললাম, 'প্রভু, আপনি কে?' তিনি আমায় বললেন, 'যাকে তুমি নির্যাতন করছ, আমি সেই নাসরতীয় যীশু। (শিষ্যচরিত্ৰ ২২/০৮)
* যাঁরা আমার সঙ্গে ছিল তারা সেই আলো দেখতে পেয়েছিল, কিন্তু যিনি আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন, তাঁর রব তারা শুনতে পায় নি। (শিষ্যচরিত্ৰ ২২/০৯)
* আমি বললাম, 'প্রভু আমায় কি করতে হবে?' প্রভু আমায় বললেন, ওঠ, দম্মেশকে যাও। যে কাজের জন্য তোমাকে মনোনীত করা হয়েছে তা সেখানেই তোমাকে বলা হবে। (শিষ্যচরিত্ৰ ২২/১০)

> নোট করেন :- দেখেন এখানে বলা হচ্ছে:- যারা পলের সঙ্গে ছিল, তারা সেই আলো দেখতে পেল, কিন্তু যিনি আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন তাঁর বাণী শুনতে পেল না। (And they that were with me saw indeed the light, and were afraid; but they heard not the voice of him that spoke to me)。
(শিষ্যচরিত্ৰ ০৯/০৭) এই জায়গায় বলা হয়েছে পলের সাথে যারা ছিল তারা যীশুর কথা শুনতে পেয়েছিল কিন্তু (শিষ্যচরিত্ৰ ২২/০৯) এই জায়গায় বলা হচ্ছে যারা পলের সাথে ছিল তারা যীশুর কথা শুনতে পায় নাই। কি হাস্যকর তথ্য আপনারাই বিবেচনা করেন পল খ্রীষ্টানদের কাছে সত্য বলেছে নাকি মিথ্যা কথা বলে প্রতারনা করেছে।

জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বর্ণনায় এত বৈপরীত্য! সহ-পথিকরা কথা শুনল কিন্তু আলো দেখল না! তারা আলো দেখল কিন্তু কথা শুনল না!!!

এবার দেখেন (শিষ্যচরিত্র ২৬/১৩-১৮) এর বক্তব্য :-
* পথে একদিন দুপুরবেলায়, হে মহারাজ আমি দেখলাম সূর্যের চেয়েও এক উজ্জ্বল আলো আকাশ থেকে আমার ও আমার সহযাত্রীদের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল। (শিষ্যচরিত্র ২৬/১৩)
* আমরা মাটিতে পড়ে গেলাম, আর এক রব শুনতে পেলাম যা ইব্রীয় ভাষায় আমায় বলছে, 'শৌল, শৌল, আমায় নির্যাতন করছ কেন? আমার বিরুদ্ধে গিয়ে তুমি নিজেরই ক্ষতি করছ। (শিষ্যচরিত্র ২৬/১৪)
* তখন আমি বললাম, 'প্রভু, আপনি কে? প্রভু বললেন, 'আমি যীশু, যাকে তুমি নির্যাতন করছ। (শিষ্যচরিত্র ২৬/১৫)
* তুমি নিজের পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াও! আমার সেবক হবার জন্যই আমি তোমাকে মনোনীত করেছি। তুমি অন্যের কাছে আমার সাক্ষী হবে। তুমি যে যে বিষয় আজ দেখলে ও ভবিষ্যতে যা যা আমি তোমায় দেখাব, সে সব সকল লোকের কাছে সাক্ষী দাও। এইজন্যই তোমার কাছে আজ আমি নিজে দেখা দিয়েছি। (শিষ্যচরিত্র ২৬/১৬)
* তোমার আপন লোক ইহুদীদের হাত থেকে তোমায় আমি রক্ষা করব। আর আমি তোমাকে অইহুদীদের কাছে পাঠাচ্ছি। (শিষ্যচরিত্র ২৬/১৭)
* তুমি তাদের চোখ খুলে দেবে যেন তারা সত্য দেখে ও অন্ধকার থেকে আলোতে ফিরে আসে; আর শয়তানের কর্তৃত্ব থেকে মুক্ত হয়ে ঈশ্বরের প্রতি ফিরলে তাদের সব পাপ ক্ষমা হবে৷ আমার উপর বিশ্বাস করে যাঁরা পবিত্র হয়েছে, তারা তাদের সহভাগী হবে। (শিষ্যচরিত্র ২৬/১৮)

> নোট করেন :- দেখেন উপরের (শিষ্যচরিত্র ০৯/০৬) ও (শিষ্যচরিত্র ২২/১০) এই দু'স্থানে বলা হয়েছে যে, পলের কী করণীয় সে বিষয়ে যীশু তাকে তখন কোনো নির্দেশ দিলেন না; শুধু বললেন, দামেশকে যাও, সেখানেই সব বলা হবে। অথচ (শিষ্যচরিত্র ২৬/১৬-১৮) এই জায়গায় যীশু পলকে তার সব দায়িত্ব ও করণীয় কি তা বিস্তারিত বলে দিয়েছে দামেশকে যাওয়ার আগেই। যেহেতু যীশু পলকে বলেছে দামেশকে যাওয়ার পর তাকে কি করতে হবে সেটা বলা হবে। এখানেও বৈপরীত্য হয়ে গেছে।

মহান আল্লাহ বলেন :-
বল, 'সত্য এসে গেছে আর মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে, মিথ্যা তো বিলুপ্ত হওয়ারই। (সূরা বানী ইসরাইল আয়াত : ৮১)

আরো প্রমান দেখেন পল যে খ্রীষ্টানদের প্রতারিত করেছে। তাদেরকে মিথ্যা বলেছে, যে যীশু আমাকে শিষ্যত্ব প্রদান করেছে।
* সব কিছু করার অধিকার আমার আছে,' কিন্তু সব কিছু করা যে মঙ্গলকর তা নয়। হ্যাঁ, 'সব কিছু করার অধিকার আমার আছে,' কিন্তু আমি কোন কিছুর দাস হব না। (০১ করন্থীয় ০৬/১২)
* আমি স্বাধীন! আমি কারোর অধীনে নেই, তবু আমি সকলের দাস হলাম, যাতে অনেককে আমি খ্রীষ্টের জন্য লাভ করতে পারি। (০১ করন্থীয় ০৯/১৯)

এখানেও সাধু পল দাবি করছেন যে, তিনি কোনো শরীয়ত, আইন বা বিধানের কর্তৃত্বাধীন নন। তিনি সকল বিধিবিধানের ঊর্ধ্বে। পাপ, পূণ্য, সত্য, মিথ্যা, হালাল, হারাম কোনো কিছুই তার জন্য নিষিদ্ধ বা অবৈধ নয়, বরং সবই বৈধ।

পল এখানে নিজেই স্বীকার করেছে সে কোনো শরীয়ত, আইন বা বিধানের কর্তৃত্বাধীন নন। তার মানে দাড়াল সে যীশুর বিধানেরও আওতায় না। সে যীশুর শিষ্যও না। তিনি কোন বিধান মানেন না।

আরে প্রমান দেখেন পল নিজেই যীশুর বিরোধিতা করেছে তার শিষ্য দাবি করার পরও এবং যীশুকে ছাড়াই তিনি বাইবেলের ১৪ টা পুস্তক রচিত করেছে।

সাধু পল কখনোই যীশুর শিষ্যদের থেকে ইঞ্জিল শিক্ষা করেননি বরং তিনি যীশুর শিষ্যদের থেকে দূরে থাকতেন প্রমান দেখেন :- (গালাতীয় ১/১৬-১৭)। তিনি নিজেই ইঞ্জিলের রচয়িতা বলে প্রচার করতেন এবং বলতেন: 'my gospel': 'আমার ইঞ্জিল' প্রমান দেখেন :- (রোমীয় ০২/১৬, ১৬/২৫) (০২ তীমথিয় ০২/০৮)।

পল বলেন, তাঁর নিজের ইঞ্জিল ছাড়া অন্য কোনো ইঞ্জিল যদি কেউ প্রচার করে তবে সে অভিশপ্ত প্রমান দেখেন :- (গালাতীয় ০১/০৬-০৮-০৯) (০২-করিন্থীয় ১১/০৪)। পল যীশুর শিষ্য দাবি করার পরও সে বলছে যীশুর ও অন্য কারো বানি প্রচার করলে সে অভিশপ্ত। যীশুর শিষ্য দাবি করার পরও পল যীশুর বিরোধিতা করেই গেছে। এটা কখনো কোন শিষ্যর কথা হতে পারে?

অথচ যীশু তার জীবদ্দশায় ইঞ্জিল প্রচার করেছেন প্রমান দেখেন :- (মথি ০৪/২৩, ০৯/৩৫, ১১/১৫) (মার্ক ০১/১৪-১৫, ০৮/৩৫, ১০/২৯) (লুক ০৯/০৬...)

সাধু পল দাবি করেন যে, যীশু তাঁকে বলেছিলেন :-
তোমার নিজের লোকদের (ইহুদীদের) এবং অ-ইহুদিদের হাত থেকে আমি তোমাকে রক্ষা করব। (শিষ্যচরিত্র ২৬/১৭)

কিন্তু বাস্তবে এ ওয়াদা কার্যকর হয়নি। সাধু পলকে যীশু রক্ষা করেননি; বরং তিনি নিহত হয়েছেন। ৬২ খ্রিষ্টাব্দের দিকে রোমান সরকার তাকে বন্দি করে এবং মৃত্যুদন্ড প্রদান করে। (Microsoft & Encarta ® 2008: Paul)

যীশু এ ওয়াদা কার্যকর হয়নি কারন পল ছিলেন ভন্ড, প্রতারক, মানুষ হত্যাকারি ও মিথ্যাবাদি কারন বাইবেল বলছে :-
* ভন্ড নবীর পরিণতি নিহত হওয়া বা অপমৃত্যু। (দ্বিতীয় বিবরণ ১৮/১৮-২০) (যিহিক্কেল ১৪/০৯-১০)

পল ও অনন্য ভন্ড নবিদের বিষয়ে যীশু নিজেই বলেছেন :-
* ভন্ড ভাববাদীদের থেকে সাবধান। তারা তোমাদের কাছে নিরীহ মেষের ছদ্মবেশে আসে অথচ ভেতরে তারা হিংস্র নেকড়ে বাঘ। (মথি ০৭/১৫)
* আমি একথা বলছি, কারণ অনেক ভন্ড খ্রীষ্ট ও ভন্ড ভাববাদীর উদয় হবে। তারা মহা আশ্চর্য কাজ করবে ও চিহ্ন দেখাবে, যেন লোকদের ঠকাতে পারে। যদি সম্ভব হয় এমনকি ঈশ্বরের মনোনীত লোকদেরও ঠকাবে। (মথি ২৪/২৪)

যীশু আরো বলে যখন তিনি দ্বিতীয়বার পৃথিবীতে আসবেন তখন পলের মত এসব ভন্ড নবিদেরকে যা বলবেন :-
* সেই দিন অনেকে আমায় বলবে, 'প্রভু, প্রভু আমরা কি আপনার নামে ভাববাণী বলিনি? আপনার নামে আমরা কি ভূতদের তাড়াই নি? আপনার নামে আমরা কি অনেক অলৌকিক কাজ করিনি? (মথি ০৭/২২)
* তখন আমি তাদের স্পষ্ট বলব, 'আমি তোমাদের চিনিনা, দুষ্টের দল! আমার সামনে থেকে দূর হও। (মথি ০৭/২৩)

> (মথি ০৭/১৫, ০৭/২২-২৩, ও ২৪/২৪) এই অধ্যায়ের এসব অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ঊনবিংশ শতাব্দীর বৃটিশ দার্ষনিক জিরেমি বেনথাম (Jeremy Bentham) (১৭৪৮ -১৮৩২ খ্রি.) বলেন :-
> তার লেখা একটা প্রসিদ্ধ বই 'Not Paul But Jesus': 'পল নয়, বরং যীশু'। উইকিপিডিয়ায় এবং http://www.jesuswordsonly.com ওয়েবসাইটে পাঠক এ পুস্তক ও সাধু পল কর্তৃক যীশুর ধর্ম বিকৃতি বিষয়ক খ্রিষ্টান পণ্ডিতদের আরো অনেক পুস্তক সম্পর্কে জানতে পারবেন। জিরোমি বেনথাম, পল SPICY CER: "IF Christianity needed an Anti-Christ, they needed look no farther than Paul." খৃস্টধর্ম যদি একজন দাজ্জাল চায় তবে পল ছাড়া আর কাউকে দেখার তাদের প্রয়োজন নেই। ৬৬
> যীশুকে 'প্রভু প্রভু বলেছেন, তাঁর নামে অলৌকিক কাজ ও চিহ্ন-কাজ করেছেন এবং ইশ্বরের বাছাই করা বান্দাদের অর্থাৎ যীশুর সাহাবী-শিষ্যদেরকেও প্রতারনার মাধ্যমে ভুলাতে পেরেছেন এমন ব্যক্তি সাধু পল ছাড়া আর কাউকে দেখা যায় না।

ভন্ড পল যে খ্রীষ্টানদের সাথে প্রতারনার মাধ্যমে তাদের গুরু হয়েছে। এটা আর অস্বীকার করার জায়গা নাই।

📘 খ্রিস্টান ধর্ম খন্ডন রদ্দে ক্রিশ্চিয়ানিটি 📄 বাইবেলের ঈশ্বরের (অমানবিক নিষ্ঠুর) বিধান।

📄 বাইবেলের ঈশ্বরের (অমানবিক নিষ্ঠুর) বিধান।


বাইবেলের ইশ্বর এতটাই নিষ্ঠুর ও অমানবিক তার বিধান দেখলেই বুঝতে পারবেন।

> বাইবেলের ইশ্বরের অমানবিক হাস্যকর বিধান দেখেন :-
* তাই তোমার হাত কিংবা পা যদি তোমার প্রলোভনে পড়ার কারণ স্বরূপ হয়, তবে তা কেটে ফেল। (মথি ১৮/০৮)
* তোমার চোখ যদি তোমাকে প্রলোভনের পথে টেনে নিয়ে যায়, তবে তা উপড়ে ফেলে দিও। (মথি ১৮/০৯)

> এটা বাইবেলের ইশ্বরের কেমন বিধান? কোন সুস্থ জ্ঞানী মানুষ কখনো এসব আজব কথায় বিশ্বাস করবে না! কারন শয়তান সব সময়ই চায় যে মানুষ খারাপ কাজ করুক। শয়তান তো মানুষকে প্রলোভন দেখাবেই আর প্রলোভনে পড়ে মানুষ অনেক খারাপ কাজ করে থাকে তাই বলে কি হাত, পা, চোখ উপড়ে ফেলতে হবে? এমন অযৌক্তিক কথা কোন জ্ঞানসম্পন্ন মানুষ মেনে চালবে না।

> যদি বাইবেলের এই অযৌক্তিক বিধানটা কার্যকর করা হয় তাহলে পৃথিবীতে হয়তো কোন খ্রীষ্টানকে খুজে পাওয়া যাবে না।
* তাদের বাড়িগুলি লুণ্ঠিত হবে। তাদের স্ত্রীরা ধর্ষিত হবে। আর তাদের চোখের সামনেই তাদের ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হবে। (ইসাইয়া ১৩/১৬)
* তীরন্দাজরা যুবকদের হত্যা করবে। শিশুদের তারা ক্ষমা করবে না। তারা ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের প্রতিও করুণা করবে না। (ইসাইয়া ১৩/১৮)
* বাল্যকাল থেকে মানুষের স্বভাব মন্দ। (আদিপুস্তক ০৮/২১)
শমরিয়া অবশ্যই শাস্তি পাবে। কারণ সে তার ঈশ্বরের বিরুদ্ধে গেছে। ইস্রায়েল জাতি তরবারির সাহায্যেই নিহত হবে। তাদের সন্তানদের টুকরো টুকরো করে ছিন্ন করে দেওয়া হবে। তাদের গর্ভবতী মেয়েদের ছিঁড়ে ফেলা হবে। (হোসেয়া ১৩/১৬)
* তোমরা তাদের রক্তের ওপর দিয়ে হাঁটতে পারবে। তোমাদের কুকুর ওদের রক্ত চেটে খাবে। (সামসঙ্গীত ৬৮/২৩)

এমন অমানবিক নিষ্ঠুর কথা কি কোন ইশ্বরের পক্ষে মানায় আপনারাই বিবেচনা করেন?
বাল্যকাল থেকেই মানুষ কেন মন্দ স্বভাবের হবে? তারা তো আর কোন পাপ করে নাই।
ঈশ্বর মানুষকে বাল্যকাল থেকেই পাপি বানিয়ে দিছে তাহলে মানুষ পাপ কাজ করবে এটাই স্বাভাবিক, এটাই যদি হয়ে থাকে তাহলে মানুষ সৃষ্টি করার কি প্রযোজন ছিল বাইবেলের ইশ্বরের?

এ বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেন :-
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, প্রতিটি নবজাতক স্বভাবজাত ইসলাম নিয়ে জন্মলাভ করে। অতঃপর তার বাবা-মা তাকে ইয়াহূদী বানিয়ে দেয়, খ্রীষ্টান বানিয়ে দেয় এবং আগুনপূজারী বানিয়ে দেয়, যেমন চতুষ্পদ প্রাণী পূর্ণাঙ্গ চতুষ্পদ বাচ্চা জন্ম দেয় তোমরা কি তাতে কোন অঙ্গ কর্তিত বাচ্চা উপলব্ধি করছ? তারপর আবূ হুরায়রা (রাঃ) বললেন, ইচ্ছা করলে তোমরা এ আয়াতটি পাঠ করতে পারঃ “আল্লাহর ফিত্রাতে যার উপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই”- (সূরাহ রূম আয়াত : ৩০)
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ৬৬৪৮। হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।

এবার আপনারাই বিবেচনা করেন বাইবেলের ইশ্বরের এমন অমানবিক নিষ্ঠুর বিধান অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা আদো কি সম্ভব?

📘 খ্রিস্টান ধর্ম খন্ডন রদ্দে ক্রিশ্চিয়ানিটি 📄 বাইবেলের ঈশ্বর (রেগে) গেলে উদ্ভট হাস্যকর পাগলামিতে লিপ্ত হয়।

📄 বাইবেলের ঈশ্বর (রেগে) গেলে উদ্ভট হাস্যকর পাগলামিতে লিপ্ত হয়।


বাইবেলের ঈশ্বর (রেগে) গেলে তার নাক, মুখ, শরির থেকে আগুন ও ধোঁয়া বের হয়। এবং তিনি বিভিন্ন রকম পাগলামিতে লিপ্ত হয় সেসব দেখা যাক।

এবার আসেন বাইবেল থেকে বিস্তারিত দেখি বাইবেলের ঈশ্বর (রেগে) গেলে কি পাগলামিতে লিপ্ত হয়!
* সারা পৃথিবী কেঁপে উঠলো, পর্বত্তের ভিতগুলো পর্যন্ত নড়ে উঠেছিল। কেন? কারণ প্রভু ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন! (সামসংঙ্গীত ১৮/০৭)
* ঈশ্বরের নাক দিয়ে ধোঁয়া বেরিয়ে এলো। ঈশ্বরের মুখ থেকে বেরিয়ে এলো জ্বলন্ত অগ্নিশিখা। তাঁর দেহ থেকে জ্বলন্ত আগুন বিচ্ছুরিত হতে লাগলো। (সামসংঙ্গীত ১৮/০৮)
* আকাশমণ্ডল বিদীর্ণ করে প্রভু নীচে নেমে এলেন! একটি ঘন কালো মেঘের ওপর তিনি দাঁড়িয়েছিলেন। (সামসংঙ্গীত ১৮/০৯)
* বাতাসের পাখায় চড়ে তিনি আকাশের এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তে উড়ে বেড়াচ্ছিলেন। বাতাসের ওপর ভর করে, তিনি সুদূর শূন্যে ভেসে বেড়াচ্ছিলেন। (সামসংঙ্গীত ১৮/১০)
* প্রভু একটা ঘন কালো মেঘের মধ্যে লুকিয়েছিলেন, সেই মেঘ তাঁকে তাঁবুর মত ঘিরেছিল। তিনি ঘন বজ্রময় মেঘের মধ্যে লুকিয়েছিলেন (সামসংঙ্গীত ১৮/১১)
* তারপর মেঘ ভেদ করে ঈশ্বরের আলোকময় ঔজ্জ্বল্য বেরিয়ে এলো। সেখানে বজ্রসহ শিলাবৃষ্টি এবং বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা দিল। (সামসংঙ্গীত ১৮/১২)
* তোমার আদেশে, হে সদাপ্রভু, তোমার নাকের নিঃশ্বাসের বিস্ফোরণে, সাগরের তলদেশ উন্মুক্ত হল, আর পৃথিবীর ভিত্তিমূল অনাবৃত হল। (সামসংঙ্গীত ১৮/১৫)

দেখলেন তো বাইবেলের ঈশ্বরের পাগলামি! তিনি রেখে গেলে নাক থেকে ধোঁয়া বের হয়, মুখ থেকে আগুন বের হয়, তার শরীর থেকে আগুন বের হতে থাকে। তিনি রেগে গেলে আকাশ বিদীর্ণ করে মেঘের উপর এসে দাড়িয়ে থাকেন! বাতাসের পাখায় করে পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে উড়ে বেড়ান। তিনি বাতাসের উপর ভর করে শূন্যে ভেসে বেড়ায়। তিনি কালো মেঘের তাবুর মধ্যে লুকিয়ে থাকেন। তার নাকের নিশ্বাসে বিস্ফোরণ হয়ে সাগরের তলদেশ উন্মুক্ত হয়, পৃথিবীর ভিত্তিমূল অনাবৃত হয়। কতসব উদ্ভট হাস্যকর কাজকর্ম করতে থাকেন তিনি। এসব উদ্ভট কাজকর্ম করে কি লাভ? আর এসব কাজকর্ম কি কোন ঈশ্বরের পক্ষে মানায়?

এখন আপনারাই বলেন বাইবেলের ঈশ্বরের এসব উদ্ভট হাস্যকর কাজকর্ম কি কোন ঈশ্বরের পক্ষে মানায়? কি সব উদ্ভট বক্তব্য লিখে রেখেছেন তিনি! এতে কি তার সম্মান বাড়ে না কমে যায় তিনি কি বুঝতে পারেন না?

ফন্ট সাইজ
15px
17px