📄 খ্রীষ্টানরা যে সব অনুচ্ছেদগুলো দিয়ে যীশুকে তারা (ঈশ্বর) দাবি করে থাকে সেসব খন্ডন।
প্রথমেই একটা বিষয় বলে রাখি খ্রীষ্টানদের আছে শুধু দাবি, কোন প্রমান নাই। খ্রীষ্টানরা নিজেদের বাইবেলের কথাগুলোর অপব্যাখ্যা করে সাথে সাথে কোরআনের কথাগুলোকেও অপব্যাখ্যা করে। পাঠকরা এই বিষয়টা সব সময় মাথায় রাখবেন।
বর্তমান খ্রীষ্টানদের অবস্থা হচ্ছে এমন
> বাচ্চা তার মাকে বলছে : মা, মা, আমি আইসক্রিম খাব।
> মা বলছে : না বাবা আইসক্রিম খাওয়া যাবে না, খেলে ঠান্ডা লেগে যাবে।
> বাচ্চা বলছে : মা তাহলে সোয়েটার পড়ে খাব, তাহলে ঠান্ডা লাগবে না।
মা বলছে এক বাচ্চা বুঝেছে আরেক ঠিক একি ভাবে খ্রীষ্টানরাও এই বাচ্চার মত অবুঝ। (বাইবেল – কোরআন ও হাদিস) বলে এক, তারা বোঝে আরেক। মোটকথা তারা মুসলিমদেরকে প্রতারিত করার জন্য যখন যেমন ইচ্ছা তেমনভাবে নিজেদের বাইবেল, কোরআন ও হাদিস ব্যাখ্যা করে ও বোঝে।
এবার আসেন দেখি খ্রীষ্টানরা যেসব অনুচ্ছেদ দেখিয়ে দাবি করে থাকে যীশু নাকি ইশ্বর! বাইবেল থেকেই সেসব দলিল খন্ডন করবো ও প্রমান করবো যীশু ইশ্বর নয় তাদের দাবি ভিত্তিহীন।
প্রথমেই বলি গোটা বাইবেলে কোথাও যীশু নিজেকে ইশ্বর দাবি করে নাই। কিছু কথা দেখে আপনাদের মনে হতে পারে যে এখানে যীশু নিজেকে ইশ্বর বলেছে! কিন্তু আপনারা যদি আগে পরের অনুচ্ছেদগুলো মনযোগ সহকারে পড়ে দেখেন তাহলে দেখতে পাবেন সেখানে যীশু নিজেকে ইশ্বর দাবি করে নাই। যীশু সবসময় তার পিতার কথা বলেছে, মানে ইশ্বরের কথা বলেছে।
খ্রীষ্টনরা যেসব অনুচ্ছেদগুলো দিয়ে দাবি করে থাকে যে এখানে যীশু নিজেকে ইশ্বর বলেছে, সেগুলো দেখেন :-
> ০১ নং দলিল :- আমি ও পিতা, আমরা এক। (যোহন ১০/৩০)
> ০২ নং দলিল :- যীশু তাদের বললেন, আমি তোমাদের সত্যি বলছি৷ আব্রাহামের জন্মের আগে থেকেই আমি আছি। (যোহন ০৮/৫৮)
> ০৩ নং দলিল :- আমি আল্ফা ও ওমেগা, আমি প্রথম ও শেষ, আদি ও অন্ত। ( প্রত্যাদেশ ২২/১৩)
> ০৪ নং দলিল :- যীশু সেই পঙ্গু লোকটিকে বললেন, "বাছা" তোমার সব পাপের ক্ষমা হল। (মার্ক ০২/০৫)
> ০৫ নং দলিল :- যে কেউ আমায় দেখেছে সে পিতাকে দেখেছে। (যোহন ১৪/০৯) (যোহন ১২/৪৫)
এসব অনুচ্ছেদ দিয়ে খ্রীষ্টানরা বলে যে যীশু ইশ্বর কারন তিনি ও তার পিতা এক, যীশু প্রথম ও শেষ, যীশু আব্রাহামের জন্মের আগে থেকেই আছে। এখানে খ্রীষ্টানরা আগে পিছের অনুচ্ছেদ বাদ দিয়ে কোন প্রসংঘ্য ছাড়া মাঝ থেকে একটা অনুচ্ছেদ দিয়ে দলিল দিচ্ছে, আপনারা যদি আগে পিছের অনুচ্ছেদগুলো পড়েন তাহলে দেখতে পাবেন এখানে যীশু নিজেকে ইশ্বর দাবি করে নাই সে পিতার কথা বলেছে।
এবার আসেন খ্রীষ্টানদের এসব দলিলগুলো খন্ডন করবো ইনশাআল্লাহ।
(০১) নং দলিলের জবাব :-
আসেন দেখি, (আমি ও আমার পিতা এক) এই কথা দ্বারা যীশু কি বোঝাতে চেয়েছে? এই অনুচ্ছেদটা বুঝতে হলে (২৫) নং অনুচ্ছেদ থেকে (৩৫) নং অনুচ্ছেদ পর্যন্ত পড়তে হবে। আসেন দেখি কি বলা হয়েছে এসব অনুচ্ছেদে :-
(২৫) নং অনুচ্ছেদ বলছে, আমি আমার পিতার সাহায্যে সব অলৌকিক কাজ করি। (২৬) নং অনুচ্ছেদ বলছে, কিন্তু তোমরা আমায় বিশ্বাস কর না। (২৭) নং অনুচ্ছেদ বলছে, আমার মেষরা আমার কন্ঠস্বর শোনে। আমি তাদের জানি, আর তারা আমার অনুসরণ করে। (২৮) নং অনুচ্ছেদ বলছে, তাদের কেউ আমার হাত থেকে কেড়ে নিতে পারবে না। (২৯) নং অনুচ্ছেদ বলছে, আমার পিতা, যিনি তাদেরকে আমায় দিয়েছেন, তিনি সবার ও সবকিছু থেকে মহান, আর কেউ পিতার হাত থেকে আমাদের কেড়ে নিতে পারবে না৷ (৩০) নং অনুচ্ছেদ বলছে, আমি ও আমার পিতা এক। (৩১) নং অনুচ্ছেদ বলছে, ইহুদীরা তখন তাঁকে মারবার জন্য পাথর তুলল। (৩২) নং অনুচ্ছেদ বলছে, পিতার শক্তিতে আমি অনেক ভাল কাজ করেছি, তার মধ্যে কোন কাজটার জন্য তোমরা পাথর মারতে চাইছ?। (৩৩) নং অনুচ্ছেদ বলছে, তুমি ঈশ্বর নিন্দা করেছ। তুমি একজন মানুষ, অথচ নিজেকে ঈশ্বর বলে দাবী করছ। (৩৪) তোমাদের বিধি-ব্যবস্থায় কি একথা লেখা নেই যে, আমি বলেছি তোমরা ঈশ্বর? (৩৫) নং অনুচ্ছেদ বলছে, শাস্ত্রে তাদেরই ঈশ্বর বলেছিল যাদের কাছে ঈশ্বরের বাণী এসেছিল; আর শাস্ত্র সব সময়ই সত্য।
এসব অনুচ্ছেদগুলোর উদ্দেশ্যটা দেখেন যীশু তার পিতার সাহায্যে সকল অলৌকিক কাজ করেছে, (যীশু ও তার পিতা যদি এক হত / ইশ্বর হত) তাহলে যীশু তার পিতার কথা বলতো না। যীশু যদি ইশ্বর হত তাহলে যীশু কখনোই তার পিতার সাহায্যে অলৌকিক কাজ করে এই কথা বলতো না। ইশ্বর হল তার পিতা যার জন্য যীশু পিতার কথা বলেছে। তারপর বলছে কেউ আমার হাত থেকে আমার অনুসারীদের কেড়ে নিতে পারবে না / মানে যীশুর পথ থেকে কেউ বিভ্রান্ত করতে পারবে না। তারপর বলছে আমার পিতা সবার থেকে মহান ও কেউ আমার পিতার হাত থেকে আমাদের কেড়ে নিতে পারবে না। তারপর বলছে আমি ও আমার পিতা এক / মানে উদ্দেশ্য এক।
(পিতা ইশ্বরের) উদ্দেশ্য হল সকল মানুষ যেন তার ইবাদত করে। অপরদিকে যীশুরও উদ্দেশ্য হল, যেন সকল মানুষ (পিতা - ইশ্বরের) ইবাদত করে। দুইজনেরই উদ্দেশ্য এক সেটার কথা বলা হয়েছে (যোহন ১০/৩০) এ। রাসূলদের কাজ হল ইশ্বরের আনুগত্য করা ও ইশ্বরের দেওয়া বিধিনিষেধ সাধারণ মানুষের কাছে প্রচার করা যাতে মানুষ ইশ্বরের ইবাদত করতে পারে।
একটা উদাহরণ দেই যেমন ধরেন আমার বাবা শিক্ষক আর আমিও শিক্ষক কেউ যদি বলে আমি আর আমার বাবা এক তাহলে ভুল হবে। কারন আমরা দুইজন আলাদা মানুষ, যদি বলেন আমাদের (পেশা ও উদ্দেশ্য) এক তাহলে আর সমস্যা থাকবে না। একি ভাবে যীশু ও তার পিতার উদ্দেশ্য এক সেটা বলা হয়েছে।
তারপর দেখেন ইহুদিরা তাকে পাথর মারতে চেয়েছিল তখন যীশু বলছে কোন কারনে আমাকে মারতে চাইছো, তখন ইহুদিরা বলেছে আপনি ধর্মের অবমাননা করেছেন আপনি মানুষ হয়ে নিজেকে ইশ্বর দাবি করেছেন। এখান থেকে বোঝা গেল তখকার সময়ে ইহুদিরা যীশুকে ইশ্বর হিসাবে মেনে নেন নাই, তারা (রাসূল - নবি) হিসাবে মেনে চলতো। যীশু যদি ইশ্বর হত তাহলে কেন ইহুদিরা জানতো না যে যীশু ইশ্বর? এবং ইহুদিরা কেন যীশুর মধ্যে ইশ্বরের কোন বৈশিষ্ট্য দেখতে পেল না?
পরের অনুচ্ছেদ বলছে, তোমাদের বিধি-ব্যবস্থায় কি একথা লেখা নেই যে, আমি বলেছি তোমরা ঈশ্বর? এখানে যীশু জানত যে তাদের শাস্ত্রে লেখা আছে ইহুদিরাও ইশ্বর তার জন্য যীশু এমনভাবে ইহুদিদের প্রশ্ন করে বলেছে! এরপর বলছে যাদের কাছে ইশ্বরের বানি আসে তারাও ইশ্বর। যীশুসহ সকল নবিদের কাছে ইশ্বরের বানি এসেছিল তার মানে কি সবাই ইশ্বর? উত্তর হবে না! কারন এখানে রূপক অর্থে ইশ্বর বলা হয়েছে! মানে নবিদের কাছে ইশ্বরের বানি এসেছিল আর সেই বানিই তারা প্রচার করেছে তার জন্য নবিদের এখানে রূপক অর্থে ইশ্বর বলা হয়েছে।
(পিতা - ইশ্বর) যে বিধান দিয়ে যীশুকে প্রেরন করেছে, নবি হিসেবে যীশু সেই একি বিধান মানুষের মাঝে প্রচার করেছে! প্রমান দেখেন :-
* যদি কেউ ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করতে চায় তাহলে সে জানবে আমি যা শিক্ষা দিই তা ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে, আর আমি কোন কথা নিজে থেকে বলিনা। (যোহন ০৭/১৭) (যোহন ১৪/১০)
* কারণ একমাত্র ঈশ্বর আছেন আর ঈশ্বরের ও মানুষের মধ্যে কেবল একমাত্র পথ আছে, যার মাধ্যমে মানুষ ঈশ্বরের কাছে পৌঁছতে পারে। সেই পথ যীশু খ্রীষ্ট, যিনি নিজেও একজন মানুষ ছিলেন। (০১ তিমথি ০২/০৫)
আমরা জানি প্রত্যেক নবি রাসূলের দেখানো পথ দ্বারা মানুষ ইশ্বরের ইবাদত করে থাকে। কারন প্রত্যেক নবি রাসূলের উপর ইশ্বরের বিধান আসে আর সেই বিধান মেনেই ইশ্বরের কাছে যেতে হয়।
> যেমন মুসলিমরা হযরত মোহাম্মদ সাঃ এর দেখানো পথ ছাড়া অন্য কোন পথ দ্বারা আল্লাহর কাছে যেতে পারবে না ঠিক একিভাবে যীশুর সময় যীশুর দেখানো পথ ছাড়া ইশ্বরের কাছে যেতে পারতো না। এটাই বোঝানো হয়েছে এই অনুচ্ছেদে।
- মহান আল্লাহ বলেন :- যে রাসূলের আনুগত্য করলে সে তো আল্লাহরই আনুগত্য করল। (সূরা নিসা আয়াত : ৮০)
> এই আয়াত থেকে বোঝা গেল যে, রাসূল কে মানাই হল আল্লাহকে মানা কারন কোন রাসূলই আল্লাহর আদেশ ব্যাতিত কোন কথা বা কাজ করেন নাই।
> প্রমান দেখেন :- (মোহাম্মদ সাঃ) আল্লাহর আদেশ ছাড়া কোন কিছুই করেন নাই।
- আর সে মনগড়া কথাও বলে না। তাতো কেবল ওহী, যা তার প্রতি ওহীরূপে প্রেরণ করা হয়। (সূরা নাজম আয়াত : ০৩-০৪)
- বল: 'আমি তো তোমাদের মত একজন মানুষই, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয়। (সূরা কাহফ আয়াত : ১১০)
- আর কোন রাসূলের জন্য এটা সম্ভব নয় যে, আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোন নিদর্শন নিয়ে আসবে। (সূরা রাদ আয়াত : ৩৮)
> একইভাবে যীশুর কাছেও ইশ্বরের বিধান এসেছিল অতএব যীশুকে মানাই ছিল ইশ্বরকে মানা যেহেতু যীশু ইশ্বরের আদেশ ছাড়া কোন কাজ করেন নাই।
প্রমান দেখেন :- যীশু ইশ্বরের আদেশ ছাড়া কোন কিছুই করেন নাই।
* আমি নিজের থেকে কিছুই করতে পারি না। আমি (ঈশ্বরের কাছ থেকে) যেমন শুনি তেমনি বিচার করি আর আমি যা বিচার করি তা ন্যায়, কারণ আমি আমার ইচ্ছামতো কাজ করি না, বরং যিনি (ঈশ্বর) আমাকে পাঠিয়েছেন তাঁরই ইচ্ছাপূরণ করার চেষ্টা করি। (যোহন ০৫/৩০)
* হে ইহুদী ভাইয়েরা, একথা শুনুন, নাসরতীয় যীশুর দ্বারা ঈশ্বর বহু অলৌকিক ও আশ্চর্য কাজ করে আপনাদের কাছে প্রমাণ দিয়েছেন যে তিনি সেই ব্যক্তি যাকে ঈশ্বর পাঠিয়েছেন, আর আপনারা এই ঘটনাগুলি জানেন। (শিশ্যচরিত্র ০২/২২)
* আমি আমার পিতার সাহায্যে সব অলৌকিক কাজ করি। (যোহন ১০/২৫)
* এর উত্তরে যীশু তাদের বললেন, আমি যা শিক্ষা দিই তা আমার নিজস্ব নয়। যিনি আমায় পাঠিয়েছেন এসব সেই ঈশ্বরের কাছ থেকে পাওয়া। (যোহন ০৭/১৬)
* যদি কেউ ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করতে চায় তাহলে সে জানবে আমি যা শিক্ষা দিই তা ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে, আর আমি কোন কথা নিজে থেকে বলিনা। (যোহন ০৭/১৭)
* আমি যদি আমার পিতার কাজ না করি, তাহলে আমায় বিশ্বাস করো না। (যোহন ১০/৩৭)
তারপরও যদি তর্কের খাতিরে মেনে নেই (যোহন ১০/৩০) এখানে যীশু (পিতা ও নিজেকে এক বলে) নিজেকে ইশ্বর বলেছে। তাহলে (যোহন ১৭/২১-২৩) (যোহন ১৪/২০) অনুচ্ছেদেও যীশু একি কথা বলেছে, (পিতা, যীশু ও তার শিশ্যরা তারা সবাই এক) এখানেও একি শব্দ ব্যবহার হয়েছে (যোহন ১০/৩০) এর মত।
* যীশু তার বারো জন শিশ্যকে বলছে, আমি তোমাদের মধ্য, ও আমার পিতা আমার মধ্যে, আর আমরা সবাই এক। (যোহন ১৭/২৩) (যোহন ১৪/২০)
এখানে যেহেতু যীশু বলেছে, পিতা, পুত্র, ও তার (১২) জন অনুসারীরা সবাই এক! তাহলে এখানে (১৪) জন ইশ্বরের বিশ্বাস করতে হবে। কারন পিতা, যীশু ও তার (১২) জন শিশ্য সহ মোট (১৪) জনকে ইশ্বর মানতে হবে। এই অনুচ্ছেদ থেকে প্রমান হয় যে, যীশু (যোহন ১০/৩০) এ উদ্দেশ্যের কথা বলেছে যে (পিতার ও যীশুর) উদ্দেশ্য এক! যদি (যোহন ১০/৩০) এ উদ্দেশ্যের কথা না ধরেন তাহলে (যোহন ১৭/২৩) অনুযায়ী (১৪) জন ইশ্বরে বিশ্বাস করতে হবে।
যীশু ও তার (পিতা ইশ্বর) যে এক নয় আরো বিস্তারিত প্রমান দেখেন :- প্রথম অধ্যায়ের (০৩) নং পরিচ্ছেদের { (০৩) নং ও (০৫) নং দলিলের জবাবে }।
তারপরও যদি (যোহন ১০/৩০) অনুযায়ী যীশুকে ইশ্বর মেনে নেই! তাহলে (পিতা, যীশু ও পবিত্র আত্মা) এই তিন জনের মধ্যে যদি কোন একজন একটা কথা জানে! তাহলে অটোমেটিক ভাবে তিন জনই জেনে যাবে! যেহেতু আপনি (যোহন ১০/৩০) অনুযায়ী (যীশু ও পিতাকে) এক ইশ্বর বলে ধরেছেন ও মেনে নিয়েছেন। কিন্তু দেখেন কেউ একটা বিষয় জানলে অন্যজন সেটা জানে না। প্রমান দেখেন :-
* সেই দিনের বা সেই সময়ের কথা কেউ জানে না; স্বর্গদূতরাও নয়, মানবপুত্রও নয়, কেবলমাত্র পিতাই জানেন। (মার্ক ১৩/৩২)
এখানে কেয়ামতের কথা বলা হয়েছে, কবে কেয়ামত হবে তা কেউ জানে শুধু পিতা জানে। যীশু নিজেও জানে না তার মানে যীশু ও তার পিতা এক না! যদি একই হত তাহলে পিতা যদি কিছু জানত তাহলে যীশুও সেটা জানত।
আলহামদুলিল্লাহ যীশু ইশ্বর নয় বাইবেল থেকেই প্রমানিত।
(০২) নং দলিলের জবাব :-
আসেন দেখি যীশু কি সত্যিই আব্রাহামের জন্মের আগে থেকে আছে?
এখানেও একি ভাবে কোন প্রসংঘ্য ছাড়া চালাকি করে দলিল দিছে খ্রীষ্টানরা। এখানে যীশু বলছে আমি আব্রাহামের আগে থেকেই আছি। এর পরের অনুচ্ছেদেই এই কথার জবাব দেওয়া হয়েছে ঠিক (যোহন ১০/৩০-৩৪) এর অনুচ্ছেদের মত। ইহুদিরা তখন তাকে পাথর মারতে চেয়েছিল ধর্মের অবমাননা করার জন্য। যদিও এখানে নিজেকে যীশু ইশ্বর দাবি করে নাই।
* যীশু তাদের বললেন, আমি তোমাদের সত্যি বলছি৷ আব্রাহামের জন্মের আগে থেকেই আমি আছি।
* তখন তারা তাঁকে পাথর ছুঁড়ে মারবার জন্য পাথর তুলে নিল, কিন্তু যীশু নিজেকে লুকিয়ে ফেললেন ও মন্দির চত্বর ছেড়ে চলে গেলেন৷ (যোহন ০৮/৫৮-৫৯)
এই ভার্সে যিশু বলছেনঃ I AM.... শব্দটা ব্যবহার করেছে!
(যাত্রাপুস্তক ০৩/১৪) তে ঈশ্বর নিজের নাম বলতে গিয়ে বলেছেনঃ I AM শব্দটা ব্যবহার করেছে।
* AND GOD SAID UNTO MOSES, I AM THAT I AM: AND HE SAID, THUS SHALT THOU SAY UNTO THE CHILDREN OF ISRAIL, I AM HATH SENT ME UNTO YOU. (EXODUS 03/14)
তখন ঈশ্বর মোশিকে বললেন, তাদের বল আমি আমিই। যখনই তুমি ইস্রায়েলীয়দের কাছে যাবে, তখন তাদের বলবে আমিই আমাকে পাঠিয়েছেন। (যাত্রাপুস্তক ০৩/১৪)
এখানে যিশু নিজের ব্যাপারে বলতে ঈশ্বরের নাম ব্যবহার করেছেন। এ ছাড়া তিনি যেহেতু বলতে চাচ্ছেন যে আব্রাহামের জন্মের আগে থেকেই তিনি আছেন, এর মানে পৃথিবীতে আসার আগেও তাঁর এক প্রকারের জীবন ছিল। কাজেই তিনি ঈশ্বর। এ হচ্ছে খ্রিষ্টানদের বস্তাপচা যুক্তি।
এভাবে I AM. বা আমি বলার বহু উদাহরণ পাওয়া যায় বাইবেলে।
(আদিপুস্তক ২২/১১) তে [আব্রাহাম – ইব্রাহিম (আঃ)] বলছেনঃ I AM.
(যাত্রাপুস্তক ০৩/০৪) এ মোশি [মুসা(আঃ)] বলছেনঃ I AM.
(যোহন ০৯/০৯) এ একজন ভিক্ষুক পর্যন্ত বলছেনঃ I AM. এতগুলো মানুষ এই এক কথা বলেছেন, তাহলে শুধু যিশুকে ঈশ্বর বলে দাবি করার যৌক্তিকতা কী? এ কথা বলে তারা যদি ঈশ্বর না হন, তাহলে যিশুও ঈশ্বর নন।
যিশু নিশ্চয়ই ইংরেজি বা বাংলায় কথাটা বলেননি। বাইবেলের নতুন নিয়মের এই বইগুলো অনুবাদ করা হয়েছে গ্রীক ভাষায় লিখিত কপি থেকে। [ ঈসা(আ) কিন্তু গ্রীক ছিলেন না। কিন্তু খ্রিষ্টানদের কাছে ঈসা (আ) এর নিজ ভাষার কোন ইঞ্জিলের মূল কপি নেই! ]। মূল গ্রীক বইতে কথাটা কিভাবে বলা আছে তা দেখলেই বুঝতে পারবেন কতটা জালিয়াতি করা হয়েছে বাংলা অনুবাদে।
যাত্রাপুস্তক (০৩/১৪) তে বলা হয়েছে তখন তাদের বলবে আমিই আমাকে পাঠিয়েছেন এখানে ঈশ্বরের নাম হিসাবে বাংলা অনুবাদে আমিই এবং ইংরেজিতে। AM. আছে। কিন্তু ঈশ্বরের নামের স্থলে মূল গ্রীকে আছেঃ (ὁ ὤv – হো অন)। গ্রীক সেপ্টয়াজিন্ট ওল্ড টেস্টামেন্টে এভাবেই গ্রীক শব্দটি আছে। (যোহন ০৮/৫৮) তে মূল গ্রীক বইতে। AM. এর জায়গায় পাওয়া যায়ঃ (ἐγὼ εἰμί – এগো এইমি)। গ্রীক “এগো এইমি” থেকে ইংরেজিতে। AM. ও বাংলায় আমি ছিলাম অনুবাদ করা হয়েছে। সেখানে ঈশ্বরের নাম হিসাবে যাত্রাপুস্তকে ব্যবহৃত (ὁ ὤv – হো অন) কথাটি নেই।
মূল গ্রীকে (যাত্রাপুস্তক ০৩/১৪) আর (যোহন ০৮/৫৮) তে সম্পূর্ণ ভিন্ন শব্দ ব্যবহার হয়েছে যা অনুবাদের কারণে এক বলে মনে হচ্ছে। অতএব (যোহন ০৮/৫৮) তে যিশু মোটেও ঈশ্বরের নাম আর নিজের নাম এক করেননি। যিশু যদি নিজের ক্ষেত্রে ঈশ্বরের নাম ব্যবহার করতেনই, তাহলে তো (যোহন ০৮/৫৮) এর লেখক যাত্রাপুস্তক (০৩/১৪) এ ঈশ্বরের নামের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত শব্দই লিখতেন। কিন্তু মোটেও সেরকম কোন শব্দের ব্যবহার হয়নি সেখানে।
এরপরেও খ্রিষ্টানরা আরেকটি যুক্তি দেখাতে পারেন, আর তা হচ্ছেঃ যিশু (যোহন ০৮/৫৮) তে বলছেন যে তিনি আব্রাহামের জন্মের আগে থেকে আছেন। এর মানে পৃথিবীতে আসার আগেও তাঁর অস্তিত্ব ছিল। এবং বাস্তবিকই এই যুক্তি দেখিয়ে খ্রিষ্টানরা দাবি করেন যে এমন বৈশিষ্ট্য ঈশ্বর ছাড়া আর কারো হতে পারে না। কিন্তু খ্রিষ্টানদের এই দাবি তাদের নিজ গ্রন্থ দ্বারাই খণ্ডণ হয়। মুসলিমদের বিশ্বাস হচ্ছেঃ পৃথিবীতে আসার আগে মানুষ ছিল রুহের জগতে, কুরআনে (সুরা আরাফ এর ১৭২ নং আয়াতে) পৃথিবীতে আসার আগেই সকল মানুষের সাথে আল্লাহর কথোপকথনের বিবরণ আছে। কাছেই পৃথিবীতে আসার আগে মানুষের অস্তিত্বের ব্যাপারে মুসলিমদের কোন কনফিউশন নেই, এটা খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। একই রকম বিবরণ বাইবেলেও পাওয়া যায়। বাইবেলে (যirমিয় ০১/০৫) এ বলা আছে যেঃ মাতৃগর্ভে সৃষ্টি করার পূর্বেই ঈশ্বর যিরমিয়কে নির্বাচিত করেছিলেন! জাতিসমূহের কাছে ভাববাদী (নবী) হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন। সুতরাং বাইবেল বলছে যে পৃথিবীতে আসবার আগে ভাববাদী যিরমিয় এরও এক প্রকারের “অস্তিত্ব” ছিল। অথচ যিরমিয়কে কিন্তু খ্রিষ্টানগণ ঈশ্বর বলে দাবি করেন না! জন্মের পূর্বে অস্তিত্ব থাকার পরেও যদি যিরমিয় ঈশ্বর না হন , তাহলে যিশুকে কেন ঈশ্বর বলে দাবি করা হবে?? এটা কি ডাবল স্টান্ডার্ড নয়? অতএব খ্রিষ্টানদের নিজ গ্রন্থ বাইবেলের দলিল-প্রমাণ ও যুক্তির ভিত্তিতে এটাই প্রমাণিত হল যেঃ যিশু [ঈসা(আ)] ঈশ্বর নন। তিনি একজন মানুষ ও নবী।
আলহামদুলিল্লাহ যীশু ইশ্বর নয় বাইবেল থেকেই প্রমানিত।
(০৩) নং দলিলের জবাব :-
আসেন দেখি যীশু কি সত্যিই আল্ল্ফা ও ওমেগা, প্রথম ও শেষ, আদি ও অন্ত ছিলেন?
যীশুকে ইশ্বর প্রমান করার জন্য প্রথমেই খ্রীষ্টানদের অযৌক্তিক দাবিটা দেখে নেই! আমি আল্ফাও ওমেগা, আমি প্রথম ও শেষ, আদি ও অন্ত৷ (প্রত্যাদেশ ২২/১৩)
এটাই হল খ্রীষ্টানদের অযৌক্তিক দাবিটা যীশুকে ইশ্বর প্রমান করার জন্য। আসেন এবার খ্রীষ্টানদের এই অযৌক্তিক দাবিটা খন্ডন করি।
যীশু, আদি ও অন্ত, প্রথম ও শেষ, এই কথাই যদি যীশু ইশ্বর হয় তাহলে রাজা মল্কীষেদক ও ইশ্বর! কারন রাজা মল্কীষেদকেরও আদি ও অন্ত নাই! মানে রাজা মল্কীষেদকেরও প্রথম ও শেষ নাই প্রমান দেখেন :-
* মল্কীষেদকের মা, বাবা, বা তার পূর্বপুরুষের কোন বংশতালিক পাওয়া যায় না, তার শুরু বা শেষের কোন নথি নেই। ঈশ্বরের পুত্রের মতো তিনি হলেন অনন্তকালীন যাজক। (হিব্রুদের কাছে পত্র ০৭/০৩)
এমন কথা আরো অনেক জায়গায় পাওয়া যায় (প্রত্যাদেশ ২১/০৬) (ইসাইয় ৪১/০৪) (ইসাইয়া ৪৪/০৬) (ইসাইয়া ৪৮/১২) (প্রত্যাদেশ ০১/০৮)
এখানে যদি যীশু (আদি ও অন্তের) জন্য ইশ্বর হয়। তাহলে রাজা মল্কীষেদকেও ইশ্বর মানা লাগবে। খ্রীষ্টানদের সকল মনগড়া ব্যাখ্যা বাইবেল থেকেই খন্ডন করেছি আলহামদুলিল্লাহ।
বাইবেল থেকে কিছু অনুচ্ছেদ দেখেন যেগুলোর উত্তর কখনোই কোন খ্রীষ্টান দিতে পারবে না। তারা এসব অনুচ্ছেদের বস্তাপচা অপব্যাখ্যা দিবে তারা বলবে যীশু এক জায়গায় ইশ্বর হিসাবে কথা বলেছে আরেক জায়গায় মানুষ হিসাবে কথা বলেছে। অথচ এমন কোন কথা বাইবেল বলে নাই এটা তাদের বস্তাপচা অপব্যাখ্যা।
যেমন একটা উদাহরণ দেই:- (যোহন ১০/৩০) এই অনুচ্ছেদ দেখিয়ে বলবে এখানে যীশু ইশ্বর হিসাবে কথা বলছে ও নিজেকে ইশ্বর বলেছে। আবার (মথি ২৭/৪৬) (মার্ক ১৫/৩৪) এই অনুচ্ছেদগুলোর উত্তরে বলবে এখানে মানুষ হিসাবে যীশু ইশ্বরের কাছে সাহায্য প্রর্থনা করেছে। মোটকথা বাইবেলের অনুচ্ছেদগুলো নিয়ে যেখানে যেমন ইচ্ছা তেমনভাবে অপব্যাখ্যা করে যীশুকে ইশ্বর প্রমান করার চেষ্টা করে এই খ্রীষ্টানরা। এভাবেই তারা বাইবেলের কথাগুলোর অপব্যাখ্যা ও জালিয়াতি করে আসছে যুগের পর যুগ। অথচ বাইবেল এমন কোন কথা বলছে না যে, এক জায়গায় যীশু মানুষ হিসাবে কথা বলেছে! আরেক জায়গায় ইশ্বর হিসাবে কথা বলেছে যেমনটা খ্রীষ্টানরা ব্যাখ্যা দেয়। এটা খ্রীষ্টানদের মনগড়া অপব্যাখ্যা। তারা যখনই এমন মনগড়া ব্যাখ্যা দিবে তখনই তার ব্যাখ্যার দলিল বাইবেল থেকে চান দেখবেন (লা-জবাব) হয়ে গেছে।
তারপরও যদি তর্কের খাতিরে মেনে নেই যে যীশু ইশ্বর। তাহলে বাইবেলের এসব অনুচ্ছেদগুলোই বলে দিবে যীশু ইশ্বর নয় :-
* আমার প্রিয় সন্তানরা, আমি তোমাদের একথা লিখছি যাতে তোমরা পাপ না কর। কিন্তু কেউ যদি পাপ করে ফেলে, তবে পিতার কাছে আমাদের পক্ষে কথা বলার একজন আছেন, তিনি সেই ধার্মিক ব্যক্তি, যীশু খ্রীষ্ট। (যোহনের ১ম পত্র ০২/০১)
* হে ইহুদী ভাইয়েরা, একথা শুনুন, নাসরতীয় যীশুর দ্বারা ঈশ্বর বহু অলৌকিক ও আশ্চর্য কাজ করে আপনাদের কাছে প্রমাণ দিয়েছেন যে তিনি সেই ব্যক্তি যাকে ঈশ্বর পাঠিয়েছেন, আর আপনারা এই ঘটনাগুলি জানেন। (শিশ্যচরিত্র ০২/২২)
* যীশু মৃত্যু যন্ত্রণা ভোগ করলেন, কিন্তু ঈশ্বর সেই বিভীষিকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করলেন। ঈশ্বর যীশুকে মৃতদের মধ্য থেকে তুলে আনলেন। মৃত্যু যীশুকে তার কবলে রাখতে সক্ষম হল না। (শিষ্যচরিত্র ০২/২৪)
* আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের নামে সব সময় সব কিছুর জন্য আমাদের ঈশ্বর ও পিতাকে সর্বদা ধন্যবাদ দাও। (এফেসীয় ০৫/২০)
* আমি পিতার কাছ থেকে এই জগতে এসেছি, এখন আমি এ জগত ছেড়ে আবার পিতার কাছে ফিরে যাচ্ছি। (যোহন ১৬/২৮)
* যে কেউ মানুষের সামনে আমাকে স্বীকার করে, আমিও আমার স্বর্গের পিতা ঈশ্বরের সামনে তাকে স্বীকার করব। (মথি ১০/৩২)
* কিন্তু যে কেউ মানুষের সামনে আমাকে অস্বীকার করবে, আমিও আমার স্বর্গের পিতা ঈশ্বরের সামনে তাকে অস্বীকার করব। (মথি ১০/৩৩)
* আমি ঈশ্বর, আমি মানুষ নই। আমিই সেই পবিত্রজন, আমি তোমাদের সঙ্গেই আছি। আমি ক্রোধ প্রকাশ করব না। (হোসেয়া ১১/০৯)
* ঈশ্বর মানুষ নন, তিনি মিথ্যা বলবেন না। ঈশ্বর মানুষ নন, তাঁর সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হবে না। (গননা পুস্তক ২৩/১৯)
* যীশু খ্রীষ্ট, যিনি নিজেও একজন মানুষ ছিলেন৷ (০১ তিমথি ০২/০৫)
* আমিই প্রভু, আমার পরিবর্তন নেই। (মালাখি ০৩/০৬)
* সমস্ত ভাল ও নিখুঁত দান স্বর্গ থেকে আসে, কারণ পিতা ঈশ্বর যিনি স্বর্গীয় আলো সৃষ্টি করেছিলেন তিনি সর্বদা একই আছেন, তাঁর কোনও পরিবর্তন হয় না। (যাকোবের পত্র ০১/১৭)
* ঈশ্বরের সাহায্যেই আমি মন্দ দূর করি। (লুক ১১/২০) (মথি ১২/২৮)
* যদি তোমরা আমাকে প্রেম করিতে, তবে আনন্দ করিতে যে, আমি পিতার নিকটে যাইতেছি কারণ পিতা আমার অপেক্ষা মহান। (যোহন ১৪/২৮)
* যিনি আমার পিতা ও তোমাদের পিতা, এবং আমার ঈশ্বর ও তোমাদের ঈশ্বর, তাঁহার নিকটে আমি ঊর্ধ্বে যাই। (যোহন ২০/১৭)
* আমি আপনা হইতে বলি নাই, কিন্তু কি কহিব ও কি বলিব, তাহা আমার পিতা, যিনি আমাকে পাঠাইয়াছেন, তিনিই আমাকে আজ্ঞা করিয়াছেন। (যোহন ১২/৪৯)
* তারা খাচ্ছিলেন, এমন সময় যীশু একটি রুটি নিয়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন, আর সেই রুটি টুকরো টুকরো করে শিষ্যদের দিয়ে বললেন, এই নাও, খাও, এর দেহ। (মথি ২৬/২৬-২৯)
* যাহাদের জন্য আমার পিতা কর্তৃক স্থান প্রস্তুত করা হইয়াছে, তাহাদের ভিন্ন আর কাহাকেও আমার দক্ষিণ পার্শ্বে ও বাম পার্শ্বে বসিতে দিতে আমার অধিকার নাই। (মথি ২০/২৩)
* এমন কিছু বিষয় আছে, যা তিনি বা দূতেরা জানতেন না, কেবল তাঁর পিতাই জানতেন। (মার্ক ১৩/৩২)
* তাঁদের সঙ্গে কথা বলার পর প্রভু যীশুকে স্বর্গে তুলে নেওয়া হল এবং তিনি ঈশ্বরের ডানদিকে বসলেন। (মার্ক ১৬/১৯)
* সব কিছু খ্রীষ্টের অধীনস্থ হলে পুত্র ঈশ্বরের অধীনস্থ হবেন। যেন ঈশ্বর, যিনি তাঁকে সব কিছুর ওপর কর্তৃত্ব করতে দিয়েছেন, তিনিই সর্বেসর্বা হন। (০১ করিন্থীয় ১৫:২৮)
* যিশু সর্বশক্তিমান ঈশ্বর নন। তাই, তিনি তাঁর পিতাকে আমার ঈশ্বর বলেছিলেন। (প্রত্যাদেশ ০৩/১২) (০২ করিন্থীয় ০১/০৩)
* কোন ব্যক্তিই আমাদের প্রভু ঈশ্বরের মত নয়। ঈশ্বর স্বর্গের উঁচু আসনে বসেন। (সামসঙ্গিত ১১৩/০৫)
* ঈশ্বর আমাদের থেকে এত উঁচুতে আছেন যে আকাশ ও পৃথিবীকে দেখতে হলে তাঁকে নীচের দিকে তাকাতে হয়। (সামসঙ্গিত ১১৩/০৬)
* একমাত্র ঈশ্বরের পুত্রই ঈশ্বরের মহিমার ও তাঁর প্রকৃতির মূর্ত প্রকাশ৷ ঈশ্বরের পুত্র তাঁর পরাক্রান্ত বাক্যের দ্বারা সবকিছু ধরে রেখেছেন। সেই পুত্র মানুষকে সমস্ত পাপ থেকে শুচিশুদ্ধ করেছেন। তারপর স্বর্গে ঈশ্বরের মহিমার ডানপাশের আসনে বসেছেন। (হিব্রুদের কাছে পত্র ০১/০৩)
* তখন যীশু তাকে বললেন, তুমি কেন আমাকে সত্য বলছ? ঈশ্বর ছাড়া আর কেউই সত্য নয়। (মার্ক ১০/১৮)
* যীশু বলেন, হে ঈশ্বর, আমি আমার ভাইয়ের কাছে তোমার নাম প্রচার করব, মণ্ডলীর মধ্যে তোমার প্রশংসা গান করব। (হিব্রুদের কাছে পত্র ০২/১২) (গীতসংহিতা ২২/২২)
* তিনি আবার বলেছেন, আমি ঈশ্বরের ওপর নির্ভর করব। (হিব্রুদের কাছে পত্র ০২/১৩)
> যীশু যে ইশ্বর নন তা হয়তো বুঝতে আর কারো বাকি নাই। কারন এসব অনুচ্ছেদগুলো যীশুরকে ইশ্বর হওয়া থেকে সম্পূর্ণ ব্যার্থ করে দিয়েছে।
যীশু যে ইশ্বর নয় তা বাইবেল থেকেই প্রমানিত আলহামদুলিল্লাহ।
(০৪) নং দলিলের জবাব :-
প্রথমে আসেন দেখি খ্রীষ্টানদের অযৌক্তিক দাবিটা। যীশু কি আসলেই নিজের যোগ্যতায় পাপ ক্ষমা করতেন নাকি ইশ্বর তাকে দিয়ে পাপ ক্ষমা করাতেন?
* যিশু তাদের বিশ্বাস দেখে যীশু সেই পঙ্গু লোকটিকে বললেন, "বাছা" তোমার সব পাপের ক্ষমা হল। (মার্ক ০২/০৫)
দেখেন এখানে যে, যীশু পাপ ক্ষমা করেছে, এটা নিজের যোগ্যতায় করে নাই। পিতা ইশ্বর তিনি যীশুকে দিয়ে পাপ ক্ষমা করিয়েছেন। কারন যীশু নিজে থেকে কিছুই করতে পারে না! প্রমান দেখেন :-
* যিশু বলেন, আমি নিজের থেকে কিছুই করতে পারি না। আমি (ঈশ্বরের কাছ থেকে) যেমন শুনি তেমনি বিচার করি, আর আমি যা বিচার করি তা ন্যায়, কারণ আমি আমার ইচ্ছামতো কাজ করি না, বরং যিনি (ঈশ্বর) আমাকে পাঠিয়েছেন তাঁরই ইচ্ছাপূরণ করার চেষ্টা করি। (যোহন ৫/৩০)
* আর তোমরা যখন প্রার্থনা করার জন্য দাঁড়াও, যদি কারও বিরুদ্ধে তোমাদের কোনও ক্ষোভ থাকে, তাকে ক্ষমা করো।
* যেন তোমাদের স্বর্গস্থ পিতাও তোমাদের সকল পাপ ক্ষমা করেন। (মার্ক ১১/২৫-২৬)
ইশ্বর যীশুকে দ্বারা পাপ ক্ষমা করিয়েছিলেন আবার বলছেন কারো বিরুদ্ধে কোন ক্ষোপ থাকলে তা ক্ষমা কর যদি ক্ষমা কর তাহলে স্বর্গের পিতা তোমাদের পাপ ক্ষমা করবে। এখানে যীশু বলেন নাই যে আমি পাপ ক্ষমা করবো। বরং যীশু যেসব পাপ ক্ষমা করতেন তা স্বর্গের পিতাই তাকে দিয়ে করাতেন।
ইশ্বর যীশুকে দিয়ে পাপ ক্ষমা করালেই যদি খ্রীষ্টানদের কাছে যীশু ইশ্বর হয়ে যায়। তাহলে খ্রীষ্টানদের এই যুক্তি অনুযায়ী (ষাঁড় - গরু) ও ইশ্বর! কারন বাইবেলের ইশ্বর (ষাঁড় - গরু) উৎসর্গের মাধ্যমে মানুষের পাপ ক্ষমা করে থাকেন প্রমান দেখেন :-
* যাজক পাপ নৈবেদ্য যেমনভাবে ষাঁড়টিকে উৎসর্গ করেছিল সেইভাবেই এই সমস্ত অংশগুলো উৎসর্গ করবে। এইভাবে যাজক লোকদের শুচি করে তুলবে এবং ঈশ্বর ইস্রায়েলের লোকদের ক্ষমা করবেন। (লেবীয় পুস্তক ০৪/২০)
খ্রীষ্টানদের যুক্তি অনুযায়ী এখানে (ষাঁড় - গরুও) ঈশ্বর। তাহলে খ্রীষ্টানদের উচিত এই (ষাঁড় - গরুকেও) ইশ্বর মানা! কিন্তু তারা তা করে না।
তারপরও যদি তর্কের খাতিরে মেনে নেই যে যীশু পাপ ক্ষমা করে তাই তিনি (ইশ্বর)। তাহলে খ্রীষ্টানদের এই যুক্তি অনুযায়ী যীশুর সকল শিষ্যরাও (ইশ্বর) কারন তার শিষ্যরাও পাপ ক্ষমা করতে পারতেন প্রমান দেখেন :-
* যদি তোমরা কোন লোকের পাপ ক্ষমা কর তবে তাদের পাপ ক্ষমা পাবে। আর যদি কারো পাপ ক্ষমা না কর তার পাপের ক্ষমা হবে না। (যোহন ২০/২৩)
এখানে যীশুর শিষ্যরাও মানুষের পাপ ক্ষমা করতে পারতেন! তাহলে এখানে যীশুর (শিষ্যরাও) ঈশ্বর। কিন্তু খ্রীষ্টানরা যীশুর শিষ্যদের (ইশ্বর) মানে না।
আমাদের প্রশ্ন :- যীশু যদি সত্যিই নিজে থেকে পাপ ক্ষমা করতে পারতেন, তাহলে তার ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার কি দরকার ছিল? সে তো ইচ্ছা করলেই সবাইকে ক্ষমা করে দিতে পারতেন। বাইবেলের ইশ্বরের তো এত নাটক করার প্রয়োজন ছিল না। আর মানুষের পাপ ক্ষমা করতে ইশ্বরকে কেন ক্রুশবিদ্ধ হয়ে যারা যাওয়া লাগবে? তিনি তো এমনিতেই পাপ ক্ষমা করে দিতে পারেন। নাকি তিনি পাপও ক্ষমা করতে পারেন না? খ্রীষ্টানদের এমন অযৌক্তিক কথা, আর অযৌক্তিক দাবি কি কোন শিক্ষিত জ্ঞানী মানুষের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব আপনারাই বিবেচনা করেন?
পাপ করেছে (আদম ও হাওয়া) আর সেই পাপের জন্য ইশ্বরকে কেন ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া লাগবে? খ্রীষ্টানদের এসব হাস্যকর দাবি রূপকথার গল্প ছাড়া আর কিছুই না। এসব কথা রূপকথার গল্পতেই মানায় বাস্তবে না।
বাইবেলের ইশ্বর এতটাই নিকৃষ্ট যে একজনের পাপ আরেকজনের কাধে দিয়ে দেয়। পাপ করেছে (আদম ও হাওয়া) আর সেই পাপের দায়ভার দিয়ে দিয়েছে সকল মানুষের উপর। তার মানে দাড়াল বাইবেলের ইশ্বর ন্যায়বিচারক না। তিনি একজন ষড়যন্ত্রকারী ও অন্যায়কারী। বাইবেলের ইশ্বর যে একজন ষড়যন্ত্রকারী, অন্যায়কারী ও মানুষ হত্যাকারি এবং সে যে মানুষকে দিয়ে পাপ কাজ করাতে বাধ্য করে তার প্রমান দেখেন :- (১৮) নং পরিচ্ছেদে।
আলহামদুলিল্লাহ বাইবেল অনুযায়ী ও খ্রীষ্টানদের যুক্তি অনুযায়ী যীশু নিজের ইচ্ছায় পাপ ক্ষমা করতে পারতেন না। এবং খ্রীষ্টানদের যুক্তি অনুযায়ী যীশু ইশ্বর না।
(০৫) নং দলিলের জবাব :-
আসেন দেখি (যে কেউ আমায় দেখেছে সে পিতাকে দেখেছে) এই কথাটা দ্বারা যীশু কি বুঝিয়েছে। প্রথমেই খ্রীষ্টানদের দাবিটা দেখে নিব!
* যে কেউ আমায় দেখেছে সে পিতাকে দেখেছে। (যোহন ১৪/০৯) (যোহন ১২/৪৫)
এই অনুচ্ছেদটা হল খ্রীষ্টানদের "যীশুকে ইশ্বর" প্রমান করার দলিল। খ্রীষ্টানরা বলে থাকে যে, এখানে যীশু আর পিতা যে এক! সেটা বলা হয়েছে মানে যীশু নিজেকে ইশ্বর বলেছে।
এবার আসেন খ্রীষ্টানদের এই, অযৌক্তিক দাবিটা খন্ডন করবো বাইবেল থেকেই ইনশাআল্লাহ।
যীশু আর পিতা যে এক নয়। এবং যীশুকে দেখা আর পিতাকে দেখা যে এক নয়! তার প্রমান দেখেন :-
* ঈশ্বরকে কেউ কখনও দেখেনি কিন্তু একমাত্র পুত্র, যিনি পিতার কাছে থাকেন, তিনিই তাঁকে প্রকাশ করেছেন। (যোহন ০১/১৮)
* ঈশ্বরকে কেউ কখনও দেখেনি। যদি আমরা পরস্পরকে ভালবাসি, তবে ঈশ্বর আমাদের মধ্যে অবস্থান করেন; আর তাঁর ভালবাসা আমাদের মধ্যে পূর্ণতা লাভ করেছে। (যোহনের ১ম পত্র ০৪/১২)
দেখেন এখানে যীশু বলছে (ইশ্বর পিতাকে) কেউ কখনো দেখে নাই। তার মানে দাঁড়াল যীশুকে দেখা আর পিতাকে দেখা এক না।
* পিতা, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন এমনকি আমার পক্ষে সাক্ষ্য দিয়ে গেছেন, তোমরা কেউই কখনও তাঁর কন্ঠ শোেননি, তাঁর আকারও দেখনি। (যোহন ০৫/৩৭)
দেখেন এখানে যীশু বলছে, (পিতা ইশ্বর) তাকে কেও দেখেও নাই, এমনকি তার কন্ঠও কেউ শোনে নাই। অথচ যীশুকে মানুষ দেখকে পেত ও তার কন্ঠও শুনতে পেত। তার মানে দাড়াল যে যীশুকে দেখা আর পিতাকে দেখা এক নয়।
* যিনি অমরতার একমাত্র অধিকারী এবং অগম্য জ্যোতির মধ্যে বাস করেন, যাকে কেউ কোন দিন দেখতে পায় নি, পাবেও না। সম্মান ও অনন্ত পরাক্রম ও কর্তৃত্ত্ব যুগে যুগে তাঁরই হোক৷ আমেন৷ (০১ তিমথি ০৬/১৬)
* কিন্তু তোমরা আমার মুখ দেখতে পাবে না। আমাকে দেখার পর কেউ বাঁচতে পারবে না। (যাত্রাপুস্তক ৩৩/২০)
> দেখেন এখানে এই দুটি অনুচ্ছেদে যীশু বলছে, ইশ্বরকে কেউ কখনো দেখতে পায় নাই। এবং ইশ্বরকে দেখার পরও কেউ বাচতে পারবে না। অথচ যীশুকে মানুষরা দেখতো ও তার কন্ঠও শুনতে পেত। যীশু আর (পিতা ইশ্বর) যদি এক হত তাহলে, যীশুকে দেখার পর কোন মানুষ বেচে থাকতে পারতো না। কিন্তু যীশুকে দেখার পরও মানুষরা বেচে থাকতো। এমন যীশুকে ধরে ইহুদিরা ক্রুশবিদ্ধ করে মেরেও ফেলেছিল।
* আমার মত অন্য কোন ইশ্বর নেই। (ইসাইয়া ৪৪/০৭)
* আমিই প্রভু, আমার পরিবর্তন নেই। (মালাখি ০৩/০৬)
* আমি ঈশ্বর, আমি মানুষ নই। (হোসেয়া ১১/০৯)
* ঈশ্বর মানুষ নন। তিনি মিথ্যা বলবেন না। ঈশ্বর মানুষ নন। তাঁর সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হবে না। (গননা পুস্তক ২৩/১৯)
* কোন ব্যক্তিই আমাদের প্রভু ঈশ্বরের মত নয়। ঈশ্বর স্বর্গের উঁচু আসনে বসেন। (সামসঙ্গিত ১১৩/০৫)
এখানে দেখেন যীশু বলছে, (পিতা ইশ্বর) তিনি মানুষ নন! তার মত আর, অন্য কোন ইশ্বর নাই, এমনকি কোন ব্যাক্তিই (পিতা ইশ্বরের) মত নয়। তার কোন পরিবর্তন নাই। অথচ যীশু একজন মানুষ ছিলেন। তার মানে দাড়াল যীশু আর (পিতা ইশ্বর) এক নয়। যীশু মানুষ ছিলেন, আর (পিতা ইশ্বর) যিনি মানুষ নন, প্রমান দেখেন :-
* যীশু খ্রীষ্ট, যিনি নিজেও একজন মানুষ ছিলেন৷ (০১ তিমথি ০২/০৫)
এখান থেকেই প্রমান হয় যে যীশুকে দেখা আর পিতাকে দেখা এক নয়।
তখন যীশু তাকে বললেন, তুমি কেন আমাকে সত্য বলছ, ঈশ্বর ছাড়া আর কেউই সত্য নয়। (মার্ক ১০/১৮)
এখানে দেখেন যীশু বলছে, তাকে সত্য বলা যাবে না। কারন তিনি সত্য না, সত্য একমাত্র (পিতা ইশ্বর)। যীশু আর (পিতা ইশ্বর) যদি এক হত তাহলে কি যীশু কখনো এই অযৌক্তিক কথাটা বলতেন?
নিচে আরো প্রমান দেখেন, এসব অনুচ্ছেদগুলোই বলে দিবে যীশুকে দেখা আর (পিতা ইশ্বরকে) দেখা এক নয়। কারন (পিতা ইশ্বরের) বৈশিষ্ট্য আর (যীশুর) বৈশিষ্ট্য এক নয়।
ঈশ্বর আমাদের থেকে এত উঁচুতে আছেন যে আকাশ ও পৃথিবীকে দেখতে হলে তাঁকে নীচের দিকে তাকাতে হয়। (সামসঙ্গিত ১১৩/০৬)
যীশু আর (পিতা ইশ্বরকে) দেখা যদি এক হত তাহলে তিনি বলতেন না যে, ইশ্বরের আমাদের দেখতে হলে নিচে তাকাতে হয়। যীশু জানেন যে ইশ্বর উপরে আছে তাই তিনি বলেছেন এই কথা।
ঈশ্বরের সাহায্যেই আমি মন্দ দূর করি। (লুক ১১/২০) (মথি ১২/২৮)
যীশু আর (পিতা ইশ্বরকে) দেখা যদি এক হত তাহলে তিনি কখনোই বলতেন না যে, আমি ইশ্বরের সাহায্যেই আমি মন্দ দূর করি।
যীশু আবার বলেছেন, আমি ঈশ্বরের ওপর নির্ভর করব। (হিব্রুদের কাছে পত্র ০২/১৩)
যীশু আর (পিতা ইশ্বরকে) দেখা যদি এক হত তাহলে তিনি কখনোই বলতেন না যে, আমি ঈশ্বরের ওপর নির্ভর করব।
এমন কিছু বিষয় আছে, যা তিনি বা দূতেরা জানতেন না। কেবল তাঁর পিতাই জানতেন। (মার্ক ১৩/৩২)
তারপর দেখেন যীশু বলছে যে, এমন কিছু বিষয় আছে যা শুধুমাত্র পিতাই জানে তাছাড়া আর কেউ জানে না এমনি যীশুও জানে না, স্বর্গদূতরাও জানে না। যীশু আর (পিতা ইশ্বরকে) দেখা যদি এক হত তাহলে তিনি কি কখনো এই কথা বলতেন?
যাঁরা আমাকে প্রভু, প্রভু বলে তাদের প্রত্যেকেই স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে তা নয়। আমার স্বর্গের পিতার ইচ্ছা যে পালন করবে, কেবল সেই স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে। (মথি ০৭/২১)
দেখেন এখানে যীশু স্পষ্ট করে বলেছে তার পিতার ইচ্ছা যে পালন করবে সে স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করবে। যীশুর ইচ্ছা পালন করলে সে স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে না।
এবার আসেন দেখি, যীশু মূলত (যে কেউ আমায় দেখেছে সে পিতাকে দেখেছে) এই কথাটা দ্বারা কি বোঝাতে চেয়েছে :-
এখানে যীশু বোঝাতে চেয়েছেন যে, যে যীশুর শিক্ষা অনুযায়ী জীবন যাপন করেছে সে, (পিতা ইশ্বরের) আদেশ অনুযায়ী চলেছে! তার মানে দাড়াল যীশু আর (পিতা ইশ্বরের) শিক্ষা এক।
[ যে যীশুর আদেশ মানলো সে তার (পিতা ইশ্বরের) আদেশ মানলো / যে কেউ আমায় দেখেছে সে পিতাকে দেখেছে] এই দুইটা কথাই একি, যীশু ঠিক এই কথাটা বোঝাতে চেয়েছে প্রমান দেখেন :-
* যীশু চিৎকার করে বললেন, যে আমাকে বিশ্বাস করে সে আমার উপরে নয়, যিনি আমায় পাঠিয়েছেন তাঁর উপরে বিশ্বাস করে। (যোহন ১২/৪৪)
এখান থেকেই প্রমান হয়ে গেল যে, যে যীশুকে বিশ্বাস করে সে মূলত যীশুকে বিশ্বাস করে না! সে বিশ্বাস করে মূলত (পিতা ইশ্বরকে)।
ঠিক একিভাবে যীশু বলেছে, যে যীশুকে দেখে সে মূলত যীশুকে দেখে না, সে (পিতা ইশ্বরকে) দেখে যীশু কথাটা এমন বুঝিয়েছে। কারন যীশুর শিক্ষা তার নিজের না, যীশুর শিক্ষা তার (পিতা ইশ্বরের) প্রমান দেখেন :-
* যদি কেউ ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করতে চায় তাহলে সে জানবে, আমি যা শিক্ষা দিই তা ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে, আর আমি কোন কথা নিজে থেকে বলিনা। (যোহন ০৭/১৭) (যোহন ১৪/১০) (যোহন ১৪/২৪)
এখানে মূলত যীশু (যে আমায় দেখেছে সে পিতাকে দেখেছে) এই কথাটা দ্বারা (পিতা ইশ্বরের) শিক্ষাকে বুঝিয়েছে।
আলহামদুলিল্লাহ বাইবেল থেকে প্রমান করেছি, যীশুকে দেখা আর (পিতা ইশ্বরকে) দেখা এক নয় বরং তিনি এখানে বুঝিয়েছেন যে, যে যীশুর শিক্ষা মেনে চলেছে সে (পিতা ইশ্বরের) শিক্ষা মেনে চলেছে।
📄 বাইবেল অনুযায়ী যীশু শুধুমাত্র একজন (নবী) ছিলেন! এবং তার সময়ের সকল মানুষ তাকে (নবি) বলেই জানত ও মানত।
বাইবেল অনুযায়ী যীশু যে শুধুমাত্র একজন নবী ছিল তার প্রমান দেখেন! এবং তার সময়ের মানুষেরা শুধুমাত্র তাকে নবী হিসেবেই মেনে চলতো।
বাইবেল অনুযায়ী যীশু যে শুধুমাত্র একজন নবী ছিলেন তার প্রমান দেখেন বাইবেল থেকেই।
* যখন যীশুকে গ্রেপ্তার করাতে চাইলেন, কিন্তু তারা জনসাধারণের ভয়ে তা করলেন না, কারণ সাধারণ লোকে তাঁকে (ভাববাদী - Prophet - নবি) বলে মনে করত। (মথি ২১/৪৬)
* কিন্তু এখন তোমরা আমায় হত্যা করতে চাইছ। আমি সেই লোক যে ঈশ্বরের কাছ থেকে সত্য শুনেছি এবং তোমাদের তা বলেছি৷ আব্রাহাম তো এরকম কাজ করেন নি। (যোহন ০৮/৪০)
* স্ত্রীলোকটি তখন তাঁকে (যিশুকে) বলল, 'মহাশয়, আমি দেখতে পাচ্ছি যে আপনি একজন (ভাববাদী - Prophet - নবি)। (যোহন ৪/১৯)
এখানে একটা কথা দেখেন এই স্ত্রীলোকটি যীশুকে (ভাববাদী - Prophet - নবি) বলার পরও যীশু তাকে শুধরে দিয়ে বলে নাই যে তিনি ইশ্বর। ধরুন কারো নাম যদি হয় (X) আমি যদি তাকে (Y) বলে ডা কি ও তাকে বলি আপনার নাম (Y) সে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিয়ে বলবে যে আমার নাম (Y) না আমার নাম (X)। কিন্তু যীশুকে নবী বলার পরও যীশু তাকে শুধরে দেয় নাই কারন যীশু শুধুমাত্র একজন নবীই ছিলেন।
* লোকেরা যীশুকে এই অলৌকিক চিহ্ন করতে দেখে বলতে লাগল, 'জগতে যার আগমনের কথা আছে ইনি নিশ্চয়ই সেই (ভাববাদী - Prophet - নবি)। (যোহন ৬/১৪)
এই তিনটি জায়গা থেকেই প্রমান হয় যীশুর সময়ের মানুষেরা তাকে (ভাববাদী - Prophet - নবি) বলে জানত মানত!
মজার বিষয় হলো সেই সময়ে মানুষেরা যিশুর অলৌকিক কাজ করতে দেখে নবী হিসাবে মেনে নিলো। যদিও যিশু অলৌকিক কাজ, কর্ম নিজের ক্ষমতাই, নিজের ইচ্ছাই করতে পারতেন না। ঈশ্বর তাকে দিয়ে করাতেন প্রমান দেখেন :-
* আমি নিজের থেকে কিছুই করতে পারি না। আমি (ঈশ্বরের কাছ থেকে) যেমন শুনি তেমনি বিচার করি; আর আমি যা বিচার করি তা ন্যায়, কারণ আমি আমার ইচ্ছামতো কাজ করি না, বরং যিনি (ঈশ্বর) আমাকে পাঠিয়েছেন তাঁরই ইচ্ছপূরণ করার চেষ্টা করি। (যোহন ৫/৩০)
* হে ইহুদী ভাইয়েরা, একথা শুনুন; নাসরতীয় যীশুর দ্বারা ঈশ্বর বহু অলৌকিক ও আশ্চর্য কাজ করে আপনাদের কাছে প্রমাণ দিয়েছেন যে তিনি সেই ব্যক্তি যাকে ঈশ্বর পাঠিয়েছেন; আর আপনারা এই ঘটনাগুলি জানেন। (শিশ্যচরিত ২/২২)
কিন্ত বর্তমান সময়ে খ্রিস্টানেরা যিশুর অলৌকিক কাজ, কর্মকে ঈশ্বরত্ব হিসাবে পেশ করে। এটা হাস্যকর বিষয় ছাড়া আর কিছুই না।
আরে প্রমান দেখেন যীশু যে শুধুমাত্র একটা নবী :-
* তখন সেই লোকটি উঠে বসল, আর কথা বলতে শুরু করল। যীশু তখন তাকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলেন। (লুক ৭/১৫)
* এই দেখে সকলের মন ভয় ও ভক্তিতে পূর্ণ হল। তারা ঈশ্বরের প্রশংসা করে বলতে লাগল, 'আমাদের মধ্যে একজন মহান ভাববাদীর আবির্ভাব হয়েছে৷' তারা আরও বলতে লাগল, 'ঈশ্বর তাঁর লোকদের সাহায্য করতে এসেছেন। (লুক ৭/১৬)
যীশু যে শুধুমাত্র একজন নবী ছিলেন এটা আর অস্বীকার করার কোন জায়গা নেই!
> ঈসা (আঃ) সম্মদ্ধে মোশির বক্তব্য দেখেন:-
* প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের জন্য একজন ভাববাদী পাঠাবেন। তোমাদের নিজের লোকদের মধ্য থেকেই এই ভাববাদী আসবে। সে আমারই মতো হবে। তোমরা অবশ্যই এই ভাববাদীর কথা শুনবে। (দ্বিতীয় বিবরন ১৮/১৫)
* এই পৃথিবীতে কাউকে 'পিতা' বলে ডেকো না, কারণ তোমাদের পিতা একজনই, তিনি স্বর্গে থাকেন। কেউ যেন তোমাদের শিক্ষক বলে না ডাকে, কারণ তোমাদের শিক্ষক একজনই, তিনি খ্রীষ্ট। (মথি ২৩/৯-১১)
> এই কথাটা দ্বারা বোঝানো হচ্ছে যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নাই এবং (ঈসা আঃ) আল্লাহর রাসূল। যাকে একমাত্র শিক্ষক হিসেবে গ্রহন করতে হবে কারন তিনি ইশ্বরের প্রেরিত রাসূল যিনি ইশ্বরের আদেশ ছাড়া কোন কথাই বলেন নাই।
> আরে স্পষ্ট প্রমান দেখেন যে যীশু শুধুমাত্র নবী ছিলেন :-
* তোমাদের হৃদয় বিচলিত না হোক। ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস রাখো, আর আমার প্রতিও আস্থা রাখো। (যোহন ১৪/০১)
> এখানে যীশু কিন্তু বলেন নাই যে শুধুমাত্র তার উপর বিশ্বাস রাখতে। তিনি আগে বলেছেন ইশ্বরের উপর বিশ্বাস রাখতে তারপর নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে। যীশু যদি ইশ্বরই হতেন তাহলে তিনি শুধু বলতেন আমার উপর বিশ্বাস রাখো। যীশু ইশ্বর না বলেই তিনি তার ইশ্বরের উপর বিশ্বাস রাখতে বলেছেন।
> এবার দেখেন যীশু নিজের মুখেই নিজেই বলেছে সে একজন (ভাববাদি - নবী - Prophet)।
* যদি কেউ ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করতে চায় তাহলে সে জানবে আমি যা শিক্ষা দিই তা ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে, আর আমি কোন কথা নিজে থেকে বলিনা। (যোহন ০৭/১৬-১৭)
* এরপর তিনি বিশ্রামবারে সমাজ-গৃহে শিক্ষা দিতে লাগলেন; আর সমস্ত লোক তাঁর শিক্ষা শুনে আশ্চার্য হল। তারা বলল, 'এ কোথা থেকে এ সমস্ত বিজ্ঞতা অর্জন করল? এ কি করে এমন বিজ্ঞতার সঙ্গে কথা বলে? কি করেই বা এইসব অলৌকিক কাজ করে?
* এ তো সেই ছুতোর মিস্ত্রি এবং মরিয়মের ছেলে; যাকোব, য়োসি, যিহুদা ও শিমোনের ভাই; তাই নয় কি? আর এর বোনেরা কি আমাদের মধ্যে নেই?' এইসব চিন্তা তাদের মাথায় আসায় তারা তাঁকে গ্রহণ করতে পারল না৷
* তখন যীশু তাদের বললেন, 'নিজের শহর ও নিজের আত্মীয় স্বজন এবং পরিজনদের মধ্যে (ভাববাদী - Prophet) সম্মানিত হন না৷ (মার্ক ০৬/০২-০৪)
* আমি আমার পথে চলতেই থাকব, কারণ জেরুশালেমের বাইরে কোন (ভাববাদী - Prophet) প্রাণ হারাবে তেমনটি হতে পারে না৷ (লুক ১৩/৩৩)
বাইবেল ও যীশু স্পষ্ট করেই বলে দিয়েছে যীশু শুধুমাত্র একজন নবী ছাড়া আর কিছুই না। অথচ খ্রীষ্টানরা যীশুকে ইশ্বর বানিয়ে রেখেছে।
📄 বাইবেল থেকেই প্রমানিত (যীশু) সকল মানুষের পাপ নিয়ে ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মারা যান নাই।
যীশু কি সত্যিই সকল মানুষের পাপ নিয়ে মারা যেয়ে (পুনরুত্থিত) হয়েছিলেন? বাইবেল থেকেই প্রমান করবো যীশু কারো পাপ নিয়ে মারা যায় নাই এবং সে (Resurrection - পুনরুত্থিতও) হন নাই। যে মারাই যায় নাই, সে কিভাবে (Resurrection - পুনরুত্থিত) হবে আপনারাই বিবেচনা করেন।
> ০১ নং দলিল :- (যীশু ও পলের) বক্তব্য অনুযায়ী (Resurrection - পুনরুত্থিত) শরির আত্মা হয়ে যায়। কিন্তু যীশু (Resurrection - পুনরুত্থিত) হওয়ার পরও (আত্মা) হন নাই, কারন একটাই যীশু মারাই যায় নাই।
> ০২ নং দলিল :- (যীশু ও যোনার) তিন দিনের অলৌকিক কাহিনি।
> ০৩ নং দলিল :- যীশু কি (Resurrection - পুনরুত্থিত) হয়েছিলেন নাকি (Risen - উত্থিত) হয়েছিলেন।
> ০৪ নং দলিল :- (আদম ও হাওয়ার) পাপ নিয়ে কি যীশু সত্যিই মারা যেয়ে পুনরুত্থিত হয়েছিলেন?
(০১) নং দলিলের জবাব :-
আসুন প্রথমে বাইবেলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ পড়ি যা (পৈল) নিজের মুখে বলেছে :
যিশু যদি নিজের ইচ্ছায় সকল মানুষের পাপ নিয়ে মরে যেতেন, তাহলে যীশুকে ক্রুশে দেওয়ার আগে তিনি কেন ইশ্বরের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলেন। আর তিনি যদি ইশ্বরই হতেন তাহলে কেন তিনি আরেক ইশ্বরের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলেন?
* এলি, এলি লামা শবক্তানী? যার অর্থ, 'ঈশ্বর আমার, ঈশ্বর আমার, তুমি কেন আমায় ত্যাগ করেছ? (মথি ২৭/৪৬) (মার্ক ১৫/৩৪)
এখান থেকেই প্রমান হয় যীশু ইশ্বর না এবং তিনি নিজের ইচ্ছায় মারা যায় নাই সকল মানুষের পাপের জন্য।
* আর খ্রীষ্ট যদি পুনরুত্থিত না হয়ে থাকেন তাহলে তো আমাদের সেই সুসমাচার ভিত্তিহীন, আর তোমাদের বিশ্বাসও ভিত্তিহীন। (০১ করিন্থীয় ১৫/১৪)
* আবার আমরা যে ঈশ্বরের বিষয়ে মিথ্যা সাক্ষী দিচ্ছি, সেই দোষে আমরা দোষী সাব্যস্ত হব, কারণ আমরা ঈশ্বরের বিষয়ে প্রচার করতে গিয়ে একথা বলেছি যে তিনি খ্রীষ্টকে মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত করেছেন৷ (০১ করিন্থীয় ১৫/১৫)
* মৃতদের পুনরুত্থান যদি না হয়, তবে খ্রীষ্টও মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত হন নি। (০১ করিন্থীয় ১৫/১৬)
* আর খ্রীষ্ট যদি পুনরুত্থিত না হয়ে থাকেন, তাহলে তোমাদের বিশ্বাসের কোন মূল্য নেই, তোমরা এখনও তোমাদের পাপের মধ্যেই আছ৷ (০১ করিন্থীয় ১৫/১৭)
এখানে স্পষ্ট যে আপনি যদি প্রমান করতে পারেন যে, যিশু মারা যায়নি সে (ক্রুশবিদ্ধ বা পূনরুত্থান) হয়নি তবে (বাইবেল + খ্রিস্টান ধর্ম) মিথ্যা। (Paul - পৈল) নিজ মুখে স্পষ্ট করে বলেছে, যদি খ্রীষ্ট পূনরুত্থিত না হয়ে থাকে তবে তাদের বিশ্বাস এর কোন মূল নেই। মানে খ্রীস্টান ধর্ম মিথ্যা হয়ে যাবে।
অর্থাৎ যিশু মারা যায়নি এটা প্রমান করতে পারলে (Bible) বাইবেলের (০৪) আনা মূল আর থাকবে না।
প্ৰথমে পবিত্র কোরআন কি বলে দেখে নেই।
আর তাদের একথা বলার কারণে যে, আমরা মরিয়ম পুত্র ঈসা মসীহকে হত্যা করেছি যিনি ছিলেন আল্লাহর রসূল। অথচ তারা না তাঁকে হত্যা করেছে, আর না শুলীতে চড়িয়েছে, বরং তারা এরূপ ধাঁধায় পতিত হয়েছিল। বস্তুতঃ তারা এ ব্যাপারে নানা রকম কথা বলে, তারা এক্ষেত্রে সন্দেহের মাঝে পড়ে আছে, শুধুমাত্র অনুমান করা ছাড়া তারা এ বিষয়ে কোন খবরই রাখে না। আর নিশ্চয়ই তাঁকে তারা হত্যা করেনি। (সূরা আন নিসা, আয়াতঃ ১৫৭)
(আলহামদুলিল্লাহ) কুরআন স্পষ্ট বলছে (ঈসা (আঃ) / যিশু) মারা যায়নি, তাকে হত্যা করা হয়নি। কুরআন থেকে প্রমানিত যিশু বা (ঈসা আঃ) এখনো জীবিত আছে।
এবার বাইবেল থেকে প্রমান করব যিশু বা (ঈসা আঃ) জীবিত তিনি মারা যায় নি।
> যিশু নিয়ে ভবিষ্যৎ বাণী যে তিনি মরবেন না! ভবিষ্যৎবাণী :-
* আমি মরবো না, আমি বেঁচে থাকবো এবং প্রভু কি করেছেন তা আমি বলবো। (সামসঙ্গীত ১১৮/১৭)
* প্রভু আমায় শান্তি দিয়েছেন, কিন্তু তিনি আমায় মরতে দেন নি। (সামসঙ্গীত ১১৮/১৮)
> এটা (ঈসা আঃ) বা যিশুকে নিয়ে তার জন্মের আগে করা ভবিষ্যৎবাণী, এখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, যে ঈসা (আঃ) বা যিশু মারা যাবে না।
> এখন যদি (ঈসা - যিশু) মারা গিয়ে থাকে, তো ভবিষ্যৎ বাণী মিথ্যা হয়ে যাবে। কিন্তু না যিশু মারা যায়নি, ঈশ্বর তাকে মরতে দেননি, দেখুন :-
* খ্রীষ্ট যখন এ জগতে ছিলেন তখন সাহায্যের জন্য তিনি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন। ঈশ্বরই তাঁকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে সমর্থ যীশু ঈশ্বরের নিকট প্রবল আর্তনাদ ও অশ্রুজলের সঙ্গে প্রার্থনা করেছিলেন। ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রতি তাঁর নম্রতা ও বাধ্যতার জন্য ঈশ্বর যীশুর প্রার্থনার উত্তর দিয়েছিলেন। (হিব্রুদের কাছে পত্র ০৫/০৭)
* পরে তিনি কিছু দূরে গিয়ে মাটিতে উপুড় হয়ে পড়ে প্রার্থনা করে বললেন, আমার পিতা, যদি সম্ভব হয় তবে এই কষ্টের পানপাত্র আমার কাছ থেকে দূরে যাক তবু আমার ইচ্ছামতো নয়, কিন্তু তোমারই ইচ্ছা পূর্ণ হোক৷ (মথি ২৬/৩৯)
> এখানে যিশু ঈশ্বরের কাছে মৃত্যু থেকে বাচঁতে দোয়া করেছিলেন। আর ভবিষ্যৎবাণী অনুযায়ী তার দোয়া কবুল হয়। ঈশ্বর যিশুকে মরতে দেননি। তাহলে পোলের কথা অনুযায়ী খ্রীষ্টান ধর্মের সকল বিশ্বাস ভিক্তিহীন খ্রীষ্টান ধর্মের চারআনা দামও নাই।
বাইবেল থেকেই প্রমাণিত যীশু মারা যান নাই।
(০২) নং দলিলের জবাব :-
(যীশু ও যোনার) অলৌকিক ঘটনার মাধ্যমে দেখি যীশু কি সত্যিই ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছিলেন নাকি? (যীশু ও যোনার) এই অলৌকিক ঘটনার মাধ্যমেই প্রমান করবো যীশু মারা যায় নাই।
এরপর কয়েকজন ফরীশী ও ব্যবস্থার শিক্ষক যীশুর কাছে এসে বললেন, হে গুরু, আমরা আপনার কাছ থেকে কোন চিহ্ন বা অলৌকিক কাজ দেখতে চাই৷ (মথি ১২/৩৮)
যীশু তাদের বললেন, এ যুগের দুষ্ট ও ব্যভিচারী পাপী লোকেরা চিহ্নের খোঁজ করে; কিন্তু ভাববাদী যোনার চিহ্ন ছাড়া আর কোন চিহ্নই তাদের দেখান হবে না। (মথি ১২/৩৯)
যোনা যেমন সেই বিরাট মাছের পেটে তিন দিন তিন রাত ছিলেন, তেমন মানবপুত্র তিন দিন তিন রাত পৃথিবীর অন্তঃস্থলে কাটাবেন৷ (মথি ১২/৪০)
আসুন দেখি যোনার কী হয়েছিলো :-
* যোনাকে লোকেরা জাহাজ থেকে ফেলে দিলে মাছ তাকে গিলে ফেলেছিলো। সে (০৩) দিন (০৩) রাত মাছের পেটে ছিলো। (যোনা ০১/১৫-১৭)
* মাছের পেটের মধ্যে থাকাকালীন যোনা প্রভু, তাঁর ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে বলেছিলেন। (যোনা ০২/০১)
* তখন প্রভু ওই মাছটির সঙ্গে কথা বললেন এবং মাছটি বমি করে যোনাকে জমির উপরে ফেলল। (যোনা ০২/১০)
যোনা যেহেতু মাছের পেট থেকে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছে তখন সে জীবিত ছিলো তা (প্রমানিত) কারণ মৃত মানুষ তো আর কথা বলতে পারে না প্রার্থনাও করতে পারে না। তারপর যোনার প্রার্থনা কবুল হয় ও তাকে মাছটি বমি করে সাগর পাড়ে ফেলে দেয় তখনও সে জীবিত। তাহলে যীশুরও জীবিত থাকতে হবে যদি যীশু মরে যায় তাহলে তার কথা ও তার ভবিষ্যৎবানি মিথ্যা হয়ে যাবে। যীশু মিথ্যুক প্রমানিত হবে।
এবার আসেন দেখি যীশু কি তিন দিন তিন রাত পৃথিবীর গর্ভে ছিলেন কিনা?
যীশুকে শুক্রবার সন্ধ্যার কিছু সময় আগে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়। যদিও এই ক্রুশবিদ্ধের সময়ে বাইবেলে বৈপরীত্য ও ভুল আছে! প্রমান দেখেন :- মথি, মার্ক ও লুকের বক্তব্য অনুযায়ী যীশু বেলা ১২ টার সময় ক্রুশের উপর ছিলেন। তবে এদিকে আবার যোহনের বক্তব্য অনুযায়ী যীশু বেলা ১২ টার সময় পিলাতের দরবারে ছিলেন। বিস্তারিত দেখেন :-
* সেই দিন দুপুর বারোটা থেকে বেলা তিনটে পর্যন্ত সমস্ত দেশ অন্ধকারে ঢেকে রইল। (মথি ২৭/৪৫)
* সকাল ন'টার সময়ে তারা তাঁকে (যীশুকে) ক্রুশে দিল৷ (মার্ক ১৫/২৫)
* পরে বেলা বারোটা থেকে তিনটে পর্যন্ত সমস্ত দেশ অন্ধকারে ছেয়ে গেল। (মার্ক ১৫/৩৩)
* তখন বেলা প্রায় বারোটা; আর সেই সময় থেকে তিনটা পর্যন্ত সমস্ত দেশ অন্ধকারে ছেয়ে গেল। (লুক ২৩/৪৪)
এই তিনটি অনুচ্ছেদ থেকে স্পষ্ট যে যীশু যখন ক্রুশে ছিলেন তখন বেলা ১২ টা বাজে আর তখন চারদিক অন্ধকারে ছেয়ে গেছে।
যোহনের বক্তব্য অনুযায়ী যীশু বেলা ১২ টার সময় পিলাতের দরবারে ছিলেন!
* সেই দিনটা ছিল নিস্তারপর্ব আযোজনের দিন। তখন প্রায় বেলা বারোটা, পীলাত ইহুদীদের বললেন, এই দেখ, তোমাদের রাজা। (যোহন ১৯/১৪)
এখন আপনারাই বিবেচনা করেন সঠিক সময় কোনটা ছিল? যীশুকে যদি সকাল ০৯ টার সময় ক্রুশে দেওয়া হয় তাহলে যীশু কি করে বেলা ১২ টার সময় পিলাতের দরবারে থাকতে পারে?
আবার দেখেন মথি, মার্ক ও লুক অনুযায়ী বেলা ১২ টার সময় চারদিক অন্ধকারে ছেয়ে গিয়েছিল! কিন্তু যোহনের বক্তব্য অনুযায়ী যীশু বেলা ১২ টার সময় পিলাতের দরবারে ছিলেন এবং তখন কোন অন্ধকার ছিল না।
এবার আসেন দেখি যীশু কি তিনদিন তিনরাত পৃথিবীর গর্ভে ছিলেন কিনা?
যীশুকে শুক্রবার সন্ধ্যার কিছু সময় আগে অর্থাৎ বিকালে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়।
তাহলে এখানে আমরা পেলাম শুক্রবার রাত, শনিবার (দিন-রাত)। তারমানে আমরা এখানে পেলাম ০২ রাত ০১ দিন। আরো বাকি থাকলো ০১ রাত ০২ দিন।
কিন্তু দেখেন রবিবার ভোরের মদলীনী মরিয়ম ও অন্য মরিয়ম কবরটা দেখতে এলেন। এসে দেখেন যীশু সেখানে নেই প্রমান দেখেন :-
* বিশ্রামবারেরশেষে সপ্তাহের প্রথম দিন, অর্থাৎ রবিবার খুব ভোরে মদলীনী মরিয়ম ও অন্য মরিয়ম কবরটা দেখতে এলেন। (মথি ২৮/০১)
* সেই স্বর্গদূত ঐ স্ত্রীলোকদের বললেন, 'তোমরা ভয় পেও না, আমি জানি তোমরা, যাকে ক্রুশে দিয়েছিলে তাঁকে খুঁজছ। (মথি ২৮/০৫)
* কিন্তু তিনি এখানে নেই। তিনি যেমন বলেছিলেন, তেমনি পুনরুত্থিত হয়েছেন। এস, যেখানে তাঁকে শুইয়ে রাখা হয়েছিল তা দেখ। (মথি ২৮/০৬)
* বিশ্রাম শেষ হলে মরিয়ম মদলীনী, যাকোবের মা মরিয়ম সুগন্ধি মশলা কিনলেন যেন গিয়ে যীশুর দেহে মাখাতে পারেন। (মার্ক ১৬/০১)
* সপ্তাহের প্রথম দিন ভোরে, ঠিক সূর্য ওঠার পরই তাঁরা সমাধিগুহার কাছে গেলেন। (মার্ক ১৬/০২)
* সপ্তাহের প্রথম দিন, সেই স্ত্রীলোকেরা খুব ভোরে ঐ সমাধিস্থলে এলেন। তাঁরা যে গন্ধদ্রব্য ও মশলা তৈরী করেছিলেন তা সঙ্গে আনলেন৷ (লুক ২৪/০১)
দেখেন এখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যীশু রবিবার ভোরেই উত্থিত হয়েছে। তিনি তিনদিন তিনরাত পূরন করেন নাই। সে ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন (শুক্রবার) রাত্রের কিছু সময় আগে। তাহলে আমরা পেলাম শুক্রবার রাত, শনিবার (দিন-রাত) ও রবিবার ভোর অর্থাৎ ভোরকে একদিন ধরেন।
তাহলে আমরা এখানে দেখতে পাচ্ছি যীশু পৃথিবীর গর্ভে দুইরাত দুইদিন (শুক্র- শনি) ছিলেন। তিনি তিনদিন তিনরাত ছিলেন না। কোনভাবেই বাইবেল থেকে কেউ প্রমান করতে পারবে না যীশু তিনদিন তিনরাত ধরে কবরে ছিলেন।
আপনি যদি শুক্রবারকে দিন ও রাত ধরেন তারপরও আপনি কখনোই তিনদিন তিনরাত বানাতে পারবেন না কারন যীশু রবিবার ভোরেই উত্থিত হয়েছে। রবিবারকে দিন ও রাত কোনভাবেই ধরতে পারবেন না।
বাইবেল থেকেই প্রমানিত যীশুর বলা ভবিষ্যৎবানী পূরন হয় নাই। এবং এটাও প্রমানিত যে, যীশু মিথ্যা কথা বলেছে। যদি বলেন যীশু মিথ্যা বলেন নাই তাহলে গোটা বাইবেল থেকে তিনদিন তিনরাত প্রমান করে দেখাতে হবে।
বাইবেল থেকেই প্রমান করলাম যীশু মারা যায় নি আলহামদুলিল্লাহ।
যিশু কে কোন শিষ্যই মরতে দেখেনি : যিশু কে যখন সৈন্যরা গ্রেফতার করল, তখন শিষ্যদের অবস্থা দেখুন।
* তখন তাঁর সব শিষ্যেরা তাঁকে ফেলে পালিয়ে গেলেন। (মার্ক ১৪/৫০)
* আর একজন যুবক উলঙ্গ শরীরে একটি চাদর জড়িয়ে তাঁকে অনুসরণ করল। তারা তাকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করল। (মার্ক ১৪/৫১)
* কিন্তু সে চাদরটি ফেলে উলঙ্গ অবস্থায় পালিয়ে গেল। (মার্ক ১৪/৫২)
যিশুর শিষ্য যারা তাকে ফেলে পালিয়ে গিয়েছিল, তাদের একজন তাকে ফেলে উলঙ্গ হয়ে পালিয়েছিল। এরাই নাকি বাইবেল লিপিবদ্ধ করেছে। আপনারাই চিন্তা করেন কীভাবে আপনি শিষ্যদের কথা বিশ্বাস করবেন, যারা যিশু কে রেখে পালিয়ে গিয়েছিল।
- এখন আমার প্রশ্ন বাইবেলে তো যিশুর মৃত্যুর কথা তার শিষ্যরা লিখেছে, তা কি মিথ্যা?
উত্তর : হ্যাঁ মিথ্যা লিখেছে যিশুর শিষ্যরা তখন পালিয়ে গিয়েছিল, তারা ইহুদি, রোমান সৈন্য তাদের মুখের কথা বাইবেলে লিপিবদ্ধ করে। তারা যিশুকে মরতে দেখেনি এটাই সত্য।
আজ পর্যন্ত কোন খ্রিস্টান যিশুর মৃত্যু হয়েছে তার, কোন বিশুদ্ধ প্রমান দেখাতে পারেনি। তারা প্রমান দেখেবে, ইহুদি দেখেছে, রোমান সৈন্য দেখেছে ইত্যাদি। কিন্তু তারা সত্য বলেছে না মিথ্যা বলেছে তা না যিশুর শিষ্য দেখেছে না বর্তমান খ্রিস্টানরা দেখেছে। তারা কেবল অন্ধদের মতো বিশ্বাস করে।
(০৩) নং দলিলের জবাব :-
যীশু কি (resurrection - পুনরুত্থিত - תחית) হয়েছে নাকি (Risen - উত্থিত - קם) হয়েছে?
প্রথমে বলি যীশুকে বাইবেলে কোথাও (resurrection - পুনরুত্থিত - תחית - হয়েছে এই কথা বলা হয়নি, বরং যীশু (Risen - উত্থিত - DP) হয়েছে এই কথা বলা হয়েছে।
আসুন এবার দেখি যীশু (resurrection - পুনরুত্থিত - תחית) হয়েছিল কিনা? * He is not here: for he is risen, as he said. Come, see the place where the Lord lay.
* কিন্তু তিনি এখানে নেই৷ তিনি যেমন বলেছিলেন, তেমনি পুনরুত্থিত হয়েছেন। এস, যেখানে তাঁকে শুইয়ে রাখা হয়েছিল তা দেখ। (মথি ২৮/০৬) (লুক ২৪/৪৬)
দেখেন এখানে (Risen - উত্থিত - קם) শব্দটা দ্বারা (উত্থিত) বোঝানো হয়েছে তারা অনুবাদে জালিয়াতি করে (পুনরুত্থিত) করে দিয়েছে। যত জায়গায় বাইবেল যীশুর (resurrection - পুনরুত্থিত - תחית) সম্পর্কে বলা হয়েছে সব জায়গায় অনুবাদে জালিয়াতি করা হয়েছে। এখানে (Risen - DP) শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে যার মানে হল (উত্থিত) হওয়া। যেমন আমরা ঘুমাই আবার (উত্থিত) হই। খ্রীষ্টানরা অনুবাদে জালিয়াতি করে (Risen - Dp) শব্দটার মানে (উত্থিত) না করে (পুনরুত্থিত) করে দিয়েছে। (পুনরুত্থিত) শব্দটা হল (Rresurrection - תחית) মানে মৃত মানুষ জীবিত হওয়া।
> (resurrection - পুনরুত্থান) শব্দের সঠিক অনুবাদ দেখেন (মথি ২২/৩০) এই অনুচ্ছেদে।
> এখানে স্পষ্ট করে বল হয়েছে (resurrection - תחית( মানে (পুনরুত্থান)।
> আরো প্রমান দেখুন এই সব (মথি ২৮/০৬-০৭) (মার্ক ১৬/১৪) (মার্ক ১৬/০৬) জায়গায় (Risen - op) শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে মানে যীশু (উত্থিত) হয়েছে। পুনরুত্থিত (Resurrection - תחית( হয়েছে এই কথা বলা হয়নি।
* জেনে রাখো, পুনরুত্থানের পর লোকেরা বিয়ে করে না, বা তাদের বিয়েও দেওয়া হয় না, তারা বরং স্বর্গদূতদের মতো থাকে। (মথি ২২/৩০) (লুক ২০/৩৫-৩৬)
> দেখেন এখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে (পুনরুত্থিত - resurrection - תחית( মানুষ (আত্মা) হয়ে যায় স্বর্গদূতদের মত। তাহলে যীশু যদি পুনরুত্থিত হয় তাহলে তাঁকেও আত্মা হয়ে যাওয়া লাগবে। কিন্তু তিনি আত্মা হন নি। প্রমান দেখেন।
* আমার হাত ও পা দেখ, আমাকে স্পর্শ করে দেখ, আত্মার এইরূপ হাড় মাংস থাকে না, কিন্তু তোমরা দেখতে পাচ্ছ আমার আছে৷
* এই কথা বলে তিনি তাঁদের হাত ও পা দেখালেন। (লুক ২৪/৩৯-৪০)
> এখানে যীশু স্পষ্ট করে দিয়েছে সে (resurrection - পুনরুত্থিত - תחית( হয় নাই যদি (resurrection - পুনরুত্থিত - תחית( হত তাহলে আত্মা হয়ে যেত আর আত্মার রক্ত মাংসের শরির থাকে না যেটা যীশুর ছিল। তারপরও যদি তর্কের খাতিরে মেনে নেই যে যীশু (পুনরুত্থিত) হয়েছে। তাহলে তার মা মরিয়ম যীশুর শরির মালিশের জন্য পরের দিন কেন তার সমাধিতে যাবে? (মার্ক ১৬/০১) (লুক ২৪/০১)
আত্মার শরিরে কি মালিশের প্রয়োজন হয়? অবশ্যই হয় না। যীশুকে ক্রুশ থেকে নামানোর পর মরিয়ম ও তার সঙ্গীরা যীশুকে গোসল করিয়েছিলেন তখন তার মা ও তার সঙ্গীরা যীশুর শরিরে জীবনের চিহ্ন দেখতে পেয়েছিলেন হয়তো। সেজন্য তার মা যীশুর শরির মালিশের জন্য সমাধিতে গিয়েছিলেন। কারন যীশু ক্রুশে থাকার জন্য তার শরির ক্ষত বিক্ষত হয়েছিল তার জন্য তার মা তার শরির মালিশের জন্য সমাধিতে গিয়েছিলো।
তারপর দেখেন যীশু যদি (পুনরুত্থিত) হত তাহলে আত্মা হয়ে যেত। আত্মা হওয়ার পরও তিনি কেন বাগানে মালির বেশে লুকিয়ে থাকবে? যীশু এজন্য মালির বেশে ছিল কারন যীশুকে ইহুদিরা তখন দেখতে পেলে আবার মেরে ফেলতো চাইতো। সেজন্য সে বাগানে মালির বেশে লুকিয়ে ছিল কারন তিনি (পুনরুত্থিত / মৃত থেকে জীবিত) হন নাই, যার ফলে তিনি মানুষ ছিলেন। আত্মার তো কোনো মানুষকে ভয় পাওয়ার কথা না। এখান থেকে প্রমান হয় যীশু তখন আত্মা হয়ে যায় নাই অর্থাৎ (পুনরুত্থিত) হয় নাই।
তারপর দেখেন যীশু যদি মরে যেত তাহলে সে আত্মা হয়ে যেত আর আত্মার কেন তার শরিরের কাপড় সরানোর প্রয়োজন হল? (এখানে যীশুর কাফনে কাপড়ের কথা বলা হয়েছ / মানে যে কাপড় দিয়ে ক্রুশবিদ্ধ করার পর সমাধিতে যীশুর দেহটাকে ঢেকে রাখা হয়েছিল)। কাপড় সরানোর প্রয়োজন তখনই হবে যখন সে রক্ত মাংসের মানুষ হবে। আরো অসংখ্য প্রমান আছে যে যীশু মারা যায় নাই ও পুনরুত্থিত হয় নাই।
তাহলে পলের বক্তব্য অনুযায়ী প্রমানিত খ্রীষ্টানরা এখনো পাপের মধ্যেই আছে এবং খ্রীষ্টান ধর্ম একটি মিথ্যা ধর্ম।
(০৪) নং দলিলের জবাব :-
আসুন বাইবেল থেকেই প্রমান করবো যীশু খ্রীষ্টানদের পাপ নিয়ে মারা যায় নাই। তারা এখনো পাপের মধ্যেই পড়ে আছে।
> প্রথমেই দেখা যাক:- বাইবেলের ইশ্বরের আদেশ অমান্য করার জন্য, ইশ্বর যে অভিশাপ দিয়ে (আদম ও ইভকে) পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।
* তারপর প্রভু ঈশ্বর নারীকে বললেন, "তুমি যখন গর্ভবতী হবে, আমি সেই দশাটাকে দুঃসহ করে তুলব, তুমি অসহ্য ব্যাথায় সন্তানের জন্ম দেবে। তুমি তোমার স্বামীকে আকুলভাবে কামনা করবে কিন্তু সে তোমার উপরে কর্তৃত্ব করবে। (আদিপুস্তক ০৩/১৬)
* তারপর প্রভু ঈশ্বর পুরুষকে বললেন, "আমি তোমায় ঐ গাছের ফল খেতে বারণ করেছিলাম। তবু তুমি নারীর কথা শুনে নিষিদ্ধ গাছের ফল খেয়েছ। তাই তোমার কারণে আমি এই ভূমিকে শাপ দেব। ভূমি তোমাদের যে খাদ্য দেবে তার জন্যে এখন থেকে সারাজীবন তোমায় অতি কঠিন পরিশ্রম করতে হবে। (আদিপুস্তক ০৩/১৭)
তাহলে এখান থেকে আমরা বুঝতে পারলাম যে (আদম ও ইভ) ইশ্বরের আদেশ অমান্য করার জন্য তাদের অভিশাপ দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। এই পাপের জন্য মানুষ জন্মগতভাবে পাপি হয় এটাই খ্রীষ্টান ও বাইবেলের ইশ্বরের কথা! প্রমান দেখেন :-
* বাল্যকাল থেকে মানুষের স্বভাব মন্দ। (আদিপুস্তক ০৮/২১)।
বাইবেলের ইশ্বর মানুষদেরকে এই পাপ থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য তার দৈহিক সম্পর্কের পুত্রকে উৎসর্গ করলেন যাতে পাপ থেকে সকল মানুষ মুক্তি পায়। ইশ্বরের পুত্র সকল মানুষের পাপ নিয়ে মারা গেছে ক্রুশে, এটা বিশ্বাস করলেই পাপ মুক্তি হয়ে যাবে। এটাই হল খ্রীষ্টানদের বস্তাপচা খোঁড়া যুক্তি।
এবার আসেন তাদেই এই বস্তাপচা খোঁড়া যুক্তি খন্ডন করি।
পৃথিবীতে যত খ্ৰীষ্টান আছে তারা সবাই বিশ্বাস করে যে (যীশু - ইশ্বর পুত্র) সকল মানুষের পাপ নিয়ে ক্রুশে মারা গেছে। যার ফলে সকল খ্রীষ্টানরা পাপ থেকে মুক্তি পেয়ে গেছে। তার মানে দাড়াল ইশ্বর যে অভিশাপ দিয়ে (আদম ও ইভকে) পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন সেই যন্ত্রণা তারা আর ভোগ করবে না, যেহেতু ইশ্বর তাদের পাপ মুক্তির জন্য তার পুত্রকে উৎসর্গ করেছেন।
নোট করেন আমার প্রশ্ন: যীশু ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে তাদের পাপের জন্য এটা বিশ্বাস করার পরেও কেন! প্রত্যেক নারী সন্তান প্রসব করতে গেলে এখনো এত বেদনা ভোগ করে? এই বেদনা যাতে নারী ভোগ না করে তার জন্যই তো যীশু ক্রুশে মারা গেল।
+ প্রত্যেক পুরুষের কেন এত কষ্ট পরিশ্রম ভোগ করা লাগে এখনো? এই কষ্ট যাতে ভোগ করতে না হয় তার জন্যই তো যীশু ক্রুশে মারা গেল।
> বাইবেলের ইশ্বরের আদেশ অমান্য করার জন্য যে পাপ করেছিল (আদম ও ইভ)। সেই পাপের শাস্তি হিসাবে এই দুটি (অভিশাপ - শাস্তি) দিয়েছিলেন তাদের ইশ্বর।
> যেহেতু তারা বিশ্বাস করেছে যীশু তাদের পাপ নিয়ে মারা গেছে। যে পাপের জন্য ইশ্বর (আদম ও ইভকে) পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিলেন! সেই পাপ ক্ষমা করার জন্য ইশ্বর তার পুত্রকে উৎসর্গ করলেন যাতে মানুষ নাজাত পায় ও ইশ্বরের দেওয়া শাস্তি ভোগ করা না লাগে মানুষের। ইশ্বরের পুত্রকে উৎসর্গ করার পরও কেন একি অভিশাপে মানুষ এখনো যন্ত্রণা পেয়ে যাচ্ছে? তার মানে দাড়াল যীশু কারো পাপ নিয়ে মারা যায় নাই। বরং সকল খ্রীষ্টানরা এখনো পাপের মধ্যেই আছে।
> বাইবেল অনুযায়ী কেউ কারো পাপের বোঝা বহন করবে না। তাহলে আদম ও হাওয়ার পাপের বোঝা কেন সকল মানুষ বহন করবে?
* কিন্তু তুমি বলছো, 'পিতার পাপের জন্য ঈশ্বর তার সন্তানকে শাস্তি দেন না! ঈশ্বরের উচিত পাপীদের শাস্তি দেওয়া। তখনই মন্দ লোক বুঝতে পারবে তার নিজের পাপের জন্যই তাকে শাস্তি দেওয়া হল! (যোব ২১/১৯)
* যে ব্যক্তি পাপ করে কেবল সেই মারা যাবে। পুত্রকে তার পিতার পাপের জন্য শাস্তি ভোগ করতে হবে না; আবার পিতাকেও তার পুত্রের পাপের শাস্তি ভোগ করতে হবে না। ভাল লোকের ধার্মিকতা তার নিজের হাতে; তেমনই মন্দ লোকের মন্দতাও কেবল তারই অধিকারগত। (এজেকিয়েল ১৮/২০)
* প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজের পাপের জন্যই মারা যাবে। (যেরেমীয়া ৩১/৩০)
* কেউ অপরের জীবন মুক্ত করতে পারে না। অথবা তাদের জন্য ঈশ্বরকে মুক্তিপণ দিতে পারে না। (সামসংঙ্গীত ৪৯/০৭)
দেখেন বাইবেল স্পষ্ট করে বলছে কেউ কারো পাপের বোঝা বহন করবে না। এমনকি এটাও বলছে কেউ অপরের জীবনের পাপ মুক্ত করতে পারে না। তাহলে যীশু কেন (আদম ও হাওয়ার) পাপ বহন করবে? এগুলো বাইবেলের ইশ্বরের অযৌক্তিক ও অমানবিক নিষ্ঠুর কথা তাছাড়া আর কিছুই না। পাপ করেছে একজন আর শাস্তি দিচ্ছে আরেকজনকে এটা কখনো ন্যায়বিচার না, এটা বাইবেলের ইশ্বরের শয়তানি ছাড়া আর কিছুই না।
এক জায়গায় বলছে একজন আরেকজনের পাপের বোঝা বহন করবে! আবার এক জায়গায় বলছে বহন করবে হাস্যকর কথা।
মূলত খ্রীষ্টানদের বিশ্বাসই ভক্তিহীন তারা এখনো পাপের মধ্যেই পড়ে আছে। যীশু মারাও যায় নাই তাদের পাপও মুক্তি হয় নাই। যদি পাপ মুক্তি হত তাহলে নারী পুরুষ বর্তমানে এত কষ্টগুলো ভোগ করতো না।
📄 বাইবেল অনুযায়ী (পল - সৌল) একজন ভন্ড, প্রতারক, মানুষ হত্যাকারী ও মিথ্যাবাদি মানুষ ছিল।
বাইবেল থেকেই প্রমান করবো (পল - সৌল) একজন ভন্ড, প্রতারক, মানুষ হত্যাকারী ও মিথ্যাবাদি ছিল।
প্রথমেই সংক্ষেপে পলের পরিচয় দেই তারপর তার সকল ভন্ডামি তুলে ধরবো ইনশাআল্লাহ।
০১/নিউ টেস্টামেন্টের ২৭টা পুস্তকের মধ্যে ১৪টা পুস্তক সাধু পৌলের এর রচিত পুস্তক বলে প্রসিদ্ধ।
০২/ পৌল তিনি ছিলেন যীশু খ্রিষ্টের সমসাময়িক একজন ইহুদি। তবে তিনি যীশু খ্রিষ্টের শিষ্য ছিলেন না, নাসরত, গালিলি বা ফিলিস্তিনের অধিবাসী ছিলেন না এবং কখনো তিনি যীশুকে দেখেননি প্রমান দেখেন :- (০১ করিন্থীয় ০৯/০১, ১৫/০৮)
০৩/ পৌল বা পলের মূল নাম সৌল (Saul)। তিনি বর্তমান তুরস্কের তারসূস (Tarsus) বা সাইলেশিয়ায় (Cilicia) জন্মগ্রহণ করেন প্রমান দেখেন :- (শিষ্যচরিত ২১/৩৯, ২২/০৩)।
০৪/ পৌল জাতিতে রোমান ছিলেন প্রমান দেখেন :- (শিষ্যচরিত ২২/২৮-২৯, ১৬/৩৭-৩৮, ২৩/২৭)।
০৫/ মাতৃভাষায় ছিলেন গ্রিক প্রমান দেখেন :- (শিষ্যচরিত ০৯/২৯)
০৬/ পৌল ধর্মে ইহুদি ছিলেন প্রমান দেখেন :- (০১ করিন্থীয় ২২/০৩)।
০৭/ পৌল ০৩ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন এবং সম্ভবত ৬২ খ্রিষ্টাব্দে রোমে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত হন। অর্থাৎ যীশুর জন্মের প্রায় ০৬ বছর পরে তাঁর জন্ম এবং যীশুর তিরোধানের প্রায় ৩০ বছর পর তার মৃত্যু।
এবার আসুন পলের সকল প্রতারনা ও ভন্ডামি তুলে ধরি বাইবেল থেকে।
আমি স্বাধীন! আমি কারোর অধীনে নেই, তবু আমি সকলের দাস হলাম, যাতে অনেককে আমি খ্রীষ্টের জন্য লাভ করতে পারি। (০১ করন্থীয় ০৯/১৯)
ইহুদীদের জয় করার জন্য আমি ইহুদীদের কাছে ইহুদীদের মতো হলাম। যারা বিধি -ব্যবস্থার অধীনে জীবন কাটাচ্ছে, তাদের লাভ করার জন্য আমি নিজে বিধি-ব্যবস্থার অধীন না হলেও আমি তাদের মত হলাম। (০১ করন্থীয় ০৯/২০)
আবার যারা বিধি-ব্যবস্থার অধীনে নেই তাদেরকে জয় করার জন্য আমি তাদের মতো হলাম। অবশ্য এর মানে এই নয় যে আমি বিধি-ব্যবস্থা মানি না, আমি তো খ্রীষ্টের বিধি-ব্যবস্থার অধীনে জীবনযাপন করছি। (০১ করন্থীয় ০৯/২১)
যারা দুর্বল, তাদের কাছে আমি দুর্বল হলাম, যেন তাদেরকে জয় করতে পারি। আমি সকলের কাছে তাদের মনের মত হলাম, যাতে সম্ভাব্য সকল উপায়ে তাদের বাঁচাতে পারি। (০১ করন্থীয় ০৯/১৯-২২)
দেখেন পল নিজেই বলছে সে একজন ভন্ড প্রতারক ছিল। সে প্রতারনার ও মিথ্যাচারের মাধ্যমে সকলের মন জয় করতো। যে জাতি যেমন (পলও) ঠিক সেই জাতির মানুষের মত হয়ে তাদের প্রতারিত করে তাদের মন জয় করতো।
ঠিক একিভাবে যীশুর অনুসারীদের সাথে মিশে, সে তার অনুসারীদের প্রতারিত করে সে তাদের গুরু হয়। আর খ্রীষ্টানরাও অন্ধের মত (পলের) অনুসারী হয়ে গিয়েছে কোন রকম প্রমান ছাড়াই। অথচ যীশু বলেছে তাকে ছাড়া কেউ যেন অন্য কাউকে শিক্ষক হিসেবে গ্রহন না করে প্রমান দেখেন :-
আবার কেউ তোমাদের শিক্ষক বলে যেন না ডাকে, কারণ তোমাদের শিক্ষক একজনই তিনি খ্রীষ্ট। (মথি ২৩/১০)
পল সে ছিল একজন (খুনি - হত্যাকারী) সে যীশুর অনুসারীদের ধরে ধরে হত্যা করতো। খ্রীষ্টধর্মে (পলের) আবির্ভাব হটাৎ করেই হয়েছে। সে খ্রীষ্টানদের কাছে যেয়ে দাবি করে যীশু তাকে পাঠিয়েছে অথচ এর কোন প্রমান নাই গোটা বাইবেলে। খ্রীষ্টানরা (পলের) কথা দিয়েই (পলকে) দলিল দেয় অথচ (যীশু) কখনো তাকে দেখে নাই ও (পলও) যীশুকে কখনো দেখে নাই প্রমান দেখেন :- (০১ করন্থীয় ০৯/০১) (০১ করন্থীয় ১৫/০৮)। যীশু কখনোই বলে নাই (পলকে) আমি পাঠিয়েছি তোমরা তাকে মেনে চল। যার সাথে কখনো দেখাই হয় নাই তাকে যীশু কিভাবে পাঠাবে খ্রীষ্টানদের কাছে আপনারাই বিবেচনা করেন।
(পল) যে যীশুর শিক্ষা গ্রহনকারী মানুষদের হত্যা ও নির্যাতন করতো তার প্রমান দেখেন :-
পল বললো, খ্রীষ্টের পথে যাঁরা চলত তাদের আমি নির্যাতন করতাম, এমনকি কারো কারো মৃত্যু ঘটিয়েছিলাম৷ স্ত্রী, পুরুষ সকলকেই আমি গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখতাম। (শিষ্যচরিত্র ২২/০৪)
আরো প্রমান দেখেন এই সব জায়গায় :- (শিষ্যচরিত্র ০৮/০১) (শিষ্যচরিত্র ০৮/০২-০৩) (শিষ্যচরিত্র ০৯/০১) (শিষ্যচরিত্র ০৯/০২) (শিষ্যচরিত্র ২২/০৫) (শিষ্যচরিত্র ২৬/০৯) (শিষ্যচরিত্র ২৬/১০) (শিষ্যচরিত্র ২৬/১১) (শিষ্যচরিত্র ২৬/১২) (গালাতীয় ০১/১৩ (০১ করিন্থীয় ১৫/০৯) (ফিলিপ্পীয় ০৩/০৬)
এই সব জায়গায় পল নিজের মুখে নিজেই স্বীকারোক্তি দিলেন সে একজন (খুনি হত্যাকারি) ছিলেন।
পল খ্রীষ্টানদের কাছে যেয়ে দাবি করে যীশু তাকে শিষ্যত্ব প্রদান করেছে। যা সম্পূর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট কথা ছিল। কারন পল ছিল প্রতারক উপরের প্রমান করেছি। সে প্রতারনার মাধ্যমে মানুষের মন জয় করতো আর তাদের গুরু হত। খ্রীষ্টানদের গুরু হওয়ার জন্য পল এমন কথা বলেছিলেন খ্রীষ্টানদের কাছে যাতে সহজেই তাদের গুরু হতে পারে। আর যেহেতু সে প্রতারক ছিল তার জন্য সে সহজেই প্রতারনার মাধ্যমে খ্রীষ্টানদের গুরু হতে পেরেছিল।
এবার দেখেন পলের বক্তব্য অনুযায়ী যীশু যে পলকে শিষ্যত্ব প্রদান করেছে এই কথাটা যে মিথ্যা তার প্রমান দেখেন বাইবেল থেকেই।
পলের যীশুর-শিষ্য হওয়ার কাহিনীটা "শিষ্যচরিত্র" ০৯, ২২ ও ২৬ অধ্যায়ে তিন স্থানে তিনভাবে দেওয়া হয়েছে।
আসুন প্রথমে (শিষ্যচরিত্র ০৯/০৩-০৭) এর বক্তব্য দেখি :-
* তাই শৌল দম্মেশকে রওনা হয়ে গেলেন৷ যেতে যেতে তিনি যখন দম্মেশকের কাছাকাছি এলেন, সেই সময় হঠাৎ আকাশ থেকে এক উজ্জ্বল আলো তাঁর চারিদিকে চমকে উঠল। (শিষ্যচরিত্র ০৯/০৩)
* তিনি মাটিতে পড়ে গেলেন এবং এক বানি শুনতে পেলেন, সেই বানি তাঁকে বলছে; 'শৌল, শৌল! কেন তুমি আমাকে এত কষ্ট দিচ্ছ? (শিষ্যচরিত্র ০৯/০৪)
* শৌল বললেন, 'প্রভু আপনি কে?'তিনি বললেন, 'আমি যীশু; তুমি যার ক্ষতি করার চেষ্টা করছ। (শিষ্যচরিত্র ০৯/০৫)
* ওঠ, ঐ শহরে যাও আর তোমায় কি করতে হবে তা তোমায় বলা হবে। (শিষ্যচরিত্র ০৯/০৬)
* যে সব পুরুষ তাঁর সঙ্গে যাচ্ছিল তারা নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তারা সেই বানি শুনতে পেল, কিন্তু কাউকে দেখতে পেল না৷ (শিষ্যচরিত্র ০৯/০৭)
> নোেট করেন :- দেখেন এখানে বলা হচ্ছে :- তার সহপথিকেরা অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো, তারা ঐ বাণী শুনলো, কিন্তু কাউকেও দেখতে পেল না। (hearing a voice, but seeing no man)。
> এবার দেখেন (শিষ্যচরিত্র ২২/০৬-১০) এর বক্তব্য :-
* চলতে চলতে দম্মেশকের কাছাকাছি এলে, দুপুর বেলা হঠাৎ আকাশ থেকে তীব্র আলোর ছটা আমার চারদিকে ছেয়ে গেল। (শিষ্যচরিত্র ২২/০৬)
* আমি মাটিতে পড়ে গেলাম আর এক রব শুনলাম, পৌল, পৌল তুমি কেন আমায় নির্যাতন করছ? (শিষ্যচরিত্ৰ ২২/০৭)
* আমি বললাম, 'প্রভু, আপনি কে?' তিনি আমায় বললেন, 'যাকে তুমি নির্যাতন করছ, আমি সেই নাসরতীয় যীশু। (শিষ্যচরিত্ৰ ২২/০৮)
* যাঁরা আমার সঙ্গে ছিল তারা সেই আলো দেখতে পেয়েছিল, কিন্তু যিনি আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন, তাঁর রব তারা শুনতে পায় নি। (শিষ্যচরিত্ৰ ২২/০৯)
* আমি বললাম, 'প্রভু আমায় কি করতে হবে?' প্রভু আমায় বললেন, ওঠ, দম্মেশকে যাও। যে কাজের জন্য তোমাকে মনোনীত করা হয়েছে তা সেখানেই তোমাকে বলা হবে। (শিষ্যচরিত্ৰ ২২/১০)
> নোট করেন :- দেখেন এখানে বলা হচ্ছে:- যারা পলের সঙ্গে ছিল, তারা সেই আলো দেখতে পেল, কিন্তু যিনি আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন তাঁর বাণী শুনতে পেল না। (And they that were with me saw indeed the light, and were afraid; but they heard not the voice of him that spoke to me)。
(শিষ্যচরিত্ৰ ০৯/০৭) এই জায়গায় বলা হয়েছে পলের সাথে যারা ছিল তারা যীশুর কথা শুনতে পেয়েছিল কিন্তু (শিষ্যচরিত্ৰ ২২/০৯) এই জায়গায় বলা হচ্ছে যারা পলের সাথে ছিল তারা যীশুর কথা শুনতে পায় নাই। কি হাস্যকর তথ্য আপনারাই বিবেচনা করেন পল খ্রীষ্টানদের কাছে সত্য বলেছে নাকি মিথ্যা কথা বলে প্রতারনা করেছে।
জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বর্ণনায় এত বৈপরীত্য! সহ-পথিকরা কথা শুনল কিন্তু আলো দেখল না! তারা আলো দেখল কিন্তু কথা শুনল না!!!
এবার দেখেন (শিষ্যচরিত্র ২৬/১৩-১৮) এর বক্তব্য :-
* পথে একদিন দুপুরবেলায়, হে মহারাজ আমি দেখলাম সূর্যের চেয়েও এক উজ্জ্বল আলো আকাশ থেকে আমার ও আমার সহযাত্রীদের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল। (শিষ্যচরিত্র ২৬/১৩)
* আমরা মাটিতে পড়ে গেলাম, আর এক রব শুনতে পেলাম যা ইব্রীয় ভাষায় আমায় বলছে, 'শৌল, শৌল, আমায় নির্যাতন করছ কেন? আমার বিরুদ্ধে গিয়ে তুমি নিজেরই ক্ষতি করছ। (শিষ্যচরিত্র ২৬/১৪)
* তখন আমি বললাম, 'প্রভু, আপনি কে? প্রভু বললেন, 'আমি যীশু, যাকে তুমি নির্যাতন করছ। (শিষ্যচরিত্র ২৬/১৫)
* তুমি নিজের পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াও! আমার সেবক হবার জন্যই আমি তোমাকে মনোনীত করেছি। তুমি অন্যের কাছে আমার সাক্ষী হবে। তুমি যে যে বিষয় আজ দেখলে ও ভবিষ্যতে যা যা আমি তোমায় দেখাব, সে সব সকল লোকের কাছে সাক্ষী দাও। এইজন্যই তোমার কাছে আজ আমি নিজে দেখা দিয়েছি। (শিষ্যচরিত্র ২৬/১৬)
* তোমার আপন লোক ইহুদীদের হাত থেকে তোমায় আমি রক্ষা করব। আর আমি তোমাকে অইহুদীদের কাছে পাঠাচ্ছি। (শিষ্যচরিত্র ২৬/১৭)
* তুমি তাদের চোখ খুলে দেবে যেন তারা সত্য দেখে ও অন্ধকার থেকে আলোতে ফিরে আসে; আর শয়তানের কর্তৃত্ব থেকে মুক্ত হয়ে ঈশ্বরের প্রতি ফিরলে তাদের সব পাপ ক্ষমা হবে৷ আমার উপর বিশ্বাস করে যাঁরা পবিত্র হয়েছে, তারা তাদের সহভাগী হবে। (শিষ্যচরিত্র ২৬/১৮)
> নোট করেন :- দেখেন উপরের (শিষ্যচরিত্র ০৯/০৬) ও (শিষ্যচরিত্র ২২/১০) এই দু'স্থানে বলা হয়েছে যে, পলের কী করণীয় সে বিষয়ে যীশু তাকে তখন কোনো নির্দেশ দিলেন না; শুধু বললেন, দামেশকে যাও, সেখানেই সব বলা হবে। অথচ (শিষ্যচরিত্র ২৬/১৬-১৮) এই জায়গায় যীশু পলকে তার সব দায়িত্ব ও করণীয় কি তা বিস্তারিত বলে দিয়েছে দামেশকে যাওয়ার আগেই। যেহেতু যীশু পলকে বলেছে দামেশকে যাওয়ার পর তাকে কি করতে হবে সেটা বলা হবে। এখানেও বৈপরীত্য হয়ে গেছে।
মহান আল্লাহ বলেন :-
বল, 'সত্য এসে গেছে আর মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে, মিথ্যা তো বিলুপ্ত হওয়ারই। (সূরা বানী ইসরাইল আয়াত : ৮১)
আরো প্রমান দেখেন পল যে খ্রীষ্টানদের প্রতারিত করেছে। তাদেরকে মিথ্যা বলেছে, যে যীশু আমাকে শিষ্যত্ব প্রদান করেছে।
* সব কিছু করার অধিকার আমার আছে,' কিন্তু সব কিছু করা যে মঙ্গলকর তা নয়। হ্যাঁ, 'সব কিছু করার অধিকার আমার আছে,' কিন্তু আমি কোন কিছুর দাস হব না। (০১ করন্থীয় ০৬/১২)
* আমি স্বাধীন! আমি কারোর অধীনে নেই, তবু আমি সকলের দাস হলাম, যাতে অনেককে আমি খ্রীষ্টের জন্য লাভ করতে পারি। (০১ করন্থীয় ০৯/১৯)
এখানেও সাধু পল দাবি করছেন যে, তিনি কোনো শরীয়ত, আইন বা বিধানের কর্তৃত্বাধীন নন। তিনি সকল বিধিবিধানের ঊর্ধ্বে। পাপ, পূণ্য, সত্য, মিথ্যা, হালাল, হারাম কোনো কিছুই তার জন্য নিষিদ্ধ বা অবৈধ নয়, বরং সবই বৈধ।
পল এখানে নিজেই স্বীকার করেছে সে কোনো শরীয়ত, আইন বা বিধানের কর্তৃত্বাধীন নন। তার মানে দাড়াল সে যীশুর বিধানেরও আওতায় না। সে যীশুর শিষ্যও না। তিনি কোন বিধান মানেন না।
আরে প্রমান দেখেন পল নিজেই যীশুর বিরোধিতা করেছে তার শিষ্য দাবি করার পরও এবং যীশুকে ছাড়াই তিনি বাইবেলের ১৪ টা পুস্তক রচিত করেছে।
সাধু পল কখনোই যীশুর শিষ্যদের থেকে ইঞ্জিল শিক্ষা করেননি বরং তিনি যীশুর শিষ্যদের থেকে দূরে থাকতেন প্রমান দেখেন :- (গালাতীয় ১/১৬-১৭)। তিনি নিজেই ইঞ্জিলের রচয়িতা বলে প্রচার করতেন এবং বলতেন: 'my gospel': 'আমার ইঞ্জিল' প্রমান দেখেন :- (রোমীয় ০২/১৬, ১৬/২৫) (০২ তীমথিয় ০২/০৮)।
পল বলেন, তাঁর নিজের ইঞ্জিল ছাড়া অন্য কোনো ইঞ্জিল যদি কেউ প্রচার করে তবে সে অভিশপ্ত প্রমান দেখেন :- (গালাতীয় ০১/০৬-০৮-০৯) (০২-করিন্থীয় ১১/০৪)। পল যীশুর শিষ্য দাবি করার পরও সে বলছে যীশুর ও অন্য কারো বানি প্রচার করলে সে অভিশপ্ত। যীশুর শিষ্য দাবি করার পরও পল যীশুর বিরোধিতা করেই গেছে। এটা কখনো কোন শিষ্যর কথা হতে পারে?
অথচ যীশু তার জীবদ্দশায় ইঞ্জিল প্রচার করেছেন প্রমান দেখেন :- (মথি ০৪/২৩, ০৯/৩৫, ১১/১৫) (মার্ক ০১/১৪-১৫, ০৮/৩৫, ১০/২৯) (লুক ০৯/০৬...)
সাধু পল দাবি করেন যে, যীশু তাঁকে বলেছিলেন :-
তোমার নিজের লোকদের (ইহুদীদের) এবং অ-ইহুদিদের হাত থেকে আমি তোমাকে রক্ষা করব। (শিষ্যচরিত্র ২৬/১৭)
কিন্তু বাস্তবে এ ওয়াদা কার্যকর হয়নি। সাধু পলকে যীশু রক্ষা করেননি; বরং তিনি নিহত হয়েছেন। ৬২ খ্রিষ্টাব্দের দিকে রোমান সরকার তাকে বন্দি করে এবং মৃত্যুদন্ড প্রদান করে। (Microsoft & Encarta ® 2008: Paul)
যীশু এ ওয়াদা কার্যকর হয়নি কারন পল ছিলেন ভন্ড, প্রতারক, মানুষ হত্যাকারি ও মিথ্যাবাদি কারন বাইবেল বলছে :-
* ভন্ড নবীর পরিণতি নিহত হওয়া বা অপমৃত্যু। (দ্বিতীয় বিবরণ ১৮/১৮-২০) (যিহিক্কেল ১৪/০৯-১০)
পল ও অনন্য ভন্ড নবিদের বিষয়ে যীশু নিজেই বলেছেন :-
* ভন্ড ভাববাদীদের থেকে সাবধান। তারা তোমাদের কাছে নিরীহ মেষের ছদ্মবেশে আসে অথচ ভেতরে তারা হিংস্র নেকড়ে বাঘ। (মথি ০৭/১৫)
* আমি একথা বলছি, কারণ অনেক ভন্ড খ্রীষ্ট ও ভন্ড ভাববাদীর উদয় হবে। তারা মহা আশ্চর্য কাজ করবে ও চিহ্ন দেখাবে, যেন লোকদের ঠকাতে পারে। যদি সম্ভব হয় এমনকি ঈশ্বরের মনোনীত লোকদেরও ঠকাবে। (মথি ২৪/২৪)
যীশু আরো বলে যখন তিনি দ্বিতীয়বার পৃথিবীতে আসবেন তখন পলের মত এসব ভন্ড নবিদেরকে যা বলবেন :-
* সেই দিন অনেকে আমায় বলবে, 'প্রভু, প্রভু আমরা কি আপনার নামে ভাববাণী বলিনি? আপনার নামে আমরা কি ভূতদের তাড়াই নি? আপনার নামে আমরা কি অনেক অলৌকিক কাজ করিনি? (মথি ০৭/২২)
* তখন আমি তাদের স্পষ্ট বলব, 'আমি তোমাদের চিনিনা, দুষ্টের দল! আমার সামনে থেকে দূর হও। (মথি ০৭/২৩)
> (মথি ০৭/১৫, ০৭/২২-২৩, ও ২৪/২৪) এই অধ্যায়ের এসব অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ঊনবিংশ শতাব্দীর বৃটিশ দার্ষনিক জিরেমি বেনথাম (Jeremy Bentham) (১৭৪৮ -১৮৩২ খ্রি.) বলেন :-
> তার লেখা একটা প্রসিদ্ধ বই 'Not Paul But Jesus': 'পল নয়, বরং যীশু'। উইকিপিডিয়ায় এবং http://www.jesuswordsonly.com ওয়েবসাইটে পাঠক এ পুস্তক ও সাধু পল কর্তৃক যীশুর ধর্ম বিকৃতি বিষয়ক খ্রিষ্টান পণ্ডিতদের আরো অনেক পুস্তক সম্পর্কে জানতে পারবেন। জিরোমি বেনথাম, পল SPICY CER: "IF Christianity needed an Anti-Christ, they needed look no farther than Paul." খৃস্টধর্ম যদি একজন দাজ্জাল চায় তবে পল ছাড়া আর কাউকে দেখার তাদের প্রয়োজন নেই। ৬৬
> যীশুকে 'প্রভু প্রভু বলেছেন, তাঁর নামে অলৌকিক কাজ ও চিহ্ন-কাজ করেছেন এবং ইশ্বরের বাছাই করা বান্দাদের অর্থাৎ যীশুর সাহাবী-শিষ্যদেরকেও প্রতারনার মাধ্যমে ভুলাতে পেরেছেন এমন ব্যক্তি সাধু পল ছাড়া আর কাউকে দেখা যায় না।
ভন্ড পল যে খ্রীষ্টানদের সাথে প্রতারনার মাধ্যমে তাদের গুরু হয়েছে। এটা আর অস্বীকার করার জায়গা নাই।