📄 বাইবেল পরিচিতি।
খ্রিষ্টানরা তাদের ধর্মীয় গ্রন্থগুলোকে দুভাগে ভাগ করেন:- ০১/ পুরাতন নিয়ম। (Old Testament) ০২/ নতুন নিয়ম। (New Testament)
পুরাতন নিয়মের গ্রন্থাবলি সম্পর্কে তারা দাবি করেন যে, সেগুলো ইহুদি ধর্মের ধর্মগ্রন্থ। অর্থাৎ যীশুর আগমনের পূর্বে (বনি-ইসরাইল) বা ইহুদিদের মধ্যে যে সকল নবী আগমন করেছিলেন তাঁদের গ্রন্থগুলোকে ইহুদিরা ধর্মগ্রন্থ হিসেবে সংকলন করেন। এটাকে খ্রিষ্টানরা তাদের বাইবেলের পুরাতন নিয়ম হিসেবে গণ্য করেন।
নতুন নিয়মের গ্রন্থগুলোর বিষয়ে তারা দাবি করেন যে, এগুলো যীশুর ইঞ্জিল এবং তাঁর শিষ্যদের বা তাঁদের শিষ্যদের লেখা বিভিন্ন গ্রন্থ বা পত্র।
বাইবেলের নামকরন :- প্রচলিত এই বিকৃত বাইবেল এতটাই বিকৃত করেছে খ্রীষ্টানরা যে, গোটা বাইবেলে কোথাও বাইবেল শব্দটা পর্যন্ত নাই। মুসলিম সহ সকল মানুষদের ধোঁকা দেওয়ার জন্য খ্রীষ্টানরা এই বিকৃত বইটিকে তারা বিভিন্ন নাম দিয়েছে, তবে যেসব নাম তারা দিয়েছে তার একটি নামও এই বইটিতে নাই। শুধুমাত্র মানুষদেরকে ধোঁকা দিয়ে খ্রীষ্টান ধর্মের দিকে ধাবিত করার জন্য তারা এসব বাটপারি ও প্রতারনা করে থাকে।
বাইবেল শব্দটা ল্যাটিন ভাষার মাধ্যমে গ্রিক বিবলিয়া শব্দ থেকে আগত। এটা মূলত 'বিবলস' শব্দ থেকে গৃহীত। বিবলস অর্থ ছিল প্যাপিরাস বা কাগজ, যা প্রাচীন ফনিসিয়ান বন্দরনগরী 'বিবলস থেকে আমদানি করা হত। মধ্যযুগে এসে বাইবেলের পুস্তকগুলোকে একীভূত অস্তিত্ব হিসেবে গণ্য করা হত।
বাইবেল শব্দটার অর্থ 'পুস্তক বা 'পুস্তকমালা। আমরা আরো দেখছি যে, প্রাচীন যুগে বাইবেলকে পবিত্র বাইবেল বলার প্রচলন ছিল না। মধ্যযুগে ল্যাটিন ভাষায় কখনো কখনো "বিবলিয়া শব্দটার সাথে 'স্যাকরা (sacra) শব্দ ব্যবহার করা হত, যার অর্থ পবিত্র (sacred)। এ ব্যবহারের ভিত্তিতে ইংরেজিতে (the holy Bible) বা পবিত্র বাইবেল বলার প্রচলন ছিল। বর্তমানে 'বাইবেল' ও পবিত্র বাইবেল উভয় পরিভাষাই দেখতে পাওয়া যায়।
খ্রীষ্টানরা এই বিকৃত বইটিকে যেসব নাম দিয়ে মানুষের সাথে প্রতারনা করে সেই নামগুলো দেখেন :-
(০১) কিতাবুল মোকাদ্দাস।
(০২) ইনজিল শরিফ।
(০৩) পবিত্র বাইবেল।
(০৪) যাবুর শরিফ।
(০৫) তওরাত।
এসব নামগুলো দিয়ে খ্রীষ্টানরা প্রতারনা করে থাকে। অথচ হাস্যকর ব্যাপার হল এই নামগুলো গোটা বাইবেলে কোথাও নাই। শুধুমাত্র মানুষদেরকে খ্রীষ্টান বানানোর জন্য এসব প্রতারনার আশ্রয় নেয় তারা।
যীশুর সময়ে এই বিকৃত বইটির নাম কি ছিল সেই সম্পর্কে এবার জানবো।
(মূসা আঃ) বা মোশি থেকে (ঈসা আঃ) বা যীশু পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার বছর যে ধর্মগ্রন্থটা প্রচলিত ছিল তার নিশ্চয় একটা নাম ছিল। কী নাম ছিল তার? বাইবেল থেকে জানা যায় যে, যীশু ও তাঁর শিষ্যরা বাইবেল বা 'কিতাবুল মোকাদ্দস নাম জানতেন না। বাইবেল' নামক গ্রন্থটা বুঝাতে তাঁরা নিম্নের পরিভাষা ব্যবহার করতেন :-
(১) (The Scripture/Scriptures) এ শব্দটার মূল অর্থ :- লিখিত বিষয় (what is written) বা লিখিত পুস্তক। ব্যবহারিকভাবে এর অর্থ ধর্মগ্রন্থ বা লিখিত শাস্ত্র প্রমান দেখেন :-
> (মথি ২১/৪২) (২২/২৯) (২৬/৫৪) (২৬/৫৬) > (মার্ক ১২/১০) (১২/২৪) (১৪/৪৯) (১৫/২৮) > (লুক ০৪/২১) (২৪/২৭) (২৪/৩২)
(২) (The Law and the Prophets) অর্থাৎ তৌরাত ও নবীগণ। কেরির অনুবাদে ব্যবস্থা ও ভাববাদীগণ প্রমান দেখেন :-
> (মথি ০৫/১৭) (০৭/১২) (১১/১৩) (২২/৪০) > (লুক ১৬/১৬) (২৪/৪৪) > (যোহন ০১/৪৫) > (প্রেরিত ১৩/১৫) (২৪/১৪) (২৮/২৩) > (রোমীয় ০৩/২১)
নবীগণ ও গীতসংহিতা অথবা দাউদের গীতসংহিতা প্রমান দেখেন :- (লুক ২৪/৪৪) (লুক ২০/৪২) (প্রেরিত ০১/২০)
★ তিনি তাঁদের বললেন, আমি যখন তোমাদের সঙ্গে ছিলাম, তখনই তোমাদের এসব কথা বলেছিলাম, আমার সম্বন্ধে মোশির বিধি-ব্যবস্থায়, ভাববাদীদের पुस्तকে ও গীতসংহিতায় যা কিছু লেখা হয়েছে তা পূর্ণ হতেই হবে৷ (লুক ২৪/৪৪)
★ the law of Moses, and in the prophets, and in the psalms... (Luke 24/44)
দেখেন এখানে স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে প্রাচীন যুগে কি বলা হত এই বিকৃত বইটিকে।
আলহামদুলিল্লাহ বাইবেল থেকেই প্রমানিত খ্রীষ্টান ধর্ম একটি প্রতারনার ধর্ম ও তাদের বাইবেল একটি বিকৃত গ্রন্থ। তারা শুধুমাত্র মানুষদেরকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য এসব প্রতারনা করে থাকে।
খ্রিষ্টানরা তাদের ধর্মীয় গ্রন্থগুলোকে দুভাগে ভাগ করেন:- ০১/ পুরাতন নিয়ম। (Old Testament) ০২/ নতুন নিয়ম। (New Testament)
পুরাতন নিয়মের গ্রন্থাবলি সম্পর্কে তারা দাবি করেন যে, সেগুলো ইহুদি ধর্মের ধর্মগ্রন্থ। অর্থাৎ যীশুর আগমনের পূর্বে (বনি-ইসরাইল) বা ইহুদিদের মধ্যে যে সকল নবী আগমন করেছিলেন তাঁদের গ্রন্থগুলোকে ইহুদিরা ধর্মগ্রন্থ হিসেবে সংকলন করেন। এটাকে খ্রিষ্টানরা তাদের বাইবেলের পুরাতন নিয়ম হিসেবে গণ্য করেন।
নতুন নিয়মের গ্রন্থগুলোর বিষয়ে তারা দাবি করেন যে, এগুলো যীশুর ইঞ্জিল এবং তাঁর শিষ্যদের বা তাঁদের শিষ্যদের লেখা বিভিন্ন গ্রন্থ বা পত্র।
বাইবেলের নামকরন :- প্রচলিত এই বিকৃত বাইবেল এতটাই বিকৃত করেছে খ্রীষ্টানরা যে, গোটা বাইবেলে কোথাও বাইবেল শব্দটা পর্যন্ত নাই। মুসলিম সহ সকল মানুষদের ধোঁকা দেওয়ার জন্য খ্রীষ্টানরা এই বিকৃত বইটিকে তারা বিভিন্ন নাম দিয়েছে, তবে যেসব নাম তারা দিয়েছে তার একটি নামও এই বইটিতে নাই। শুধুমাত্র মানুষদেরকে ধোঁকা দিয়ে খ্রীষ্টান ধর্মের দিকে ধাবিত করার জন্য তারা এসব বাটপারি ও প্রতারনা করে থাকে।
বাইবেল শব্দটা ল্যাটিন ভাষার মাধ্যমে গ্রিক বিবলিয়া শব্দ থেকে আগত। এটা মূলত 'বিবলস' শব্দ থেকে গৃহীত। বিবলস অর্থ ছিল প্যাপিরাস বা কাগজ, যা প্রাচীন ফনিসিয়ান বন্দরনগরী 'বিবলস থেকে আমদানি করা হত। মধ্যযুগে এসে বাইবেলের পুস্তকগুলোকে একীভূত অস্তিত্ব হিসেবে গণ্য করা হত।
বাইবেল শব্দটার অর্থ 'পুস্তক বা 'পুস্তকমালা। আমরা আরো দেখছি যে, প্রাচীন যুগে বাইবেলকে পবিত্র বাইবেল বলার প্রচলন ছিল না। মধ্যযুগে ল্যাটিন ভাষায় কখনো কখনো "বিবলিয়া শব্দটার সাথে 'স্যাকরা (sacra) শব্দ ব্যবহার করা হত, যার অর্থ পবিত্র (sacred)। এ ব্যবহারের ভিত্তিতে ইংরেজিতে (the holy Bible) বা পবিত্র বাইবেল বলার প্রচলন ছিল। বর্তমানে 'বাইবেল' ও পবিত্র বাইবেল উভয় পরিভাষাই দেখতে পাওয়া যায়।
খ্রীষ্টানরা এই বিকৃত বইটিকে যেসব নাম দিয়ে মানুষের সাথে প্রতারনা করে সেই নামগুলো দেখেন :-
(০১) কিতাবুল মোকাদ্দাস।
(০২) ইনজিল শরিফ।
(০৩) পবিত্র বাইবেল।
(০৪) যাবুর শরিফ।
(০৫) তওরাত।
এসব নামগুলো দিয়ে খ্রীষ্টানরা প্রতারনা করে থাকে। অথচ হাস্যকর ব্যাপার হল এই নামগুলো গোটা বাইবেলে কোথাও নাই। শুধুমাত্র মানুষদেরকে খ্রীষ্টান বানানোর জন্য এসব প্রতারনার আশ্রয় নেয় তারা।
যীশুর সময়ে এই বিকৃত বইটির নাম কি ছিল সেই সম্পর্কে এবার জানবো।
(মূসা আঃ) বা মোশি থেকে (ঈসা আঃ) বা যীশু পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার বছর যে ধর্মগ্রন্থটা প্রচলিত ছিল তার নিশ্চয় একটা নাম ছিল। কী নাম ছিল তার? বাইবেল থেকে জানা যায় যে, যীশু ও তাঁর শিষ্যরা বাইবেল বা 'কিতাবুল মোকাদ্দস নাম জানতেন না। বাইবেল' নামক গ্রন্থটা বুঝাতে তাঁরা নিম্নের পরিভাষা ব্যবহার করতেন :-
(১) (The Scripture/Scriptures) এ শব্দটার মূল অর্থ :- লিখিত বিষয় (what is written) বা লিখিত পুস্তক। ব্যবহারিকভাবে এর অর্থ ধর্মগ্রন্থ বা লিখিত শাস্ত্র প্রমান দেখেন :-
> (মথি ২১/৪২) (২২/২৯) (২৬/৫৪) (২৬/৫৬) > (মার্ক ১২/১০) (১২/২৪) (১৪/৪৯) (১৫/২৮) > (লুক ০৪/২১) (২৪/২৭) (২৪/৩২)
(২) (The Law and the Prophets) অর্থাৎ তৌরাত ও নবীগণ। কেরির অনুবাদে ব্যবস্থা ও ভাববাদীগণ প্রমান দেখেন :-
> (মথি ০৫/১৭) (০৭/১২) (১১/১৩) (২২/৪০) > (লুক ১৬/১৬) (২৪/৪৪) > (যোহন ০১/৪৫) > (প্রেরিত ১৩/১৫) (২৪/১৪) (২৮/২৩) > (রোমীয় ০৩/২১)
নবীগণ ও গীতসংহিতা অথবা দাউদের গীতসংহিতা প্রমান দেখেন :- (লুক ২৪/৪৪) (লুক ২০/৪২) (প্রেরিত ০১/২০)
★ তিনি তাঁদের বললেন, আমি যখন তোমাদের সঙ্গে ছিলাম, তখনই তোমাদের এসব কথা বলেছিলাম, আমার সম্বন্ধে মোশির বিধি-ব্যবস্থায়, ভাববাদীদের पुस्तকে ও গীতসংহিতায় যা কিছু লেখা হয়েছে তা পূর্ণ হতেই হবে৷ (লুক ২৪/৪৪)
★ the law of Moses, and in the prophets, and in the psalms... (Luke 24/44)
দেখেন এখানে স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে প্রাচীন যুগে কি বলা হত এই বিকৃত বইটিকে।
আলহামদুলিল্লাহ বাইবেল থেকেই প্রমানিত খ্রীষ্টান ধর্ম একটি প্রতারনার ধর্ম ও তাদের বাইবেল একটি বিকৃত গ্রন্থ। তারা শুধুমাত্র মানুষদেরকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য এসব প্রতারনা করে থাকে।
খ্রিষ্টানরা তাদের ধর্মীয় গ্রন্থগুলোকে দুভাগে ভাগ করেন:- ০১/ পুরাতন নিয়ম। (Old Testament) ০২/ নতুন নিয়ম। (New Testament)
পুরাতন নিয়মের গ্রন্থাবলি সম্পর্কে তারা দাবি করেন যে, সেগুলো ইহুদি ধর্মের ধর্মগ্রন্থ। অর্থাৎ যীশুর আগমনের পূর্বে (বনি-ইসরাইল) বা ইহুদিদের মধ্যে যে সকল নবী আগমন করেছিলেন তাঁদের গ্রন্থগুলোকে ইহুদিরা ধর্মগ্রন্থ হিসেবে সংকলন করেন। এটাকে খ্রিষ্টানরা তাদের বাইবেলের পুরাতন নিয়ম হিসেবে গণ্য করেন।
নতুন নিয়মের গ্রন্থগুলোর বিষয়ে তারা দাবি করেন যে, এগুলো যীশুর ইঞ্জিল এবং তাঁর শিষ্যদের বা তাঁদের শিষ্যদের লেখা বিভিন্ন গ্রন্থ বা পত্র।
বাইবেলের নামকরন :- প্রচলিত এই বিকৃত বাইবেল এতটাই বিকৃত করেছে খ্রীষ্টানরা যে, গোটা বাইবেলে কোথাও বাইবেল শব্দটা পর্যন্ত নাই। মুসলিম সহ সকল মানুষদের ধোঁকা দেওয়ার জন্য খ্রীষ্টানরা এই বিকৃত বইটিকে তারা বিভিন্ন নাম দিয়েছে, তবে যেসব নাম তারা দিয়েছে তার একটি নামও এই বইটিতে নাই। শুধুমাত্র মানুষদেরকে ধোঁকা দিয়ে খ্রীষ্টান ধর্মের দিকে ধাবিত করার জন্য তারা এসব বাটপারি ও প্রতারনা করে থাকে।
বাইবেল শব্দটা ল্যাটিন ভাষার মাধ্যমে গ্রিক বিবলিয়া শব্দ থেকে আগত। এটা মূলত 'বিবলস' শব্দ থেকে গৃহীত। বিবলস অর্থ ছিল প্যাপিরাস বা কাগজ, যা প্রাচীন ফনিসিয়ান বন্দরনগরী 'বিবলস থেকে আমদানি করা হত। মধ্যযুগে এসে বাইবেলের পুস্তকগুলোকে একীভূত অস্তিত্ব হিসেবে গণ্য করা হত।
বাইবেল শব্দটার অর্থ 'পুস্তক বা 'পুস্তকমালা। আমরা আরো দেখছি যে, প্রাচীন যুগে বাইবেলকে পবিত্র বাইবেল বলার প্রচলন ছিল না। মধ্যযুগে ল্যাটিন ভাষায় কখনো কখনো "বিবলিয়া শব্দটার সাথে 'স্যাকরা (sacra) শব্দ ব্যবহার করা হত, যার অর্থ পবিত্র (sacred)। এ ব্যবহারের ভিত্তিতে ইংরেজিতে (the holy Bible) বা পবিত্র বাইবেল বলার প্রচলন ছিল। বর্তমানে 'বাইবেল' ও পবিত্র বাইবেল উভয় পরিভাষাই দেখতে পাওয়া যায়।
খ্রীষ্টানরা এই বিকৃত বইটিকে যেসব নাম দিয়ে মানুষের সাথে প্রতারনা করে সেই নামগুলো দেখেন :-
(০১) কিতাবুল মোকাদ্দাস।
(০২) ইনজিল শরিফ।
(০৩) পবিত্র বাইবেল।
(০৪) যাবুর শরিফ।
(০৫) তওরাত।
এসব নামগুলো দিয়ে খ্রীষ্টানরা প্রতারনা করে থাকে। অথচ হাস্যকর ব্যাপার হল এই নামগুলো গোটা বাইবেলে কোথাও নাই। শুধুমাত্র মানুষদেরকে খ্রীষ্টান বানানোর জন্য এসব প্রতারনার আশ্রয় নেয় তারা।
যীশুর সময়ে এই বিকৃত বইটির নাম কি ছিল সেই সম্পর্কে এবার জানবো।
(মূসা আঃ) বা মোশি থেকে (ঈসা আঃ) বা যীশু পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার বছর যে ধর্মগ্রন্থটা প্রচলিত ছিল তার নিশ্চয় একটা নাম ছিল। কী নাম ছিল তার? বাইবেল থেকে জানা যায় যে, যীশু ও তাঁর শিষ্যরা বাইবেল বা 'কিতাবুল মোকাদ্দস নাম জানতেন না। বাইবেল' নামক গ্রন্থটা বুঝাতে তাঁরা নিম্নের পরিভাষা ব্যবহার করতেন :-
(১) (The Scripture/Scriptures) এ শব্দটার মূল অর্থ :- লিখিত বিষয় (what is written) বা লিখিত পুস্তক। ব্যবহারিকভাবে এর অর্থ ধর্মগ্রন্থ বা লিখিত শাস্ত্র প্রমান দেখেন :-
> (মথি ২১/৪২) (২২/২৯) (২৬/৫৪) (২৬/৫৬)
> (মার্ক ১২/১০) (১২/২৪) (১৪/৪৯) (১৫/২৮)
> (লুক ০৪/২১) (২৪/২৭) (২৪/৩২)
(২) (The Law and the Prophets) অর্থাৎ তৌরাত ও নবীগণ। কেরির অনুবাদে ব্যবস্থা ও ভাববাদীগণ প্রমান দেখেন :-
> (মথি ০৫/১৭) (০৭/১২) (১১/১৩) (২২/৪০)
> (লুক ১৬/১৬) (২৪/৪৪)
> (যোহন ০১/৪৫)
> (প্রেরিত ১৩/১৫) (২৪/১৪) (২৮/২৩)
> (রোমীয় ০৩/২১)
নবীগণ ও গীতসংহিতা অথবা দাউদের গীতসংহিতা প্রমান দেখেন :- (লুক ২৪/৪৪) (লুক ২০/৪২) (প্রেরিত ০১/২০)
* তিনি তাঁদের বললেন, আমি যখন তোমাদের সঙ্গে ছিলাম, তখনই তোমাদের এসব কথা বলেছিলাম, আমার সম্বন্ধে মোশির বিধি-ব্যবস্থায়, ভাববাদীদের পুস্তকে ও গীতসংহিতায় যা কিছু লেখা হয়েছে তা পূর্ণ হতেই হবে৷ (লুক ২৪/৪৪)
* the law of Moses, and in the prophets, and in the psalms... (Luke 24/44)
দেখেন এখানে স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে প্রাচীন যুগে কি বলা হত এই বিকৃত বইটিকে।
আলহামদুলিল্লাহ বাইবেল থেকেই প্রমানিত খ্রীষ্টান ধর্ম একটি প্রতারনার ধর্ম ও তাদের বাইবেল একটি বিকৃত গ্রন্থ। তারা শুধুমাত্র মানুষদেরকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য এসব প্রতারনা করে থাকে।
📄 ট্রিনিটি মতবাদ ও ট্রিনিটি সম্পর্কে ধারনা।
প্রথমেই বলে রাখি (বাইবেল ও কোরআন) অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তা একজনই। দুই ধর্মে কোথাও বলা হয় নাই (ট্রীনিটি) অর্থাৎ তিনজন ইশ্বরে বিশ্বাস করার কথা।
> বাইবেল ও কোরআন অনুযায়ী (ইশ্বর - আল্লাহ) একজনই। এবার আসেন দেখি বাইবেল ও কোরআন কি বলে।
* মোশি বলছেন হে ইসরাইল বাসী, শোনো আমাদের ইশ্বর শুধুমাত্র একজন। (দ্বিতীয় বিবরন ০৬/০৪)
* যিশু খ্রিষ্ট বলছেন, হে ইসরাইলী বাসী শোনো, আমাদের প্রভু ইশ্বর শুধুমাত্র একজন-ই। (মার্ক ১২/২৯)
- মহান আল্লাহ বলেন, বলুন তিনি আল্লাহ এক। (সুরা ইখলাস : ০১)
> এবার আসেন দেখি খ্রীষ্টানরা ট্রিনিটির ব্যাখ্যা যেভাবে দেয় সেটা খন্ডন করি।
> খ্রীষ্টানরা বলে থাকে ইশ্বর হল একজনই, তবে তার সত্তা তিন অবস্থায় থাকে, মানে পিতা, পুত্র, পবিত্র আত্মা। এটাই হল খ্রীষ্টানদের দাবি, বিশ্বাস ও যুক্তি।
> খ্রীষ্টানরা এই তিন সত্তার ব্যাখ্যা দেয় পানির উদাহরণ দিয়ে। পানি যেমন তিন অবস্থায় থাকতে পারে কঠিন, তরল, বায়বীয় ঠিক একিভাবে খ্রীষ্টানদের ইশ্বর তিন অবস্থায় থাকতে পারে। এটাই হল তাদের যুক্তি।
> এবার এসব যুক্তি খন্ডন করবো ইনশাআল্লাহ।
> প্রথমেই বলে রাখি গোটা বাইবেলে কোথাও (ট্রীনিটি) শব্দটা পর্যন্ত নাই অথচ এরা (ট্রীনিটিতে) বিশ্বাস করে বসে আছে। তাদের বিশ্বাস মিথ্যা সেটাই প্রমান করবো ইনশাআল্লাহ।
> দেখেন তাদের ইশ্বর তিন অবস্থায় থাকতে পারে পিতা, পুত্র, পবিত্র আত্মা। ঠিক পানি যেভাবে থাকে কঠিন, তরল, বায়বীয়।
আমরা জানি পানি তিন অবস্থায় থাকলেও তার উপাদান একি থাকে (H2O) অর্থাৎ পানির একটি অণুতে দু'টি (হাইড্রোজেন পরমাণু) ও একটি (অক্সিজেন পরমাণুর) সাথে সমযোজী বন্ধনে আবদ্ধ থাকে। পদার্থের তিনটি অবস্থাতেই পানির এই দুটি উপাদান ও অস্তিত্ব বিদ্যমান থাকে।
তার মানে দাড়াল বাইবেলের ইশ্বর তিন অবস্থায় থাকতে পারে, তবে তার উপাদান একি থাকে / মানে সত্তা একিই থাকে। এই সত্তা তিন ব্যাক্তির মধ্যেই বিদ্যমান থাকে এটাই হল খ্রীষ্টানদের যুক্তি, তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী।
এখান থেকে আমরা বুঝতে পারলাম যে বাইবেলের ইশ্বরের সত্তা এক, আর ব্যাক্তি আলাদা। এই সত্তা (পিতা, পুত্র, পবিত্র আত্মা) তিনজনের মধ্যেই আছে যেহেতু সত্তায় তারা এক। এই সত্তা যদি যীশুর কাছে থাকে আর এই সত্তা যদি কোন একটা বিষয় জানে তাহলে (পিতা ও পবিত্র আত্মা) অটোমেটিকভাবে সেই বিষয়টা জেনে যাবে।। আবার এই সত্তা যদি পিতার কাছে থাকে তাহলে (যীশু ও পবিত্র আত্মাও) অটোমেটিকভাবে বিষয়টা জেনে যাবে। আবার এই সত্তা যদি পবিত্র আত্মার কাছে থাকে তাহলে (যীশু ও পিতা) অটোমেটিকভাবে জেনে যাবে যেহেতু সত্তায় তারা এক! মোটকথা কোন একজন কোন একটি বিষয় জানলে সেটা অটোমেটিকভাবে বাকি সবাই জেনে যাবে। যেমনটা পানিরও ক্ষেত্রে একি কঠিন, তরল, বায়বীয় এই তিন অবস্থাতেই পানির উপাদান এক থাকে (H2O) ।
কিন্তু খ্রীষ্টানদের বিশ্বাস ও অযৌক্তিক ট্রীনিটির ব্যাখ্যা একদম দুমড়ে মুচকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে যীশু তার কথার মাধ্যমে। দেখেন বাইবেলে যীশু নিজের মুখে কি বলছে :-
* সেই দিন ও মুহূর্তের কথা কেউ জানে না, এমন কি স্বর্গদূতেরা অথবা পুত্র নিজেও তা জানে না, কেবলমাত্র পিতা (ঈশ্বর) তিনিই জানেন। (মথি ২৪/৩৬)
* এলি, এলি লামা শবক্তানী? যার অর্থ, ঈশ্বর আমার, ঈশ্বর আমার, তুমি কেন আমায় ত্যাগ করেছ। (মথি ২৭/৪৬) (মার্ক ১৫/৩৪)
দেখেন যীশু সেই দিনের কথা কেউ জানে না বলতে (কিয়ামতের) কথা বলছে। মানে কিয়ামত কবে ঘটবে সেই কথা একমাত্র পিতা ছাড়া কেউ জানে না।
এখান থেকে আমরা বুঝতে পারলাম যে যীশু ইশ্বর না কারন যীশু যদি ইশ্বর হত তাহলে এই কিয়ামত দিবসের কথা যীশু নিজেও জানতো পবিত্র আত্মা ও জানতো। কিন্তু তা হল না তার বিপরীতটা হল। এখান থেকে বোঝা গেল ট্রীনিটি বলতে কিছুই নাই। ইশ্বর একজনই সেটা হল (পিতা- ইশ্বর)।
যীশু যদি ইশ্বর হত তাহলে সে অবশ্যই জানতো কিয়ামত দিবসের কথা কারন তার কাছেও সত্তা ছিল আর যেহেতু সত্তায় তারা এক। এখানে বোঝা গেল তার কাছে কোন সত্তা নাই সে একজন মানুষ সে ইশ্বর না। সে তার (পিতা-ইশ্বরের) আদেশ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতেন।
আবার দেখেন যীশুকে ক্রুশে দেওয়ার আগে যীশু ইশ্বরের কাছে প্রর্থনা করছে, হে ইশ্বর কেন তুমি আমায় ত্যাগ করছো? যীশু যদি ইশ্বর হত তাহলে তিনি আবার কোন ইশ্বরের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেছিল? যীশুর কাছেও তো তখন সত্তা ছিল! আর সত্তা থাকার পরও কেন অন্য ইশ্বরের কাছে সাহায্য চাবে? এখান থেকে প্রমান হয় যীশু ইশ্বর ছিল না। বরং সে একজন মানুষ ছিল মাত্র।
এখান থেকে প্রমানিত যে, সত্তা আর ব্যাক্তি তারা আলাদা আলাদা কেউ ছিল। তারা যে আলাদা আলাদা তা প্রমান উপরে করেছি। আরেকটি প্রমান দেখেন :-
যখন যীশুকে ক্রুশে দেওয়া হয়েছিল তখন সেখানকার মানুষ তাকে বলেছিল, যদি তুমি ক্রুশ থেকে নেমে আসতে পার আমরা তোমাকে বিশ্বাস করবো তুমি ইশ্বর।
> মথির বক্তব্য অনুযায়ী :-
* সেই সময় ঐ রাস্তা দিয়ে যে সব লোক যাতায়াত করছিল, তারা তাদের মাথা নেড়ে তাঁকে ঠাট্টা করে বলল। (মথি ২৭/৩৯)
* তুমি না মন্দির ভেঙ্গে আবার তা তিন দিনের মধ্যে তৈরী করতে পার! তাহলে এখন নিজেকে রক্ষা কর। তুমি যদি ঈশ্বরের পুত্র হও তবে ক্রুশ থেকে নেমে এস। (মথি ২৭/৪০)
* সেইভাবে প্রধান যাজকরা, ব্যবস্থার শিক্ষকরা ও ইহুদী নেতারা বিদ্রূপ করে তাঁকে বলতে লাগলেন। (মথি ২৭/৪১)
* এ লোক তো অপরকে রক্ষা করত, কিন্তু এ নিজেকে বাঁচাতে পারে না! ও তো ইস্রায়েলের রাজা, তাহলে এখন ও ক্রুশ থেকে নেমে আসুক, তাহলে আমরা ওর ওপর বিশ্বাস করব। (মথি ২৭/৪২)
* ঐ লোকটি ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস করে৷ যদি তিনি চান, তবে ওকে এখনই রক্ষা করুন, কারণ ও তো বলেছে, 'আমি ঈশ্বরের পুত্র'। (মথি ২৭/৪৩)
* তাঁর সঙ্গে যে দুজন দস্যুকে ক্রুশে দেওয়া হয়েছিল, তারাও সেইভাবেই তাঁকে বিদ্রূপ করতে লাগল। (মথি ২৭/৪৪)
মার্কের বক্তব্য অনুযায়ী :-
* ক্রুশ থেকে নেমে নিজেকে রক্ষা কর। (মার্ক ১৫/৩০)
* ঠিক একইভাবে প্রধান যাজকরা এবং ব্যবস্থার শিক্ষকরা তাঁকে ঠাট্টা করে নিজেদের মধ্যে বলাবলি করলেন, 'ঐ লোকটি অন্যদের রক্ষা করত, কিন্তু নিজেকে রক্ষা করতে পারে না (মার্ক ১৫/৩১)
* খ্রীষ্ট, ঐ ইস্রায়েলের রাজা এখন ক্রুশ থেকে নেমে আসুক, তাহলে আমরা বিশ্বাস করব। তাঁর সঙ্গে যাঁরা ক্রুশে বিদ্ধ হয়েছিল, তারাও তাঁকে ঠাট্টা করতে লাগল। (মার্ক ১৫/৩২)
* লোকেরা সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখছিল, ইহুদী নেতারা ব্যঙ্গ করে তাঁকে বলতে লাগল, 'ওতো অন্যদের বাঁচাতো ও যদি ঈশ্বরের মনোনীত সেই খ্রীষ্ট হয় তবে এখন নিজেকে বাঁচাক দেখি!
লুকের বক্তব্য অনুযায়ী :- (লুক ২৩/৩৫)
* সৈন্যরা তাঁর কাছে এগিয়ে এসে তাঁকে উপহাস করতে লাগল৷ তারা পান করার সিরকা এগিয়ে দিয়ে যীশুকে বলল। (লুক ২৩/৩৬)
* তুই যদি ইহুদীদের রাজা, তবে নিজেকে বাঁচা দেখি! (লুক ২৩/৩৭)
* তারা একটা ফলকে 'এ ইহুদীদের রাজা' লিখে যীশুর ক্রুশের ওপর তা লটকে দিল। (লুক ২৩/৩৮)
* তাঁর দুপাশে যাঁরা ক্রুশের ওপর ঝুলছিল, তাদের মধ্যে একজন তাঁকে বিদ্রূপ করে বলল, 'তুমি না খ্রীষ্ট? আমাদেরকে ও নিজেকে বাঁচাও দেখি! (লুক ২৩/৩৯)
> একটাবার যদি যীশু ক্রুশ থেকে নেমে নিজেকে রক্ষা করতো তাহলে সকল মানুষ যীশুকে ইশ্বর হিসাবে মেনে নিত! কিন্তু দেখেন তখন তার কাছে (সত্তা বিদ্যমান) থাকার পরও ক্রুশ থেকে নেমে আসতে পারলো না! নিজেকে ইশ্বর প্রমান করতে পারলো না। যীশু যদি ইশ্বরই হত আর তার কাছে যদি কোন (সত্তা) থাকতো তাহলে সে অবশ্যই ক্রুশ থেকে নেমে আসতো নিজেকে ইশ্বর প্রমান করার জন্য।
> এখান থেকেও প্রমানিত যে, সত্তা আর ব্যাক্তি তারা আলাদা আলাদা কেউ ছিল। আরেকটি প্রমান দেখেন তারা যে আলাদা :-
* তারপর যীশু স্বর্গে ঈশ্বরের মহিমার ডানপাশের আসনে বসেছেন। (হিব্রুদের কাছে পত্র ০১/০৩)
* এরপর স্বর্গ থেকে একজন স্বর্গদূত এসে তাঁকে শক্তি জোগালেন। (লুক ২২/৪৩)
> এখানে বলছে যীশু ইশ্বরের ডানপাশে বসছে তার মানে যীশু আর ইশ্বর আলাদা আলাদা কেউ। বাইবেল থেকেই প্রমানিত।
> এখান থেকে প্রমান হয় যে যীশু ইশ্বর ছিল না। ইশ্বর হল (পিতা)
আবার দেখেন যীশু যদি ইশ্বর হত আর তার কাছে যদি ট্রীনিটির কোন সত্তা থাকতো তাহলে তাকে শক্তি যোগান দেওয়ার জন্য কেন স্বর্গদূতের আসার প্রয়োজন হল? যে স্বর্গদূত (ইশ্বর) নিজেই সৃষ্টি করেছে সেই (ইশ্বরকেই) সাহায্য করার জন্য তার সৃষ্টির কেন প্রয়োজন হল? এখান থেকে প্রমান হয় ট্রীনিটি বলতে কিছুই নাই আর যীশুর কাছে কোন সত্তাও নাই ট্রীনিটিই যখন নাই তখন সত্তাই বা আসবে কোথা থেকে।
- মহান আল্লাহ (ট্রিনিটি) সম্পর্কে বলেন!
- অবশ্যই তারা কুফরী করেছে, যারা বলে, নিশ্চয় আল্লাহ তিন জনের তৃতীয়জন। যদিও এক ইলাহ ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। আর যদি তারা যা বলছে, তা থেকে বিরত না হয়। তবে অবশ্যই তাদের মধ্য থেকে কাফিরদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আযাব স্পর্শ করবে। (সূরা মায়িদাহ আয়াত : ৭৩)
মূলত খ্রীষ্টানদের বিশ্বাস ও ট্রীনিটির ব্যাখ্যা ভিক্তিহীন ও হাস্যকর। আরো অসংখ্যভাবে প্রমান করতে পারি যীশু ইশ্বর না। পুরো বই পড়লে বুঝতে পারবেন যীশু কোথাও নিজেকে ইশ্বর বলে নাই। ও ট্রীনিটির ব্যাখ্যাও ভিক্তহীন।
📄 খ্রীষ্টানরা যে সব অনুচ্ছেদগুলো দিয়ে যীশুকে তারা (ঈশ্বর) দাবি করে থাকে সেসব খন্ডন।
প্রথমেই একটা বিষয় বলে রাখি খ্রীষ্টানদের আছে শুধু দাবি, কোন প্রমান নাই। খ্রীষ্টানরা নিজেদের বাইবেলের কথাগুলোর অপব্যাখ্যা করে সাথে সাথে কোরআনের কথাগুলোকেও অপব্যাখ্যা করে। পাঠকরা এই বিষয়টা সব সময় মাথায় রাখবেন।
বর্তমান খ্রীষ্টানদের অবস্থা হচ্ছে এমন
> বাচ্চা তার মাকে বলছে : মা, মা, আমি আইসক্রিম খাব।
> মা বলছে : না বাবা আইসক্রিম খাওয়া যাবে না, খেলে ঠান্ডা লেগে যাবে।
> বাচ্চা বলছে : মা তাহলে সোয়েটার পড়ে খাব, তাহলে ঠান্ডা লাগবে না।
মা বলছে এক বাচ্চা বুঝেছে আরেক ঠিক একি ভাবে খ্রীষ্টানরাও এই বাচ্চার মত অবুঝ। (বাইবেল – কোরআন ও হাদিস) বলে এক, তারা বোঝে আরেক। মোটকথা তারা মুসলিমদেরকে প্রতারিত করার জন্য যখন যেমন ইচ্ছা তেমনভাবে নিজেদের বাইবেল, কোরআন ও হাদিস ব্যাখ্যা করে ও বোঝে।
এবার আসেন দেখি খ্রীষ্টানরা যেসব অনুচ্ছেদ দেখিয়ে দাবি করে থাকে যীশু নাকি ইশ্বর! বাইবেল থেকেই সেসব দলিল খন্ডন করবো ও প্রমান করবো যীশু ইশ্বর নয় তাদের দাবি ভিত্তিহীন।
প্রথমেই বলি গোটা বাইবেলে কোথাও যীশু নিজেকে ইশ্বর দাবি করে নাই। কিছু কথা দেখে আপনাদের মনে হতে পারে যে এখানে যীশু নিজেকে ইশ্বর বলেছে! কিন্তু আপনারা যদি আগে পরের অনুচ্ছেদগুলো মনযোগ সহকারে পড়ে দেখেন তাহলে দেখতে পাবেন সেখানে যীশু নিজেকে ইশ্বর দাবি করে নাই। যীশু সবসময় তার পিতার কথা বলেছে, মানে ইশ্বরের কথা বলেছে।
খ্রীষ্টনরা যেসব অনুচ্ছেদগুলো দিয়ে দাবি করে থাকে যে এখানে যীশু নিজেকে ইশ্বর বলেছে, সেগুলো দেখেন :-
> ০১ নং দলিল :- আমি ও পিতা, আমরা এক। (যোহন ১০/৩০)
> ০২ নং দলিল :- যীশু তাদের বললেন, আমি তোমাদের সত্যি বলছি৷ আব্রাহামের জন্মের আগে থেকেই আমি আছি। (যোহন ০৮/৫৮)
> ০৩ নং দলিল :- আমি আল্ফা ও ওমেগা, আমি প্রথম ও শেষ, আদি ও অন্ত। ( প্রত্যাদেশ ২২/১৩)
> ০৪ নং দলিল :- যীশু সেই পঙ্গু লোকটিকে বললেন, "বাছা" তোমার সব পাপের ক্ষমা হল। (মার্ক ০২/০৫)
> ০৫ নং দলিল :- যে কেউ আমায় দেখেছে সে পিতাকে দেখেছে। (যোহন ১৪/০৯) (যোহন ১২/৪৫)
এসব অনুচ্ছেদ দিয়ে খ্রীষ্টানরা বলে যে যীশু ইশ্বর কারন তিনি ও তার পিতা এক, যীশু প্রথম ও শেষ, যীশু আব্রাহামের জন্মের আগে থেকেই আছে। এখানে খ্রীষ্টানরা আগে পিছের অনুচ্ছেদ বাদ দিয়ে কোন প্রসংঘ্য ছাড়া মাঝ থেকে একটা অনুচ্ছেদ দিয়ে দলিল দিচ্ছে, আপনারা যদি আগে পিছের অনুচ্ছেদগুলো পড়েন তাহলে দেখতে পাবেন এখানে যীশু নিজেকে ইশ্বর দাবি করে নাই সে পিতার কথা বলেছে।
এবার আসেন খ্রীষ্টানদের এসব দলিলগুলো খন্ডন করবো ইনশাআল্লাহ।
(০১) নং দলিলের জবাব :-
আসেন দেখি, (আমি ও আমার পিতা এক) এই কথা দ্বারা যীশু কি বোঝাতে চেয়েছে? এই অনুচ্ছেদটা বুঝতে হলে (২৫) নং অনুচ্ছেদ থেকে (৩৫) নং অনুচ্ছেদ পর্যন্ত পড়তে হবে। আসেন দেখি কি বলা হয়েছে এসব অনুচ্ছেদে :-
(২৫) নং অনুচ্ছেদ বলছে, আমি আমার পিতার সাহায্যে সব অলৌকিক কাজ করি। (২৬) নং অনুচ্ছেদ বলছে, কিন্তু তোমরা আমায় বিশ্বাস কর না। (২৭) নং অনুচ্ছেদ বলছে, আমার মেষরা আমার কন্ঠস্বর শোনে। আমি তাদের জানি, আর তারা আমার অনুসরণ করে। (২৮) নং অনুচ্ছেদ বলছে, তাদের কেউ আমার হাত থেকে কেড়ে নিতে পারবে না। (২৯) নং অনুচ্ছেদ বলছে, আমার পিতা, যিনি তাদেরকে আমায় দিয়েছেন, তিনি সবার ও সবকিছু থেকে মহান, আর কেউ পিতার হাত থেকে আমাদের কেড়ে নিতে পারবে না৷ (৩০) নং অনুচ্ছেদ বলছে, আমি ও আমার পিতা এক। (৩১) নং অনুচ্ছেদ বলছে, ইহুদীরা তখন তাঁকে মারবার জন্য পাথর তুলল। (৩২) নং অনুচ্ছেদ বলছে, পিতার শক্তিতে আমি অনেক ভাল কাজ করেছি, তার মধ্যে কোন কাজটার জন্য তোমরা পাথর মারতে চাইছ?। (৩৩) নং অনুচ্ছেদ বলছে, তুমি ঈশ্বর নিন্দা করেছ। তুমি একজন মানুষ, অথচ নিজেকে ঈশ্বর বলে দাবী করছ। (৩৪) তোমাদের বিধি-ব্যবস্থায় কি একথা লেখা নেই যে, আমি বলেছি তোমরা ঈশ্বর? (৩৫) নং অনুচ্ছেদ বলছে, শাস্ত্রে তাদেরই ঈশ্বর বলেছিল যাদের কাছে ঈশ্বরের বাণী এসেছিল; আর শাস্ত্র সব সময়ই সত্য।
এসব অনুচ্ছেদগুলোর উদ্দেশ্যটা দেখেন যীশু তার পিতার সাহায্যে সকল অলৌকিক কাজ করেছে, (যীশু ও তার পিতা যদি এক হত / ইশ্বর হত) তাহলে যীশু তার পিতার কথা বলতো না। যীশু যদি ইশ্বর হত তাহলে যীশু কখনোই তার পিতার সাহায্যে অলৌকিক কাজ করে এই কথা বলতো না। ইশ্বর হল তার পিতা যার জন্য যীশু পিতার কথা বলেছে। তারপর বলছে কেউ আমার হাত থেকে আমার অনুসারীদের কেড়ে নিতে পারবে না / মানে যীশুর পথ থেকে কেউ বিভ্রান্ত করতে পারবে না। তারপর বলছে আমার পিতা সবার থেকে মহান ও কেউ আমার পিতার হাত থেকে আমাদের কেড়ে নিতে পারবে না। তারপর বলছে আমি ও আমার পিতা এক / মানে উদ্দেশ্য এক।
(পিতা ইশ্বরের) উদ্দেশ্য হল সকল মানুষ যেন তার ইবাদত করে। অপরদিকে যীশুরও উদ্দেশ্য হল, যেন সকল মানুষ (পিতা - ইশ্বরের) ইবাদত করে। দুইজনেরই উদ্দেশ্য এক সেটার কথা বলা হয়েছে (যোহন ১০/৩০) এ। রাসূলদের কাজ হল ইশ্বরের আনুগত্য করা ও ইশ্বরের দেওয়া বিধিনিষেধ সাধারণ মানুষের কাছে প্রচার করা যাতে মানুষ ইশ্বরের ইবাদত করতে পারে।
একটা উদাহরণ দেই যেমন ধরেন আমার বাবা শিক্ষক আর আমিও শিক্ষক কেউ যদি বলে আমি আর আমার বাবা এক তাহলে ভুল হবে। কারন আমরা দুইজন আলাদা মানুষ, যদি বলেন আমাদের (পেশা ও উদ্দেশ্য) এক তাহলে আর সমস্যা থাকবে না। একি ভাবে যীশু ও তার পিতার উদ্দেশ্য এক সেটা বলা হয়েছে।
তারপর দেখেন ইহুদিরা তাকে পাথর মারতে চেয়েছিল তখন যীশু বলছে কোন কারনে আমাকে মারতে চাইছো, তখন ইহুদিরা বলেছে আপনি ধর্মের অবমাননা করেছেন আপনি মানুষ হয়ে নিজেকে ইশ্বর দাবি করেছেন। এখান থেকে বোঝা গেল তখকার সময়ে ইহুদিরা যীশুকে ইশ্বর হিসাবে মেনে নেন নাই, তারা (রাসূল - নবি) হিসাবে মেনে চলতো। যীশু যদি ইশ্বর হত তাহলে কেন ইহুদিরা জানতো না যে যীশু ইশ্বর? এবং ইহুদিরা কেন যীশুর মধ্যে ইশ্বরের কোন বৈশিষ্ট্য দেখতে পেল না?
পরের অনুচ্ছেদ বলছে, তোমাদের বিধি-ব্যবস্থায় কি একথা লেখা নেই যে, আমি বলেছি তোমরা ঈশ্বর? এখানে যীশু জানত যে তাদের শাস্ত্রে লেখা আছে ইহুদিরাও ইশ্বর তার জন্য যীশু এমনভাবে ইহুদিদের প্রশ্ন করে বলেছে! এরপর বলছে যাদের কাছে ইশ্বরের বানি আসে তারাও ইশ্বর। যীশুসহ সকল নবিদের কাছে ইশ্বরের বানি এসেছিল তার মানে কি সবাই ইশ্বর? উত্তর হবে না! কারন এখানে রূপক অর্থে ইশ্বর বলা হয়েছে! মানে নবিদের কাছে ইশ্বরের বানি এসেছিল আর সেই বানিই তারা প্রচার করেছে তার জন্য নবিদের এখানে রূপক অর্থে ইশ্বর বলা হয়েছে।
(পিতা - ইশ্বর) যে বিধান দিয়ে যীশুকে প্রেরন করেছে, নবি হিসেবে যীশু সেই একি বিধান মানুষের মাঝে প্রচার করেছে! প্রমান দেখেন :-
* যদি কেউ ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করতে চায় তাহলে সে জানবে আমি যা শিক্ষা দিই তা ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে, আর আমি কোন কথা নিজে থেকে বলিনা। (যোহন ০৭/১৭) (যোহন ১৪/১০)
* কারণ একমাত্র ঈশ্বর আছেন আর ঈশ্বরের ও মানুষের মধ্যে কেবল একমাত্র পথ আছে, যার মাধ্যমে মানুষ ঈশ্বরের কাছে পৌঁছতে পারে। সেই পথ যীশু খ্রীষ্ট, যিনি নিজেও একজন মানুষ ছিলেন। (০১ তিমথি ০২/০৫)
আমরা জানি প্রত্যেক নবি রাসূলের দেখানো পথ দ্বারা মানুষ ইশ্বরের ইবাদত করে থাকে। কারন প্রত্যেক নবি রাসূলের উপর ইশ্বরের বিধান আসে আর সেই বিধান মেনেই ইশ্বরের কাছে যেতে হয়।
> যেমন মুসলিমরা হযরত মোহাম্মদ সাঃ এর দেখানো পথ ছাড়া অন্য কোন পথ দ্বারা আল্লাহর কাছে যেতে পারবে না ঠিক একিভাবে যীশুর সময় যীশুর দেখানো পথ ছাড়া ইশ্বরের কাছে যেতে পারতো না। এটাই বোঝানো হয়েছে এই অনুচ্ছেদে।
- মহান আল্লাহ বলেন :- যে রাসূলের আনুগত্য করলে সে তো আল্লাহরই আনুগত্য করল। (সূরা নিসা আয়াত : ৮০)
> এই আয়াত থেকে বোঝা গেল যে, রাসূল কে মানাই হল আল্লাহকে মানা কারন কোন রাসূলই আল্লাহর আদেশ ব্যাতিত কোন কথা বা কাজ করেন নাই।
> প্রমান দেখেন :- (মোহাম্মদ সাঃ) আল্লাহর আদেশ ছাড়া কোন কিছুই করেন নাই।
- আর সে মনগড়া কথাও বলে না। তাতো কেবল ওহী, যা তার প্রতি ওহীরূপে প্রেরণ করা হয়। (সূরা নাজম আয়াত : ০৩-০৪)
- বল: 'আমি তো তোমাদের মত একজন মানুষই, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয়। (সূরা কাহফ আয়াত : ১১০)
- আর কোন রাসূলের জন্য এটা সম্ভব নয় যে, আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোন নিদর্শন নিয়ে আসবে। (সূরা রাদ আয়াত : ৩৮)
> একইভাবে যীশুর কাছেও ইশ্বরের বিধান এসেছিল অতএব যীশুকে মানাই ছিল ইশ্বরকে মানা যেহেতু যীশু ইশ্বরের আদেশ ছাড়া কোন কাজ করেন নাই।
প্রমান দেখেন :- যীশু ইশ্বরের আদেশ ছাড়া কোন কিছুই করেন নাই।
* আমি নিজের থেকে কিছুই করতে পারি না। আমি (ঈশ্বরের কাছ থেকে) যেমন শুনি তেমনি বিচার করি আর আমি যা বিচার করি তা ন্যায়, কারণ আমি আমার ইচ্ছামতো কাজ করি না, বরং যিনি (ঈশ্বর) আমাকে পাঠিয়েছেন তাঁরই ইচ্ছাপূরণ করার চেষ্টা করি। (যোহন ০৫/৩০)
* হে ইহুদী ভাইয়েরা, একথা শুনুন, নাসরতীয় যীশুর দ্বারা ঈশ্বর বহু অলৌকিক ও আশ্চর্য কাজ করে আপনাদের কাছে প্রমাণ দিয়েছেন যে তিনি সেই ব্যক্তি যাকে ঈশ্বর পাঠিয়েছেন, আর আপনারা এই ঘটনাগুলি জানেন। (শিশ্যচরিত্র ০২/২২)
* আমি আমার পিতার সাহায্যে সব অলৌকিক কাজ করি। (যোহন ১০/২৫)
* এর উত্তরে যীশু তাদের বললেন, আমি যা শিক্ষা দিই তা আমার নিজস্ব নয়। যিনি আমায় পাঠিয়েছেন এসব সেই ঈশ্বরের কাছ থেকে পাওয়া। (যোহন ০৭/১৬)
* যদি কেউ ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করতে চায় তাহলে সে জানবে আমি যা শিক্ষা দিই তা ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে, আর আমি কোন কথা নিজে থেকে বলিনা। (যোহন ০৭/১৭)
* আমি যদি আমার পিতার কাজ না করি, তাহলে আমায় বিশ্বাস করো না। (যোহন ১০/৩৭)
তারপরও যদি তর্কের খাতিরে মেনে নেই (যোহন ১০/৩০) এখানে যীশু (পিতা ও নিজেকে এক বলে) নিজেকে ইশ্বর বলেছে। তাহলে (যোহন ১৭/২১-২৩) (যোহন ১৪/২০) অনুচ্ছেদেও যীশু একি কথা বলেছে, (পিতা, যীশু ও তার শিশ্যরা তারা সবাই এক) এখানেও একি শব্দ ব্যবহার হয়েছে (যোহন ১০/৩০) এর মত।
* যীশু তার বারো জন শিশ্যকে বলছে, আমি তোমাদের মধ্য, ও আমার পিতা আমার মধ্যে, আর আমরা সবাই এক। (যোহন ১৭/২৩) (যোহন ১৪/২০)
এখানে যেহেতু যীশু বলেছে, পিতা, পুত্র, ও তার (১২) জন অনুসারীরা সবাই এক! তাহলে এখানে (১৪) জন ইশ্বরের বিশ্বাস করতে হবে। কারন পিতা, যীশু ও তার (১২) জন শিশ্য সহ মোট (১৪) জনকে ইশ্বর মানতে হবে। এই অনুচ্ছেদ থেকে প্রমান হয় যে, যীশু (যোহন ১০/৩০) এ উদ্দেশ্যের কথা বলেছে যে (পিতার ও যীশুর) উদ্দেশ্য এক! যদি (যোহন ১০/৩০) এ উদ্দেশ্যের কথা না ধরেন তাহলে (যোহন ১৭/২৩) অনুযায়ী (১৪) জন ইশ্বরে বিশ্বাস করতে হবে।
যীশু ও তার (পিতা ইশ্বর) যে এক নয় আরো বিস্তারিত প্রমান দেখেন :- প্রথম অধ্যায়ের (০৩) নং পরিচ্ছেদের { (০৩) নং ও (০৫) নং দলিলের জবাবে }।
তারপরও যদি (যোহন ১০/৩০) অনুযায়ী যীশুকে ইশ্বর মেনে নেই! তাহলে (পিতা, যীশু ও পবিত্র আত্মা) এই তিন জনের মধ্যে যদি কোন একজন একটা কথা জানে! তাহলে অটোমেটিক ভাবে তিন জনই জেনে যাবে! যেহেতু আপনি (যোহন ১০/৩০) অনুযায়ী (যীশু ও পিতাকে) এক ইশ্বর বলে ধরেছেন ও মেনে নিয়েছেন। কিন্তু দেখেন কেউ একটা বিষয় জানলে অন্যজন সেটা জানে না। প্রমান দেখেন :-
* সেই দিনের বা সেই সময়ের কথা কেউ জানে না; স্বর্গদূতরাও নয়, মানবপুত্রও নয়, কেবলমাত্র পিতাই জানেন। (মার্ক ১৩/৩২)
এখানে কেয়ামতের কথা বলা হয়েছে, কবে কেয়ামত হবে তা কেউ জানে শুধু পিতা জানে। যীশু নিজেও জানে না তার মানে যীশু ও তার পিতা এক না! যদি একই হত তাহলে পিতা যদি কিছু জানত তাহলে যীশুও সেটা জানত।
আলহামদুলিল্লাহ যীশু ইশ্বর নয় বাইবেল থেকেই প্রমানিত।
(০২) নং দলিলের জবাব :-
আসেন দেখি যীশু কি সত্যিই আব্রাহামের জন্মের আগে থেকে আছে?
এখানেও একি ভাবে কোন প্রসংঘ্য ছাড়া চালাকি করে দলিল দিছে খ্রীষ্টানরা। এখানে যীশু বলছে আমি আব্রাহামের আগে থেকেই আছি। এর পরের অনুচ্ছেদেই এই কথার জবাব দেওয়া হয়েছে ঠিক (যোহন ১০/৩০-৩৪) এর অনুচ্ছেদের মত। ইহুদিরা তখন তাকে পাথর মারতে চেয়েছিল ধর্মের অবমাননা করার জন্য। যদিও এখানে নিজেকে যীশু ইশ্বর দাবি করে নাই।
* যীশু তাদের বললেন, আমি তোমাদের সত্যি বলছি৷ আব্রাহামের জন্মের আগে থেকেই আমি আছি।
* তখন তারা তাঁকে পাথর ছুঁড়ে মারবার জন্য পাথর তুলে নিল, কিন্তু যীশু নিজেকে লুকিয়ে ফেললেন ও মন্দির চত্বর ছেড়ে চলে গেলেন৷ (যোহন ০৮/৫৮-৫৯)
এই ভার্সে যিশু বলছেনঃ I AM.... শব্দটা ব্যবহার করেছে!
(যাত্রাপুস্তক ০৩/১৪) তে ঈশ্বর নিজের নাম বলতে গিয়ে বলেছেনঃ I AM শব্দটা ব্যবহার করেছে।
* AND GOD SAID UNTO MOSES, I AM THAT I AM: AND HE SAID, THUS SHALT THOU SAY UNTO THE CHILDREN OF ISRAIL, I AM HATH SENT ME UNTO YOU. (EXODUS 03/14)
তখন ঈশ্বর মোশিকে বললেন, তাদের বল আমি আমিই। যখনই তুমি ইস্রায়েলীয়দের কাছে যাবে, তখন তাদের বলবে আমিই আমাকে পাঠিয়েছেন। (যাত্রাপুস্তক ০৩/১৪)
এখানে যিশু নিজের ব্যাপারে বলতে ঈশ্বরের নাম ব্যবহার করেছেন। এ ছাড়া তিনি যেহেতু বলতে চাচ্ছেন যে আব্রাহামের জন্মের আগে থেকেই তিনি আছেন, এর মানে পৃথিবীতে আসার আগেও তাঁর এক প্রকারের জীবন ছিল। কাজেই তিনি ঈশ্বর। এ হচ্ছে খ্রিষ্টানদের বস্তাপচা যুক্তি।
এভাবে I AM. বা আমি বলার বহু উদাহরণ পাওয়া যায় বাইবেলে।
(আদিপুস্তক ২২/১১) তে [আব্রাহাম – ইব্রাহিম (আঃ)] বলছেনঃ I AM.
(যাত্রাপুস্তক ০৩/০৪) এ মোশি [মুসা(আঃ)] বলছেনঃ I AM.
(যোহন ০৯/০৯) এ একজন ভিক্ষুক পর্যন্ত বলছেনঃ I AM. এতগুলো মানুষ এই এক কথা বলেছেন, তাহলে শুধু যিশুকে ঈশ্বর বলে দাবি করার যৌক্তিকতা কী? এ কথা বলে তারা যদি ঈশ্বর না হন, তাহলে যিশুও ঈশ্বর নন।
যিশু নিশ্চয়ই ইংরেজি বা বাংলায় কথাটা বলেননি। বাইবেলের নতুন নিয়মের এই বইগুলো অনুবাদ করা হয়েছে গ্রীক ভাষায় লিখিত কপি থেকে। [ ঈসা(আ) কিন্তু গ্রীক ছিলেন না। কিন্তু খ্রিষ্টানদের কাছে ঈসা (আ) এর নিজ ভাষার কোন ইঞ্জিলের মূল কপি নেই! ]। মূল গ্রীক বইতে কথাটা কিভাবে বলা আছে তা দেখলেই বুঝতে পারবেন কতটা জালিয়াতি করা হয়েছে বাংলা অনুবাদে।
যাত্রাপুস্তক (০৩/১৪) তে বলা হয়েছে তখন তাদের বলবে আমিই আমাকে পাঠিয়েছেন এখানে ঈশ্বরের নাম হিসাবে বাংলা অনুবাদে আমিই এবং ইংরেজিতে। AM. আছে। কিন্তু ঈশ্বরের নামের স্থলে মূল গ্রীকে আছেঃ (ὁ ὤv – হো অন)। গ্রীক সেপ্টয়াজিন্ট ওল্ড টেস্টামেন্টে এভাবেই গ্রীক শব্দটি আছে। (যোহন ০৮/৫৮) তে মূল গ্রীক বইতে। AM. এর জায়গায় পাওয়া যায়ঃ (ἐγὼ εἰμί – এগো এইমি)। গ্রীক “এগো এইমি” থেকে ইংরেজিতে। AM. ও বাংলায় আমি ছিলাম অনুবাদ করা হয়েছে। সেখানে ঈশ্বরের নাম হিসাবে যাত্রাপুস্তকে ব্যবহৃত (ὁ ὤv – হো অন) কথাটি নেই।
মূল গ্রীকে (যাত্রাপুস্তক ০৩/১৪) আর (যোহন ০৮/৫৮) তে সম্পূর্ণ ভিন্ন শব্দ ব্যবহার হয়েছে যা অনুবাদের কারণে এক বলে মনে হচ্ছে। অতএব (যোহন ০৮/৫৮) তে যিশু মোটেও ঈশ্বরের নাম আর নিজের নাম এক করেননি। যিশু যদি নিজের ক্ষেত্রে ঈশ্বরের নাম ব্যবহার করতেনই, তাহলে তো (যোহন ০৮/৫৮) এর লেখক যাত্রাপুস্তক (০৩/১৪) এ ঈশ্বরের নামের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত শব্দই লিখতেন। কিন্তু মোটেও সেরকম কোন শব্দের ব্যবহার হয়নি সেখানে।
এরপরেও খ্রিষ্টানরা আরেকটি যুক্তি দেখাতে পারেন, আর তা হচ্ছেঃ যিশু (যোহন ০৮/৫৮) তে বলছেন যে তিনি আব্রাহামের জন্মের আগে থেকে আছেন। এর মানে পৃথিবীতে আসার আগেও তাঁর অস্তিত্ব ছিল। এবং বাস্তবিকই এই যুক্তি দেখিয়ে খ্রিষ্টানরা দাবি করেন যে এমন বৈশিষ্ট্য ঈশ্বর ছাড়া আর কারো হতে পারে না। কিন্তু খ্রিষ্টানদের এই দাবি তাদের নিজ গ্রন্থ দ্বারাই খণ্ডণ হয়। মুসলিমদের বিশ্বাস হচ্ছেঃ পৃথিবীতে আসার আগে মানুষ ছিল রুহের জগতে, কুরআনে (সুরা আরাফ এর ১৭২ নং আয়াতে) পৃথিবীতে আসার আগেই সকল মানুষের সাথে আল্লাহর কথোপকথনের বিবরণ আছে। কাছেই পৃথিবীতে আসার আগে মানুষের অস্তিত্বের ব্যাপারে মুসলিমদের কোন কনফিউশন নেই, এটা খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। একই রকম বিবরণ বাইবেলেও পাওয়া যায়। বাইবেলে (যirমিয় ০১/০৫) এ বলা আছে যেঃ মাতৃগর্ভে সৃষ্টি করার পূর্বেই ঈশ্বর যিরমিয়কে নির্বাচিত করেছিলেন! জাতিসমূহের কাছে ভাববাদী (নবী) হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন। সুতরাং বাইবেল বলছে যে পৃথিবীতে আসবার আগে ভাববাদী যিরমিয় এরও এক প্রকারের “অস্তিত্ব” ছিল। অথচ যিরমিয়কে কিন্তু খ্রিষ্টানগণ ঈশ্বর বলে দাবি করেন না! জন্মের পূর্বে অস্তিত্ব থাকার পরেও যদি যিরমিয় ঈশ্বর না হন , তাহলে যিশুকে কেন ঈশ্বর বলে দাবি করা হবে?? এটা কি ডাবল স্টান্ডার্ড নয়? অতএব খ্রিষ্টানদের নিজ গ্রন্থ বাইবেলের দলিল-প্রমাণ ও যুক্তির ভিত্তিতে এটাই প্রমাণিত হল যেঃ যিশু [ঈসা(আ)] ঈশ্বর নন। তিনি একজন মানুষ ও নবী।
আলহামদুলিল্লাহ যীশু ইশ্বর নয় বাইবেল থেকেই প্রমানিত।
(০৩) নং দলিলের জবাব :-
আসেন দেখি যীশু কি সত্যিই আল্ল্ফা ও ওমেগা, প্রথম ও শেষ, আদি ও অন্ত ছিলেন?
যীশুকে ইশ্বর প্রমান করার জন্য প্রথমেই খ্রীষ্টানদের অযৌক্তিক দাবিটা দেখে নেই! আমি আল্ফাও ওমেগা, আমি প্রথম ও শেষ, আদি ও অন্ত৷ (প্রত্যাদেশ ২২/১৩)
এটাই হল খ্রীষ্টানদের অযৌক্তিক দাবিটা যীশুকে ইশ্বর প্রমান করার জন্য। আসেন এবার খ্রীষ্টানদের এই অযৌক্তিক দাবিটা খন্ডন করি।
যীশু, আদি ও অন্ত, প্রথম ও শেষ, এই কথাই যদি যীশু ইশ্বর হয় তাহলে রাজা মল্কীষেদক ও ইশ্বর! কারন রাজা মল্কীষেদকেরও আদি ও অন্ত নাই! মানে রাজা মল্কীষেদকেরও প্রথম ও শেষ নাই প্রমান দেখেন :-
* মল্কীষেদকের মা, বাবা, বা তার পূর্বপুরুষের কোন বংশতালিক পাওয়া যায় না, তার শুরু বা শেষের কোন নথি নেই। ঈশ্বরের পুত্রের মতো তিনি হলেন অনন্তকালীন যাজক। (হিব্রুদের কাছে পত্র ০৭/০৩)
এমন কথা আরো অনেক জায়গায় পাওয়া যায় (প্রত্যাদেশ ২১/০৬) (ইসাইয় ৪১/০৪) (ইসাইয়া ৪৪/০৬) (ইসাইয়া ৪৮/১২) (প্রত্যাদেশ ০১/০৮)
এখানে যদি যীশু (আদি ও অন্তের) জন্য ইশ্বর হয়। তাহলে রাজা মল্কীষেদকেও ইশ্বর মানা লাগবে। খ্রীষ্টানদের সকল মনগড়া ব্যাখ্যা বাইবেল থেকেই খন্ডন করেছি আলহামদুলিল্লাহ।
বাইবেল থেকে কিছু অনুচ্ছেদ দেখেন যেগুলোর উত্তর কখনোই কোন খ্রীষ্টান দিতে পারবে না। তারা এসব অনুচ্ছেদের বস্তাপচা অপব্যাখ্যা দিবে তারা বলবে যীশু এক জায়গায় ইশ্বর হিসাবে কথা বলেছে আরেক জায়গায় মানুষ হিসাবে কথা বলেছে। অথচ এমন কোন কথা বাইবেল বলে নাই এটা তাদের বস্তাপচা অপব্যাখ্যা।
যেমন একটা উদাহরণ দেই:- (যোহন ১০/৩০) এই অনুচ্ছেদ দেখিয়ে বলবে এখানে যীশু ইশ্বর হিসাবে কথা বলছে ও নিজেকে ইশ্বর বলেছে। আবার (মথি ২৭/৪৬) (মার্ক ১৫/৩৪) এই অনুচ্ছেদগুলোর উত্তরে বলবে এখানে মানুষ হিসাবে যীশু ইশ্বরের কাছে সাহায্য প্রর্থনা করেছে। মোটকথা বাইবেলের অনুচ্ছেদগুলো নিয়ে যেখানে যেমন ইচ্ছা তেমনভাবে অপব্যাখ্যা করে যীশুকে ইশ্বর প্রমান করার চেষ্টা করে এই খ্রীষ্টানরা। এভাবেই তারা বাইবেলের কথাগুলোর অপব্যাখ্যা ও জালিয়াতি করে আসছে যুগের পর যুগ। অথচ বাইবেল এমন কোন কথা বলছে না যে, এক জায়গায় যীশু মানুষ হিসাবে কথা বলেছে! আরেক জায়গায় ইশ্বর হিসাবে কথা বলেছে যেমনটা খ্রীষ্টানরা ব্যাখ্যা দেয়। এটা খ্রীষ্টানদের মনগড়া অপব্যাখ্যা। তারা যখনই এমন মনগড়া ব্যাখ্যা দিবে তখনই তার ব্যাখ্যার দলিল বাইবেল থেকে চান দেখবেন (লা-জবাব) হয়ে গেছে।
তারপরও যদি তর্কের খাতিরে মেনে নেই যে যীশু ইশ্বর। তাহলে বাইবেলের এসব অনুচ্ছেদগুলোই বলে দিবে যীশু ইশ্বর নয় :-
* আমার প্রিয় সন্তানরা, আমি তোমাদের একথা লিখছি যাতে তোমরা পাপ না কর। কিন্তু কেউ যদি পাপ করে ফেলে, তবে পিতার কাছে আমাদের পক্ষে কথা বলার একজন আছেন, তিনি সেই ধার্মিক ব্যক্তি, যীশু খ্রীষ্ট। (যোহনের ১ম পত্র ০২/০১)
* হে ইহুদী ভাইয়েরা, একথা শুনুন, নাসরতীয় যীশুর দ্বারা ঈশ্বর বহু অলৌকিক ও আশ্চর্য কাজ করে আপনাদের কাছে প্রমাণ দিয়েছেন যে তিনি সেই ব্যক্তি যাকে ঈশ্বর পাঠিয়েছেন, আর আপনারা এই ঘটনাগুলি জানেন। (শিশ্যচরিত্র ০২/২২)
* যীশু মৃত্যু যন্ত্রণা ভোগ করলেন, কিন্তু ঈশ্বর সেই বিভীষিকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করলেন। ঈশ্বর যীশুকে মৃতদের মধ্য থেকে তুলে আনলেন। মৃত্যু যীশুকে তার কবলে রাখতে সক্ষম হল না। (শিষ্যচরিত্র ০২/২৪)
* আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের নামে সব সময় সব কিছুর জন্য আমাদের ঈশ্বর ও পিতাকে সর্বদা ধন্যবাদ দাও। (এফেসীয় ০৫/২০)
* আমি পিতার কাছ থেকে এই জগতে এসেছি, এখন আমি এ জগত ছেড়ে আবার পিতার কাছে ফিরে যাচ্ছি। (যোহন ১৬/২৮)
* যে কেউ মানুষের সামনে আমাকে স্বীকার করে, আমিও আমার স্বর্গের পিতা ঈশ্বরের সামনে তাকে স্বীকার করব। (মথি ১০/৩২)
* কিন্তু যে কেউ মানুষের সামনে আমাকে অস্বীকার করবে, আমিও আমার স্বর্গের পিতা ঈশ্বরের সামনে তাকে অস্বীকার করব। (মথি ১০/৩৩)
* আমি ঈশ্বর, আমি মানুষ নই। আমিই সেই পবিত্রজন, আমি তোমাদের সঙ্গেই আছি। আমি ক্রোধ প্রকাশ করব না। (হোসেয়া ১১/০৯)
* ঈশ্বর মানুষ নন, তিনি মিথ্যা বলবেন না। ঈশ্বর মানুষ নন, তাঁর সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হবে না। (গননা পুস্তক ২৩/১৯)
* যীশু খ্রীষ্ট, যিনি নিজেও একজন মানুষ ছিলেন৷ (০১ তিমথি ০২/০৫)
* আমিই প্রভু, আমার পরিবর্তন নেই। (মালাখি ০৩/০৬)
* সমস্ত ভাল ও নিখুঁত দান স্বর্গ থেকে আসে, কারণ পিতা ঈশ্বর যিনি স্বর্গীয় আলো সৃষ্টি করেছিলেন তিনি সর্বদা একই আছেন, তাঁর কোনও পরিবর্তন হয় না। (যাকোবের পত্র ০১/১৭)
* ঈশ্বরের সাহায্যেই আমি মন্দ দূর করি। (লুক ১১/২০) (মথি ১২/২৮)
* যদি তোমরা আমাকে প্রেম করিতে, তবে আনন্দ করিতে যে, আমি পিতার নিকটে যাইতেছি কারণ পিতা আমার অপেক্ষা মহান। (যোহন ১৪/২৮)
* যিনি আমার পিতা ও তোমাদের পিতা, এবং আমার ঈশ্বর ও তোমাদের ঈশ্বর, তাঁহার নিকটে আমি ঊর্ধ্বে যাই। (যোহন ২০/১৭)
* আমি আপনা হইতে বলি নাই, কিন্তু কি কহিব ও কি বলিব, তাহা আমার পিতা, যিনি আমাকে পাঠাইয়াছেন, তিনিই আমাকে আজ্ঞা করিয়াছেন। (যোহন ১২/৪৯)
* তারা খাচ্ছিলেন, এমন সময় যীশু একটি রুটি নিয়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন, আর সেই রুটি টুকরো টুকরো করে শিষ্যদের দিয়ে বললেন, এই নাও, খাও, এর দেহ। (মথি ২৬/২৬-২৯)
* যাহাদের জন্য আমার পিতা কর্তৃক স্থান প্রস্তুত করা হইয়াছে, তাহাদের ভিন্ন আর কাহাকেও আমার দক্ষিণ পার্শ্বে ও বাম পার্শ্বে বসিতে দিতে আমার অধিকার নাই। (মথি ২০/২৩)
* এমন কিছু বিষয় আছে, যা তিনি বা দূতেরা জানতেন না, কেবল তাঁর পিতাই জানতেন। (মার্ক ১৩/৩২)
* তাঁদের সঙ্গে কথা বলার পর প্রভু যীশুকে স্বর্গে তুলে নেওয়া হল এবং তিনি ঈশ্বরের ডানদিকে বসলেন। (মার্ক ১৬/১৯)
* সব কিছু খ্রীষ্টের অধীনস্থ হলে পুত্র ঈশ্বরের অধীনস্থ হবেন। যেন ঈশ্বর, যিনি তাঁকে সব কিছুর ওপর কর্তৃত্ব করতে দিয়েছেন, তিনিই সর্বেসর্বা হন। (০১ করিন্থীয় ১৫:২৮)
* যিশু সর্বশক্তিমান ঈশ্বর নন। তাই, তিনি তাঁর পিতাকে আমার ঈশ্বর বলেছিলেন। (প্রত্যাদেশ ০৩/১২) (০২ করিন্থীয় ০১/০৩)
* কোন ব্যক্তিই আমাদের প্রভু ঈশ্বরের মত নয়। ঈশ্বর স্বর্গের উঁচু আসনে বসেন। (সামসঙ্গিত ১১৩/০৫)
* ঈশ্বর আমাদের থেকে এত উঁচুতে আছেন যে আকাশ ও পৃথিবীকে দেখতে হলে তাঁকে নীচের দিকে তাকাতে হয়। (সামসঙ্গিত ১১৩/০৬)
* একমাত্র ঈশ্বরের পুত্রই ঈশ্বরের মহিমার ও তাঁর প্রকৃতির মূর্ত প্রকাশ৷ ঈশ্বরের পুত্র তাঁর পরাক্রান্ত বাক্যের দ্বারা সবকিছু ধরে রেখেছেন। সেই পুত্র মানুষকে সমস্ত পাপ থেকে শুচিশুদ্ধ করেছেন। তারপর স্বর্গে ঈশ্বরের মহিমার ডানপাশের আসনে বসেছেন। (হিব্রুদের কাছে পত্র ০১/০৩)
* তখন যীশু তাকে বললেন, তুমি কেন আমাকে সত্য বলছ? ঈশ্বর ছাড়া আর কেউই সত্য নয়। (মার্ক ১০/১৮)
* যীশু বলেন, হে ঈশ্বর, আমি আমার ভাইয়ের কাছে তোমার নাম প্রচার করব, মণ্ডলীর মধ্যে তোমার প্রশংসা গান করব। (হিব্রুদের কাছে পত্র ০২/১২) (গীতসংহিতা ২২/২২)
* তিনি আবার বলেছেন, আমি ঈশ্বরের ওপর নির্ভর করব। (হিব্রুদের কাছে পত্র ০২/১৩)
> যীশু যে ইশ্বর নন তা হয়তো বুঝতে আর কারো বাকি নাই। কারন এসব অনুচ্ছেদগুলো যীশুরকে ইশ্বর হওয়া থেকে সম্পূর্ণ ব্যার্থ করে দিয়েছে।
যীশু যে ইশ্বর নয় তা বাইবেল থেকেই প্রমানিত আলহামদুলিল্লাহ।
(০৪) নং দলিলের জবাব :-
প্রথমে আসেন দেখি খ্রীষ্টানদের অযৌক্তিক দাবিটা। যীশু কি আসলেই নিজের যোগ্যতায় পাপ ক্ষমা করতেন নাকি ইশ্বর তাকে দিয়ে পাপ ক্ষমা করাতেন?
* যিশু তাদের বিশ্বাস দেখে যীশু সেই পঙ্গু লোকটিকে বললেন, "বাছা" তোমার সব পাপের ক্ষমা হল। (মার্ক ০২/০৫)
দেখেন এখানে যে, যীশু পাপ ক্ষমা করেছে, এটা নিজের যোগ্যতায় করে নাই। পিতা ইশ্বর তিনি যীশুকে দিয়ে পাপ ক্ষমা করিয়েছেন। কারন যীশু নিজে থেকে কিছুই করতে পারে না! প্রমান দেখেন :-
* যিশু বলেন, আমি নিজের থেকে কিছুই করতে পারি না। আমি (ঈশ্বরের কাছ থেকে) যেমন শুনি তেমনি বিচার করি, আর আমি যা বিচার করি তা ন্যায়, কারণ আমি আমার ইচ্ছামতো কাজ করি না, বরং যিনি (ঈশ্বর) আমাকে পাঠিয়েছেন তাঁরই ইচ্ছাপূরণ করার চেষ্টা করি। (যোহন ৫/৩০)
* আর তোমরা যখন প্রার্থনা করার জন্য দাঁড়াও, যদি কারও বিরুদ্ধে তোমাদের কোনও ক্ষোভ থাকে, তাকে ক্ষমা করো।
* যেন তোমাদের স্বর্গস্থ পিতাও তোমাদের সকল পাপ ক্ষমা করেন। (মার্ক ১১/২৫-২৬)
ইশ্বর যীশুকে দ্বারা পাপ ক্ষমা করিয়েছিলেন আবার বলছেন কারো বিরুদ্ধে কোন ক্ষোপ থাকলে তা ক্ষমা কর যদি ক্ষমা কর তাহলে স্বর্গের পিতা তোমাদের পাপ ক্ষমা করবে। এখানে যীশু বলেন নাই যে আমি পাপ ক্ষমা করবো। বরং যীশু যেসব পাপ ক্ষমা করতেন তা স্বর্গের পিতাই তাকে দিয়ে করাতেন।
ইশ্বর যীশুকে দিয়ে পাপ ক্ষমা করালেই যদি খ্রীষ্টানদের কাছে যীশু ইশ্বর হয়ে যায়। তাহলে খ্রীষ্টানদের এই যুক্তি অনুযায়ী (ষাঁড় - গরু) ও ইশ্বর! কারন বাইবেলের ইশ্বর (ষাঁড় - গরু) উৎসর্গের মাধ্যমে মানুষের পাপ ক্ষমা করে থাকেন প্রমান দেখেন :-
* যাজক পাপ নৈবেদ্য যেমনভাবে ষাঁড়টিকে উৎসর্গ করেছিল সেইভাবেই এই সমস্ত অংশগুলো উৎসর্গ করবে। এইভাবে যাজক লোকদের শুচি করে তুলবে এবং ঈশ্বর ইস্রায়েলের লোকদের ক্ষমা করবেন। (লেবীয় পুস্তক ০৪/২০)
খ্রীষ্টানদের যুক্তি অনুযায়ী এখানে (ষাঁড় - গরুও) ঈশ্বর। তাহলে খ্রীষ্টানদের উচিত এই (ষাঁড় - গরুকেও) ইশ্বর মানা! কিন্তু তারা তা করে না।
তারপরও যদি তর্কের খাতিরে মেনে নেই যে যীশু পাপ ক্ষমা করে তাই তিনি (ইশ্বর)। তাহলে খ্রীষ্টানদের এই যুক্তি অনুযায়ী যীশুর সকল শিষ্যরাও (ইশ্বর) কারন তার শিষ্যরাও পাপ ক্ষমা করতে পারতেন প্রমান দেখেন :-
* যদি তোমরা কোন লোকের পাপ ক্ষমা কর তবে তাদের পাপ ক্ষমা পাবে। আর যদি কারো পাপ ক্ষমা না কর তার পাপের ক্ষমা হবে না। (যোহন ২০/২৩)
এখানে যীশুর শিষ্যরাও মানুষের পাপ ক্ষমা করতে পারতেন! তাহলে এখানে যীশুর (শিষ্যরাও) ঈশ্বর। কিন্তু খ্রীষ্টানরা যীশুর শিষ্যদের (ইশ্বর) মানে না।
আমাদের প্রশ্ন :- যীশু যদি সত্যিই নিজে থেকে পাপ ক্ষমা করতে পারতেন, তাহলে তার ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার কি দরকার ছিল? সে তো ইচ্ছা করলেই সবাইকে ক্ষমা করে দিতে পারতেন। বাইবেলের ইশ্বরের তো এত নাটক করার প্রয়োজন ছিল না। আর মানুষের পাপ ক্ষমা করতে ইশ্বরকে কেন ক্রুশবিদ্ধ হয়ে যারা যাওয়া লাগবে? তিনি তো এমনিতেই পাপ ক্ষমা করে দিতে পারেন। নাকি তিনি পাপও ক্ষমা করতে পারেন না? খ্রীষ্টানদের এমন অযৌক্তিক কথা, আর অযৌক্তিক দাবি কি কোন শিক্ষিত জ্ঞানী মানুষের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব আপনারাই বিবেচনা করেন?
পাপ করেছে (আদম ও হাওয়া) আর সেই পাপের জন্য ইশ্বরকে কেন ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া লাগবে? খ্রীষ্টানদের এসব হাস্যকর দাবি রূপকথার গল্প ছাড়া আর কিছুই না। এসব কথা রূপকথার গল্পতেই মানায় বাস্তবে না।
বাইবেলের ইশ্বর এতটাই নিকৃষ্ট যে একজনের পাপ আরেকজনের কাধে দিয়ে দেয়। পাপ করেছে (আদম ও হাওয়া) আর সেই পাপের দায়ভার দিয়ে দিয়েছে সকল মানুষের উপর। তার মানে দাড়াল বাইবেলের ইশ্বর ন্যায়বিচারক না। তিনি একজন ষড়যন্ত্রকারী ও অন্যায়কারী। বাইবেলের ইশ্বর যে একজন ষড়যন্ত্রকারী, অন্যায়কারী ও মানুষ হত্যাকারি এবং সে যে মানুষকে দিয়ে পাপ কাজ করাতে বাধ্য করে তার প্রমান দেখেন :- (১৮) নং পরিচ্ছেদে।
আলহামদুলিল্লাহ বাইবেল অনুযায়ী ও খ্রীষ্টানদের যুক্তি অনুযায়ী যীশু নিজের ইচ্ছায় পাপ ক্ষমা করতে পারতেন না। এবং খ্রীষ্টানদের যুক্তি অনুযায়ী যীশু ইশ্বর না।
(০৫) নং দলিলের জবাব :-
আসেন দেখি (যে কেউ আমায় দেখেছে সে পিতাকে দেখেছে) এই কথাটা দ্বারা যীশু কি বুঝিয়েছে। প্রথমেই খ্রীষ্টানদের দাবিটা দেখে নিব!
* যে কেউ আমায় দেখেছে সে পিতাকে দেখেছে। (যোহন ১৪/০৯) (যোহন ১২/৪৫)
এই অনুচ্ছেদটা হল খ্রীষ্টানদের "যীশুকে ইশ্বর" প্রমান করার দলিল। খ্রীষ্টানরা বলে থাকে যে, এখানে যীশু আর পিতা যে এক! সেটা বলা হয়েছে মানে যীশু নিজেকে ইশ্বর বলেছে।
এবার আসেন খ্রীষ্টানদের এই, অযৌক্তিক দাবিটা খন্ডন করবো বাইবেল থেকেই ইনশাআল্লাহ।
যীশু আর পিতা যে এক নয়। এবং যীশুকে দেখা আর পিতাকে দেখা যে এক নয়! তার প্রমান দেখেন :-
* ঈশ্বরকে কেউ কখনও দেখেনি কিন্তু একমাত্র পুত্র, যিনি পিতার কাছে থাকেন, তিনিই তাঁকে প্রকাশ করেছেন। (যোহন ০১/১৮)
* ঈশ্বরকে কেউ কখনও দেখেনি। যদি আমরা পরস্পরকে ভালবাসি, তবে ঈশ্বর আমাদের মধ্যে অবস্থান করেন; আর তাঁর ভালবাসা আমাদের মধ্যে পূর্ণতা লাভ করেছে। (যোহনের ১ম পত্র ০৪/১২)
দেখেন এখানে যীশু বলছে (ইশ্বর পিতাকে) কেউ কখনো দেখে নাই। তার মানে দাঁড়াল যীশুকে দেখা আর পিতাকে দেখা এক না।
* পিতা, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন এমনকি আমার পক্ষে সাক্ষ্য দিয়ে গেছেন, তোমরা কেউই কখনও তাঁর কন্ঠ শোেননি, তাঁর আকারও দেখনি। (যোহন ০৫/৩৭)
দেখেন এখানে যীশু বলছে, (পিতা ইশ্বর) তাকে কেও দেখেও নাই, এমনকি তার কন্ঠও কেউ শোনে নাই। অথচ যীশুকে মানুষ দেখকে পেত ও তার কন্ঠও শুনতে পেত। তার মানে দাড়াল যে যীশুকে দেখা আর পিতাকে দেখা এক নয়।
* যিনি অমরতার একমাত্র অধিকারী এবং অগম্য জ্যোতির মধ্যে বাস করেন, যাকে কেউ কোন দিন দেখতে পায় নি, পাবেও না। সম্মান ও অনন্ত পরাক্রম ও কর্তৃত্ত্ব যুগে যুগে তাঁরই হোক৷ আমেন৷ (০১ তিমথি ০৬/১৬)
* কিন্তু তোমরা আমার মুখ দেখতে পাবে না। আমাকে দেখার পর কেউ বাঁচতে পারবে না। (যাত্রাপুস্তক ৩৩/২০)
> দেখেন এখানে এই দুটি অনুচ্ছেদে যীশু বলছে, ইশ্বরকে কেউ কখনো দেখতে পায় নাই। এবং ইশ্বরকে দেখার পরও কেউ বাচতে পারবে না। অথচ যীশুকে মানুষরা দেখতো ও তার কন্ঠও শুনতে পেত। যীশু আর (পিতা ইশ্বর) যদি এক হত তাহলে, যীশুকে দেখার পর কোন মানুষ বেচে থাকতে পারতো না। কিন্তু যীশুকে দেখার পরও মানুষরা বেচে থাকতো। এমন যীশুকে ধরে ইহুদিরা ক্রুশবিদ্ধ করে মেরেও ফেলেছিল।
* আমার মত অন্য কোন ইশ্বর নেই। (ইসাইয়া ৪৪/০৭)
* আমিই প্রভু, আমার পরিবর্তন নেই। (মালাখি ০৩/০৬)
* আমি ঈশ্বর, আমি মানুষ নই। (হোসেয়া ১১/০৯)
* ঈশ্বর মানুষ নন। তিনি মিথ্যা বলবেন না। ঈশ্বর মানুষ নন। তাঁর সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হবে না। (গননা পুস্তক ২৩/১৯)
* কোন ব্যক্তিই আমাদের প্রভু ঈশ্বরের মত নয়। ঈশ্বর স্বর্গের উঁচু আসনে বসেন। (সামসঙ্গিত ১১৩/০৫)
এখানে দেখেন যীশু বলছে, (পিতা ইশ্বর) তিনি মানুষ নন! তার মত আর, অন্য কোন ইশ্বর নাই, এমনকি কোন ব্যাক্তিই (পিতা ইশ্বরের) মত নয়। তার কোন পরিবর্তন নাই। অথচ যীশু একজন মানুষ ছিলেন। তার মানে দাড়াল যীশু আর (পিতা ইশ্বর) এক নয়। যীশু মানুষ ছিলেন, আর (পিতা ইশ্বর) যিনি মানুষ নন, প্রমান দেখেন :-
* যীশু খ্রীষ্ট, যিনি নিজেও একজন মানুষ ছিলেন৷ (০১ তিমথি ০২/০৫)
এখান থেকেই প্রমান হয় যে যীশুকে দেখা আর পিতাকে দেখা এক নয়।
তখন যীশু তাকে বললেন, তুমি কেন আমাকে সত্য বলছ, ঈশ্বর ছাড়া আর কেউই সত্য নয়। (মার্ক ১০/১৮)
এখানে দেখেন যীশু বলছে, তাকে সত্য বলা যাবে না। কারন তিনি সত্য না, সত্য একমাত্র (পিতা ইশ্বর)। যীশু আর (পিতা ইশ্বর) যদি এক হত তাহলে কি যীশু কখনো এই অযৌক্তিক কথাটা বলতেন?
নিচে আরো প্রমান দেখেন, এসব অনুচ্ছেদগুলোই বলে দিবে যীশুকে দেখা আর (পিতা ইশ্বরকে) দেখা এক নয়। কারন (পিতা ইশ্বরের) বৈশিষ্ট্য আর (যীশুর) বৈশিষ্ট্য এক নয়।
ঈশ্বর আমাদের থেকে এত উঁচুতে আছেন যে আকাশ ও পৃথিবীকে দেখতে হলে তাঁকে নীচের দিকে তাকাতে হয়। (সামসঙ্গিত ১১৩/০৬)
যীশু আর (পিতা ইশ্বরকে) দেখা যদি এক হত তাহলে তিনি বলতেন না যে, ইশ্বরের আমাদের দেখতে হলে নিচে তাকাতে হয়। যীশু জানেন যে ইশ্বর উপরে আছে তাই তিনি বলেছেন এই কথা।
ঈশ্বরের সাহায্যেই আমি মন্দ দূর করি। (লুক ১১/২০) (মথি ১২/২৮)
যীশু আর (পিতা ইশ্বরকে) দেখা যদি এক হত তাহলে তিনি কখনোই বলতেন না যে, আমি ইশ্বরের সাহায্যেই আমি মন্দ দূর করি।
যীশু আবার বলেছেন, আমি ঈশ্বরের ওপর নির্ভর করব। (হিব্রুদের কাছে পত্র ০২/১৩)
যীশু আর (পিতা ইশ্বরকে) দেখা যদি এক হত তাহলে তিনি কখনোই বলতেন না যে, আমি ঈশ্বরের ওপর নির্ভর করব।
এমন কিছু বিষয় আছে, যা তিনি বা দূতেরা জানতেন না। কেবল তাঁর পিতাই জানতেন। (মার্ক ১৩/৩২)
তারপর দেখেন যীশু বলছে যে, এমন কিছু বিষয় আছে যা শুধুমাত্র পিতাই জানে তাছাড়া আর কেউ জানে না এমনি যীশুও জানে না, স্বর্গদূতরাও জানে না। যীশু আর (পিতা ইশ্বরকে) দেখা যদি এক হত তাহলে তিনি কি কখনো এই কথা বলতেন?
যাঁরা আমাকে প্রভু, প্রভু বলে তাদের প্রত্যেকেই স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে তা নয়। আমার স্বর্গের পিতার ইচ্ছা যে পালন করবে, কেবল সেই স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে। (মথি ০৭/২১)
দেখেন এখানে যীশু স্পষ্ট করে বলেছে তার পিতার ইচ্ছা যে পালন করবে সে স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করবে। যীশুর ইচ্ছা পালন করলে সে স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে না।
এবার আসেন দেখি, যীশু মূলত (যে কেউ আমায় দেখেছে সে পিতাকে দেখেছে) এই কথাটা দ্বারা কি বোঝাতে চেয়েছে :-
এখানে যীশু বোঝাতে চেয়েছেন যে, যে যীশুর শিক্ষা অনুযায়ী জীবন যাপন করেছে সে, (পিতা ইশ্বরের) আদেশ অনুযায়ী চলেছে! তার মানে দাড়াল যীশু আর (পিতা ইশ্বরের) শিক্ষা এক।
[ যে যীশুর আদেশ মানলো সে তার (পিতা ইশ্বরের) আদেশ মানলো / যে কেউ আমায় দেখেছে সে পিতাকে দেখেছে] এই দুইটা কথাই একি, যীশু ঠিক এই কথাটা বোঝাতে চেয়েছে প্রমান দেখেন :-
* যীশু চিৎকার করে বললেন, যে আমাকে বিশ্বাস করে সে আমার উপরে নয়, যিনি আমায় পাঠিয়েছেন তাঁর উপরে বিশ্বাস করে। (যোহন ১২/৪৪)
এখান থেকেই প্রমান হয়ে গেল যে, যে যীশুকে বিশ্বাস করে সে মূলত যীশুকে বিশ্বাস করে না! সে বিশ্বাস করে মূলত (পিতা ইশ্বরকে)।
ঠিক একিভাবে যীশু বলেছে, যে যীশুকে দেখে সে মূলত যীশুকে দেখে না, সে (পিতা ইশ্বরকে) দেখে যীশু কথাটা এমন বুঝিয়েছে। কারন যীশুর শিক্ষা তার নিজের না, যীশুর শিক্ষা তার (পিতা ইশ্বরের) প্রমান দেখেন :-
* যদি কেউ ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করতে চায় তাহলে সে জানবে, আমি যা শিক্ষা দিই তা ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে, আর আমি কোন কথা নিজে থেকে বলিনা। (যোহন ০৭/১৭) (যোহন ১৪/১০) (যোহন ১৪/২৪)
এখানে মূলত যীশু (যে আমায় দেখেছে সে পিতাকে দেখেছে) এই কথাটা দ্বারা (পিতা ইশ্বরের) শিক্ষাকে বুঝিয়েছে।
আলহামদুলিল্লাহ বাইবেল থেকে প্রমান করেছি, যীশুকে দেখা আর (পিতা ইশ্বরকে) দেখা এক নয় বরং তিনি এখানে বুঝিয়েছেন যে, যে যীশুর শিক্ষা মেনে চলেছে সে (পিতা ইশ্বরের) শিক্ষা মেনে চলেছে।
📄 বাইবেল অনুযায়ী যীশু শুধুমাত্র একজন (নবী) ছিলেন! এবং তার সময়ের সকল মানুষ তাকে (নবি) বলেই জানত ও মানত।
বাইবেল অনুযায়ী যীশু যে শুধুমাত্র একজন নবী ছিল তার প্রমান দেখেন! এবং তার সময়ের মানুষেরা শুধুমাত্র তাকে নবী হিসেবেই মেনে চলতো।
বাইবেল অনুযায়ী যীশু যে শুধুমাত্র একজন নবী ছিলেন তার প্রমান দেখেন বাইবেল থেকেই।
* যখন যীশুকে গ্রেপ্তার করাতে চাইলেন, কিন্তু তারা জনসাধারণের ভয়ে তা করলেন না, কারণ সাধারণ লোকে তাঁকে (ভাববাদী - Prophet - নবি) বলে মনে করত। (মথি ২১/৪৬)
* কিন্তু এখন তোমরা আমায় হত্যা করতে চাইছ। আমি সেই লোক যে ঈশ্বরের কাছ থেকে সত্য শুনেছি এবং তোমাদের তা বলেছি৷ আব্রাহাম তো এরকম কাজ করেন নি। (যোহন ০৮/৪০)
* স্ত্রীলোকটি তখন তাঁকে (যিশুকে) বলল, 'মহাশয়, আমি দেখতে পাচ্ছি যে আপনি একজন (ভাববাদী - Prophet - নবি)। (যোহন ৪/১৯)
এখানে একটা কথা দেখেন এই স্ত্রীলোকটি যীশুকে (ভাববাদী - Prophet - নবি) বলার পরও যীশু তাকে শুধরে দিয়ে বলে নাই যে তিনি ইশ্বর। ধরুন কারো নাম যদি হয় (X) আমি যদি তাকে (Y) বলে ডা কি ও তাকে বলি আপনার নাম (Y) সে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিয়ে বলবে যে আমার নাম (Y) না আমার নাম (X)। কিন্তু যীশুকে নবী বলার পরও যীশু তাকে শুধরে দেয় নাই কারন যীশু শুধুমাত্র একজন নবীই ছিলেন।
* লোকেরা যীশুকে এই অলৌকিক চিহ্ন করতে দেখে বলতে লাগল, 'জগতে যার আগমনের কথা আছে ইনি নিশ্চয়ই সেই (ভাববাদী - Prophet - নবি)। (যোহন ৬/১৪)
এই তিনটি জায়গা থেকেই প্রমান হয় যীশুর সময়ের মানুষেরা তাকে (ভাববাদী - Prophet - নবি) বলে জানত মানত!
মজার বিষয় হলো সেই সময়ে মানুষেরা যিশুর অলৌকিক কাজ করতে দেখে নবী হিসাবে মেনে নিলো। যদিও যিশু অলৌকিক কাজ, কর্ম নিজের ক্ষমতাই, নিজের ইচ্ছাই করতে পারতেন না। ঈশ্বর তাকে দিয়ে করাতেন প্রমান দেখেন :-
* আমি নিজের থেকে কিছুই করতে পারি না। আমি (ঈশ্বরের কাছ থেকে) যেমন শুনি তেমনি বিচার করি; আর আমি যা বিচার করি তা ন্যায়, কারণ আমি আমার ইচ্ছামতো কাজ করি না, বরং যিনি (ঈশ্বর) আমাকে পাঠিয়েছেন তাঁরই ইচ্ছপূরণ করার চেষ্টা করি। (যোহন ৫/৩০)
* হে ইহুদী ভাইয়েরা, একথা শুনুন; নাসরতীয় যীশুর দ্বারা ঈশ্বর বহু অলৌকিক ও আশ্চর্য কাজ করে আপনাদের কাছে প্রমাণ দিয়েছেন যে তিনি সেই ব্যক্তি যাকে ঈশ্বর পাঠিয়েছেন; আর আপনারা এই ঘটনাগুলি জানেন। (শিশ্যচরিত ২/২২)
কিন্ত বর্তমান সময়ে খ্রিস্টানেরা যিশুর অলৌকিক কাজ, কর্মকে ঈশ্বরত্ব হিসাবে পেশ করে। এটা হাস্যকর বিষয় ছাড়া আর কিছুই না।
আরে প্রমান দেখেন যীশু যে শুধুমাত্র একটা নবী :-
* তখন সেই লোকটি উঠে বসল, আর কথা বলতে শুরু করল। যীশু তখন তাকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলেন। (লুক ৭/১৫)
* এই দেখে সকলের মন ভয় ও ভক্তিতে পূর্ণ হল। তারা ঈশ্বরের প্রশংসা করে বলতে লাগল, 'আমাদের মধ্যে একজন মহান ভাববাদীর আবির্ভাব হয়েছে৷' তারা আরও বলতে লাগল, 'ঈশ্বর তাঁর লোকদের সাহায্য করতে এসেছেন। (লুক ৭/১৬)
যীশু যে শুধুমাত্র একজন নবী ছিলেন এটা আর অস্বীকার করার কোন জায়গা নেই!
> ঈসা (আঃ) সম্মদ্ধে মোশির বক্তব্য দেখেন:-
* প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের জন্য একজন ভাববাদী পাঠাবেন। তোমাদের নিজের লোকদের মধ্য থেকেই এই ভাববাদী আসবে। সে আমারই মতো হবে। তোমরা অবশ্যই এই ভাববাদীর কথা শুনবে। (দ্বিতীয় বিবরন ১৮/১৫)
* এই পৃথিবীতে কাউকে 'পিতা' বলে ডেকো না, কারণ তোমাদের পিতা একজনই, তিনি স্বর্গে থাকেন। কেউ যেন তোমাদের শিক্ষক বলে না ডাকে, কারণ তোমাদের শিক্ষক একজনই, তিনি খ্রীষ্ট। (মথি ২৩/৯-১১)
> এই কথাটা দ্বারা বোঝানো হচ্ছে যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নাই এবং (ঈসা আঃ) আল্লাহর রাসূল। যাকে একমাত্র শিক্ষক হিসেবে গ্রহন করতে হবে কারন তিনি ইশ্বরের প্রেরিত রাসূল যিনি ইশ্বরের আদেশ ছাড়া কোন কথাই বলেন নাই।
> আরে স্পষ্ট প্রমান দেখেন যে যীশু শুধুমাত্র নবী ছিলেন :-
* তোমাদের হৃদয় বিচলিত না হোক। ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস রাখো, আর আমার প্রতিও আস্থা রাখো। (যোহন ১৪/০১)
> এখানে যীশু কিন্তু বলেন নাই যে শুধুমাত্র তার উপর বিশ্বাস রাখতে। তিনি আগে বলেছেন ইশ্বরের উপর বিশ্বাস রাখতে তারপর নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে। যীশু যদি ইশ্বরই হতেন তাহলে তিনি শুধু বলতেন আমার উপর বিশ্বাস রাখো। যীশু ইশ্বর না বলেই তিনি তার ইশ্বরের উপর বিশ্বাস রাখতে বলেছেন।
> এবার দেখেন যীশু নিজের মুখেই নিজেই বলেছে সে একজন (ভাববাদি - নবী - Prophet)।
* যদি কেউ ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করতে চায় তাহলে সে জানবে আমি যা শিক্ষা দিই তা ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে, আর আমি কোন কথা নিজে থেকে বলিনা। (যোহন ০৭/১৬-১৭)
* এরপর তিনি বিশ্রামবারে সমাজ-গৃহে শিক্ষা দিতে লাগলেন; আর সমস্ত লোক তাঁর শিক্ষা শুনে আশ্চার্য হল। তারা বলল, 'এ কোথা থেকে এ সমস্ত বিজ্ঞতা অর্জন করল? এ কি করে এমন বিজ্ঞতার সঙ্গে কথা বলে? কি করেই বা এইসব অলৌকিক কাজ করে?
* এ তো সেই ছুতোর মিস্ত্রি এবং মরিয়মের ছেলে; যাকোব, য়োসি, যিহুদা ও শিমোনের ভাই; তাই নয় কি? আর এর বোনেরা কি আমাদের মধ্যে নেই?' এইসব চিন্তা তাদের মাথায় আসায় তারা তাঁকে গ্রহণ করতে পারল না৷
* তখন যীশু তাদের বললেন, 'নিজের শহর ও নিজের আত্মীয় স্বজন এবং পরিজনদের মধ্যে (ভাববাদী - Prophet) সম্মানিত হন না৷ (মার্ক ০৬/০২-০৪)
* আমি আমার পথে চলতেই থাকব, কারণ জেরুশালেমের বাইরে কোন (ভাববাদী - Prophet) প্রাণ হারাবে তেমনটি হতে পারে না৷ (লুক ১৩/৩৩)
বাইবেল ও যীশু স্পষ্ট করেই বলে দিয়েছে যীশু শুধুমাত্র একজন নবী ছাড়া আর কিছুই না। অথচ খ্রীষ্টানরা যীশুকে ইশ্বর বানিয়ে রেখেছে।